অন্যরকম ভালোবাসা ২ -পর্ব ২১

0
66

#অন্যরকম_ভালোবাসা 💓 [২]
#ইফা_আমহৃদ
পর্ব:: ২১

কালো রঙের জামদানি শাড়িতে সেজেছে ইশরা। কালো মাঝে মোটা লাল পাড়। তার সাথে যোগ দিয়ে সেজেছে আহম্মেদ বাড়ির সকলে। ইশরা তনুকে সাজিয়ে কিচেনে প্রবেশ করল। তিথি অতিথির আপ্পায়নের ব্যবস্থা করছে। চারদিকে নিখুঁত চোখে পর্যবেক্ষণ করলো সে। সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও শরবতের ব্যবস্থা করা নেই। শাড়ির আঁচলটা কোমড়ে পেঁচিয়ে লেগে পড়লো ইশরা। আঁটকে দিলো তিথি। ইশরার হাত থেকে চিনির কৌটা নিয়ে বললেন..

— “ইশু তুমি তনুর কাছে যাও। ওদিকে, কার কি প্রয়োজন হয়, সেটা দেখ। এদিকটা আমি দেখছি‌‌।”

ইশরা বারণ শুনলো না। তিথির হাত থেকে চিনির কৌটা ফিরিয়ে নিয়ে নিল। তিথির মাথা থেকে পা অবধি পর্যবেক্ষণ করে বলল..

— “মা আপনি গিয়ে নিজের জামা কাপড় পাল্টে নিন। সব-তো তৈরি করে রেখেছেন। বাকিটা আমি ম্যানেজ করে নিলো।”

তিথি তাতে রাজি হলেন না। ইশরাও দমে গেল না। হাত ধরে টেনে বের করে দিল। ইশরার সাথে না পেরে বেরিয়ে গেলেন তিথি।

বাইরে দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি দিলো আয়ান। নজরে এলো না তিথিকে। সময় অবিলম্ব না করে ঢুকে গেল কিচেনে। দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইল ইশরার দিকে। আজ কালো শাড়িতে হুর পরী লাগছে তাকে। কাজল রাঙা নয়ন, গোলাপি রঙের অধর জোড়া। শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুঁজে রাখা। ফলস্বরূপ কোমরের বেশ কিছুটা অংশ উন্নুক্ত হয়ে আছে। দৃশ্যমান হলো অনেকটা। ডানহাত বুকের বাম পাশে রেখে বলল..– “পাক্কা গৃহিণী। আমার মনের রানী। পারফেক্ট ম্যাচ।”

পিছনে ফিরল ইশরা। ভ্রু কুঁচকালো সে‌। কোমর থেকে শাড়ি খুলে নিল। কোমড়ে হাত রেখে বলল..– কি চাই।
আয়ান মাথা নাড়িয়ে না বোধক সায় দিলো সে। বিনিময়ে বাক্য উচ্চারণ করলো না ইশরা। গ্লাসে শরবত ঢেলে, ঢেকে রাখল। পা বাড়ালো রুমের দিকে। কিন্তু তার যাত্রা সফল হলো না।‌ আয়ান শাড়ির আঁচল আঙুলে পেঁচিয়ে নিলো। সাথে সাথে কান পড়লো শাড়িতে। থেমে গেল চরণ। পিন বিহীন শাড়িটা খসে পড়ার চেষ্টা করতেই হাত রাখল বুকে ইশরা। পড়লো না শাড়িটা। তবে আরো জোরে টান পড়লো। দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নিল ইশরাকে। মুখশ্রীতে উষ্ণ গরম ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিল চুলগুলো।

প্রবেশ করলো রিহু। কান ধরে টেনে নিয়ে এলো আয়ানকে। হাঁসি দিয়ে বলল..

— “বাড়ির এতোবড় রুম থাকতে কিচেনে এসেছিস রোমান্স করতে। হাউ ফানি তাই না,”

লজ্জায় রাঙা হয়ে এলো ইশরার মুখ। আশে পাশে না তাকিয়ে এক ছুটে বেরিয়ে গেল সে। আয়ান সরু চোখে রিহুর দিকে তাকালো। মুখ ছোট করে বলল..

— “দিদা, আসার আর কোনো সময় পেলে না। সবটার বারোটা বাজিয়ে দিয়ে, তবে ছাড়লে।”

সাথে সাথে কান টেনে ধরলেন রিহু। মজার ছলে বলল..– “দাদু ভাই, এতোই যখন পারো সেটা রুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই হতো।”

ধ্যাত বলে কিচেন ত্যাগ করলো আয়ান। পেছন থেকে নজর কাটলেন রিহু। এরা একে অপরকে ছাড়া অপরিপূরক।

___________________
খাবার সাজিয়ে একে একে‌ পরিবর্তন করা হলো। তদানীং মাথায় এক হাত আঁচল টেনে, হাতে শরবতের ট্রে নিয়ে প্রবেশ করলো তনয়া। তার ধরে ধরে নিয়ে এলো ইশরা। সবার সামনের সিঙ্গেল সোফার বসিয়ে দিল তনয়াকে। নিজে দখল করে নিল দুয়ানের পাশের সিট। বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা একটু সাহায্য তো তার প্রাপ্ত। কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলল..

— “তলে তলে বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়ে গেলো। আর তুই আমাকে কিছু জানাসনি। একদম এইসব মিঠে যাক, তোকে পানিতে যদি না চুবিয়েছি।”

একটুকু বলেই লোক দেখানো হাসলো ইশরা। দুয়ান যতোটুকু নার্ভাস ছিল, এখন আরো নার্ভাস হয়ে গেল। তনয়া একে একে সবাইকে শরবত পরিবেশন করল। দুয়ান খাওয়ার উপযুক্ত নেই। তার হাত রীতিমত কাঁপছে।

বেশ কিছুক্ষণ সময় পেরিয়ে গেছে। তাদের তনয়াকে পছন্দ হয়েছে। ছোট একটা রিং পড়িয়ে দিয়েছে তনয়ার হাতে। সব ঠিকই চলছিলো। কিন্তু মাঝপথে গন্ডগোল করে দিল দুয়ানের বাবা। ইশরা আর দুয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন..

— “আমার ইচ্ছে ছিল, ইশরাকে আমার ছেলের বউ করব। কিন্তু সেটা আর হলো কই, তার আগেই আয়ান বিয়ে করে নিল। (একটু থেমে আবার)
আয়ানও আমার ছেলের মতো। তাই ইশরাও আমার বউমা।”

বিনিময়ে সবাই একগাল হাসি উপহার দিলো। কিন্তু হাসি নেই আয়ানের মুখে। এগিয়ে গেল ইশরার দিকে। মৃদু ঝুঁকে গেল ইশরার দিকে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল..
— “এখনে তোমার কাজ শেষ, ঘরে গিয়ে চুপচাপ পড়তে বসো, নাহলে বসে থাকো। আমি বলা না পর্যন্ত বের হবে না।”

আয়ানের কথার মানে বুঝতে ব্যর্থ হলো ইশরা। কৌতূহলী চোখে অবলোকন করলো আয়ানকে। আয়ান বেশ রেগে আছে তাকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। চোখের ইশারায় রুমে যেতে বলল তাকে। বাক্য উচ্চারণ করলো না সে। উঠে দাঁড়ালো। ইশরা উঠতেই আয়ান দখল করে নিল জায়গাটা। আয়ানকে বকতে বকতে রুমের দিকে পা বাড়ালো সে। হঠাৎ আয়ানের এমন ব্যবহার ভালো লাগলো না তার কাছে। কি হতো যদি আরেকটু সে ওখানে থাকতো। একদম সে আয়ানের সাথে কথায় বলবে না।

________________
রাতটি ছিল অমাবস্যা রাত। চন্দ্রের দেখা নেই। অন্ধকার চারদিকে। সেই অন্ধকারের মাঝে বেলকেনিতে বসে আছে ইশরা। তার মন অন্ধকারের ন্যায় ভার করে আছে। অতিথি বিধেয় হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। আয়ান এসে দাঁড়ালো তার পাশে। মুখ ফিরিয়ে নিলো‌ সে। দুরত্ব নিয়ে দাঁড়ালো দুজনের মাঝে। আয়ান নিমিষেই ঘুচিয়ে নিলো সেই দুরত্ব। গাঁ ঘেঁষে দাঁড়ালো তার পাশে। ইশরার সরে দাঁড়ালো খানিকটা। আয়ান এবার পূর্বের ন্যায় কাজ করলো। ইশরার ভার করে রাখা মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল। আদুরে গলায় বলল..

— “কি হয়েছে ইশুপাখি। এতোটা রাগ করে আছো কেন?”

ইশরা জবার দিলো না। আয়ানকে ছাড়িয়ে রুমের দিকে হাটা দিল। আয়ান মাঝপথে থামিয়ে দিলো তাকে। সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বলল..

— “আমার ইশুপাখি আমার উপর রাগ করছে। আমি তাকে ঘরে এসে বসে থাকতে বলেছি তাই। কি করবো বলো, এরা যে রীতিমত আমার বউকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো।”

আয়ানের বাচ্চা বাচ্চা মুখ দেখে প্রচুর হাসি পেল ইশরার। কিন্তু হাসতে দেখা গেল না তাকে। ঠোঁট কামড়ে অভিমানের ভান ধরল। বলল..– “আমি যতোদিন তোর সাথে ছিলাম, ততদিন তুই এমন করেছিস। একটা দিনও শান্তিতে থাকতে দিস নি। থাকবো না আমি তোর সাথে।”

নাকে কান্না জুড়ে দিলো ইশরা। আয়ানের চোখ চড়কগাছ। ইশরার ঝুঁকে থাকা হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল..

— “আজকের কষ্ট পাওয়া দিনটা না-হয় রঙে রঙিন করে দিলাম। স্বরণীয় করে রাখলাম স্মৃতির পাতায়।”

ম-মা, আর উচ্চারণ করতে পারল না ইশরা। অধর জোড়া বন্দী হলো অন্যকারো উষ্ণময় ছোঁয়ায়। শিহরণ ছড়িয়ে গেল সারা দেহে। মৃদু কেঁপে কেঁপে উঠলো সে। আবেশে গ্ৰথণ করে নিল লোচন যুগল। বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে ছেড়ে দাঁড়ালো আয়ান। লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল ইশরা। একদম পায়ের আঙুলের দিকে। দুজনের মাঝে দুরত্ব ঘুচে স্বল্প ঝুঁকে কোলে তুলে নিলো ইশরাকে। পা বাড়ালো রুমের দিকে। ললাটে ললাট মেশালো আয়ান। নেশাগ্রস্ত দের মতো বলল..

— “ভালোবাসা কি? জানা নেই আমার। আমার কাছে ভালোবাসা মানে তুই, তোকে ছাড়া কিছু কল্পনা করতে পারি না। নিজেকে কেমন শূন্য শূন্য মনে হয়। অপূর্ণ লাগে নিজেকে। নিজেকে পূর্ণতা দিতে তোকে আমার চাই‌। খুব কাছে চাই।”

ইশরার লজ্জার্থ মুখটা আয়ানের বক্ষে আড়াল করে নিল। সেও চাই এই মানুষটিকে‌। খুব কাছে চায়।
থমকে গেল সময়। নিভে গেল আলো। পাখিরা উড়ে গেল অজানায়। তারা-রা নিঃস্ব হয়ে গেল চাঁদ বিহীন আকাশে।

(চলবে.. ইনশাআল্লাহ)

ব্যস্ততার মাঝে ছোট হয়েছে, ম্যানেজ করে নিয়েন।null

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here