অন্যরকম ভালোবাসা ২ -পর্ব ০৫

0
77

#অন্যরকম_ভালোবাসা 💓[২]
#ইফা_আমহৃদ
পর্ব: ০৫

— “ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অর্থাৎ পুরুষত্বহীনতার কোনো চিকিৎসা নেই ডাক্তার। আমি কি আর পাঁচটা মানুষের মতো সাধারণ জীবন কাটাতে পারবো না।”

ডা.চৌধুরী দৃষ্টি সরিয়ে আয়ানের দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। আয়ানের দৃষ্টি তখন নিচের দিকে অবস্থান করছে। করুন-তা ছড়িয়ে গেছে মুখশ্রী জুড়ে। ইরেকটাইল ডিসফাংশন আক্রান্ত বয়সসীমা চল্লিশোর্ধে কিন্তু আয়ানের শারীরিক ক্রুটি এবং অনিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন প্রধান কারণ। মি.চৌধুরীর ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন কিছুর সম্মুখীন হতে হয়নি। আয়ানের মনোবল দরকার, তাকে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। হেঁসে উড়িয়ে দিলেন ব্যপারটা। উঠে দাঁড়িয়ে আয়ানের কাঁধে চপল মারল একটা। বললেন.

— “ইয়াং ম্যান এতো চিন্তা করছ কেন? ঘরে বিয়ে করে বউ রেখে এসেছ না-কি? চিল মুডে থাকবে! এখনই তো বয়স চিল করার। ধীরে ধীরে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে!”

আয়ান মিথ্যা হাঁসির রেখা ফুটিয়ে প্রতিউত্তল দিলো.
— “আম ম্যারেড।”

— “ওয়ার্ট!”
কথাটা শুনে তড়িৎ গতিতে ধাক্কা খেলেন তিনি। বিনা বাক্যেয় রিপোর্ট গুলোতে পূর্ণরায় পর্যবেক্ষণ করে। বললেন. — “কিন্তু তোমার রিপোর্টে তো উল্লেখ নেই।”

— “দুদিন হলো বিয়ে করেছি!”

মনটা বিষিয়ে উঠেলো মি.চৌধুরীর। আয়ানের বয়স বেশী না। ভার্সিটি পড়ুয়া একটা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে। সবে বিয়ে করছে। আর এখনই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে আশ্বাসে জড়ানো কন্ঠে প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিলো.

— “আয়ান পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই যার বিন্দুমাত্র চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা কম আছে, কিংবা ব্যয়বহুল। ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর কয়েকটি চিকিৎসা রয়েছে। যেমন.
আলপ্রোস্টাডিল ইউরেথ্রাল, সাপোজিটরি (ইন্ট্রাওরেথ্রাল থেরাপি), টেস্টোস্টেরন থেরাপি, কমপেনাইল পাম্প (ভ্যাকুয়াম ইরেকশন ডিভাইস), মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা, জীবনধারা পরিবর্তন।

তোমার আরো কিছু টেস্ট করে করে ট্রিটমেন্ট নেওয়া হবে। আপাতত কিছু মেডিসিন, মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা আর জীবনধারা পরিবর্তন জনিত সমস্যার সমাধান দিবো।১. মৌখিক ওষুধ:
সিলডেনাফিল (ভায়াগ্রা)
টাডেলফিল (এডিসিরকে, শ্যালিস)
ভারডিনাফিল (লেভিট্রা, স্ট্যাক্সিন)
অভ্যানফিল (স্টান্ডারা)
এই ওষুধগুলি শরীরে নাইট্রিক অ্যাসিডের প্রচলন বাড়ায়, যা লিঙ্গে পেশী শিথিল করে এবং ফলস্বরূপ রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, যার ফলে ইরেক্শন হয়। এই ঔষধগুলির সাথে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে মুখ ফর্সা হওয়া, নাক বন্ধ হওয়া, চাক্ষুষ ব্যাঘাত, মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা এবং বদহজম। এই ওষুধগুলি নাইট্রেটস (সাধারণত বুকে ব্যথার জন্য নির্ধারিত), আলফা-ব্লকার, অথবা আপনার হার্ট ফেইলিওর বা হাইপোটেনশন থাকলে এই ওষুধগুলি রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে না।

২.অ্যালকোহল গ্রহণ এবং ধূমপান বন্ধ।
একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য অনুসরণ করবে।
নিয়মিত ব্যায়াম।
পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানো।

৩. সবচেয়ে বেশি সেটা দরকার নিজের প্রতি কনফিডেন্স।”

_______________
অন্ধকারের চাদরে মুড়িয়ে গেছে দীর্ঘ দিনটি। দিবা রশ্মির চিহ্নমাত্র নেই আকাশ জুড়ে। চাঁদ বিহীন আকাশে তারাদের উপস্থিতির ভারী মেলা জোর। আকাশের মাঝে মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তারাগুলো উজ্জ্বল আলোয় জ্বলছে। বাইরে মন
জুড়ানো অনুভুতি থাকলেও রুমের ভেতরে পিনপিনে নিরবতা। জানালার পাশ গেঁসে অন্ধকার রুমে বসে আছে ইশরা। আয়ানের দেখা নেই তার। বাড়ির সবাই নিদ্রায় তলিয়ে গেছে অনেকক্ষণ পূর্বে। দম বন্ধ শ্বাস ছাড়লো ইশরা।
খট করে প্রবেশদ্বার খোলার শব্দে পেছন ফিরে তাকালো ইশরা। আয়ানকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না তবে আয়ানের ছায়া মূর্তি দেখা যাচ্ছে। করতলের উপর ভর করে বেডের উপর থেকে নেমে আয়ানের মুখোমুখি দাঁড়ালো ইশরা। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল.
— “১২টা বাজতে চললো। এতোক্ষণ আসার সময় হলো তোর? সেই সকালে বেরিয়ে গেলি, আর এখন ফিরলি। চিন্তা হয় না।”

আয়ান ইশরার দিকে এক নজর তাকিয়ে শরীর থেকে গন্ধযুক্ত শার্ট খুলে ফ্লোরে রাখলো। বেলকেনির দিকে এক পা ফেলতেই হাত ধরলো ইশরা। আয়ানকে নিজের দিকে ফিরিয়ে প্রচন্ড জেদে প্রশ্ন ছুঁড়ল.

— “আমার কথার উত্তর না দিয়ে কোথায় যাচ্ছিস তুই।”

— “আমি কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই ইশরা। তোর আর আমার বিয়েটা মাত্র কিছুদিনের। দুদিন পর আলাদা হয়ে যাবো আমরা। তাই আমাকে আমার মতো থাকতে দে।”
আয়ান এবারও তাকালো না ইশরা দিকে। হাত ঝাড়া দিয়ে বেলকেনিতে চলে গেল। কিছুটা দূরে গিয়ে ঠেকলো ইশরা। বিরাগী চোখে বেলকেনির প্রবেশদ্বারের দিকে অবলোকন করলো ইশরা। আয়ান তো ঠিকই বলেছে, কিছুদিন পর তারা আলাদা হয়ে যাবে। তাহলে আয়ানের দেরী করে আসাতে কি যায় আসে তার।
নিচ থেকে উঠে দাঁড়ালো ইশরা। কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল সে। আজ আয়ান আর নিজের জন্য কফি বানাবে সে। চিত্ত নির্ভর কফি নিয়ে রুমে হাজির হলো সে। বেলকেনির দরজাটা এখনো কদাচিৎ ফাঁক। ঠেলে প্রবেশ করলো সে। অন্ধকারের মাঝে এক খন্ড আলো জ্বলজ্বল করছে সেখানে। দ্বি-মুহুর্ত অতিক্রম করার আগেই নাকের কাছে তীব্র নিকৃষ্ট গন্ধ অনুভব করলো সে। খকখক শব্দে কেশে উঠলো। হাতে অবস্থানরত কফির মগ টা দ্রুত রেলিং এর উপর রেখে মুখে হাত গুঁজে নিল। কাশি থামা বদলে বেড়ে গেল কয়েকগুণ। কাশতে কাশতে বলল.

— “আ-আয়ান। তু-ই স্মোক করছিস। তুই তো কখনো এইসব ছুঁড়ে দেখতিস না। কি বিচ্ছিরি গন্ধ আসছে।”

অপ্রসন্ন হলো আয়ান। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে হাতের রক্ষিত জ্বলন্ত সিগারেট-টা ছুঁড়ে ফেললো ইশরার দিকে। সিগারেটের জ্বলন্ত অংশটা দুই ওষ্ঠের মাঝে লেগে গড়িয়ে পড়লো পায়ের পাতার উপর। সাথে সাথে ঘর কাঁপিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো ইশরা।
ফিরে তাকালো আয়ান। ইতিমধ্যে কাশি থেমে গেছে তার। বসে পড়লো নিচে। একহাতে অধর অন্যহাতে সিরারেটের অংশটা ছুঁড়ে ফেলে দিলে বেলকেনি থেকে অদূরে। মাথা তুলে আয়ানের দিকে তাকালো ইশরা। খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে গেল রুমের দিকে।

আয়ান ইশরার পেছনে পেছনে রুমে প্রবেশ করলো। ইশরার পায়ের কাছে হাঁটু মুছিয়ে বসলো। পা সরিয়ে নিল। আয়ান পা টেনে জোর করে হাঁটুর উপর রেখে দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেল। রীতিমত নাক চেপে বসে আছে ইশরা। আয়ানের শরীর থেকে গন্ধ ভেসে আসছে। ইশরার দিকে তাকালো আয়ান। নিজের দূর্বলতা বুঝতে পারল। একটা ওয়ান টাইম লাগিয়ে দিল। ব্রাশদানি থেকে ব্রাশ নিয়ে প্রেস লাগিয়ে ব্রাশ করা শুরু করলো। মিনিট পাঁচেক-এর ভেতরে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এলো সে। কাবার্ড থেকে স্রে বের করে বেলকেনি সহ পুরো রুমে স্রে করে নিল।

ইশরা পূর্বের জায়গায় নেই। পা বাইরে দিয়ে বেলকেনির রেলিং এর উপর বসে, দুহাতে দুটো কফির কাপ নিয়ে কফি খাচ্ছে। সময় অবিলম্ব না করে আয়ানও ইশরার পাশে বসে বলল.

— “এভাবে বসে আছিস। যদি পড়ে যাস.?”

বিরুপ কন্ঠের বলল.

— “এখান থেকে পড়ে মরে গেলে তুই শান্তি পাবি।”

তীরের মতো বিঁধল আয়ানের বুকে। গতকাল বলা ইশরার কথাগুলো স্বরণে এলো তার। স্বল্প সেঁটে গেল ইশরার দিকে। ইশরাও সেঁটে গেল অপর পাশে। আয়ান দুজনের মাঝে দুরত্ব ঘোচাতে যাওয়ার জন্য উদ্দেগ হতেই উঠে পড়লো ইশরা। আয়ান হাত ধরে থামিয়ে দিল তাকে। বাঁধা মানলো না ইশরা। ঝাটকা দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিল। ফলস্রুতিস্বরুপ কাপের কফিগুলো আয়ানের বক্ক জুড়ে। মৃদু তাপে জ্বললেও হাত ছাড়ল না আয়ান। ইনোসেন্স ফেস করে বলল.

— “আমি একবার ছুঁড়েছি, তুই একবার ছুঁড়েছিস। সো হিসেব বরাবর।”

অশ্রুসিক্ত নয়নে ইশরার বলল.

— “কিসের হিসেব বরাবর.. হ্যাঁ। আমি শুধু তোর বুকে মেরেছি আর তুই আমার পায়ে আর ঠোঁটে.

ঠোঁট কামড়ে কথা অসমাপ্ত করলো ইশরা। রেলিং থেকে নেমে ইশরার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অধরে অধর স্পর্শ করলো সে। পূর্ণরায় সরে নিজের জায়গা দখল করে নিল আয়ান। পুরো শরীরে স্পর্শগুলো ফুটে উঠেছে। হাত গিয়ে স্পর্শ করলো অধর। অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে হাত থেকে কাপ পড়ে তুমুল শব্দে ভেঙ্গে গেল। ফুঁপিয়ে উঠলো ইশরা। একের পর এক ধাক্কা দিচ্ছে আয়ানের হৃদমাঝারে। ধাক্কা দিয়ে দিয়ে আয়ানের পিঠ গিয়ে ঠেকলো দেয়ালের সাথে। তবুও ইশরার ধাক্কা দেওয়ার শেষ হয়নি। ইশরার হাতের আঙ্গুলের ভাঁজে বন্দী করে দৃঢ় বাঁধনে বেষ্টিত করে নিল বক্ক-মাঝারে। হেঁচকি তুলতে তুলতে বলল.

— “কেন? কেন করিস এমন? আমার তোর থেকে এমন ব্যবহার পেতে ভালো লাগে না।”

ভারী নিঃশ্বাস ছাড়লো আয়ান। বুকের ভেতরে জমিয়ে রাখা পাথরের ক্ষতগুলো ইশরার স্পর্শে বরফ গলিত পানিতে রুপান্তরিত হতে চলেছে। আদোও কি এমন ভালোবাসা চিরস্থায়ী হবে। যদি এই সুখটুকু সারাজীবন ধরে রাখা যেত, অবশ্যই চেষ্টা করতো সে।

________যতবার আমি সুখ খুঁজতে যাই,,
ততবার আমি তোমাকে খুঁজে পাই!
— ইফা🌿

রিংটোনের আওয়াজে ধ্যান ভাঙল দু’জনার। মুখ তুলে তাকালো আয়ানের দিকে। লজ্জার্থ মুখটা লুকাতে প্রস্থান করলো ইশরা। ফোনের স্ক্রিনে আঁখি বন্দী হতেই আয়ানের দিকে দৃষ্টিপাত করলো ইশরা। মেঘ নামটা জ্বলজ্বল করছে।

সামান্য কিছুক্ষণের মধ্যে নিজের দূর্বলতা ভুলে গিয়েছিলো আয়ান। জানালার অদূরে দৃষ্টি স্থীর করে বলল.

— “আমি মেঘকে ফোন করেছিলাম। কালকে তোর সাথে দেখা করতে চাইছে সে।”

(চলবে.. ইনশাআল্লাহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here