আঁধারিয়া অম্বর পর্ব ৪+৫

0
79

#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
৪।

রাত ১১ টা….
বিছানার বাম পাশেই সাদা চাদরে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে শ্যামা। গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ইজহান তার দিকে। মেয়েটির জোড়ভ্রু যুগল কুচকে আছে।যেন রাজ্যের চিন্তা এই মেয়েটির মাথায়।খাঁড়া নাক, সুন্দর ঠোঁট জোড়ায় দেওয়া ইজহানের ক্ষত স্পষ্ট । ফর্সা পিঠে এলো মেলো হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে চুল। ফর্সা মুখে ব্যথার আভাস। ইজহানের বুকের কোথাও একটা ধক করে উঠলো যেনো। পুতুলের মতো দেখতে তুলতুলে মেয়েটির শরীরের কি হাল করেছে সে! পরক্ষণেই মনের গহিন থেকে কিছু কথা নাড়া দেয় মস্তিষ্কে,

“ভুলে গেছিস? এই সেই মেয়ে? যে তোর ফিলিংস নষ্ট করেছে, তোর বিশ্বাস ভেঙ্গেছে, ওর পরিবারের জন্যই তোর গোটা পরিবার তছনছ হয়ে গেছে? তার জন্য সত্যি তোর মায়া হয়? সেইম ওন ইউ!”

মনের কোনো জমে থাকা চাপা রাগ ধপ করে জ্বলে উঠলো। উদাসীন হয়ে গেলো দৃষ্টি। বিষিয়ে উঠা মন নিয়ে বিছনা ত্যাগ করলো। এ মূহুর্তে তিক্ততা ভরে যাচ্ছে ভিতরটা এই মেয়েটিকে দেখে। এক পলক ঘুমন্ত শ্যামার মুখ দেখে বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে ইজহান।

——-

নিস্তব্ধতা রুমটিতে ফোনের বীপ বীপ শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। এলার্ম বেজে ওঠেছে। আমি ফোনটি তুলে বন্ধ করে নিলাম। চোখ বুলালাম ঘড়ির কাঁটায় ১২ টা ছুঁই ছুঁই।চমকে উঠলাম আমি। জাহিদ আমার অপেক্ষা করছে নিশ্চই? আমি ধড়ফড় করে বিছনা থেকে নামতে নিলাম। ঠিক তখনি পুরো শরীরে তীব্র ব্যথায় “আহ্” শব্দটি বের হয়ে গেলো মুখ দিয়ে। মনে পড়ে গেলো, কিছু ঘন্টা আগের কথা। মি. ইজহান আমার সাথে কি করেছিলো। একটা.. একটা খেলার পুতুল বানিয়ে ফেলেছেন যেনো উনি। যখন ইচ্ছে খেলছে, যখন ইচ্ছে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে।মনের ভেতরটা আমার বিতৃষ্ণায় ভরে গেলো। গাল ফুলিয়ে ছোট শ্বাস বের করলাম। বিছনা ছেড়ে ধীরে পায়ে ওয়াশরুমে গেলাম। একটা হট শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে আসলাম বাহিরে। শরীরের তীব্র ব্যথা থেকে নিস্তার পেতে পেইন কিলার খেয়ে নিলাম। চট জলদি রেডি হয়ে নিচে নেমে এলাম। তখন মধ্যে রাত কেউ জেগে নেই। লিভিং রুমটায় হালকা আলো হালকা আধাঁরের মাঝে যেন লুকোচুরি খেলছে। আমি ধীরে পায়ে নিজে নামে মেইন দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। গেইট খুলবো তখনি ফকফক করে উঠলো আলোয়। খানিকটা চমকে গেলাম। পিছন থেকে ভেসে এলো ঠান্ডা একটি কন্ঠ,

“এত রাতে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”

আমি পিছনে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ঠোঁট ভাজ করে বললাম,

“কাজ আছে।”

মি. ইজহান যেন আমার কথাতে সন্তুষ্ট নয়। ভ্রু কুচকে বিরক্তি মাথা চোখে চেয়ে আছেন আমার দিকে। আমি পূর্ণ দৃষ্টি মেলে দেখলাম মানুষটাকে, শরীরে দামি টিশার্ট আর টাউজার। বরাবরের মতোই বিষন্ন, উদাসীন, অনুভূতি শূন্য মুখ করে বসে আছে সোফার উপর। টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে ফাইল। হয়ত কাজ করছিলেন। আমাকে বললেন,

“এত রাতে মেয়ে মানুষের আবার কিসের কাজ?”

এবার বিরক্ত হবার পালা যেনো আমার। আমি সোজাসাপটা বললাম,

“মেয়ে মানুষ বলে কাজ থাকতে পারে নাকি?”

উনি ভাবলেশহীন ভাবে গম্ভীর ঠান্ডা কন্ঠে বললেন,

“অবশ্যই থাকে। যারা রাতের পরি হয়! আই থিংক তুমি তা নই?”

আমি অবাক! কি বলেছেন উনি? আমি.. আমি রাতের পরি? উনি আমাকে অন্ধকার জগতের মেয়েদের সাথে তুলনা করছেন? ছিঃ… এতটা নিচ ভাবে উনি আমাকে? আমি..আমি এতটাই ফেলনা! বুকের মাঝে মুহূর্তেই ধলা পাকিয়ে গেলো একটা চাপা কষ্ট। ধরে এলো গলা। বেইমান চোখের পানিটুকু স্বার্থপরের মতো বেড়িয়ে আসতে চাইছে এই লোকটির সামনে? কেনো? যে মানুষটা আমাকে মানুষ বলেই ভাবে না তার সামনে কিসের এতো আদিখ্যেতা? আমি নিজেকে শক্ত করতে চাইলাম। কঠিন কন্ঠে তাকে উপেক্ষা করে বললাম,

“আমি একজন রিপোটার। আমার কাজের জন্য রাত দিন ডাজেন্ট মেটার। আপনার উদ্ভট কথা শেষ হয়েছে? এবার আমি যাবো। ”

কথাটুকু বলেই তাকালাম মি. ইজহানের দিকে। থমকে গেলাম। মি. ইজহানের চোখের রক্তিম চাহনি কাঁপিয়ে দিতে লাগলো আমার দেহখানি। মানুষটা বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয় নি। ১২ বছর আগেও যেমন ছিলো, ঠিক তেমনি আছে, গম্ভীর, রাগী। আমি শুকনো ঢুক গিললাম। এক প্রকার পালিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলাম। কিন্তু আটকে গেলাম। একটা.. একটা ঠান্ডা বলিষ্ঠ হাত পিছন থেকে হেঁচকা টান মেরে তার দিকে ঘুরিয়ে ফেললো। বাহুর উপর হাতের বল প্রয়োগ করে চেপে ধরলো। শীতল কন্ঠে তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দিয়ে বলল,

“ভুলে যেয়ো না, তুমি আমার মিস্ট্রেস। ”

আমি চকিতে তাকালাম মানুষটার দিকে। কি চায় উনি? কেন বারবার বারবার আমার কাজে বাঁধা দেন? কেন?

“দেখুন আমি আমার দায়িত্ব ভুলিনি। কিন্তু তাই বলে এই নয় আপনি আমার কাজে হস্তক্ষেপ করবেন।”

মি. ইজহান আমাকে টেনে আরো কাছে নিয়ে এলেন। বললেন,

” তুমি এখান থেকে এক পা নাড়বে না। এটা আমার অর্ডার। ভুলে যেয়ো না তোমার বাবার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নি!”

আমি এবার অসহায় দৃষ্টি তাকালাম মি. ইজহানের দিকে। কতটা হেল্পলেস আমি। একজনের বাঁধা দাসী হয়ে জীবন পার করতে হচ্ছে। বিয়ের দুটো দিন পাড় হলো না, সম্পর্ক টা গলার কাঁটার মতো বিঁধছে কি করবো আমি? কি করার আছে? তখনি উনার গর্জন শোনা গেলো,

” রুমে যাও।”

আমি বাধ্য মেয়ের মতো চলে গেলাম উপরে। রাগে দুঃখ জোরে দরজা লাগিয়ে দিলাম। নিজেকে খাঁচার বন্ধী পাখি মনে হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বেজে উঠলো ফোনের রিং টোন। জাহিদ ফোন করেছে, ফোনটা তুলতেই, ওপাশ থেকে খেঁকিয়ে উঠলো জাহিদ,

“শালি কই তুই? মশার কামড় খাইয়া ত্যানা ত্যানা হইতাছে আমার পা। কই তুই? তোর খাটাশ বর আসতে দিচ্ছে না বুঝি!”

আমি হতাশ হলাম। আমার আর মি. ইজহানের ডিলের কথা একমাত্র জাহিদ জানে। তাই বললাম,

“আমার লাইফটা তেজপাতা। কি করি কয় তো? আমি চাই না, এই সুযোগ হাত ছাড়া করি। এই মাফিয়ার গ্যাং লিডারকে এখন পর্যন্তে কেউ দেখেনি। আর আজ এত বড় সুযোগ পেয়ে এই বেটার জন্য হাত ছাড়া হচ্ছে। ”

আমার কথা শুনে জাহিদ খানিক চুপ থেকে স্বরযন্ত্র করার মতো বলল,

“এক কাজ কর, তোর বেলকনি দিয়ে নেমে পর। আমি গাড়ি নিয়ে রেডি থাকবো।”

আমি অমত করলাম না। এটাই এক মাত্র রাস্তা। আমি ফোন কেঁটে রুমের দরজাটা ভালো করে লাগিয়ে নেমে পড়লাম বেলকনি দিয়ে। বাহিরে তখন ঠান্ডা আবহাওয়া বইছে। সন্ধ্যার বৃষ্টির ফেলে জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে। আমি খুব সাবধানে লুকিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। গেটের বাহিরে থাকা জাহিদের গাড়িতে চট করে উঠে বসতেই ওই একটান দিলো। আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম।

আর এদিকে পাশের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে শ্যামার করার সবটুকু কাজ দেখেছে ইজহান। শরীরের মাঝে ক্রোধ ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শ্যামাকে অন্য কোনো ছেলের সাথে এভাবে লুকিয়ে বের হতে দেখে মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইজহানের। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গাড়িটা যতক্ষণ না চোখের আড়াল হয়। হাত দুটি মুষ্টি বদ্ধ। যেন শ্যামাকে পেলেই এখনি ভস্ম করে দেয় তার রাগের দহনে। কেন শুনে না শ্যামা তার কথা? ১২ বছর আগেও এই মেয়েটি ছিলো উড়নচণ্ডী। আর এখনো? তখনও মেয়েটি তার এক ফোঁটা কাথার দাম দেয়নি, আর আজ-ও না। কেন?

———

এদিকে আধঘন্টার মাঝে পৌছে গেলাম আমরা বোড ক্লাব। গায়ে জড়িয়ে নিলাম ওয়েটার ড্রেস কোড।এক বুক সাহস নিয়ে পা বাড়ালাম সামনে। কিন্তু কে জানতো? আমার জন্য অজানা এক বিপদ অপেক্ষা করছিলো…..
#আঁধারিয়া_অম্বর
#সুরাইয়া_সাত্তার_ঊর্মি
৫।

এদিকে আধঘন্টার মাঝে পৌছে গেলাম আমরা বোড ক্লাব। গায়ে জড়িয়ে নিলাম ওয়েটার ড্রেস কোড।এক বুক সাহস নিয়ে পা বাড়ালাম সামনে। কিন্তু কে জানতো? আমার জন্য অজানা এক বিপদ অপেক্ষা করছিলো…..

লাল-নীল নিয়ন আলোয় বোর্ড ক্লাবকে এক লাস্যময়ী রমণী সাথে তুলনা করতে ইচ্ছে করছে আমার। চারিদিকে নানান বয়সী নারী,পুরুষ, বড় বড় সেলিব্রিটি, রাজনীতিবীদ, শিল্পপতীতে ভরপুর। কেউ ডান্স করছে, কেউ পাশের সোফা সেট দখল করেছে, আবার কেউ ড্রিংকিং সাইডে বসে তাদের জুটি নিয়ে। এক পলক চোখ বুলিয়ে নিলাম আমি, পার্টি মাত্রই যেন শুরু। পার্টির মধ্যবিন্দু এখনো আসেনি মনে হচ্ছে। আমি আরেকবার চোখ বুলালাম। তখনি জাহিদ কানে কানে বলল,

“কাজে লেগে পর দোস্ত!”

আমি মাথা নাড়ালাম। দুজন দুদিকে চলে গেলাম। এখানে অবশ্যি মাস্ক ছাড়া কেউ নেই।এটি একটি মাস্ক পার্টি কিনা। সকলেই নিজেদের সুন্দর সুন্দর ড্রেসের সাথে মিলিয়ে মাস্ক পড়ে এসেছে। আমি আর জায়েদ ট্রে হাতে দু’দিকে চলে গেলাম। মাঝে মাঝে সার্ভ করে চলছি ওয়াইনের গ্লাস। কেউ কেউ অন্ধকার সাইডে বসে মেতে আছে ড্রাগসের নেশায়। আমি একটু সেই সাইডে গেলাম। লুকনো ক্যমারা দিয়ে ফটফট তুলে নিলাম ছবি। এর মাঝে একটি জনপ্রিয় মুখ দেখা মিললো। চলচ্চিত্রের নতুন মুখ চৈতী বসে আছে এক সাইডে, হাতে সিগারেট। বড় বড় ধোঁয়া ছেড়ে তার বয়সি কিছু বন্ধুদের সাথে বসে আছে। এমন একটি পার্টিতে চৈতীকে দেখে অবাকই হলাম। সদ্য শেষ হওয়া লাক্স সুপার স্টার চৈতী। এমন এক জায়গায় তাকে বড্ড বেমানানই লাগছে। আমি তার-ও কিছু ছবি কালেক্ট করে নিলাম। এবাং সেখান থেকে ছুমন্তর হবো, তার আগেই চিকন গলায় খেঁকিয়ে ডাকলো কেউ। ভয় আধমরা আমি, মেয়েটি কিছু বুঝতে পারেনি তো?? আমি পিছনে ভয়ে ভয়ে তাকাতেই লাস্যময়ী কন্ঠে বলল,

“এই মেয়ে যাচ্ছিস কোথায়, ড্রিংসকে সার্ভ করবে শুনি? তোর বাপ?”

আমি অবাক। টিভির পর্দার মানুষ গুলোর বহু রূপ দেখে। টিভিতে.. বরাবরই চর্চা চলে চৈতী একজন গুনী মানুষ,সভ্য বিনম্র। সবাই তাকে দেবীই বলে মনে করে। এই তো গত দুদিন আগেই, তাদের নিউজ এজেন্সি থেকে ছাপানো হলো ফর্ন্ট পেইজে চৈতীর গুনোগান। গরীব দুঃখী মানুষদের নিয়ে তার কত প্ল্যান ব্লা ব্লা। অথচ রাতের আধারের মতোই ভিতরটা কতটা নোংরা এদের স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। একজন সামান্য ওয়েটারের সাথে কি রূপ ব্যবহার। বাপ পর্যন্ত চলে গেলো? একটা চাপা রাগ আমার গায়ে ভর করছে। তবুও গিলে নিলাম এবং মিষ্টি করে হেসে বললাম,

“মেম! যা বলার আমাকেই বলুন, কাজ যেহেতু আমি করছি, কেন শুধু শুধু বাপকে টানছেন! আমি এখুনি সার্ভ করে দিচ্ছি।”

কথাটুকু বলেই একপলক তাকালাম তাদের দিকে। চৈতী রাগে কটমট করে চলছে। আমি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কিছুটা ঝুঁকে টেবিলের উপর গ্লাস গুলো রাখছিলাম। ঠিক তখনি এখটি অর্থনগ্ন পায়ে জড়ানো সুন্দর ব্ল্যাক হিল জুতো আমার হাতে উপর চেপে ধরলো।আমি চকিতে তাকালাম ব্যক্তিটির দিকে। সে আর কেউ না, মি. চৈতী । এদিকে হাতের ব্যথায় আমার কলিজায় গিয়ে লাগছিলো। আমি হাতটা সরিয়ে ফেলার ট্রাই করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি। যতবার ট্রাই করছি আরো জোরে চাপ অনুভব করছি। আমি ব্যথাতুর কন্ঠে বললাম,

“মেম কি করছেন? ছাড়ুন, আমার হাত ছাড়ুন!”

চৈতি যেন কানে শিশা ঢুকিয়ে আছে। আরো জোরে চাপ প্রয়োগ করতেই একটা আত্ম চিৎকার বেড়িয়ে এলো মুখ থেকে। তখনি চিবিয়ে চিবিয়ে বলল চৈতি,

“আমাকে চিনিস তুই? আমার সাথে তর্ক করতে আসছিস যে? ”

আমি তার কথা কিছুই বুঝতে পারলাম না। এদিকে হিলের চিকন জায়গাটা ক্ষত করে দিচ্ছে আমার হাত। আমি চাইলে এখন এই মুহূর্তে এর জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু এখন একটা মিশনে আছি বলে গিলে নিলাম। নত কন্ঠে বললাম,

“মেম, আমার ভুল হয়েছে, আমি ক্ষমা চাইছি!”

তাতেও যেন মন ভরলো না চৈতীর পা নামিয়ে নিয়ে এক বোতল ওয়াইন ঢেলে দিলো সবার সামনে আমার শরীরে।এবং হাসতে লাগলো সবাই। ঠিক তখনি আমাদের ঘিরে একটা জটলা বেঁধে গেলো। এর মাঝে মেনেজার এসে বলল,

“কি হয়েছে মেম? এনি প্রবলেম?”

চৈতী গলা উঁচিয়ে, আগুল তুলে শাসনের সুরে বলল,

“আপনার স্টাফরা কি আমাকে চিনে না? এত বড় সাহস হয় কিভাবে? আমার মুখের উপর তর্ক করার?”

মেনেজার নত মাথায় বলল,

“সরি মেম ভুল হয়েছে, ওরা নতুন তাই চিন্তে পারেনি আমি বুঝিয়ে দিবো!এক্সট্রিমলি সরি মেম।”

বলেই উনি সবাইকে পার্টি এনজয় করতে বলে চলে গেলেন। আমাকে জাহিদ এসে উঠালো। পাশের স্টাফ রুমে নিয়ে গিয়ে হাতে ব্যান্ডেজ করালো। ঠিক তখনি মেনেজার এসে দাঁড়ালো। কাঠ কাঠ গলায় বলল,

“মেয়ে তুমি আমার জায়গা পাওনি? লাগতে গেছো আর, কের গার্লফ্রেন্ডের সাথে?”

আমি আর জাহিদ দুজনেই মাথা তুলে তাকিয়ে এক সাথে খানিকটা জোরেই বললাম,

“আর. কে?”

মেনেজার খানিকটা ভয়ে পেয়ে গেলেন যেন। বললেন,

“ভুত দেখার মতো চমকাইতেছো কেন?তোমরা নতুন তাই জানো না!, নেক্সট এর থেকে দূরে থাকবা!”

আমরা দুজনেই মাথা নাড়লাম। মেনেজার স্থান ত্যাগ করতেই খুশিতে আবারো এক সাথে বলে উঠলাম আমি আর জায়েদ,

“আর. কে এর গফ!”

জাহিদ বলল,

“মামা পাখি খাঁচায় ধরা পড়লো!”

আমি মাথা হ্যাঁ বোধক নাড়ালাম। হেসে বললাম,

“মামা কাজে লেগে পড়ি কি বলো?”

জাহিদ ঘন ঘন মাথা নেড়ে বলল,

“তাতো অবশ্যই কিন্তু হে যাওয়ার আগে দুই বোতল মাইরা দিমু!”

আমিও হেসে বললাম,

“তা আবার বলতে?”

এর পর দুজনেই দুজনের কাজে লেগে পড়লাম। আমি ঘুরে ফিরে চৈতীকে ফোলো করতে লাগলাম। ঠিক তখনি সরগরম শুরু হলো। আমি সেদিকে দেখতে একটি পরিচিত মুখ ভেসে উঠলো। চোখ আমার ছানাবড়া। এযে আর কেউ না, মি. ইজহান। আমি শুকনো ঢুক গিললাম। খুলে রাখা মাস্ক আবার পড়ে নিলাম। উনি এখানে কি করছেন? বুঝতে পারছি না। এমন এক জায়গায় আসার মানেটা কি? আমি আড়ালে চলে গেলাম। দূর থেকে দেখতে পারছি সকলেই ঘিরে আছে তাকে। তখনি কেউ একজন বড়গলায় বলল,

“ওয়েলকাম মিঃ ইজহান, আমরা তো ভেবেছি চলচ্চিত্রের জগত ছাড়ার সাথে সাথে আপনিও অদৃশ্য হয়ে যাবেন? যাক এসেছেন বড্ড খুশি হলাম। ”

বলে লোকটি জড়িয়ে ধরলো মি. ইজহানকে। মি. ইজহানের মুখে তখন অদ্ভুত রকমের হাসি। বললেন,

“আপনি ইনভাইট করলেন, আর আমি না এসে পারি?”

লোকটি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। বললো,

“চলুন বসা যাক?”

দুজনেই দূরের সোফা সেটে বসে পড়লো। আমি সেদিকে লক্ষ করে আবারো মন দিলাম চৈতির দিকে! একি চৈতী উধাও! ঠিক তখনি চোখ গেলো লিফটের দিকে। স্বচ্ছ কাজের ওপারে থাকা রমনী উপরে উঠে যাচ্ছে। আমি দৈড়ি করলাম না। পিছু নিলাম তার। এবং উঠে গেলাম ১৩ তলায়। চৈতী একটি রুমে এসে ঢুকে গেলো নক না করেই। আমিও আশেপাশে দেখে নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলাম। কিন্তু ভিতরটা ভিষণ অন্ধকার। কিন্তু দুটি কণ্ঠস্বর ভেসে আসতেই আমি থমকে গেলাম। একটা পূর্ব পরিচিত কন্ঠ। ধক করে উঠলো বুকের ভিতরটা। কন্ঠের মালিককে দেখার অদম্য ইচ্ছে গিলে ফেলতে না পেরে সেদিকে চলে গেলাম। ঠিক দুটো রুম পরেই পেয়ে গেলাম কাঙ্ক্ষিত মানুষদের। আমি কাছাকাছি যেতেই চমকে গেলাম। একটি লোকের কোলের উপর বসে আছে চৈতী। গালের উপর কিস করছে ছোট ছোট। আদুরে কন্ঠে বলে উঠলো তখন,

” রিদ, আমরা বিয়ে কবে করবো বলো তো?”

তখনি উত্তর দিলো রিদ,

“খুব জলদি জানেমান!”

লোকটির ফেইস দেখা যাচ্ছে না এখনো। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, এ আওয়াজ, এই কন্ঠ আমার চেনা। কন্ঠটি শোনে বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। এই কি সেই ব্যক্তি? যার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো? আমি ভাবতেই গায়ের ভিতর ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো। গরমের মাঝেও ঠান্ডা অনুভব করলাম। ক্যামেরা হাতে কাঁপা পায়ে এগিয়ে গেলাম আমি। খোপ খোপ একটি সেলফের আড়ালে দাঁড়িয়ে খোপের মাঝ দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম লোকটির মুখ। ঠিক সেই মুহূর্তেই লোকটি তাকালো এদিকে।লম্বাটে মুখ, ছিমছাম গড়নের সুন্দর যুবক। দেখেই আমার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো। এতবছর পর আমার প্রক্তান আমার সামনে। যাকে… যাকে কিনা এতো খুঁজেছি? অথচ এই ব্যক্তিটি মাফিয়া গ্রুপের লিডার? আমার গলা শুকিয়ে এলো। সাত দরিয়ার পানি খেলেও যেনো আমার তৃষ্ণা মিটবে না। তখনি আমার মনে হলো এখানে আমার আসার কারণ। রিদোয়ান খানের ছবি তুলে নিলাম। তখনি করে ফেললাম সব থেকে বড় ভুল। ক্যামেরার ফ্ল্যাস বন্ধ করতে ভুলে গেছিলাম আমি। যার জন্য ছবি তুলতেই তা জ্বলজ্বল করে উঠলো। চকিতে দুজনেই তাকালো আমার দিক। চোখাচোখি হলো খোপের এপার- ওপাড় থাকা দুজন ব্যক্তির নয়ন। অবাদ দৃষ্টিতে রিদ তাকিয়ে আছে অশ্রুসিক্ত চোখ দুটোতে। রিদের বুকের মাঝে কেমন অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করলো। সে “কে ওখানে” বলে উঠে আসার আগেই আমি দৌঁড় লাগালাম বাহিরের দিকে। কান্না আর আটকাতে পারলাম না। ঝড়ে পড়তে লাগলো ঝর্ণার মতো। আমার শরীর ভেঙে আসচ্ছিলো। শরীরে ভার ছেঁড়ে দিয়েছিলাম প্রায়। পিছন থেকে ভেসে আছে কিছু লোকের কন্ঠ। দৌড়িয়ে আসচ্ছে আমার দিকে। আমি প্রাণপন ছুটতে চেষ্টা করেও পারছি না। মনে হচ্ছে যে কোনো সময় লুটিয়ে পড়বো মাটিতে। ঠিক তখনি দুটো বলিষ্ঠ হাত আমাকে আগলে নিলো তার বুকের মাঝে এবং বেড়িয়ে এলো বোর্ড ক্লাব থেকে। এবং গাড়ি ভিতর ঢুকিয়ে স্টার্ট করলো এবং চলতে লাগলো। আমি তখনি জানি না, কে আমাকে বাঁচালো, কে নিয়ে যাচ্ছে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু হুহু করে কাঁদছি। স্কুলের দিন গুলো মনে পড়ছে চোখের সামনে। মনে পড়ছে, আমার প্রথম প্রেমের কথা। মুখ চেপে কেঁদেই যাচ্ছি। কিছুক্ষণ সেভাবেই কাঁদার পর বুঝতে পারছি আবারো সেই বলিষ্ঠ হাত আমাকে স্পর্শ করছে। তার শরীরের পুরুষালী গন্ধে ভরে গেছে গাড়ির ভিতরটি। এই নরম স্পর্শে আমি হুঁশে ফিরলাম। চমকে তাকালাম পাশে। চোখে কঁপালে উঠে গেলো আমার। আমার পাশে আর কেউ না মি. ইজহান। স্থীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আমি কিছুক্ষণ কিছুই বলতে পারলাম না। গম্ভীর দাম্ভিকপূর্ণ মুখটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। মি. ইজহান আমার দিকে একটি রুমাল এগিয়ে দিলেন। ঠান্ডা গম্ভীর কন্ঠে বললেন,

” আমাকে দেখা শেষ হলে, চোখ, মুখ মুছে ফেলো। এত ন্যাকামো আমার পছন্দ না! কি এমন হয়েছে? যে এভাবে কেঁদে যাচ্ছো? ”

আমি ধাক্কার মতো খেলাম কিছুটা লোকের কথায়। চোখ-মুখ মুছে, ছোট শ্বাস ফেলে বললাম,

“কিছু না!”

মি. ইজহান আর কিছু বললেন না। জানালা দিয়ে গভীর রাতের শহরটিকে দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। বরাবরের মতো ভাবলেশহীন তার মুখ। মাঝে মাঝে এই লোকটির অভিব্যক্তি বড্ড বুঝতে কষ্ট হয়। স্কুলের দিনের একটি কথা আবারো মাথায় নাড়াদিলো। তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। আর তারা এসএসসি পরীক্ষার্থী। তখন মি. ইজহান ছিলো বড্ড অন্যরকম। অগোছালো, তবে তার অভিব্যক্তি ছিলো এখনের মতোই, ঠান্ডা, গম্ভীর, চুপচাপ। তারউপর উনি ছিলেন খুব ভাল ছাত্র। ক্লাসের প্রতিটি স্যারের মুখে শোনা যেতো তার গুনগান। কিন্তু ছেলেটি বড্ড অদ্ভুত ছিলো। সব সময় মাথা ছিলে রাখতো। এমন কম কেউই ছিলো তার মাথায় চুল দেখেছে। এতে তাকে প্রশ্ন করলে, তার ঠান্ডা গলায় বললতো,

“চুল ছাড়া বুজি কেউ আমাকে চিনবে না?আর যদি.. আমার চুলে এত সমস্যা হয়, তাহলে দূরে থাকুন। এতে আমার কোনো কিছু যাবে আসবে না!”

সবাই তখন চুপ। কিন্তু বাবার বন্ধু হওয়ায় অনেক বার তাদের বাড়িতে গিয়েছি। এবং তাকে রাগাবার জন্য সবসময় বললতাম,

“আদিল মাথা টিং টিং!”

আর উনি ক্ষেপে কড়মড় করে চাইতেন। একদিন তো স্কুলের মাঝে মাঠ ভর্তি মানুষের সামনে থাপ্পড়ই মেরেছিলেন উনি। আমার গাল কালসিটে দাগ পড়ে গেছিলো পাঁচ আঙ্গুলের। এর পর থেকে এই লোকটিকে দেখলেই এড়িয়ে চলতাম, যদিও তাতে তার কিছু যায় আসিনি। অথচ সেই ছেলেটি কিনা ১০ বছর যাবত রাজ করে গেছে চলচ্চিত্রের জগতে। এখন রাজনৈতিক কাজে হাত লাগিয়েছে। আর এর জন্যই নাকি মেয়েদের মরি মরি ভাব। আমার আবারো ছোট বেলায় বলা সেই কথাটুকু আওড়াতে ইচ্ছে করলো। ঠোঁট নাড়িয়ে ফিসফিস করে আওড়াতে ফিক করে হেসে দিলাম।তখনি পাশ থেকে ভ্রু কুঁচকে শীতল কন্ঠে বলে উঠলো,

“তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? এই হাসছো? এই কাঁদছো? সমস্যাটা ঠিক কোথায়?”

আমি চুপ করে গেলাম। মুখ ঘুরিয়ে মুখ টিপে হেসে বললাম,

“আদিল মাথা টিং টিং?”

ঠিক তখনি সচকিতে তাকালো মি. ইজহান। বিস্মিত হয়ে বলল,

” কি বললে?”

আমি তখন খানিকটা ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ তার বলার ধরণটাই এমন, এই খানেই দাঁড়া আমি চাবুক মারবো টাইপ। আমি হাসার চেষ্টা করে বললাম,

“ক…কই। কিছু না তো?”

মি. ইজহান অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। যেন পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য জিনিস।

————–

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকে যাচ্ছে মিঃ ইজহান। শরীর এলিয়ে আছো ডিভানে। তখনি খট করে শব্দ হলো। মি. ইজহান দেখতে পেলো সদ্য গোসল করে বেড়িয়ে আসা শ্যামার দিকে। সুন্দর ঘন চুল গুলো পেচিয়ে আছে তয়লায়। লতানো শরীরের বাঁক বোঝা যাচ্ছে ভিজে যাওয়া জামার জন্য। বুকের ক্লিভেজটাও বুঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে উপর ওয়ালা মেয়েটিকে খুব সময় নিয়েই বানিয়েছে। মি. ইজহানের যেন নেশা চড়লো মাথায়। শ্যামাকে কাছে টানার নেশা, বেশি ভালোবাসার নেশা, কাছে বসিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিতে তাকে দেখার নেশা। মি. ইজহান বুঝতে পারছে, এসময় তার বড্ড পিপাসা পাচ্ছে। মরুভূমির মাঝে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পিপাসা পাওয়ার যেমন ছটফট করে ঠিক তেমন ছটফট করছে সে। তার এ মুহূর্তে শ্যামাকে চাই।ঠিক যেন শরীরের মাঝে ক্ষিপ্ত এক শয়তান জেগে উঠছে। এমনটি হতো সেই বার বছর আগে, যখন মেয়েটি ছোট ছোট হাত পা ফেরে ছুটোছুটি করতো। তখন মি. ইজহানের মনে হতো, এই মেয়েটির গুলুমুলু গাল টেনে আদর করে দিতে। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? সে পাড়তো না চাইলেও। বড্ড চাপা স্বভাবের সে। মুখ ফুঁটে কখনো কিছু বলতে পারতো না সে। মি. ইজহান তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া বুঁজে নিলো। মন মস্তিষ্কের সাথে লড়াই করতে না পেরে এগিয়ে গেলো। শ্যামা তখন শুয়ে পড়েছে। শ্যামার ঘুমন্ত মুখটি দেখে মি. ইজহানের মনে জেগে উঠা শয়তান ধপ করেই নিভে গেলো। শ্যামার মুখোমুখি বসে পড়লো মাটিতে। স্থীর শীতল চাহনি দিয়ে তাকিয়ে রইলো। কেঁটে যেতে লাগলো, সময়,সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা। ভোরে মিষ্টি আলো ফুটে উঠেছে। মিষ্টি রোদ যখন পড়ছে শ্যামার মুখের উপর, তখনি তৃপ্তির হাসি ফুঁটে উঠে মি. ইজহানের ঠোঁটে, কতটা মায়া এই চেহারায়। কিন্তু পরক্ষণেই গম্ভীর হয়ে উঠে বেড়িয়ে গেলো ঘর থেকে….।

—————

পরেরদিন সকালে নিউজ এজেন্সির জন্য বের হয়ে গেলাম। এবং জাহিদ আর আমি মিলে রিদের ছবি পোষ্ট করে দিলাম এবং খবরের কাগজে ফ্রন্ট পেইজে ছাপা হলো মাফিয়াদের লিডার মি. রিদয়োন খান। আমরা দুজনেই তখন শান্তির নিশ্বাস ছাড়লাম। তখনি হন্তদন্ত হয়ে আমাদের কেবিনে ঢুকলো শান্তনু। হাসি হাসি মুখে বলল,

“তোমরা জানো না তোমরা কত বড় কাজ করেছো! পুলিশ কালকের পার্টি থেকে ১৯ জন মেয়েটে উধার করেছে। এবং ধরা পরেছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী৷ এবং তারা মামলাও খেয়েছে!”

গম্ভীর কন্ঠে আবার বললেন,

“এতে তোমাদের জানের রিস্ক আছে। ”

আমি আর জাহিদ চোখাচোখি করলাম। কাছু বুঝলাম না। আমরা তো পুলিশ খবর দেই নি। তাহলে? তাহলে কিভাবে কি হলো??

এসব ভাবার মাঝেই ফোনের রিং বেজে উঠলো। ফোনের উপর ভেসে উঠলো, “মি হাসবেন্ড ” নামটি। কিন্তু উনি হঠাৎ কল কেন করলেন? বিঝতে পারছি না। তখনি মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ স্ব তেজ হলো। কালকের পানিশমেন্ট দেয়ার জন্য নয়তো? আমি ভয়ে ভয়ে রিসিভ করতেই, ওপাশ থেকে শোনা গেলো মি ইজহানের ঠান্ডা, শীতল কন্ঠ…

চলবে,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here