অতঃপর প্রেম পর্ব ৭

0
176

#অতঃপর_প্রেম🍃
#পর্ব_০৭
#লেখিকা_আয়ানা_আরা (ছদ্মনাম)

আমি তৃপ্তি করে রসমালাই খেতে লাগলাম। ফুপিমা আমার কাছে এসে বলে,’আস্তে খা তোর ভাগের টা কেউ নিয়ে যাবে না।’

আমি ফুপিমার কথায় কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে চেটেপুটে খেতে লাগলাম। ফুপিমাকে বললাম,’তা ফুপিমা তোমার দানব গরিলা ইঁচড়েপোকা ছেলে আসেনি কেনো।’

আম্মু আমার কাছে এসে ধমক দিয়ে বলে,’বড়দের এইভাবে বলতে হয়?’

আম্মুর ধমক খেয়ে আমি ঠোঁট কামড়ে ধরলাম। ফুপিমা বলেন,’আরে বলিস না ছেলেটাকে কতোবার বললাম তোর মামির বাসায় আমার সাথে আয় সে তো আসলোই না কিন্তু বিকালে আসবে।

(বলে রাখা ভালো ফুপিমা আমার নিজের ফুপি না। ফুপিমা আমার দাদার ভাইয়ের মেয়ে। আর আমার দাদা আর দাদার ভাই এক বাসায় থাকতো তাই আমি ফুপিমাকে ফুপিমা বলি। ফুপিমার একটা ছেলে আর মেয়ে আছে। ফুপিমার ছেলেকে আমি আমার তিন বছর বয়সে দেখেছিলাম পরে আর দেখিনি তাই নাম আর চেহারাও মনে নাই কেউ বলেও নাই🤷‍♀️।)

আমি রসমালাই খেয়ে রোথিকে বললাম,’রোথি চল ডোরেমন মুভি দেখবো আজকে।’

আমার কথা শুনে রোথি হাত তালি দিয়ে বলে,’ইয়েএ।’

আমাদের দুইজনে কার্টুন অনেক ফেবারেট। ও আমাদের বাসায় আসলেই আমরা সবসময় কার্টুন দেখি আর এইবারও ব্যতিক্রম নয়। আমি আর রোথি টিভি তে ডোরেমনের মুভি ‘বার্থ অব জাপান’ ছাড়লাম। মুভি দেখতে দেখতে এক ঘন্টা পার হয়ে যায়। লাস্টের সিনে আমি আর রোথি একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেই। আমাদের কান্নার মাঝেই দরজায় কলিং বেল বাজলো। আমি দরজা খুলে দেখি এক সুর্দশন পুরুষ দাঁড়ানো।আমি তাকে দেখে ভ্রুকুচকে বলি,’কাকে চাই?’

ছেলেটা আমার পাশ কাটিয়ে ভিতরে চলে গেলো। আমি দৌড়ে গিয়ে বাধা হয়ে দাড়ালাম। ছেলেটা দাঁত কিরমির করে বলে,’মেইড মেইডের মতো থাকুন। গেট আউট।’

ছেলেটার কথা শুনে আমি রাগে ফুলে গেছি। আমি তার দিকে আঙুল তুলে কিছু বলতে যাবো তার আগেই ফুপিমার আওয়াজ শুনলাম

‘আরে রোশান তুই এসেছিস।’

আমি আর রোশান নামের ছেলেটা ফুপিমার দিকে তাকালাম। রোশান নামে বাদরটা বলল,’হুম মা।’

আমার কাছে এখন সব জলের মতো ক্লিয়ার হয়ে গেলো। রোশান নামের ছেলেটা আর কেউ না রোথির ভাই। রোশান বলে,’মা এই মেয়েটা কে?এই বাড়ির মেইড?’

রোশানের কথা শুনে মনে হচ্ছে বেটার মাথা ফাটাই দেই। ফুপিমা হেসে বলেন,’তুই ছোট বেলায় যার জন্য পাগল ছিলি যাকে বউ বউ বলে সারা বাসায় ঘুরতি সেই এই।’

আমি রোশানের দিকে ভ্রুকুচকে তাকালাম। তার সারা মুখ হঠাৎই অন্ধকার হয়ে গেছে। ফুপিমা বুঝতে পেরে কথা ঘুরিয়ে বলে,’আচ্ছা আয় তোর মামির সাথে দেখা করে যা।’

রোশান জোরপূর্বক হেসে বলে,’হুম চলো।’

রোশান যেতেই রোথি এসে আমার পাশে দাড়ালো। রোথি আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,’বেশি দেখিও না আমার ভাইকে প্রেমে পড়ে যাবা।’

রোথি এই কথা বলে দৌড় দিলো আমিও ওর পিছে পিছে দৌড় দিলাম।

রাতে খাবার টেবিলে-
মেহেদী ভাই,রোশান ভাই,আব্বু-আম্মু,আমি,রোথি,ফুপিমা একসাথে বসে খাবার খাচ্ছিলাম। আব্বু ফুপিমার উদ্দেশ্যে বললেন,’রোশনি এইবার কিন্তু এই দুইদিন থাকলে চলবে না। আমরা মেহেদীর জন্য মেয়ে ঠিক করেছি।’

আব্বুর এই কথা শুনে মেহেদী ভাই কাশতে শুরু করে দিলো। আমি আর আম্মু মুখ টিপে হাসছি। আব্বু হেসে বলে,’তাও আবার মেহেদী পছন্দের মেয়ের সাথে।’

ফুপিমা হেসে বলে,’ভাইয়া কি বলো মেহেদীর পছন্দের কে সেই মেয়ে?’

‘মেয়েটার নাম হচ্ছে ইরহা।’

আমি মেহেদী ভাইকে কনুই দিয়ে গুতো দিয়ে বলি,’ঘটকালি কিন্তু আমি করেছি তাই ঘটক আমি।হিহিহি’

মেহেদী ভাই বলল,’তারমানে তুই বলে দিয়েছিস?’

আমি একটা টেডি স্মাইল দিয়ে বলি,’হুম।’

‘তবে রে।’

ফুপিমা আব্বুকে জিজ্ঞেস করলো,’ভাইয়া বিয়ে ঠিক করেছো কবে?’

‘দুই সপ্তাহ পর ঠিক করেছি আর ইরহামাকে কাল আংটি পড়াতে যাবো তাই তোদের থাকতে হবে।’

পুরোটা সময়ই রোথি আর রোশান ভাইয়া চুপ ছিলো। রোথি খাওয়া শেষে চুপচাপ চলে যায় আমার সাথে। আমি খেয়াল করেও কিছু বলি না।

মাঝরাতে আমি ঘুমাচ্ছিলাম তখনই কারো ফুপানো আওয়াজ কানে ভেষে আসে। প্রথমে ভ্রুক্ষেপ না করলেও এখন আমি উঠে দেখি রোথি ফুপাচ্ছে মানে নিরবে কাঁদছে। আমি ওকে উঠিয়ে বলি,’রোথি কাঁদছিস কেনো।’

রোথির কান পর্যন্ত আমার কথা যায়নি সে ঠোঁট চেপে কাঁদছে। আমি রোথির গালে আলতো করে হাত রেখে বললাম,’কি হয়েছে রোথি?’

রোথি এইবার আমাকে অবাক করে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,’সব ভালোবাসা কি পূর্নতা পায় না আপু?’

ওর এহেন প্রশ্নে আমি চমকে উঠি। রোথি বরাবরই নিরামিষ টাইপের মেয়ে। এইসব ভালোবাসা,প্রেম ওর দ্বারা কখনোই হয় না। হঠাৎ এরকম মেয়ের মুখে প্রেম,ভালোবাসা টাইপ প্রশ্ন শুনলে অবাক হওয়ারই বিষয়। আমি রোথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,’হঠাৎ এই প্রশ্ন?’

‘না আগে তুমি বলো।’

আমি মুচকি হেসে বললাম,’সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। কিছু কিছু ভালোবাসা অপূর্ণতা পাওয়াই উত্তম।’

রোথি আমাকে ছেড়ে চোখে পানি মুছলো। আমি ওকে বললাম,’এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলি কেনো বললি না যে?’

‘না এমনি।’

আমি বুঝতে পারলাম রোথি আমার প্রশ্ন এড়িয়ে চলল তাই আমিও আর কিছু না বলে শুতে চলে গেলাম।

সকালে ফুপিমার ডাকে ঘুম ভাঙে। আমি আর রোথি ফ্রেশ হয়ে নিচে যাই। দেখি দানবটা সোফায় বসে মোবাইল দেখছে। আমি মনে মনে বেটাকে একটা ভেংচি কেটে ব্রেকফাস্ট করতে টেবিলে গেলাম। ব্রেকফাস্ট শেষ করে আমি ফোন নিয়ে সোফায় বসলাম। এফবিতে লগইন করে দেখলাম নিশা মেসেজ দিয়েছে। আমি ওর মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখলাম। আজকে যেহেতু মেয়েকে আংটি পড়াতে যাবো তাই অনেক তোড়জোড় চলছে বাসায়। রোশান ফুপিমাকে আমার উদ্দেশ্যে বলে,’মা এই মেয়েকে নিয়ে যাও ওর ভাইয়ের বিয়ে আর ও নিজেই কোনো কাজ করছে না এটা কেমন কথা।’

আম্মুও ফুপিমার সাথে ছিলো তাই সে নিজেও রোশান হনুমানের কথায় সায় দিয়ে বলল,’হুম ঠিক বলেছো রোশান। মেয়েটা আমাকে কিছুতেই সাহায্য করে না। সারাক্ষন টোইটোই করে ঘুরে বেরায়।’

………

#চলবে

( রিচেক দেওয়া হয়নি, ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here