আমার তুমি আছো পর্ব ১

0
91

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—1

— আমি আপনাকে বিয়েটা করতে পারবো না পিয়াস। কারণ আমি রাজ,,, ।

কথাটা শেষ হতে না হতেই আমার গালে থাপ্পড় পড়লো। আমি গালে হাত দিয়ে অসহায় দৃষ্টিতে পিয়াস এর দিকে তাকিয়ে আছি।

— চুপপপ,, আর একটা কথাও বলবে না। আমার শরীরের হলুদ তোমার গায়ে লেগে গেছে। কাল কাজি এসে বিয়ে পড়াবে। তুমি এখন থেকে তোমার হৃদয়ে শুধু আমাকেই রাখবে। আর কেউ তোমার না। তুমি শুধু আমার আছো।
অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো আলো।

পিয়াস আমার কপালে চুমু দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আর আমি গালে হাত দিয়ে বসে আছি। চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
এই লোকটা কেনো এমন! উনার বাড়িতে থাকি বলে যা ইচ্ছে তাই করবে! কেন আমাকে উনাকেই বা বিয়ে করতে হবে! আমি উনার আশ্রয়ে থাকি বলে! আমি এতিম বলে!!

আজ যদি আমার আব্বু আম্মু বেঁচে থাকতো , তাহলে আমি প্রাণ খুলে আমার মনের কথাটা বলতে পারতাম। নিজের বাড়িতে থাকতে পাররে একটু প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারতাম। এখানে তো উনার অনুমতি নিয়েই সব কাজ করা লাগে। জোর করে আমাকে পেতে চাইছে, আমি জানি না কি লাভ হবে এতে!!আম্মু যে কেন তার প্রিয় বান্ধবীকে আমাকে রাখার দায়িত্ব দিয়ে গেল! কেনো আমি নিজে পারতাম না নিজের দায়িত্ব নিতে!! কেনো আম্মু কেনো এমন করলে!

আমি মানছি খালাম্মা মানুষটা ভীষণ ভালো কিন্তু ওই পিয়াস আমাকে পাওয়ার জন্য পাগল। আমার যে একটা মন আছে। আমি যে কাউকে ভালো লাগতে পারে, আমি যে কাউকে ভালবাসতে পারি। তা উনি কেন বোঝেন না!!

🍂
🍂
🍂
🍂

সঠিক সময়ে কাজি এসে বিয়ে পড়িয়ে চলে গেলেন। বিয়েটা হয়েই গেলো শেষ পর্যন্ত। আমি আটকাতে পারলাম না, আর কেই বা আমার কথা শুনতো।

বিয়ের সাজ গুলো যেনো শরীরে কাঁটার মতো বিঁধছে। ব্যালকেনিতে দাঁড়িয়ে স্থির চাহনিতে আকাশটাকে দেখছি। এমনটা না হলেও পারতো।

পেটে কারুর হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম। বুঝতে বাকি রইল না এটা পিয়াস। আমি পিয়াসকে সরালাম না। পিয়াস আমাকে আরো বেশি শক্ত করে ধরলো।

— আলো আজকে আমি অনেক খুশি। আমি তোমাকে নিজের করে পেয়েছি। ওই দেখো আকাশের চাঁদটা, কতো সুন্দর লাগছে। তবে তোমার থেকে সুন্দর নয়।

— হুম।

আমি পিয়াসকে ছেড়ে দিয়ে রুমে এলাম। শরীর থেকে গহনা গুলো খুলতে লাগলাম।

— হুম আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন ঠিকই। হয়তো আপনি আমাকে ভালোওবাসেন। কিন্তু আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না।

পিয়াস আমাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে সজোরে থাপ্পড় মারলো। আমি ফ্লোরে পড়ে যাই, আমার চুলের মুঠি টেনে তুলে।

— এই কেনো রে? তুই আমাকে কেন ভালবাসতে পারবি না? কি নেই আমার বল? আমি দেখতে অসুন্দর! আরে আমি চাইলে তুড়ি মেরে হাজার হাজার মেয়েকে আমার পায়ের কাছে নিয়ে আসতে পারি তুই জানিস? আচ্ছা তোকে কি দিলে তুই আমাকে ভালোবাসতে পারবি বল? টাকা, গহনা, গাড়ি, বাড়ি কোনটা?

পিয়াস আমাকে বিছানায় বসিয়ে আমার পা ধরে কথাগুলো বলছে। উনার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। আমি উনার দিকে তাকিয়ে আছি। উনি আমাকে ঠেলা দিচ্ছেন। আমি এবার মুখ খুলি,,

— ভালোবাসাতো গাড়ি, বাড়ি, টাকা, গহনা, রূপ দিয়ে তো হয় না। আমি রাজকে ভালোবাসি যে। আমার এই মন জুড়ে যে শুধুই রাজের অবস্থান। আপনি আমাকে বিয়ে করেছেন, আপনি আমার স্বামী হতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাকে কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারবো না। আমি স্বামীর জায়গা রাজকেই দিবো।পিয়াস রাগে চিৎকার করে উঠলেন।

— তোর লজ্জা করে না রে বিয়ে করা স্বামীর কাছে নাগরের নাম নিতে?

— পিয়াস মুখ সামলে কথা বলুন।

— এই গলা নামিয়ে কথা বল? আমি ভেবেছিলাম কিছুটা সময় দিলে হয়তো তুই ওই রাজকে ভুলে যাবি! কিন্তু না তুই তো দেখছি একটু সময় দিলেই নাগরের হাত ধরে পালিয়ে যাবি!

— হুম পালিয়ে যাবো তো।কিছুদিন সময় কেন , আমি চাইলে এই মুহুর্তে পালিয়ে যাবো।

আমার কথা শুনে পিয়াস জোরে জোরে হাসতে থাকে।

— আমাকে কি তুই বোকা মনে করিস? তুই একবার যখন আমার খাঁচায় বন্দী হয়েছিস তোর যে আর মুক্তি নেই আলো! আর সেই সুযোগ আমি তোকে দিবো না। তুই আজ কেন আর কখনো যাতে না পালাতে পারিস তার ব্যবস্থাই করছি।

পিয়াস আমার ঠোঁটে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে স্লাইড করতে থাকে। আমি রাগে উনাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাঁড়াই বিছানা থেকে। একটানে আমার পুরো শাড়ী খুলে ফেলি।

— ও বিয়ে করেছেন যখন শরীরটাকে ভোগ করবেন না তাই কি কখনো হয়? আসুন জোর করে যখন বিয়ে করেছেন, শরীর টাকেই বা ভোগ করবেন না কেন?পিয়াস আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো। হাতে বেল্ট পাকিয়ে নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।

— এতো তেজ তোর? আমি তোর সব তেজ আজ ভাঙ্গবো।

পিয়াস আমাকে এলোপাথাড়ি মারছে। প্রথমবার ব্লেটের আঘাত শরীরে পড়েছে। সারা শরীরে যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি এতো কাঁদছি পিয়াসের একটুও মন গলছে না। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। কেউ বাঁচাতেও আসছে না। বেশ কিছুক্ষণ পর উনি ব্লেট ফেলে দিয়ে আমার চুলের মুঠি টেনে ধরে।

— এই মারটা মনে থাকলে আর কখনো তোর ওই নাগরের নাম মুখেও আনবি না।

পিয়াস আমাকে ছেড়ে দিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। আমি সোজা হয়ে শুয়ে বিছানার চাদর খামচে ধরে শরীরে জড়িয়ে নিয়ে চিৎকার করতে থাকি। বিছানার ফুল গুলো আমার শরীরে বড্ড কাঁটার মতো বিঁধছে। আমি চিৎকার করে হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলি।

হায়রে জীবন! কোন দাম নাই! আমার এতো সুন্দর কপাল বাসর রাতে স্বামীর হাতে মাইর! কি জানি এমন দিনে আর কেউ আমার মতো স্বামীর হাতে মাইর খেয়েছে কি না!

আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমার মাথাটা ভীষণ ঘুরছে, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আছে।
.
.
.
.
চলবে… …
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

(#)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here