আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ১

0
167

“কন্ট্রাক্ট পেপার অনুযায়ী আজ থেকে তুমি আমার বিয়ে করা রক্ষিতা। চিন্তা নেই তোমার যা চাই তা তুমি পেয়ে যাবে, এখন সাইন করো। ”

কথাটা বলে কন্ট্রাক্ট পেপারটা এগিয়ে দিল মি.ইজহান। তার মুখ থেকে এমন একটি কথা শোনে আমার সারা শরীর হিমশীতল হয়ে গেলো। চোখের জল গড়িয়ে পড়লো দু ফোটা। পেপারের পাশেই পড়ে থাকা কালো কুচকুচে ঘন কালির কলমটি তুলে সাইন করে দিলাম। ভাগ্যের এই পরম উপহাস মাথা পেতে নিলাম। সাইন হতেই মি. ইজহান টেনে নিয়ে গেলেন আমাকে পাশের রুমে। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন বিছানার উপর। পরনের জেকেটটি খুলে ফেলে দিলেন দূরে। পরমুহূর্তে হামলে পড়লেন আমার শরীরে। ক্ষত বিক্ষত করে দিলেন তার নখের আঁচড়ে। কামড়ের দাগ বসিয়ে দিলেন আমার শরীর। আমি সইতে পাড়ছিলাম না। মনে হচ্ছিলো আগুনের মাঝে জ্যান্ত পোড়ানো হচ্ছে আমাকে। আমি কাকুতি মিনতি করে গেলাম। শেষ রক্ষে আর হলো না। সদ্য বিয়ে করা বরের রক্ষিত বউয়ের কর্তব্য নিভানো ছাড়া আর কোনো পথ রইলো না যে..। একসময় উনি থেমে গেলেন।হয়তো তার কাজ শেষ। আমার ক্ষত বিক্ষত শরীরটা পরে রইলো বিধস্ত ভাবে বিছানার উপর। গলা শুকিয়ে কাঠ। মি. ইজহান উঠে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলেন। ফিরে এসে কচকচে কিছু হাজার টাকার বান্ডিল ছুড়ে মারলেন শরীরে। দাম্ভিক মুখখানায় গম্ভীর, বরফ কন্ঠে বললেন,

“এখনের জন্য এতটুকুই। রাতের জন্য তৈরি থেকো।”

তার কথাটুকু কানে যেতেই থমকালাম। এ প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ পেয়েছি আমার শরীরে, কিন্তু তা ভালবাসার নয়, মরণ যন্ত্রণার। আবার সেই একই যন্ত্রণা সইতে হবে? আমার ক্ষত বিক্ষত শরীর, যেটা নিয়ে উঠে বসতে পর্যন্ত পারছিনা? সেই শরীরে আরেক দফা সঙ্গম কিভাবে করতে চান তিনি? একটু ও কি মায়া দয়া নেই তার মনে নাকি? আমি খুব কষ্টে বললাম,

“মি. ইজহান! আজ আ..আর না। দয়া করুন! আজ অতন্ত্য…! ”

মাঝপথেই থামিয়ে দিলেন উনি আমাকে। কোনো ভ্রুক্ষেপহীন ছাড়াই বলে উঠলেন,

“টাকা টা বুঝি তোমার দরকার নেই না?”

বুকের মাঝে কামড় দিয়ে উঠলো আমার। টাকাটা প্রয়োজন নেই মানে? টাকার প্রয়োজনেই তো আজ নিজেকে বিকিয়ে দিলাম আর হারালাম আমার সতীত্ব। আমি শুকনো মুখে বললাম,

“ঠিক আছে। রাতে আবার চলে আসবো!”

উনি তাৎক্ষণিক বললেন,

“তুমি এখন আমার রক্ষিতা বউ। তোমার যাবতীয় জিনিস নিয়ে চলে আসবে। এখন থেকে আমার বাসায় থাকবে!কখন আমার তোমাকে প্রয়োজন পরে যায়…!

আমি চুপ করে রইলাম। লোকটি বেড়িয়ে গেলো। আমি টাকা গুলো তুলে নিলাম। পাশেই পড়ে থাকা কাপড় গুলো কুঁড়িয়ে ওয়াশরুমের দিক চলে গেলাম। ঝরনার পানির নিচে নিজেকে মেলে ধরতেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলাম। যেখানে পানি লাগছে জ্বালা করছে খুব। অসহ্য ব্যথা শরীরে। আমি চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। ভাগ্যে কি নির্মম পরিহাস। প্রয়োজনের কাছে নিজের সতীত্ব হেড়ে গেলো। হয়ে গেলাম সুপার স্টার ইজহান মেহরাবের বিবাহিত রক্ষিতা! গা গুলিয়ে এলো আমার মাটিতে বসে পড়লাম। ধুয়ে যেতে দিলাম কিছুক্ষণ আগে করা মি. ইজহানের স্পর্শ গুলো। কিন্তু মনের দাগ গুলো? মনের দাগ গুলো কি আদৌ যাবে? নাহ্! যাবে না। কখনো না…!

————–

গাড়ির পিছনের সিটে হেলে বসে আছে ইজহান। চোখ জোড়া গম্ভীর, শীতল। তাকিয়ে আছে বাহিরের বিচিত্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য দিকে। উদাসীন সেই দৃষ্টি। তার মেনেজার অধিরাজ ইজানকে এমন উদাস দেখে বলল,

“ইজহান? আমরা না হয় মিটিং কেন্সেল করে দেই?”

ইজহান তাকালো অধিরাজের দিকে। গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“হোয়াই?”

“তোমার মনটা হয়তো ভালো না। তাই…!”

ইজহানকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

“আমার পার্সোনাল লাইফ, আর প্রোপেশনাল লাইফ আলাদা রাখতে জানি আমি। সো কিপ কোয়াইট! ”

অধিরাজ চুপ করে গেলো। মাঝে মাঝে ইজাহানের অভিব্যক্তি কিছুতেই বুঝতে পারেনা। অল্প বয়সে ছেলেটি নিজের যোগ্যতায় নাম, জোশ, পাওয়ার সব কামিয়েছে। চলচিত্রের জগৎ -এক যুগ কাজ করে ছেড়ে দিয়ে এবার রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে গেছে আজ এক বছর। অথচ তার নামে কোনো বেড রেকর্ড নেই। এমন একটি গম্ভীর মানুষ, সে কিনা নিজের বাবার ঘনিষ্ঠ ছোটবেলার বন্ধুর মেয়েকে বিয়ে করে রক্ষিতা করতে পারে? কই! ওর ক্যারেক্টারে মেয়েলি কোনো দাগ নেই। তাহলে?কেন করলো সায়ন এমন? শুধুই কি টাকার জন্য? নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?

——————-

দিন ফুরিয়ে রাত হতে লাগলো। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পৃথিবীর বুক ভাসিয়ে দিতে লাগলো। ভাসিয়ে গেলো আমার বুকের ভিতরটাও। আই সি ইউর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার বাবা আজিজুল হক। এক সময় বিশিষ্ট শিল্পপতি ছিলেন। অথচ আজ, আজ উনার আই সি উর খরচ বহন করতেই হিমশিম খাচ্ছি। হুট করেই বাবা কিভাবে যেন দৈলিয়া হয়ে গেলেন। তা সহ্য করতে না পরে স্টোক করলেন। আর এখন বিছানায় শয্যাশায়ী। ছোট শ্বাস বেড়িয়ে এলো আমার ভিতর থেকে। তখনি ফোনের রিং টোন তীক্ষ্ণ আওয়াজ তুললো। ভেজা চোখে হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটি তুলতেই জ্বলজ্বল করে উঠালো মি. ইজহানের নাম। আমি গাল ফুলিয়ে শ্বাস নিলাম। চোখের জলটুকু মুছে ফেলে ফোনটা তুলে নিলাম। একটা ঠান্ডা গম্ভীর গলা আমার কানের পর্দায় ধাক্কা দিয়ে গেলো। শরীরে মাঝে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। ইজহান বললেন,

“হোয়ার আর ইউ শ্যামা?? ”

আমি শুকনো ঢুক গিললাম। ঠোঁট ভাজ করে বললাম,

“আসছি!”

চলবে,

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here