Home "ধারাবাহিক গল্প" কিং অব দ্য ডার্ক কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৩)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৩)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৩)
লেখক :শিহাব_শাহরিয়ার

জেরিন আর ক্রিস্টিনকে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালো নীলয়।হঠাৎ পিছন থেকে গড়গড় কিছু একটার আওয়াজ আসতেই থমকে দাঁড়ালো সে।জেরিন ও ক্রিস্টিনকে কাঁধ থেকে নামিয়ে মেঝেতে বসালো। অজ্ঞান অবস্থায় আছে দু’জন। তাই এখানে কি হচ্ছে তার কিছুই বুঝতে পারছে না। ঝট করে পিছন ঘুরে তাকালো নীলয়। তখনই গড়গড় আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেলো। কাওকেই পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো না সে। পুরো কামরা যেন ধীরে ধীরে আরো অন্ধকারে ঢাকা পড়তে লাগলো। নীলয়ের বুঝতে বেগ পেতে হলো না যে এখানে কেও তো একজন আছে। পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে নিলো সে। আচমকা তার বুকে জোরালো এক ধাক্কা লাগলো। ধাক্কার জোর এতোই বেশি ছিল যে পিছনের যতো দেয়াল বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তা সব ভেঙে প্রাসাদ প্রাঙ্গণে গিয়ে আঁচড়ে পড়লো সে। এরিস অনেক আগেই প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছে।পাশে পড়ে আছে শুধু কয়েকটি দানবের দেহ। বড় একটি পিলারের মধ্যখান ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু প্রাসাদ তো আর একটি পিলারের উপর দাঁড়ানো নয়। তাই প্রাসাদের তেমন কোনো ক্ষতি হলো না। মুখ থুবড়ে মাঠিতে পড়ে ঝট করে আবার উঠে দাঁড়ালো নীলয়। আকাশটা যেন আরো কালো হয়ে উঠল। মুখ দিয়ে কালো রক্ত বের হলো নীলয়ের।থুথুর সাথে সেই রক্ত মাঠিতে ফেলে দিয়ে হুঙ্কার ছাড়লো সে।শরীরের আকার পরিবর্তিত হয়ে এক দানবের রূপ ধারণ করলো। লম্বা দাঁত আর লম্বা লম্বা নখের সাথে শরীরের গঠনও যেন লম্বাচওড়া হয়ে গেলো।মুখটা নেকড়েদের মতো কিছুটা সামনের দিকে বেরিয়ে আসলো।ধারালো লম্বা লম্বা দাঁত খুব সুন্দরভাবেই দেখা যাচ্ছে। চোখদুটো টকটকে লাল আর মুখে চওড়া সেই হাসি। মাথার উপরের সাথে সাথে পিঠ দিয়েও যেন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতো ভারী দেহ নিয়ে যেন সোজা হয়ে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে। মাঠির দিকে কিছুটা ঝুঁকে আছে তার দেহ।নখ দিয়ে পাথরের তৈরি মেঝেতে আঁচড় কাটছে সে। লম্বা লম্বা ধারালো লোহার চেয়েও শক্ত নখের আঁচড়ে মেঝের একেকটা শক্ত পাথর আলাদা হয়ে যেতে লাগলো।শরীরটা তার দানবের মতো আর মুখ কিছুটা নেকড়ের মতো। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো নিকষ কালো অন্ধকার।চাঁদের আলো আর দেখা গেলো না। কিছু একটা যেন ঢেকে ফেলেছে সবকটি চাঁদকে। মাঝেমধ্যে চাঁদের উপর থেকে কালো ছায়া কিছুটা সরে গেলে চাঁদের আলো আবার দেখা যায়। কিন্তু সেই লোককে খুঁজে পেলো না নীলয় যে তাকে আঘাত করেছিল।কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে তাকে না দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার ছাড়লো নীলয়।মুখ থেকে ছিঁটকে বের হলো ঘন ঘন লালা। হঠাৎ করে ধপ করে কিছু একটার শব্দ হলো। সামনের দিকে তাকালো নীলয়। প্রায় তার মতো দেখতে একটি দানব দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। সম্ভবত প্রাসাদ থেকে এই মুহূর্তে লাফ দিয়ে নেমেছে। দানবটা তার মতো আকারে হলেও গঠনের দিকে একটু পরিবর্তন আছে। তার মুখ কিছুটা সামনে বাড়ানো আর ওই দানবটার মুখ মানুষের মতো। নাক কান সবই আছে।নীলয়ের নাক আছে ঠিকই কিন্তু তা মোটেও মানুষের কতো নয়। নেকড়েদের মতো..! আরো একটি জিনিস নীলয়ের মধ্যে নেই যা ওই দানবটির মধ্যে আছে।আর তা হলো ডানা। কিন্তু তাতে কি হয়েছে। সে তো হাওয়ার মাধ্যমে চলতে পারে।অদৃশ্য ছায়া সে!
দানবটার সাথে নিজের পার্থক্য খুঁজতে ব্যস্ত ছিল নীলয়।কখন যে দানবটা তার দিকে এগিয়ে এসেছে তা সে বুঝতে পারলো না।
যখন তা ধ্যান ভাঙলো তখনই দানবটি তার বুকে লাথি মারলো।ছিঁটকে কয়েক হাত দূরে পড়লো নীলয়। উঠে দাঁড়িয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে দানবটির দিকে তাকাল।কিন্তু তখনও দানবটির মুখে লেগে ছিল টানা হাসি।এর কারণ বুঝতে পারলো না নীলয়। অবাক চোখে দানবটির দিকে তাকিয়ে থাকলো সে। দানবটি মুখে হাসি রেখে থমথমে গলায় বলল,
“শুধু এক মেয়ের জন্য এতো কিছু? তুমি হয়তো ভুলে গেছো এটা তোমার দুনিয়া না। সেখানে তোমাকে মারা কঠিন হলেও এখানে তোমার মৃত্যু নিশ্চয়ই ঘটবে।আর তাও আবার আমার হাতে”, এই বলেই দানবটি তার ডানা মেলে নীলয়ের দিকে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে আসলো। মাথায় যেন রক্ত চড়ে বসেছে নীলয়ের। দানবটি তার কাছে এসে তাকে লাথি মারতে চাইলো কিন্তু তখনই নীলয় কিছুটা পাশের সরে গিয়ে দানবটির পা ধরে তাকে দূরে ছুঁড়ে মারলো। বেশ কয়েক হাত দূরে মাঠিতে আঁচড়ে পড়লো সেই দানবটি। উঠে দাঁড়িয়ে আকাশে উড়াল দিলো সে। নীলয় যখনই উড়াল দিতে যাবে তখনই সেই দানবটি আকাশের কালো ছায়া ভেদ করে নেমে এসে নীলয়কে আঘাত করলো। দু’হাত দিয়ে সেই দানবের আঘাত প্রতিহত করতে চাইলো নীলয়।কিন্তু পারলো না। দানবটির লাথি তার হাতের উপর লাগতেই সে পাথরের মতো মাঠি ভেদ করে ভিতরে ঢুকে গেলো। ক্রুর হাসি লেগে থাকলো দানবটির মুখে। মাঠিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে তাকিয়ে থাকলো সে। চাঁদের উপর থেকে কালো ছায়া ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। আচমকা মাঠি ভেদ করে কিছু একটা উঠে এসে দানবটার দু’পায়ের মধ্যখানে ঘুষি মারলো।কিছুটা দূরে গিয়ে পড়লো দানবটি। প্রাণ পাখি যেন যায় যায় অবস্থা। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠল সেই দানবটি। মাঠিতে মাথা লাগিয়ে বসে থাকলো সে। এদিকে মাঠির নিচ থেকে বের হয়ে দানবটির দিকে এগিয়ে গেলো নীলয়। মাথা মাঠির সাথে লাগিয়ে বসে ছিল সেই দানব। নীলয় গিয়ে তার পাশে হাটু গেঁড়ে বসে পড়লো।তার নাক দিয়ে গরম নিশ্বাস বের হতে লাগলো। দানবটির মাথার দিকে ডান হাত বাড়ালো সে। আচমকা দানবটি মাথা তুলে সোজা হলো। সেকেন্ডের মধ্যেই তার হাতে থাকা ছুরি চালিয়ে দিলো নীলয়ের হাতে। ছুরিটা এতো ধারালো ছিল যে ‘ক্যাচ’ করে নীলয়ের ডান হাতের সবকটি আঙুল কেটে গেলো। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠল নীলয়। সাথে সাথে নীলয়ের বুকে একটি ঘুষি মারলো দানবটি। ছিঁটকে কয়েক হাত দূরে পড়লো সে। হাতের ব্যাথা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে লাগলো। কাটা আঙুলের জায়গায় নতুন আঙুল গজাতে শুরু করলো। নিজের হাতের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকলো নীলয়। উঠে দাঁড়ালো দানবটি। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেই তার হাতে তৈরি হলো একটি তলোয়ার। ছুরি দিয়েই যা অবস্থা হয়েছে তলোয়ার হলে কি হবে তা ভাবতে লাগলো নীলয়। দানবটি তলোয়ার হাতে সামনের দিকে এগুতে লাগলো।তার ডানাগুলো ধীরে ধীরে পিঠের সাথে মিশে যেতে লাগলো। তলোয়ারটি নাড়াচাড়া করতে করতে দানবটি বলতে লাগলো,
“এটা আমাদের রাজ্যের ধাতু দিয়ে তৈরি। এমন কোনো শক্তি এখনো তৈরি হয় নি যে এই ধাতুর মোকাবেলা করতে পারবে।স্বয়ং আমি নিজেও পারবো না।তুমি তো কিছুক্ষণ আগেই দেখলে একটি মাত্র ছুরি তোমার কি অবস্থা করেছে। আর এখন তো আমার হাতে তলোয়ার আছে। এটা তোমার কি হাল করবে তা কি ভেবে দেখেছো?”
দানবটির কথায় কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো নীলয়। দানবটা সত্যি কথাই বলছে। কিছুক্ষণ আগে একটি মাত্র সাধারণ ছুরি তার কি অবস্থা করেছে তা সে নিজ চোখে দেখেছে ও অনুভব করেছে।আগে তো একটি ছোট্ট ছুরি ছিল কিন্তু এখন আর সেই ছোট্ট ছুরি নেই।এটা তো তলোয়ার! আর নীলয়ের হাতে কোনো কিছুই নেই।
.
.
ইথানরা যতোই হাটছে ততোই যেন গভীরে যাচ্ছে।আলোক বিন্দুটা ধীরে ধীরে একটি আলোক রশ্মিতে পরিণত হচ্ছে।রহিম চাচারা শুধু ইথানকে অনুসরণ করে হাটছে। তারা এই অন্ধকারে কিছুই দেখতে পারছেন না। তারা যতোই গভীরে যাচ্ছে ততোই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।কিন্তু আশ্চর্যজনক কথা হলো, যেই আলোক বিন্দুকে তারা অনুসরণ করে এগুচ্ছে সেই বিন্দু নিজের জায়গা ছেড়ে একচুলও নড়ছে না ।সরল রেখায় আছে সেটা।অথচ তারা চারজন যতই হাটছে ততোই যেন গভীরে যাচ্ছে।জায়গাটা সত্যিই মায়াজালে আবৃত। হঠাৎ কারো গলার আওয়াজ শুনা গেলো। কেও একজন তাদেরকে পিছন থেকে ডাকছে! থেমে গেলো সবাই। পিছনে মোড়ে তাকালো। ইথান আর ওই লোকটা ছাড়া কেও কিছু দেখতে পেলো না। দূর পথে দেখা যাচ্ছে এরিস ও ইওবার্ডকে।এদিকেই এগিয়ে আসছে তারা দু’জন।তাদের জন্য অপেক্ষা করলো ইথানরা। তাদের পাশে আসতেই এরিস বলে উঠল,
“পুরো রাজ্য খুঁজে তোমাদের কোথাও পেলাম না।ভালো হয়েছে ইওবার্ড আমার সাথে ছিল।তোমরা সাথে থাকলে অবশ্যই দেখতে সে কিভাবে কুকুরের মতো গন্ধ শুঁকে শুঁকে এখানে নিয়ে এসেছে”, বলতে বলতে ইওবার্ডের দিকে আঁড়চোখে তাকালো এরিস। রাগান্বিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো ইওবার্ড। দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠল এরিস।তারপর তৌহিদদের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
“নীলয় তো তোমাদের জেলখানায় যেতে বলল? তাহলে এখানে আসছে কেনো।আর নীলয়ই বা কোথায়?”। এরিসকে সব কিছু খুলে বলা হলো।নীলয় যে এখনো আসে নি তা জেনে সে বেশ চিন্তায় পড়ে গেলো। ইথানদের সামনে এগুতে বলে সে আবার পিছনের দিকে উড়াল দিলো।
দ্রুত পায়ে হাটতে লাগলো সবাই। ধীরে ধীরে সেই আলোক রশ্মিটি বড় হতে লাগলো। কয়েকমিনিট অতিবাহিত হতেই রাস্তার শেষ সীমান্তে পৌঁছে গেলো তারা। বড় গোলাকার একটি কামরা।ভ্যাপসা গরম। কামরার মধ্যছাদে একটি বৃত্তাকার ফাঁকা জায়গা। সেই ফাঁকা জায়গা দিয়েই উপর থেকে আলো আসছে।আরেকটু খেয়াল করে তারা দেখতে পেলো এটা চাঁদের আলো।বৃত্তাকার অংশের ঠিক নিচে মেঝেতে একটি বৃত্তাকার বড় সাদা পাথর রাখা। সেই পাথরের উপর চাঁদের আলো পড়ে চিকচিক করছে। ভালো করে পুরো কামরা দেখে নিলো ইথানরা।তারা বুঝতে পারলো মাঠি থেকে কত গভীরে তারা অবস্থান করছে। গোলাকার সেই কামরায় বড় পাথরটি ছাড়াও আরো তিনটি জিনিস আছে। আর তা হলো জানলা… একদিক দিয়ে রাস্তা আর বাকি তিন দিক দিয়ে তিনটি জানলা। কিন্তু জানলাগুলো কেমন কালো বর্ণের।কাঁচ জাতীয় কিছু একটা লাগানো সেই জানলাগুলোর উপর।ইথান এগিয়ে গেলো একটি জানলার দিকে। জানলার পাশে গিয়ে নিচের দিকে তাকাতেই বেশ অবাক হলো সে। তারা আছে একটি উঁচু মাচার উপর। আর তাদের নিচে শুধুই পানি। সবুজ পানি..! উপরে ও চারিপাশে দেখা যাচ্ছে লাল মাঠি।তারা যেন মাঠির তৈরি বিশাল আকারের এক ঘরের ভিতরের আরেকটি ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। ইথান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো সেই পানির দিকে। তৌহিদরা দেখতে লাগলো মধ্যখানের সেই পাথরটিকে।তার উপরে যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে তা দিয়ে চারটি চাঁদের আলো একসাথে প্রবেশ করছে।আর সেই আলো এসে পড়ছে এই পাথরের উপর। চিকচিক করছে পাথরটি। তৌহিদরা পাথরটির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।তাদেরও শরীরেও কিছুটা আলো এসে পড়ছিল। পাথরটির উচ্চতা হাটু পর্যন্ত হবে। তাদের সাথের লোকটি ঘুরে ঘুরে দেখছে চারিপাশ।একবার এই জানালার পাশে যাচ্ছে তো আরেকবার অন্য জানলার।তার চেহারায় ভয়ের স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে। জানলার দ্বার ছেড়ে পাথরটির পাশে এসে দাঁড়ালো ইথান। ওমনি তার পকেটের সবুজ পাথর ঝলঝল করে উঠল। পকেট থেকে সবুজ পাথরটি বের করলো ইথান। চাঁদের আলো সেই পাথরে স্পর্শ করতেই সেই পাথরের রঙ পরিবর্তন হতে শুরু করলো। সবুজ থেকে তা লাল বর্ণ ধারণ করলো। ঠিক তখনই আরেকটি ঘটনা ঘটলো।সাদা পাথরটির মধ্যখানে তৈরি হলো একটি বৃত্ত।বৃত্তটি ইথানের হাতের লাল পাথরটির সমান। সবাই বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো সাদা পাথরটির দিকে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের হাতের লাল পাথর সেই সাদা পাথরের বৃত্তের উপর বসিয়ে দিলো ইথান।তখনই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো লাল আলোর আভা। অবাক হয়ে ছাদের ফাঁকা জায়গাটির দিকে তাকালো সবাই। তারা যে কতোটা নিচে আছে তা তারা তখন বুঝতে পারলো যখন তারা ফাঁকা জায়গার চারিপাশে মাঠি দেখতে পেলো। ভূমি থেকে সুরঙ্গের মতো একটি গর্ত এসে শেষ হয়েছে এই কামরার ছাদে।সেই সুরঙ্গের মতো গর্ত দিয়েই চাঁদের আলো প্রবেশ করছিল।ইথানরা বুঝতে পারলো না চাঁদের আলো এতোটা নিচে কিভাবে নামতে পারে। তারা আকাশের একটি চাঁদকে দেখতে পারছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই চাঁদ আকাশ থেকে গায়েব হয়ে যেতে লাগলো। অবাক হয়ে একেওপরের দিকে তাকিয়ে থাকলো সবাই। ইথান তার ডানা মেলে ইওবার্ডকে নিয়ে উড়াল দিলো সেই গর্তের মধ্যদিয়ে।অনেক কষ্টে উপরে উঠতে হচ্ছে তাদের।গর্তের প্রাচীর বেশ ছোট।একসময় অতিষ্ঠ হয়ে ডানা পিঠের সাথে লাগিয়ে নিলো ইথান৷ গর্তের মাঠির গায়ে দু’হাতের নখ দিয়ে আঁকড়ে ধরলো। তারপর সেগুলোর সাহায্যে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে লাগলো। চাঁদের আলো না থাকায় অন্ধকার হয়ে উঠেছে পরিবেশ। কিন্তু ইথানদের কোনো সমস্যা হচ্ছে। ইওবার্ড নেকড়ে হওয়ায় সে তার শক্তি কাজে লাগিয়ে দ্রুত গতিতে উঠতে লাগলো।আর নিচে জালনার পাশে দাঁড়িয়ে সবুজ পানি দেখতে লাগলো রহিম চাচারা।সাথে ওই লোকটাও।তার কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যাচ্ছে।পাথরের উপরের লাল পাথরটি আবছা আলো ছড়াচ্ছে। সেই আলোতে কিছুটা দেখতে পারছে তৌহিদ ও রহিম চাচা।
.
.
দানবটি নীলয়কে মারতে উদ্যত হবে ঠিক তখনই পূর্বাকাশে লাল আভা ফুটে উঠল। অন্ধকার সহ চাঁদের আলো ধীরে ধীরে গায়েব হয়ে যেতে লাগলো।সূর্যের উদয় ঘটেছে.! সূর্যের আবছা সেই আলোও যেন দানবটিকে অসহ্য যন্ত্রণা দিতে লাগলো। তলোয়ার ফেলে দিয়ে চিৎকার করতে লাগলো সে। নীলয়েরও ঠিক একই অবস্থা। কিন্তু সে দ্রুত গতিতে মানবের রূপে ফিরে আসে। দানবটি মানবের রূপে ফিরে আসলেও চিৎকার থামালো না।তার শরীর থেকে কালো ধোঁয়া উড়ে যেতে লাগলো। ফর্সা মুখমণ্ডল কালো বর্ণ ধারণ করলো। নীলয় কোনোমতে উঠে দাঁড়ালো। তার সামনে থাকা দানবীয় লোকটা দৌঁড়ে কোনো কিছুর আড়ালে যেতে চাইলো।কিন্তু তখনই কোত্থেকে যেন এরিস এসে তাকে আঘাত করে বসলো।আবার মাঠিতে পতিত হলো লোকটা।গগন কাঁপানো চিৎকার থামলো না তার।মাঠিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো সে। কিন্তু হঠাৎ করে পূর্বাকাশের লাল আভাটা হারিয়ে গেলো। আবার অন্ধকার হয়ে উঠল চারিপাশ। সাথে চাঁদও উঠতে শুরু করলো আকাশে।বেশ অবাক হলো এরিস। নীলয়ের কাছে হেটে আসলো সে।
“ইথানরা বলেছিল তারা সূর্যকে আবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় আছে। মনে হয় তারা সফল হয়েছে।কিন্তু হঠাৎ করে আবার কেনো অন্ধকার নেমে আসলো তা বুঝতে পারছি না।এই যে লোককে দেখছ এ হলো ফ্যারাডে। কিন্তু তার ভিতরে বাস করছে ক্যালভিন অর্থাৎ তার প্রিয় ছেলে। যাকে একমাত্র সূর্যের আলো দ্বারাই হত্যা করা যাবে।পরের কাহানী না হয় পরেই শোনো। অন্ধকারের দুর্বলতা আলো, এটা হয়তো আমার চেয়ে তুমিই ভালো জানো। রহিম চাচারা নিশ্চয়ই বিপদে পড়েছে। তুমি ওইদিকে যাও আর আমি এদিকটা সামলাচ্ছি”, এই বলে নীলয়কে তৌহিদদের অবস্থান বলে দিলো এরিস। এদিকে লোকটা আবার সতেজ হয়ে উঠছে।মাঠি থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো সেই লোক।দানবের রূপ ধারণ করলো সে। নীলয় সময় নষ্ট না করে এরিসের কথা মতো দৌঁড় দিলো। দানবটি বুঝে গেলো তারা সূর্যকে আবার জাগাতে সক্ষম হয়েছে।তাই তাদের আঁটকাতে হবে। এই ভেবে নীলয়ের পিছু নিতে চাইলো সে।কিন্তু বাঁধা হলো এরিস।তার সাথে আগে লড়াই করতে হবে।
.
.
ওইদিকে জানালার দ্বারে দাঁড়িয়ে পানি দেখছিল তৌহিদরা। হঠাৎ করে কামরার লাল আলোটা নিভে গেলো।বেশ অবাক হলো সবাই।তখনই ছাদের ফাঁকা অংশ দিয়ে নিচে নেমে আসলো ইথানরা।
গর্ত ধরে উপরে উঠে গিয়েছিল তারা। একটি বাগানে পৌঁছেছিল। গর্ত থেকে প্রথমে ইথান ও পরে ইওবার্ড বের হয়ে আসলো। একজনের পর একজন।দু’জন তো আর একসাথে এই ছোট্ট গর্ত দিয়ে উঠতে পারবে না.।পূর্বাকাশে লাল আভা দেখে বেশ খুশি হয়েছিল তারা।কিন্তু হঠাৎ করে আবার আলো নিভে যাওয়ায় বেশ অবাক হলো। কি হয়েছে তা দেখার জন্যই নিচে নেমে এসেছে তারা দু’জন। কিন্তু নিচে নেমে এসে তারা যা দেখলো তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সাদা পাথরটির উপর থেকে লাল পাথরটি সরিয়ে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ব্রুস। ইথানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সে জানালার কাঁচ ভেঙে পাথরটি পানিতে ফেলে দিলো।বেশ অবাক হলো সবাই সাথে রাগও উঠলো। অপর জানালা ভেঙে পানিতে ঝাপ দিতে চেয়েছিল ইথান।কিন্তু তৎক্ষনাৎ তাকে ওই লোকটি খপ করে ধরে ফেলে।
“ভুলেও এই পানিতে ঝাপ দিও না।যদি একবার ঝাপ দাও তাহলে আর নিজের শরীর নিয়ে উঠে আসতে পারবে না।তোমার শরীর একটি কঙ্কালে পরিণত হবে কিন্তু তুমি ঠিকই বেঁচে থাকবে। আমার বাবাও ঠিক একই ভুল করছিল। নিষিদ্ধ ওই বাগানের গর্ত দিয়ে এই জায়গায় আসতে চেয়েছিলেন তিনি।কিন্তু শত গর্তের মাঝে ভুল গর্তে পা দিয়ে সোজা এই পানিতে এসে পড়েন। আমি এখন বুঝতে পারছি ফ্যারাডে কেনো ওই বাগানকে নিষিদ্ধ করেছিল..!”, বলল সেই লোকটি।আঁতকে উঠল ইথান। ঝাপ দেওয়ার চিন্তা দ্বিতীয়বার আর মাথায় আনলো না সে। অগ্নি দৃষ্টিতে ব্রুসের দিকে তাকালো। পাথরটা পানিতে ফেলে দিয়ে ব্রুস যেন অনেক খুশি হয়েছে।হু হু করে হাসছে সে। তার এই হাসি সবার শরীরে যেন আগুন লাগিয়ে দিলো। ক্ষোভে ফেটে পড়ল সবাই।তারা এই ক্ষোভ এখন মেটাবে ব্রুসকে দিয়ে।কেনো সে এমন করলো? কেনো ধোঁকা দিলো সবাইকে।তার জন্য এখন মরতে হবে তাদের সবাইকে। অন্তিমকাল চোখের সামনে ভেসে উঠল সবার। ব্রুসকে না মেরে ধপ করে মাঠিতে পড়ে পড়লো তারা।মৃত্যু যে খুব নিকটে। বাঁচানোর মতো কেও নেই।আই জায়গাটা যেন একটি নরক।
.
.
————– চলবে ————–
.
.

রিভিশন দেওয়ার সময় পাই নি।ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে খুশি হবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম