আমার তুমি আছো পর্ব ৫

0
84

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—5

— প্রেমিক এতো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিলো? আরও বেশিক্ষণ প্রেমিকের বুকে মাথা দিয়ে থাকতে পারতে তো??

আমি বিছানার চাদর ঠিক করছিলাম। হঠাৎ পিয়াস এর এমন কথা শুনে আমি পিয়াসের দিকে তাকাই।

— তা আপনার লোকের রুমে উঁকি মারার স্বভাব আছে বুঝি?

— শাট আপ! নিজের বিয়ে করা স্ত্রী পরপুরুষ এর বুকে মাথা রাখছে। এটা দেখে পৃথিবীর কোন স্বামীই নিজেকে ধরে রাখতে পারবে না। আমি বাড়িতে কোন ঝামেলা চাইছিলাম না। তাই আমি দেখেও চলে আসছি কিছু বলি নি।

— বাহ্ চমৎকার! তাই একান্তে রুমের মধ্যে ঝামেলা করতে চাইছেন তাই তো। হ্যা আমি আমার প্রেমিকের বুকে মাথা রেখেছিলাম। তো কি করবেন আপনি গায়ে হাত তুলবেন নাকি?

— আলো চিৎকার করছো কেন? গলা নামিয়ে কথা বলো। দোষ করেছো আবার আমার মুখের ওপর কথা বলছো লজ্জা করে না তোমার?

— না আমার লজ্জা করে না। আমি আপনাকে স্বামী হিসাবে মানি না। বেশ করেছি একশো বার করবো। আর পরপুরুষ কাকে বলছেন? পরপুরুষ তো আপনি? আরে লজ্জা তো আপনার করা উচিৎ জোর করে বিয়ে করলেন তো?

পিয়াস আমাকে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় মারলো। আমি টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় পড়ে যাই। ঠোঁটের কোণে তরল কিছু গড়িয়ে আসে হাতে নিয়ে দেখি রক্ত। আমি বিছানার চাদর খামচে ধরে শব্দ করেই কেঁদে ফেলি।

— ছোটো ভাইয়া আমি কি ভিতরে আসতে পারি?

এই কথা শুনে উঠে বসে দেখি রাজ আসছে। হয়তো ও আমার কষ্ট টা সহ্য করতে পারে নি। ও আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলে যাবে। আমি চোখের পানিটা মুছে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াই। পিয়াস মাথা নাড়িয়ে রাজকে রুমে আসতে বলে। রাজ পিয়াস এর দিকে একটা ফাইল এগিয়ে দেয়।

— ভাইয়া এটাতে আপনার একটা সাইন করা লাগবে।

— হুম দে। তুই তাহালে কবে ফিরছিস?

— ভাইয়া দু দিন পর।

— আচ্ছা সাবধানে যা, নিজের খেয়াল রাখিস।

— ঠিক আছে ভাইয়া।

— রাজ তুমি কোথায় যাবে? আমি যাবো তোমার সাথে।

রাজ আমার দিকে তাকিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। আমি রাজের কাছে যাওয়ার জন্য রুমের বাইরে পা দিতেই পিয়াস আমার হাত ধরে টেনে নিলো। নিজের বুকের সাথে আমাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে নিয়ে বিছানায় পড়ে গেলো। আমার কেঁটে যাওয়া ঠোঁটের কোণটায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। পিয়াস আমার কপালে, গালে, চোখে, ঠোঁটে অনবরত চুমু দিয়ে যাচ্ছে। বেশকিছুক্ষণ ধরে পিয়াস এমন করেই চলেছে। আমি এতোক্ষণ নিরবে অশ্রু ঝরাচ্ছিলাম তাই পিয়াস কোন পাত্তাই দিচ্ছিলো না। আমি জোরে কান্না শুরু করে দিই। পিয়াস থেমে যায়, আমাকে কিছুক্ষণ ভালো করে দেখে। আমার চোখের পানি মুছিয়ে দেয় নিজের হাতে।

— তুমি এতো বেহায়া কেনো আলো? যে তোমাকে ভালোবাসে না তুমি তার পিছনেই পরে আছো। অথচ যে তোমাকে ভালোবাসে তুমি তার দাম দেওয়া তো দূর তার দিকে ভালো করে তাকাচ্ছোই না। “আলো আই রিয়েলি লাভ ইউ” তুমি কেন বুঝতে চাইছো না!

— ভালোবাসে ,,,আমাকে রাজ ভালোবাসে। আপনার জন্যই ও আমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের এক বছরের রিলেশন। ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। এটা হয়তো আপনার কারসাজি , আপনি কিছু করেছেন তাই রাজ আমাকে ছেড়ে দিলো!

পিয়াস আমার হাতের বাহুটা শক্ত করে চেপে ধরে। আমি ব্যাথা পাই কিন্তু তা প্রকাশ করি না। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিই।

— যদি রাজ তোমাকে ভালোবাসতো তাহলে ও একবার হলেও আমাকে জানাতো। তোমার ছবি আমি যখন ও কে দেখিয়েছিলাম ও কিছুই বলে নাই। সত্যিই রাজ যদি তোমাকে ভালোবাসতো তাহলে বিয়ের আসরেও এসেই ও বলতো তোমাকে ভালোবাসে।

পিয়াস কথাগুলো বলে উঠে চলে গেলো। দরজাটা শব্দ করেই বন্ধ করে গেলো আমি আওয়াজ পেয়ে সামান্য কেঁপে উঠলাম।

পিয়াস কি বলে গেলো!! রাজ আমাকে ভালোবাসে না!! রাজ আমার ছবি দেখেছিল কিন্তু তারপরও পিয়াসকে বলেনি যে সে আমাকে ভালোবাসে!!
আমি ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলাম।আমি মোবাইল টা হাতে নিয়ে রাজের নাম্বার ডায়াল করলাম। বুঝলাম ও আমার নাম্বার রিজেক্ট লিস্টে ফেলে রেখেছে। রাগে আমি আমার ফোনটা ছুঁড়ে ফেললাম। দেওয়ালে লেগে ফোনটা আধখানা হয়ে গেলো। আমি মাথার চুল ধরে চিৎকার করতে করতে বসে পড়লাম ফ্লোরে।

দুপুরে ভাবী খেতে ডাকলে জানিয়ে দিই আমার শরীর খারাপ আমি খাবো না। ভাবী আর আমাকে জোর করেনি। তবে রাতে আমি নীচে আসলাম ভাবীকে রান্নার কাজে সাহায্য করার জন্য।

— আলো একটা সত্যি কথা বলবি?

— কি ভাবী বলো।

— সব কিছু ঠিক আছে তো? মানে তোর আর পিয়াস এর সম্পর্ক?

— ভা,, ভাবী,, তুমি হঠাৎ এমন কথা বলছো কেন?

— না পিয়াসকে দেখলাম বে‌শ রেগেমেগে বেরিয়ে গেলো। তাছাড়া তুই আজ সারাদিন নীচে আসলি না দুপুরে খেলিও না তো?

— না না ভাবী সব ঠিক আছে। আমার শরীরটা খারাপ লাগছিলো তাই দুপুরে খাই নাই। সেইজন্য বিকালে খেলাম তো।

— হুম ওই তো এক কাপ চা আর আধখানা বিস্কিট। আলো এতো কম খেলে হয় বলতো! আর তোর যদি খুব শরীর খারাপ লাগে তাহলে পিয়াসকে কল দিয়ে ডক্টর এর কাছে নিয়ে যেতে বল।

— ভাবী ডক্টর এর দেখার মতো কিছু হয় নাই। এমনি শরীরটা ম্যচ ম্যচ করছিলো।

বড়ো ভাইয়া বললো পিয়াস এর আসতে একটু রাত হবে। ভাবী আমাকে খেয়ে নিতে বললো। আমার খেতে ইচ্ছা করছে না। তাই ভাবীকে মিথ্যা বললাম উনি এলে এক সাথে খেয়ে নিব। ভাবী আর কথা বাড়ালো না আমার গালে হাত রেখে মুচকি হেসে চলে গেলো।

পিয়াস বাড়িতে আসে রাত তখন সাড়ে দশটা।

— তুমি জেগে আছো! ঘুমাও নি এখনো?

— আপনি হাত মুখ ধুয়ে নীচে আসুন। আমি খাবার দিচ্ছি।

পিয়াস হয়তো কিছু বলতো আমি না শুনেই নীচে চলে আসলাম। প্লেটে খাবার দিতে দিতে পিয়াস চলে আসলো। আমি গ্লাসে পানি ঢেলে পিয়াস এর সামনে দিয়ে চলে আসতে গেলেই পিয়াস আমার হাতটা ধরে ফেলে।

— বসবা না?

— আমার ভীষণ ঘুম পেয়েছে আমি ঘুমাবো।

— এতোক্ষণ যখন রাত জেগে আমার জন্য খাবার নিয়ে বসেছিলে তখন আমার সামনে বসোই না।

— আমি কারুর জন্য রাত জেগে খাবার আগলে বসে থাকি নি। আপনি এসেছেন আমি জেগে ছিলাম। আর বাড়ির সবাই এখন ঘুমে তাই আমি আপনাকে খাবার বেরে দিয়েছি।

— ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না।

— আমার হাত ছাড়ুন আমি শুতে যাবো।

— এই হাত তো ছাড়বো বলে ধরিনি তাই না।

— মানে,,।

— দেখো আমাকে যদি তোমার জায়গায় ভাবী কিংবা মা খাবার দিতো তাহলে আমার কাছে বসতো। এখন তুমি যখন খাবার বেরে দিয়েছো তোমাকেও যে বসতে হবে।

আমি বুঝতে পারছি আর কিছু বলে লাভ হবে না। পিয়াস শুনবেন ও না। তাই বাধ্য হয়ে আমি বসে পড়লাম পিয়াস এর পাশের চেয়ার টায়। পিয়াস আর একটা প্লেটে খাবার তুলে আমার সামনে রাখলো। আমি পিয়াস এর দিকে তাকাতেই পিয়াস ইশারা করলো খাবারটা খাওয়ার জন্য।

— আমার খাওয়া হয়ে গেছে তো।

— মিথ্যা বলছো তুমি। তোমার চোখ মুখ বলে দিচ্ছে তুমি খাও নি।

— আমার চোখ মুখ দেখে বলছেন আমি খাই নি! আপনি কি কোন জ্যোতিষী নাকি যে গণণা করে বলে দিলেন? আমি তো বলছি আমি খেয়েছি।

পিয়াস হা হা হা করে হাসতে শুরু করলো।

— আলো আমাকে গণণা করতে হবে কেন? খাবারের পরিমাণ দেখেই তো মনে হচ্ছে এইটা দুইজনের খাবার। বাড়িতে সবাই খেয়েছে শুধু তুমি আর আমি ছাড়া।

আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই উনি আমার মুখে খাবার দিয়ে দিলেন। আবার যখন এক লোকমা তুলতে গেলেন আমি হাতটা ধরে নিলাম।

— আমি খেতে পারবো। আপনার খাইয়ে দেওয়া লাগবে না।

পিয়াস আমার দিকে চোখ বড়ো করে তাকালো। আমি আর কিছু বললাম না। পিয়াস আমাকে খাওয়াতে লাগলো আমি খেতে থাকলাম।

🍂
🍂
🍂
🍂

মাঝরাতে সিগারেটের তীব্র গন্ধে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি গুটি গুটি পায়ে ব্যালকেনীতে আসি। পিয়াস একটা জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে আছে। সিগারেট দেখা যাচ্ছে না মনে হচ্ছে একটা আগুনের ডেলা নিয়ে আছে। সিগারেট টা শেষ হয়ে গেছে উনি এবার ফেলে দিবেন। তাই আমি কিছু না বলে চলে আসতে যাবো তখন দেখি পিয়াস ওই সিগারেটের শেষ অংশ টা ঠোঁটে নিতে যাচ্ছে। আমি দ্রুত এসে সিগারেটের শেষ অংশটা ফেলে দিলাম।

— কি করছেন কি? এক্ষুণি তো ঠোঁটটা আপনার পুড়ে যেতো?

পিয়াস আমাকে দেখছে। আমি পিয়াসকে বকছি সেই জন্য নয়। আমি নিজের অজান্তেই কখন পিয়াসের ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে দিয়েছি তা আমি নিজেও জানি না। যখন খেয়াল হলো আমি পিয়াসের থেকে দু হাত দূরে সরে আসলাম। এরপর যখন চলে আসতে গেলাম পিয়াস আমার শাড়ীর আঁচল টেনে ধরলো।

— আমাকে ভালোবাসা যায় না?? আমি কি স্বামী হিসেবে খুব খারাপ??

.
.
.
.
চলবে…. ….
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here