আনন্দধারা বহিছে ভুবনে পর্ব অন্তিম

1
124

#আনন্দধারা_বহিছে_ভুবনে (শেষ পর্ব)
নুসরাত জাহান লিজা

“যে আমার বুক খালি করসে, তার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবি। উকিলের সাথে কথা বল।”

জুনায়েদের বাবা ফোনে কথা বলা শেষ করে স্ত্রীর দিকে তাকালেন। পুত্রশোকে তিনি বেশ কয়েকবার মূর্ছা গিয়েছিলেন। দু’দিনে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়েছেন। তিনি ছেলের বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তোমার অতিরিক্ত আস্কারা পায়ে ছেলেটা আমার বিগড়াই গেছিল। যখন যা চাইসে তাই দিছো। ওর মধ্যে ঢুকায়ে দিছো নিজের যেইটা পছন্দ হয় সেটা কাইড়াও নেওয়া যায়৷ যখন এলাকায় গণ্ডগোল করে আসছে, তুমি বলছো এখন থেকেই মাইনসের মনে ভয় ঢুকাইতাসে এইটা ভালো। এই না হইলে ব্যাটা ছেলে। তখন যদি আস্কারা না দিয়ে ওরে বাঁধা দিতা, একটু হইলেও শাসন করতা তাইলে আজ আমার বাবু আমার কোলে থাকত। আমি শাসন করলে তোমরা বাপ-ছেলে মিলে আমার সাথে খিটমিট করতা। আমি তোমার জন্য আমার বাবুরে হারাইলাম।” গলা ছেড়ে কাঁদার ফাঁকে ফাঁকে তিনি কথাগুলো বললেন।

জুনায়েদের বাবা গাম্ভীর্য ধরে রেখেছেন। তিনিও বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারছেন। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তাই বলে ছেলেকে যে খুন করেছে তাকে ছেড়ে দেবেন এমন উদার মানুষ তিনি নন। তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন ছেলের হত্যাকারীকে তিনি বাঁচতে দেবেন না। কিন্তু তিনি ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে চান, আর যেহেতু অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আছে, তাই আইনের মাধ্যমেই তিনি সেটা করতে পারবেন। ফোন করে উপর মহলের কিছু লোকের সাথে কথা বলতে লাগলেন। কার কলিজায় হাত দিয়েছে তা বুঝতে হবে তো!

***
অয়নের সময়টা সেলের মধ্যে কাটছে। অনুভূতিগুলো বড্ড বেশি ভোঁতা হয়ে গেছে। আজকাল আর কোনোকিছুই যেন ওকে ছুঁতে পারে না। কোর্টে নিয়ে যায়, জিজ্ঞাসাবাদ চলে, পিস্তল কোথায় পেয়েছে, এটা সেটা নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। সে খুনের পাশাপাশি অন্যকিছুতে জড়িত আছে কিনা সেসব নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে সে মহিউদ্দিনের নাম বলেনি। কী দরকার অন্যকে ফাঁসিয়ে!

অয়ন জুনায়েদকে কখনো পছন্দ করেনি, রাগ, ঘৃণা সবই ছিল। তবুও ওর হাতে একজন মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেছে এই ভাবনাটাই ওকে তাড়িত করছে প্রতিনিয়ত। ঘুমের মধ্যে ছ্যাঁত করে চমকে উঠে ঘুম ভেঙে যায়, জুনায়েদের মৃত্যুযন্ত্রণাকাতর মুখটা ওকে ঘুমাতে দেয় না, যেন বলতে চায় “তুই আমারে বাঁচতে দিলি না অয়ন।”

অয়ন সেদিন নিরুপায় ছিল, তবুও খুন তো করতে চায়নি। হাতে লাগাতে চেয়েছিল, অভাগা মানুষের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ে না বলেই হয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একেবারে বুকে গিয়ে লেগেছে গুলিটা। খানিক বাদে ভিজিটর এসেছে বলে নিয়ে যাওয়া হলো। সে গিয়ে বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।

তিনি বিশেষ অনুমতি নিয়ে এসেছেন বোধহয়। নইলে আলাদা করে দেখা করা সম্ভব ছিল না। এই অনুমতি ম্যানেজ করতে তাকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। অয়ন কীভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারল না।

“আমার উপরে তোর অনেক অভিমান, তাই না বাবা?”

অয়নের চোখ ভরে এলো। গলায় কথারা আটকে গেছে৷ অনভ্যস্ত গলার স্নেহের সুরে সে কিছুতেই সহজ হতে পারছে না। দূরত্ব বাড়তে বাড়তে সম্পর্কে মরীচা পড়ে গেছে। শান দিতে বহুসময় লেগে যাবে, এত সময় হয়তো অয়নের কাছে নেই। মুক্ত পৃথিবীর আলো-বাতাস হয়তো আর কখনো দেখা হবে না, হয়তো বেশিদিন শ্বাসই টানতে পারবে না আর! সময়টা যে একেবারে সীমিত।

“কথা বলবি না আমার সাথে?”

অয়নের ভেতর থেকে কিছু একটা ওকে প্রবল ধাক্কা দিল যেন। এমন একটা মুহূর্তের জন্য সেই কৈশোর থেকেই কতটা বুভুক্ষু হয়ে থেকেছে। চাতকের মতো প্রতীক্ষায় থেকেছে কোনোদিন এমন একটা মুহূর্ত আসবে। কিন্তু কখনোই আসেনি, সেই সময়টা এলো যখন সে কিনা জীবনের একেবারে অপরাহ্নে দাঁড়িয়ে আছে হয়তো।

“বাবা…”

অস্ফুটস্বরে কোনোমতে বলল অয়ন, কতকাল পরে। সেই বহুকাল আগের বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া ডাকটা উচ্চারিত হবার সাথে সাথেই তৃষ্ণার্ত মনজুড়ে অসম্ভব একটা প্রশান্তি এসে ভর করল। কী অপার্থিব সুখ!

“কতদিন পরে ডাকলি আমারে।”

এরপর বাবা ওকে জড়িয়ে ধরলেন, কেউই ভেতর থেকে উথলে আসা আবেগটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। হুহু কান্নায় ভেঙে পড়ল এক হিমালয় দূরের দুজন সবচাইতে কাছের মানুষ। স্তব্ধ সময়টাকে হৃদয়ে চিরতরে বন্দী করে নিল দু’জনেই।

“আমার জন্য তোর জীবনটা শেষ হয়ে গেল। তুই কোনটা চাস, তোর কী ভালো লাগে সেটা যদি একটু গুরুত্ব দিয়ে ভাবতাম, আজ হয়তো তুই বাজে সঙ্গে পড়ে নিজের জীবনটা ধ্বংস করতি না।” আলিঙ্গন থেকে মুক্ত করে আনোয়ার সাহেব ভেজা গলায় বললেন।

“নিজেকে দোষ দিও না বাবা। আমার ভাগ্যে এমনটাই লেখা ছিল। ইঁদুর কপাল নিয়ে জন্মেছিলাম বোধহয়।”

“আমাকে মাফ করতে পারবি অয়ন? আমি তোকে কোনোদিন বুঝতে পারিনি। সারা জীবন নিজের ইচ্ছেটাই তোর উপরে চাপিয়ে দিয়েছি। গালমন্দ করেছি, গায়ে হাত তুলেছি। এটা ভুলে গিয়েছিলাম যে জোর করে চাপিয়ে দিয়ে কখনো কিছুতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না।”

সবসময়ের বজ্রকঠিন হৃদয়ের বাবাকে এতটা ভেঙে পড়তে দেখে অয়নের এতদিনের মনে জমানো অভিমানের বরফ গলতে শুরু করেছে। বাবার কষ্ট, অনুশোচনা ওকেও পুড়িয়ে দিচ্ছে।

“বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু কোনোদিন তোর খারাপ চাইনি। আমি জীবনে যা করতে চেয়েছি সেটা করতে পারিনি। মনে হইছিল আমাকে যদি কেউ ঠিকঠাক গাইড করত, সঠিক রাস্তা দেখাত তাইলে বোধহয় অনেক সফল হতে পারতাম। তুই বড় হতে থাকলি, আমার কলিগের ছেলেমেয়েদের ভালো রেজাল্টের বিপরীতে তোর গল্পের বই পড়া, খেলার প্রতি টান সব মিলিয়ে আমি চাইনি আমার মতো তুই নিতান্তই সাদামাটা একটা জীবন কাটা। নিজের না পাওয়া আকাঙ্খা তোকে দিয়ে পূরণ করতে চেয়েছিলাম। সেটা হয়তো তোকে বুঝিয়ে, অল্পস্বল্প শাসন করে বোঝাতে পারতাম। কিন্তু আমি এতটা কঠোর হয়ে তোর শুধু ক্ষতিই করছি।”

অয়ন বাবার হাত দুটো চেপে ধরল, আকুলতা মিশিয়ে বলল, “তোমার চাওয়ায় কোনো অন্যায় নেই বাবা। তুমি যে আমার ভালো ভেবেই বলছো সেটা আমি বুঝতে পারিনি। তোমার অতিরিক্ত কঠিন আচরণ তোমাকে কখন যে আমার সাব-কনশাস মাইন্ড প্রতিদ্বন্দ্বীর আসনে বসাইছে আমি বুঝতেই পারি নাই। ভুল তো আমারও আছে।”

“তুই আমারে সান্ত্বনা দিতে চাইতেছস, আমি জানি। আমার আরেকটু সহজ হওয়া দরকার ছিল। আমি দিনশেষে একজন ব্যর্থ বাবা।”

অয়ন ভালো করে বাবার দিকে তাকালো, ওর কিছু হয়ে গেলে এই মানুষটা আক্ষেপের উত্তাপে দগ্ধ হয়ে যাবে। আক্ষেপের দহন বড্ড কঠিন দহন।

“তোমার স্বপ্ন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে তোমাকে হারিয়ে দিতে চেয়েছি। আমি তখন এটা বুঝতে পারিনি, বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের কোনো হারজিতের সম্পর্ক হয় না। তারা তো মিলেমিশে একটাই হয়। অবিচ্ছেদ্য হয়।”

বাবা অয়নের মাথায় হাত রেখে, মুখ হাতড়ে হাতড়ে দেখতে থাকলেন, চোখ ভরে নিজের ছেলেকে দেখছেন।

“তুই যেদিন হইলি, এই যে এতটুকু, ছোট্ট একটা বাবু। চিৎকার করে কাঁদতেছিলি। আমি কোলে নিতেই এক মুহূর্তের জন্য থামলি, এরপর আবার সে কী কান্না! আমি তোরে দেখতেছিলাম অবাক হয়ে। এত সুন্দর অপার্থিব অনুভূতি! তোরে আগলাইয়া রাখতাম সবসময়। যারে এত ভালোবাসলাম তার উপরে আমি নিষ্ঠুরের মতো কেমনে হাত তুললাম? আমি একটা জঘন্য বাবা।”

“পৃথিবীর কোনো বাবা জঘন্য হয় না। তোমার প্রতি আমার আর কোনো রাগ নাই। আমার একটা স্বপ্ন ছিল, একদিন সত্যি সত্যি যেন তোমার বুকে কিছু সময়ের জন্য মাথা রাখতে পারি, তুমি ভালোবেসে আমাকে বুকে টেনে নাও। আজ এই যে তুমি আমার জন্য তোমার লুকিয়ে রাখা স্নেহটুকু প্রকাশ করলে এর বেশি আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। আমার জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা নেই।”

“আমি তোর প্রতি কঠিন হইসিলাম তোরে মানুষের মতো মানুষ করার জন্য। আমি মনে করছিলাম বিদ্যায়, পেশায় যে যত উপরে সে তত বড় মানুষ। তুই সেইখানে কোনোমতে উতরে গেলেও কবে যে সত্যিকারের মানুষ হয়ে গেলি সেইটা আমি বুঝতেই পারলাম না।”

“আমি জেদ আর অভিমানে অমানুষ হয়ে গেছিলাম বাবা। একটা মানুষ খুন করসি এই হাত দিয়ে।”

“সেটা একটা এক্সিডেন্ট। সেইটার গ্লানি তোরে ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিতেছে আমি জানি। যে নিজের জীবনের পরোয়া না করে, বুক চিতিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে, অন্যের জন্য অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে সে কোনোদিন অমানুষ হতে পারে না৷ সে সত্যিকারের মানুষ।”

অয়ন মনে মনে আওড়াল, “আমি তো অন্যের জন্য কিছু করি নাই, বাবা। অন্তির কিছু হলে তো আমি এমনিতেই মরে যেতাম। নিজের আত্মাকে, অভিন্ন সত্তাকে বাঁচাতে তো মানুষ কতকিছুই করে। আমি এটুকুই করেছি।”

“তোর সামনে কী করে এসে দাঁড়াব তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না। নিজেকে এত তুচ্ছ, আর ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল, ভেতরে ভেতরে মরে গেছি।” তিনি বলতে বলতে চোখ নামিয়ে নিলেন।

“বাবা, আমার স্বপ্নটা পূরণ করবে না শেষবার?”

বাবা চমকে চাইলেন ছেলের চোখের দিকে, সেখানে সব হারিয়ে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচতে চাওয়ার একটা আকুতি। ছেলের শেষ আবদারে তার সিংহহৃদয় আজ কেঁপে উঠল। তিনি নিজেকে সামলে নিতে পারলেন না। ছেলেকে নিজের সমস্ত ভালোবাসা ঢেলে বুকে টেনে নিলেন। যেন বহুকালের ভালোবাসার দেনা-পাওনা আজ শোধ করবেন। অপার্থিব স্নেহের সবটুকু ছেলের শূন্য, অতৃপ্ত হৃদয়টাতে সেঁধিয়ে দিতে চাইলেন যেন। নিজে নতুন করে পিতৃত্বের টান অনুভব করলেন সেই প্রথম দিনের মতো, যেদিন ছেলে পা ফেলেছিল এই ধরায়, ছেলেরই শেষবেলায় এসে!

বাবার বুকের সাথে মিশে গিয়ে অয়ন যেন একেবারে শৈশবে ফিরে গেল। যখন জীবনকে বুঝতে শেখেনি তখন কতই না পূর্ণ ছিল জীবনটা। শৈশব জীবনে কেন আর ফিরে আসে না! সব ভুল শুধরে নিয়ে জীবনটা নতুন করে শুরু করার জন্য যদি একটাবার সুযোগ পাওয়া যেত, তবে কতই না ভালো হতো! কিন্তু সে তো আর হবার নয়! সময়ে সব মিটিয়ে না নেবার আক্ষেপে পোড়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

তবে অয়নের আজ নিজেকে অতৃপ্ত মনে হচ্ছে না, যার ভালোবাসা পাওয়া অয়নের জীবনের সবচাইতে বড় হাহাকার ছিল, তিনি আজ তার সমস্তটা দিয়ে অয়নকে পূর্ণ করে দিয়েছেন।

কিছুদিন আগে মা আর ছোটচাচীর সাথে আদালত চত্বরে কথা হয়েছে অল্প সময়ের জন্য। মায়ের প্রতি রাগ ছিল, বাবার মার খেয়ে কত রাতে মনে হয়েছে মা এসে বুঝি ওকে আদর করে দেবেন, কিন্তু তিনি কখনো আসেননি। সকালে যদিও স্বাভাবিকভাবে অয়নের সামনে এসেছেন, কিন্তু রাতগুলোর কান্নাভেজা একাকিত্ব অয়ন ভুলতে পারে না। সেই অভিমান মিটিয়ে নিয়েছে। চোখের জলে সেই ক্ষতেও প্রলেপ পড়েছে৷ ছোটচাচী অয়নের উপরে কিছুটা ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছিলেন মনের আড়ালে, তার জন্যও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। যদিও নিজের মেয়ের ভালো চাওয়া অন্যায় নয়। তবুও কেন যেন তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন।

সে যাকে ভালোবাসে সেই অবন্তীও তো ওকে নিজের সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিল। বাবাও আলোকবর্ষ দূরত্ব মিটিয়ে এখন কেমন কাছের মানুষ, হৃদয়ের খুব কাছের। অয়নের মনে হতো ওর জীবনে স্বপ্নভঙ্গের টলমলে বেদনা থাকলেও এই পৃথিবীটা আনন্দধারায় পূর্ণ। সেখান থেকে এক ফোঁটা আনন্দ টুপ করে ওর জীবনে পতিত হয়ে জীবনটাকে আনন্দময় করে তুলবে। আজ সেই দিন, অনন্ত অন্তরীক্ষ থেকে আনন্দধারা আজ যেন বাধ ভেঙে ওকে রাঙিয়ে দিচ্ছে।

কে বলেছে সে অপূর্ণ, এই যে এত এত ভালোবাসা চারপাশে, তাতে ডুবে গিয়ে অপ্রাপ্তি কেমন মিলিয়ে যাচ্ছে। শুধু একটাই আক্ষেপ, বড় অবেলায় সব পেলো। এখন খুব লোভ হলো কেন যেন, দীর্ঘস্থায়ী একটা জীবনের লোভ! ভালোবাসা নানা রূপে, নানা ভাবে একসাথে অয়নের হৃদয়ের সব কূল ভাসিয়ে নিয়ে গেল। সবটুকু ভালোবাসা হৃদয়ে নিয়ে হারিয়ে যেতে হবে সেই অনন্ত গগণের ওপারে!

বেলা শেষের পূর্ণতাই বা কম কীসে! এক জীবনে এটুকুই বা কয়জন পায়! কারো কারো জীবন তো শূন্যই থেকে যায়, অসীন শূন্যতা নিয়ে শূন্যে হারিয়ে যায়। অয়নও তো ভেবেছিল সেই সুদূর ভীনদেশে পালিয়ে জীবন কাটাতে হবে। তাহলে তারও এক পৃথিবী শূন্যতা নিয়েই হারাতে হতো একসময়। এই বুঝি ভালো হলো, ভালোবাসার সবগুলো রঙ সে স্পর্শ করতে পারল।

অয়নের জীবনটা এতটাও বিষাদ ঘেরা নিরানন্দ নয়। এত অতৃপ্তির মাঝে এতটুকু তৃপ্তি নিয়ে চোখ বুজতে চায় চিরতরে। এটাই বুঝি অয়নের অমোঘ, অলঙ্ঘনীয় নিয়তি। অতৃপ্তি কেবল আনন্দধারায় ঝরে পরা অমৃতরসে আরও বেশি সময় ভেজার লোভ!

আনন্দ সঙ্গীতের তাল কেটে গেল একসময়, দেখা করার সময় শেষ। বাবা যাবার আগে দু’জন আরেকবার মিলেমিশে একাকার হলো, দু’জনের হৃদয়েই যে একইরকম হারানোর ব্যথা। বড্ড বুকে বাজলো।

***
অয়নের পরিবার আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কিছুদিন কেটে গেল ঘোরতর ব্যস্ততায় আর উৎকণ্ঠায়। উকিলের কাছে ছোটাছুটি, একে তাকে ধরে শলাপরামর্শ করা এসব নিয়েই চলল। মহিউদ্দিন নিজেও এতে শামিল হলো। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের বাইরে সবাই সাধারণত পাশটান দেয়, কিন্তু সে তা করল না। সাথে রনিও সঙ্গী হলো। কিন্তু জুনায়েদের বাবা প্রবল ক্ষমতাশালী লোক। তার যোগাযোগ উচ্চ মহলে এবং ছেলে যত শয়তানই হোক, যে কারণেই মারা যাক সেসব তার কাছে মুখ্য নয়। পুত্রশোকে লোকটা হিংস্র হয়ে গেছে, প্রতিহিংসায় জ্বলছে। তার সাথে পেরে উঠা সহজ নয়।

অয়নের স্বীকারোক্তি, কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য আর ক্ষমতার প্রভাবে অয়নের ফাঁসির রায় হয়ে গেল পাঁচ মাসের মাথায়। অয়নের অনিচ্ছা সত্বেও আপিল করা হলো, যদি প্রাণদণ্ড অন্তত থামানো যায়! বাবা, মা, চাচা, মহিউদ্দিন, রনি সবার সব চেষ্টা বৃথা করে দিয়ে পূর্ব ঘোষিত রায় বহাল রইল। ক্ষমতার প্রভাবের কাছে মনুষ্যত্ববোধ কিছুটা হলেও হেরে গেল। রায় ঘোষণার পরে অয়নের মুখাবয়বে কোনো অভিব্যক্তি ফুটল না। একেবারে নির্বিকার মুখে তাকিয়ে থাকল। সেদিন পরিবারের সকলের সাথে অবন্তী আর শাফিনও এসেছিল। সবার কান্নাভেজা দৃষ্টিতে সে কেবলই নিজের শূন্যতাকে আরেকটু পূর্ণ করল। ওর দৃষ্টিতে কারোর জন্য কোনো অভিমান নেই, অভিযোগ নেই। সব দায় থেকে সে সবাইকে মুক্তি দিয়ে যেন নিজে মুক্ত হলো। সবশেষে একটা তৃপ্তি উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠল মুখে।

এই বুঝি ভালো হলো। অয়ন সবসময় শুনতো যা কিছু হয় সব ভালোর জন্য হয়। এর কিছুটা সত্যতা খুঁজে পেল। এতসব অপূর্ণতা বুকে চেপে, হত্যার বোঝা মাথায় চেপে একটা কুঠুরিতে ধুঁকে ধুঁকে মরার চাইতে একেবারে মরে যাওয়া বোধহয় সহজ। আত্মহত্যা করা মহাপাপ, এমনিতেই একটা হত্যার দায় মাথায় চেপে আছে। পাপের বোঝা আর বাড়ানোর সাহস নেই। সৃষ্টিকর্তা যেখানে ওর এভাবে মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছে তাকে এড়ানোর সাধ্য তো কারোর নেই। নিজের ভাগ্য মেনে নিয়েছে আরও আগেই।

কন্ডেম সেলে বসে বসে মনে উথাল পাথাল তোলপাড় চলে, একবার যদি প্রিয় মানুষগুলোর সাথে অবেলায় পাওয়া ভালোবাসা লুফে নিয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস টানতে পারত! এখন এটুকুই ওর একমাত্র ব্যথা।

অবন্তী আর শাফিন দেখা করতে এসেছিল সেদিন। জেলগেটের এত লোকের এত দর্শনার্থীদের মধ্যে ঠিকঠাক কথাই বলা হলো না। গরাদের ওপাশ থেকে চোখ ভরে অবন্তীকে দেখল কেবল। অবন্তী অল্প কিছুক্ষণ তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল, শাফিন সময়ের শেষ পর্যন্ত থাকল। অয়ন শাফিনকে এটুকু বোঝাতে পারল, তার খুন্তিকে যেন আজীবন আগলে রাখে।

***
আনোয়ার সাহেব এখন বেশিরভাগ সময় অয়নের রুমেই কাটান। তিনি নিজের হাতে অয়নের যে স্বপ্নগুলো ভেঙে দিয়েছিলেন তার ধ্বংসাবশেষ দেখেই সময় কেটে যায়। ড্রয়ারের চাবিটা এখন তার কাছেই থাকে। মাঝে মাঝে স্ত্রীও তার সঙ্গী হন। আজও দুজন ছেলের ঘরে বসে আছেন। অয়নের ডায়েরি তারা পড়েছেন। অবন্তী তার বড়চাচাকে নিয়ে লেখাগুলো তাকে দেখিয়েছে। এত অভিযোগের কথার ভীড়ে বাবাকে নিয়ে কিছু স্বপ্ন আর আকাঙ্খার কথাও লেখা আছে তাতে।

ছেলেটা কেমন ভালোবাসার কাঙাল ছিল অথচ তারা তাকে এতটুকুও দিতে পারলেন না। ছেলে ভালোবাসা না পাবার বিষাদ নিয়ে চলে গেল, আর তারা ভালোবাসা না দেবার আক্ষেপে পুড়ছেন। মানুষ বড় অদ্ভুত, সঠিক সময়ে সঠিক সুরটা ধরতে পারে না। আবার যখন অনুধাবন করতে পারে তখন অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে হয়তো তাল, লয়, ছন্দ হারিয়ে সুরটাই হারিয়ে যায়।

“বাবা, একসময় তোমাকে মনে মনে খুব ডাকতাম, সামনে ডাকতে পারতাম না অভিমানে। তুমি যদি আমার ক্রিকেট বন্ধ করে না দিতে হয়তো সবকিছু ঠিক থাকত। বাকিগুলো ভুলে যেতাম। কিন্তু রোখ চেপে গেল ভেতরে। মার খেয়ে কাতরেছি কত, ভেবেছিলাম তুমি এসে আমাকে সান্ত্বনা দেবে। বলবে ‘যা হয়েছে সব ভুলে যা। মন দিয়ে পড়, আমরা সবাই তোর সাথে আছি।’ বিশ্বাস করো, এটাই শুধু খুঁজেছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে আরও দূরে সরিয়ে দিলে। স্বপ্ন ভাঙার ব্যথাটা সেজন্যই সহস্রগুণ বেড়ে গেছে। একা থেকে আরও একা হয়ে গেছি। এখন একাই ভালো আছি।”

আনোয়ার সাহেব তার জন্য জমানো ভালোবাসার চাইতে ছেলের অভিযোগের জায়গাগুলো পড়েন সবসময়। ছেলের কষ্টকে হৃদয় দিয়ে ধারণ করার চেষ্টা করেন। নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করতেই এখন তার ভালো লাগে। এটাকেই নিজের শাস্তি মেনেছেন।

স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি তখন ভাবছিলাম ছেলে বেয়াড়া হয়ে গেছে। সান্ত্বনা দিতে গেলে মাথায় চড়ে বসব। নিজেরে শক্ত করে আর ওর সামনে যাই নাই। এইটাই ওরে শেষ করে দিল। তখন কষ্ট তো আমিও পাইসি। সেইটা আড়াল করছি। পরে লাগামছাড়া হয়ে গেল। আমার সব রাগ ওর ওপরে যায়ে পড়ল। ওর মনে অনেক জখম করছি আমি।”

অয়নের মা সুফিয়া স্বামীর ডুকরে কেঁদে উঠা দেখে নিজের চোখ দুটো আঁচলে মুছে নিয়ে বললেন, “একজন শাসন করলে আরেকজনের বন্ধু হইতে হয়। আমি তো ওর বন্ধু হইতে পারি নাই। কোনোদিক থেকেই আমার অয়নটা শান্তি পাইল না। অন্তিরে যে এত পছন্দ করত, আমি আগে জানলে যেমনেই হোক রোকেয়া আর আজহাররে রাজি করাইতাম। দুইজনই কষ্ট পাইল।” সুফিয়া এখন এটা বললেন ঠিকই, কিন্তু আগে অবন্তী আর অয়নের ব্যাপারে জানলে কি তিনি এতটা উদার চিত্তে ভাবতে পারতেন! বোধহয় না।

আনোয়ার সাহেব নিস্তেজ হয়ে গেছেন একেবারে। নিস্তরঙ্গ একটা গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। অপরাধবোধের বোঝা তার মাথা থেকে নামে না, সময় বাড়ার সাথে সাথে সেই বোঝা কেবল বেড়েই চলছে!

***
শিউলি মা হবে বলে বাবার বাড়িতেই থাকছে এখন। শেফালির এক কথা, “প্রথম সন্তান হবো, সে এখানে থাকব না তো কই থাকব। আমরা কি মরে গেছি?”

সাজিদের বাড়ি থেকেও আপত্তি করেনি। সাজিদও এখন এই বাসায়ই থাকছে। কন্যা সন্তান হবে। দিন ঘনিয়ে এসেছে। স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখভাল করার লোভ সামলাতে পারে না। শিউলি খুব উপভোগ করে। এত ভালোবাসা ওর কপালে ছিল, আর সে কিনা সবকিছুতে দাঁড়ি টেনে দিতে চাইছিল। সুখ সুখ একটা অনুভূতি ওর চোখেমুখে বিরাজ করে সবসময়।

অবন্তী সেদিন শিউলির সাথে গল্প করতে করতে হুট করে বলল, “আপু, সাজিদ ভাইয়া তোমারে খুব ভালোবাসে, তাই না।”

“আমার ভাইটাও তোকে খুব ভালোবাসে বুঝলি।”

অবন্তী কিছু বলল না, সে জানে সেটা। গত দুই বছরেই সে নানাভাবে অবন্তীকে খুশি করার চেষ্টা করে আসছে। কখনো সফল হচ্ছে কখনো বা বিফল, তবুও শাফিনের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। এই পরিবারের সবাই ওকে খুব ভালোবাসে। ওর মনের অবস্থা বুঝে ওকে সামলে উঠার সময়ও দিয়েছে। এখনো এমন কিছু পরিবার আছে বলেই ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, জীবনের মূল্যবোধ কিছুটা হলেও টিকে আছে। অবন্তী ভালোই আছে৷ শুধু প্রায়ই একটা হাহাকার বুক বেয়ে উথলে উঠে ওকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

শেষবার যখন অয়নকে দেখতে গিয়েছিল কিছুই বলতে পারেনি। কী বলত সে, তাতে অয়ন বরং আরও কষ্টই পেত। ওকে খুন্তি ডাকায় অয়নকে কঠিন ছ্যাঁকা দিতে চেয়েছিল একসময়। অথচ ভিসুভিয়াসে সে বহু আগে থেকেই পুড়ছিল। অবন্তী সেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা কয়লা হয়ে যাওয়া অয়নের মনের এতটুকু আঁচ কেন পেল না! কী অদ্ভুতভাবেই না নিজের বিষাদ লুকিয়ে রাখত ছেলেটা।

অবন্তী এখন আর কথায় কথায় রেগে যায় না, যার উপরে রাগ ঝাড়ত সে-ই তো নেই, ওকে ভাসিয়ে দিয়ে হারিয়ে গেছে চিরতরে! সেই রাগটা আর কেউ তো সহ্য করবে না!

মাঝরাতে চা খাবার অভ্যাসটাও ছেঁটে ফেলেছে। মাঝরাতে রান্না ঘরে ঢুকলেই মনে হতো অয়ন যেন বলছে, “খুন্তি রে, আমাকেও এক কাপ চা দিস তো। মাথা ঝিমঝিম করতেছে।”

সেই চা আর অবন্তীর গলা দিয়ে নামত না। প্রথম একবছর তো পাগলপ্রায় ছিল সে। শাফিন আগলে নিয়েছে। এখন নতুন করে চাকরির প্রিপারেশন নিতে শুরু করেছে আবার। প্রিলিতেও টিকেছে, সামনে রিটেন।

নিজের ভাঙচুরের জন্য শাফিনকে কষ্ট দিতে চায়নি বলেই সেও নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে শিখেছে অয়নের মতো। শাফিনকে ভালোওবাসে, আগে থেকেই তো দুইজন খুব ভালো বন্ধু। তাই মানিয়ে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। তবুও অয়ন ওর হৃদয়ের অনেকটা জুড়ে আছে। শাফিন সেটা জানে। তবুও অবন্তী অয়নকে লুকিয়েই রাখে। তুমুল ঝগড়া করতে ইচ্ছে হয় অয়নের সাথে, খুঁনসুটি মিস করে ভীষণ। কত সহস্র স্মৃতি ওকে তাড়িয়ে বেড়ায়!

শাফিনের সাথে সহজ সম্পর্ক ধরে রেখেছে। অবন্তী খুব চেষ্টা করে শাফিনকে না ঠকাতে। কিন্তু যার জন্য সে আজও বেঁচে আছে সেই অয়নকে মনে রাখাটা নিশ্চয়ই অপরাধ নয়!

***
শাফিন দেখল অবন্তী বারান্দায় উদাস দৃষ্টিতে আকাশ দেখছে। অবন্তী পেছনে না তাকিয়েই বলল,
“আমি কি তোকে ঠকাচ্ছি শাফিন?”

“একদম নয়। আমার যা প্রাপ্য তুই সবটাই দিছিস।”

শাফিনের ভেতরটা টনটনিয়ে উঠল, অয়নকে সে কোনো একসময় ঈর্ষা করেছিল। অবন্তীর উপরে রাগ হয়েছিল কেন সে এমন একজনকে ভালোবাসে যে তার মূল্য দিতে জানে না। সেই ভাবনার জন্য শাফিন নিজেই ছোট হয়ে যায়।

শাফিন অবন্তীকে পেয়েছে ঠিকই, ওর ভালোবাসাও পেয়েছে। কিন্তু ভালোবাসা পেয়ে গেলে সেটা দৈনন্দিন হয়ে যায়। শুরুর দিকের ম্যাজিকটা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। অবন্তীর সাথে ওর সম্পর্কে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব দুইই আছে৷ তবুও অবন্তীকে জীবনে না পেয়েও অয়ন ওর তুমুল ঝরের মতো উদ্দাম ভালোবাসাটা পেয়েছে।

অয়ন অবন্তীর মনের গহীনে একটা অপ্রাপ্তি, একটা নাম না জানা হাহাকার হয়ে মিশে আছে। অতৃপ্ত ভালোবাসা কখনো ভোলা যায় না, মজ্জায় মজ্জায় মিশে থাকে। সেটা মোছার সাধ্য শাফিনের নেই। চেষ্টাও করে না। অয়নের জন্য একটা শ্রদ্ধাবোধ জন্মেছে শাফিনের। অয়ন না থাকলে তো সে অবন্তীকে পেতোই না। শাফিন একসময় কেবল স্বার্থপরের মতো অবন্তীকে চেয়েছিল। অথচ অয়ন কতটা নিঃস্বার্থভাবেই না ভালোবেসে গেছে! তাহলে তাকে কী করে ঈর্ষা করবে! ভেতর থেকে সেটা আসেই না।

আজ আকাশে বিশাল একটা চাঁদ উঠেছে। আলো আঁধারিতে অবন্তীকে কেমন অপার্থিব লাগছে। হুট করে মেয়েটা বলে উঠল, “গান শুনবি শাফিন?”

শাফিনের উত্তরের অপেক্ষা না করে গেয়ে উঠল, ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে
দিন রজনী কত অমৃতরস উথলি যায়, অনন্ত গগনে…”

শাফিনের মনে হলো আসলেই এখন ভুবন জুড়ে আনন্দধারা বইছে। ক্ষুদ্র দুঃখ, কষ্ট, অপ্রাপ্তি সব তুচ্ছ মেনে যেটুকু পাওয়া গেল সেটুকুই হৃদয়ে ভরে নিল। অবন্তী মাথাটা আলতো করে শাফিনের কাঁধে রাখল।

শাফিন জানতেও পারল না, এই ভাবনাগুলো নিজের অজান্তেই অয়নের সাথে মিলে গেল। অবন্তীর চোখে জলের অস্তিত্ব টের পেল, আনন্দধারার মাঝেও প্রগাঢ় বিষাদের জল অবন্তীর চোখে!
……….
(সমাপ্ত)
(কেমন লাগলো শেষটুকু? যারা এতদিন ধরে সাথে ছিলেন সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা। আজকের পর্বে সবাই মন্তব্য করবেন কিন্তু! আমি অপেক্ষায় থাকলাম। সব্বাই বলবেন কিন্তু প্লিজ! আমি ভীষণ নার্ভাস এমনিতেই। )

আমার গ্রুপঃ নুসরাত জাহান লিজা’র হৃদয় বাড়ি
সবাইকে যুক্ত হবার আমন্ত্রণ রইল।

1 COMMENT

  1. It’s an amazing story apu.Realistic & mind-blowing.Do you know?I cried so much when i read this story. Thank you apu for giving us such precious story.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here