অন্যরকম ভালোবাসা ২ -পর্ব ১৭

0
61

#অন্যরকম_ভালোবাসা 💓[২]
#ইফা_আমহৃদ
পর্ব:: ১৭

— “ঢেকে লাভ নেই। যা দেখার দেখে নিয়েছি। পুরো জাদুঘরে সংরক্ষিত করা যাবে। (মাথায় হাত দিয়ে আবার,) ইস্, ফোনের কথা মনে ছিল না, নাহলে ফোনে ছবি তুলে রাখতাম ভাবা যায়।”

অস্বস্তিতে পড়ে গেল আয়ান। আয়ান ঈষৎ ঝুঁকে প্রয়োজনীয় জামা কাপড় নিয়ে পরিধান করে নিল। ডিলেঢালা ফতুয়াটা নিয়ে নড়াচড়া করলো কিছুক্ষণ। চুলগুলো পেছনে হেলিয়ে দিয়ে বলল..

— “যেটা দেখার দেখেছিস, তোর টা আমি দেখেছি আর আমার টা তুই দেখেছিলাম। এতে সাহসিকতার কিছু হয়নি।”

বিরাগী হলো ইশরা। ছেলেটা ভাঙবে তবুও মচকাবে না। একটু লজ্জা পেলে কি এমন অশুদ্ধ হয়ে যেত। মুখ বাঁকিয়ে নিলো সে। মুহুর্তেই কোমড়ে ব্যাথা অনুভব করলো। কিছু সময় পূর্বে আয়ান যে তাকে ফেলে দিয়েছে। সেই কথাটা বেমালুম ভুলে গেছিলো সে। কোমড়ে হাত দিয়ে স্লাইড করলো।
এগিয়ে এলো আয়ান। একহাটু ভাঁজ করে ইশরার পাশে বসলো। নিজের ঠান্ডা শিতল হাতটা গলিয়ে দিলো টি শার্টের ভেতর দিয়ে উন্মুক্ত কোমরে। শীতল হাতের স্পর্শে মিইরে গেল ইশরা। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। পরক্ষণেই নিজেকে শূন্যতায় আবিষ্কার করলো ইশরা। আয়ান তাকে নিজের কোলে তুলে নিয়েছে। বেডের মাঝ বরাবর বসিয়ে দিল। কাবার্ডের কয়েকটা ড্রয়ার খুঁজে খুঁজে নিজে এলো মুভ। তর্জনীতে নিল স্বল্প পরিমাণ। অন্যহাতে খানিকটা সরিয়ে নিল টি শার্টের নিম্ন অংশ। ধীরে ধীরে লাগিয়ে দিতে লাগল ব্যাথার্ত স্থানে। একদিকে আয়ানের স্পর্শগুলো অন্যদিকে ব্যাথা সহ্য করতে সক্ষম হলো না সে। চাড়া দিয়ে উঠলো পূর্বের ব্যাথা। হাতের সর্বশক্তি প্রয়োগ করলো কাঁধে। ফতুয়ার মোটা কাপড় বেঁধ করে ভেতরের কিছুটা নখের দাগ পড়লো। হাত সরিয়ে বাকিটা নিজের পড়নের ফতুয়া সরিয়ে কাঁধে দিয়ে নিলো। পূর্বের স্থানে রেখে এলো মুভ। ইশরার পাশে বসে হাত টেনে নিজের কোলে তুলে নিলো আয়ান। নিজের কাঁধে মাথা রাখল ইশরার। হাতের আঙুলের মুঠোয় ইশরার আঙুলগুলো নিয়ে নিল। গভীর ভাবে অধর ছুয়ে দিল তাতে। অতঃপর অন্যহাত চুলের গহিনে নিয়ে নিল। ঠোঁটের কাছাকাছি এনে সেখানে সন্তর্পণে ছুঁয়ে দিল। আবেগ উফুল্ল কন্ঠে বলল..

— “ইশু, এই ইশুপাখি। আর মাত্র কয়েকটা দিন। তনুর বিয়ের আগেই তোমাকে নিজের কাছে নিয়ে যাবো। তার আগে আমার ব্যর্থতা-টা সফলতায় বদলে নেই। পারবে না, সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।”

মাথা তুলে আয়ানের দিকে দৃষ্টিপাত করলো ইশরা। মৃদু ধাক্কা খেলে আয়ানের চিবুকে। নড়লো না সে। মাথায় তাল গোল পাকিয়ে গেল তার। আয়ানের ব্যর্থতা, তনুর বিয়ের। কাঁপা কাঁপা ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে বলল.. — “তনু তো দুয়ানকে..
ইশরার কথা কেড়ে নিয়ে আয়ান বলল..

— “ভালোবাসে তাই তো..

মৃদু নাড়িয়ে সায় দিলো ইশরা। দুহাতের বাঁধনে বেষ্টিত করে নিলো ইশরাকে। বুকে মুড়িয়ে দম বন্ধ করে বলল..

— “আঙ্কেল নিজে দুয়ানের জন্য তনয়াকে পছন্দ করেছেন। দিন দুই পরে এসে দেখে যাবেন। তখন তোরাও যাবি।”

নিজের শরীরের সমস্ত ভড় তখন ছেড়ে দিয়েছে আয়ানের উপর। নয়ন গ্ৰথণ করে সেই মুহূর্ত-টাকে অনুভব করতে ব্যস্ত ইশরা। সেই মুহূর্ত থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা নেই তার। তবে তার ইচ্ছেটা পূরন হলো না। তমোনা খাবারের ট্রে নিয়ে হাজির হলো রুমের ভেতরে। — “খাবার নিয়ে..
বাকি শব্দগুলো উচ্চারণ করতো পারল না। লজ্জায় মিইয়ে গেল সে। আগে থেকেই মেয়ের রুমে যাতাযাত ছিলো তার। হঠাৎ আয়ান আসাতে বিপাকে পড়ে গেলেন তিনি। ভুলেই গিয়েছিলেন, তার মেয়ে এখন বিবাহিতা। সাথে তার স্বামী রয়েছে।

দু’পা পিছিয়ে গেলেন তিনি। গলা খাঁকারি দিয়ে জানান দিলো তার উপস্থিতি। সাথে সাথে তড়িৎ গতিতে সরে গেল দু’জনে। নিম্ন মাথায় ভেতরে প্রবেশ করে খাবার রাখলেন টেবিলে‌। মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন..

— “তোদের দুজনের সমপরিমাণ খাবার আছে! খেয়ে নিস আর বেশী রাত জাগিস না। খেয়াল রাখিস ছেলেটার কি প্রয়োজন হয়। তোর বাবা ঘুমাচ্ছে, আমি তার কাছে যাই।”

চলে গিয়েও ফিরে এলেন তমোনা। সরু চোখে প্রবেশদ্বারের দিকে তাকিয়ে বললেন..– “দরজাটা বন্ধ করে নে”

তমোনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ত্যাগ করলো ইশরা। লজ্জায় ভেনিস হয়ে যেতে ইচ্ছে করতে তার। শেষে কি-না মায়ের সামনে। তার ভাবনার ছেদ ঘটল আয়ানের স্পর্শে। খাবারের ট্রে বেডের উপর রেখে আয়েশ করে বেডে বসলো সে। সূচালো কন্ঠে বলল..

— “ইশু তাড়াতাড়ি নিজের হাতে খাইয়ে দে-তো। খাবার খেয়ে কম্বলের ভেতরে ঢুকে বউকে জড়িয়ে বিন্দাস একটা ঘুম দিবো।”

ভেতরে থাকা অস্বস্তি নিয়ে আয়ানকে খাওয়াতে বসলো ইশরা। প্রথম লোকমা খাবার তুলে দিতেই আয়ান ফিরিয়ে দিল। জরানো কন্ঠে বলল.. — “তুইও কিছু খাসনি, খেয়ে নে,,”।
পরেরবার মুখে নিলো আয়ান। তৃপ্তি করে পেট পুড়ে খেল সে। খাওয়ার মাঝে দুষ্টুমি করে ইশরার হাতে কামড় দিলো সে।

______________
আজকের সকালটা খুব সুন্দর। চারিদিকে রোদ ঝলমল করছে। যদিও বর্ষাকাল। মাঝে মাঝের দিন গুলোতে আকাশ ভার করে থাকে। কিন্তু আজকে একদম পরিস্কার। তবে ইশরার মন ভার করে আছে। সকালটা আর পাঁচটা দিনের চেয়ে সুন্দর হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু হলো না। নিদ্রা ভঙ্গ হওয়ার পরে সেই মানুষটিকে দেখা হয়নি তার। হয়তো ভোরেই চলে গেছে। তাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করে নি। না-কি সেটা তার দুঃস্বপ্ন ছিল। মনে খারাপ করে উঠে বসলো সে। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো নিচে।

রৌদ্র জুবায়ের আর তমোনা তখন ব্রেকফাস্ট করছে। চেয়ার টেনে বসলো। আমতা আমতা করে মাকে প্রশ্ন ছুঁড়ল..

— “মা, কালকে কি আয়ান এসেছিলো!”

অবাকের ভঙ্গিতে ইশরার দিকে তাকালো তমোনা। অবাক হলো কি-না জানা নেই। বিয়ের আগে ঘুমের মাঝে কিছু ঘটলে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ছিলো। বললেন..

— “তুই তো নিজে আমার কাছ থেকে তোর বাবার ফতুয়া লুঙ্গি এনে আয়ানকে পড়তে দিয়েছিলি। ভুলে গেছিস..আসলে আয়ান তোর ঘুমা ভাঙাতে চায়নি তাই আমাকে যাওয়ার আগে বলে গেছে।”

তারমানে ইশরার ধারণা ভুল নয়, আয়ান এসেছিল তার কাছে। তাহলে যাওয়ার আগে কেন বলে যায়নি। রাতে একবার বিয়ে, সক্ষমতা, ব্যর্থতার কথা বলেছিলো। একটা ডাক্তারটি রিপোর্ট দেখে ছিলো। সব মাথার উপর দিয়ে চলে গেল তার। রিপোর্ট-টা খুলে দেখার কথা ভুলে গিয়েছিলো সে। মস্তিষ্ক সচল হতে লাগল তার। তাকে একবার আয়ানের বাড়িতে যেতে হবে। কোনোরকম খাবার শেষ করে বেরিয়ে গেল আয়ান-দের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
_______________

বেকুলতা ছুঁড়ে গেছে সকলের। ইশরা যেন প্রথমবার আয়ান-দের বাড়িতে এসেছে। এটা ওটা খাওয়াচ্ছে তাকে। গল্প জুড়ে দিচ্ছে। কখনো রিহু এসে আয়ানের কথা বলছে আবার তনয়া এসে তার বিয়ের কথা বলছে। তবে কারো অসুস্থতার কথা শুনেনি। বারোটার দিকে এসেছিলো আর এখন দুটো ছাড়িয়ে গেছে। এতো কিছুর পরে পৌঁছালো আয়ানের ঘরে। হাফ ছেড়ে বাঁচলো সে। একে একে আয়ানের প্রতিটি জিনিস খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো ইশরা। কাবার্ডের জামা কাপড় অগোছালো করে ছুঁড়ে ফেলেছে সে। পেল না সেই কাঙ্খিত জিনিসটা। বাস্কেট থেকে করে কয়েকটা মেডিসিনের খোসা নজরে এলো তার। দ্রুত ব্যাগ রেখে দিল। পুনরায় খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে গেল।

বিরাগী হয়ে বেডে বসে পড়লো ইশরা। ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো। বালিশে মাথা হেলিয়ে শুয়ে পড়লো। হাত আটকে গেল বালিশের মাঝে। শক্ত এবং মোটা কিছু স্পর্শে এলো তার। স্বচোখে না দেখেই মাতাল করা স্রোত বয়ে গেল বুকের পাঁজরে। বের করার আগেই ছিনিয়ে নিল কেউ। কৌতূহলী চোখে তাকাতেই আয়ানকে নজরে এলো তার। বালিশটা উঁচু স্থানে রেখে ক্ষেপা দৃষ্টিতে তাকালো ইশরার দিকে। উঁচু গলায় বলল..

— “এটা কোন ধরনের অসভ্যেতামো ইশরা। কারো পার্মিশন ছাড়া তার জিনিসে হাত দেওয়া, নষ্ট করা।”

— “এটা তোমার একার ঘর নয়, আমারও ঘর। তাই যেখানে সেখানে হাত দেওয়ার সমস্ত অধিকার আমার রয়েছে, রাইট নাউ।”

— “ইশরা আগে তুমি এখানে থাকতে, এখন নয়। সো আউট।”

ভ্রু কুঁচকে আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল ইশরা। নড়লো না একপা সমপরিমাণ। ইশরার এমন ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে উঠলো আয়ান। হাত ধরে টেনে দরজার বাইরে বের করে দিল ইশরাকে। তুমুল শব্দে দরজা বন্ধ করে দিলো। পুনরায় দরজা খুলে ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে বন্ধ করে দিল। দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়লো নিচে। হাঁটুতে হাত রেখে আবেগিত কন্ঠে বলল..

— “কেন আমার দূর্বলতায় আঘাত করো তুমি ইশরা। আমি জানি আমি অক্ষম, ব্যর্থ। কিন্তু ঠিক হওয়ার চেষ্টা করছি। মাত্র কিছুদিন অপেক্ষা করা যেত না।”

(চলবে.. ইনশাআল্লাহ)

আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই। পোস্ট ব্লোকে ছিলাম। এক সপ্তাহ পর ফিরে এলাম। 🐧এখন থেকে নিয়মিত গল্প দেওয়ার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here