Home "ধারাবাহিক গল্প" কিং অব দ্য ডার্ক কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২১)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২১)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২১)
লেখক :শিহাব_শাহরিয়ার

মাথার পিছন দিকটা চেপে ধরে মাঠিতে ধপ করে পড়লো সেই ব্যক্তিটি।তার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলো একটি লোককে। যাকে চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল করলো না এরিসরা।হাঁ হয়ে গেলো তাদের মুখ। লোকটা ঠোঁট বাকিয়ে হেসে উঠল। সামান্য সামনে এগিয়ে এসে বলল, ‘ইওনকে বন্দী দেখবো এটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি’।
“ইথান…..!” বিড়বিড়িয়ে বলে উঠল এরিস। বিশ্বাস হচ্ছে না তার।তবে নিজের চোখকে কিভাবে অবিশ্বাস করবে।তার সামনেই সশরীরে দাঁড়িয়ে আছে ইথান।খানিক সময় পর ইথানের পিছনে এসে দাঁড়ালো ব্রুস। ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো নীলয়। সে বুঝতে পারলো না তারা এখানে তাদের সাহায্য করার জন্য এসেছে না কি ক্ষতি করার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার প্রমাণ পেয়ে গেলো নীলয়। যখন ইথান এসে পিঞ্জিরার তালা ভাঙলো।নীলয় বের হয়েই পিছনের ঘুরে ওই লোকটার দিকে তাকালো। সে বেশ অবাক হলো যখন দেখতে পেলো লোকটা আবার ঘুমিয়ে গেছে। একে একে সবাই বের হলো। ব্রুসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো নীলয়। মাথা নিচু করে রেখেছে ব্রুস। নীলয়ের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সে।
“তা তুমি এখানে কিভাবে প্রবেশ করলে আর কেনোই বা করলে?”, মাঠি থেকে নিজের তলোয়ার উঠিয়ে নিতে নিতে বলল এরিস। এরিসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইথান বলল,
“ছোট বেলা থেকেই তোমাকে দেখে আসছি। আমার মনে হয় না তুমি কোনো খারাপ কাজ করতে পারো। কিন্তু এটা ভেবো না যে আমি তোমার জন্য এখানে এসেছি।আমি জেরিনের জন্য এসেছি।তুমি বাঁচলেই কি আর মরলেই বা কি।এখন আবার জিজ্ঞেস করো না আমি এখানে কিভাবে প্রবেশ করলাম।কারণ এর উত্তর আমি এখন দেবো না”। মুচকি হাসি দিলো এরিস। আর কিছু বলল না সে। পিঞ্জিরা থেকে বের হয়েও কোমর ঢলতে লাগলো তৌহিদ।মুখে তার বিরক্তি ও রাগের স্পষ্ট ছাপ।জেলের লোহার দরজা পার করে হলওয়েতে এসে দাঁড়ালো সবাই। হলওয়ের শেষ মাথায় দু’জন লোককে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখলো তারা। এরিস বুঝে গেলো এটা কার কাজ। ইথানের দিকে আঁড়চোখে তাকালো সে।তার দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগলো ইথান। কিছুটা সামনে গিয়ে আবার পিছনে সবার দিকে মুড়ে তাকালো নীলয়। তারপর সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
“আমরা সংখ্যায় সাতজন।আমাদের হাতেও কাজ বেশি।সুতরাং একসাথে সব কাজ আমরা করতে পারবো না।আমাদের আলাদা আলাদা হয়ে একটি টিমের মতো কাজ করতে হবে। তো এখন আমি তোমাদের সবাইকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করবো ও একেক দলকে একেক কাজ বুঝিয়ে দিবো।আমাদের সর্বপ্রথম কাজ ক্রিস্টিনদের খুঁজে বের করা।আর দ্বিতীয় কাজ এখান থেকে বের হয়ে পৃথিবীতে ফিরে যাওয়া। কিন্তু আমরা জানি না কিভাবে এখান থেকে বের হওয়া যাবে। তাছাড়া ফ্যারাডেও আমাদের বের হতে দিবে না। হয়তো এতোক্ষণে সে জেনে গিয়েছে আমরা বন্দীশালা থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছি। নিশ্চয়ই সে কোনো না কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাছাড়া এই গ্রহে আমাদের জন্য কি কি বিপদ লুকিয়ে আছে তা আমরা নিজেরাও জানি না।তো আমি মোট তিনটি দল গঠন করতে চাই। তোমরা সবাই কি আমার সাথে আছ?”
সবাই কিছুক্ষণ নীরব থাকলো।নীলয়ের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতে ব্যস্ত সবাই।ঘোর কাটতেই এরিস বলে উঠল,
“তুমি আগে কখনো কোনো বাংলা সিনেমায় অভিনয়ের কাজ করেছ না কি?”
এরিসের কথায় তার দিকে গোলগোল চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকলো নীলয়। এরিস কি বুঝাতে চাইছে তা বুঝতে পারলো না সে। কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যাবে তখনই এরিস আবার বলে উঠল,
“আরে ভাই এখানে আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে।তুমি শুধু বলে যাও”।
মুচকি হাসি ফুটে উঠল নীলয়ের মুখে।সে বলতে শুরু করলো,
“জেলখানার লোকটা বলেছিল দক্ষিণ দিকে একটি গ্রন্থাগার আছে।তো সময় নষ্ট না করে আমাদের আগে ওই জায়গা থেকে জানতে হবে এখান থেকে কিভাবে বের হওয়া যাবে। এই কাজটা করবে তৌহিদের দল। তৌহিদ…. তুমি যাবে রহিম চাচা আর ইথানের সাথে। আর ইওবার্ড, আমি ও এরিস ক্রিস্টিনদের খুঁজবো আর এখানকার পরিবেশ সামাল দিবো।আর ব্রুস….. তুমি ও মির্জা এই বন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তা এখন নয়।আমাদের কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা তোমাকে ইশারা করবো। আর তৌহিদ তুমি ভালো করে শুনো, কাজ শেষ হলে সোজা ব্রুসদের কাছে চলে আসবে। এদিক ওদিক যাবে না বা আমার নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ করতে যাবে না। ঠিক আছে? সবাই কি বুঝতে পেরেছো আমার কথা?”
নীলয়ের কথায় মাথা নাড়লো সবাই। ইথানরা বেরিয়ে গেলো হলওয়ে ধরে। নীলয় বেশ ভালোভাবেই জানে কোনো কিছুই পরিকল্পনা মোতাবেক হবে না। কিন্তু তবুও একটু আশা তো থাকবেই। বাইরে বের হয়ে চারটি চাঁদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছাড়লো তৌহিদ। তারপর সোজা পশ্চিম দিকে হাটা ধরলো। এই কাজে তাকে সাহায্য করলো ইথান। কারণ এই নতুন পরিবেশে এসে কোনটা পশ্চিম কোনটা পূর্ব বুঝতে পারছিল না তৌহিদ।কিন্তু ইথান তার ভ্যাম্পায়ার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুব শীঘ্রই জেনে গেলো কোনটা পশ্চিম দিক। অতঃপর সেদিকে রওনা দিলো তারা।
এদিকে তিনতলা ভবনের সব তলা খুঁজেও ক্রিস্টিনের কোনো খোঁজখবর পেলো না নীলয়রা। তার মানে ক্রিস্টিনদের জেলে বন্দী করে রাখা হয় নি। তাহলে কোথায় রাখা হয়েছে। রাজপ্রাসাদটা একবার দেখা দরকার! এই ভেবে এরিস ও নীলয় হাটা ধরলো রাজপ্রাসাদের দিকে।আর জেলখানার হলওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকলো ব্রুস ও মির্জা।বর্তমানে তাদের হাতে কোনো কাজ নেই।
হাটতে হাটতে একটি পুরনো আংশিক বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো ইথানরা। দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো তারা সবাই। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন জিনিসপত্র।আরো আছে বইয়ের তাক।ভাঙা জানালা দিয়ে চাঁদের আলো কিছুটা ভিতরে প্রবেশ করছে।সেই আলোয় সম্পূর্ণ কামরাটাকে দেখতে পারছে রহিম চাচারা।
“বাপরে বাপ এখানে কি খুঁজবো?” হতাশার সুরে বলল তৌহিদ। তখনই বাইরে থেকে ধুপধাপ আওয়াজ শুনা গেলো।কারো পায়ের আওয়াজ! কেও একজন হেটে হেটে আসছে তাদের দিকে। সর্তক দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো সবাই। ইথান লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হঠাৎ যেন পায়ের আওয়াজ থেমে গেলো।দরজায় দেখা গেলো কোনো এক লোককে।চাঁদের আলো লোকটির মুখে পড়তেই তাকে চিনতে পারলো তৌহিদ ও রহিম চাচা। এটা সেই লোক যাকে তারা প্রথম দিন দেখেছিল। ধপ ধপ শব্দ করে পুরো কামরা কাঁপিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো লোকটা। ইথান তার ভ্যাম্পায়ার রূপ ধারণ করলো। লোকটার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলো সে কিন্তু তখনই লোকটা হাত দিয়ে তাকে থামতে বলল। থেমে গেলো ইথান। লোকটাও দাঁড়িয়ে থাকলো।মুখে লেগে আছে তার ভুবন ভুলানো হাসি। তৌহিদের দিকে তাকিয়ে সে বলল,
“তোমাদের কি মনে হয় এখানে কিছু পাওয়া যাবে….? অনেক বছর আগে ঠিক তোমাদের মতোই এক মেয়ে ছিল।যাকে পৃথিবী থেকে ধরে আনা হয়েছিল।আমি ধরে এনেছিলাম তাকে।প্রথম দেখা থেকেই সেই মেয়েটিকে অনেক পছন্দ করে ফেলেছিলাম।কিন্তু কখনো বলি নি।কারণ যদি একবার এই কথা ক্যালভিন জানতে পারত তাহলে আমাকে আর বাঁচতে দিত না।ভালোবাসার খাতিরে আমি ওই মেয়েকে পৃথিবীতে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলাম।এক মাত্র সেই এক মেয়ে ছিল যে এখান থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে।এর পর পৃথিবীতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিলো ক্যালভিন।নতুন একটি রাস্তা আবিষ্কার করলো সে।যার সম্পর্কে আমি অবগত নই। ক্যালভিন কখনো আমার কথা জানতে পারে নি।আমি আমার দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিলাম।রাগে ক্ষোভে সে তাকে হত্যা করেছিল যার উপর আমি দোষ চাপিয়েছিলাম ।বেঁচে গেলাম আমি।আর আজ পর্যন্ত ঠিক এই ভাবেই বেঁচে আছি।বেইমানি করে..! গোলামের মতো সেবা করে যাচ্ছি তার। আমি জানি তোমরা ওই দুই মেয়ের জন্য এখানে এসেছ। আর একমাত্র আমিই একজন যে এই অভিশপ্ত জগতে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে”।
লোকটার কথায় যেন চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেলো তৌহিদদের।কিন্তু ইথান তার কথার কিছুই বুঝতে পারলো না।সে লোকটাকে জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই তৌহিদ জিজ্ঞেস করে বসলো,
“কে এই ক্যালভিন?আর কেনোই বা সে এতো মানুষকে তুলে আনছে?”
তৌহিদের প্রশ্ন শুনে পাশে রাখা এক বস্তার উপর বসে পড়লো লোকটি।তৌহিদের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো,
“ফ্যারাডের পুত্রের নাম হলো ক্যালভিন। ক্যালভিন ছিল তার সর্বশেষ পুত্র।যার ফলে তার প্রতি আলাদা একটি ভালোবাসা ছিলো ফ্যারাডের মনে। কিন্তু ক্যালভিনের মনে ছিল না কোনো ভালোবাসা। তার দু’টো জিনিসের প্রতি ছিল সীমাহীন লোভ। প্রথমটা হলো নারী।তাও আবার সুন্দরী মানবী। পৃথিবী থেকে সে অনেক মেয়ে তুলে নিয়ে গেছে।ফ্যারাডে সব কিছুই জানতো কিন্তু তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতো না। ফলে ক্যালভিনের সাহস আরো বেড়ে গেলো। সে লাগাতার সুন্দরী নারীদের তুলে আনতে লাগলো।আর তাদের দিয়ে তার যৌন উত্তেজনা মেটাতো।তার এই কাজ একসময় অতিষ্ঠ করে তুলল ফ্যারাডেকে। সে তার প্রিয় পুত্রকে জীবনের প্রথম কোনো একটি কাজ করতে নিষেধ করলো। ক্যালভিন এতে অনেক কষ্ট পেলেও কিছু বলল না। মেয়েদের নেশা ছেড়ে দিয়ে সে ধরলো নতুন আরেক নেশা। শক্তি শোষণের নেশা! অন্ধকারের নেশা!”
“মানে?” ভ্রু কুঁচকালো ইথান।
“টাইটানস আর মানুষের মধ্যে পার্থক্য হলো তাদের শক্তি। টাইটানসদের কাছে অত্যাধিক শক্তি থাকে যা মানুষের মধ্যে থাকে না।টাইটানসদের দেহ অর্ধেক আলোকিত আর অর্ধেক অন্ধকারময়। আবার টাইটানসদের একটি খারাপ দিকও আছে। শক্তি শোষণ করা। তারা একে অপরের শক্তি শোষণ করে নিতে পারে। আমাদের শক্তি বলতে আমাদের অন্ধকার অংশকে বুঝায়।কারণ আমাদের আলোকিত অংশ তো মানুষ।এই অর্ধেক আলোকিত অংশের জন্যই আমরা মানুষের মতো আচরণ করি।যাই হোক, আমাদের এই রাজ্যে শক্তি অর্থাৎ টাইটানসদের অন্ধকার অংশ শোষণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। হাজার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ক্যালভিন বিভিন্ন টাইটানের শক্তি শোষণ করে নিতে থাকে। ফ্যারাডে এসব কিছু জানতো না।ক্যালভিন একের পর এক টাইটানের শক্তি শোষণ করতে থাকলো আর সে নিজে আরো শক্তিশালী হতে থাকলো।সে জানতো না তার এই কাজের জন্য তার কতোটা ক্ষতি হবে। এক পর্যায়ে ক্যালভিনের শরীরে আলোর পরিমাণের চেয়ে অন্ধকার বেশি হয়ে গেলো।যার ফলে নিজের শরীরকে হারাতে হলো তাকে। টাইটানসদের শরীরে অন্ধকারের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে শরীরের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে ও শরীর চিরতরের জন্য হারিয়ে যায় কালের গহ্বরে। ক্যালভিনের বেলায় ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল।শক্তি তো সে প্রচুর পেয়েছিল কিন্তু বিনিময়ে তার দেহ ত্যাগ করতে হলো।কারণ তার দেহের আলোর অনুপাতের চেয়ে অন্ধকারের অনুপাত বেশি ছিল। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তার প্রয়োজন ছিল একটি দেহ।তাই সে তার বাবার দেহকে ব্যবহার করলো। যেদিন থেকে সে ফ্যারাডের শরীর ব্যবহার করতে শুরু করে সেইদিন থেকেই সূর্যের অস্তিত্ব হারিয়ে যায়।আমরা সবাই ঢাকা পড়ে যাই অন্ধকারে।আর এই অন্ধকারেই নিজের শক্তিকে অনুভব করতে পারে ক্যালভিন। অন্ধকার ছাড়া তার কোনো অস্তিত্ব নেই।কারণ সে নিজেই অন্ধকার”।
লোকটার কথা শেষ হতেই কিছু একটা ভাবতে লাগলো ইথান।কিছুক্ষণ পর সে চোখ তুলে এমনভাবে তাকালো যেন সে পৃথিবীর আশ্চর্যজনক কোনো বস্তু হাতে পেয়ে গেছে।
“কিন্তু সে এখন এই নারী জাতিদের তুলে আনছে কেনো? এখন তো তার কাছে কোনো শরীর নেই”। ইথানের কথা শুনে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো লোকটি।ইথানের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল,
“তুমি মনে হয় ভুলে গেছো সে তার বাবার শরীরে বসবাস করছে।আর আরেকটা কথা বুঝে নাও, যখন তার কাছে ক্ষমতা ছিল না তখন সে কতো মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। আর এখন তো তার কাছে পুরো রাজ্যের ক্ষমতা আছে।ভেবে দেখো সে এখন কি করতে পারবে”
“তারমানে ওই শয়তান জেরিনের সাথেও……..”, কথা শেষ করতে পারল না ইথান। মুখ দিয়ে বাকি কথা বের হলো না। তার অর্ধেক প্রশ্ন বুঝতে পেরে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালো লোকটা।চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো ইথান। ভ্যাম্পায়ার রূপ নিয়ে উড়াল দিতে চাইলো সে।কিন্তু পারলো না।কারণ লোকটা তৎক্ষণাৎ তার ডানা খপ করে ধরে ফেলেছিল।শরীরের সর্বশক্তি দিয়েও নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হলো ইথান। কোনো উপায় না দেখে ভূমিষ্ঠ হলো সে।
“ভুলে যেও না আমিও একজন টাইটান”, ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলল লোকটা।প্রচন্ড রেগে গেলো ইথান।হুঙ্কার দিয়ে উঠল সে। তার কাঁধ ছেড়ে দিলো লোকটা।শান্ত হতে বলল ইথানকে। কিছুটা সামনে এগিয়ে আসলো তৌহিদ। লোকটার দিকে তাকিয়ে সে বলল,
“তুমি কি জানো আমরা তাকে কিভাবে মারতে পারবো?”
তৌহিদের কথায় হুহু করে হেসে উঠল লোকটা। হাসি থামিয়ে সে বলতে লাগলো,
“তোমরা একবারও কি ভাবলে না ক্যালভিন এতো মহিলার সাথে সঙ্গম করে কেনো?”
লোকটার কথায় তার দিকে তাকিয়ে থাকলো সবাই। আসলেই তারা এটা ভেবে দেখে নি। লোকটা আবার বলতে লাগলো,
“শুধু যে একটি শরীরের কারণে ক্যালভিন বেঁচে আছে তা নয়। সে শত শত মহিলার সাথে সঙ্গম করার একটি কারণও আছে। তার দীর্ঘ দিনে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন হয় হৃদপিণ্ডের। প্রতি মাসে সে একটি করে হৃদপিণ্ড ভক্ষণ করে যাতে করে সে শক্তিশালী ও দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকতে পারে। মেয়েদের সাথে সঙ্গমের দু’মাস পর তারা বাচ্চা প্রসব করে। আর সেই সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার হৃদপিণ্ড খেয়ে বেঁচে থাকে ক্যালভিন।পুরো মাসে আর কোনো খাবার মুখে দেয় না সে। মানুষের হৃদপিণ্ড ছাড়া আর কিছুই তার গলা দিয়ে যায় না। আর সেই সকল বাচ্চাদের হৃদপিণ্ড আমি নিজ হাতে বের করি। যেই আমি মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকাতাম না আজ সেই আমি নিজের জীবনের ভয়ে বাচ্চাদের হত্যা করি। যদি আমি তার কাজ না করি তাহলে সে বাকি সবার মতো আমাকেও জেলের ভিতর বন্দী করে রাখবে তারপর একদিন আমাকে ঠিকই মেরে ফেলবে।আমি চাই না এতো তাড়াতাড়ি মরতে। আমি জানতাম একদিন না একদিন কেও একজন আসবে আর আমাদের এই নরক থেকে মুক্তি দিবে।আমি তারই অপেক্ষায় ছিলাম। তাই যখন আমি দেখলাম তোমরা জেল থেকে পালিয়ে এই দিকে আসছো তখন আমি বুঝে গেলাম তোমরা ক্যালভিনের দিন শেষ কর‍তে এসেছ।আমি তোমাদের সব ধরণের সাহায্য করবো।বল আমাকে কি কর‍তে হবে।তবে তাকে কিভাবে মারতে পারবে তা আমার জানা নেই।আমি তার সাথে কাজ করি বলে শুধু এতোটুকুই জানি”,এই বলে থামলো লোকটা।
“আসল জিনিসটাই তো জানো না..!” বিড়বিড়িয়ে বলল তৌহিদ। কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করলো তাদের মাঝে। চিন্তায় পড়ে গেলো সবাই।
“আলো…. অন্ধকার…. আলো….” বিড়বিড় করতে লাগলো তৌহিদ।হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই টনক নড়লো তার। গোলগোল চোখ দিয়ে লোকটার দিকে তাকালো সে।
“তুমি একটু আগেই বলেছিলে, অন্ধকারেই ক্যালভিনের অস্তিত্ব।তাহলে আমরা যদি এই অন্ধকারকে দূর করতে পারি তাহলে তার অস্তিত্ব মিলিয়ে যাবে”, বলে উঠল তৌহিদ।মুখে তার রাজ্য বিজয়ীর হাসি। ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো সবাই। সম্ভবত তার কথার কিছুই বুঝতে পারে নি। তাদের এমন ভাব দেখে তৌহিদ আবার বলে উঠল,
“যদি আমরা কোনোভাবে সূর্যের উদয় ঘটাতে পারি তাহলে অন্ধকার কেটে যাবে আর সব কিছু আলোকিত হয়ে যাবে।আর সেই আলোয় যদি আমরা ক্যালভিনকে দাঁড় করাতে পারি তাহলে সালা হারামি তীব্র আলোর সামনে টিকে থাকতে পারবে না। তার অস্তিত্ব চিরকালের জন্য মিটে যাবে। আলো আর অন্ধকারের মিশ্রনের ফলে কি হয় জানো তো? শূন্যতা….! ”
তৌহিদের কথায় তাকে বাহ বাহ দিতে লাগলো সবাই। কিন্তু ইথান একটি প্রশ্ন করে বসলো যার ফলে সবার মুখ আবার চুপসে গেলো।
“তোমরা একটি জিনিস ভুলে যাচ্ছ।আমরা কেওই জানি না কিভাবে সূর্যকে আবার ফিরিয়ে আনবো।তাই আগে চিন্তা করো কিভাবে সূর্যকে আনা যায়।তারপর না হয় বাহ বাহ দিও”। ইথানের এই কথায় চিন্তায় পড়ে গেলো সবাই। কারণ তারা কেওই জানে না কিভাবে কি করতে হবে। মাথায় হাত দিয়ে চুলকাতে লাগলো লোকটা।কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করছে সে।কিছুক্ষণ পরেই তার চোখ চকচক করে উঠল। সবার উদ্দেশ্যে সে বলল,
“হয়তো আমি তোমাদের এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারবো। চল আমার সাথে”, এই বলেই দরজার দিকে হাটা ধরলো লোকটি। তার পিছু নিলো বাকি সবাই।
.
.
————– চলবে ————–
.
.
.
পর্ব ছোট হওয়ার জন্য দুঃখিত।বাড়িতে অনেক ব্যস্ততা….। বানানের বা অন্য কোনো দিকে কোনো প্রকার ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম