আমার তুমি আছো পর্ব ৭

0
88

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—7

— চলে আসো দাঁড়িয়ে না থেকে।

— বাইকে যাবো! আমি বাইকে যেতে পারবো না। আর আপনি আমাকে কেন বলেছেন না কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

— গেলেই দেখতে পাবে এখন আসো তো।

পিয়াস আমার হাত ধরে টেনে এনে বাইকের সামনে দাঁড় করালো। বাইক স্টার্ট দিয়ে আমাকে ইশারা করলো বাইকে বসার জন্য। আমি আর কোন উপায় না দেখে বাইকে উঠে বসলাম। তবে উনার দেখে দূরত্ব রেখেই বসলাম।

পিয়াস বাইক চালাচ্ছে আর গুণ গুণ করে গান গাইছে। মাঝে মাঝে বাইকটাকে আঁকিয়ে বাঁকিয়ে চালাচ্ছে। আবার কখনো এমন ভাবেই স্লো হয়ে যাচ্ছে যে আমাকে পিয়াসকে জড়িয়ে ধরতে হচ্ছে।আমার এতো পরিমাণে রাগ উঠছে আমার বলার ভাষা নেই।

প্রায় আধঘন্টা পর পিয়াস আমাকে একটা নদীর তীরে নিয়ে এলো। আমি বাইক থেকে নেমে দাঁড়াতেই মনে হল এক দমকা বাতাস আমার শরীর স্পর্শ করলো। হঠাৎ পিয়াস আমার চুলেটা খুলে দেয়। আমি রাগ দেখিয়ে পিয়াসকে কিছু বলতে যাবো অমনি আর এক দফা বাতাস আমার চুলগুলোকে উড়িয়ে মুখের সামনে আনলো। ঠান্ডা বাতাসটা বেশ ভালোই লাগছে। অনেকদিন পর নদীর তীরে আসতে বেশ ভালো লাগছে। আমি ছুটে চলে এলাম একটা জায়গায়। যেখানে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে পায়ের পাতাগুলো নদীর পানি ছুঁয়ে যাবে আবার নদীর সৌন্দর্য্য দেখা যাবে।

আমি এসে বসলাম। মাথার ওপর নীল আকাশ আর নীচে ঘোলাটে পানি পায়ের পাতাদুটোকে ঠান্ডা করিয়ে দিচ্ছে। বেশ ভালো লাগছে, ক্লান্তি গুলো যেনো এক নিমেষেই মুছে গেলো।

— তোমার ফেভারিট আইসক্রিম চকলেট ফ্লেভার।

আচমকা পিয়াস আমার চোখের সামনে আইসক্রিম ধরে। পিয়াস হেসে আমাকে কথাগুলো বললো। আমি পিয়াস এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। আমি বুঝতে পারছি না এই লোকটা কি করে জানলো আমার আইসক্রিম চকলেট ফ্লেভার ফেভারিট!!

— কাউকে ভালোবাসলে সব সম্ভব। সে কি খেতে ভালোবাসে। তার পছন্দের রং সব জানা যায়। দেখো তোমার তো গোলাপী আর কালো রং টাই বেশি ফেভারিট । তাই তো আমি আজ তোমার রং এই তোমাকে রাঙালাম। ভালোবাসি তো তাই তোমার মনের সব কথাই জানি।

— হুম সব জানেন। জানলে আর জোর করে বিয়ে করতেন না।

আমি পিয়াস এর চোখে চোখ রেখে কথাগুলো বললাম। কথা শুনে পিয়াস এর মুখটা কালো হয়ে গেল। তবু মুখে হাসি টেনে এনে আমার সামনে আইসক্রিম তুলে ধরলো। চোখের ইশারায় আমাকে খেতে বললো। আমি মুখটা অন্যপাশে ঘুরিয়ে নিলে পিয়াস আমার গাল ধরে আমার মুখে আইসক্রিম খাইয়ে দিলো।

আমি আর কিছু বলতে পারছি না। পিয়াস আমাকে আইসক্রিম নিজের হাতে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন। আর আমি চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছি বাধ্য মেয়ের মতো।

আইসক্রিম খাওয়ার পর পিয়াস আমার হাতটা শক্ত করে ধরলো। তবে আমাকে কিছু বললো না আর আমিও কিছু বললাম না। দুজনে নিরবে বসে রইলাম নদীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে। এইভাবেই এক ঘণ্টা কাটার পর পিয়াস আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,,

— বাড়ি ফেরা যাক।

আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম।রাস্তার ধারে পিয়াস হঠাৎ বাইক থামিয়ে দিলো। আমি একটু বিরক্ত হলাম। কিন্তু সোজা তাকিয়ে দেখি ফুচকা! তাহালে কি উনি আমাকে ফুচকা খাওয়াবেন বলে এখানে থামালেন!!

— তোমার আর একটা ফেভারিট জিনিস। এটা ছাড়া তো বিকালে ঘুরতে বেরোনোটাই তোমার বেকার হবে।

— আপনি সত্যিই আমাকে ফুচকা খাওয়াবেন? আমি না অনেকদিন ফুচকা খাইনি।

আমি কথাগুলো বলেই জিভ কাটলাম। উনি আমাকে হ্যাংলা ভাববেন না তো আবার! আর তাছাড়া অপরের টাকায় এভাবে খাওয়াটাও তো উচিৎ নয়। আমি মুখটা নিচু করে নিলাম।

— আমি জানি তো এখন চলো । আজকে দেখবো তুমি কতোগুলা ফুচকা খেতে পারো!

— বাড়িতে চলুন আমার আজ খেতে ভালো লাগছে না।

পিয়াস আর কোন কথা বললো না। আমাকে বাইক থেকে নামিয়ে হাত ধরে ফুচকার কাছে নিয়ে চলে এলো।

— মামা আমার মিষ্টি বউ টার জন্য বেশি করে ঝাল আর টক দিয়ে আনলিমিটেড ফুচকা বানিয়ে দেন তো।

আমি পিয়াস এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি এই লোকটা বলে কি! আনলিমিটেড ফুচকা আমি খাবো!

— ওই কি বলেন আপনি? আমি কি রাক্ষসী না কি যে আনলিমিটেড ফুচকা খাবো।

— তুমিই তো বললে অনেকদিন ফুচকা খাওনি। তাই ভাবলাম হয়তো,,,।

— এই আপনি থামুন তো। খুব বেশী হলে তিন প্লেট খেতে পারি।

— আচ্ছা আপনি যা বলবেন।

পিয়াস আমাকে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। আর ফুচকাওয়ালা মামা আমার সামনে এক দুই করে তিন প্লেট ফুচকা রাখলেন। প্রথমে তো অনেক দিন পর ফুচকা পেলাম। আর চোখের সামনে ফুচকা গুলো দেখে মনে হচ্ছে ফুচকা গুলো যেনো আমার মুখে ঢুকে পড়বে। আমি আর কোনদিকে না দেখেই টপাটপ ফুচকা খেতে শুরু করলাম। মাঝখানে খুব জোর বিষম খেলাম।

পিয়াস আমাকে পানি খাওয়াচ্ছে আর মাথায় ফুঁ দিচ্ছে। আমি কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হলাম। পিয়াস বেশ ধমকের স্বরেই বললো,,,

— আরে বাবা তুমি এতো তাড়াতাড়ি করছো কেন? ধীরে ধীরেই খাও না। তোমার ফুচকা তো কেউ খেয়ে নিচ্ছে না বা উবেও যাচ্ছে না!

আমি উনার দিকে তাকিয়ে মুখ নীচু করে ফেলি। আমার মনটা এতোক্ষণ ভালো থাকলেও, এবার মনটা বেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। আমার চোখে পানি ছলছল করছে। এই মুহুর্তে রাজের কথা খুব বেশী মনে পড়ছে। আমি নিজের অজান্তেই বলে ফেলি,,,

— জানেন আমার না প্রায়ই ফুচকা খেতে গেলে বিষম লাগে। আর রাজ আমাকে এইভাবেই পানি খাওয়াতো, মাথায় ফুঁ দিয়ে দিতো। আমি অনেক মিস করছি রাজকে।

আমি কথাগুলো বলে চোখের পানি মুছে নিয়ে পিয়াস এর দিকে তাকাই। উনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে আছেন। বেশ গম্ভীর গলায় বলেন,,

— খাওয়া হয়ে গেলে চলে আসবে। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।

উনি যে আমার বলা কথায় রেগে গেলেন তা উনার কথাতেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু উনি তা প্রকাশ করলেন না। আমিও আর ফুচকা খেলাম না উনার পিছু পিছু বাইরে বেরিয়ে আসলাম। উনি যখন ফুচকা দাম দিচ্ছিলেন তখন আমার ভাবীর কথা মনে পড়লো।

— একটা কথা বলবো?

উনি আমার দিকে তাকালেন না। মাথাও নাড়লেন না। ভ্রু কুঁচকে ওয়ালেট পকেট ঢুকাচ্ছেন।

— শুনুন না বলছিলাম কি, ভাবীও তো ফুচকা খেতে অনেক ভালোবাসে। আর মা ও ফুচকা খেতে সেই বাসেন। বলছিলাম বাড়িতে ফুচকা নিয়ে চলুন না। আমার ওদের জন্য খারাপ লাগছে। আমি ফুচকা খেলাম আর ওরা খাবে না। প্লিজ না করবেন না।

পিয়াস আমাকে কিছু বললো না। ফুচকা বাড়ির জন্য নিয়ে নিলো। বিকালে আসার সময় যতোটা উনাকে প্রাণখোলা দেখেছিলাম এখন ঠিক তার উল্টো। উনি স্বাভাবিক ভাবেই বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাড়িতে আসতেই ভাবী আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

— কি রে বরের সাথে ঘুরতে গিয়ে কেমন লাগলো? খুব মজা করেছিস তো বল?আমি উনার দিকে তাকালাম। উনি বাইকের চাবি রেখে দিয়ে সোফায় বসলেন। আমি মুখে হাসির রেখা টানলাম।

— ও ভাবী এই দেখো আমি তোমাদের জন্য কি নিয়ে এসেছি , ফুচকা!

ভাবী মনে হয় লাফাতে চেয়েছিলো কিন্তু নিজেকে দমিয়ে রাখলো। মুচকি হেসে আমার গাল দুটো টিপে আমার হাত থেকে প্যাকেট গুলো নিয়ে কিচেনে চলে গেলো। আর ঠিক সেই সময়ে বড়ো ভাইয়াও বাড়িতে আসে।

— কি রে তোরা মিঞা বিবি কোথাও বেরিয়েছিলি না কি?

পিয়াসের পাশে বসে বড়ো ভাইয়া কথাগুলো বললো। পিয়াস মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো। আমি ফ্রেশ হওয়ার জন্য রুমে যাবো ওমনি বড়ো ভাইয়া ডাকলো।

— আলো আয় আমার কাছে বস।

আমি বড়ো ভাইয়ার কথায় সোফার কাছে গেলাম। বড়ো ভাইয়া সরে এসে আমাকে উনার পাশে বসতে বলেন। আমি পাশে বসলেই বড়ো ভাইয়া উঠে দাঁড়িয়ে পরে।

— আলো তোদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে!!

.
.
.
.
চলবে…… …..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

(আচ্ছা কেউ কি আন্দাজ করতে পারবেন বড়ো ভাইয়া আলোকে কি সারপ্রাইজ দিবে 🤔🤔)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here