একটুখানি সুখ পর্ব ১২

0
70

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ১২

ফুঁপিয়ে কাঁদছে মোহ। হাঁটু ভাঁজ করে গুটিশুটি মেরে বেডের ওপর বসে আছে সে। কান্নার মাঝে মাঝে মৃদু কেঁপে উঠছে। পাশেই বসে আছেন মিসেস. নিরা। চিন্তিত চোখেমুখে মোহের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন উনি। পাশেই চারজন সার্ভেন্ট ঘর গোছাতে ব্যস্ত। একজন পরিষ্কার করছে ওই ড্রেসিংটেবিল যেখানে রক্ত দিয়ে লিখা ছিল। দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মোহের কাঁধে হাত রাখলেন মিসেস. নিরা। আর শান্ত সুরে বললেন,
“কাঁদিস না। কাঁদছিস কেন? দেখ আমি তো আছি।”

“এসব আমার সাথে মিমি? আমি তো কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। আমার জীবনটা কেমন জানি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কিছু ঠিকঠাক সাজাতে পারছি না। আর এসব লিখা আর রক্ত কোথা থেকে আসলো?”

“কাল তোর ঘরে কেউ এসেছিল? তুই তো দরজা লক করে ঘুমিয়েছিলি। দরজা কখন খুলেছিস?”

মোহের কান্নাটুকুও থেমে যায় এবার। দরজার দিকে তাকায় বিস্ময়ের সাথে। সত্যিই তো! সে দরজা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে ঘুমিয়েছিল। চাবি হলে তবেই খোলা যেত। সে হতভম্ব হয়ে জবাব দিল,
“আমি তো দরজাই খুলিনি।”

হতবাক হলেন এবার মিসেস. নিরাও।
“তাহলে কি বাড়ির কারোর কাজ এটা? চাবি ছাড়া তো লক খোলা সম্ভব নয়।”

“বাড়ির কারোর কাজ হতে পারে না এটা। কারণ লোকটা আমাকে চেপে ধরেছিল। বেশ লম্বা ছিল। আর কন্ঠটাও অদ্ভুত। শরীরে বেশ শক্তি ছিল। একহাত দিয়ে আমাকে ধরে রেখেছিল। এবাড়িতে যারা কাজ করে তারা বেশির ভাগ মেয়ে। আর পুরুষ বলতে শুধু দারোয়ান মামারা আছেন। উনারা বিশ্বস্ত আর এমন কাজ করার ক্ষমতাও নেই।”

এবার মোহের কথায় কনফিউজড হয়ে পড়লেন মিসেস. নিরা। বাড়ির কিছুই চুরি যায়নি। অথচ মোহকে অজ্ঞান করা হয়েছে। ইভেন বাড়িতে যারা যারা ছিল এতকিছু হবার পরেও তাদের ঘুমটা ভাঙেনি। বিষয়টা অদ্ভুত ঠেকল উনার কাছে। বিষণ্ণ মনে এবার মোহের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ সুরে বলল,
“একটা কথা সত্যি করে বল তো মোহ!”

“কি?”

“স্বচ্ছ আর তোর মাঝে কিছু চলছে? মানে তোদের মাঝে কোনো সম্পর্ক…”

কথাটুকু শোনামাত্র ঘৃণ্য দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বিরক্তির সুরে কথার মাঝপথেই মোহ তার মিমিকে থামায়।
“মিমি তুমিও আমাকে অবিশ্বাসের খাতায় ফেলছো। তোমার কি মনে হয়? আমি ওই লোকটা যার ম্যানার্স নেই। ভদ্রতা নেই তার ওপর যার সঙ্গে আমি ছোট থেকে মুখোমুখি হলেও কথা বলিনি। মা-বাবা মানা করে দিয়েছে কথা বলতে তার সঙ্গে আমার এসব সম্পর্কের কথা কেন আসছে?”

“কারণ টিভিতেও নিউজ এটাই দেখাচ্ছে আর তোদের ছবিগুলো আমিও দেখেছি। ছবিগুলো দেখে যেকোনো মানুষের মাথায় এসব আসবে।”

“তো? তাই বলে আমাকেও সন্দেহ করছো তুমি? আর ওসব… ওসব ছবি তো এক্সেডেন্টলি উঠেছে। কে তুলেছে জানি না। রেস্টুরেন্টের বাহিরের ছবিটা ওটা আমার পায়ে ব্যথা লেগেছিল আর ভার্সিটির বাহিরের ছবিটা…”

বলে থামল মোহ। ভ্রু কিঞ্চিৎ বেঁকে গেল তার। মনে পড়ল ভার্সিটির বাহিরে স্বচ্ছের কর্মকান্ড। সন্দিহান মনে প্রশ্ন জাগল অযথা তাকে স্বচ্ছের বাইকে উঠানোর কি প্রয়োজন ছিল তাও কোলে করে? কোথাও এসব স্বচ্ছের কারসাজি নয় তো? না হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্বচ্ছ যেমন ছেলে এমন তো করতেই পারে! ধড়ফড়িয়ে উঠে দাঁড়াল সে। চোখেমুখে এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। মুখ এখনো ফুলে রয়েছে। সে অবস্থাতেই কারোর কথায় পাত্তা না দিয়ে হাতে একটা জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল সে।

একেবারে দ্রুত ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে মুখে ওড়না পেঁচাতে পেঁচাতে বলল,
“মিমি আমি আসছি।”

“এই সময় কোথায় যাচ্ছিস তুই? এখন বাহিরে গেলে জানিস কি অবস্থা হবে? প্রেস মিডিয়ার লোকের হাতে হেনস্তা হতে পারিস।”

“হলে হবো। কিন্তু কিছু প্রশ্নের উত্তর চাই আমার। যেটা একমাত্র স্বচ্ছ ভাইয়ের কাছে গেলে তবেই পাব।”

“কিন্তু! শোন আমার কথা।”

কে শোনে কার কথা। হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মোহ। স্বচ্ছ নামক অস্বচ্ছ ব্যক্তিটির ওপর বেজায় রাগ চেপেছে তার। মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে সে। কেন করল এমন? কেন করল তাকে বদনাম? এমনটা করার কোনো কি কারণ ছিল আসলেই?

মার্বেল পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উঠে কারুকার্য করা বড় দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় মোহ। দরজাতে টোকা দিতেই দরজার ওপাশ থেকে কেউ হিংস্রতার সাথে বলে ওঠে,
“বার বার ডাকছো কেন মা? আই সেইড দ্যাট, লিভ মি অ্যালন! বিরক্ত করলে খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।”

মোহ উত্তর দেয় না। আবারও দরজায় টোকা দেয়। এবার ওপর থেকে স্বচ্ছ বিরক্ত হয়েই উত্তর দেয়,
“একটু রেহাই দাও মা। আই রিকুয়েষ্ট ইউ। আই এম টায়ার্ড।”

স্বচ্ছের আর বলার অপেক্ষা রাখে না মোহ। দরজা খুলে ঢুকে যায় ভেতরে। ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে তার চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়। এটা ঘর নাকি স্টোররুম? ফ্লোরে পড়ে আছে শার্ট আর প্যান্ট। যেটা কালই স্বচ্ছ পড়ে ছিল। সোফার কুশন এলোমেলো। কোনটা নিচে পড়ে আছে। কয়েকটা কাঁচের শোপিচ নিচে পড়ে ভেঙে একেবারে যা-তা অবস্থা। এর আগেও স্বচ্ছের রুমে এসেছিল সে। এতো বেশি অগোছালো ছিল না তার ঘর। বেডের চাদরটাও বেশিরভাগ নিচে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মোহের নাকে এসে ঠেকে বিদঘুটে গন্ধ। চোখমুখ কুঁচকে তাকায় বেডের দিকে।

অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে স্বচ্ছ। গায়ে কিছু নেই। শুধু জিন্সের প্যান্ট আর উদাম গায়ে বসে আছে সে। তার দৃষ্টি জানালার দিকে। চোখ বড় বড় হয়ে আসে মোহের। কান গরম হয়ে যায়। মানুষটা কি বাড়িতে জামাকাপড় পড়তে পারে না? অবশ্য ভুলটা তারই। আরো কয়েকবার ঠকঠকিয়ে আওয়াজ দিয়ে ভেতরে আসা উচিত ছিল। দৃষ্টি নামিয়ে নিতেই স্বচ্ছের কথায় চমকে ওঠে মোহ।

“ওহ, ইউ? কি করছো আমার বাড়িতে এসময়?”

ঘনঘন ফেলতে থাকে চোখের পলক। ঘন শ্বাস নিতে নিতে ভাবতে থাকে মোহ। লোকটা কি করে তার উপস্থিতি বুঝতে পারল? সে তো এখনো অন্যদিকে ফিরে বসে আছে। তৎক্ষনাৎ স্বচ্ছ আবারও দুর্বল সুরে বলল,
“জানালার থাই গ্লাসে তোমায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রূপবতী কন্যা!”

কথাটা যেন মোহকে বেশ চমকে যায়। এক অদৃশ্য আড়ষ্টতায় ঘিরে ধরে। চোখমুখ লাল হয়ে তার। ঢক গিলতেই ঘুরে বসে স্বচ্ছ। আরো একদফা চমক খায় সে। বেগতিক অবস্থা স্বচ্ছের। মাথায় মোটা করে ব্যান্ডেজ করা, গালে কালসিটে দাগ, ঠোঁট ফেটে গিয়েছে সাইডের দিকে। চোখ লাল হয়ে রয়েছে বেশ। একহাতে কাঁচের মদের বোতল আর অন্যহাতে সিগারেট। এর মানে একটাই। স্বচ্ছ আবারও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মোহের মাথাতেই আসছে না এই অবস্থায় কেউ নেশা করতে পারে? স্বচ্ছ বেশ আহত। এই অবস্থায় ড্রিংকস করা মোটেই পোষাচ্ছে না মোহের। ভ্রুযুগল কুঁচকে তাকিয়ে আছে সে। তার মনে হয় এখন এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া ভালো। আবারও যদি সেদিনের মতো কিছু একটা করে বসে?

বাহিরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায় মোহ। স্বচ্ছের কন্ঠস্বরে আবারও থামে সে।
“হেই ওয়েট! আমি সেদিনের মতো এতোটা মাতাল হইনি। জ্ঞান আছে আমার। যা বলতে চাও বলতে পারো।”

ভাইরাল ছবিগুলোর কথা মাথাতে আসতেই রাগ নিয়ে ঘুরে তাকায় মোহ। চোখ বুঁজে মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে মদের বোতলটা নিচে রেখে উঠে দাঁড়ায় সে। মোহের গলা শুঁকিয়ে যায়। তার সামনে উদাম গায়ে স্বচ্ছ এগিয়ে আসছে। তবে স্বচ্ছের ক্ষতগুলো দেখে বেশ সন্দেহ হয় তার। সে আহত! কাল তো ঠিক ছিল। একরাতে কি হলো তার?

“বলো কি বলবে?”

মোহ নিজেকে সামলিয়ে কড়া গলায় বলে,
“কিছু বলার মুখ রেখেছেন আপনি?”

“কেন? তোমার কথা বলার জন্য ঠোঁট নেই। ঠোঁট খেয়ে ফেলেছি?”

চরমভাবে বিষম খায় মোহ। এ কেমন কথাবার্তার ধরণ? তার গাল, কান আর নাক লাল হয়ে যায়। অথচ স্বচ্ছের দৃষ্টি স্বাভাবিক। লাল চোখজোড়া দিয়ে তার দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মোহ হালকা কাশতেই স্বচ্ছ আবারও বলে,
“খেয়ে টেয়ে তো ফেলিনি যে বলতে পারবে না। দিব্যি কথা বলছো। তাহলে আমার মতো একটা ছেলেকে তোর ঠোঁট খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করছো কেন?”

দাঁতে দাঁত চেপে তাকায় মোহ। কিড়মিড় করে বলে,
“দেখুন, এসব অসভ্য কথাবার্তা একদম বলবেন না। আমার ভালো লাগে না। তাছাড়া আপনি জানেন না তাই না কি হয়েছে? সত্যি জানেন না? আমার সাথে এতোকিছু করে কি পেলেন আপনি?”

“আমি আবার কি করলাম তোমার সাথে?”

“সিরিয়াসলি? আপনি এখনো যে আমার সামনে চোখে চোখ রেখে কথা বলছেন তাতে আমি অবাক হচ্ছি। বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই? এতে তো প্রমাণ হয়ে গেল যা করার সব আপনি করেছেন।”

স্বচ্ছ এবার বিরক্তির শ্বাস নিয়ে হাই তোলে। রেগেমেগে একাকার হয়ে যায় মোহ। লোকটা তাকে পাত্তায় দিচ্ছে না? অন্যদিকে ফিরে ধপ করে সোফায় পায়ে পা তুলে বসে একাধারে সিগারেট খেতে শুরু করে স্বচ্ছ। সোফায় ঠেস দিতেই ‘উফফ..’ বলে সোজা হয়ে বসে সে। পিঠে হাত দিয়ে গিয়েও পারে না। চোখমুখ খিঁচে বসে থাকে। মোহ আঁতকে উঠে তার দিকে এগিয়ে যেতে চেয়েও যায় না। স্বচ্ছ মূহুর্তেই স্বাভাবিক হয়ে আবার সিগারেটে একবার মুখ দিয়ে সেটা ফ্লোরেই ফেলে দেয়। আর বলে,
“লাইনে এসো। কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো। ফাস্ট!”

মোহ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিজের ফোনের লক খুলে সেই নিউজ ওয়েবসাইটে গিয়ে তার আর স্বচ্ছের ছবি বের করে অস্বস্তি নিয়ে স্বচ্ছের সামনে তুলে ধরে বলে,
“দেখুন আর বলুন। আমাকে বদনাম করে কি পেলেন আপনি?”

স্বচ্ছ সরু চোখে মোহের ফোনের দিকে তাকায়। তারপর চোখ নামিয়ে মাথার ব্যান্ডেজে হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে বলে,
“এটা নতুন কি? মিডিয়ার লোক একবার কিছু পেলে তো পিঁপড়ে থেকে ডাইনোসর বানিয়ে দিতে পারে। হোয়াটএভার, এতটুকু দেখানোর জন্য এতদূর থেকে ছুটে এসেছো তুমি?”

“আপনার কি সত্যিই কিছুই যায় আসে না? আসবেই বা কি করে? আপনি তো পুরুষ। কিন্তু আমাকে আপনি বদনাম করলেন। কেন করলেন বলুন তো? আপনার কোন ক্ষতি করেছিলাম আমি? যে আপনি আমার বাহিরে বের হওয়ায় দায় করে দিলেন?”

কথাগুলো কান্নার সুরে বলল মোহ। স্বচ্ছ গলা খাঁকারি দেয় তার কান্নায়। মনোযোগ দিয়ে তাকায় মেয়েটির দিকে। চোখে টলটল করছে পানি। একটু একটু করে নাক টানছে সে। চুলগুলো এখনো এলোমেলো। এতবড় ঝামেলার কারণে হয়ত মাথায় চিরুনি না দিয়েই বেরিয়ে পড়েছে। হালকা কোঁকড়ানো চুল মোহের মুখের আশেপাশে উড়ছে। খাঁড়া নাকে জমা হয়েছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। এক পর্যায়ে চোখ থেকে টুপ করে গোলাপি আভায় জড়ানো গাল বেয়ে পড়ল মোহের। কান্নার চোটে তিরতির করে কাঁপছে মোহের আলতো মোটা ঠোঁটজোড়া। হরিণীর ন্যায় চোখ দুটোতে প্রণয়ের ঢেউ বইছে। অন্যকেউ হলে বোধহয় এই কান্না দেখে কষ্ট পেতো। কিন্তু স্বচ্ছের স্থির চোখজোড়া চাইছে মেয়েটা আরেকটু কাঁদুক। কান্নারত চোখেমুখে কি লোভনীয় সুন্দর লাগে তাকে!

“আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন না? কেন করলেন আমার সাথে এমন?”

স্বচ্ছের ধ্যান ভাঙে। অন্যদিকে তাকিয়ে ভার কন্ঠে বলে,
“আমি কিছু করিনি।”

“আপনিই সব করেছেন। প্রথম থেকেই সন্দেহ করা উচিত ছিল আমার। যার সঙ্গে আমার সামন-সামনি কোনোদিন দেখা হলেও কথা হয়নি সেই মানুষটা আমার সাথে এতো কথা বলতে শুরু করেছে কেন? বোঝা উচিত ছিল আমার। এতকিছু করে কি পেতে চাইছেন আপনি? এভাবে কেন সম্মান নষ্ট করছেন আমার?”

এবার শান্ত হয়ে থাকা স্বচ্ছের রাগ হয়। রাগে ফোঁস ফোঁস করে উঠে দাঁড়ায় দিয়ে। খানিকটা ক্রুদ্ধ হয়ে বলে,
“এই মেয়ে এই, তুমি কি ভেবেছিলে সেদিন রাতে আমি ভুল করে তোমার ঘরে ঢুকে পড়েছিলাম বলে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি? না তোমার সৌন্দর্যে মোহিত হয়েছি ভাবছো? এমন যদি ভেবে থাকো তাহলে কানের গোড়ায় থাপ্পড় মেরে সোজা করে দেব। এটা কান খুলে শুনে রাখো। তোমার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। নেই মানে নেই। এখন যদি ভেবে থাকো তোমাকে পাওয়ার জন্য এসব করছি তাহলে বিরাট ভুল করছো তুমি। এসব কখন কিভাবে হয়েছে আমি জানি না।”

“কিন্তু সবটা আপানার ভুলেই হয়েছে আহিয়ান স্বচ্ছ। এখন আপনিই সলিউশন বের করবেন।”

স্বচ্ছ কপাল জড়িয়ে তাকায়। কিছু একটা ভেবে মোহের আশেপাশে ঘুরে ঘুরে বলে,
“তোমার অপশন আছে। প্রথমটা, বিয়ে করতে হবে তোমায় আমার সাথে। দ্বিতীয়টা, এই বদনাম মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। এখন তুমি কোনটা বাছবে? দ্যাটস ইউর চয়েস। এর চেয়ে ভালো সলিউশন আমার স্টোকে নেই।”

চলবে…

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here