আমার তুমি আছো পর্ব ৩

0
77

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—3

আমি মুখ তুলে তাকাই। আর খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই। আমার সামনে যে রাজ দাঁড়িয়ে,আমার ভালোবাসার মানুষটা। আমার চোখে পানি চলে আসছে। আমি উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি। রাজ হাসিমুখে এসে দাঁড়ায় আমার সামনে। একটা ফুলের তোড়া আমার হাতে এগিয়ে দেয়। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে ফুলের তোড়াটা নিই। রাজ পিয়াসের সাথে হাত মিলায়।

— ছোটো ভাইয়া আপনার বিবাহিত জীবন সুখের হোক এই দোয়াই করি। আর ভাবী জ্বী আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আপনারা যেনো অনেক সুখে থাকেন।

আমি রাজকে দেখছি, রাজের কথা শুনে আমার চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। রাজ কি বলছে এগুলো!!

পিয়াস আমার কাঁধে হাত রাখে।আমি পিয়াস এর দিকে তাকাতে পিয়াস আমাকে দেখে হাসলো।

— ধন্যবাদ রাজ ,,তুমি যখন আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছো, সেই দোয়া কবুল হবে। আর আমরা সুখি দম্পতি হবো। আর তাছাড়া আমার ভালোবাসার জোর আছে আমরা সুখি হবো।

পিয়াস রাজের হাত ধরে কথাগুলো বলে। আমি শুধু রাজকেই দেখছি। রাজ কতো সহজে হেসে হেসে কথাগুলো বললো!!

আমি রাজের হাত ধরতে যাবো বলে হাত বাড়ালাম। পিয়াস আমাকে টেনে নিয়ে ডান্স ফ্লোরে চলে এলো। লাইট অফ হয়ে ব্লু লাইট জ্বলে উঠলো, গানের সুর উঠলো।

Janam Janam Janam sath Chalna yunhi …
Kasam Tumhe Kasam Aake Milna Yahi..
……….

পিয়াস আমাকে নিয়ে নাচছে। আমি পিয়াস এর সাথে তাল মিলিয়ে ডান্স করছি ঠিকি কিন্তু আমার নজর এখন শুধুই রাজের দিকে। রাজ আমাকে দেখছে শুধু দেখছে না হাততালি দিচ্ছে মুখে হাসি রেখে।

নাচ শেষে সবাই হাততালি দিচ্ছে। হঠাৎ দেখলাম রাজ চোখের কোণে হাত দিয়ে পুনরায় হাসি মুখে হাততালি দিচ্ছে। আমি বুঝতেছিনা কি হচ্ছে! রাজ আমাকে দেখে এতো স্বাভাবিক কি করে আছে!

খালাম্মা আমার কাছে এসে আমাকে আর পিয়াসকে জড়িয়ে ধরলো। আমার আর পিয়াস এর কপালে চুমু দিলো।

— মাশাল্লাহ আমি দোয়া করি আমার ছেলে মেয়ে যেনো সারাজীবন এভাবেই থাকে।

— আরে বেগম এই নাচ দেখে মনে হচ্ছে আল্লাহ ওদের দুজনকেই দুজনের জন্য বানিয়েছে।

বাবাই কথাগুলো এসে বললো । বড়ো ভাইয়া, ভাবীও এসে আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। বড়ো ভাইয়া আমার আর পিয়াস এর হাত দুটো হাতে রেখে হাসলেন।

— এবার আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ হলো তাই তো বাবা!

— হুম হলো তো।

খালাম্মা আমার কাছে এসে গালে হাত দিয়ে মুখটা তুলে ধরলো।

— কি হয়েছে চোখে পানি কিসের! এতো আনন্দের দিনে চোখের পানি যে ফেলতে নেই।

আমি আড়চোখে রাজকে দেখছি। রাজ এখানে এলোই যখন তাহলে আমার সাথে এমন ব্যবহার করছে কেন!! হঠাৎ বড়ো ভাইয়া রাজকে আমাদের কাছে নিয়ে এলো।

— এই রাজ তুই দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আয় তোকে আলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

— আলো এর নাম রাজ। এই রাজ কিন্তু আমাদের পরিবারের একজন। তুই খান চাচাকে চিনিস তো! রাজ খান চাচার ছেলে। আর তার সাথে রাজ আমাদের ইন্ড্রাস্টির অফিসের কাজ গুলো দেখাশুনা করে যখন আমরা আউট অফ সিটি চলে যাই। ও বাবাকে সাহায্য করে। আমরা কিন্তু ও কে ভাই হিসেবেই মানি।

এতোক্ষণে আমার কাছে ব্যপারটা পরিস্কার হলো। তাই জন্য রাজ এখানে। কতো সুন্দর অভিনয় করছে। ও কি বুঝতে পারছে না আমার বুকের ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে!!পিয়াস জোরে হেসে উঠলো।

— বড়ো ভাইয়া তুমি কি ভাবছো আলো আর রাজের কি পরিচয় নেই? ওরা কি এর আগে দুজন দুজনের সাথে কথা বলে নি?

রাজ মনে হলো একটু বিব্রত হয়ে পড়লো।

— জ্বী ভাইয়া আমি ভাবীকে দেখেছি। তবে ভাবীর সাথে তেমন কথা হয়নি।

আমি যতো রাজকে দেখছি ততো বেশিই অবাক হচ্ছি! রাজ এতোটা বদলে গেলো! রাজের কি আমার সাথে সম্পর্কটার কথা কিছু মনে পড়ছে না!!

পিয়াস আমার কোমড়ে হাত রাখলো। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললো,,,

— তোমার প্রেমিকতো ভালো নাটক করতে পারে!

আমি পিয়াসকে কিছু বললাম না। পিয়াস এর দিকে একঝলক তাকিয়ে মুখটা সরিয়ে নিলাম।
খালাম্মা আমার কাছে এসে হাত ধরলেন।

— আলো রাজ কিন্তু আমাদের আর এক ছেলে। সম্পর্কে তোর দেবর হয়।

দেবর কথাটা শুনে ইচ্ছে করছে নিজেকে মাটিতে মিশিয়ে ফেলি। যার সাথে সংসার করবো বলে স্বপ্ন দেখেছিলাম আজ তাকে দেবর মানতে হবে!খালাম্মা আমার হাতটা শক্ত করে ধরে।

— আলো একটা কথা রাখবি আমার?

আমি অস্পষ্ট স্বরে বলি,,,

— কি বলো।

— তুই আমাকে খালাম্মা না শুধু মা বলে ডাকবি। বল মা,,।

— ঠিক আছে মা।

🍂
🍂
🍂
🍂

ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াই। কখনো ভাবিনি আমাকে এমন কিছুর সম্মুখীন হতে হবে! হ্যা রাজ আমাকে বলতো ওর আর এক মা বাবা আছে কিন্তু সেটা যে খালাম্মা বাবাই আমি তা স্বপ্নেও ভাবিনি। তাহলে কি আমার সব আশার আলো নিভে গেলো!!

দরজা বন্ধ করার আওয়াজ পেয়ে আমি ঘুরে তাকাই। পিয়াস পাঞ্জাবির বোতাম খুলতে খুলতে ওয়াশরুমে ঢুকলো।

আমি আলমারী থেকে একটা চাদর বের করে মেঝেতে পাতি। বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে নীচে শুয়ে পড়ি। পিয়াস আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি।

— একি আলো তুমি মেঝেতে শুয়েছো কেন?

— ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমাবো।

— হ্যা তা ঘুমাও না। বিছানা থাকতে মেঝেতে কেন? উঠে আসো।

— আমি এখানেই থাকবো। আপনার সাথে এক বিছানায় থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

আমি কড়া গলায় কথাগুলো বললাম। কিন্তু উনার ধমকে আমি কেঁপে উঠলাম। তবুও আমি মেঝেতেই শুয়ে রইলাম।

— এখানে কি কোন শুটিং চলছে? না কি নাটক চলছে? আপনার সাথে এক বিছানায় থাকা সম্ভব নয়? এসব ন্যাকামি বন্ধ করো। এমনিতেই অনেক রাত হয়েছে আমি কোন ঝামেলা চাইছি না। বিছানায় শুতে আসো।

আমি শুনেও না শুনার ভান করি। চুপ করে শুয়ে পড়ে থাকি।

— কি হলো শুনতে পাচ্ছনা? বিছানায় চলো।

অনেকক্ষণ হয়ে গেলো আমি কিছু বলছিনা দেখে পিয়াস আমাকে জোর করে বিছানায় এনে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। এভাবে জোর করে এনে ফেলায় আমার কোমড়ে ব্যাথা লাগলো। আমি কোমড়ে হাত দিয়ে উঠে বসতে গেলে পিয়াস আমার হাত দুটো বিছানায় শক্ত করে চেপে ধরে আমাকে শুইয়ে দিলো।

— ভালো ভাবে বললে কাজ হয় না তাই না? কালকের মাইর এর কথা মনে নেই না?
আলো আমি তোমাকে ভালোবাসি। বলো না কি করলে তুমি আমাকে ভালোবাসবে??

.
.
.
.
চলবে… ,..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here