কি আশায় বাঁধি খেলাঘর ১৩+১৪

0
80

কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (১৩)

চন্দ্রর ভীষণ ভয় হলো চন্দ্রর অতীত নিয়ে। সকাল সকাল চন্দ্র নিষাদদের বাসায়।দরজা খুলে চন্দ্রকে দেখতেই নিষাদের হার্টবিট বেড়ে গেলো।

চন্দ্র নিষাদের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।নিষাদ বুকের বাম পাশ দু’হাতে চেপে ধরে বললো,”দরজা খুইলা দেখমু যারে,করমু তারে বিয়া।”

চন্দ্র নিষাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। নিষাদ চোখ নামিয়ে নিলো।চন্দ্রর চোখের দিকে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাহস নেই নিষাদের।নিজেকে কেমন নেশাগ্রস্থ মনে হতে থাকে।

চন্দ্র জিজ্ঞেস করলো,”চোখ নামিয়ে নিলেন কেনো?
ভয় পেলেন না-কি? ”

নিষাদ মুচকি হেসে বললো,”চোখে এরকম মাদক নিয়ে ঘুরবেন না,আমার নেশা লেগে যায়। মাতাল হয়ে যাই যদি?”

হাসনাত সাহেব পিছন থেকে বললেন,”মেয়েটাকে তো ভিতরে আসতে দিবি।”

নিষাদের হুঁশ এলো এতোক্ষণে। সরি বলে সরে দাঁড়িয়ে চন্দ্রকে জায়গা দিলো।চন্দ্র ভিতরে ঢুকে বলল,”কিছু জরুরি কথা বলার ছিলো আপনাদের, তাই বলতে এসেছি।”

হাসনাত সাহেব বললেন,”বলো মা।”

মনোয়ারা বেগম কিচেন এপ্রোনে হাত মুছতে মুছতে বললেন,”কিছু বলতে হবে না মা।তুমি কে,বাবা মা,পরিবার,আত্মীয়,অর্থবিত্ত কিছু জানতে চাই না আমরা ভালোবেসেছে,তোমার মতামত পেলে আমরা বিয়ের ব্যবস্থা করবো। তোমার যদি কিছু বলার থাকে তবে এটা বলো আমার ছেলেকে বিয়ে করতে তোমার আপত্তি আছে কি-না তা বলো মা।সারারাত আমরা ঘুমাতে পারি নি চিন্তায়।”

নিষাদ কিছু বললো না।নিষাদ তো জানেই চন্দ্রর মতামত কি।

চন্দ্র একটু চুপ থেকে বললো,”যদি কখনো আপনাদের মনে হয় আমার চাইতে ভালো পরিবারের মেয়ে ডিজার্ভ করেন তাহলে? ”

নিষাদ চন্দ্রর সামনে এসে বললো,”আমি তোমাকে চাই চন্দ্র,তোমাকে চাই মানে তোমাকেই চাই,চাই চাই চাই-ই।
মৃত্যুর আগ মুহূর্তে ও বলবো আমি তোমাকেই চাই।তুমি শুধু একবার বলো চন্দ্র,তুমি আমার।
আমি সারাজীবন ধরে তোমায় আমার বুকের ভেতর যত্ন করে রেখে দিবো।”

চন্দ্র একটা নিশ্বাস ফেলে বললো,”আমি রাজি চাচি।তবুও আমি আপনাদেরকে সব জানাতে চাই।নয়তো নিজের কাছে নিজে আজীবন চোর হয়ে থাকবো।মনে হবে আমি সব লুকিয়েছি।”

মনোয়ারা বেগম বললেন,”বলো তুমি তাহলে। ”

চন্দ্র সব কিছু বললো খুলে,নিজের জন্মের ঘটনা থেকে শুরু করে।
সবাই সব শুনলো নিঃশব্দে,যদিও তারা কিছুটা জানতেন কিন্তু চন্দ্র সবকিছু বলার পর মনোয়ারা বেগম চন্দ্রকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলেন।
নিষাদ তাৎক্ষণিক একটা সিদ্ধান্ত নিলো।

হাসনাত সাহেবকে বললো,”বাবা,আমি চন্দ্রকে আজকেই বিয়ে করতে চাই।আর এক মুহুর্ত ও দেরি করতে চাই না।”

চন্দ্র নিষাদের বিয়ে হলো সম্পূর্ণ ঘরোয়া ভাবে,দিনে দিনেই।কবুল বলার সাথেসাথে নিষাদ চন্দ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বাবা মায়ের সামনে।

চন্দ্র হতভম্ব হয়ে গেলো।নিষাদ ফিসফিস করে বললো,”চন্দ্র,আজ থেকে আমার সব সুখ তোমায় দিলাম।তোমার সব কষ্ট আমি নিলাম।আর কখনো কাঁদবে না তুমি চন্দ্র।
আমি তোমার জন্য প্রাণ বাজি রাখবো চন্দ্র দরকার হলে। তোমাকে আমি আর কষ্ট পেতে দিবো না চন্দ্র।ভীষণ ভালোবাসি তোমায়।”

চন্দ্রর চোখের কোণ গড়িয়ে এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।

বাসর ঘরে গিয়ে চন্দ্র অবাক হলো।পুরো ঘর চন্দ্রর পছন্দ মতো করে সাজানো।এই ঘরের প্ল্যান তো চন্দ্র সোহানের সাথে করেছিলো।
এই যে পুরো ঘর সাজাবে সাদা রজনীগন্ধা আর কাঠবেলি দিয়ে।তার মাঝে থাকবে অপরাজিতা ফুল।

চন্দ্রর গলা শুকিয়ে গেলো ভয়ে।নিষাদ কে তো সে সোহানের কথা বলে নি এখনো।
দরজায় টোকা দিয়ে নিষাদ এলো ভিতরে। চন্দ্র বসে ছিলো বিছানায়। নিষাদকে আসতে দেখে বিছানা থেকে নেমে সালাম দিলো নিষাদ কে। সালামের জবাব দিয়ে নিষাদ চন্দ্রর কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালো।

চন্দ্র কেঁপে উঠলো নিষাদের স্পর্শ পেয়ে।

পকেট থেকে নিষাদ একটা কৌটো বের করে চন্দ্রর হাতে দিলো।
কাঁপা কাঁপা হাতে চন্দ্র খুললো কৌটোটা।

ভিতরে জ্বলজ্বল করছে একটা নীল রঙের ডায়মন্ড। চন্দ্র নিষাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,”সোহান কে চেনেন আপনি? ”

নিষাদ মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বললো,”হ্যাঁ,আমার বন্ধু।সেদিন তোমাকে সোহানের বাসায় দেখার পর সোহানকে চেপে ধরে সব জানলাম তোমার পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে। ”

চন্দ্র বললো,”আমি সত্যি সোহানের হতে চেয়েছিলাম জানেন।কিন্তু আমার বাবা মায়ের কিছু নেই বলে… ”

চন্দ্র কথা শেষ করতে পারলো না।নিষাদ নিজের ঠোঁট দিয়ে চন্দ্রর ঠোঁট বন্ধ করে দিলো।

চন্দ্রর সারা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠলো। নিষাদের শক্ত আলিঙ্গনে চন্দ্রর মনে হলো চন্দ্র যেনো মিশে গেছে নিষাদের শরীরের সাথে।

একটা গভীর চুমু খেয়ে নিষাদ বললো,”আজ থেকে এই ঠোঁটে শুধু একটা নাম উচ্চারিত হবে ভালোবাসার কথা বলার জন্য।সেটা হলো নিষাদ।যদি নিষাদ ব্যতীত অন্য নাম উচ্চারিত হয় তবে সেই নাম যার তাকে আমি খুন করে ফেলবো।মনে রেখো।”

চন্দ্র হাসলো নিষাদের কথা শুনে।চন্দ্রর মনে হলো এরকম একজন মানুষ তো সে চেয়েছে,যে তাকে এরকম পাগলের মতো করে ভালোবাসবে।

চন্দ্র নিষাদকে বললো,”আপনাকে আমার কিছু দেয়ার আছে।”

নিষাদ কিছু জিজ্ঞেস করার আগে চন্দ্র একটা বক্স দিলো।নিষাদ দেখলো একটা ঘড়ি।চন্দ্র একটা ফাইল দিলো নিষাদের হাতে।

নিষাদ খুলে একটা শক খেলো।একটা উইল যেখানে চন্দ্রর সব সম্পদ নিষাদের নামে।
সম্পদের পরিমাণ দেখে চন্দ্র নিষাদ আরো বেশি অবাক হলো।

নিষাদকে হতভম্ব দেখে চন্দ্র বললো,”আমার বাবা মায়ের সব কিছু আমার নামে লিখে দিয়ে গেছেন।আমি ঠিক করে রেখেছিলাম আমার এসব সম্পদের কথা কাউকে জানাবো না।যে আমার এসব শুনে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হবে তাকে বিয়ের পর সব জানাবো আমি।সব কিছু তাকে দিয়ে আমি শুধু তাকে চাইবো আমার জন্য।
আমার আর কিছু চাই না আপনাকে ছাড়া। ”
কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (১৪)

কুয়াশায় ঢাকা একটা দীর্ঘ রাত। দূরে কোথাও কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মাঝেমধ্যে দু একটা রিকশা,প্রাইভেট কারের শব্দ।
সবার প্রিয় মানুষ ফিরছে তার কাছে।
চন্দ্র ঘুমন্ত নিষাদের দিকে তাকালো।কি স্নিগ্ধ কোমল একটা মুখ।

আচ্ছা এই মানুষটি কি চন্দ্রর প্রিয় মানুষ হবে?

এরকম করে কি এই মানুষটি ছুটে আসবে চন্দ্রর কাছে?
চন্দ্রর বাবা যেমন পাগলের মতো ভালোবেসেছে চন্দ্রর মা’কে নিষাদ কি সেভাবে ভালোবাসবে চন্দ্রকে?

জানে না চন্দ্র।হুট করে বিয়েটা হয়ে গেলো আজ।চন্দ্রর ভাবনা তে ছিলো না আজকেই যে হুট করে বিয়ে হয়ে যাবে।এই রাতে তো সোহানের পাশে থাকার কথা ছিলো চন্দ্রর।
হাসলো চন্দ্র আপনমনে। কাকে ভাবছে সে!

রাত দুটো বাজে,চন্দ্র শুয়ে পড়লো।একটু পরেই ঘুমিয়ে গেলো চন্দ্র।চন্দ্রর শ্বাস ভারী হতেই নিষাদ বুঝতে পারলো চন্দ্র ঘুমিয়েছে।
নিষাদ উঠে বসলো। অনেকক্ষণ ধরে ঘুমের ভান করে ছিলো নিষাদ।

পকেট থেকে এক জোড়া পায়েল বের করে নিষাদ চন্দ্রর দু’পায়ে পরিয়ে দিলো।
যেদিন চন্দ্রকে প্রথম দেখেছিলো নিষাদ সেদিনই এই পায়েল জোড়া কিনেছে।

ঘুম ভাঙলো চন্দ্রর আগে।বিছানা থেকে নামতে গিয়ে চন্দ্র অবাক হলো।
নিষাদ কে কিছু না বলে মুচকি হেসে চন্দ্র ওয়াশরুমে গেলো।

নাশতা খেতে বসে নিষাদ বললো,”তোমার আত্মীয় স্বজন কেউ তো জানে না বিয়ের খবর,তাদের দাওয়াত করলে কেমন হয়?”

চন্দ্র নাশতা খাওয়া বন্ধ করে বললো,”কেউ নেই,কাউকে জানানোর নেই আমার।”

নিষাদ বললো,”রাগ করে থেকো না চন্দ্র,কখনো যদি কেউ আমাদের একসাথে বাহিরে দেখে ফেলে তবে তারা ভুল বুঝবে।তোমাকে নিয়ে বাজে ধারণা করবে।তারচেয়ে ভালো সবাইকে জানিয়ে দেওয়া,তাহলে আর কেউ কিছু ভাববে না।”

চন্দ্র রাজি হলো। নাশতা করে রুমে গিয়ে নিষাদ রেডি হলো বের হবার জন্য।
চন্দ্র রুমে ঢুকে বললো,”আমি ও বের হবো।সবাইকে দাওয়াত দিতে যেতে হবে না? ”

নিষাদ বললো,”চলো,আমার বন্ধুদের আগে দাওয়াত দিয়ে তারপর হাতে সময় নিয়ে তোমার রিলেটিভদের বাসায় যাবো।”

চন্দ্র রাজী হলো।দুজনেই রেডি হয়ে বের হলো।নিষাদ মনে মনে ঠিক করলো সবার আগে গিয়ে সোহানকে দাওয়াত দিবে।

গাড়ি সোহানদের এলাকায় ঢুকতেই চন্দ্রর গলা শুকিয়ে গেলো ভয়ে। কি করছে নিষাদ!

চন্দ্র বলার আগে নিষাদ বললো,”ভয় পেও না।তুমি এখন আমার স্ত্রী। অতীতে কাকে ভালোবেসেছো সেটা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।তোমার বর্তমান আর ভবিষ্যৎ শুধু আমি থাকলেই হবে চন্দ্র।”

দরজা খুলে সোহান চন্দ্রকে দেখে চমকে গেলো। একটা গাঢ় বেগুনি রঙের শাড়ি পরনে চন্দ্রর।কানে বেগুনি রঙের পাথরের দুল,গলায় সোনার চেইন।
বিনুনি করা চুল কাঁধের ডানপাশে দিয়ে রাখা। সোহানের মনে হলো এই নিশ্চিত গ্রীক মিথলজি থেকে উঠে আসা এক দেবী।
এতো সুন্দর কেনো একটা মেয়ে!

পরমুহূর্তে সোহানের মনে হলো সে বিবাহিত। তার স্ত্রী আছে।শ্বশুর বাড়ি থেকে যেসব জিনিস সে পেয়েছে এই মেয়ে সারাজীবন ও এক সুতা আনতে পারতো না।

এসব সাতপাঁচ ভাবার মধ্যে নিষাদ এসে দাঁড়ালো চন্দ্রর পিছনে।
নিষাদ এসেই সোহানকে জড়িয়ে ধরলো।সোহান এখনো হতভম্ব হয়ে আছে।কিছুই মাথায় ঢুকছে না।

দুজনকে ভিতরে আসতে বললো সোহান।

বসতে বসতে নিষাদ বললো,”দোস্ত,গতকাল ঘরোয়া ভাবে বিয়ে করে নিয়েছি।এই যে দেখছিস তোদের ভাবী।
আজ এলাম তোদের দাওয়াত দিতে।আগামীকাল তোদের সবার দাওয়াত।আংকেল আন্টি ভাবী সবাইকে নিয়ে আসবি কিন্তু।”

চন্দ্র বললো,”ভাবীকে ডাকুন না ভাইয়া,ভাবীকে আমি বলে যাই।”

সোহানের মনে হলো কাঁটা গায়ে লবনের ছিটা দিচ্ছে চন্দ্র ভাইয়া বলে ডেকে।
সোহান নিজেকে সামলে জবাব দিলো,”ও বাসায় নেই,বাবার বাসায় গিয়েছে।”

নিষাদ উঠতে উঠতে বললো,”আসি দোস্ত,সবার বাসায় যেতে হবে আবার।যাবি কিন্তু সবাইকে নিয়ে অবশ্যই। ”

নিষাদ চন্দ্র বের হয়ে যেতেই সোহান পিছু ডাকলো নিষাদকে।সোহানের মনে অনেক প্রশ্ন জমে আছে।নিষাদের মতো একটা ছেলে চন্দ্রর মতো একটা অনাথ মেয়েকে বিয়ে করবে সোহানের মাথায় ঢুকছে না এটা।

চন্দ্র বুঝতে পারলো সোহান কি বলবে,তাই নিজে গিয়ে গাড়িতে বসলো।চন্দ্র চলে যেতে সোহান বললো,”এটা কি করলি তুই নিষাদ,এই কাকে বিয়ে করলি তুই?”

নিষাদ হেসে বললো,”যাকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছি তাকেই।”

বিরক্ত হয়ে সোহান বললো,”এই মেয়ের বাবা মা নেই জানিস না তুই?”

“জানি তো,এজন্যই তো আরো বেশি পাগল হয়েছি ওর জন্য,ওর সব কষ্ট দূর করে দেয়ার জন্য।ওকে একটা পরিবার দেয়ার জন্য।”

সোহানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো।রেগে গিয়ে বললো,”এই মেয়ে আমার প্রাক্তন ছিলো নিষাদ। আমি ওকে ডাম্প করেছি তুই জানিস?
বিপদে পড়লে শ্বশুর বাড়ি থেকে কোনো সাপোর্ট পাবি না।জেনে শুনে এটা কি করলি?”

নিষাদ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললো,”প্রথমত ও আমার স্ত্রী,সম্মান দিয়ে কথা বলবি ওকে।ভাবী করে বলবি।আর শোন,সবাই খাঁটি সোনা চেনে না।তুই ও চিনতে পারিস নি।তাই ওকে ছেড়ে দিয়েছিস।
তুই জানিস না সোহান,চন্দ্রর বাবা মা চন্দ্রর নামে যে পরিমাণ সম্পদ রেখে গেছে,তা দিয়ে চন্দ্র তোর শ্বশুরের পুরো গোষ্ঠীর সবাইকে কিনে নিতে পারবে।কাল আসিস,দেখতে পাবি সব দলিল।”

নিষাদ চলে গেলো।সোহান সোফায় বসে পড়লো ধপ করে। বুকের ভেতর কেমন তোলপাড় করছে।কি বলে গেলো নিষাদ এসব?
তবে কি সোহান ভুল করেছে?
এমনিতেই স্ত্রীর সাথে সোহানের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।এখন এসব শুনে সোহানের মনে হচ্ছে সারা শরীর যেনো জ্বলে যাচ্ছে রাগে।
এতো রাগ কেনো হচ্ছে সোহানের?

চলবে………?

লিখা: জাহান আরা
চলবে…..

লিখা: জাহান আরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here