Home "ধারাবাহিক গল্প" কিং অব দ্য ডার্ক কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২২)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২২)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২২)
লেখক :শিহাব_শাহরিয়ার

এরিস ও ইওবার্ডকে নিয়ে প্রাসাদের দিকে হাটা ধরলো নীলয়। বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে নীলয়কে।কি থেকে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না সে।এমন একটা পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নেওয়া বেশ দুষ্কর। একদিকে অচেনা গ্রহ অন্যদিকে ক্রিস্টিন পাশে নেই।দ্রুত গতিতে পা চালাচ্ছে সবাই। মহলে পৌঁছানোর জন্য যে বড় রাস্তা ব্যবহার করা হয় সেই রাস্তা দিয়েই হাটছে তারা।মাথার উপর আলো ছড়াচ্ছে চারটি উপগ্রহ।এদের আলো এতো বেশি না হলেও মোটামুটি বেশির ভাগ জায়গাই স্পষ্ট দেখাচ্ছে।চারিপাশে বড় বড় দালান। দালানের গায়ে সুন্দর করে আঁকানো বিভিন্ন কারুকাজ।সামনেই দেখা যাচ্ছে বিশাল আকারের রাজমহলের প্রাঙ্গণ।দেখা যাচ্ছে পানির ফোয়ারা। সুসজ্জিত বিভিন্ন অজানা ফুলের বাগান নেতিয়ে পড়েছে।মাথার উপর সূর্যের আলো যে আর নেই। সম্পূর্ণ পরিবেশ নীরব। এই রাজ্যে একটিও যেন প্রাণী নেই।হয়তো সবাই নিজেদের ঘরের ভিতর বন্দী করে রেখেছে। কারণটাও অজানা নয় নীলয়ের।রাজমহলের প্রাঙণে পা রাখতেই কোথা হতে ধুপধাপ আওয়াজ শুনা গেলো।সেই সাথে কিছু গড়গড় আওয়াজ। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে চারিপাশে তাকাতে লাগলো তারা।রাজপ্রাসাদের পিছন দিক থেকে সারিবদ্ধভাবে বেরিয়ে আসতে লাগলো সহস্রাধিক সৈন্য। টাইটানস সৈন্য! তাদের হাতে নেই কোনো যুদ্ধের তলোয়ার, নেই কোনো ঢাল। কিংবদন্তির মতো এগিয়ে আসছে তারা। মাথায় বড়বড় দুটো শিং আর বনমানুষের মতো পুরো শরীর। হাত দু’টো মাঠি পর্যন্ত নেমে এসেছে।বিশ্রী তাদের মুখের গঠন। সেই মুখ থেকে গড়িয়ে পড়ছে ঘন ঘন লালা। নাক কোথায় আর কান কোথায় তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে গেলো এরিসরা। বিশাল আকারের সেই প্রাণীগুলোর পায়ের ধপধপ আওয়াজে কেঁপে উঠছে পুরো আঙিনা। এরিসদের দিকে মুড়ে তাকালো নীলয়। ক্রুর হাসি লেগে আছে এরিসের মুখে।ইওবার্ড মনে হয় নিজের শরীরকে গরম করছে। তাই-তো হেলে-দুলে শরীরকে এদিক ওদিক নিয়ে যাচ্ছে। কাওকে কিছু না বলেই সৈন্যদের দিকে দৌঁড় দিলো নীলয়। এরিসরা নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলো। নীলয়কে তাদের দিকে দৌঁড়ে আসতে দেখে হুঙ্কার ছেড়ে একসাথে সকল সৈন্য এগিয়ে আসলো।সৈন্যদের কাছে যেতেই বেলুনের মতো ফেটে গেলো নীলয়ের শরীর।সাথে সাথেই যেন নিকষ কালো অন্ধকার গ্রাস করলো পুরো পরিবেশকে। চাঁদের আলো মেঘ দ্বারা ঢাকা পড়লো। হঠাৎ এমন আকস্মিকতায় কিছুক্ষণের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলো সব সৈন্য। কয়েক সেকেন্ডের আবার ঘোর কেটে গেলো তাদের। তখনই পিছন থেকে শুনা গেলো কয়েকজন সৈন্যের আর্তচিৎকার। চট করে মাথা ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালো সবাই। একেকজনের মুখের লালা ছিঁটকে গিয়ে পড়লো অন্যজনের মুখে। কিন্তু এতে তাদের কিছুই আশে যায় না। পিছনে ঘুরে দেখলো বেশ কয়েকজন সৈন্যের অর্ধেক শরীর এক জায়গায় বাকি অর্ধেক শরীর আরেক জায়গায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাদের সবার শরীরের কোমর পর্যন্ত কেও যেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেছে। সৈন্যগুলোর প্রাণ তাদের শরীর ত্যাগ করেছে ঠিকই কিন্তু তাদের কাটা কোমর থেকে এখনো রক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে।কিন্তু কে হত্যা করলো এঁদের। কাওকেই তো দেখা যাচ্ছে না।এমন পরিস্থিতির সাথে বেশ পরিচিত সকল সৈন্যদল। নীলয় তো তাদেরই দলের একজন। আশেপাশে তাকিয়ে নীলয়কে খুঁজতে লাগলো তারা।কিন্তু কোথাও দেখতে পেলো না।এটা সত্যি অবিশ্বাসযোগ্য কথা।অন্যসময় হলে তো নীলয়কে তারা দেখতে পেতো। হঠাৎ একজনের চোখ গেলো রাজমহলের দিকে। রাজমহলের সদর দরজা খোলা.!
চাঁদের উপর থেকে অন্ধকার ছায়াটাও যেন সরে গেছে। এদিকে সকল সৈন্য যখন পিছনে কাটা সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে ছিল তখন এরিসরা তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিলো। দৌঁড় দিলো এরিস ও ইওবার্ড।দু’জনেই তাদের দানবাকৃতির রূপ ধারণ করলো।একজন নেকড়ে একজন ভ্যাম্পায়ার। শরীরের বস্ত্র খসে পড়লো এরিসের।তবে পাজামাটা একটু ঢিলাঢালা হওয়ায় খসে পড়লো না। পিঠ চিঁড়ে বের হয়ে আসলো দু’জোড়া ডানা। একপাশে দুইটি অন্যপাশে দুইটি। শক্ত দু’হাতের কনুইয়ের চামড়া চিঁড়ে বের হয়ে আসলো দু’টো মোটা শক্ত হাড় জাতীয় কিছু একটা। তার সাথে সাথে তার হাতের তলোয়ারেরও পরিবর্তন ঘটলো।অতিকায় বিশাল আকারের এক্স আকৃতির কুড়ালে পরিণত হলো সেটি। সেই কুড়ালের হাতলে ধরে নাড়াচাড়া করে দেখতে লাগলো এরিস। ইওবার্ডের থেকে বেশ বড় দেহের অধিকারী সে।তার এমন দৈহিক গঠন দেখে মুগ্ধ নয়নে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো ইওবার্ড। সৈন্যরা কিছু একটা করতে যাবে তার আগেই তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়লো এরিসরা।হাতের কুড়াল সৈন্যদের দিকে ছুঁড়ে মারলো এরিস।এক জনের মাথায় গেঁথে গেলো সেই কুড়াল।এক টানে আবার নিজের কুড়াল নিজের হাতে নিয়ে সেই সৈন্যের বুকে লাথি মারলো সে।ছিঁটকে দূরে গিয়ে পড়লো সেই সৈন্যটি।তার পিছনে যে ছিলো তারও ঠিক একই অবস্থা হলো। হঠাৎ করে পাশ থেকে কোনো এক সৈন্য আঘাত করে বসলো এরিসকে। কয়েক হাত দূরে গিয়ে পড়লো এরিস। ঝট করে আবার উঠে দাঁড়ালো সে। অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে তাকালো সেই সৈন্যটির দিকে। উঠে দাঁড়িয়ে সেই সৈন্যটির দিকে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে গেলো সে।মাঠি থেকে কুড়াল উঠিয়ে সৈন্যটির দিকে ছুঁড়ে মারলো।সৈন্যটার কাছে যেতেই কুড়ালটি আবার তলোয়ারের আকার ধারণ করলো।সৈন্যটার বুক এফোঁড়ওফোঁড় করে বেরিয়ে গেলো সেই তলোয়ার। ক্রুর হাসি ফুটে উঠল এরিসের মুখে। একদল সৈন্য এগিয়ে আসলো তার দিকে। তাদের দিকে দৌঁড় দিলো এরিস। প্রথম জনের মুখে একটি ঘুষি মারলো সে। সৈন্যটি উড়ে গিয়ে প্রাসাদের বড় পিলারের উপর আঁচড়ে পড়লো। আরেকজনের বুকে লাথি মারতে যাবে তার আগেই সেই সৈন্য তার পা আঁকড়ে ধরে ফেলল।তৎক্ষনাৎ আরেকটি সৈন্য এসে এরিসের মুখে আঘাত করলো। থেঁতলে গেলো এরিসের মুখমণ্ডল। ধপ করে মাঠিতে পতিত হলো সে। মুহূর্তের ভিতরে তার মুখ আবার ঠিক হয়ে গেলো।এদিকে আঘাত প্রাপ্ত হলো ইওবার্ড। রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে রইলো সে।তার শরীরের লম্বা লম্বা লোমের ফলে তার রক্তগুলো পুরোপুরি ভেসে উঠে নি। মাঠি থেকে উঠে দাঁড়ালো এরিস। মাঠি থেকে তার তলোয়ার উঠিয়ে নিলো সে। তারপর ইওবার্ডকে কাঁধে তুলে নিয়ে আকাশে উড়াল দিলো। সেকেন্ডের মধ্যে কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দিলো সে। যতোই উপরে উঠছে ততোই তার তলোয়ার নিজ রূপ বদলে বিশাল আকারের কুড়ালের রূপ ধারণ করছে।ইতিমধ্যে আগুন ধরে গেছে কুড়ালের শরীরে। মাঠির দিকে সেই কুড়াল সর্বশক্তি দিয়ে ছুঁড়ে মারলো এরিস।
এদিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে এরিসদের খোঁজার চেষ্টা করছে সকল সৈন্য। তারা সিদ্ধান্ত নিলো আকাশে উড়াল দিবে। কিন্তু তখনই কোত্থেকে যেন একটি কুড়াল এসে আঁচড়ে পড়লো মাঠিতে।দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে সেই কুড়ালের গায়ে।আগুন মানেই আলো! আলোর সংস্পর্শে এসে চিৎকার করতে লাগলো সকল সৈন্য। অনেকের শরীর সেই আগুনে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সকল সৈন্য প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেলো।ভূমিষ্ঠ হলো এরিস। রাজপ্রাসাদের দিকে পা বাড়ালো সে। ইওবার্ডকে তার হাতের একফোঁটা রক্ত খাওয়ালো।তখনই লাফ দিয়ে উঠে বসলো সে। সতেজতা ফিরে পেলো আবার। এরিসের দিকে অশ্রুসিক্ত চোখে তাকিয়ে থাকলো সে। হয়তো ভাবছে তার শত্রুই তাকে আজ বাঁচালো। আসলে ক্ষমা জিনিসটা সবার মধ্যে থাকে না।কিন্তু অহংকার সবার ভিতরেই বাস করে। যার যতো বেশি অহংকার থাকে তার ততো বেশি শত্রু থাকে। আর যার ক্ষমা করার গুণ যতো বেশি থাকে তার ততো কম শত্রু থাকে। শত্রু আপনাআপনি তৈরি হয় না।আমরা নিজেরাই তৈরি করি।
আফসোস এই যুগের মানুষের ভিতরে হিংসা আর ক্ষোভ ছাড়া কিছুই নেই। নয়তো প্রতিদিন আর খবরের কাগজ খোলার সাথে সাথে খুনের খবরটা ভেসে উঠত না।
.
.
অপরদিকে সবার চোখের আড়ালে রাজমহলে প্রবেশ করলো নীলয়।চারিদিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখতে লাগলো সে। রাজমহলে রাখা আছে বিভিন্ন চারুকলা, কারুকার্য ইত্যাদি।আরো কয়েকটি কামরা আছে। সাথে আছে বিশাল বড় ডাইনিং টেবিল।উপরে যাওয়ার জন্য একটি সিঁড়িও আছে। সেই সিঁড়ি সর্বপ্রথম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলো নীলয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই ঘরে পা টিপেটিপে হেটে চলছে সে। এখনো পর্যন্ত কারোর আওয়াজ অথবা উপস্থিতি টের পায় নি।কিন্তু হয়তো খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবে।সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো নীলয়। কোন দিক দিয়ে যাবে তা ভেবে পেলো না সে। ডান দিক না বাম দিক। অন্ধকারের মাঝেও ডানদিকের চারটি কামরা ও বামদিকের চারটি কামরার সাথে শেষের দিকে একটি সিঁড়িও দেখতে পেলো সে। কোন দিক দিয়ে সে যাবে তা বুঝতে পারলো না। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ডান দিকে হাটা ধরলো সে।সেদিকে ছিল মোট চারটি কামরা।সবগুলোই অন্ধকারে ঢাকা।প্রথমটা খুলে সেখানে কিছুই পেলো না নীলয়। দ্বিতীয়টা খুলে ভিতরে প্রবেশ না করে দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে দেখে নিলো সে। কিছুই নেই! যেই সে দরজা বন্ধ করতে যাবে তখনই অতি তীক্ষ্ণ একটা শব্দে থমকে দাঁড়ালো। ধপ করে দরজা খুলে আবার ভিতরে প্রবেশ করলো।বিছানার আড়ালের দৃশ্য দেখে রাগে চোখ লাল হয়ে গেলো তার। বিছানার পায়ের সাথে বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে ক্রিস্টিন ও জেরিন। কাপড় ঠিক জায়গায় নেই তাদের। দু’জনেরই জ্ঞান নেই। চোখ বুঁজে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। দৌঁড় দিয়ে ক্রিস্টিনের দিকে এগিয়ে গেলো নীলয়। সর্বপ্রথম তাদের কাপড় ঠিক করে দিল।তারপর হাতে বেঁধে রাখা লোহার বাঁধনটা খুলে দিলো।দু’জনকে উঠিয়ে দুই কাঁধে নিয়ে আবার দরজার দিকে পা বাড়ালো। তড়িঘড়ি করে হাটছে সে।হঠাৎ পিছন থেকে কিছু একটার গড়গড় আওয়াজে থেমে গেলো নীলয়।কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো সে। ক্রিস্টিন আর জেরিনকে ধীরে ধীরে নিজের কাঁধ থেকে নামিয়ে মেঝেতে বসালো।তার বুঝতে বেগ পেতে হলো না এটা কিসের আওয়াজ। ঘুরে দাঁড়ালো নীলয়। অবাক করা চাহনি দিয়ে তাকিয়ে থাকলো সামনের দিকে।
.
.
ইথানদের নিয়ে মাঠির নিচে একটি গোপন কক্ষে প্রবেশ করলো লোকটি।
“হয়তো এখান থেকে তোমরা কোনো কিছু পেয়ে যেতে পারো।আমি ফ্যারাডেকে এখানে অনেক বার আসতে দেখেছি।বলতে গেলে সে প্রায় সময় এখানেই থাকতো”, বলতে বলতে কামরায় প্রবেশ করলো লোকটি। তার পিছন পিছন গেলো বাকি সবাই। অসম্ভব সুন্দর সেই কামরা। মাঠির নিচে তৈরি করা হয়েছে।একটি রাজকীয় খাট আর কিছু জিনিস পত্র ছাড়া এই কামরায় আর কিছুই নেই। চারিপাশে দেখা যাচ্ছে লালচে মাঠির উপর কিছু অদ্ভুত চিত্রাঙ্কন। বলা বাহুল্য এগুলো শুধু ইথান দেখতে পাচ্ছিল। লোকটি এক চুটকি বাজাতেই আবছা আলো জ্বলে উঠল।ইথানরা খেয়াল করলো ছাদের গায়ে লাগানো আছে একটি হলুদ পাথর। যা থেকে আবছা আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। পাশের দেয়ালে চোখ যেতেই সেদিকে চোখ আঁটকে গেলো তৌহিদের। ধীর পায়ে পলক না ফেলেই সেদিকে হাটতে লাগলো সে। মাঠির উপর কিছু চিত্রাঙ্কন তাকে বেশ ভাবাচ্ছে। রঙ দিয়ে আঁকা সেই চিত্রাঙ্কনগুলো ভালোভাবে দেখতে লাগলো সে।তার কর্মকাণ্ড দেখে বাকি সবাই কিছুটা এগিয়ে আসলো। সাথে সেই লোকটাও।
সবার উপরে আঁকা একটি সবুজ পাথর।তার নিচে সূর্য , তার নিচে আঁকা আছে দু’জন ব্যক্তি। সেই পাথরটির দিকে দু’হাত তুলে মাথা নিচু করে আছে তারা। ইথান দেয়ালের সামনে আসতেই তার পকেট থেকে কিছু একটার কাঁপা-কাঁপির আওয়াজ শুনা গেলো। সবাই সেই চিত্রাঙ্কন ছেড়ে ইথানের পকেটের দিকে তাকালো।কাপড়ের উপর দিক দিয়ে ভেসে উঠেছে আবছা সবুজ আলো। সবাই বেশ অবাক হলো। জিহ্বার অগ্রভাগে কামড় দিলো ইথান। পকেট থেকে সেই বস্তুটি বের করলো।সবুজ আলোয় ধাঁধিয়ে গেলো সবার চোখ।কিছুক্ষণের ভিতরে ঠিক হয়ে গেলো। সেই বস্তুটিকে দেখতেই চিনতে পারলো সবাই শুধু সেই লোকটি ছাড়া।
“এটা তুমি কোথায় পেলে।এটা তো আমরা ওই গুহার পাথরের উপর লাগিয়ে এসেছিলাম”, বললেন রহিম চাচা। আমতা আমতা করে ইথান বলতে লাগলো,
“আসলে আমি তোমাদের পিছু নিয়ে নেকড়ে রাজ্যে এসেছিলাম।তারপর যখন তোমরা ওই আয়নায় পা দিয়ে গুহার মুখের কাছে গিয়েছিলে তার কিছুক্ষণ পরই আমি সেখানে পৌঁছেছিলাম। ততক্ষণে তোমরা ওই স্থান ত্যাগ করেছিলে। গুহার মুখে সবুজ পাথরটি দেখে বুঝতে পারলাম তোমরা ওইদিকেই গেছ।তাই আমিও তোমাদের পিছু নিলাম।গুহার প্রবেশ করার সময় ভাবলাম এই পাথরটা খুব সুন্দর, এঁকে সাথে করে নিয়ে যাই। যেই ভাবা সেই কাজ। উঠিয়ে নিয়ে আসলাম এই পাথরকে”।
তৌহিদ কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ইথানের হাতের পাথরটি তীব্র আলো ছড়াতে শুরু করলো। চোখে হাত দিয়ে দিলো সবাই। যখন খুলল তখন দেখলো দেয়াল আর দেয়ালের জায়গায় নেই।সেটা যেন দু’পাশ দিয়ে খুলে গেছে। তার বদলে সেখানে আছে একটি রাস্তা। অন্ধকার রাস্তা! কিন্তু সেই অন্ধকারের শেষ মাথায় আলোর এক বিন্দু দেখতে পেলো সবাই। একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকালো সবাই।
“বাপরে বাপ। প্রথমে আয়না আর এখন এই দেয়াল…!”, বলে উঠল তৌহিদ। অন্ধকার সেই রাস্তায় পা রাখলো তারা সবাই।
.
.
এদিকে জেলখানার ওই লোকটার পাশে বসে আছে মির্জা ও ব্রুস। লোকটা ঘুমিয়ে আছে।আর তার পিঞ্জিরার তালা খুলে দিচ্ছে মির্জা। ব্রুসের যেন কোনো এক কাজ মনে পড়ে গেলো।সে উঠে দাঁড়িয়ে একটু বাইরে গেলো। মির্জা সেদিকে ততোটা ধ্যান দিলো না। সে লোকটার তালা খুলে দেওয়ায় ব্যস্ত। কিছুক্ষণের মধ্যেই খুলে গেলো সেই তালা।
“ব্যস….!”, হাসি মুখে বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালো মির্জা।আচমকা কেও একজন তার গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে দিলো। আকস্মিকতায় কিছুই বুঝলো না মির্জা। যখন তার গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে লাগলো তখন সে বুঝতে পারলো। গলা চেপে ধরে পিছনে মুড়ে তাকালো সে। নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে তার। পিছনে ঘুরে তাকাতেই আঁতকে উঠল তার দেহ। অস্পষ্ট গলায় সে বলে উঠল, “ব্রুস..!”
ধপ করে মাঠিতে পড়ে গেলো মির্জা। ক্রুর হাসি লেগে থাকলো ব্রুসের ঠোঁটে। হাতে তার রক্তিম ছুরি। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো মির্জা। সেই স্থান থেকে তৎক্ষনাৎ প্রস্থান করলো ব্রুস।
.
.
চলবে……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম