আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ৩৩

0
125

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
৩৩।

” মেহরিন? তুমি?????”

মেহরিন ডাক্তারের দিকে ঘুরে বসেছিলো। শ্যামার কৌতূহল কন্ঠ শোনে ঘাবড়ে পিছনে তাকালো। চাপা হেসে বলল,

” আরে… শ্যামা… আমি? আমি ওই আর কি ডাক্তার দেখাতে!”

শ্যামা ভ্রু কুচকে বলল,

” কিন্তু আমি-তো অন্য কিছু শুনলাম!”

মেহরিনের সুন্দর মুখে যেন ঘন কালো মেঘ নেমে এলো। খানিক চুপ থেকে বলল,

” তো.. তুমি সব জেনেই গেছো?”

শ্যামা ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে রইলো। দু’হাত বেঁধে। মেহরিন চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে দাঁড়ালো শ্যামার মুখোমুখি। তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দিয়ে হাসলো সে,

” যেনেই যখন গেছো? তাহলে আর লুকিয়ে কি লাভ?”

শ্যামা সোজাসোজি পয়েন্টে এলো,

” তুমি না ইজহানকে ভালোবাসো? তাহলে? এসব কেন করলে? শুধু তাই না… তুমি.. তুমি আমার বাচ্চাটাকে-ও মেরে দিলে? কি দোষ ছিলো বাচ্চাটার? পৃথিবীর আলো দেখার আগেই তুমি ওকে মেরে ফেললো!”

এ পর্যায় ধরে এলো গলা। মেহরিনের হাসি মিলিয়ে গেলো, বিড়বিড় করে বলল,

” ভালো-তো আমার মা-ও বাসতো মেহতাব আঙ্কেলকে, খুব ভালো.. অথচ কি পেলো! সারা জীবন অবহেলা। ”

শ্যামা অবাকথায় ডুবে গেলো,

” কি বলছো এসব?”

“সত্যি বলছি, আমার মা এশা, মেহতাব আঙ্কেল আর তোমার মার ভালো বন্ধ ছিলো। এতটাই যে এক প্লেটে খাবার খেতো। কিন্তু তোমার মা? ফাঁসিয়ে ফেললো মেহতাব আঙ্কেলকে, আমার মা অনেক কষ্ট পেয়েছিল। অথচ আমার মা… আমার মার পেটে আমি ছিলাম, মেহতাব আঙ্কেলের অবৈধ সন্তান। অথচ দেখো ভাগ্যের কি পরম ইতিহাস তোমার মমা আঙ্কেলকে ঠকালেন। মা ভেবেছিলো, এবার হয়তো মেনে নিবেন মেহতাব আঙ্কেল আমাদের, কিন্তু.. কিন্তু উনি নিজেই আমাকে নাজায়েজ বলে দিলেন। আমার মা এসব সইতে পারেনি। সে দেশ ছেড়ে চলে যান। আমার জম্মের পর মা আমাকে সব বলেন। আর মায়ের প্রতিশোধ নিতেই এত কিছু করা!”

শ্যামা বিস্ময় নিয়ে বলল,

” তাহলে তুমি ইজহানের বোন?”

“আমি কি এতখন উগান্ডার ভাষায় কথা বলেছি নাকি?”

শ্যামা শুকনো ঢুক গিললো,

” এমন-তো নয়? ইজহানের মা মারা যাওয়ার পিছনে তোমার হাত?”

মেহরিন বাঁকা হাসলো,

” আমার মা আমাকে সামলে কষ্ট হচ্ছিলো। তাই আমার ছোট মামা আমাকে তাদের সাথে নিয়ে আসে, তাদের বাবা-মা বলেই ডাকি। আর একদিন জানতে পারি, ইজহানদের সাথে বাবা অনেক ভালো সম্পর্ক বাবার। নিজ বাবাকে দেখবো সেই লোভ৷ সামলাতে পারিনি আমি তাই ছুটে গেছিলাম সেদিন তাদের বাসায়। কিন্তু বাগির থেকে দুজন মানুষের ঝগড়ার আওয়াজে সেখানে থেমে যাই। মেহতাব আর তার স্ত্রী সানিয়া ঝগড়া করছে। তখনি জানতে পারি তোমার মা আবারো আমার সো কোল্ড পিতার সংসারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ইনফেক্ট এতো রাগ হয়েছিলো না। তাই তো? তাইতো আগুন টা সেদিন আমি ধরিয়ে ছিলাম। বয়সে ছোট হলেও ক্রাইম করার বুদ্ধি ছিলো আমার। সে জন্য-ই তো আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারে নি সেদিন ইজহানের মা আত্মহত্যা নয় খুন হয়ে ছিলেন।”

শ্যামার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো,

“সানিয়া আন্টি কি দোস করেছিলো?”

“কিছুই না.. উনি আমার সো কোল্ড পিতার সহধর্মিণী ছিলেন, আর আমার মা সারা জীবন সমাজের কাছে কলঙ্ক। তাই রাগে দুঃখে মেরে দিয়েছি ব্যস!”

যেন সামান্য কোনো ব্যপার মেহরিনের কাছে। শ্যামা চোখ-মুখে অবিশ্বাস্য ফুঁটে উঠেছে। সে বলল,

” আর ইউ মেড?”

মেহরিন হেসে ফেললো। রোলিংর চেয়ারে বসে পা দুলিয়ে দুলিয়ে বলল,

“মারতে তো তোমার মাকেও গেছিলাম, কিন্তু বেচারি তোমার বাবার কাছে এত অত্যচার সহ্য করতে না পেরে ভেগেছে, এই জন্য মায়া হলো জানোতো! তাই ছেঁড়ে দিলাম!”

শ্যামা এবার ভাষা হারিয়ে ফেললো। মেহরিন তখনি হিংস্র চাহনি নিয়ে তাকালো শ্যামার দিক। টেবিলের উপর রাখা ছুঁরিটা নিয়ে গেঁধে দিলো শ্যামার গলার উপর। আচমকা এমন এট্যাকে সামলাতে পাড়লো না শ্যামা। চোট খেয়ে আহ্ করে উঠলো। ক্ষত থেকে গল গল করে বেড়িয়ে আসতে লাগলো রক্ত।

” এই কি করছো তুমি?”

চিৎকার করলো শ্যামা। মেহরিন বলল,

” তুমি আমার সব সত্য যেন গেছো। যদিও তোমাকে-ও মারতাম। আমার সো কোল্ড বাবার পরিবার ধংস করে দিতাম। তা না হয় তোমার থেকেই শুরু হোক? মেরে তোমার প্রতিটি পার্টস বিলিন করে দিবো আমি!”

শ্যামা মেহরিনকে ধাক্কা মেরে দূরে সরাতে চাইলো,

“পাগল হয়ে গেছো, তোমার চিকিৎসা দরকার, ছাড়ো আমায়!”

মেহরিন ছাড়লো না গলার উপর আরো দাবিয়ে দিয়ে চিল্লিয়ে বলল,

” হ্যাঁ হয়েছি পাগল। তুমি কি জানবে? যে মেয়ে অবৈধ হয় তাকে কত কিছু সহ্য করতে হয়? জানবে না… কারণ তুমি তেমন সিচুয়েশনে ছিলেনা। ”

শ্যামা এবার সইতে না পেরে নিজের নখ দিয়ে মেহরিনের মুখে খামচি মারলো। সাথে সাথে ছিটকে গেলো মেহরিন। সেই সুযোগে শ্যামা পালাতে যাবে তখনি পিছন থেকে মেহরিন আবারো শ্যামাকে ধরে তার হাতে ছুঁড়ি ঢুকিয়ে দিলো। শ্যামা গগনবিদারী চিৎকার করে উঠলো। ডাক্তার পাশেই বসে ভয় আধমরা। মেহরিন থেমে নেই যেন। ছুরি দিয়ে আবার আঘাত করতে যাচ্ছিলো তখনি একটি বলিষ্ঠ হাত মেহরিনের হাত ধরে নিয়ে ঠাটিয়ে এক চর বসালো। মেহরিন পিছনে তাকি চোখ বড় বড় করে ফেললো। ভয়ে ভয়ে বলল,

” ইজহান তুমি?” তুমি দাঁড়াতে পারো?”

তখনি পিছন থেকে হেসে উঠে অধিরাজ…,

“শুধু দাঁড়াতে নয়… দৌঁড়াতে-,ও পারে!”

মেহরিন তোতলাতে তোতলাতে বলল,

” কিন্তু তুমি তো?”

তখনি পিছন থেকে এক বয়স্ক কন্ঠ ভেসে এলো,

” তুমি চলো,ডালে, ডালে, আর আমরা চলি পাতায় পাতায়!”

চলবে,

পরবর্তী অংশ কাল দিবো… এই সময়ে। আর কিছু সমস্যার কারণে ছোট হয়েছে পর্ব টা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here