আমার তুমি আছো পর্ব ৮

0
88

#আমার_তুমি_আছো

#Season_3

#Susmita_Jana

Part—8

বড়ো ভাইয়া কি সারপ্রাইজ দিতে চাইছে! আমি একবার পিয়াসের মুখের দিকে তাকালাম। তারপর আবার বড়ো ভাইয়ার দিকে তাকালাম। বড়ো ভাইয়া মুচকি হাসলো।

— আলো প্যাকিং শুরু করে দে।

— প্যাক..প্যাকিং কিসের?

— তোরা এক সপ্তাহের জন্য কক্সবাজার যাচ্ছিস। এই নে তোদের টিকিট। ওখানের নামি হোটেল তোদের জন্য বুকিং করা হয়েছে।

— ওয়াও! ব্রো ইউ আর গ্রেট!

পিয়াস লাফিয়ে উঠে বড়ো ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরলো। আমি কোন কথা না বলে রুমে চলে আসলাম। খুব কান্না পাচ্ছে আমার। রাজ তুমি কোথায়? আমি আর নিতে পারছি না। জোর করে একটা মানুষের সাথে থাকতে হচ্ছে। এখন আবার নতুন নাটক কক্সবাজার। আর পারছি না আমি।

পিয়াস রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দেয়। আমি কাঁদছি দেখে আমার চোখের সামনে রুমাল ধরে। আমি হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে মুখ ঘুরিয়ে থাকি।

— আজ রাত দশটার ফ্লাইটে আমরা যাবো। তাড়াতাড়ি প্যাকিং শুরু করো।

— আমি কোথাও যাবো না। আপনার সাথে বিকালে ঘুরতে বেরিয়েছি বলে এই নয় যে, আমি এক সপ্তাহ আপনার সঙ্গে বাইরে গিয়ে রাত কাটাবো।

আমি কথাটা বলার সাথে সাথেই পিয়াস আমাকে টেনে তুললো। আমার হাতটা পেছনে মুড়িয়ে ধরলো।

— আমার সঙ্গে বাইরে রাত কাটাবি না তো কার সাথে কাটাবি? (গম্ভীর স্বরে)

— কার সাথে কাটাবো জানেন না? (চিৎকার করে)

— এই চিৎকার করবি না একদম। চুপ চাপ ব্যাগ প্যাক করে রেডি হয়ে নীচে আয়।

— বলছি তো আমি যাবো না শুনতে পাচ্ছেন না।

— আমি কোন সিনক্রিয়েট করতে চাইছি না। সেদিন এর মারের কথা মনে আছে তো?

— ও না গেলে মারবেন বুঝি!পিয়াস আমার গাল দুটো শক্ত করে চেপে ধরে।

— সেদিন মেরেছিলাম আজ মেরে ফেলবো। কথা বাড়াস না।

পিয়াস আমাকে ছেড়ে দিলো। আমি মেঝেতে বসে পড়লাম। এরপর পিয়াস নিজেই জামাকাপড় প্যাক করা শুরু করলো। প্রায় এক ঘন্টা পর আমার হাত টেনে ধরে নীচে নিয়ে আসলো।

🍂
🍂
🍂
🍂

ফ্লাইটে উঠে পিয়াসের সাথে একটা কথাও বলি নি। শুধু চোখের পানি ফেলেছি। পিয়াসও আমাকে কিছু বলে নি। কখন যে দুচোখের পাতা বুজে গেছে জানি না। হঠাৎ আমার গালে কারুর হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম। চোখ খুলে দেখি পিয়াস হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। আমি প্রথমটা বুঝতে পারি নাই। তারপর খেয়াল করলাম আমি উনার কাঁধে মাথা রেখে আছি। আমি দ্রুত মাথা তুলে সরে আসলাম।

— আলো চলো এবার আমাদের নামতে হবে।

পিয়াস কারুর হাতে আমাদের লাগেজ গুলো দিয়ে কি যেনো বললো। তারপর আমাকে সমুদ্রের ধারে নিয়ে আসলো। এখন ভোরবেলা চারদিকে পাখির কিচির মিচির আওয়াজ আসছে। আর সমুদ্র থেকে যে ঢেউ গুলো উঠে আসছে তা পায়ের পাতা ভিজিয়ে দিচ্ছে। আমার শাড়িটা ভিজিয়ে দিলেও কিন্তু ভালো লাগছে। আধো আলোতে সমুদ্রের ঢেউ গুলো যেনো কিছু বলতে চাইছে!

হঠাৎ পিয়াস আমার কোমড়ে এক হাত রেখে সমুদ্রের দিকে তাকালো। আমি উনার হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছি কিন্তু উনি যেভাবে শক্ত করে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরেছে, আমি পারছি না। উনার দিকে বাঁকা চোখে তাকালাম।

— এটা কি অসভ্যতামি হচ্ছে ছাড়ুন বলছি।

— উহু ছাড়বো না। অনেকদিন এর স্বপ্ন ছিলো ভালোবাসার মানুষটাকে পাশে নিয়ে সকালের সূর্য উঠা দেখবো। আর বিকালে সূর্য ডোবা দেখবো।

— জানেন আমারও অনেক ইচ্ছা আমার ভালবাসার মানুষ টার আঙুলের ভাজে আঙুল ঢুকিয়ে পায়ে পা মিলিয়ে সমুদ্রের তীরে হাটবো। আমি চাই রাজের সাথে সূর্য ওঠা দেখবো।

আমার কথা শুনে পিয়াস কোন রিএক্ট করলো না। আমাকে আরও বেশী শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

🍂
🍂
🍂
🍂

হোটেল রুমে ঢুকতেই পিয়াস বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি দেখে পিয়াস আমাকে টান দিয়ে উনার ওপর ফেলে দিলো। আমি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে এলাম। তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে দেখি পিয়াস কোথাও নেই। খুট করার শব্দ কানে আসতেই দেখি পিয়াস রুমে ঢুকলো।

— কোথায় গিয়েছিলেন?

— একজনের সাথে দেখা করে আসলাম।

— এখানে কতোদিন থাকতে হবে?

— সবেমাত্র এলাম তো। আপাতত সাতদিন থাকার প্লান। কিন্তু প্রয়োজন হলে আরও কিছু দিন থাকবো।

— আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আর যদি থাকতেই হয় আমি আলাদা রুমে থাকবো। আপনার সাথে এক রুমে থাকতে পারবো না।

— তুমি কি সব বলছো? আরে আমি তোমার স্বামী। তুমি আমার সাথে এক রুমে থাকবে না তো কার সাথে থাকবে? ওই রাজের সাথে? লজ্জা করে না স্বামী থাকতে পর পুরুষের কথা ভাবতে।

পিয়াস কথাটা বলেই আমার গালে সজোরে এক থাপ্পড় মারলো। আমি গালে হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠি।

— আমি রাজকেই ভালোবাসি। আর রাজকেই স্বামী হিসাবে চাই। আর পরপুরুষ রাজ নয় আপনি।

— শোনো আমার মাথা গরম করাবে না। ঘুরতে এসেছো ইনজয় করো। একটাও ফালতু কথা বলবে না বুঝতে পারছো।

— এখন রেস্ট করো,একটু পর রুমে খাবার আসবে।

পিয়াস আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে আমার পাশে শুয়ে পড়লো। একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে শুরু করলো। আমি বিছানায় বসে নিঃশব্দে কান্না করছি। মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে উঠছি। অনেকক্ষণ পর আমাদের রুমের দরজায় নক পরলো। পিয়াস গিয়ে দরজা খুলতে একজন এসে খাবার দিয়ে চলে গেলো। উনি আমার সামনে খাবার এর প্লেটটা ধরলেন।

— কান্না করে তো সমুদ্র বানিয়ে ফেলেছো। খাবার টা খেয়ে নাও।

আমি এবার ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকি। উনি ধমকে উঠলেন। তাতে আমি আরও বেশী ফোঁপাতে লাগলাম। উনি যখন পুনরায় ধমকে উঠলেন তখন আমি চুপ হওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ফোঁপানো কিছুতেই কমছে না। থামছি আবার ফোঁপাচ্ছি কষ্ট হচ্ছে। উনি আমার গাল দুটো চেপে ধরলেন। আমি ফোঁপাতে শুরু করলাম।

— আহ্.. আম..আমার ..গা., লে.. গালে.. ব্যাথা.. করছে।

— না থামলে আরও বেশি ব্যাথা করবে।

পিয়াস আমাকে জোর করে পানি খাইয়ে দিলো। তাতে ফোঁপানোটা একটু যেনো কমলো। এরপর পিয়াস আমাকে খাবার খাওয়াতে লাগলো। খাওয়ার শেষে আমার মুখ পরিস্কার করে দিয়ে গালে একটা চুমু দিলো।

— চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকো। আমি না ডাকলে চোখ খুলার চেষ্টাও করবে না।

কথাটা বেশ ধমকের স্বরে বললো। আমি চুপচাপ শুয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম।

🍂
🍂
🍂
🍂

না চাইতেও আমাকে বেরোতে হলো। পিয়াস এর হাতে হাত ধরে বালির মধ্যে হেঁটে চলেছি। হঠাৎ দূরে একটা সাদা শার্ট পড়া কেউ একজন হাঁটছে। আমার বুঝতে অসুবিধা হলো না মানুষ টা কে! আমি পিয়াস এর হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে চলে গেলাম।।
.
.
.
.
চলবে…. …..
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here