অতিরিক্ত চাওয়া পর্ব : ১২

0
1517

অতিরিক্ত চাওয়া
পর্ব : ১২
নাবিলা ইষ্ক

ঘুম ভাঙে ফোনের আওয়াজে! ভাইব্রেশন হচ্ছে!
বালিশ কাঁপছে! বালিশ সরাতেই স্যারের দেওয়া ফোনটা চোখে পড়লো! কেউ কল দিচ্ছে, ০১৬……! আবারও কল আসতেই রিসিভ করলাম! ঘুমুঘুমু গলায় সে বলল…
” গুড মর্নিং বেলি!
আমার বুঝতে বাকি নেই কার কল! মুখের হাসিটা এত্তো বড় হয়ে উঠেছে!
” গু..গুড মর্নিং!
” স্কুল যাও নি?
” ন..নাহ!
” কেনো?
” ভালো লাগছিলো না!
” ভালো লাগছিলো না, নাকি আমি স্কুলে নাই বলে?
” দ…দুটোই!

সে হা হা হা হা করে হাসছে! হাহ? হাসার কি হলো? পঁচা স্যার!
” আচ্ছা আন্টি কেমন আছে?
” মায়ের কিছুই হয় নি! আমায় মিথ্যা বলে আনিয়েছে!
” ওহ! আমি তো ভয়ই পেয়েছিলাম!
” যাও ফ্রেস হয়ে খেয়ে নাও!
” আ..আচ্ছা!

ফোনটা রাখতে মন চাচ্ছিলো না! তাও এটা ভেবে রাখলাম! যে ব্রেকফাস্ট করে আবারো কল দেবো! পরে কল দিতেই ব্যস্ত! সারাক্ষণ ফোন দিয়েই চলেছি কিন্তু ব্যস্ত! বুকটা আমার ধপাস ধপাস করছে! কল কেন ধরছে না? কি হচ্ছে? স্যারের কিছু হলো না তো?
ভয়ে আত্তাসহ লাফাচ্ছে আমার!

সকাল, সকাল ঘুম থেকে উঠে আমি ফোনটা চেক করলাম! সাথে সাথে কাঁদতে ইচ্ছে করছে! একটি মসেজ , বা কল কিচ্ছু ছিলো না! এই সে আমায় ভালোবাসে? ভালোবাসার নমুনা কি এটা?

স্কুলে যেতেই সবাই আমায় আদর করছে, গিফট দিচ্ছে আর ভালো থাকতে বলছে! আজিব! কি হচ্ছেটা কি?
হঠাৎ, হাসান দৌড়িয়ে এসে আমার হাত ধরলো..
” বেলি কেন চলে যাবি! এখানেই থাকনা অনেক মিস করবো যে তোকে!
” কোথায় যাচ্ছি আমি?
পিছন থেকে মা বলে উঠলো ” ঢাকা
আমি দ্রুত পিছনে তাকাতেই দেখি মা, বাবা দাঁড়িয়ে! মা আমার মুখটা ধরে বলে উঠলেন..
” ট্রান্সফার নিয়েছি তোর ! ঢাকায় সিফট হবো! তোর আব্বুর ট্রান্সফার হয়েছে!

খুশিতে কাদবো নাকি অবাকের চুরান্ত সীমানায় পৌছাবো? বুঝার উপায় নেই! বাসায় গিয়ে চিন্তা_ভাবনা করছি আর মা_বাবা কি কি জেনো বলছে আর হাসছে! ঘরের যাবতীয় জিনিস গুছাতে ব্যস্ত! কি হচ্ছে? যাক ভালোই হলো! স্যারকে ঝটকা দেওয়া যাবে! সেদিন খুশিতে আমার আর ঘুম হয়নি! হাসানের সাথে পুরো একটি দিন আবেগে কাটিয়েছি! নিজের ফোন নাম্বার দিয়েছি! ওর নানুর বাসায় ঢাকা! সেখানে যেতেই জেনো আমার সাথে দেখা করে! সেটাও বলে রেখেছি! সকলের সাথে কুশল_বিনিময় করলাম দু’দিন!

এখান থেকে যেতে যেমন কষ্ট হচ্ছে! তেমনি স্যারকে দেখতে পাবো তার কারনে ভালো লাগছে! চট্রগ্রাম থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি প্রায় কেদেই দিয়েছি! সবাইকে ফেলে যাওয়াটা কষ্টের! বেশি কষ্ট লাগছিলো হাসানের জন্য! বেষ্টি বলে কথা! ও বলেছে প্রায়ই ভিডিও কলে কথা বলবে! মাসে কয়েকবার ঢাকা আসবে! আমিও হ্যাঁ বোধক জানিয়েছি! আসলে মায়াতে জড়িয়ে পরেছি সকলের সাথে!
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
বাবার সাথে নানান দুষ্টুমি করে পৌছালাম ঢাকা! নানুদের বাড়ির সামনে ট্রাক থেমেছে আমাদের! আমি দ্রুত বেড়িয়ে আসতেই নানি জড়িয়ে ধরলো! পাগলের মতো চুমু খাচ্ছেন! ঠিক তেমনি আমিও জড়িয়ে রেখেছি তাকে! নানুর সাথে কথা বলতে বলতে ভিতরে ঢুকতে না ঢুকতেই আমি অবাক! আমার পুরো চৌদ্দগুষ্ঠি এখানে! ঘরে মানুষ আঠছে না এমন অবস্থা! আমি দৌড়ে খালা_খালু, কাকা-কাকি, বোন, ভাই, মামা_মামিদের সবাইকে জড়িয়ে আছি! এতো খুশি লাগছে যে কি বলবো? কিন্তু সবাই এখানে কেনো? সবকিছু মাথার উপড় দিয়ে যাচ্ছে..
হঠাৎ মামা আমার মাথাটা টেনে হাত বুলিয়ে বলে উঠলেন…
” কতো বড় হয়েগেছে আমাদের ছোট বেলিটা! একদম বিয়ে দিতে পারবো! তাই না?
আমি হতম্ভব হয়ে রইলাম! বিয়ে দিতে পারব?সিরিয়াসলি? আমি এখনও ছোট আমার বিয়ের কথা ভাবছে এখনই! ভাবা যায়?

মা_বাবা রূমে ডুকতেই ভালোবাসার বন্যা বয়ে গেলো! ভায়েরা_বোনেরা খুশিতে চোখের পানি ফেলতে লাগলো! আমার বেশ ভালোই লাগছে! পরিবার একত্রে হলে কতোটা আনন্দ হয় তা আজ বুঝলাম! মিন্সি আমার বড় মামার মেয়ে! আমার থেকে ২ বছরের বড় বেশ ফ্রেন্ডলি! ওর সাথেই নানান গল্প জুড়ে দিলাম! ও আমায় আড়চোখে দেখছে আর হঠাৎ মুচকি হাসছে! এইবার আমি রেগে বললাম..
” কি হয়েছে? হাসছো কেন পাগলের মতো..?
” ন…নাহ কিছু না! [ বলে আবারও হাসতে লাগলো ]

আমি চুপচাপ ওইখান থেকে চলে আসলাম! হুহ আজিব! সকলের এমন অদ্ভুত বিহেভ আমার মাথায় ঢুকছে না! নিচে নামতেই দেখি আব্বু মুখটা ছোট করে রেখেছে! আব্বুর আবার কি হলো?
” আব্বু?
” হুম!
” কি হয়েছে?
” কিছু না! তুমি যাও গোসল সেরে নাও!

কিছুই বুঝলাম না! সবাই কি নিয়ে জেনো ফিসফিস করে কথা বলছে! কি নিয়ে..? আমাকে দেখেই মিষ্টি হাসি দিচ্ছে! কি হচ্ছেটা কি? এইবার আমি সজা নানির রূমে গেলাম! মাত্র নামাজ সেষ করে বসেছে! আমি দ্রুত গিয়ে তার পাশে বসলাম!
” নানি এখানে কি হবে? এতো আয়োজন চলছে যে?
” যা হবে পরে দেখতে পাবি! এখন গিয়ে গোসল করে নে! যাহ!

আর কোথাও যাবো না! কেউ তো কিছু বলছেই না! আমি আপুর রূমে চলে এলাম! কাপড় নিয়ে গোসল করে নিলাম! খাটের উপড় চুপচাপ বসে আছি! অপেক্ষায় আছি আপু কখন বের হবে! আপু বের হতেই আমি দ্রুত ফোনটা বের করে কল লাগালাম স্যারের ফোনে! রিং হচ্ছে কিন্তু ধরছে না! কেনো?
আবার কল দিতেই বিজি! স্যার কি আমায় ইগনোর করতে চাচ্ছে? কলের পর কল দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু সে রিসিভ করছে না! আমার চোখ ভিজে যাচ্ছে পানিতে! আজ ২ দিন হতে চলল, অথচ একটিবার কল দিলো না! আর রিসিভ ও করলো না! এই তার অতিরিক্ত ভালোবাসা? এটাই নমুনা! আমি এখন পুরনো হয়ে গেছি! তাই আর চলছে না! নতুন পেয়েছে তাই ভুলে গেছে! আমার এতো কান্না পাচ্ছে কেন? আমি কেন কাদবো? সে আমার কথা মনে রাখে নি! আমি কেন মনে রাখবো? রাখবো না মনে! কাদবো না! তাও চোখের পানি টুপটুপ করে পরছে! প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে!

চোখ খুলতেই দেখি আমি বিছানায় উবুত হয়ে শুয়ে আছি! মাথাটা ব্যাথা করছে! কাদতে কাদতে মাথা ধরে এসেছে আমার! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই অবাক? মুখটা ফুলে টমেটো! কেউ দেখার আগেই ওয়াস্রুম ঢুকে পরলাম! কেউ দেখলে হাজার প্রশ্ন করবে! কিভাবে বলবো এই অল্প বয়সে, ভালোবেসে আমি পাগলি হয়ে গেছি! ভালোভাবে ফ্রেস হয়ে নিলাম! তাও মুখটা ফুলাফুলা!

ঢুলুঢুলু হয়ে আছে চোখ গুলো! ঘড়ির দিক তাকাতেই চোখ বড়বড় হয়ে গেলো! ৬ টা বাজদে চলল! কেউ আমায় ডাকলো না খেতে! কি স্বার্থপর সবগুলো! কেউ ভালোবাসে না আমায়! কেউ না! আবারও ফোনটা ধরলাম! একটু আশা ছিলো, যদি একটি মেসেজ দেয়! কিন্তু না, স্যার একটি মেসেজ বা কল কিচ্ছু দেয় নি! একটি কলও না! হু হু হু হু পচা, খারাপ, যচ্চর স্যার! একটি কলও দিলো না! রাত্রি সেষ হয়ে ভোর হতেই ৩ দিন চলে যাবে! কি এমন ব্যাস্ত যে একটা মেসেজ দেওয়া যায় না? ফোনটা হাতে নিয়ে বসে আছি! বারবার স্ক্রিনে তাকাচ্ছি, যদি একটি মেসেজ দেয়! কিন্তু ক্ষুধা ও তো লেগেছে! ফোনটা লুকিয়ে রূম থেকে বেড়িয়ে আসলাম! সবাই টুকটাক কাজে ব্যাস্ত! ডাইনিং এ খাবার রাখা! আমি গিয়্ব চুপচাপ খেয়ে নিলাম! আড়চোখে সবাইকে পর্যবেক্ষন করছি! আমাকে টুকটুক চোখে দেখছে! আমিই বড়বড় চোখ করে তাদের তামাশা দেখছি! হঠাৎ নাহিন [ বড় মামার ছেলে ] আমার সামনে চেয়ারে বসলো! আমি ভ্রু_উচু করে ওর দিক তাকালাম! ও দুটো ভ্রু উচু করে মুখ বাকালো! আমি মুখ ভেঙিয়ে দিলাম! আর নাহিন হো হো হো করে হেসে দিলো! পাজি মেয়ে, আমায় মুড দেখাচ্ছে! আমি চুপচাপ খেয়ে উঠছিলাম!

হঠাৎ নাহিন আমার পিছনে এসে কানে কানে বলে উঠলো..
” এতো আয়োজন তোমার এনগেজমেন্টটের! তাও তোমার থেকে অনেক বেশি বয়সী এক লোকের সাথে! খুব জলদি আমরা বিয়ে খেতে চলেছি..!
আমি টাস্কি খেয়ে চোখ বড়বড় করে নাহিনের দিক তাকালাম! নাহিন হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছে! হাহ? আমার এনগেজমেন্ট? সিরিয়াসলি?
” কি আবল_তাবল বকছিস? বড্ড পেকে গেছিস দেখছি? বিচার দেবো মামার কাছে?
” যাও..! হ্যাল্প করলাম তোমার! আগে আগে জানিয়ে দিলাম যাতে ভেগে যেতে পারো!

আমি এইবার দৌড়িয়ে মায়ের কাছে চলে এলাম..
” মা? নাহিন কি বলছে এগুলো?
” কি বলছে?
” এই যে আমার নাকি আজ এনগেজমেন্ট?
” হুম..! তার জন্যই তো ঢাকায় সিফট হয়েছি!
” মা তুমি মজা করছো তাই না?
” মজা কেন করবো!
আমি এইবার চিল্লিয়ে উঠলাম..
” এগুলো কি বলছো তোমরা? আমার এনগেজমেন্ট? আমি এখনও পিচ্চি মা! আর আমকে না জানিয়ে কিভাবে পারলে! আব্বুউউউউউ…
আমি চিৎকার করতে করতে আব্বুর কাছে যাচ্ছি..
” আব্বু! এগুলো কি শুনছি আমি? আমার নাকি কি এনগেজমেন্ট হবে?
” হুম!
” কি বলছো এগুলো আব্বু? আমি এখন এনগেজমেন্ট বা বিয়ে কিছুই করবো না! আমি এখনও ছোট! কিসব বলছো তোমরা!
এইবার আমি কেদেই দিলাম! বাবা আমার মাথাত হাত বুলাচ্ছেন..
” গাধি তোমার জন্যই তো, তোমাকে এত দ্রুত এনগেজমেন্টটা করিয়ে রাখছি! আমাদের থেকে তুমি বেশি খুশি হবে পরে! দেখে নিও পাগল একটা!

কথাগুলো বলে আব্বু হাসতে হাসতে চলে গেলো! আমি দৌড়িয়ে রূমে ঢুকে একটার পর একটা কল স্যারকে দিয়েই যাচ্ছি! লাষ্ট মেসেজ দিলাম..
” আপনি কি আমায় ইগনোর করছেন? ইগনোর না করে সরাসরি বলে দিলেই পারতেন, আমি আর ডিস্টার্ব করতাম না!
রিপ্লায় আসে নি! ২ ঘন্টা যাবত ফোন নিয়ে বসে আছি! আর ভালো লাগছে না! কি করবো? স্যারকে কিভাবে জানাবো যে আমি অন্যকারো হয়ে যাচ্ছি! তিনি তো আমার ফোনটাও ধরছেন না! এখন আমি কাদতেও ভুলে গেছি! এমন যন্ত্রণা হচ্ছে কেনো?
হঠাৎ এত দ্রুত এগুলো কি হচ্ছে আমার সাথে?
বড্ড কান্না পাচ্ছে, কিন্তু কান্না আসছে না, ওরে কেউ সাহায্য করো! হাসান্নন্নন্নন্নন্নন্নন্নন…..

হাসানকে কল করলাম! ফোন রিসিভ হচ্ছে না! এইবার ফোনটা আছার দিতে ইচ্ছে করছে! ন..নাহ কল ব্যাক করেছে!
” হ..হ্যালো হাসান..?
” কিরে? কি হয়েছে?
” [ নাক টেনে ] আ..আমার এনগেজমেন্ট দেওয়ার জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছে! এ্যা এ্যা এ্যা……
” কি বলছিস? সিরিয়াসলি?
” হু…[ কেদে দিয়ে ] ” আরেহ তুই কাদিস না! আচ্ছা..তুই তো কাউকে ভালোবাসিস না! তো কি হইসে, বিয়ে তো হচ্ছে না! যাষ্ট এনগেজমেন্টটাই তো!
” ক…কি বলতেছিস! গাধা..! আমি একটুখানি মেয়ে! ১৮ হয়নি এখনও! আর আমার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে ফ্যামিলি! তুই ও আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড না! আ..আমার কষ্টটাই বুঝলি না! সয়তান…..

কলটা কেটে আবারও কেদে উঠলাম.. হু হু হু হু! আমার স্যার..? ন..নাহ আমার স্যার না এইটা! সবাই খারাপ! হাসান কল দিচ্ছে! নাক ঝেড়ে কল রিসিভ করলাম..
” কিরে ইনভাইট করবি.. নাহ?
” তবে রে সয়তান! তোর জীবনও পোলাপান হবে না! কুত্তা..! তোর কোনোদিন বিয়েই হবে না! এতিম একটা!
” আ..আরেহ বোন আমার! বিয়ে তো তোকে করতেই হবে! আজ নাহলে কাল? করবি তো নাকি? সিংগেল তো আর থাকবি না সারাজীবন?
” [ চোখ মুছে ] আমি যে অন্যকাউকে ভালোবাসি!
” একটু আগে না বললি! তুই এখনও বাচ্চা! একটু খানি মেয়ে! তোর আবার ভালোবাসার মানুষও আছে?
” হু..! [ কেদে দিয়ে ] ” কে সে..?
” বলা যাবে না!
” আচ্ছা আমি ঢাকা আসবো?
” কি ব..বিয়ে খেতে আসবি আ..আমার?
” হুম..! তোর বিয়ে না খেলে কি আর আমার নিজের বিয়ে হজম হবে?
” তুই বউ হীন মরবি! দেখে নিসসসসসসস….!

সবাই বাহিরে হাসাহাসি করছে! আর আমার কান্নার বেগ বারছে! এই জালিয়াতি করার জন্য আমায় নিয়ে এসেছে? স্যারর্ররররর….

চলবে…!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here