অশুভ আত্মা

অশুভ আত্মা
ADNAN

সেই ক্লাস সিক্সে সারমন স্কুল হোস্টেলে ম্যাডামের

মুখে শুনেছিলাম অনেক অনেক বছরে আগে ।

আমাদের প্রতিদিন রাতে হোস্টেলে ছাএছাএীদের ৬-৮

টা পর্যন্ত ক্লাস করতে হত । একদিন সবাই বললাম

অনেকত পড়া হল এই বার ভুতের গল্প বলেন ।ম্যাডাম

রাজি হল না প্রথমে। আমাদের আগ্রহ দেখে চোখ মুখ

অন্ধকার করে রাজি হল । ম্যাডামের বাড়ি

কক্সবাজারে । ওনার বাড়ির ঘটনা । ওনাদের বাড়ির

পাশেই একজন বলি খেলোয়ার ছিল নাম বাবুল

(আমরা যাকে কুস্তি খেলোয়া বা রেসলিং খেলোয়া

বলে থাকি) । বাবুল এতই শক্তিশালি ছিল যে সব

খেলায় জিতে ফিরত । যাক একদিন রাতে স্ত্রিকে

যাওয়ার সময় বলে ” আমি রাত করে ফিরব ।আজ

আমার প্রোগ্রাম আছে । “” হয়ত কোথাও খেলার

আয়োজন হয়েছে । যেই বলা সেই কাজ । ঘর থেকে

বের হবে এমন সময় কালো বিড়াল চোখে পড়ল তার

সামনেই। চিৎকার করতে করতে পাশ কাটিয়ে চলে

গেল বিড়ালটি । যাইহোক একটি রাস্তা ধরে বাবুল

হাটা শুরু করল রাত ৮ টার দিকে । পথে কিছুক্ষন

চলার পর বাবুলের সন্দেহ হয় ।কি যেন সেই কখন

থেকে ফলো করছে পিছন পিছন ,, হাটার আওয়াজ

করতে করতে। বাবুল অনেক্ষন হাটার পরেও রাস্তা

শেষ হচ্ছেনা । এইবার শব্দটা আরো বাড়তে শুরু

করল দূরত্বের সাথে সাথে টাস টাস টাস টাস টাস ।

চারদিক নীরব নিস্তব্দ । শুধু ঐ পায়ের আওয়াজি শুনা

যাচ্ছে ।বাবুল মনে মনে ভাবতে থাকে “” কিরে রাত

১২ টা আমি এখনো সেই রাস্তায় পোগ্রাম মাটি হয়ে

যাবে নাত?? এতটা পথ হাটলাম এখনো শেষি

হচ্ছেনা।”” বাবুল হাটতে হাটতে খুব

ক্লান্ত,,, রাস্তার পাশেই হাটু গেড়ে বসে পড়ল ।

আড়চোখে খেয়াল করে পাশে কিছু একটা বসে

আছে সাদা শাড়ি পড়া । বাবুল একটু ঘাবড়ে যায় “”

কিহল এইটা ?? আমি এতটা পথ হাটলাম আর এই

মেয়েটাকে দেখলাম না কই থেকে আসল ???”” চুল

গুলো অনেক লম্বা সুন্দর চোখ । বাবুলের বয়স ছিল

৪০ এর কাছাকাছি । তেমন বয়স হয়নি । রুপ দেখে

ঝটকা লাগতেই পারে স্বাভাবিক ব্যাপার । গায়ে হাত

দিয়ে ডাকতে যাবে তখনি ঐ মেয়েটি তার মুখের

দিকে তাকাল। ঐ সুন্দর চোখ গুলো লাল টকটকে

হয়ে গেল নিমিষে । চাদের আলোতে স্পষ্ট বোঝা

যাচ্ছে। এইটা দেখার পর বাবুল একটু ঘাবড়ে যায় ।

ঐখান থেকে ওঠে রাস্তা ধরল । পিছন থেকে মেয়েটি

ডাক দিল “”এই কই যাস ??? দাড়া ।”” সে আরো

দ্রুত হাটা শুরু করল । প্রাই এক ঘন্টা মত হাটার পর
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share


কোথায় যাচ্ছে সে নিজেই জানেনা। তারপর সে

দেখতে পেলে,,, পথের মাঝখানে একটা লাশ পড়ে

আছে । প্রচন্ড রকমের ভয় পেয়ে যায়।। হঠাৎ বাতাস

শুরু আর বাতাস হওয়ার সাথে সাথে ঐ লাশের কাপড়

ওল্টে যায় । আরেকটু কাছে গিয়ে যখন দেখার চেষ্টা

করল সে পুরাই ফিউজ । সেই মেয়েটি যে কিছুক্ষন

আগে তার পাশে সাদাশাড়ি পড়ে বসেছিল ।

এইবার ওল্টা দৌড়াতে শুরু করে বাবুল। যেভাবেই

হোক বাড়ি ফিরতে হবে। রাগাম্বিত কন্ঠে পিছন থেকে

মেয়েলি কন্ঠে “” বেচে ফিরবি কই ??? ছাড়বনা

তুকে।”” সে ঘেমে ভয়ে পুরাই কাবু ।বাবুলের চলার

শক্তি শেষ । যাক রাস্তার ধারে আবার বসে পড়ল ।

এইবার কটকট আওয়াজ হাড় চিবাইলে যেরকম

আওয়াজ হয় ঠিক ঐরকম আওয়াজ । তার পিছন

থেকেই আসছে । পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে সেই

মেয়েটি হাতের আঙ্গুল চিবিয়ে খাচ্ছে একটি মৃত

লাশের আর লাশটা ওনার নিজের । আবারো দৌড়াতে

শুরু করল । এইবার জায়গাটা চিনা চিনা লাগছে,,,,

সেই শশ্মান যেকানে মগরা তাদের লাশ পুতে অর্থাৎ

মরে যাওয়ার পর হাটু ভাজ করে বসিয়ে দেয় গর্তে

আর মাথা ডেকসি বা ছোট মাটির হাড়ি দিয়ে ঢেকে

দেয় । ঐটা দেখতেও এমনি ভয় লাগে ।আর ঐরকম

জায়গায় এসে পড়ল বাবুল । কেমনে আসল নিজেই

জানেনা । এইবার দেখল সেই শশ্মান থেকে একটা

সাদা কি যেন আসছে ঘুঘানির আওয়াজ করতে

করতে । সে ঐ জায়গা ত্যাগ করল নিমিষে ।

জায়গাটা তার বাড়ি থেকে তিন মাইল দূরে । কিভাবে

আসল কেমন আসল সে নিজেই জানেন না । এইবার

ঠিক রাস্তায় হাটা ধরল বাড়ির দিকে,,, রাত তখন ৩

টার মত । সামনেই বাশ ঝার । সে বাশঝারের সামনে

যেতেই দেখল ইয়া লম্বা সেই মেয়েটি এক পা বাশ

ঝারে আরেক পা বাশ ঝার থেকে দূরে অন্য একটি

গাছে দিয়ে দাড়িয়ে আছে । আর রাগান্বিত কন্ঠে

বলছে আমি তুকে দাড়াতে বলেছি থামিস নি কেন 👿

👿👿??????? বাবুলের মুখ দিয়ে শব্দই বের হচ্ছেনা

তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে নড়তেও পারছেনা তখন 👀

মেয়েটি মাটিতে নেমে আসল আর বাবুলের গলা ধরে

অনেক উচুতে শূন্যে তুলে ফেলে । সে হিসু করে দেয়

সাথে সাথে এবং ঐ জিনিসটি ছেড়ে দেয় তখনি ।

ধপাস করে মাটিতে পরে যায় প্রায় ১০ ফুট ওপরে

শূন্যে থেকে। ঐখানে সেন্সলেস হয়ে যায় সে । যাক

সকালে তাদের বাড়ির কেউ মসজিদে নামাজ পড়তে

গিয়ে তাকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে

নাকেমুখে রক্তাক্ত অবস্থায় । ঐখান থেকে হস্পিটালে

এডমিট করে বাড়ির মুসল্লিরা ।বাবুলের কোমড় ভেঙ্গে

যায় আর হাতের কব্জির জোড়া খোলে যায় ।ডাক্তারি

ট্রিটমেন্টের সাথে হুজুরের ট্রিটমেন্ট ও চলতে থাকে ।

৬ মাস পর সে পুরোপুরি সুস্থ হয় । হ্যা ঘটনার কারণ

হচ্ছে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বাড়ির তিন

মাইল পর একটা কবর পরে । ঐ কবরটা একটি

মেয়ের। নাম সাদিয়া

#অশুভ আত্মা
শেষ পার্ট

হ্যা নাম তার সাদিয়া । খুবই সাধারন মেয়ে । যেমন

সুন্দর তেমন গুণ । এত সুন্দর মেয়ে থাকলে গ্রাম

আলোকিত থাকবেই ।

তার সাথে চরিএের হুবহু মিল । পর্দা করত সবসময় ।

সবাইকে শ্রদ্ধা করত । খুব ভাল মেয়ে ছিল গ্রামের

মধ্যে। সে কমার্সের ছাএী ছিল। সব সাব্জেক্টে A+

হলেও Ict তে 0 । তবে তাদের গ্রামে প্রথা ছিল বিয়ের

আগে প্রেম করা যাবেনা । ধরা খেলে অপমান করা

হবে পুরো ফ্যামিলিকে সহ । আর এই অপমানের

কারণে কতজন নিজের জান দিয়েছে হিসাব নাই । সে

তাদের গ্রামের সামনে একটা স্যারের কাছে কোচিং

করত কয়েকজন মেয়ে সহ।স্যারের নাম আদনান।

লেখাপড়ায় ভাল ছিল বলে স্যার আরেকটু কেয়ার

করত যাতে ভাল কিছু করতে পারে লাইফে ।

সাজেশনের জন্য স্যার যখনি

আসতে বলত আসত,,,,,,, রাতে ছাড়া কারণ

স্যার কোচিংয়ের ওপরের বাসায় থাকত ।তবে

কোচিং খোলা থাকত প্রায় সময় স্টুডেন্ট

পড়াত প্রচুর । আর তখনি যেতে বলত সদিয়াকে তবে

রাতে বের হওয়া একদম নিষেধ। পরের দিন Ict

এক্সাম সে প্রেগ্রামিংয়ে কাচা ।এই পড়ত এই ভুলে

যেত কারণ প্রোগ্রামিংকে বাঘের মত ভয় পেত চর্চা

করতনা বলে । যাক মা বাবার থেকে অনুমতি নিয়ে

রাত ৮ টার দিকে রওনা দেয় স্যারের বাসায় । হাতে

লাইট ছিল । রাস্তার মধ্যে সেই কলেজের ছেলে গুলো

দাড়িয়ে আছে,,,, সে খেয়াল করল । তাকে সবসময়

ডিস্টার্ব করত কলেজের মধ্যে । বেশ কয়েকবার

প্রপোজাল রিজেক্ট করে সাদিয়া । কারণ ছেলেগুলোর

চরিএ খারাপ আর ফিলিংসটাও 0 । রাতে তাদের

রাস্তায় দেখে ভয় পেয়ে যায় সাদিয়া ।ভয় পেলেও

যেতে হবে,,, কাল এক্সাম । ভয়ে ভয়ে পাশ কাটতে

যাবে তখনি একটা ছেলে হাত ধরে ফেলল । তারা মোট

তিনজন ছিল । সাদিয়া থাপ্পর বসিয়ে স্যারের বাসার

দিকে দৌড়াতে শুরু করে ।স্যারের দর্জা খোলা ছিল ।

ঢুকেই ভয়ে স্যারকে জড়িয়ে ধরল সাদিয়া । আর সাথে

সাথে ছেলেগুলো মোবাইল দিয়ে তা ভিডিও করে

ফেলে প্রতিশোধের জন্য । তারপরের দিন গ্রামে

সালিশ বসে,,,,, সবাইকে ভিডিওটা দেখায় । স্যারকে

বাজে ভাবে আপমান করল সলিশে । আর সাদিয়াকে

মুখে কালি মাখিয়ে সারা গ্রাম ঘুরাল গ্রামবাসীরা ।

তারপরের দিন তার স্যার আদনান নদীতে ঝাপ দিয়ে

সুসাইট করে অপমানের চাপ নিতে না পেরে । আর

সাদিয়া এইটা নিতে না পেরে সেও গাছে দড়ি দিয়ে

সুসাইট করে । কারণ সাদিয়া স্যারকে মনে মনে খুব

ভালবাসত সেটা কখনো প্রকাশ করতনা । স্যার ও

দেখতে অতটা খারাপ ছিল না । স্যার ও ভালবাসত

কিন্তু গ্রামের অবস্থা দেখে ইন্টারের পর প্রস্তাব দিবে

এমন আশা ছিল তার । ঐদিন বিকালেই সাদিয়াকে

রাস্তার পাশে যত্নহীনভাবে দাফন করে গ্রামবাসী।দুইটা

প্রাণ ঝরে গেল গ্রামের এইসব মানুষের জন্য।তাদের

এইসব মনমানষিকতার জন্য কত ঘর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

কত সাজানো ঘর নিমিষে ধুলুতে মিশে যাচ্ছে হিসাব

নাই। কারণ তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসি।

যাইহোক ঐদিন রাতেই একজন গ্রামবাসির মৃত লাশ

পাওয়া যায় খাটিতে ( গ্রামে ছোট ছোট পুকুর গুলোকে

খাটি বলে)। এইরকম করে করে প্রায় গ্রামের মানুষ

শেষ। মোট কথা যারা যারা ছিল সালিশে সবার লাশ

এই পাওয়া গিয়েছিল।কে মারল কেমনে মারল আইন

তদন্ত করতে এসেও কাজ হয়নি। একদিন এক হুজুর

ঠিক ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল পাক পবিএ অবস্থায়।

হুজুরকে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু কাজ হয়নি

কারণ হুজুর পাক পবিএ অবস্থায় ছিল। কিন্তু হুজুর

টের পায় পাক পবিএ অবস্থায় থাকার পরেও অনেক

চেষ্টা করেছিল ক্ষতি করতে,,,, তাহলে সাধারণ

জনগনের অবস্থা করুণ। গ্রামবাসীকে রক্ষার জন্য

রিসার্চ করে জানতে পারে একটি মেয়ের অশুভ

আত্মার কারণে গ্রামের আজ এই অবস্থা। বেশকম

সবার কানে কানে চলে যায় বার্তাটি। ঠিক তারপরের

দিন হুজুরের লাশ ও পাওয়া যায় ওল্টা ঝুলানো

অবস্থায়।

সাদিয়ার আত্মা আরো ভয়ানক হয়ে যায় পরে ।বাবুল

গ্রামবাসীকে ডেকে সাদিয়ার জানাজা করে। মৃত্যুর পর

আত্মার শান্তির জন্য যা যা করতে হয় সব করে।পরে

সব আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। অনেকে বলে

এখনো মাঝ রাএে রাস্তায় সেই সাদিয়াকে দেখা যায়।

খোদা হাফেজ।

গল্পের শহর
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম