আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ৩৫ ও শেষ পর্ব

0
100

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
৩৫।
(শেষাংশের ১ম অংশ)

উত্তপ্ত লোহিত সূর্যের তেজ কমাতে এক ফোঁটা বৃষ্টি শীতল স্পর্শ যেমন অভিমানী কিশোরীর মতো পৃথিবীর বুকে শীতল করে দেয়….! ঠিক তেমনিভাবে ইজহান আর শ্যামার মনের রাগ অভিমান, অভিযোগ ভুলিয়ে মনের কোনোর ঘরের লুকোনো ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম হচ্ছে। গোটা আট’টা বছর বনবাসে কাঁটানো ইজহানের মন শেষ পর্যন্ত তার শ্যামাকে নিজের করে নিতে পেরেছে।

শরৎকালের বিদেয় দিয়ে নেমে এলো কনকনে ঠান্ডা..। চারিদিকের কুয়াশা মোড়ানো চাদরে
হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে একটু রোদে আরাম কেদারা নিয়ে বসার আরামই আলাদা। বিশেষ করে আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীত তো অতিথি-মাত্র। ইজহান তাদের বাগানে বসে ল্যাপট্যাপে কাজ করছিলো। জীবনটা এখন এই শীতের মতোই কনকনে ঠান্ডা। এক কাঁপ ধোয়া উঠা গরম গরম চা হলেই যেন ইজহানের মন ভরে যেতে। ঠিক সে সময় এসে হাজির হয় শ্যামা। হাতে গরম চায়ের কাপ। ইজহানের বাচ্চা মন খুশিতে ভরে গেলো। শ্যামাকে কাছে টেনে কোলে বসিয়ে নিলো। ঠান্ডা হাত জোড়া খেলা করতে লাগলো শ্যামার শরীরে। শ্যামার শরীরে আলাদা শিহরণ তুলে দিচ্ছে ইজহান। শ্যামা আর সইতে না পেরে বলল,

” উফ! ঠান্ডা লাগছে, এমন করো না। প্লীজ!”

ইজহান হেসে ফেললো। শ্যামার ঘারে মুখ গুজে দিয়ে বলল,

” শ্যামা..! আম সরি..! ফর এভরিথিং। ”

শ্যামা এবার ইজহানের কোলে বসেই ইজহানের চোখে চোখ রেখে গলায় দুই হাত বেঁধে বলল,

” এভাবে বলো না। আমি হয়তো তোমার জায়গায় থাকলে এমনটি-ই করতাম।”

ইজহান শ্যামার নাকে নাক ঘসে দিয়ে বলল,

” মোটেও না। তুমি আমার জায়গায় থাকলে, এমন কখনো করতে না। বরং মাফ করে দিতে!”

শ্যামা ইজহানের গালে হাত রেখে বলল,

” যা হয়েছে ভুলে যাও ইজহান। আমরা না হয় সব শুরু থেকে শুরু করবো!”

ইজহান মুচকি হাসলো। শ্যামার কোমর চেপে আরো কাছে টেনে নিলো। দুজনের নিশ্বাস এক হয়ে যেতে লাগলো। গভীর হতে লাগলো শ্বাসপ্রশ্বাস। ইজহান মাদক নয়নে নিজের ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দিলো শ্যামার ঠোঁটে। শ্যামা আবেশে বন্ধ করে ফেললো চোখ। ঠিক সেই সময়, এই রোমিও জুলিয়েটের কোয়ালিটি টাইম নষ্ট করে ফেললো গলা ঝাড়বার শব্দে। শ্যামা হন্তদন্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালো। তাকিয়ে দেখলো, আলিয়া দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হেসে যাচ্ছে। শ্যামার লজ্জায় কান লাল হয়ে গেলো। আলিয়া হেসে বলল,

” এবার তাহলে নাতি-নাতনীদের মুখ দেখতেই পারবো খুব জলদি!”

ইজহানের কোনো ভাব আবেগ নেই। কিন্তু পিছন থেকে আরমান টস করে বলে দিলো,

” এভাবে হুটহাট অসময়ে চলে এলে কিভাবে নাতি-নাতনীদের মুখ দেখবে দাদীজান?”

আরমানকে দেখে দাদিজানের কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেলো। তবুও খানিক রাগ দেখিয়ে বলল,

” বড্ড পেকে গেছিস তুই?”

আরমান আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলল,

” কই দাদিজান… মোটেও না! দেখো সেই ছোটটিই আছি আমি!”

আলিয়া কান চেপে ধরে বলল,

” হুম হুম বুঝি সব বুঝি!ডুবে ডুবে যে জল খাচ্ছিস তার খবরোও কিন্তু রাখি আমরা!”

আরমান হাসলো। হাসলো শ্যামা আর ইজহান-ও। তখনি আলিয়া বলল,

” আচ্ছা যা বলতে এসেছিলাম। ইজহান তোর আর শ্যামার বিয়েটা আমরা আবার দিবো। সাথে আরো একটা জুটি এড হবে।”

সকলেই এক সাথে বলল,

” কোন জুটি?”

আলিয়া আরমানের দিক তাকিয়ে বলল,

” গত কয়েক মাস চুটিয়ে প্রেম করছেন আমাদের আদরের ছেলে। তার সাথেই হবে বিয়ে।”

থতমত খেয়ে ফেললো আরমান। শ্যামা উৎসুক কন্ঠ বলল,

” কে সেই ভাগ্যবতী দাদিজান?”

আলিয়া হেসে বলল,

” আমাদের জান্নাত!”

শ্যামা গম্ভীর হয়ে গেলো। ইজহান চেয়ে রইলো শ্যামার দিকে। আলিয়া বলল,

“শ্যামা তুমি কি খুশি নাউ?”

” না না দাদিজান তা নয় তবে… আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই।”

দাদিজান মাথা নাড়লো।

———-

শ্যামার মাথায় চিন্তার ভাব। জান্নাত কাচুমাচু করে বসে আছে তার সামনে। শ্যামা বললো,

” তুই কি আরমানকে পছন্দ করিস?”

জান্নাত ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়লো। শ্যামার মুখে এবার হাসি ফুঁটে উঠলো। জান্নাতকে জড়িয়ে ধরলো।

ইজহানদের পরিবারে খুশির যেন ঢল নেমে এলো। চারিদিকে হৈ হৈ শুরু। কিন্তু শ্যামা বেকে বসেছে। সে ইজহানকে বিয়ে করবে না। ইজহান এতে রেগে মেগে চেপে ধরে দেয়ালের সাথে।গম্ভীর দাম্ভিকপূর্ণ কন্ঠে বলল,

” তোমার তো সাহস কম না? তুমি বিয়ে করবে না বলছো?”

শ্যামা ভাবলেশহীন ভাবে বলল,

” হ্যাঁ করবো না!”

“তোমার ভয় করছে না? আমাকে না বলা?”

“হুম!”

ইজহান আরো শক্ত করে চেপে ধরলো। শ্যামা হেসে ফেললো। ফিসফিস করে বলল,

” তুমি তো মাকে প্রপোস করোনি বিয়ের জন্য? না ভালোবাসি বলেছো? তো কেন করবো বিয়ে?”

ইজহান তখন কিছু বলবে। তার মাঝে ইজহানের ফোনে কল আসে…

ফোন তুলে ইজহান সিরিয়াস মুডে চলে আসে। শ্যামা তার থমথমে মুখ দেখে জিজ্ঞেস করে,

” কি হয়েছে? ”

ইজহান ফোন কেঁটে বলল,

” আমি এখুনি আসচ্ছি!”

শ্যামা কাঁধ বাকিয়ে মাথা নাড়লো। ইজহান চলে যেতেই কিছুক্ষণ পর আলিয়া তারা দিলো,

” শপিং করতে হবে, কত কাজ বাকি জলদি রেডি হও!”

সকলে তাই জলদি জলদি তৈরি হয়ে নিলো। আয়ানাও সাথে আছে আজ।

কিছুক্ষণ পর যখন তারা শপিংমলে পৌঁছে গেলো। তখনি ইজহান ফোন করলো শ্যামাকে। বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

” শ্যামা তোমরা কই?”

শ্যামা শপিংমলের সোরগোলে কিছু শুনতে পাচ্ছিলো না। তাই একটু সাইড হয়ে বলল,

” আমরা শপিংমল এসেছি!’

ইজহানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। সে চেচিয়ে বলল,

” ওখানে বোম রাখা হয়েছে।”
(শেষ অংশটা এখানে এড করে দেওয়া হবে আগের গল্পগুলোর মত কাল অথবা রাতে চেক করবেন প্লিজ!)
চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here