অতঃপর প্রেম পর্ব ১৩

0
145

#অতঃপর_প্রেম🍃
#পর্ব_১৩
#লেখিকা_আয়ান_আরা (ছদ্মনাম)

আজ এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। ভাবী আর ভাইয়ারাও চলে এসেছে বাসায়। আর সেই অজানা ব্যক্তিটাকে এখনো খুজে বের করতে পারি নি।
______________
রোদ শুয়ে শুয়ে মেহেকের ছবি দেখচ্ছিলো তখনই নিশা এসে হাত থেকে ফোনটাকে থাবা দিয়ে নিয়ে নেয়। রোদ লাফ দিয়ে উঠে বলে,’নিশা তুমি এইখানে কি করছো?’

নিশা একবার ফোন আরেকবার রোদের দিকে তাকিয়ে বলে,’এইটা তো মেহেক কিন্তু ওর ছবি তোমার কাছে কেনো?’

রোদ নিশার থেকে ফোন নিয়ে চেঁচিয়ে বলে,’স্টুপিড তোমাকে কতবার বলেছি আমার জিনিসে হাত দিবা না।’

নিশা অশ্রু ভরা চোখে রোদের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলে। রোদ আবারো রাগি গলায় বলে,’গেট আউট।’

নিশা আর এক মিনিটও ওইখানে না থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়।

পরেরদিন-

আজকে মেডিক্যালে এক্সাম তাই আমি তাড়াতাড়ি চলে আসি। এসে দেখি নিশা মুখ কালো করে বসে আছে। আমি ওর কাছে যেয়ে বলি,’কি হয়েছে তোমার?’
ও মুখ ঘুরিয়ে বলে,’কেনো করলে এমনটা?’

আমি অবাক হয়ে বলি,’মানে আমি আবার কি করেছি?’

ও অশ্রু ভরা নয়নে তাকিয়ে বলে,’বুঝেও না বুঝার ভান করো না তোমার আর রোদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে সেটা আমি জানি।’

ওর কথায় আমি অনেক অবাক হই। আমি ওকে বলি,’তুমি পাগল হয়েছো?স্যারের সাথে আমার সম্পর্ক কেনো থাকবে?’

‘মিথ্যা বলবে না আমাকে আমি জানি সব। আমি তো তোমাকে ভালো ফ্রেন্ড ভাবতাম আর তুমি নিজেই আমার পিঠে ছুড়ি মারলে। আই হেট ইউ মেহেকে।’

এই বলে অন্য সিটে বসে পড়লো। ওর কথাগুলো আমাকে ভাবনার মধ্যে ফেলে দিলো যার জন্য আমি ভালো করে পরীক্ষাও দিতে পারিনি। আমি ঠিক করি ছুটির পর রোদ স্যারের সাথে দেখা করবো। যেই বলা সেই কাজ আমি ছুটির পর রোদক স্যারের সাথে দেখা করতে যাই। দেখি সে কারো সাথে কথা বলছে তাই আমি লুকিয়ে পরি। যদিও এটা করা ঠিক না। উনার এমন একটা কথা শুনে আমি খুব অবাক হয়ে যাই। কারণ তিনি বলছিলেন,’মেহেক কে আমি আমার ভালোবাসার কথা বলবো অনেক তাড়াতাড়ি কৈশিক। ও আমাকে ভালোবাসুক আর না বাসুক আই ডোন্ট কেয়ার।’

আমি উনার কথা শুনে পুরোপুরি জমে যাই। তারমানে উনি আমাকে ভালোবাসে?আমি মনে মনে খুশি হই। কিন্তু নিশার কথা ভেবেই খারাপ লাগে। তাই আর এক মিনিটও দাঁড়িয়ে না থেকে আমি ওইখান থেকে চলে আসি। আমি আর কোথাও না যেয়ে সোজা বাসায় চলে আসি। বাসায় এসে জানতে পারি কালকে ভাবীর বাড়ির লোকজন আসবে। আমি নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখি অজানা ব্যক্তির মেসেজ।

প্রিয় মেহুপাখি,
অনেক তো লুকোচুরি খেলা হয়েছে কাল নাহয় এই খেলার অন্তিম টানা যাক। আমি এটাও জানি যে তুমি আমাকে ভালোবাসো। যাই হোক কালকে এই ঠিকানায় চলে আসবা।

ইতি
তোমার ভালোবাসা।

আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না এই মানুষ সাদ আনান রোদ!আমি কি করবো নিজেও বুঝতে পারছিলাম না। আমি কি উনাকে ভালোবাসি আদোও?নিশা তো রোদ স্যারকে অনেক ভালোবাসে।আমি কি করে ওর ভালোবাসাকে কেড়ে নিতে পারি?

আমি ব্যালকনিতে যেয়ে নিজের প্রথম ভালোবাসার কথা ভাবতে লাগলাম। কিভাবে সে আমাকে ঠকিয়ে চলে গেছিলো।

আমার তখন মাত্র ১৬ বছর ছিলো। বয়সটা আবেগে ভরপুর। আমিও কারো মোহে পরে গিয়েছিলাম। সেটাই আমার জীবনের কাল হয়ে দাড়িয়েছিলো সেই সময়। যার জন্য জীবনের একটা বছর ব্যয় হয়েছিলো আমার। শুধু মাত্র তাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য।
_____
নিশা আজ রোদদের বাড়িতেই থাকবে। ও ওর ফুপির বাসায় প্রায়সময়ই এসে থাকে। ওর ফুপি ওকে বলে,’নিশু রোদকে এই কফিটা দিয়ে আয় ওর তো আবার মেডিক্যাল থেকে আসলে কফি না খেলে চলে না।’

নিশাও লক্ষি মেয়ের মতো কফি নিয়ে রোদের রুমের দিকে পা বাড়ায়। সাথে ভেবেছে ও কিছু কথা বলবে রোদের সাথে। রোদের রুমে এসে কফি টেবিলে রাখতে যায় তখন ওর চোখে কিছু পেপারস পড়ে। ও পেপারস গুলো হাত নিয়ে যা দেখে তাতে অনেক অবাক হয়। এইগুলা তো বিয়ের পেপারস। নিশার চোখে তখনই মেহেকের নামটা পরে। আরো কিছু দেখতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে রোদ এসে পেপারস গুলো নিয়ে নিশাকে ধাক্কা মেরে হুংকার দিয়ে বলে,’তোমাকে বলেছিলাম না আমার জিনিসে হাত না দিতে?’

নিশা বলে,’রোদ এইগুলা কিসের পেপারস? তুমি কোনোভাবে আমাকে ঠকাচ্ছো না তো?’

রোদ বলে,’কখনো ভালোই তো বাসি নি আবার ঠকাবো। যেহেতু জেনেই গেছো সব কিছু তাহলে এটাও জেনে রাখো আমি মেহেককে ভালোবাসি।’

নিশা নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে দৌড়ে নিজের রুমে যেয়ে। গেট লাগিয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে লাগলো। রোদও নিশার পিছে দৌড়ে গিয়েছে যাতে ও কোনো কিছু করতে না পারে। রোদ যেয়ে দেখে নিশা দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। ও দরজা ধাক্কাতে লাগে। তখন রোদের মা মিসেস রুবা এসে দেখে রোদ দরজা ধাক্কাচ্ছে। সে ব্যস্ত হয়ে রোদকে বলে,’কি হয়েছে এইখানে রোদ?’

রোদ জবাব না দিয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। ছেলেকে এইভাবে অস্থির দেখে খটকা লাগে মিসেস রুবার। সে বলে,’কি হয়েছে কি বলবি তো?’

তখনই নিশা দরজা খুলে। রোদ ঢুকে নিশার দুই বাহু ঝাকিয়ে বলে,’সমস্যা কি তোর?উলটা পালটা কিছু করতে বসিস নি তো?’

নিশা তাচ্ছিল্যর হেসে বলে,’আমি কারো জন্য নিজের জীবন নষ্ট করতে পারবো না।’

তারপর মিসেস রুবার দিকে তাকিয়ে বলে,’ফুপি তোমার ছেলের একটা মেয়েকে পছন্দ তুমি ওর সাথে রোদের বিয়ে দিও।’

‘কি বলছিস তুই এইগুলা নিশু?’

‘জানো না তুমি ফুপি। তোমার ছেলে তো আমাকে বিয়ে করার আগেই একজনকে বিয়ে করে ফেলেছে। বিশ্বাস না রুমে যেয়ে দেখো।’

মিসেস রুবা কোনো কিছু না বলে দৌড়ে রুমে যায়। কিছু পেপারস হাত নিয়ে আসে সাথে।
সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,’এইসব কি রোদ?’

‘আম্মু এইটা একটা এক্সিডেন্ট। হ্যা এটা সত্যি মেহেককে আমি ভালোবাসি কিন্তু…

#চলবে

(অন্তিম পর্ব ঘনিয়ে এসেছে। রিচেক দেওয়া হয়নি ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।হ্যাপি রিডিং

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here