অতঃপর প্রেম পর্ব ১২

0
139

#অতঃপর_প্রেম🍃
#পর্ব_১২ (বোনাস পর্ব)
#লেখিকা_আয়ানা_আরা (ছদ্মনাম)

আমি কিছু বললাম না তাকে। দুইজনই চুপ করে আছি টু শব্দ পর্যন্ত করিনি। হঠাৎই রোদ স্যার জিজ্ঞেস করলেন,
‘তুমি কাউকে ভালোবাসো মেহেক।’

আমি বলি,’হুম একজনকে বেসেছিলাম কিন্তু সে তো ঠকিয়ে চলে গিয়েছে।

আমার কথা শুনে সে যে চমকে গিয়েছে তা আমি বেশ ভালোই বুঝতে পারছি। আমি মুচকি হেসে পুনরায় আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,’আমি বিশ্বাস করি প্রথম ভালোবাসা আপনাকে ভালোবাসার মানে বুঝতে শেখায়। আর দিত্বীয় ভালোবাসা আপনাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।’

রোদ কিছু না বলে আনমনেই মুচকি হেসে বলে,’সত্যি বলেছো তুমি দিত্বীয় ভালোবাসা মানুষকে বাঁচতে শেখায়।’

আমি বললাম,’আপনি হঠাৎ ছাদে যে?’

‘এমনি ভালো লাগছিলো না তাই আসলাম।’

আমি কিছু বললাম না। নিচ থেকে আমাকে ডাক দেওয়াতে আমি চলে যাই। রোদ স্যার মেহেকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,’আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি মেহেক যাকে #অতঃপর_প্রেম বলে। আর খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে আমি আমার ভালোবাসার কথা জানাবো।’
_________
সকালে ভোরে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি ফ্রেশ হয়ে গাছে পানি দিতে চলে যাই ছাদে। আমি ভোরে উঠে গাছে পানি দেই বেশিরভাগ সময়ই। আমি কোনোরকম ওড়না পেঁচিয়ে ছাদে গেলাম। ছাদে যেয়ে দেখি রোদ স্যার দাঁড়িয়ে আছে। আমি উনাকে দেখেও না দেখার ভান করে গাছে পানি দিতে থাকি। সে আমাকে দেখে বলে,’তোমার ফুল ভালোলাগে?’

আমি উনার দিকে না তাকিয়েই গাছে পানি দিতে দিতে বলি,’কম বেশি সব মেয়েরই ফুল পছন্দের তাই আমারো পছন্দের।’

রোদ স্যার কিছু বলেন না। আমি উনাকে বলি,’আপনি এতো সকালে এইখানে কেনো?’

‘ঘুম আসছিলো না তাই আসলাম।’

‘ওহ আচ্ছা।’

এই বলে আমি চলে আসলাম রুমে। রুমে এসে দেখি নিশা ঘুমাচ্ছে। আমি ফ্রেশ হয়ে নিলাম। নিশাকে ডাক দিলাম না আর। আমি নিচে যেয়ে দেখি ফুপিমা আর আম্মু কাজ করছে তাই আমিও তাদের সাহায্য করতে চলে যাই। আম্মু আমাকে দেখে বলে,’আজকে সূর্য কোন দিকে উঠেছে রোশনি?’

আমি বলি,’আল্লাহ আম্মু তুমি জানো না?সূর্য পূর্ব দিকে উঠে।’

এই বলে মিটমিটিয়ে হাসতে লাগলাম। তারপর আম্মুকে সাহায্য করি। নাস্তা বানানো শেষে সবাই নাস্তা করতে চলে এসেছে। আমি রোদ স্যারের পাশের চেয়ারে বসতে যাবো তার আগেই নিশা এসে বসে বলে,’তুমি অন্যটাতে বসো। আমি না হয় এইখানেই বসলাম।’

আমি দাঁতে দাঁত চেপে অন্য চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লাম। ব্রেকফাস্ট শেষে নিশা আমাকে বলে,’শুনো মেহেক তুমি আমাকে আর রোদকে কাপল পিক তুলে দিয়ো কেমন।’

আমি ভ্রুকুচকে বলি,’কিসের কাপল পিক? তোমরা কি হাসবেন্ড ওয়াইফ?’

‘না কিন্তু আমি রোদের উড বি ভুলে যেয়ো না।’

‘তোমাদের কি এংগেজমেন্ট হয়েছে কি?’

‘না হয় নি। আমার নানু মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন আমার আর রোদের বিয়ে দিতে তখন আমার আর রোদের বয়স বেশি ছিলো না তাই সবাই ঠিক করে রেখেছে আমার আর রোদের উপযুক্ত বয়স হলেই আমার সাথে রোদের বিয়ে দিয়ে দিবে।’

আমি মুখ কালো করে ছোট করে শুধু ‘ওহ’ বলি।

কিছুক্ষন পর আমি শাওয়ার নিয়ে ছাদে চলে যাই চুল শুকাতে
_________________
রোদ নেটওয়ার্ক পাচ্ছিলো না ফোনে তাই সে ছাদে চলে আসে। তখন ওর নজরে মেহেক পরে। মেহেকের চুল থেকে পানি টপ টপ করে পরছে। রোদ ঘোর লাগা দৃষ্টিতে মেহেকের দিকে তাকিয়ে আছে। সে ঝটপট মেহেকের ছবি তুলে নেয়।
__________
একে একে আমরা সবাই রেডি হিয়ে গিয়েছি কারণ আজ রিসেপশন তাই। কিছুক্ষন পর আমরা সবাই বের হলাম সেন্টারের উদ্দেশ্যে। ভাইয়া আর ভাবীকে স্টেজে বসানো হলো। ভাবীর বাড়ি থেকে এখনো লোক আসেনি কিন্তু আমাদের অনেক আত্বীয় স্বজনই এসেছে। কিছুক্ষন পর ভাবীর বাড়ি থেকেও মানুষ আসা শুরু করছে।

নিশা আমার কাছে এসে বলে,’ছবি তুলে দেও আমাদের দুইজনের।’

আমি জোরপূর্বক হেসে বলি,’হ-হুম’

তারপর না চাইতেও ছবি তুলে দিতে হলো। অবাকজনক বিষয় হলো এইবারের ছবিতে রোদ স্যার হেসেছেন। কেনো হেসেছেন জানা নেই।
_________
রিসেপশন শেষ হতেই ভাইয়া আর ভাবী ভাবীদের বাসায় গিয়েছে।সাথে রোদ স্যার আর নিশাও চলে গিয়েছে। আমরাও নিজেদের বাসায় চলে আসি। আমি ফ্রেশ হয়ে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি আননোন নাম্বার থেকে একতা মেসেজ এসেছে। মেসেজে লিখা

প্রিয় মেহুপাখি,
অনেক টায়ার্ড তুমি তাইনা?টায়ার্ড থাকবেই বা না কেনো সারাদিন তো আর কম ধকল তোমার উপর দিয়ে যায়নি। এখন তুমি ঘুমিয়ে পরো তাহলে আর টায়ার্ড লাগবে না। আর হ্যা সরি আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার ছবি তুলে ফেলেছি তাই। আর তোমার টেবিলে রাখা বইটা খুলো।

আমি এইটা পড়ে দৌড়ে যেয়ে বইটা খুলি। একটা পৃষ্ঠা উলটাতেই আরেকটা চিঠি পাই। চিঠিতে লেখা

মেহুপাখি আমি জানি তুমি আমাকে এখন খুজার অনেক চেষ্টা করবা। পিচ্চি আমাকে খোজা বাদ দেও। আমি যতক্ষন না নিজে তোমার সামনে আসবো ততক্ষন তুমি জানতেই পারবা না আমি কে।

কথাগুলো শুনে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই। এই কিভাবে বুঝলো আমি তাকে খুজছি। আমি আর এইসব না ভেবে বিছানায় যেয়ে শুয়ে পরি। সারাদিনে এতই দৌড়া দৌড়ি করেছি যে শুতেই ঘুমিয়ে পরি।
_______
সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি ফুপিমারা চলে গেছে। কথাটা শুনে একটু মন খারাপ হলো। যাওয়ার আগে দেখা করতে পারলাম না তাই। নিজের ঘুমকেই এখন ইচ্ছা মতো গালি দিচ্ছি। এখন কি আর করবো যা হওয়ার হয়েই গেছে এখন আফসোস করে লাভ নেই। আমি আম্মুর কাছে যেয়ে কাজে সাহায্য করে দিলাম। রুমে এসে দেখি আবার আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ। মেসেজ ওপেন করতেই দেখি লিখা,

মেহুপাখি,
শুভ সকাল। খুব তাড়াতাড়ি আবার দেখা হবে। আর শুনো,,তুমি কোনো ছেলেদের সাথে কথা বলবা না। আমার কথা অমান্য করলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না মনে রেখো কথা গুলো।

মেসেজটা পড়ে আমি একটা শুকনো ঢোক গিলি…

#চলবে

( অনেকদিন ধরে বোনাস পার্ট চাচ্ছিলেন তাই এখন দিলাম। রিচেক দেওয়া হয়নি,ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here