এক_আকাশ_ভালোবাসি পার্ট_৪৮

0
937

এক_আকাশ_ভালোবাসি
পার্ট_৪৮
#নিশাত_জাহান_নিশি

বাড়ির সবাই এতক্ষনে গভীর ঘুমে ডুব দিলো। মৃন্ময় ও মারুকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। তবে মুহিত রূপকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। শুধু জ্বালাচ্ছে। গত তিনদিন ধরে রূপ মুহিতের রোমান্টিক অত্যাচারের জ্বালায় ঘুমাতে পারে না। চোখ টেনে সে মেলতে ও পারে না। এরপরে ও মুহিত রূপকে ছাড়ছে না। হয়তো প্রতিদিন এভাবেই চলতে থাকবে। যতো দিন না মুহিত বাচ্চার মুখ দেখবে।

মুহিতের ভালোবাসা ভরা খুনসুটিতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে এলো। চারদিকে ফজরের আযান হচ্ছে। মুহিত রূপকে ছেড়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামসে ঘুম দিলো। রূপ কোনো রকমে শাড়িটা গাঁয়ে পেঁচিয়ে আবারো মুহিতের পাশে শুয়ে পড়ল। লম্বা এক্টা ঘুমের আশায় রূপ নিশ্চিন্তে চোখ জোড়া বুজে ফেলল। মুহিত অলরেডি নাক টেনে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। রূপ ও ঘুমানোর প্রবল চেষ্টা করছে।

ঘড়িতে সকাল দশটা বাজছে। মায়া আহমেদ আজ নিজ হাতে সকালের ব্রেকফাস্ট বানিয়েছে। ব্রেক ফাস্ট টেবিলে সবাই খাবারের জন্য ওয়েট করছে। তবে সবার মধ্যে রূপ আর মুহিতকে দেখা যাচ্ছে না। মায়া আহমেদ সবার প্লেইটে প্লেইটে খাবার সার্ভ করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ছুটল রূপ আর মুহিতকে খুঁজতে। রুমের দরজা অনেকক্ষন ধরে ধাকাচ্ছে মায়া আহমেদ। ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসছে না। মায়া আহমেদ এবার জোরে চেঁচিয়ে বলল,,,,,,

—-“মুহিত, রূপ কোথায় তোমরা? তাড়াতাড়ি নিচে এসো।”

প্রায় অনেকক্ষন চেঁচানোর পর মুহিত চোখ কচলাতে কচলাতে আরামের ঘুম থেকে উঠে উন্মুক্ত শরীরে রুমের দরজা খুলে দিলো। মুহিতকে ঢুলুঢুলু অবস্থায় দেখে মায়া আহমেদ হালকা হেসে বলল,,,,,,,

—–“কি এতো বেলা অব্দি ঘুমিয়ে আছো যে? রাতে কি জেগে ছিলে”

মুহিত আড়মোড়া ভেঙ্গে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ঘড়িতে অলরেডি দশটা বেজে গেছে। কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে মুহিত আমতা আমতা করে বলল,,,,,,,

—–“হুম। আসলে কাল রাতে রূপের জ্বর উঠেছিলো তো, তাই ঘুম থেকে উঠতে এক্টু দেরি হয়ে গেলো!”

মায়া আহমেদ বেশ বুঝতে পেরেছে মুহিত গোপন কথা আড়াল করার চেষ্টা করছে। মায়া আহমেদ বাঁকা হেসে মুহিতের বুকের দিকে বলল,,,,,,,

—–“তা তোমার গাঁয়ে আঁচড়ের দাগ আসল কোত্থেকে? রূপ কি জ্বরের ঘোরে তোমাকে মেরেছে?”

মুহিত পর পর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,,,,,,,

—–“জ্বর মানে হালকা জ্বর হয়েছিলো। তাই ওর সাথে বসে সারা রাত পায়চারী করেছি। এছাড়া ও রূপের হাতের নখ গুলো খুব বড় তো, তাই ওর পাশে ঘুমুলেই কি করে জানি গাঁয়ে আঁচড় লেগে যায়। বুঝতেই পারি না।”

—–“আচ্ছা হয়েছে হয়েছে। সাইড দাও রূপকে দেখে আসি। জ্বরটা নামল কিনা।”

মুহিত মাথা চুলকাতে চুলকাতে মায়া আহমেদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,,,,,

—–“আরে না না আম্মু। রূপের জ্বর এখন নেমে গেছে। এখন এক্টু ঘুমুচ্ছে। সারা রাত ঘুমোয় নি তো তাই। তুমি যাও না। আমি কিছুক্ষন পরেই রূপকে নিয়ে নিচে আসছি।”

মায়া আহমেদ কিছুটা সিরিয়াস হয়ে মুহিতের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,

—–“আধ ঘন্টার মধ্যেই নিচে নেমে এসো। জরুরী কথা আছে। এক্টু পর মারজানা চৌধুরী আমাদের বাড়িতে আসবে। উনার সাথে কিছু ইম্পরটেন্ট কথা আছে। আমি চাই তোমরা সবাই উপস্থিত থাকো।”

মুহিত কথা না বাড়িয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। মায়া আহমেদ রুম থেকে বের হয়ে নিচে চলে গেলো। রুমের দরজাটা কোনো রকমে আটকে মুহিত দৌঁড়ে এসে বেডের উপর বসে পড়ল। রূপ এখনো গভীর ঘুমে মত্ত। মুহিত পর পর কয়েকবার ধাক্কা দিয়ে ও রূপকে ঘুম থেকে জাগাতে পারছে না। এক পর্যায়ে মুহিত দাঁত কিড়মিড় করে রূপের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিলো। রূপ এবার ধরফরিয়ে ঘুম থেকে উঠে ঠোঁটে হাত দিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিলো। মুহিত বেশ ভাবলেস হীন ভাবে রূপের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,

—–“এই কান্না থামাও। তাড়াতাড়ি শাওয়ার নিয়ে নিচে চলো। কিছুক্ষন পর নিচে জরুরী কথা হবে। আম্মু বলেছে তাড়াতাড়ি নিচে যেতে।”

রূপ কাঁদছে আর মুহিতের দিকে তাকিয়ে বলছে,,,,,,,

—–“কান্না থামাবো না আমি। সারা দিন কান্না করব। তুমি খুব খারাপ এক্টা লোক বুঝেছ? তোমার সাথে আমি আর এক মুহূর্ত ও থাকব না।”

মুহিত ওর বুকের আঁচড়ের দাগ গুলো দেখিয়ে ফেইসে ন্যাকা কান্নার এক্সপ্রেশান ফুটিয়ে বলল,,,,,

—–“চাইলে আমি ও তো কাঁদতে পারি। ব্যাথা তো তুমি ও আমাকে দিয়েছ। কই আমি তো তোমাকে একবার ও খারাপ বলি নি। এমনকি তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ও বলি নি।”

—–“এটাই আপনার প্রাপ্য। এই দাগ গুলোর জন্য আপনিই দায়ী। জোর করলে তো এমনি হবে। নেক্সট টাইম এমন করলে আচড়ের দাগ আরো গাঢ় হবে। এই বলে দিলাম।”

কথা গুলো বলেই রূপ বিছানা ছেড়ে উঠে কাবার্ড থেকে শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। মুহিত কিছুক্ষন হেসে কাবার্ড থেকে শার্ট প্যান্ট বের করে ওয়াশরুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল। প্রায় অনেকক্ষন পরে রূপ ওয়াশরুম থেকে বের হতেই মুহিত ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রূপ চুলটা ভালো করে ঝেঁড়ে রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে এলো। ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবাই রূপ আর মুহিতের জন্য ওয়েট করছে। মায়া আহমেদ রূপকে দেখার সাথে সাথেই চেঁচিয়ে বলে উঠল,,,,,,,

—–“কি রে রূপ? তোর জ্বর নেমেছে তো?”

রূপ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ডাইনিং টেবিলের উপস্থিত সবাই মিটিমিটি হাসছে। মারু অট্ট হেসে বলে উঠল,,,,,,,

—-“মুহিত বলল মাঝ রাতে নাকি তোর খুব জ্বর উঠেছে। জ্বরের ঘোরে নাকি তুই মুহিতকে খুব অত্যাচার করেছিস। এর জন্যই তোরা এতো বেলা অব্দি ঘুমিয়েছিলি।”

রূপ বেশ বুঝতে পেরেছে মুহিত রূপকে ফাঁসিয়েছে। রাগটাকে মনের মাঝেই চেঁপে রেখে রূপ জোর পূর্বক হাসি টেনে আমতা আমতা করে বলল,,,,,,

—–“হ্যাঁ। ঐ আর কি। হালকা এক্টু জ্বর হয়েছিলো। এখন ঠিক আছি।”

রূপ এক্টা চেয়ার টেনে টেবিলে বসে হুদাই হেসে বলল,,,,,,,

—–“ক্ষিদে পেয়েছে। খেয়ে নেই।”

এর মাঝেই মুহিত ডাইনিং টেবিলে চলে এলো। রূপ দাঁত কিড়মিড় করে মুহিতের দিকে তাকিয়ে আছে। মুহিত আগা মাথা কিছু না বুঝে টেবিলে বসে কফিতে চুমুক দিলো। একে একে সবাই খাওয়া শুরু করল। মায়া আহমেদ চা খাচ্ছে আর উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলছে,,,,,,,,

—–“তোমাদের এক্টা নিউজ দেওয়ার ছিলো।”

সানোয়ার আহমেদ পাউরুটিতে মাখন মাখছে আর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলছে,,,,,,

—–“আমরা সাকিবের বিয়ের ব্যাপারে ভাবছি। পালাক্রমে সানায়ার ও বিয়ে হবে। তবে সাকিবের টা আগে হবে।”

রেজাউল আহমেদ মৃদ্যু হেসে বলে উঠল,,,,,,

—–“আমাদের সাকিবের কিন্তু পছন্দ আছে।”

সাকিব মাথাটা নিচু করে মৃদ্যু হাসছে। রূপ এক গাল হেসে বলল,,,,,,,

—–“আমি কিন্তু মেয়েটাকে বেশ ভালো করে চিনি।”

মুহিত এক ভ্রু উঁচু করে রূপের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,

——“আদ্রিতা নয় তো?”

মারু হি হি করে হেসে বলল,,,,,,,,

——“ইয়েস আদ্রিতা।”

সবাই সাকিবের দিকে তাকিয়ে হাসছে আর ব্রেকফাস্ট করছে। দোলা আর সানায়া কিছুক্ষন পর পর সাকিবকে খোঁচাচ্ছে। সাকিব দাঁত কিড়মিড় করে সানায়া আর দোলার দিকে তাকাচ্ছে। সাথে সাথেই দোলা আর সানায়া হি হি করে হেসে দিচ্ছে। সোহেলী আহমেদ মুচকি হেসে দোলা আর সানায়াকে ধমকের স্বরে বলল,,,,

——“এই তোরা আমার ছেলেটার সাথে এমন করছিস কেনো? একদম লাগতে আসবি না আমার ছেলের সাথে।”

সাকিব মুখ ফুলিয়ে সোহেলী আহমেদের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,

——“আম্মু প্লিজ। তুমি অন্তত এদের দলে যোগ দিও না। আমি বেশ বুঝতে পারছি তুমি ও ওদের দলে। তোমার মুচকি হাসিই সব বলে দিচ্ছে।”

সাকিবের কথা শুনে উপস্থিত সবাই আরো জোরে জোরে হেসে দিলো। এর মাঝেই মারজানা চৌধুরী, আমজাদ চৌধুরী আর আদ্রিতা এসে হাজির হয়ে গেলো। আদ্রিতাকে দেখে সাকিব ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আদ্রিতা লজ্জায় মাথাটা নিচু করে রেখেছে। রূপ আর মারু গিয়ে দৌঁড়ে আদ্রিতাকে ঝাপটে ধরল। নিজেদের মধ্যে কথা বার্তা বলে ওরা আদ্রিতাকে ছাড়ল। রূপকে কাছে পেয়ে মারজানা চৌধুরী রূপের সাথে আড্ডা জুড়ে দিলো। পরিবারের সবার সাথে এক এক করে কথা বলে মারজানা চৌধুরী এবার মায়া আহমেদের মুখোমুখি হলো।

মায়া আহমেদ কিছুটা সংকোচ বোধ করে সাকিব আর আদ্রিতার বিয়ের প্রস্তাবটা মারজানা চৌধুরীর কাছে রাখল। আমজাদ চৌধুরী কিছুক্ষন ভেবে চিন্তে মারজানা চৌধুরীর সম্মতিতে মায়া আহমেদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলো। বাড়ির সবাই খুশিতে ফেটে পড়ছে। বিশেষ করে রূপ আর মারু। আগামী সপ্তাহে ওদের বিয়ের ডেইট ফিক্সড করা হয়েছে। পুরো বাড়িতে হাসি খুশি উপচে পড়ছে।

রূপ সবাইকে কনভেন্স করে আদ্রিতা আর সাকিবকে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ করে দিলো। রূপের প্রতি সাকিব বিরাট খুশি। আদ্রিতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অন্তত কিছুটা সময় সাকিবের দরকার ছিলো। সেই সময়টা রূপ সাকিবকে দিলো। আদ্রিতাকে স্যরি বলার সাথে সাথেই আদ্রিতা সাকিবকে ক্ষমা করে দিলো। দুজন দুজনকে বাহু ডোরে আবদ্ধ করে নিলো। নিজেদের মধ্যকার সব ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে ওরা নতুন এক্টা অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ড্রইং রুমে সবাই আড্ডায় ব্যস্ত। রূপ আর দোলা কিছুক্ষন পর পর সবাইকে স্ন্যাকস সার্ভ করছে। এর মাঝেই আদনান আর মিসেস আয়রা এসে হাজির হয়ে গেলো। দূর থেকে সানায়াকে দেখেই আদনান থেমে গেলো। সে যেনো চোখের পলক ফেলতেই ভুলে গেছে। এক দৃষ্টিতে আদনান সানায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। সানায়া এখনো আদনানকে খেয়াল করে নি। সবার সাথে হাসি হুল্লোড়ে সে ব্যস্ত। রূপ ঠিক আদনানের দৃষ্টিকে খেয়াল করছে। মিসেস আয়রাকে দেখে মায়া আহমেদ হাসি হাসি মুখে উনাকে সবার মাঝখানে বসাল। আদ্রিতার পরিবারের সাথে উনাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। আদনান এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এক প্রকার মানব মূর্তি হয়ে।

রূপ সবার মাঝ খান থেকে সরে গলাটা ঝাঁকিয়ে আদনানের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে মৃদ্যু হেসে বলল,,,,,

—–“আমার ননদের দিকে এভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছেন কেনো?”

আদনান আনমনেই বলে উঠল,,,,,,,

—–“অসম্ভব সুন্দুরী তোমার ননদ। হয়তো প্রেমে পড়ে গেছি।”

রূপ বড় বড় চোখ করে আদনানের দিকে তাকালো। আদনানকে হালকা ঝাঁকিয়ে রূপ বলে উঠল,,,,,,

—–“আর ইউ সিরিয়াস আদনান?”

আদনানের এতক্ষনে সম্মতি ফিরল। কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে আদনান রূপের দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বলল,,,,,,,

——“প্লিজ রূপ। তোমার ননদকে কিছু বলো না। আসলে তোমার ননদকে আমার খুব ভালো লাগে। অবশ্য ভালো লাগে বললে ভুল হবে, কারণ আমি ওকে ভালোবাসি।”

—–“সত্যি ভালোবাসেন তো?”

—–“তিন সত্যি!”

—–“তাহলে বিয়ের প্রস্তাব দিন!”

—–“তোমাদের ফ্যামিলি যদি না মানে?”

—–“মানবে না কেনো? আপনি কোন দিক থেকে খারাপ?”

—–“আচ্ছা ফ্যামিলি না হয় মানল। তবে সানায়া কি মানবে?”

—–“মানিয়ে নিতে হবে।”

—–“পারব তো?”

—–“অবশ্যই পারবেন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। আজ রাতেই আমি সবার সাথে আপনার ব্যাপারে কথা বলব।”

আদনান এক গাল হেসে বলল,,,,,

—–“থ্যাংক স রূপ। সত্যিই আশ্বস্ত হলাম।”

এর মাঝেই রূপের মাথাটা কেমন ঘুরে এলো। দূর থেকে মুহিত ব্যাপারটা বুঝে দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে রূপকে দুই হাতে ধরে ফেলল। রূপ নাক, মুখ কুঁচকে মাথায় হাত দিয়ে মুহিতকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,,,,,

—–“মুহিত আমার মাথাটা খুব ঘুড়ছে। আমাকে রুমে নিয়ে চলো।”

মুহিত তাড়াহুড়ো করে রূপকে কোলে তুলে নিজেদের রুমে চলে গেলো। মায়া আহমেদ ফিসফিসিয়ে মারুর কানে কানে বলল,,,,,,

—–“মারু যাও তো রূপের কাছে। তোমার কাছে এক্সট্রা কোনো প্রেগনেন্সি কিট থাকলে রূপকে দিয়ে এসো। কাল সকালে টেস্ট করতে হবে। আই থিংক খুশির খবর আসছে।”

মারু মিটিমিটি হেসে মাথা নাঁড়ালো। উপস্থিত সবার মুখে ও হাসি। কারন, সবাই রূপের মাথা ঘুড়ানোর ব্যাপারটা এক্টু হলে ও আঁচ করতে পেরেছে। দুপুরের দিকে সবাই খেয়ে দেয়ে যে যার বাড়িতে চলে গেলো। আদনান নানা ভাবে চেষ্টা করেছে সানায়ার সাথে কথা বলতে। বাট সানায়া প্রতি বারই ভাব দেখিয়ে আদনানকে এভোয়েড করে গেছে। শেষ পর্যন্ত আদনান নিরুপায় হয়ে ব্যর্থ মন নিয়ে বাড়ি ফিরল।

মাথা ঘুড়ানোর পর থেকেই রূপের পেটে হালকা ব্যাথা শুরু হলো। খাওয়া, দাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। খাবারের ঘ্রাণ শুকলেই গড়গড়িয়ে বমি করে দেয়। রূপের অবস্থা দেখে মুহিত ও রুম থেকেই বের হচ্ছে না। সারাক্ষন রূপের পাশে বসে আছে। রূপের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। রূপকে কোলে তুলে পুরো রুমে পায়চারী করছে। রূপের ছটফটানির জন্য ঐ দিন সারারাত মুহিতকে জেগে থাকতে হয়েছে।

খাওয়া দাওয়া থেকে রূপের শরীরটা ভীষণ দুর্বল হয়ে উঠছে। তাই কিছুক্ষন বাদে বাদে বমি করছে। মুহিত বার বার বলেছিলো রূপকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যেতে। মায়া আহমেদ বার বার মুহিতকে থামিয়ে বলেছে এক্টা দিন ধৈর্য্য ধরতে। মুহিত ও মায়া আহমেদের কথায় চেঁপে গেছে। রাতে এসে মারু চুপিচুপি রূপের হাতে প্রেগনেন্সি কিটটা ধরিয়ে দিয়ে গেছে। আর বলে গেছে সকালে উঠেই যেনো টেস্ট টা করে নেয়।

পরের দিন। সকাল আটটা। রূপ কিট হাতে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে মুখে হাত দিয়ে ছলছল চোখে কিটটার দিকে তাকিয়ে আছে। সারা রাত না ঘুমানোর দরুন মুহিত সবে মাএ চোখটা লাগিয়েছে। রূপ দৌঁড়ে এসে মুহিতের গাঁয়ের উপর উঠে মুহিতকে ঝাঁকিয়ে বলল,,,,,,,

——“মুহিততততততত……. তোমার ফুটফুটে মেয়েটা আমার গর্ভেই আছে।”

কথাটা কানে ঢোকার সাথে সাথেই মুহিত চোখ খুলে রূপকে নিয়ে উল্টো দিকে ফিরে রূপের চোখের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,,,,,

——“সসসসত্যি বলছ রূপ?”

রূপ চোখে জল নিয়ে বলল,,,,,,

—–“সত্যি বলছি মুহিত।”

খুশিতে মুহিতের মুখটা চকচক করছে। চোখের কোনে ও জল ধরা দিয়েছে। রূপকে বুকের মাঝে ঝাপটে ধরে মুহিত মিনমিন করে বলল,,,,,,

—–“তার মানে প্রথম রাতেই তুমি কন্সিভ করেছ। যেদিন আমাকে ড্রাগস দেওয়া হয়েছিলো।”

—–“হুম। আর এজন্যই আমার এই মাসের পিরিয়ড মিস হয়েছে। তিনদিন ওভার হয়ে গেছে।”

—–“আ’ম সো সো সো হ্যাপি রূপ।”

রূপ মুহিতের থেকে ছুটার জন্য মোচড়া মুড়ড়ি করছে আর বলছে,,,,,,

—–“ছাড়ো ছাড়ো। বাড়ির বাকিদের খবরটা দিয়ে আসি।”

মুহিত রূপকে থামিয়ে বলল,,,,,,,

—–“এই সময় এতো ছুটাছুটি করা যাবে না রূপ। এক্টু স্থির হও। সারা রাত ঘুমোও নি। এখন এক্টু ঘুমাও। পরে আমরা সবাইকে খবরটা জানিয়ে দিবো।”

মুহিতের কথা শুনে সত্যি সত্যিই যেনো রূপের চোখে ঘুমেরা ধরা দিলো। চোখ বুজে রূপ ঘুমিয়ে পড়ল। মুহিত ও রূপের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।

দুপুর দুইটায় রূপের ঘুম ভাঙ্গল। মুহিতকে গাঁয়ের উপর থেকে সরিয়ে রূপ বেড ছেড়ে উঠে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে সোজা নিচে গেলো। নিচে নেমেই রূপ অবাক হয়ে গেলো। কারণ আদনান আর সানায়া পাশাপাশি বসে কথা বলছে। সানায়া মিটিমিটি হাসছে আর আদনানের দিকে তাকাচ্ছে। বাড়ির বাকিরা এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। রূপ দ্রুত পায়ে হেঁটে আদনানের পাশে বসে মিনমিন করে বলল,,,,,,,,

——“কি ব্যাপার বলুন তো? সানায়া এতো নরমাল কেনো আপনার সাথে?”

আদনান রূপের কানে ফিসফিসিয়ে বলল,,,,,,

—–“তোমার ননদকে আমার হাতে নিতে বেশি সময় লাগে নি। আলতা, লিপস্টিক, নেইল পলিশ, মেকাপ সব পার্সেল করে গিফট হিসেবে ওর জন্য নিয়ে এসেছিলাম। এমা সাথে সাথে কেমন নরমাল হয়ে গেলো। মেয়ে পটানো এতো সহজ নাকি? আগে জানলে তো তোমাকে ও এভাবে পটিয়ে নিতাম!”

কথা গুলো বলেই আদনার হু হা করে হেসে দিলো। সাথে রূপ ও অট্ট হাসি দিয়ে সানায়ার দিকে তাকালো। সানায়া বেকুব হয়ে রূপ আর আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে।

#চলবে,,,,,,,,

(গত পর্বে খুব বড় সড় এক্টা ভুল করে ফেলেছি। না জেনেই গল্পের নায়ক, নায়িকাদের ট্রেন আর রিকশায় করে সাজেক পাঠিয়ে দিয়েছি। পরে অবশ্য ভুলটা বুঝতে পেরেছি। এর জন্য আমি সত্যিই আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আসলে আজ পর্যন্ত সাজেক যাই নি তো, তাই এতো বড় ভুলটা হলো। এগেইন স্যরি।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here