আমার তুমি আছো পর্ব ২

0
92

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—2

সকালে ঘুম ভাঙলে আমি দেখি পিয়াস আমার শরীরের ক্ষত গুলোয় মলম লাগিয়ে দিচ্ছে। আমি হা হা হা করে হেসে উঠি।

— জুতা মেরে গরুদান করছেন বুঝি?

পিয়াস আমাকে টেনে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলো।

— আমি আসলে এমনটা করতে চাই নি। অ্যাম রিয়েলি সরি আলো। আসলে তুমি ওই রাজের নাম মুখে নিলে তো, তাই আমি মাথা ঠিক রাখতে পারি নি। খুব.. খুব কষ্ট হচ্ছে না তোমার!

— হুম কষ্ট হচ্ছে তো। আপনি যখন মেরেছিলেন তখন কষ্টটা হয়নি। এই যে আপনি মলম লাগাচ্ছেন অনেক কষ্ট হচ্ছে। তা মলম যখন লাগাতে চাইলেন , মলম না লাগিয়ে নুন ছিটাতে পারতেন তো!আমার উপশম হতো।

আমি দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বললাম। পিয়াস আমাকে বুক থেকে তুলে আমার হাত দুটো ধরলো।

— আলো আমি কথা দিচ্ছি আমি আর এমন কিছু করবো না বিশ্বাস করো! কিন্তু তার আগে কথা দাও তুমি ওই রাজকে ভুলে যাবে? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ।

আমি পিয়াসকে আর কিছু বললাম না। ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য নামতে গেলে দেখি আমার পরণে শাড়ি, তাও আবার পরিপাটি করে পড়ানো! আমার বেশ মনে আছে আমি তো শাড়ি খুলে ফেলে দিয়েছিলাম।আমি আমার মাথার চুল স্পর্শ করলাম দেখি চুলগুলো ভিজা! আমি পিয়াস এর দিকে তাকালাম,,

— আমি তোমাকে গোসল করিয়ে দিছি। আসলে তুমি সেন্সলেস ছিলে তার ওপরে গতকালের সারাদিন এর ধকল ছিলো। আমি ভাবলাম গোসল করিয়ে দিলে হয়তো তুমি একটু ফ্রেশনেস ফিল করবে তাই। আর তাছাড়া তোমার শরীরে মলম লাগানোর জন্য গোসলটা বেশি প্রয়োজন ছিলো।

আমি পা গুটিয়ে নিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে পিয়াসের দিকে তাকালাম। কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরেই বললাম,,

— ও শুধু মলম লাগিয়ে দিবেন বলেই গোসল করালেন? না কি আমার সেন্সলেস থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু করেছেন? যার জন্য গোসলটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলো!

পিয়াস আমার গায়ে হাত তুলতে গিয়েও থেমে গেলো।

— কি হল মারবেন না!

পিয়াস আমার গাল দুটো চেপে ধরলো।

— আমি এতোটাও নীচু প্রকৃতির মানুষ নই যে তোর ঘুমানোর সুযোগ নিয়ে কিছু করবো। কিছু করার চাইলে অনেক আগেই করতাম। আমি জানি না তোর এতো কিসের অহংকার?তোর তো বাবা মা নেই, পরের আশ্রয়ে থাকিস। আশ্রিতা , এতিম মেয়েছেলে পরের দয়ায় বেঁচে আছিস তো। তারপরেও এতো দেমাক,, ।

পিয়াস আমাকে ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমি কেঁদে ফেলি। এখন আমার কাছে শরীরে মাইর এর ব্যাথা গুলো অতি তুচ্ছ মনে হচ্ছে। বুকে খুব ব্যাথা করছে। আমি এতিম, আমি আশ্রিতা আমি জানি তো। কিন্তু কথাগুলো এভাবে বলে গেলেন কেন! উনাদের বাড়িতে থাকি বলে আমার কি কোন আত্মসম্মান নেই!! যা খুশি করা যায় আমার সাথে!!

হঠাৎ দরজায় তিনটে টোকা পড়ে। আমি দ্রুত চোখের পানি মুছে নিয়ে শরীরে আঁচল ঢাকা দিই।

— কে? ভিতরে আসুন।

— আলো অনেক বেলা হয়ে গেছে। নীচে আসো নাস্তা করতে হবে তো।

— ভা..ভাবী ,, আমার ভালো লাগছেনা আমি নাস্তা করবো না। তবে আমি একটু পর নীচে আসছি।

— ও মা আলো কি হইছে! খাবে না কেন? দেখি চোখ মুখ তো শুকনা লাগছে!

ভাবী আমার কাছে এসে গালে হাত বুলিয়ে বলে। হঠাৎ আমার গলায় হাত দেয়।

— আলো তোমার গলায় এই দাগ কিসের! দেখি দেখি কালশিটে পড়ে গেছে তো!

আমি আঁচলটা গায়ে আরো বেশি করে টেনে নিলাম।

— ও কিছু না ভাবী। ওই গহনা পড়ে ঘুমাচ্ছিলাম তো তার হয়তো কিছুতে লেগে ছিলে গেছে, তাই কালশিটে পড়েছে। আমি মেডিসিন লাগিয়েছি তো।

ভাবী আমার কথা সত্যি বিশ্বাস করলো কি না জানি না! আমার পাশে বসে আমার মাথায় হাত রাখলো।

— আলো এই সংসারটা হচ্ছে একটা যুদ্ধের ময়দান। সেখানে নয় তোমাকে জিততে হবে আর না হয় হারতে হবে! তবে আমি জানি তুমি যেমন মেয়ে তুমি ঠিক জিতবেই।

আমি ভাবীকে জড়িয়ে ধরলাম। কি জানি ভাবী কথাগুলো এমনি বললো! না কি কিছু আন্দাজ করে বললো! তবে কেনো জানি না ভাবীর কথা গুলো শুনে মনটা একটু হাল্কা লাগলো।

— আলো চলো নাস্তা করে নিবে।

অমি আর কোন কথা বললাম না। জানি ভাবীকে খাবো না বললে ভাবী শুনবে না। সেরকম হলে ভাবী নিজের হাতেই তুলে খাইয়ে দিবে।

🍂
🍂
🍂
🍂

বিউটিশিয়ান এর মেয়েরা আমাকে সাজিয়ে চলে যায়। আমি আয়নায় নিজেকে দেখছি। একজন এতিম কতো অসহায় হয়! পরের আশ্রয়ে থাকলে কতো কি না সহ্য করতে হয়! কতো কিছু ত্যাগ করতে হয়! নিজের ভালোবাসাকে মাটির তলায় কবর দিতে হয়!! আজ যেনো আব্বু আম্মুকে অনেক বেশী কাছে পেতে ইচ্ছে করছে! আব্বু আম্মু বেঁচে থাকলে আমি আর পাঁচজনের মতোই আমার ভালোবাসার মানুষটার পাশে থাকতে পারতাম। দুচোখ বেয়ে টপটপ করে দু তিন ফোঁটা পানি পড়লো। আমি সেগুলোকে যত্মসহকারে হাতের তালুতে রাখলাম।

— আলো মা তৈরী হয়ে গেছো? কই দেখি আমাদের আলোকে আজ কেমন লাগছে!

আমি খালাম্মার গলার আওয়াজ শুনে খালাম্মার। দিকে ফিরলাম। খালাম্মা আমার থুতনিতে হাত রাখে।

— বাহ আমাদের আলোকে যে আজ ডানা কাটা পরী লাগছে। যার থেকে চোখ সরানোই যাচ্ছে না। কিন্তু এতো কিছুর মধ্যেও চোখে পানি কেন? বুঝেছি মা বাবার কথা মনে পড়ছে তাই তো!

আমি খালাম্মাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করেই কেঁদে ফেললাম। আমি কি করে বোঝাই তোমায়! আমার বুকের ভিতরটা যে ফেটে যাচ্ছে।

খালাম্মা আমার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।

— পাগলী মেয়ে আমার এভাবে কেউ কাঁদে। তোমার বাবা মা তোমাকে দেখছেন তো! ওই আকাশের তারা হয়ে। এখন তোমাকে কাঁদতে দেখে উনারা তো আরও বেশী কষ্ট পাবেন!আর তুমি কি চাও উনারা কষ্ট পান?

আমি ফোঁপাতে ফোঁপাতে মাথা নাড়িয়ে না বলি।

— আমি তো তোমার মা, তোমার বাবা তো বাবাই আমরা আছি তো। আর আমার ছেলেও তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবে।

খালাম্মা আমাকে এনে বসিয়ে দিলো পিয়াস এর পাশে। পিয়াস আমাকে দেখে কিছু বললো না। মেহমান এসে আমার হাতে গিফটের বক্স দিচ্ছেন। আর আমি হাসিমুখে তাদের সালাম করছি। এমন ভাব করছি যেনো আমি অনেক খুশি। কিন্তু আমার বুকের ভিতরে যে তোলপাড় হচ্ছে তার শব্দ কেউ শুনতে পাচ্ছে না।

আমি মুখ নীচু করে ফেলি। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। হঠাৎ আমি খুব পরিচিত একটা গলার স্বর শুনে মুখ তুলে তাকাই। আর আমি ভীষণ অবাক হয়ে যাই…

.
.
.
.
চলবে…. …
(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here