একটুখানি সুখ পর্ব ২৪

0
80

#একটুখানি_সুখ
#আনিশা_সাবিহা
পর্ব ২৪

ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে মোহ। স্বচ্ছের দিক থেকে এক ইঞ্চি নজরও সরছে না তার। স্বচ্ছও এক ইঞ্চিও সরেনি। নাকে নাক লাগিয়ে রয়েছে সে। এই পুরুষকে এতোটা কাছে দেখে থরথর করে কাঁপছে সে। স্বচ্ছের ধূসর বর্ণের চোখজোড়ায় ছড়িয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত আকুলতা। যেখানে ঘায়েল হচ্ছে মোহ নামক এই ভয়ানক সুন্দর রমনী! মৃদু শিরশিরে বাতাস, এক চিলতে আলো, বৃষ্টিভেজা এই প্রকৃতি সবাই যেন স্বচ্ছ নামক রহস্যময় ব্যক্তি এবং মোহ নামক সুন্দরী রমনীর কাছে আসার মূহুর্তে সাক্ষী! মোহের বাম গালেও হলুদ ছুঁইয়ে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়ায় স্বচ্ছ। ভ্রু নাচিয়ে মোহের দিকে তাকায় সে। মোহের চোখের পলক এখনো পড়েনি। সে বাকহারা আজ। মনে কোনো অনুভূতি না থাকলে কি এতোটা পাগলামি করা যায়? এই ছোট্ট প্রশ্নটা নাড়া দিল মোহের মস্তিষ্কে। চোখের পলক ফেলে এবার তাকালো সে। উত্তর জানতে যে আকুপাকু করছে তার মনের মধ্যে। তাই সে জিজ্ঞেস করতে নেয় স্বচ্ছকে। মুখ খুলে কিছু বলার আগেই থামে সে। মনে সৃষ্টি হচ্ছে খানিকটা সংকোচ আর লজ্জা!

“কাল রাতে কাজটা সেড়ে ফেলার ইচ্ছে ছিল আমার। কিন্তু বাড়িতে ছিলাম না। আসতে আসতে ভোর হয়ে গেছে। তাই ভোরেই ডেকে নিলাম। এখন চাইলে এখানেই ঘুমিয়ে যেতে পারো আই ডোন্ট মাইন্ড।”

“নিজের পাগলামি দিয়ে যে আমার ঘুম একেবারে কেঁড়ে নিয়েছেন আপনি সে খবর কি রাখেন?”

কিছুটা চমকেই তাকায় স্বচ্ছ। মোহের মুখে এমন কিছু শুনবে সেটা ধারণাতে ছিল না তার। সে শান্ত ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
“আজকের ঘুমই কেঁড়ে নিয়েছি নাকি সারাজীবনের?”

“সেটা তো সময় বলবে। আমাকে তো হলুদ লাগিয়ে দিলেন। বিয়েটা তো আপনারও। সেই হিসেবে হলুদ তো আপনারও লাগানো উচিত। আমি কেন একাই এই ঠান্ডায় হলুদ লাগিয়ে যাব?”

স্বচ্ছের মুখে কিছুটা হাসির রেশ কেটে যায়। হাসোজ্জল চেহারা বিলীন হয়ে যায়। কিছুটা থমথমে সুরে বলে,
“ধরো, তোমার বিয়ে আমার সাথেই হলো না। তখন এই হলুদ লাগিয়ে কি লাভ সুন্দরী?”

থমকে গেল মোহ। তার মুখে ফুটেছিল হাসির রেশ। সেটাও কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। ধড়ফড়িয়ে উঠল ভেতরটা। এই কথার মানে খুঁজে পেলো না মোহ। এক মূহুর্তে এলোমেলো লাগছে তার সবটা। শুধুমাত্র এই কথাটার জন্য। সামান্য একটা কথাতে কেন এতো তড়পাচ্ছে সে? গলায় দলা পাকিয়ে যাচ্ছে কথাগুলো। তবুও তিরতির করে কাঁপতে থাকা ঠোঁটে সে বলল,
“কে…কেন? এমন কথা বলছেন কেন?”

“কথাগুলোর মানে যদি তোমাকে আমি বোঝাতে পারতাম। একটু শ্বাস নিয়ে মনে যে সকল কথা একেবারে জট পাকিয়ে ফেলেছি সেসব যদি বলতে পারতাম। আমার জীবনটা আরেকটু সুখের হতো।”

“এমনভাবে বলছেন কেন? আপনার জীবনে তো সব আছে। মা-বাবা আছে। পরিবার আছে। আপনার জীবনে খুশি আছে। আপনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাহলে কেন নেই সুখ? আমি তো জানতাম আপনি একজন সুখি মানুষ।”

“যা দেখা যায় তা আসলে হয় না। যা হয় তা আসলে দেখা যায় না!”
গমগমে কন্ঠে বলা কথাটি বারংবার মোহের কানে বাজতে থাকল। মোহের ডান হাত আপনাআপনি চলে গেল স্বচ্ছে বাম গালে। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি ভর্তি গালে এই প্রথম ইচ্ছাকৃত স্পর্শ করে ফেলল মোহ। স্বচ্ছ বেশ চমকেই উঠেছে। বড় বড় করে পাকিয়ে আছে ধূসর চোখজোড়া। একটা শুকনো ঢক গিলে বোঝার চেষ্টা করছে এ কি হচ্ছে তার সাথে? মোহ এবার নির্বিকার সুরে বলে ওঠে,

“যদি আপনার জীবনে আমার মতোই #একটুখানি_সুখ এর দেখা না পাওয়া যায় তাহলে সেটার দেখা পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমার। আপনার অর্ধাঙ্গিনী হতে চলেছি আমি। আমি কি করে দেখব আপনার অসুখ? হন আপনি যতই অপ্রিয়! ‘বিবাহ’ নামক বন্ধনই এমন অপ্রিয় মানুষটাকে প্রিয় বানাতে সক্ষম। আমি স্পষ্টভাষী মেয়ে। তাই বলতেই পারি আপনি আমার সেই অপ্রিয় মানুষ নেই আর। কোথাও যেন নিজের অদ্ভুত পাগলামি দ্বারা মনের গহীনে সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করেছেন। আপনার সঙ্গে আমার এই নতুন সম্পর্কের পরিণতি জানা নেই আমার। তবে আপনার পরিপূরক হিসেবে আমিও চেষ্টা করব আপনাকে একটু শান্তি আর একটু সুখ পাইয়ে দিতে।”

স্বচ্ছের মনে বয়ে গেল প্রশান্তের ঝড়। মোহ আর আগের মোহ নেই। কোথাও একটা পাল্টেছে সে। নাকি তার মনের অনুভূতি পাল্টেছে? নাকি এটাই তার বাধ্যবাধকতা? এসব ভাবনাতে মেতে ওঠার আগেই পুরো মুখে ঠান্ডা কিছু অনুভব করে স্বচ্ছ। কিছু পিছিয়ে দেখতে পায় মিটমিটিয়ে হাসছে মোহ। হাসিতে যেন মুক্তা ঝরছে তার। কোথাও স্বচ্ছের মনে হচ্ছে রুপকথার রাজকন্যা হেঁসে এক সামান্য প্রজাকে ঘায়েল করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। মোহের হাতের দিকে নজর গেল স্বচ্ছের। তার হাতেও হলুদ। এরমানে মোহ তাকে হলুদ লাগিয়ে দিয়েছে। মোহ খিলখিল করে হেঁসে উঠে বলে,
“হ্যাপি বডি ইয়োলো ডে মি. আহিয়ান স্বচ্ছ!”

স্বচ্ছের ঠোঁটের কোণেও ফুটে ওঠে দুষ্টু হাসি। তার হাসি খেয়াল করে মোহ। বুঝতে বাকি থাকে না স্বচ্ছ এবার কিছু একটা করতে চলেছে। বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় সে। পিছিয়ে যায় বেশ খানিকটা। স্বচ্ছ ফিচেল কন্ঠে বলে,
“পিছিয়ে যাচ্ছো কেন এভাবে? আমাকে না বলিয়ে হলুদ লাগিয়ে দেবে এভাবে আর পালিয়ে যাবে? তা হচ্ছে না। ওখানেই দাঁড়াও সাহস থাকে তো!”

“দাঁড়াব না। এতোটাও সাহস আমার দরকার নেই। বলে আরো কয়েকধাপ পিছিয়ে যায় মোহ।”

স্বচ্ছ এগিয়ে যেতে আরো দুই কদম পিছিয়ে যেতেই পেছনের সুইমিংপুল থাকায় আর পা রাখার জায়গা পায় না সে। স্বচ্ছ ধরার আগেই মোহের পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাওয়া শুরু হয়েছে। মোহের এমন অবস্থা দেখে উচ্চস্বরে হেঁসে ওঠে স্বচ্ছ। সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে সুইমিংপুলে দাঁড়ায় মোহ পানিতে। পুলটা খুব একটা গভীর নয়। দাঁড়িয়েও থাকা যায়। মোহের কাঁধ পর্যন্ত পানি থৈথৈ করছে। স্বচ্ছ হাসতে হাসতে বলে,
“দেখেছো সিনিয়রদের কথা না শোনার ফলাফল! এমন হয়। লক্ষ্মী মেয়ের মতো কথা শুনলে এমনটা হতো না মোটেও।”

“তাই বলে রাক্ষসের মতো হাসবেন? দ্যাটস নট ফেয়ার। তুলুন আমাকে। একা উঠতে পারব না এতো ভারি ড্রেস নিয়ে।”

“ড্রেস খুলে উঠতে পারো। আমি চোখ বন্ধ করে রাখছি।”
বলেই চোখ টিপে দিল স্বচ্ছ। মোহের কান থেকে এই মূহুর্তে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। পানির নিচে ডুব দিল সে। হায় কি লজ্জা! আর উঠবে কিনা সন্দেহ। স্বচ্ছ তা দেখে এগিয়ে এসে বলল,
“এই মেয়ে কি করছো? উঠো।”

মুখ নিচু করে পানি থেকে মাথা উঠালো মোহ। ক্ষেপে উঠে বলল,
“এমন কথা বললে আপনার কন্ঠস্বর সত্যি নষ্ট করে দেব। শুধু আর একবার বলে দেখবেন।”

মিটমিট করে হেঁসে মোহের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল স্বচ্ছ। সঙ্গে সঙ্গে মোহ নিজের সব শক্তি দিয়ে স্বচ্ছের হাত টান দিতেই টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় সোজা পানিতে। হাবুডুবু খেয়ে উঠে দাঁড়ায় সে। চোখ গরম করে তাকায় মোহের দিকে। মোহ নিজেও ঠান্ডায় কাঁপছে তবুও তার হাসি থামে না। মোহের হাসিতে স্বচ্ছও হেঁসে ওঠে। সূর্য উঠছে। লাল আভায় ঢাকা আকাশ। স্নিগ্ধ মন মাতানো পরিবেশে একে ওপরের হাসিতে মাতাল হয়ে রয়েছে এক নারী ও পুরুষ!

সকাল হয়েছে অনেকক্ষণ আগে। সকাল প্রায় ১১ টা। দুপুর হতেই চলল। এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে চলেছেন মিসেস. নিরা। তার বিশ্রাম নেওয়ার জো নেই। আজ মোহের মেয়ে। যাকে কিনা সে নিজের মেয়ের মতোই দেখে। একটা মেয়ের বিয়েতে মায়ের যেমন দায়িত্ব ঠিক তেমনই দায়িত্ব মিসেস. নিরার। সেসব খুশিমনেই পালন করে চলেছেন উনি। যদিও বিয়েটা ছোট করেই হবে। কাছের কয়েকজন আত্মীয়রা এসেছে। তবুও বাড়ির ভেতরটা সাজানোর কাজ চলছে।

“রান্নাবান্না হলো? কলি কোথায়? মোহকে ডাকতে গিয়েছিল না? কোথায় ও? কলি!”

চোখমুখ কাঁচুমাচু করে মিসেস. নিরার সামনে এসে দাঁড়ায় কলি। মিসেস. নিরা দাঁড়িয়ে ছিলেন রান্নাঘরের কাছে রান্নাবান্না দেখছিলেন। কলিকে দেখে ভ্রু কুঁচকাতেই কলি মিনমিন করে বলল,
“মোহ ম্যাডামকে ডাকতে গেছিলাম! কিন্তু আমাকে ধমক দিয়ে পাঠায়ে দিছে।”

“এখনো ওঠেনি ও?”
চোখ বড় বড় করে প্রশ্ন করেন মিসেস. নিরা। কলি মাথা নাড়াতেই ওপরের দিকে তাকান উনি। বেশ ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন,
“দেখো মেয়ের কান্ড! আজলে তার বিয়ে। কিছুক্ষণ পর স্বচ্ছ এলো বলে। ও ফ্রেশ হবে কখন আর রেডিই বা হবে কখন?”

বলেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তড়তড় করে ঢুকে গেলেন মোহের ঘরে। ক্লান্ত ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে মোহ। হাতে বালিশ জড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে ঘুমিয়ে যাচ্ছে নির্বিকারভাবে। ভোরে স্বচ্ছ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পর লুকোচুরি করে ঘরে ঢুকেই শুয়ে পড়েছিল সে। তার আর স্বচ্ছের অদ্ভুত আর মোহময় মূহুর্ত মনে করতে করতে কখন যে চোখ লেগে এসেছে বুঝতেই পারেনি! ফলস্বরূপ সে এখনো ঘুমে।

“মোহ! এই মোহ! উঠবি না? এতো লেট করছিস কেন?”

“আর একটু ঘুমাতে দাও না মিমি। জাস্ট ফাইভ মিনিটস!”

মিসেস. নিরা বুঝে গেছেন মোহ আজ এভাবে মানবে না। ধমকে উঠে বলেন,
“মোহ! পাত্রপক্ষ এসে গেছে। স্বচ্ছকে এখানেই ডেকে এনে বিয়ে করাব?”

পিটপিট করে চোখ মেলে মোহ। আশেপাশে তাকায় সে। হাই তুলতে গিয়েই দিয়ে ফেলে দুইবার হাঁচি। সঙ্গে সঙ্গে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন মিসেস. নিরা! আর বলেন,
“ঠান্ডা লেগেছে তোর? কি করে? বিয়ের দিনে ঠান্ডা বাঁধিয়েছিস?”

মোহের মনে পড়ে ভোরের সময়ের কথা। এখন কিভাবে বলবে এই ঠান্ডা ওয়েদারে সুইমিংপুলে পড়ে এই অবস্থা তার? আমতা আমতা করে বলে,
“ওই মিমি, আমি কি করে জানব বলো তো?”

“তোকে নিয়ে আমি আর পারি না বিশ্বাস কর। উঠে পড় এক্ষুনি।”
হতাশ ভঙ্গিতে আরেকটা হাঁচি দিয়ে নাক ডলতে ডলতে উঠে বসে মোহ। একটু পর তার বিয়ে। ভাবতেই গায়ের লোম শিউরে উঠল তার। বদলাতে চলেছে সম্পর্কের সমীকরণ!

“কেমন সারপ্রাইজ দিলাম মা তোমাকে? চমকে উঠেছো?”
বর বেশে সেজে থাকা স্বচ্ছ বাঁকা হেঁসে মিসেস. রেবার উদ্দেশ্যে প্রশ্নটা করে। চিন্তিত মুখভঙ্গি মিসেস. রেবার। পায়ে পা তুলে সোফায় বসে স্বচ্ছ। পরণে খয়েরী রঙের একটা শেরওয়ানি। যার ওপর গোল্ডেন কাজ করা। মাথার খয়েরী পাগড়ি খুলে রেখেছে সে। চুলগুলো হাত দিয়ে আরো এলোমেলো করে নিজের সেই চোখজোড়া দিয়ে মায়ের দিকে সরু দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই তার মা বলে ওঠে,
“সৌমিত্র কোথায় স্বচ্ছ?”

“আমি কি করে জানব?”

“তুইই জানিস। সৌমিত্রকে সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। উধাও হয়ে গেছে। সৌমিত্র এই বিয়ে নিয়ে অনেক এক্সাইটেড ছিল। নিশ্চয় একা একা বিয়ে ছাড়া চলে যাবে না কোথাও?”

“তাহলে তুমি স্বীকার করছো তুমি আমার বদলে মোহের সঙ্গে ভাইয়ের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলে। আমার পেছন দিয়ে গেম খেলছিলে মা? ভুলে যাচ্ছো? এই গেমের মাস্টার আমি নিজে?”
হিসহিসিয়ে বলে মায়ের দিকে কটাক্ষ করে তাকায় স্বচ্ছ। তার সুন্দর চোখজোড়ায় এখন মায়ের জন্য পাহাড় সমান রাগ। মিসেস. রেবা এবার অবাক হন। ‘মোহ’ নামক মেয়েটির জন্য দেওয়াল তৈরি হয়ে গেল তাদের মাঝে। বিস্ময়ের সাথে বলেন,
“সৌমিত্র তোর ছোট ভাই স্বচ্ছ!”

“ও ছোট ভাই বলে ওর সব অন্যায় মেনে নেব আমি? মেনে নিয়েছি। ওর অন্যায় ঢাকতে গিয়ে আমি নিজেও পাপীর ভাগিদার হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মোহকে ওর হাতে তুলে দিয়ে ওর জীবন আমি জাহান্নামে পরিণত করতে পারব না। আই এম সরি।”

“তাহলে তুই কি চাইছিস স্বচ্ছ?”
দরজা খুলে প্রশ্নটা স্বচ্ছের দিকে ছুঁড়ে দেন নেহাল সাহেব। সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছ আয়েশ করে বলে ওঠে,
“আমার মোহকে আমি চাই। ওর সঙ্গে আমার বিয়ে হবে। দ্যাটস ইট!”

“স্বচ্ছ….”
চিৎকার দিয়ে ওঠেন মিসেস. রেবা। স্বচ্ছ তবুও শান্ত সুরে বলে,
“চিৎকার করো না মা। সৌমিত্র আমার কাছে। ওকে ততক্ষণ পাবে না যতক্ষণ না আমি বলছি। আর আমার শর্ত পূরণ না করলে আমি ওকে পুলিশের তুলে দিতে বাধ্য হবো।”

নেহাল সাহেব ইশারায় মিসেস. রেবাকে থামতে বলেন। মিসেস. রেবা রাগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। কিছুটা নরম কন্ঠে বলেন,
“যেই ভাইকে এতো বছর আগলে রাখলি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিবি তুই?”

“আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে কোনো লাভ হবে না। আমার শর্তে রাজি? ইয়েস ওর নো? রাজি না হলেও মোহকে আমিই নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানাব।”

চলবে…

[বি.দ্র. ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here