অন্যরকম ভালোবাসা ২ -পর্ব ০৪

0
75

#অন্যরকম_ভালোবাসা 💓[২]
#ইফা_আমহৃদ
পর্ব:: ০৪

— “সমাজের কাছে ছোট হয়ে গেলাম আমি। সকলে আমায় ডিভোর্সি হিসেবে চিনবে। সবাই আঙুল তুলে বলবে; আমি নিজের সংসার-টা খেয়েছি। সবকিছু সহ্য করতে হবে আমায়। এছাড়া কোনো পথ নেই যে!”

কথাগুলো বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো ইশরা। নিচে পড়ে থাকা এলোমেলো জামা কাপড় গুলো একত্রে বেডের উপর তুললো। নির্বিকার ভাবে ভাঁজ করতে লাগলো। তদানীং আয়ান ইশরার দিকে তাকিয়ে ছিল। ইশরার মুখোমুখি সোফায় বসে বলল.

— “কিসব আবোল তাবোল ভাবছিস তুই! সমাজ কেন এইসব ভাবতে যাবে? তুই আর আমি এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সম্পর্কে যাই নি। তাছাড়া সময় সুযোগ বুঝে আমরা আলাদা হয়ে যাবো।”

কদাচিৎ হাসলো ইশরা। কিছু জামা কাপড় ভাঁজ করে কাবার্ডে সাজিয়ে রেখে বলল.

— “সেটা তুই আর আমি জানি, সমাজ না। সবে বিয়ে হলো আমাদের। তিন মাস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিভোর্স কার্যকর হবে না। নিজের অগোছালো জীবনটা নিয়ে কি করবো, আদোও জানি না।”

— “মেঘ কিন্তু এখনো আমাদের ব্যাপারটা জানে না। ইভেন্ট শেফা দুয়ান কেউ জানে না। তুই কাউকে বলিস না। তাহলে মেঘও জানতে পারবে না।”

বাকি জামা কাপড় ভাঁজ করে কাবার্ডে রেখে আয়ানের দিকে তাকালো ইশরা‌। ফিচেল হেঁসে বলল.

— “এতো বড় একটা ঘটনা মেঘের জানা দরকার। যেটা সত্যি সেটা সত্যিই। পরে কোনো সমস্যার মুখোমুখি আমি হতে চাই না।”

ইশরা তপ্ত নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে গেল। মাথার চুল টেনে সোফায় টান টান হয়ে শুয়ে পড়লো আয়ান। সত্যিই যদি মেঘ একসেপ্ট না করে তখন ইশরার কি হবে। ভিত্তিহীন কর্মের জন্য নিজেকেই ঠাঁটিয়ে কয়েকটা লাগিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে আয়ানের। নিজের কার্মের জন্য যখন অনুসূচনায় ব্যস্ত আয়ান তখনই ইশরার কন্ঠস্বর ভেসে এলো তার শ্রবণপথে।

— “আয়ান! তোর জন্য টেবিলের খাবার সাজিয়েছি, খেয়ে আয়।”

নতদৃষ্টি সরালো না সে। ইশরার দিকে তাকানোর মতো সাহস খুঁজে পেল না। বিব্রত কন্ঠে বলল.

— “গুছিয়ে রাখ; খেতে ইচ্ছে করতে না। ক্ষুধা নেই।”

এতোক্ষণ আয়ানের সাথে অযথা তর্কে না জড়ালেও এবার বিরাগী হলো ইশরা। ক্ষীণ চোখের আয়ানের দিকে তাকিয়ে দিলো এক ধমক .– “তোর ক্ষুধা নেই আগে বললেই পারতি! শুধু শুধু খাবার সাজাতে হলো।”
পূর্ণরায় রুম প্রস্থান করলো ইশরা। টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা খাবারগুলো ঢেকে রাখলো। সুন্দর করে গুছিয়ে রুমে এলো। আয়ান আগের ভঙ্গিতেই সোফায় গা এলিয়ে আছে। রুমে প্রবেশ করে রুমের আলো নিভিয়ে দিল। লাল রঙের ড্রিম আলো জ্বালিয়ে বেডের দিকে এগিয়ে গেল। বালিশ বেডের এক কোণে সেঁটে শুয়ে পড়ল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আয়ানের কোনো ভাবাবেগ এলো না। পেছনে না ফিরে শান্ত কন্ঠে বলল.

— “আয়ান রাত-তো অনেক হলো। খাবার তো খেলি না। এবার কি ঘুমাবিও না।”

ইশরার শান্ত কন্ঠে আয়ানের বক্ক জুড়ে তুমুল হাওয়া ছড়িয়ে পড়লো। তার কাছে কন্ঠ টা কেবল শান্ত ছিলো না, গম্ভীর ছিলো। অন্যপাশ ফিরে শুয়ে আছে বিধায় মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। দৃষ্টি সেদিকে স্থীর রেখে বলল.

— “ইশরা আমি জানি; আমি ভুল করেছি। সত্যি-টা না জেনেই হুট করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর সেটা তোর উপর চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিশ্বাস কর, তখন আমি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ছিলাম না।”

আয়ানের কথা শ্রবণেন্দ্রিয় পর্যন্ত পৌঁছালে ফিরলো ইশরা। আয়ান পূর্বেই করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো ইশরার দিকে। বিধায় দু’জনের চোখাচোখি হয়ে গেল। ফিচেল হাঁসলো ইশরা। আয়ানের চোখের মাঝে নিজের চোখ রেখে গভীর অনুভূতি থেকে বলল.

— “ভালোবাসা মানে কি জানিস তুই? সারাক্ষন তো বলিস ভালোবাসি? ভালোবাসি?
ভালোবাসা মানে রোমান্টিক কথা বার্তা।
মোটেও নয়, ভালোবাসা মানে__
এমন একটা অনুভুতি যা আর পাঁচটা অনুভূতির থেকে ব্যতিক্রম।
ভালোবাসা মানে কথায় কথায় এক রাশ অভিমান করা, তবে অভিযোগ করা নয়।
ভালোবাসার মানে__
মাঝে মাঝে তাকে প্রচন্ড রাগিয়ে দেওয়া, তার থেকে মিষ্টি মিষ্টি বকা শোনা। অভিযোগ গুলো জানা।
ভালোবাসার মানে__
তার কাছ থেকে একটু কেয়ারিং এর জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
ভালোবাসা মানে__
গভীর অনুভূতি দিয়ে কপালে ছোট একটা চুমু এঁকে দেওয়া।
ভালোবাসা একটা আশ্চর্য কর বস্তু, যে ভালোবাসার মর্ম বোঝে সে পায় না।
যে পায় সে হারায়, অবহেলায়।
তুই যখন কাউকে সত্যিকারের ভালোবাসবি তখন তাকে মনে প্রাণে অবশ্যই চাইবি, তবে তার আগে চাইবি। সে ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। তার সুখের কাছে তখন তোর সুখটাকেও কম মনে হবে। কাউকে ভালোবাসা মানে প্রয়োজন নয়। যদি পারিস তাহলে কাউকে এভাবে ভালোবাসিস.

ইশরার কথাগুলো গভীর মনোযোগ সহকারে শুনছে আয়ান। ইশরা নিদ্রায় তলিয়ে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। তার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ জানান দিচ্ছে, তিনি নিদ্রাচ্ছন্ন। আজ প্রথমবার কারো কথা এতো মনযোগ দিয়ে শুনেছে আয়ান।

আয়ান চাইতো, খুব করে চাইতো দিবাকে। কিন্তু আজকের পর তার চাওয়াটা অন্যরকম হবে। যাকে বলে, অন্যরকম ভালোবাসা 💓

সোফা থেকে উঠে পড়লো আয়ান। ইশরার কেশ সমূহতে হাত বুলিয়ে দিলো। অপরাধী মাখা কন্ঠে বলল.

— “স্যরি! অনেক গুলো স্যরি। দিবা ফিরে আসেনি। মিথ্যা বলেছি আমি। তোর জীবনটা হাল বিহীন নৌকার মতো করে দিয়েছি। আমি জানি; একটা মেয়ের জন্য এটা সত্যিই অসহনীয়। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমি অক্ষম, ইরেকটাইল ডিসফাংসনে আক্রান্ত। মনটা সেই কবে দিবাকে দিয়েছি আর নিজেকে তোর কাছে পদার্পণ করতে চেয়েছিলাম।
ভাগ্যিস দিবা আসেনি। না-হলে তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যেত।
তুই মেঘের কাছেই ভালো থাকবি।”
________________
— “আসতে পারি!”

ডাঃ চৌধুরী রিপোর্ট থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আয়ানের দিকে দিলেন। কৌতূহলী কন্ঠে বললেন.–” আপনি আয়ান! আয়ান আহম্মেদ অভি।”

আয়ান জোরপূর্বক মৃদু হেঁসে ডাঃ চৌধুরীর কথায় সায় দিলো। ভেতরে প্রবেশ করলো আয়ান। মাস তিন আগে থেকে শারীরিক সমস্যায় ভুগছে আয়ান। দিবার প্রতি আয়ানের পাগলামীতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সকলে। তাই আয়ানের অসুস্থতা কাটাতে পারিবারিক ডাক্তারের কাছে বডি চেক-আপ করানো হয়। গত কাল হঠাৎ করে ডাক্তার ফোন করে আয়ানকে আসতে বলে, এসেই এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল।

মিঃ চৌধুরী রিপোর্ট গুলো আয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন.
— “প্লীজ টেক ইউর সিট। আমি ডা. মিহান চৌধুরী।ভেনারেল/সেক্স স্পেশালিস্ট। ডক্টর হু স্পেশালাইজড সেক্স ডিসেস। অর্থাৎ যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ। মূলত আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. হামিদুর রহমান আপনার রিপোর্ট গুলো আমার কাছে পাঠিয়েছেন, কনফার্ম হওয়ার জন্য। আপনাকে কি তিনি কিছু বলেছেন?”

আজ জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত সত্যিগুলো প্রকাশ পেতে চলেছে আয়ানের। নত সুরে বলল.

— “তিনি আমাকে পুরোপুরি বলেন নি। আপনার সাথে দেখা করতে বলেছেন। বাকিটা আপনার থেকে জেনে নিতে হবে।”

ডা.চৌধুরী চোখ থেকে মোটা ফ্রেমের চশমা খুলে টেবিলের উপর রাখলেন। ফাঁকা গ্লাস পানিতে পূর্ন করে এগিয়ে দিলেন আয়ানের দিকে। চোখের ইশারায় পানি খেতে বললেন! আয়ান গ্লাস তুলে কোনোরকম অধর ছোঁয়ালো গ্লাসে। যেমন গ্লাস ভর্তি পানিতে পূর্ণ ছিল এখনও তেমনটিই আছে। বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে একে একে বলতে শুরু করলেন.

— “ডিসফাংসন হলো মূলত পুরুষত্বহীনতা। এটা পুরুষদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়।
পুরুষত্বহীনতা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন ঘটে যখন একজন পুরুষ যৌন সঙ্গমের জন্য সন্তোষজনকভাবে লিঙ্গের ইরেক্শন অর্জন বা বজায় রাখতে সক্ষম হয় না। যদিও একজন মানুষের মাঝে মাঝে ইরেকশনে কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু ইরেকটাইল ডিসফাংশন যা নিয়মিত বা বার বার হয়ে হয় তা স্বাভাবিক নয় এবং এর চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

ইরেকটাইল ডিসফাংশন একটি সাধারণ সমস্যা যা লিঙ্গের অপর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, মানসিক চাপ ইত্যাদি অনেক কারণে হতে পারে। এবং ইরেকটাইল ডিসফেকশন সম্পূর্ণরূপে বিপরীত হতে পারে এবং তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর যৌন জীবন যাপনের মান উন্নত করতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং দম্পতিদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।”

(চলবে.. ইনশাআল্লাহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here