আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ১৬+১৭+১৮

0
75

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৬।
সময় স্রোতের মতো বহমান। বয়ে চলে কিছু মনোমুগ্ধকর স্মৃতি দিয়ে আবার কিছু তিক্ত মুহূর্ত দিয়ে। একটা সময় থাকে, যখন সুখের সীমা থাকে না। চারিদিকে থাকে হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দের ফোড়োয়া। কিন্তু যখনি তাতে কারো নজর লাগে, সেই সুন্দর পরিস্থিতি হয়ে উঠে খা খা চৌচির মাঠের মতো।

পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা ঝাপিয়ে নেমে পড়লো। দূর কোথা থেকে ভেসে আসচ্ছে কাঠগোলাপের সুবাস। কাঠগোলাপ সানিয়ার খুব প্রিয় ছিলো। ইজহান যখন ছোট ছিলো সানিয়াকে প্রায় দেখতো বাগানের মাঝে দেশ, বিদেশ থেকে আনা গাছের চারা লাগাতে। তাদের এই পুরোনো বাড়িটিতে তার মা ঝাকে ঝাকে কাঠগোলাপ লাগাতো। মায়ের ঘরের বারান্দা থেকে বাগানে ফোঁটা ফুল গুলো দেখতে অপরূপ লাগতো।
ইজহান এখন তার মায়ের রুমে বারান্দায় বসে আছে, ঠিক সেখানে যেখানে তার মা অবসর সময় বসে থাকত, কখনো ইজহান, আরমান, আয়ানার মাথায় তেল দিয়ে দিতো। রাতে ঘুম না আসলে এখানেই কোলে করে এদিক ওদিক পায়চারি করে গুন গুন করে গান শুনাতো, গানটি ইজহানের কানে যে এখন-ও বাজছে,

” a leke chalun tujhko, Ek aise desh mein
Aa leke chalun tujhko, Ek aise desh mein
Milti hain jahan khushiyan
Pariyon ke bhes mein
Milti hain jahan khushiyan
Pariyon ke bhes mein
Pariyon ke bhes mein..
Aa leke chalun tujhko……

ইজহান হাসলো, এখনো মনে হচ্ছে তার মা পায়চারি করছে, কোলে আয়ানা কাঁধে আরমান, আর ইজহান ডিভানে শুয়ে, ছোট ছোট চোখে মাকে দেখছে আর হাসচ্ছে।

ঠিক তখনি সাদা জামা পরা আয়ানা আর সাদা পাঞ্জাবি পরা আরমান ভাইয়ের কাছে এসে দাঁড়ালো। আরমান বলল,

“দাদা ভাইয়া তুমি এখনো মেডিসিন লাগাও নি?”

ইজহান আরমানের কথায় হাতটি হাওয়ায় তুললো, সেদিনের ক্ষতে আজ আবারো চাপ লাগায় ক্ষতটি তাজা হয়ে গেছে। ইজহান তাকিয়ে রইলো শুধু। আয়ানা মেডিসিন বক্স এনে ভাইয়ের সামনে রেখে হাতটি টেনে মেডিসিন লাগিয়ে দিতে দিতে বলল,

” দাদা ভাইয়া নিজেকে কেন এত কষ্ট দিচ্ছো?”

ইজহান তবুও চুপ। তার চোখ মুখের অভিব্যক্তি দেখে তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। তখনি ইজহান ঠান্ডা গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“সব কাজ শেষ?”

আরমান মাথা নাড়ালো,

“হে দাদা ভাইয়া, গরীব মিসকিনদের কাপড় বিলিয়ে দেয়া শেষ!”

ইজহান মাথা নাড়ালো। তখনি আয়ানা বলল,

“আমরা এখনি বের হবো ভাইয়া!”

“ঠিক আছে তোরা যা আমি কিছুক্ষণ পর বের হবো!”

দুজনি সম্মতি জানিয়ে বেড়িয়ে গেলো। ইজহান আবারো তাকিয়ে রইলো বাগানের ফুল গুলোর দিকে।

আজ ইজহানের মা সানিয়া মেহরাবের মৃত্যু বার্ষিকি। এক যুগ পাড় হলো তার মা তাদের ছেড়ে পরকালে চলে গেছেন। ইজহান চোখ বুঝলো। চেয়ার পিছনে মাথা হেলিয়ে মনে করতে লাগলো ১২ বছর আগের দিন গুলো…..

১২ বছর আগে,

মা, বাবা, ভাই, বোন আর তার দাদিকে নিয়ে ছিলো তাদের ছোট একটি পরিবার। দাদি তখনো তাদের কোম্পানি সি ই ও। যদিও তা নামেই, সম্পূর্ণ কোম্পানির দায়িত্ব ইজহানের বাবা মেহতাবের হাতেই। তখন তাদের পরিবারে না কষ্ট ছিলো টাকার, না ভালোবাসার। ইজহানের বাবা মা দিজনের মাঝেও ছিলো অফুরন্ত ভালোবাসা। কিন্তু ১২ বছর আগেই সেই সুখী পরিবারটিতে গ্রহণ লেগে গেলো কারো।যখন থেকে আজিজুল হক মেহতাবের সাথে যোগাযোগ করলো। সানিয়ার প্রতি মেহতাবের পরিবর্তন দেখা দিতে লাগলো। প্রতিরাতে সানিয়াকে মারতো মেহতাব। কিন্তু তার মা তার বাবাকে এতটাই ভালোবাসতো, যে মুখ বুঝে সব সহ্য করে ফেলতো। ইজহান তার মাকে অনেক রাত কাঁদতে পর্যন্ত দেখেছে, যখন তার বাবা বাসায় আসতো না। ধীরে ধীরে মানসিক রোগীর মতো হয়ে গেছিলো। আগের মতো ইজহান, আরমান, আয়ানার কেয়ার করতো না সানিয়া। সব সময় দরজা আটকে বসে থাকতো। কখনো ভেসে আসতো দরজা ভেদ করে আর্তনাদ। কিন্তু একদিন সব শেষ হয়ে গেলো। সেদিন ইজহান তাদের পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছিলো, তার শহরের সেই প্রথম স্থান করে। সেই খবরটি দিবে বলেই ইজহান দৌড়ে আসে, কিন্তু সেদিন যেন ইজহানের পুরো দুনিয়া উল্টে যায়। ভেঙ্গে যায় ইজহানের ছোট মন। মায়ের শুভ্রতায় ভরা মুখটি পুড়ে ছাই হয়ে আছে, শুয়ে আছে সাদা কাপড়ে মুড়ানো খাটিয়ার উপর। ইজহানের ভিতরটা সেদিন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও এক ফোঁটা চোখের জল বের হয়নি। ইজহান বরাবরই শান্ত চুপচাপ থাকলেও মা ছিলো তার বন্ধুর মতো, স্কুল কলেজে, যা হতো সব বলতো মাকে, এমনকি প্রথম ভালোবাসার কথাটি পর্যন্ত জানিয়েছিলো মাকে। কিন্তু আজ তার মাকে এভাবে দেখে ইজহান বুঝতেই পারছিলো না কি করা উচিত, মস্তিষ্ক যেন একে বারেই অচল হয়ে গেছে তার। ছোট দুটি ভাই বোন ইজহানের কোমড় জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে গেছে, এদের সান্ত্বনা দেয়ার মতো ভাষা ছিলোনা ইজহানের। ঠিক সেই মুহূর্তে তার দাদি হায় হায় করে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন,

” এই সব কিছুর দায়ী আজিজুল হক, আর তার স্ত্রী আফিয়া। আল্লাহ কখনো তাদের ক্ষমা করবে না, সুন্দর একটি সংসারকে ধংস করে দিয়েছে এরা। আল্লাহ যেন এদের সঠিক বিচার করেন।”

দাদীর এইটুকুন কথা কানের মাঝে ঘন্টার মতো বেজে উঠলো ইজহানের।মায়ের মৃত্যুতে শ্যামার পরিবার আর নিজের বাবাকে দায়ী করে ইজহান। এই জন্যই তো তার বাবাকে তার মায়ের না মুখ দেখতে দিয়েছে, না খাটিয়া তুলতে দিয়েছে ইজহান। এখনো ইজহানের মনে আছে তার বাবার ব্যবহার তার মায়ের প্রতি। মায়ের শরীরের দাগ গুলোর কথা মনে পড়লে ইজহানের এখন গা শিউরে উঠে। একবার তো ইজহানের বাবা মেহতাব রাগে নিজের বউয়ের শরীরে গরম তেল ছুড়ে মেরেছিলো। দু হাতে মুখ ঢেকে নিয়াতে দু হাত পুড়ে ফোসকা পড়ে যায়। আর তখনি ইজহান দেখে ফেলে, রাগে সেদিন বাবাকে বাসা থেকে বের করে দেয় ইজহান। এর কিছুদিন পরেই তার মা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়……

ঘটনার কয়েকদিন পরেই ইজহানকে তার দাদি অফিসে বসিয়ে দিয়ে, এবং ইজহান চলচ্চিত্র জগতেও কাজ করতে শুরু করে। তার সাথে তার এইম হয়ে যায় শ্যামার পরিবারের ধংস করে দেয়ার।কিন্তু তার আগেই শ্যামার পরিবার শহর ছেড়ে কোথাও চলে যায়। এবং তারপরই আবার দেখা হয় শ্যামার সাথে, তখন সে জানতে পারে, ইজহানের ভালোবাসার সেই এক ফালি চাঁদ শ্যামা নিজেই। সেদিন যতটা না খুশি হয়েছিলো? তার থেকে রাগ বেশি হয়েছিলো। তাই তো সেদিন দেখা করিনি। তবে শ্যামার পরিবারের খবর ঠিকি নিয়েছে সে, তখনি জানতে পারে শ্যামার বাবা সব হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই ইজহান তাদের ছেড়ে দেয়। এর কয়েক বছর যখন স্বয়ং স্বীকার শিকারীর কাছে ধরা দেয়? ইজহান সেই সুযোগ আর হাত ছাড়া করে না। লুফে নেয়।………

ইজহান ভাড়ী নিশ্বাস ছাড়লো। চেয়ার ছেড়ে উঠে বেড়িয়ে গেলো তাদের পুরোনো বাড়িটি থেকে….
একরাশ মন ভার নিয়ে চলে আসে বাসায়। হলে ঢুকতেই কাজের মেয়েকে জিজ্ঞেস করে ইজহান,

“তোমার ম্যাম কই!”

কাজের মেয়েটি আমতা আমতা করে বলে উঠে,

“স্যার ম্যাম তিন দিন যাবত বাসায় আসে না। ”

ইজহানের কঁপালে চিন্তার ভাজ পরে। পকেট থেকে ফোনটি বের করে, সেদিন শ্যামার সাথে ফোনে কথা বলেই ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলো ইজহান। এবং সবাই চলে গেছিলো তাদের পুরোনো বাড়ি। ইজহান ফোনটি অন করেই অধিরাজকে ফোন করলো ইজহান। ওপাশ থেকে ভেসে এলো অধিরাজের কন্ঠ,

“স্যার আপনি কোথায় ছিলেন এত দিন?”

ইজহান উত্তর দিলো না। উল্লটো জিজ্ঞেস করলো,

” তোমার মেডাম কোথায় খোঁজ নাও তো!”

ওপাশ থেকে সব নিরব। ইজহান বলল,

“অধিরাজ,?”

অধিরাজ গলা পরিস্কার করে বলল,

“স্যার শ্যামা বাবা মারা গেছে।”

ইজহান চুপ করে গেলো। তার এই মুহূর্তে আনন্দ লাগছে, আবার কষ্ট, সে চেয়েছিলো নিজ হাতে লোকটিকে মেরে ফেলতে, কিন্তু তার আগেই….

ইজহান বলল,

“আচ্ছা! ”

বলেই ফোন কেঁটে বেড়িয়ে পড়লো শ্যামাদের বাড়িতে। কিছুক্ষণের মাঝেই পৌঁছে গেলো সে। দরজায় নক করতেই জান্নাত দরজা খুলে দিলো। ইজহানকে দেখে অবাক হলো জান্নাত। ইজহান তার গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“শ্যামা?”

জান্নাত বলল,

“আপু তার রুমে আছে ভাইয়া!”

ইজহান বিনা বাক্য ব্যয় করে শ্যামার রুমের দিকে গেলো। এত দিন পরে শ্যামাকে দেখবে, কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে ইজহানের। সে রুমে পা রাখতেই দেখলো শ্যামা জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে। কারো পায়ের শব্দে শ্যামা তাকালো। ইজহানকে দেখে হেসে বলল,

“মি. ইজহান? আপনার অপেক্ষা ছিলাম। এক মিনিট দাঁড়ান!”

বলেই টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটি চেক বের করে ইজহানের হাত দিলো শ্যামা। তার সাথে দিলো একটি পেপার। ইজহান ভ্রু কুচকে ফেললো শ্যামার কাজে। বলল,

“এসব?”

“আপনার দেয়া টাকা, আর ডিভোর্স পেপার। আমি মুক্তি চাই , রক্ষিতা নামটি মুছে ফেলতে চাই, আই ওয়ান্ট টু ডিভোর্স। ”

এমন একটি কথা শুনে ইজহানের পায়ের নিচ থেকে মাটি স্বরে গেলো যেনো। কাগজ দুটি মুঠ করে ধরলো শক্ত করে। মাথার মাঝে বার বার বাজতে লাগলো,

“আই ওয়ান্ট টু ডিভোর্স! ”
#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৭।

“আই ওয়ান্ট ডিভোর্স! ”

কথাটি কানের মাঝে বাজতে লাগলো ইজহানের। বিস্ময়, আশ্চর্য নিয়ে তাকিয়ে রইলো শ্যামার দিকে। বুঝতে চাইলো শ্যামার মুখের অভিব্যক্তি। শক্ত, কঠিন অথচ সরলতায় ভরা মুখ। কোনো ভনিতা নেই। ঘরের ভিতর থাকা দুটি ব্যক্তির মাঝে অদ্ভুত নিরবতা বিরাজমান। ইজহান এবার ভ্রু কুচকে এলো। ফুঁটে উঠলো চোখে মুখে হতাশা। ইজহান নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। শ্যামা তার থেকে ডিভোর্স চাইছে? তার থেকে বড় কথা.. ইজহান এত.. এত গুলো টাকা পেলো কোথা থেকে? তার থেকে বড় কথা… শ্যামা এত বড়… এত বড় সাহস পেলো কোথা থেকে তাকে ডিভোর্স দেয়ার? ইজহানের মাথায় সুক্ষ্ম ভাজ পড়লো। একে একে মাথার মাঝে জমা হতে লাগলো প্রশ্নের বাহার। সব কিছু দূরে ঠেলে দিলো ইজহান। রাগে গা কাঁপছে এই মুহূর্তে। তবে সে নিজেকে সামলে হাসলো। সেই হাসিতে নাড়িয়ে দিলো শ্যামার অন্তরআত্মা। ইজহান হাতের পেপার গুলো মুচড়ে ধরে বলল,

” এত টাকা পেলে কই? লটারি লেগেছে নাকি?”

শ্যামা কঠিন কন্ঠে বলল,

“তা আপনার না জানলেও চলবে, যা নিয়েছিলাম, সব ফিরত দিয়েছি, এবার আপনি সাইন করে দিন!”

ইজহান হো হো করে হাসলো। বলল,

“তোমার কি মনে হয়? আমাকে ডিভোর্স দেয়া এতো সহজ?”

শ্যামার অভিব্যক্তি এবার পরিবর্তন হলো। অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে, সন্ধিহান কন্ঠে বলল,

“আপনি… আপনি কি বলতে চাইছেন?”

ইজহান তাচ্ছিল্য হাসলো। যদিও ভেতরের জমে থাকা, রাগ, ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেঁটে যাচ্ছে। তবুও নিজেকে শান্ত করে বসে পড়লো শ্যামার বিছানায়। শ্যামা কিছুই বুঝতে পারছে না, মুলত ইজহান চায়ছে টা কি? সে বলল,

” আপনি এখানে সাইন করে বিদেয় হোন!”

ইজহান তার অদ্ভুত হাসি ঠোঁটের কোনে রেখে শ্যামাকে কাছে টেনে নিলো আচমকা। শ্যামা টাল সামলাতে না পেরে ইজহানের উপরেই পড়লো। শ্যামা তাতে রাগে ফেঁটে পড়লো। কিন্তু তার আগেই হিংস্র ভাবে চেপে ধরলো শ্যামার কোমড়। দুজনে এখন এতটাই কাছে, যে তাদের ঠোঁট ছুঁই ছুঁই। একে অপরের শ্বাস প্রশ্বাস পড়ছে মুখে। ইজহান তখন বলল,

” তোমার কি মনে হয়? আমি এতটা কাঁচা খেলোয়াড়? ”

বলেই ইজহান শ্যামার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধড়লো। শ্যামা নিজেকে ছাড়াবার বৃথা চেষ্টা করতে লাগলো। এক পর্যায় না পেরে কামড় বসিয়ে দিলো ইজহানের ঠোঁটে। ইজহান সাথে সাথে ছেড়ে দিলো শ্যামাকে। শ্যামা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

” আমাকে ছোঁয়ার আর একবার চেষ্টা করবেন, তো লোক জর করে আপনাকে ধোলাই খাওয়াতে বেশি সময় লাগবে না!”

ইজহান যেন মজার কৌতুক শুনেছে সে বলল,

“ওকে আমার সমস্যা নেই, আমি বরং সবাইকে ডেকে বলে দিচ্ছি।”

এই পর্যায় শ্যামা ভয় পেয়ে গেলো। বলল,

” আপনি এখানে সাইন করুন, আর আমার জীবন থেকে চলে যান। আমি হাত জোর করছি!”

ইজহানের মুখ এবার সিরিয়াস হয়ে গেলো। বলল,

” তুমি তো আমাকে ডিভোর্স দিতে পারো না?”

“মানে?”

“মানে এটাই… তোমার কি আমাদের কন্ট্রাকের কথা মনে নেই?”

শ্যামা যুক্তি সঙ্গত গলায় বলল,

“আমি আপনাকে টাকা জন্য বিয়ে করেছিলাম, টাকা ফিরত দিচ্ছি, আমাদের কন্ট্রাক ও শেষ।”

“তা তুমি ভাবছে। মনে হচ্ছে আরো একবার কন্ট্রাক পেপার টা তোমার পড়া উচিত!”

শ্যামার মাথা কাজ করা যেন বন্ধ হয়ে গেছে, এই পাগলো লোকটা…. পাগলো লোকটা কি করতে চাইছে? শ্যামার ভাবার মাঝেই ইজহান কাউকে ফোন করলো। অপাশ থেকে ফোন তুলতেই ইজহান বলল,

“তোমাদের মেম, কন্ট্রাক পেপারটি আরো একবার দর্শণ করতে চায়। ১০ মিনিট সময় দিচ্ছি, কাম ফাষ্ট….!”

বলেই কল কেঁটে দিলো। এদিকে ১০ মিনিট গড়াতেই হন্তদন্ত হয়ে উপস্থিত হলো অধিরাজ। হাতে একটি ফাইল। ইজহানের দিক এগিয়ে দিতেই, ইজহান শ্যামার হাতে তুলে দিলো। শ্যামা ভ্রুকুচকে তাকাতেই ইজহান বাঁকা হেসে বলল,

“পড় আবার।”

শ্যামা এক রাশ কৌতুহল নিয়ে পেপারস এর লেখা গুলোতে চোখ বুলালো। মুলত, সেদিন সে না পরেই রাজি হয়ে গেছিলো। তার বাবা অবস্থা ক্রিটিকেল থাকায়। কিন্তু আজ যা দেখছে তাতেই লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে শ্যামার। শ্যামা পড়তে লাগলো।

১. ইজহান ছাড়া শ্যামা তাকে ডিভোর্স দিতে পারবে না।

২. যদি কখনো নিজের থেকে ডিভোর্স এপ্লাই করে, তাহলে এর জন্য ইজহানকে ২ কোটি টাকা কম্পালসারি দিতে হবে।

এসব দেখে শ্যামার চোখ চড়কগাছ। সামান্য রক্ষিতার জন্য? এত কিছু? কেন? শ্যামা রাগে চেচিয়ে বলল,

“রক্ষিতা করে রাখার জন্য, এত এত কিছু?”

ইজহান ফিকে হাসলো। শ্যামার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,

” পেপারে কোথাও কি লিখা আছে? তুমি আমার রক্ষিতা?”

শ্যামা বিস্ময়ে বিমুঢ়। বলল,

“কি বলতে চাইছেন আপনি?”

ইজহান আরো কাছে এসে বলল,

” এটাই বলতে চাইছি, তুমি আমার বউ!”

শ্যামার বুকের ভিতর ছেদ করে উঠলো। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো ইজহানের দিকে। শ্যামার মাথায় তখন ঘুর ঘুর করতে লাগলো অন্য চিন্তা… ইজহানকে যদি সে ডিভোর্স না দেয়? তাহলে যে সামনে আরো বড় বিপদ রয়ে গেছে। যেটি তার বাবাই তার জন্য সৃষ্টি করে গেছে। শ্যামা শুকনো ঢুক গিললো। ইজহানকে কাট কাট গলায় বলল,

“আমি ডিভোর্স চাই, যে কোনো মূল্য। ”

ইজহানের রাগ এবার সপ্তম আসমানে, শ্যামার হাতে শক্ত করে ধরে বলল,

” একদিন সময় দিচ্ছি তোমাকে ফিরে এসো, নয়তো ভালো হবে না তোমার জন্য, তুমি হয়তো জানো না.. আমি কি করতে পারি!”

বলেই ছেড়ে দিলো ইজহান শ্যামাকে, ইজহানের এমন হুমকিতে কেঁপে উঠলো শ্যামা। ইজহানে চলে যাওয়ার দিক তাকিয়ে রইলো শুধু। পর মুহূর্তে ভাবলো, এখান থেকে তাকে পালাতেই হবে, যে করেই হোক…. সে পালাবে, নতুন যে ঘুর্ণিঝড় তার তিকে তেরে আসচ্ছে তার আগেই। ঠিক তখনি শ্যামার ফোন বেজে উঠলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো ভাড়ী কন্ঠ। বলল,

“খুব জলদি আমি দেশে ফিরছি, মনে আছে তো আমার কথা!”

শ্যামা ঠান্ডায় জমে যাওয়ার উপক্রম। তোতলিয়ে কোনো রকম বলল,

” হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে!”

অপাশ থেকে আবারো ভেসে এলো কন্ঠ,

“ভুলে যেও না শ্যামা, আমার ছেলের কাছে তোমার বাবা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছে, তাও অনেক বছর আগে। এখন তোমার বাবা নেই, তাই তোমাকে সব ঠিক করতে হবে, খবরদার যদি পালাতে চেষ্টা করেছো… তোমার বাবা যেভাবে পাড় পায়নি… তোমরাও পাবে না!”

শ্যামা ফোনের এই প্রান্তে একদম জমে গেছে। মাথা শুধু চলছে। পালাতে হবে….
#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১৮।

প্রথম চুমু… প্রথম ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে ইজহান খুব খুশি, মুখে তার মুচকি মুচকি হাসি লেগেই আছে।
কখন থেকেই ড্রাইভিং সিটে বসা অধিরাজ অবাক চোখে দেখে যাচ্ছে এই ভোতা অনুভূতিহীন মানুষটিকে… ইজহান দু আঙুলে তার ঠোঁট স্পর্শ করছে, আনমনে হাসছে। অধিরাজ তার অবাকতা ধরে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,

“স্যার মনে হচ্ছে আপনি আজ অনেক খুশি?”

ইজহান কোনো ভনিতা ছাড়াই বলল,

“হ্যাঁ খুব..!”

অধিরাজ বলল,

“ম্যামের সাথে আপনার সব ঝামেলা শেষ হয়ে গেছে বলে-ই কি?”

ইজহান চুপ হয়ে গেলো। মুখে ফিরে এলো পুরোনো অভিব্যক্তি। গম্ভীর শীতল উদাসীন দৃষ্টি। মুহূর্তে ছেয়ে গেলো নিস্তব্ধতা। অধিরাজ ভয় পেলো কিছুটা। সে কি ভুল কিছু বলে ফেলেছে? বুঝতে পারছেনা। তার মাথা লম্বা এক চিন্তার ভাজ। অদৃশ্য ঘাম যেনো বিন্দু বিন্দু মাথা ভর্তি হচ্ছে। তখনি ইজহান তার চিন্তা দূর করে বলল,

” তোমার ম্যামের বাবা তো ঠিক ছিলো অধিরাজ, তাহলে মারা গেলো কিভাবে? তাউ হুট করে? তার উপর এত টাকা কোথায় পেলো শ্যামা?”

অধিরাজ চুপ করে শুনে যাচ্ছে। ইজহান কিছুক্ষণ চুপ থেকে, ঘড়ির কাঁটা দেখে নিয়ে আবার বলল,

“খবর নাও । এই তিন দিন কি হয়েছিলো। তাও ১ ঘন্টার মাঝে সব আপডেট চাই। আর হ্যাঁ তোমার মেডামের আশেপাশে লোক লাগিয়ে দাও। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সে বিপদে আছে, আর বলছে না আমাকে,আত্মসম্মান বেশিতো কিনা!”

বলেই আবারো হাসলো ইজহান। চোখে চশমা লাগিয়ে বাহিরে তাকিয়ে রইলো সে… আজ কষ্ট পেয়েছিল খুব ইজহান, যখন শ্যামা তার হাতে ডিভোর্স পেপার দিয়ে ছিলো। কিন্তু সে তো আজ শ্যামাকে ফিরিয়ে আনতে চাইছিলো। শ্যামাকে ছাড়া তার দম বন্ধ লাগে। যদিও শ্যামাকে সে অনেক টর্চার করেছে। তবে এবার সে নিজেও ক্লান্ত। সে সব কিছু শেষ চায়। কিন্তু তাই বলে, ডিভোর্স? অসম্ভব!

এদিকে শ্যামা বেগপত্র গুছিয়ে বোনকে নিয়ে বেড়িয়ে গেছে। কোথায় যাবে কি করবে? জানা নেই। তারা একটি সি এন জিতে উঠে পড়লো। শ্যামা জায়েদের কথা মনে পড়তেই সেদিকেই যেতে বলল সি এন জি ওয়ালাকে। সি এনজি ওয়ালাও চলছে তাদের ডিরেকশন অনুযায়ী। শহর থেকে সি এন জি বের হতেই শ্যামা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। জান্নাত তখন বোনের বুকে মুখ লুকিয়ে। শ্যামা চলতি সি এন জি থেকে রাস্তায় তাকিয়ে আছে, চোখ ভর্তি জল নিয়ে। মনে পরছে, তিন দিন আগের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো।

তিন দিন আগে…..

শ্যামা হসপিটালে তার বাবার সাথে দেখা করতে এসেছে। সাথে এসেছে জান্নাত-ও। আজ তাদের বাবার জ্ঞান ফিরেছে। খুশিতে আত্মহারা। আজিজুল হসপিটালের বেডের উপর বালিশে ভর দিয়ে বসে আছে। শ্যামা আর জান্নাত বাবাকে দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে পেট জড়িয়ে ধরেছে। আজিজুল হকের কথা বলতে এখনো অনেক সমস্যা হচ্ছে, থেমে থেমে কথা বলছিলেন তিনি। তারা অনেক সময় অতিবাহিত করার পর যখন চলে আসবে? তখনি শ্যামা প্রশ্ন করেছিলো তার বাবাকে,

“পাপা… সানিয়া আন্টি মারা যাওয়ার পিছনে কি মায়ের কোনো হাত ছিলো?”

আজিজুল হক মেয়ের মুখের কথা শুনে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালেন। হটাৎ করে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেলেন। থেমে থেমে অনেক কষ্ট বললেন,

” তুমি.. তুমি.. সানিয়ার কথা কিভাবে জানলে?”

শ্যামা মাথা নত করে ফেললো। অপরাধী সুরে বলল,

“পাপা তোমাকে একটা কথা বলি নি..!”

আজিজুল হক ভ্রু কুঁচকে চেয়ে বলল,

” কি কথা?”

শ্যামা অস্বস্তি বোধ করলো। এদিক ওদিক চোখে ঘুরাতে লাগলো। হাতের আঙ্গুল গুলো খুঁটতে খুঁটতে বললো,

” পাপা তোমার চিকিৎসার টাকা টা.. মি. ইজহান দিয়েছে!”

আজিজুল হক এবার হাঁপাতে লাগলেন। বুকে মাঝে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে লাগলেন। একটা পুরোনো অপরাধ বোধে দগ্ধ হতে লাগলো তার বুক। শ্যামা বাবার এই হাল দেখে হন্তদন্ত হয়ে পিঠের মাঝে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

“পাপা কি হয়েছে! কষ্ট হচ্ছে শ্বাস নিতে? ডাক্তার ডাকবো? জান্নাত… জান্নাত ডাক্তারকে ডাক…!”

বলতেই জান্নাত মাথা নেড়ে বেড়িয়ে গেলো। এদিকে খু্ব কষ্টে আজিজুল হক বলল,

” মেহতাবের ছেলে..!”

শ্যামা বাবার এমন প্যানিক করতে দেখে চোখে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো। সামান্য হেল্প করার কথা শুনে বাবা প্যানিক করছে? আর যদি শ্যামা বলে দেয়, বিয়ের কথা! তাহলে? তাহলে কি হবে??? শ্যামা বলল,

” পাপা তুমি হাইপার হচ্ছো কেন? আমি.. আমি সব টাকা ফিরত দিয়ে দিবো চিন্তা করো না!”

আজিজুল হক বুকের বা-পাশে হাত বুলিয়ে বলল,

” ওদের সাথে বড্ড অন্যায় করে ফেলেছি আমি, আমি চাইনি তাদের সামনে যেতে। তুই তুই কেন গেলি? ইজহান… ইজহান তোকে কিছু করেনি তো মা?”

শ্যামা বিস্ময় বিমুঢ়। একটা অজানা ভয় মনের মাঝে ঘর করতে লাগলো । বাবাকে কি বলবে সে? কিভাবে বলবে? ইজহান তার বর? আর.. আর বিগত ব্যবহার গুলো? যা ইজহান তার সাথে করেছে? কিভাবে বলবে? যে ইজহান তাকে বিয়ে করেও, বউ নয় বরং রক্ষিতা করে রেখেছে!

এদিকে আজিজুল হকের মনে পড়ছে বার বার ১২ বছর আগের সেই রাতটির কথা। সে তো চায়নি এমন কিছু হোক। সে চায়নি সানিয়া আত্মহত্যা করুক। সে তো তাই করেছিলো, যেটা রিদের বাবা করতে বলেছিলো। রিদের বাবার কথা ভাবতেই এবার উনি কাঁপতে লাগলেন। নিজের করা ভুল গুলোকে কিভাবে শুধরাবে। এবার যে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে আজিজুল হকের। এর মাঝেই ডাক্তার এসে হাজির হয়েছে। তাড়াতাড়ি করে আজিজুল হককে একটি ইনজেকশন পুশ করে বললেন,

“রোগীকে এভাবে প্যানিক করলে তো.. উনার জীবনের ঝুঁকি হতে পারে। খেয়াল রাখবেন। ”

শ্যামা শুধু মাথা নাড়লো। আজিজুল হকের কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে চেয়ে রইলো শুধু।আজিজুল হক আধো আধো চোখ জোড়া খুলে আছে, বিড়বিড় করে ঠোঁট নাড়ছে। শ্যামা শুধু এত টুকুই বুঝতে পাড়লো,

“পালিয়ে যা শ্যামা.. ওরা ছাড়বে না তোকে!”

শ্যামা মাথায় কিছুই ডুকছিলো না। কি করবে সে? কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। সেদিন কোনো রকম দিনটি পার করে বাসায় চলে আসে তারা। সেদিন ভোর রাতে হসপিটাল থেকে ফোন আসে আজিজুল হক আর নেই। শ্যামার পুরো পৃথিবীই উল্টে গেছিলো সেদিন। আজিজুল হকের মৃত্যুর দু দিন পরেই যখন রিদের বাবা হুমায়ুন চৌধুরি আগমন ঘটলো, তখনি যেন আস্ত আকাশটা ভেঙে পড়লো শ্যামার মাথায়। শ্যামা যখন বিগত দিন গুলোর কথা ভাবছিলো, তখনি জোরে ব্রেক কসলো সি এন জি। এবং ভাবনা থেকে বের হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কি হইছে মামা? ”

সি এন জি লোক কিছু না বলে উল্টো পথে দৌড় দিলো। শ্যামা আর জান্নাত আবাক। তারা সামনে তাকিয়ে দেখলো কত গুলো কালো পোশাক পরিহিত নিগ্রো লোক তাদের বিশাল দেহী শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় তাল গাছের মতো। হাতে তাদের অস্ত্র। যা দেখে জান্নাত ঝাপটে ধরলো শ্যামাকে। ভয় হাত পা জমে যাচ্ছে মেয়েটার। তাদের মাঝে একটি লোক এগিয়ে শ্যামার উদ্দেশ্য বলল,

“ম্যাম স্যার আমাদের সাথে যেতে বলেছেন!”

শ্যামা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কোন.. স্যার!”

“গেলেই দেখতে পারবেন!”

“আমি যাবো না আপনাদের সাথে!”

লোকটি হেসে বলল,

“স্যার বিকল্প পথ বলে দিয়েছেন?”

“মানে?”

চোখ বড় বড় হয়ে গেছে শ্যামার, কে এই স্যার? যে এত এত লোক পাঠিয়েছে? রিদ নয় তো? শ্যামা শুকনো ঢুক গিললো। লোক গুলো তাদের বাক্য ব্যয় না করে, শ্যামা আর জান্নাতের মুখে স্প্রে করে দিলো। সেকেন্ডের মাঝেই লুটিয়ে পড়লো তারা।

বড় এক ক্লাবে বসে আছে রিদ, তার কোলে বসে আছে এক রমণী। আদুরে আহ্লাদে ঢলে পড়ছে বার বার রিদের বুকে। রিদ নিজেও লুফে নিচ্ছে রমণীর দুষ্ট মিষ্টি ভালোবাসা। হেসে হেসে করে চলছে ড্রীংকস। বড় বড় পা ফেলে গ্রে কালার সুট পরা, মাঝ বয়সি লোক এসে দাঁড়ালো রিদের সামনে। মেয়েটিকে কোল থেকে নামিয়ে লোকটির জড়িয়ে ধরলো রিদ। বলল,

“বাবা! থ্যাঙ্কু ইউ!”

হুমায়ুন চৌধুরী হেসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“তোমার জন্যই তো সব কিছু। বলো আর কি চাই?”

রিদ হেসে বলল,

“আর কিছুই না, আমার যাষ্ট শ্যামাকে চাই, যে কোনো মূল্য। যা তুমি ওল রেডি করে দিয়েছো!”

বলেই হাসলো রিদ। বাবার হাতে একটি বিয়ারের গ্লাস ধরিয়ে দিলো তারপর। কিন্তু হুমায়ুন চৌধুরী তখন অন্য কিছু ভাবছে। সে বলল,

“ইজহান আমাদের ছেড়ে দেয়ার পাত্র না। এত সহজে সে শ্যামাকে ছাড়বে না!”

রিদের হাসি মুখটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেলো। ছোট থেকেই ইজহানের সাথে লড়াই লাগে তাদের পছন্দের সব কিছু নিয়ে। সেটা কাপড় হোক, খাবার হোক, বা মানুষ। কিন্তু বরাবরই ইজহান সব পেয়েই যায়। যদিও রিদ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলো, কিন্তু মনে মনে ক্ষোভ ছিলো বেশি। ইজহান স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, এমনকি চলচিত্র জগতের মাঝেও ফেমাস। যতবার চেষ্টা করেছে ইজহানকে হারাতে? ততবার ইজহান তাকে বাজিমাত করে চলে গেছে। এমনকি তার ভালোবাসার মানুষটিকে-ও ইজহান কেড়ে নিয়েছে। তবুও কি হয়েছে? শ্যামাকে সে তার করেই ছাড়বে। তাইতো…৷ তাইতো এত এত চাল চেলেছে সে। রিদ বলল,

” বাবা এবার ইজহানকে খুন করে হলেও, শ্যামাকে আমার চাই!”

হুমায়ুন চৌধুরী মাথা নাড়লেন। রিদ ওয়াইনে এক চুমুক দিলো। ভিতরে ক্ষত গুলো আবার তাজা হতে লাগলো। রিদ আর ইজহান একই রকম তো ছিলো, তাহলে? কেন ইজহান আজ সবার প্রিয়? আর রিদ? সেই বা কেন আজ এই অন্ধকার জগতের মানুষ??
রিদ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“কিন্তু বাবা আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না! শ্যামা তোমার কথা বিশ্বাস কিভাবে করলো?”

হুমায়ুন চৌধুরী শয়তানী হাসি হেসে বলল,

” তেরা বাপ, বহাত কামিনা আদমি হে..!”

বলেই হো হো করে হেসে উঠলো দু’জনে…!

—————-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here