আমার তুমি আছো পর্ব ৬

0
94

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—6

— আমাকে কি ভালোবাসা যায় না?? আমি কি স্বামী হিসেবে খুব খারাপ??

আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না! কি করবো জানি না! পিয়াস আমাকে শাড়ির আঁচল টেনে ধরে কাছে নিয়ে এলো। নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আমার কাঁধে নিজের চিবুক রাখলো।

— বলো না আলো। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি কি আমায় ভালোবাসতে পারবে না?

— জোর করে কখনো ভালোবাসা পাওয়া যায় না। আর আমার মনটা কোন ব্লাক বোর্ড নয় যে মুছে ফেলে আপনাকে বসাবো।

আমি গম্ভীর ভাবে কথাগুলো বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম। পিয়াস ভেতর থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

🍂
🍂
🍂
🍂

— আলো তুই কি করছিস রে?

— এইতো মা নাস্তা বানাচ্ছি।

— আচ্ছা তুই এইসব ছাড় আমি করে নিচ্ছি। এই মলম টা নিয়ে যা তো পিয়াসের কাছে।

— মলম দিয়ে উনি কি করবেন? উনার কি হয়েছে?

— বাবুর ভীষণ মাথা যন্ত্রনা হচ্ছে। রাত জেগে কাজ করছিলো, ঘুম হয়নি তাই মাথার যন্ত্রণা হচ্ছে।

— সারা রাত জেগে কাজ করছিলো না ছাই। সারারাত ধরে বসে বসে সিগারেট খেতে বলো না। মাথা তো যন্ত্রণা করবেই, মাথার আর দোষ কি। (বিড়বিড় করে বললাম)

— কি বলছিস শুনতে পাই না তো! আচ্ছা
তুই গিয়ে ওর কপালে মালিশ করে দে আরাম পাবে।

— মা আমি তো নাস্তা বানাচ্ছি তুমি যাও না।

— আলো তোকে যখন যেতে বলা হচ্ছে তুই যা। আর আমি করে নিচ্ছি তো।

ভাবীর কথা শুনে আর খালাম্মার মুখের দিকে দেখে মলমটা হাতে নিয়ে রুমে আসলাম। উনি মাথার ওপর হাত রেখে শুয়ে আছেন। আমি উনার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। উনি চোখ বন্ধ করে আছেন আমি শুকনা কাশি দিলাম। উনি মাথা থেকে হাত নামিয়ে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন।

— আপনি মলম লাগাবেন।

— লাগবে না নিয়ে যাও ওসব ফালতু জিনিস।

— জ্বী না। মা বলছে মালিশ করলে আপনি আরাম পাবেন।

— মালিশটা কে করবে?

— আমি করে দিব!

আমার কথা শুনে উনি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালেন। এক লাফে শুয়া থেকে উঠে বসলেন। আর আমার হাত টেনে ধরে বিছানায় বসিয়ে দিলেন।

— তুমি আমার কপালে মালিশ করে দিবে!

— হুমম।

পিয়াস কোন কিছু না বলেই আমার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো। আমি উনার এমন হটোকারিতায় বেশ অবাক হলাম। আমি কিছুক্ষণ পিয়াস এর মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকলাম।পিয়াসের ফর্সা মুখটায় পাতলা ঠোঁট দুটো গোলাপী রঙের হওয়ায় বেশ মানিয়েছে । নাকটা কাঠারির মতো। চিবুকে ছোট্ট একটা বাদামী রঙের তিল। আমি পিয়াসকে দেখছি আর ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি। কখনো এইভাবে পিয়াসের মুখ দেখিনি। কি নিষ্পাপ চেহারা,মনে হচ্ছে একটা বাচ্চা ছেলে আমার কোলে মাথা রেখেছে।

— আমাকে ভালো করে দেখা হয়ে গেলে এবার মালিশটা শুরু করতে পারো।

পিয়াসের কথা শুনে আমার ঘোর কাটে আমি নড়েচড়ে বসি। এই মানুষটা চোখ বন্ধ করে আছে, তবু বুঝে গেলো আমি উনাকে দেখছি!! আমি উনার কপালে হাত দিতে বেশ ইতস্ততঃ করছি। অনেকটা জড়োতা নিয়েই উনার কপালে মালিশ শুরু করলাম। বেশ কিছুক্ষণ কাটার পর পিয়াস আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে পাশ ফিরে শুলো। আচমকা এমন আচরণে আমি আরও বেশী ইতস্ততঃ হয়ে পড়লাম।

— আপ.. প..আপনি কি করছেন? এভাবে শুলে আমি মালিশ লাগাই কি করে?

— মাথার যন্ত্রণা সেরে গেছে। আর করার দরকার নেই।

— ওহ তা ভালোই হলো। এবার আমাকে ছাড়েন আমি যাই।

— আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।

— তাহলে ঘুমিয়ে পড়ুন।

— হুম ঘুমাচ্ছি তো।

— বালিশে মাথা রেখে ঘুমান না।

— বালিশে মাথা রাখলে ঘুম আসবে না। তোমার কোলে ঘুমাবো আমার চুলটা টেনে দাও।

— মানে! এই দেখুন আমার নীচে অন..অনেক কাজ আছে। এভাবে আপনার কাছে বসে থাকলে হবে না। আপনি মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। মা মালিশ করতে বলেছিলো তাই আসা। তা নাহলে বয়েই গেছে আমার।

আমি পিয়াসের মাথাটা কোনভাবেই আমার কোল থেকে তুলতে পারছি না। পিয়াস শক্ত করে আমাকে ধরে রেখেছে।

— এই ছাড়ুন না। আমার নীচে অনেক কাজ পড়ে আছে।

— আমার কাছে একবার আসলে আমি না চাইলে যাওয়াটা সম্ভব নয়। তুমি নিজের ইচ্ছায় আসতে পারো। কিন্তু যেতে হবে আমার ইচ্ছায়।

কথাগুলো বলে পিয়াস সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো। উফফ কি ফ্যাসাদে পড়লাম রে বাবা! আমি চাইলেও যেতে পারবো না। ইচ্ছে করছে… কিন্তু এই মূহুর্তে কিছু ইচ্ছেই করছে না।

আচ্ছা এইসময় উনাকে বলে ফেলি আমি রাজকে ভালোবাসি। তাহলে তো উনি আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য। কিন্তু উনার মিষ্টি মুখটা দেখে কিছুই বলতে ইচ্ছে করছে না।

🍂
🍂
🍂
🍂

ঝট করে চোখটা মেলে তাকাই। আমি উঠতে গেলে মনে হয় কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। মুখ তুলে দেখি আমি পিয়াসের বুকের উপর শুয়ে আছি। আর পিয়াস আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। আমি উঠতে গেলেও উঠতে পারি না।

— আমাকে এবার তো ছাড়ুন। আর আমি আপনার বুকে কি করছি? আপনি তো আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে ছিলেন তাহলে? আমি কখন ঘুমিয়ে পড়লাম!

— আমি কি জানি! আমার ঘুম ভাঙ্গতে দেখলাম তুমি আমার বুকের উপর! তোমার জন্য আমি অফিস টাও যেতে পারলাম না।

— এই একদম বাজে কথা বলবেন না। আপনিই তো আমাকে…আচ্ছা আপনি আমার সাথে কিছু করেননি তো?

— আলো থাপ্পড় মারবো তোমায়। তুমি কি বাচ্চা মেয়ে?কিছু হলে বুঝতে পারবে না?

পিয়াস আমাকে নিজের বুক থেকে তুলে উঠে বসে।

— হুম।

আমি নিজেই নিজেকে অপ্রস্তুতে ফেলে দিই। আমি মুখ নীচু করে বসে থেকে ঘড়ির দিকে তাকাই। ঘড়িতে এখন বেলা 1:00 টা বাজে। আমি চিৎকার করে ফেলি।

— কি হল! চিৎকার করছো কেন?

— এখন 1:00 টা বাজে! আমি সেই সাত সকালে রুমে ঢুকেছি আর এখন দুপুরবেলা!

— তো কি হইছে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো?

আমি আর কিছু না বলে নীচে চলে আসি।

🍂
🍂
🍂
🍂

ব্যালকেনিতে থাকা চেয়ারটায় বসে শরৎচন্দ্রের “পল্লীসমাজ” পড়ছিলাম। এই “পল্লীসমাজ” গল্পের বিষয় বস্তু পুরোটাই পল্লীর অর্থাৎ গ্ৰামের দুবেলা দুমুঠো ভালো ভাবে না খেতে পাওয়া মানুষ গুলোর কথা মূল আলোচ্য বিষয় হলেও, রমা ও রমেশের যে প্রেম কাহিনী আছে তা বড়োই মধুর ও মিষ্টি সম্পর্ক। যদিও বা এদের প্রেম কাহিনী শরৎচন্দ্র তেমন ভাবে উপস্থাপনা না করলেও , যতোটা করেছেন ততোটাই গভীর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই তো বারবার এক জিনিস পড়ে যাই এই রমা ও রমেশের টানে।

আমি এক মনে গল্পটা পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার হাত থেকে বইটা কেউ নিয়ে নেয়। আমি রেগে গিয়ে চোখ তুলে দেখি পিয়াস বইটা নিয়েছে।

— কি ম্যাডাম এখানে বসে বই পড়া হচ্ছে বুঝি!

— দেখতেই তো পাচ্ছেন। বইটা দিন তো এমন ফাজলামি ভালো লাগে না কিন্তু।

— ও আচ্ছা নিজের তো টাইম পাস হচ্ছে ভালোই। আর এদিকে আমি বসে বসে বিরক্ত হচ্ছি ।

— তা আপনি বসেই বা আছেন কেন? কাজ নেই আপনার?

— কাজ! প্রথম কথা তুমি আমাকে আজ অফিস যেতে দাও নি। তাই তো বাড়িতে বসেও কাজ করতে হচ্ছে করছে না। কি করবো ভালো লাগছে না ধূরররর,,।

— ভালো না লাগলে সিগারেট ফুঁকুন। আমাকে বইটা দিয়ে যানতো এখান থেকে। গুরুত্বপূর্ণ একটা লাইন পড়ছি তো দিন বইটা দিন।

— বউ থাকতে সিগারেট ফুঁকতে যাবো কেন? বইতো আর তুমি পাচ্ছো না। বিছানার উপর যেই জিনিস গুলো আছে সেগুলো পড়ে রেডী হয়ে নাও দশ মিনিট এর মধ্যে।

— মানে কি! কোথায় যাবো?

— এতো প্রশ্ন ভালো লাগে না তাড়াতাড়ি রেডী হয়ে যাও।

পিয়াস কথাগুলো এবার বেশ রেগেই বললো। আমি রুমে এসে দেখি বিছানার ওপর একটা গাঢ় গোলাপী রঙের শাড়ী। তার ওপর একগোছা কালো চুড়ি , কাজল আর লিপস্টিক আছে। আমি পিয়াস এর দিকে তাকালাম।

— কি হল রেডী হয়ে নাও বলছি। আর হ্যা যেগুলো রেখেছি সেগুলোই পড়বা। তার বেশি কিছু না।

আমি নিজেকে সাজিয়ে নিলাম। গাঢ় গোলাপী শাড়ী আর কালো চুড়িতে আমাকে মনে হয় বেশ লাগছে।কালো রঙের চুড়ি গুলো আমার হাতে বেশ মানিয়েছে। চুলটায় সোজা সিঁথি ফেলে হাত খোপা করে ফেলি। চোখে মোটা করে কাজল দিলাম। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক বুলিয়ে নিলাম।

আমি বাড়ির বাইরে এসে দেখি পিয়াস বাইক স্টার্ট করছে। এই বাইকে যেতে হবে না কি!!
.
.
.
.
চলবে….. ,,…..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here