আমার তুমি আছো পর্ব ৪

0
127

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—4

আমি পিয়াস এর কথাগুলো শুনে পিয়াসকে ধাক্কা দিয়ে উঠার চেষ্টা করি।

— বলছি তো আপনাকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি শুধু রাজকেই ভালোবাসি।

পিয়াস আমার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো।

— উফফ রাজ… রাজ …এই রাজের মধ্যে কি আছে যা আমার নেই? চুপ থাকিস না উত্তর দে?

আমি কিছু বললাম না পিয়াস এর থেকে শুধু মুখটা ফিরিয়ে নিলাম। পিয়াস আমাকে কিছুক্ষণ দেখলো তারপর গলায় মুখ ডোবালো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। পিয়াস নাক দিয়ে আমার গালে স্লাইড করছে। শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিয়ে পেটে ঠোঁট বুলাচ্ছে। আমি ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকি। উনি আমার ঠোঁটে ঠোঁট মিলালেন আমি ঠোঁট শক্ত রাখলাম। উনি ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে আমাকে দেখছেন কারণ আমি কান্না করছি। উনি আমার উপর থেকে সরে যান।

— আমাকে কি ধর্ষক মনে হচ্ছে তোর? আমি তোর স্বামী আমার অধিকার আছে। কিন্তু আমি অধিকার ফলাবো না। তাহলে কাল সকালে উঠে আবার বলবি তোর ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ধর্ষণ করেছি।

আমি উনার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি মুছে নিই।

— আমি তো প্রথম রাতেই বলেছি আমার শরীর ভোগ করতে পারেন। ভোগ করবেন বলেই তো বিয়েটা করেছেন।

পিয়াস আমাকে ঠাসসস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো। আমি সজোরে কেঁদে ফেললাম।

— আরে তোকে কিভাবে বললে বুঝবি আমি তোকে সত্যিই ভালোবাসি। যদি তোর শরীরটাকেই ভালোবাসতাম তাহলে পাঁচটা মাসের রাতগুলোই আমার কাছে যথেষ্ট ছিলো।

পিয়াস আমাকে ছেড়ে দিয়ে ব্যালকেনিতে উঠে চলে যায়। আমি বিছানায় শুয়ে কাঁদছি। এই মুহুর্তে আমার রাজের মুখটাই চোখে ভাসছে।

🍂
🍂
🍂
🍂

সকালে ঘুম ভাঙলে দেখি পিয়াস বিছানায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। আমার গতরাতের কথা মনে পড়ে আমি পিয়াস এর দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ পিয়াস এর চোখে চোখ পড়তেই আমি দ্রুত উঠে ওয়াশরুমে চলে যাই।

🍂

কিচেন রুমে এসে ভাবীর সাথে হাত লাগাই। টেবিলে নাস্তার প্লেট গুলো রাখতে থাকি। তারপরেই বাবাই আর ভাইয়া চলে আসে।

— গুড মর্নিং এভরিওয়ান। আরে বাহ্ আজ তো বেশ সুস্বাদু সুগন্ধ পাচ্ছি।

বাবাই এর কথায় ভাবী জোরে হেসে ফেলে।

— হুম তা তো পাবেন কারণ আজ যে নাস্তা আমাদের আলো বানিয়েছি।

— হুমম এটা সত্যিই অনেক সুস্বাদু! যদি জানতাম আলোর হাতের রান্নার এতো গুণ তাহলে অনেক আগেই আলোকে রান্না করার দায়িত্ব দিয়ে দিতাম।

বড়ো ভাইয়ার কথায় আবার সবাই হেসে উঠে। আমি মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছি। মা আমার পিঠে হাত রাখলেন।

— তুই যে আলোকে দিয়ে রান্না করাতিস তা ওর পড়াশোনাটা কি তুই করে দিতিস বুঝি!

— ওহ মা তুমি না। আলো তুই কিছু বলবি না?

— জ্বী ,, আমার আব্বু আমার হাতের রান্না খেতে খুব ভালোবাসতেন।

খালাম্মা আমার কথা শুনে মাথায় হাত রাখলেন।

— কষ্ট পাস না আলো। আর এই যে আমি সবাইকে বলছি হ্যা আমি জানি আলোর হাতের রান্না ভালো। তার মানে এই নয় যে আলো প্রতিদিন রান্না করবে। হাজার হোক আলো নতুন বউ তাই ও এখন বেশি রান্না করবে না।

— ঠিক আছে মা জননী আপনি যা রায় দিবেন।

বড়ো ভাইয়া কথাগুলো বলে হাসতে লাগলো। মা আমাকে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন।

— আলো পিয়াস নাস্তা করতে আসবে না।

ভাবী আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি ভাবীকে কিছু বলতে যাবো তার আগেই মা বলে ফেললো,,,

— আমি দেখে এলাম ও কাজ করছে। আমাকে বলেছে খানিকক্ষণ পর শুধু এক কাপ কফি পাঠিয়ে দিতে।

— ও তাহালে ঠিক আছে। এই যা! রাজ বলেছিলো রুমে নাস্তা দিয়ে আসতে আমি একদম ভুলে গেছি। আমি নাস্তাটা রাজকে দিয়ে আসছি।

রাজ এখানেই আছে! আমার রাজ এখানেই আছে!.. আমি ওর কাছে যাবো!!

— রাজকে নাস্তা আলো দিয়ে আসবে। তুমি আসো আমার একটা ফাইল খুঁজে পাচ্ছি না, খুঁজে দিবে।

ভাবী আমার হাতে নাস্তার প্লেটটা ধরিয়ে দিয়ে ভাইয়ার সাথে চলে গেলো। আমি তো ভাবতেই পারছি না! আমি সত্যিই রাজের কাছে যাবো!!

— আলো তাড়াতাড়ি গিয়ে ছেলেটাকে দিয়ে আয়। আর এসে পিয়াসের কফিটাও নিয়ে যাস।

আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠে একছুটে রাজের রুমে চলে এলাম। রাজ তখন শার্ট পড়ে বোতাম লাগাচ্ছে। আমি নাস্তার প্লেটটা বেড সাইডের টেবিলে রাখলাম। কোন কিছু বিবেচনা না করেই রাজকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললাম।

— রাজ আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি রাজ।

রাজ আমাকে টান দিয়ে বুক থেকে তুলে দিলো।

— আমাকে ভুলে যাও আলো। তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। তোমার স্বামী তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তার কাছে যাও, তাকে ভালোবাসো।

— উহু,, তাকে ভালোবাসো! তার কাছে যাও! আমাকে ভুলে যাও! কথাগুলো কতো সুন্দর ভাবে বললে বলো। তোমার একটুও কষ্ট হচ্ছে না রাজ?

আমি রাজের শার্টের কলার টেনে ধরে নাড়তে থাকি। রাজের বুকে মাথা দিয়ে কান্না করি।

— তোমার কি কিছু মনে নেই রাজ! আমাদের একবছরের সম্পর্কের স্মৃতি! কিছুই কি আর তোমার মনে পরে না!

— এমন অনেক সম্পর্ক আছে পাঁচ বছর পর তারা আলাদা হয়ে যায়। আর এটা তো মাত্র এক বছর।

— কতোটা তাচ্ছিল্যের সুরে কথা গুলো বললে। তুমি কি আমার বুকের ভিতরের দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছো না।

— আমি এই বাড়ির নুন খেয়েছি আলো এদের সাথে বেইমানি করতে পারবো না। আর তাছাড়া এনারা আমাকে ছেলের আসনে বসিয়েছেন আমি এনাদের কষ্ট দিবো না।

আমি রাজের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যাই। ওর কাছে এক বছরের সম্পর্কটা কোন মানে নেই! ওর কাছে পরিবার এর সম্পর্কটাই আগে!!আমি রাজের রুম থেকে কাঁপা কাঁপা পায়ে বেরিয়ে আসি।

🍂

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কফি নিয়ে রুমে আসি। নাকে বিদঘুটে গন্ধ পেয়ে নাকে আঁচল চাপা দিই। আমি কফিটা বেড সাইডের টেবিলে রাখি।

— সাত সকালে এইসব ছাঁইপাশ না খেলেই কি নয়? জানেন ধূমপান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

— বুকের ভিতর অনেক জ্বালা। সিগারেট খেলে বুকটা সামান্য ঠান্ডা হয়।

— উঠুন আমি বিছানা গুছাবো।

পিয়াস উঠে দাঁড়ায় আমি বিছানা ঠিক করতে লাগলাম।

— প্রেমিক এতো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলো? আরও বেশিক্ষণ প্রেমিকের বুকে মাথা দিয়ে থাকতে পারতে তো??
.
.
.
.
চলবে… …
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here