Home "ধারাবাহিক গল্প" কিং অব দ্য ডার্ক কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৪)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৪)

কিং_অব_দ্য_ডার্ক (পর্ব : ২৪)
লেখক:শিহাব_শাহরিয়ার

নীলয়কে ধরতে না পেরে ভীষণ রেগে গেলো দানবটি।এরিসের দিকে তেড়ে আসলো সে। ক্রুর হাসি লেগে থাকলো এরিসের ঠোঁটে। সেও তার ভ্যাম্পায়ার রূপ ধারণ করলো। সাথে সাথে তার তলোয়ারেরও ঠিক একই অবস্থা হলো। দানবটি কাছে আসতেই সে তার ডানা মেলে সজোরে ঝাপটালো। মাঠি থেকে ধুলো উড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসলো। ক্ষণিকের জন্য পরিবেশটা ধুলোবালিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো।এক সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে নিলো ক্যালভিন।তখনই তার বুকে সজোরে লাথি মারলো এরিস। বেশ কয়েক হাত দূরে মাঠিতে আঁচড়ে পড়লো ক্যালভিন। মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল এরিসের।
“সালা শয়তানের বংশধর”, বলতে বলতে নিজের হাতের কুড়াল ক্যালভিনের দিকে ছুঁড়ে মারলো সে।বিদ্যুতের গতিতে ক্যালভিনের দিকে কুড়ালটা এগিয়ে গেলো। তার পাশে যেতেই ক্যালভিন তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কুড়ালের গায়ে একটি ঘুষি মারলো।চোখের পলকে এরিসের পায়ের কাছে এসে পড়লো কুড়ালটা। অবাক দৃষ্টিতে ক্যালভিনের দিকে তাকিয়ে থাকলো এরিস। রাগে থরথর করে কাঁপছে ক্যালভিনের দেহ। এখনই যেন ঘুর্ণিঝড় নামবে।
“বাপরে….এতো দেখছি শয়তানের চেয়েও অধম!”, বিড়বিড়িয়ে বলল এরিস।
.
.
জানলাটির দ্বারে পানির দিকে ক্ষত বিক্ষত মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে ব্রুস।এতোক্ষণ সবাই তাকে গণধোলাই করেছে। একসময় অতিষ্ঠ হয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এখন তাকে মেরেই বা কি লাভ। পানির দিকে মুখ করে তাকিয়ে ব্রুস বলে উঠল,
“এসব কিছুই হতো না যদি না ওই হারামি নীলয় আমার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতো। ক্রিস্টিনকে আমি ছোট বেলা থেকেই ভালোবাসি।তাকে বিয়ে করবো ভেবেছিলাম। আর এখন এই পুঁচকে ছেলেটার জন্য আমি তাকে ছেড়ে যাবো, এটা তোমরা ভাবলে কি করে।ক্রিস্টিন হয় আমার হবে না হলে কারো হবে না…..”, হয়তো আরো কিছু কথা বলতে চেয়েছিল ব্রুস। কিন্তু পারলো না। কথা আঁটকে গেলো তার। মস্তিষ্ক যেন আর সঙ্গ দিচ্ছে না। আর দিবেই বা কি করে।তার মস্তিষ্ক তো নিজ জায়গায় নেই।কেও একজন তার মাথায় পিছন দিক দিয়ে যেন নিজের হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে। মাথার খুলি ভেঙে সেই হাত এখন ব্রুসের মাথার ভিতর বিরাজ করছে। পাথরের উপর পতিত হওয়া চাঁদের আলোয় নীলয়কে দেখতে পেলো সবাই। আরেকটু স্পষ্ট ভাবে তাকাতেই আঁতকে উঠল তৌহিদরা।ব্রুসের মাথার পিছনের খুলি ভেঙে নিজের হাত ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়েছে নীলয়। রাগে তার শরীর থরথর করে কাঁপছে। এতোক্ষণ যেন সে এখানেই দাঁড়িয়ে ছিল।কিন্তু কেও তাকে দেখতে পায় নি। এক টানে নিজের হাত বের করে আনলো নীলয়।তার হাতের মুটোয় ব্রুসের মস্তিষ্ক আর চোখ দেখা গেলো।ধপ করে মাঠিতে পতিত হলো ব্রুস।এমন ভয়ানক দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠল সবাই।দানবাকৃতির লোকটার যেন কিছু একটা মনে পড়ে গেলো। সে মাথা চেপে ধরে কিছু একটা মনে করতে চাইছে। কিছুক্ষণ পরই তার চোখ চকচক করে উঠল। অবাক করা চাহনি দিয়ে নীলয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলো সেই ব্যক্তি। সে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে,মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। বিদঘুটে গন্ধে যেন বমি চলে আসলো রহিম চাচার।উনার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে উঠে জানলা দিয়ে সেই মস্তিষ্কসহ চোখ ফেলে দিলো নীলয়।কিছুক্ষণের মধ্যেই পানিতে বুঁদ বুঁদ উঠতে দেখা গেলো।
.
.
অন্ধকারময়ী ঘরের কোণঘেঁষে বসে আছে এক রমণী।জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে সে। চাঁদের আলো এসে পড়ছে তার কামরার দরজায়।বাইরে কি হচ্ছে তার কিছুই জানা নেই তার।হঠাৎ করে দরজার সামনে চাঁদের আলোর তীব্রতা বদলে লাল আভা দেখা গেলো। লাফিয়ে উঠল রমণীটি। ঘর থেকে বের হলো সে। বাইরে বের হয়ে পূর্বাকাশে সূর্যের লাল আভা দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আভা মিটে গেলো। আবার চাঁদের উদয় ঘটলো। নিমিষেই মুখে অন্ধকার নেমে এলো মেয়েটির।তখনই তার কানে কিছু একটা আওয়াজ আসতে লাগলো। চোখ বন্ধ করে সেই আওয়াজকে বুঝার চেষ্টা করলো মেয়েটি।কেও একজন ফিসফিসিয়ে কিছু একটা বলছে তাকে! মেয়েটি বুঝে গেলো কি হচ্ছে আর তাকে কি করতে হবে। দৌঁড় দিলো সে জঙ্গলে ওই পাড়ে বাগানের দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর দিকে অবস্থিত বাগানটার কাছে চলে আসলো সে। বড় প্রাচীর দিয়ে ঘেরা সেই বাগানে প্রবেশ পথে একটি ফটক বসানো। দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক বছর আগের ফটকটি। রঙ উঠে গেছে। ধাক্কা দিতেই কেঁচকেঁচ শব্দ করে দুপাশ দিয়ে ফটকটি খুলে গেলো। ভিতরে ফুল গাছের সমারোহ।দূর দূরান্তে শুধু ফুল গাছই দেখা যাচ্ছে।পা বাড়াতে ভয় করছে তার।চোখ বুঁজে ফেলল সে। আবার তার কানে কিছু একটার আওয়াজ শুনতে পেলো। মলিন মুখে মুচকি হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করলো মেয়েটি।কিন্তু ব্যর্থ হলো। চোখ বন্ধ অবস্থায় হাটতে লাগলো মেয়েটি। তার জানা আছে এই বাগান কেনো নিষিদ্ধ। হাটুর সমান উচ্চতা প্রত্যেকটা ফুল গাছের। গাছে ফুল না থাকলেও আশ্চর্যজনক ভাবে পাতা রয়েছে। হাজার ফুল গাছের পাতা জন্য মাঠির একটি ছোট্ট অংশ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।এখানে যতটি গাছ আছে তার অর্ধেকটি গর্ত আছে।ভুল করে যেকোনো একটি গর্তে পা দিলে কি হবে তা জানাই আছে মেয়েটির।কিন্তু জীবনের মায়া যেন তার নেই। কেও যে পথ নির্দেশনা দিচ্ছে তাকে। কিছু সামনে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেলো মেয়েটি। কিন্তু চোখ খুলে তাকালো না।দীর্ঘ একটা নিশ্বাস নিয়ে একটি গাছের গোড়ায় পা দিলো সে।মুহূর্তের মধ্যেই যেন কেও তাকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে গেলো। .
.
উদাস হয়ে বসে আছে সবাই।কারো মুখে কোনো কথা নেই। নীলয় পানিতে নামতে চেয়েছিল কিন্তু রহিম চাচা তাকে তা করতে বাধা দেন। কিন্তু এখন যে পাথরটা ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না। লোকটাকে নীলয় জিজ্ঞেস করলো,
“ওইদিন তোমাকে আমরা একটি কামরা থেকে বের হতে দেখেছিলাম। তুমি ওই মেয়েটির সাথে কি করেছ তা আমি ভালো করেই জানি।কেনো করেছিলে এমনটা….কি দোষ ছিল ওই মেয়েটির?” নীলয়ের কথায় তার দিকে চোখ তুলে তাকালো লোকটা। তার মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি স্পষ্ট দেখতে পেলো নীলয়। লোকটা বলে উঠল,
“তার দোষ হলো ,সে আমার স্ত্রী। ক্যালভিনের অনেক বিশ্বস্ত সঙ্গী আমি। আমার স্ত্রীর দিকে তার চোখ থাকবে সবসময়।এটাই স্বাভাবিক। তার এই শয়তানী দৃষ্টি থেকে নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে এসব করতে হচ্ছে আমাকে।আমার কাছে যে বিকল্প কোনো রাস্তা নেই”। আর কিছু জানতে চাইল না নীলয়।উঠে দাঁড়ালো সে।এরিসকে সাহায্য কর‍তে হবে…! যেই সে সামনের দিকে পা বাড়াবে তখনই জানালার দিকে চোখ আঁটকে গেলো তার।কিছু একটা দেখে বড় বড় হয়ে আসলো তার চোখ। প্রথম দিনের দেখা সেই রমনীকে দেখতে পাচ্ছ সে।পানিতে পড়তে যাচ্ছে সেই মেয়েটি। ঝপাৎ করে কিছু একটা শব্দ হলো। দৌঁড় দিয়ে জানালার দিয়ে মেয়েটিকে বাঁচাতে ঝাপ দিতে চাইলো নীলয়।তৎক্ষনাৎ তার হাত চেপে ধরলো লোকটি।নীলয় ভাবল- দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেসে বসে আছে লোকটা।তাই হয়তো দেখতে পাচ্ছে না যে নিজের স্ত্রী এই অভিশপ্ত পানিতে ঝাপ দিচ্ছে।লোকটাকে সে এই কথা বলতে যাবে তখনই লোকটা মুখে হাসির টানা রেখা ফুটিয়ে তুলে বলল,
“তুমি আরেকটা কথা জানো না……টাইটানসরা একে অপরের সাথে সবসময় কথা বলতে পারে।বাতাসের মাধ্যমেও তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে..!” লোকটার কি বলতে চাইছে তা ভালো করেই বুঝতে পারলো নীলয়। অবাক করা দৃষ্টি দিয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলো সে। তার চেহারায় কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখতে পেলো লোকটি। ধীর পায়ে উঠে দাঁড়ালো সে। ভাঙা কাঁচের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। ইতিমধ্যে সবাই কি হয়েছে তা দেখার জন্য জানলার পাশে গিয়ে পানির দিকে তাকিয়ে আছে। নীলয়ও গিয়ে দাঁড়ালো।লোকটার চোখের কোণে চিকচিক করা পানির কণা দেখতে পেলো সে। কিন্তু লোকটা যেন কাওকে তার অশ্রুসিক্ত চোখ দেখাতে চায় না। তাই ঝট করে চোখের কোণের পানি হাত দিয়ে মুছে ফেলল। নীলয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে তার দিকে তাকিয়ে আছে।মুচকি হাসি দিলো লোকটা। মুখের মধ্যে সে হাসি আঁটকে রেখে বলে উঠল,
“চোখে হয়তো কিছু একটা পড়েছে”। লোকটা মিথ্যা কথা বোধহয় একবারেই বলতে পারে না। তাই তো তার এই মিথ্যা কথা চট করে ধরে ফেলল নীলয়।কিন্তু মুখ খুলে কিছুই বলল না।হঠাৎ টকটক করে কিছু একটার আওয়াজ হলো। জানলার দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলো সবাই।কারণ জানলায় দেখা যাচ্ছে একটি কঙ্কাল হাত।যেখানে লেগে আছে কিছু কিছু মাংস।সেই মাংসগুলোই সবথেকে বেশি ভয়ংকর দেখাচ্ছে।কঙ্কালটা টকটক আওয়াজ তুলছে জানলার কাঁচে। ভয়ে দু’পা পিছিয়ে গেলো সবাই শুধু ওই লোকটা বাদে।রহিম চাচা আর তৌহিদের তো প্রাণ যায় যায় অবস্থা। নীলয়ের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে তারা দু’জন। এগিয়ে গেলো লোকটা। তাকে বাধা দিতে যেয়েও দিলো না কেও। এখনো টকটক আওয়াজ হচ্ছে। কঙ্কালের হাতটি সম্ভবত জানলা খোলার আহবান জানাচ্ছে। এক ঘুষিতে জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলল সে। তখনই কেও একজন ভিতরে ছুঁড়ে মারলো সবুজ পাথরটি। হাঁ হয়ে গেলো সবার মুখ।কঙ্কালটির হাত দেখা গেলো শুধু। লোকটি অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠি থেকে পাথরটি উঠিয়ে হাতে নিলো।আর দেখা গেলো না কঙ্কালটিকে। কোনো কথা না বলে সাদা পাথরটির দিকে হাটা ধরলো লোকটি। ঘোর কেটে গেলো সবার। কিছুই বুঝতে পারছে না তারা। তবে এটুকু বুঝতে পারছে যে সূর্য আবার উঠবে। পাথরের কাছে যেতেই পূর্বেরকার মতো সাদা পাথরটির মধ্যখানে একটি বৃত্ত তৈরি হলো। সেখানে সবুজ পাথরটি বসিয়ে দিতেই সেটি লাল আলো ছড়াতে শুরু করলো।কিছুই ভেবে পাচ্ছে না নীলয়।সে শুধু এটুকুই বুঝতে পারছে, যেই লোক এই জায়গাটা বানিয়েছে সে কতোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
.
.
ক্যালভিন দৌঁড়ে এসে এরিসের মুখে ঘুষি মারতে চাইলে উল্টো এরিস তার গলা চেপে ধরে। পিছন দিকে সজোরে ছুঁড়ে মারলো ক্যালভিনকে। মাঠিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আবার উঠে দাঁড়ালো ক্যালভিন। ডানা বের করে আকাশে উড়াল দিলো এরিস।তার পিছু নিতে ক্যালভিনও উড়াল দিলো।কিন্তু এতেই ঘটলো বিপত্তি।হঠাৎ করে আবার অন্ধকার দূর হয়ে যেতে লাগলো। পূর্বাকাশে আবার আলোর রেখা দেখা গেলো। আঁতকে উঠল ক্যালভিন। ভূমিতে কোনো ছায়ার নিচে যেতে চাইল সে।কিন্তু তার এই সৌভাগ্যটা হলো না।তৎক্ষনাৎ এরিস এসে তাকে পিছন দিক থেকে ঝাপটে ধরে পূর্বের দিকে মুখ করিয়ে রাখলো।আর্তচিৎকার দিয়ে উঠল ক্যালভিন। আলোর এক ফোঁটাও যেন সে সহ্য করতে পারে না। তবে কি হবে।এরিসের মনে তো তার জন্য কোনো দয়া নেই।সে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো।মানবের রূপ নিতে লাগলো ক্যালভিন। তার শরীর থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে লাগলো সাথে বাড়তে লাগলো আর্তচিৎকার। দমে থাকার পাত্র নয় এরিস।সেও ছাড়লো না। একসময় থেমে গেলো আর্তনাদ। পুরোপুরি টাইটানের রূপে ফিরে এলো ক্যালভিন। তার মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পেলো এরিস। এখন আর তার শরীর থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে না।সব কিছু শান্ত। পূর্বাকাশ দেখে বুঝা যাচ্ছে সবে মাত্র ভোর হতে চলেছে। ক্যালভিনকে নিয়ে মাঠিতে নেমে এলো এরিস। তাকে মাঠিতে অজ্ঞান অবস্থায় রেখে নীলয়দের দিকে গেলো সে। কিন্তু বেশি দূর যেতে হলো না তাকে ।সামনেই দেখতে পেলো নীলয়রা হেটে আসছে।তলোয়ারটা মাঠি থেকে তুলে কোমরের খাপে ঢুকিয়ে নীলয়দের দিকে হাটা ধরলো সে। এরিস কাছে আসতেই ধপ করে মাঠিতে বসে পড়লো নীলয়রা। এরিস আঙুল তুলে ফ্যারাডের দিকে ইশারা করলো।জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে এরিসের দিকে তাকিয়ে থাকলো সবাই।মাথা নাড়লো এরিস।কাজ মনে হয় শেষ হয়েছে! অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে শুয়ে আছে ফ্যারাডে। নীলয়ের পাশে বসে পড়লো এরিস। পশ্চিম দিকে টাইটানসদের নিজ আবাস্থল থেকে বের হতে দেখা গেলো।খুশিতে উল্লাস করছে তারা সবাই। সাধারণ মানুষ থেকে অনেক লম্বা এরা। সবাই দৌঁড়ে আসছে প্রাসাদের দিকে। ফ্যারাডেকে সম্ভবত মারতে চায় সবাই। নীলয়রা উঠতে যাবে তখনই দেখা গেলো জেলখানার লোকটাকে।সকল টাইটানসদের সামাল দিচ্ছে সে। তার সাথে আছে আরো বেশ কয়েকজন লোক। নিজেদের রাজার উপর এখনো পূর্ণ আস্তা আছে তাদের।ইওবার্ড এরিস ইথানরাও এগিয়ে গেলো জেলখানার লোকটাকে সাহায্য করতে। দানবাকৃতির লোকটা এসে বসলো নীলয়ের পাশে। তার কাঁধে হাত রেখে সে বলে উঠল,
“ছোট বেলায় যখন তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে তখন আমি আমার আসল চেহারা নিয়ে আকাশে হাজির হতাম।তুমি অবাক হয়ে প্রায় সময়ই চলে যেতে।কিন্তু এখন তুমি পরিপূর্ণ। সময় এসে গেছে নিজের পরিচয় জানার….” কিছুক্ষণ থামলো লোকটা।তার দিকে উৎসুক জনতার মতো তাকিয়ে থাকলো নীলয়। লোকটা আবার বলতে শুরু করলো,
“তুমি এতোক্ষণে হয়তো বুঝে গেছ যে ক্যালভিন তোমার পিতা ছিল। কিন্তু তুমি জানো না তোমার মা কে। এটাই জানতে খুব আগ্রহী তুমি,তাই না? তুমি হয়তো জানো আমি একজন মহিলাকে ভালোবেসে এখান থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলাম”, অবাক হয়ে মাথা নাড়লো নীলয়।মুচকি হাসলো লোকটা। হাতের আঙুল দিয়ে ইশারা দিয়ে ইওবার্ডকে দেখিয়ে দিলো সে।
“ওই যে ইওবার্ডকে দেখতে পারছো….. ওই মহিলা ছিলো ইওবার্ডের স্ত্রী”, লোকটার কথায় যেন আকাশ থেকে পড়লো নীলয়।চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তার।লোকটা হাসি দিয়ে আবার বলে উঠল,
“কিন্তু তুমি তার ছেলে নও।ক্যালভিন যখন ইওবার্ডের স্ত্রীকে তুলে আনে তখন তার সাথে অন্য একটি মহিলাও ছিল। সে ছিল ইওবার্ডের স্ত্রীর বোন।নেকড়ে রাজ্যে বেরাতে এসেছিল সে।কিন্তু তাকেও ক্যালভিন তুলে নিয়ে এসেছিল ।ইওবার্ড হয়তো তোমাদের এসব কথা বলে নি। কিন্তু এটাই সত্যি। ক্যালভিনের দেওয়া কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তোমার মা মারা গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই জন্মগ্রহণ করেছিলে তুমি। তোমাকে নিয়ে পৃথিবীতে পালিয়ে যেতে চাইল তোমার খালা। আর আমি তাকে সাহায্য করলাম। আমাদের আদেশে ইওবার্ড তার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছিল।কিন্তু সে এখনো জানে না যে ওই জঙ্গলে তার সৈন্য যাকে মেরেছিল সে তার স্ত্রী ছিল।ইওবার্ড তো শুধু আমাদের হুকুম পালন করছিল”। দীর্ঘ একটি নিশ্বাস ছেড়ে নীরব হয়ে গেলো লোকটা। এসব কিছু মানতে যেন কষ্ট হচ্ছে নীলয়ের।সে সহ্য করতে পারছে না। হঠাৎ একটি হুঙ্কার শুনা গেলো। চট করে চোখ সরে গেলো সবার। ফ্যারাডের দিকে তাকালো তারা সবাই। অগ্নি দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে আছে ফ্যারাডে। তার চোখের আগুনেই যেন জ্বলে পোড়ে খাক হয়ে যাবে সবাই।
.
.
——————চলবে—————-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম