আমার তুমি আছো পর্ব অন্তিম

0
82

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—10 (Last part)

আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকাই। চারদিকে ভালো করে দেখে বুঝতে পারি আমি কোন হসপিটালের রুমে আছি। আমি হাতটা তুলতে গেলে দেখি স্যালাইন চলছে। সামনে তাকাতেই পিয়াসকে দেখলাম বেরিয়ে গেলো। আর তার কয়েক মিনিট পরেই রাজ আসলো। আমি রাজকে দেখে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলাম।

— তুমি আমার কথায় মরতে গেছিলে? আমি তো তোমাকে আমার থেকে দূরে সরানোর জন্য ওই কথাগুলো বলেছিলাম। আলো কথা বলো।

রাজের কন্ঠস্বর বেশ ধরা মনে হয় অনেক কেঁদেছে। আমার হাত ধরছে আমি হাত ছাড়িয়ে নিচ্ছি। রাজ এবার আমার হাত ধরে জোরেই কেঁদে ফেলে।

— আমি জানি আলো আমার ওপর তোমার অনেক রাগ। কি করবো বলো, আমার যে হাত পা বাঁধা ছিলো। আমি চাইলেও কিছু করতে পারতাম না। তুমি তো জানো আমার জন্মের সময় আমার মা মারা যায়। মা এর ভালোবাসা আমি পাই নি। ছোটো ভাইয়ার মা বাবা আমাকে ছেলের মতোই ভালোবাসে। আমার বাবা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর ছোটো ভাইয়ার মা বাবা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমাকে উনাদের বাড়িতে থাকতে দিয়েছে, উনাদের ব্যবসা দেখ ভাল করতে দিয়েছে।
জানো আলো তুমি যেদিন আন্টির সাথে বাড়িতে এলে , ভেবেছিলাম ভালোই হলো আন্টির সাথে তোমার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। আন্টি জানে আমি একজনকে ভালবাসি কিন্তু সেটা যে তুমি তা জানতো না।সেদিন আমাকে ছোটো ভাইয়া তোর ছবি দেখিয়েছিলো। জানিয়েছিলো তোমাকে ভালোবাসে। আর আমিও ছোট ভাইয়ার চোখ মুখ দেখে বুঝেছিলাম কি পরিমাণ তোমাকে ভালোবাসে।
পরে জানতে পারলাম আন্টি চায় তোমাকে ছেলের বউ করবে। কারণ তোমার মা বাবা ছোটবেলায় আন্টির সাথে কথা বলে রেখেছে।
আঙ্কেল , আন্টি আমার বাবার জন্য আর আমার জন্য অনেক করছেন। আমি তাদের ঋণ কখনো শোধ করতে পারবো না। তবে আমি উনাদের ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। আর তাই তো আমি তোমার জীবন থেকে সরে এলাম।

আমি এবার রাজের মুখের দিকে তাকালাম। অস্পষ্ট স্বরে বললাম,,,

— তাই বলে নিজের ভালোবাসাকে বলিদান করলে?

— আলো ভালো তো দূর থেকেও বাসা যায়। নাই বা পেলাম। ভালোবাসলেই কি দুজন দুজনকে পেতে হয়! ছোটো ভাইয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তুমি জানো তোমার এমন অবস্থায় ছোটো ভাইয়ার কি অবস্থা হয়েছিল। তোমাকে ছোটো ভাইয়া রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে। আলো যা হয়েছে ভুলে যাও ছোটো ভাইয়াকে নিয়ে সুখে সংসার করো। ভালো থেকো।

রাজ আমার কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেলো। আমার চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।আব্বু আম্মুও পিয়াসের সাথে আমার বিয়ে দিতো! উনারা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন! না আমার রাজ একটুও বদলায় নি বদলেছে পরিস্থিতি। হ্যা পিয়াস মানুষটা আমাকে সত্যিই ভালোবাসে। আমার বোঝা উচিৎ। রাজ যখন স্যাক্রিফাইস করতে পারলো, তাহলে আমি কেনো পারবো না!
একজন নার্স এসে আমাকে চেকাপ করে। সন্ধ্যায় হোটেল রুমে চলে আসলাম।

🍂
🍂
🍂
🍂

পিয়াস আর আমি বিছানায় বসে আছি। পিয়াস আমার দিকে চোখ লাল করে তাকিয়ে আছে। আমি মুখ নীচু করে ফেললাম।

— তোর মরার খুব শখ তাই না? আমাকে বলতে পারতিস আমি তোকে বাসর রাতেই মেরে ফেলতাম। তুই আমার থেকে নিজেকে আলাদা করবি?

আমি বাহুদুটো সজোরে চেপে ধরে চিৎকার করে কথাগুলো বলে। আমি কান্না শুরু করলে ধমকে উঠে।

— এই একদম ন্যাকামি করবি না। তোকে আমি অনেক সময় দিয়েছি। ভেবেছিলাম কিছু সময় পর হয়তো তুই নিজে থেকেই বুঝবি। আমাকে মেনে নিবি। কিন্তু তুই..

আমি পিয়াস এর গালে একটা চুমু দিয়ে ফেললাম। পিয়াস কিছুক্ষণের জন্য তাজ্জব বনে গেলো। আমি পিয়াস এর গলা জড়িয়ে কোলে উঠে বসলাম।

— সবসময় বকেন কেন বলুনতো? এতো রাগ কেন আপনার? আপনি যে আমাকে সময় দিয়েছেন আমি তাতেই আপনাকে ভালোবাসি। আর হ্যা জন্ম মৃত্যু বিয়ে এগুলো তো সৃষ্টিকর্তা নির্বাচন করেন। সৃষ্টিকর্তা আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে তাই বিয়ে হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা চাননি আমার মৃত্যু হোক তাই আমি আবার বেঁচে উঠেছি।

পিয়াস আমার দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। আমি কথাগুলো একভাবে বলেই পুনরায় মুখ নীচু করে ফেলি। পিয়াস দু হাত দিয়ে আমার মুখটা তুলে ধরে।

— ওই বউ তুমি আমাকে ভালোবাসি বললে।

— কোথায়, আমি তো আপনাকে ভালোবাসি বলি নি? আমি তো সময়টাকে ভালোবাসি বলেছি।

— কথা ঘুরাচ্ছো।, যাই হোক তাহলে আমাকেই ভালোবাসলে।

— না আপনাকে ভালোবাসি না। আপনাকে স্বামী হিসাবে মেনে নিয়েছি।

— ঠিক আছে।

বেশ কয়েক মিনিট দুজনেই নিরব থাকলাম। নিরবতা ভেঙে আমি পিয়াস এর হাত ধরলাম।

— সমুদ্রের ধারে যাবেন।

— এই রাতের বেলায়? একটু পর খেয়ে ঘুমিয়ে যাও। কাল সকালে নিয়ে যাবো।

— সবে তো রাত 8:00 টা বাজে মাত্র। আর তাছাড়া ঘুরতে এসে কেউ ঘুমায় বুঝি। জানেন এই রাতে সমুদ্র কতো মোহনীয় হয়! চলুন না,,।

— আচ্ছা বেশ তাই চলো।

🍂
🍂
🍂
🍂

— হুম ঠিক বলেছো সমুদ্রকে বেশ মোহনীয় লাগছে। দূরের আকাশের চাঁদ টাকে দেখো মনে হয় যেনো আমাদেরকেই দেখছে।

আমি পিয়াস এর কাঁধে মাথা রেখে আছি। অনেক শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে এটাই পৃথিবীর সব থেকে নিরাপদ জায়গা। আমি এভাবেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চাই। পিয়াস এর হাতটা শুভ করে চেপে ধরলাম। নিজের মনেই বললাম এই জীবনে “আমার তুমি আছো ”

…………. …. . .. . ………… সমাপ্ত…… …….. ……….. …. …….

(জানি না আপনাদের মনের মতো হলো কি না! তবে আমাকে সাপোর্ট করার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here