কি আশায় বাঁধি খেলাঘর ১১+১২

0
80

কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (১১)

চন্দ্রর মনে হলো মা বাবার সাথে বসে খাবার খাচ্ছে। খেতে বসে চন্দ্র বুঝতে পারলো হাসনাত সাহেব আর মনোয়ারা বেগম অত্যন্ত ভালো মানুষ। শুধু ভালো না,প্রচন্ড ভালো।

হাসনাত সাহেব নিজে চন্দ্রকে খাবার বেড়ে দিলেন।
ইলিশ মাছ প্রিয় হবার পরেও চন্দ্র সবসময় ইলিশ মাছ ইগ্নোর করে যেতো কাঁটা বাছার ভয়ে।কিন্তু এখন খেতে বসে দেখলো সর্ষে ইলিশ রান্না ও আছে।
চন্দ্র গরুর মাংস নিলো।সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস,চিলি চিকেন,ঝাল ঝাল করে আলুভাজি,টমেটো দিয়ে পাতলা ডাল,চিংড়ি মাছ দিয়ে লাউ রান্না,ডিমের কোরমা।

খাবারের মেন্যু দেখে চন্দ্র অবাক হলো।

সাতকরা দিয়ে গরুর মাংসের রান্না এতো বেশি মজা হয়েছে যে চন্দ্র শুধু এটা দিয়েই খেতে লাগলো।
হাসনাত সাহেব এক পিস মাছ তুলে দিলেন চন্দ্রর পাতে।সাথে সাথে চন্দ্রর মুখ শুকিয়ে গেলো।
নিষাদ বিষয়টি খেয়াল করে বললো,”বাবা,জিজ্ঞেস না করে কেনো মাছ দিলে,ওনার হয়তো ইলিশ মাছ অপছন্দ।”

হাসনাত সাহেব নিষাদকে ঝাড়ি মেরে বললেন,”চুপ কর তুই।জ্ঞান দিবি না।জাতীয় মাছ ইলিশ মাছ আর এটা না-কি কারো অপছন্দ। ”

চন্দ্র জবাব দেয়ার আগেই প্রভা বললো,”আংকেল,ও ইলিশ মাছ খায় না কাঁটার ভয়ে।”

হাসনাত সাহেব হেসে বললেন,”এটা কোনো ব্যাপার না।”

নিজ হাতে চন্দ্রকে মাছের কাঁটা বেঁছে দিলেন। আবেগে চন্দ্রর চোখ ভিজে এলো।
নিষাদ তাকিয়ে রইলো চন্দ্রর দিকে তারপর মনে মনে বললো,”শুধু একবার আমার জীবনে আসো,এই কান্না তোমার জন্য নিষিদ্ধ করে দিবো।কান্না তোমার উপর ১৪৪ ধারা জারি করলাম।”

চন্দ্রকে কাঁদতে দেখে হাসনাত সাহেব বললেন,”একটা জোকস শুনবে তোমরা? ”

প্রভা উৎসুক হয়ে বললো,”বলুন আংকেল”

“মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিদিনের মতো সকালে গিয়েছেন রোগীদের খোঁজখবর নিতে। এক নম্বর কক্ষে ঢুকে দেখেন, একজন মাটিতে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা কাটছে। আরেকজন উল্টো হয়ে ছাদের একটা কাঠে পা বেঁধে ঝুলে আছে! চিকিত্সক প্রথমজনকে জিজ্ঞেস করলেন, কী করছেন আপনি?
-কেন দেখতে পারছেন না, আমি একটা কাঠ কাটছি!
-ও আচ্ছা, কাঠ কাটছেন, ভালো কথা। ছাদের জনকে দেখিয়ে বললেন, কিন্তু উনি ছাদে এভাবে উল্টো হয়ে ঝুলে কী করছেন?
-কী আর করবে, সে আসলে নিজেকে একটা বাল্ব ভাবছে।
চিকিৎসক চিন্তিত মুখে বললেন, কিন্তু তার সব রক্ত তো মাথায় চলে এসেছে, ভয়ানক ব্যাপার এটা! আপনি তার বন্ধু হয়েও এটা দেখছেন! তাকে নামানোর চেষ্টা করছেন না কেন? তা শুনে প্রথমজন দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে, আরে ধুর, ওরে নামাইলে তো সব অন্ধকার হয়ে যাবে! তখন আমি কাজ করব ক্যামনে?”

চন্দ্র হাসতে হাসতে বিষম খেলো।তড়িঘড়ি করে নিষাদ গ্লাসে পানি ঢালতে গিয়ে পানি ফেলে নিজের শরীর ভিজিয়ে ফেললো।

তারপর বোকার মতো চন্দ্রর দিকে তাকিয়ে রইলো। নিষাদের কর্মকান্ডে চন্দ্র অবাক হলো। কিন্তু বুঝতে দিলো না কিছু।চন্দ্রর নিষাদকে কিছুটা চেনা চেনা লাগছে,কিন্তু মনে করতে পারছে না।
চন্দ্র খাবার শেষ করে বললো,”চাচী,আপনার রান্না অসম্ভব ভালো। ”

মনোয়ারা বেগম বললেন,” তাহলে মা,আজ থেকে তোমরা দুজন আমার বাসায় খাবে।”

চন্দ্র অবাক হয়ে প্রভার দিকে তাকালো। প্রভা নিজেও অবাক। কি বলছেন উনি!

চন্দ্র বললো,”না চাচী,এতো কষ্ট দিতে চাই না আপনাকে।”

মনোয়ারা বেগম গাল ফুলিয়ে কিশোরী মেয়ের মতো অভিমানি গলায় বললেন,”আমাকে আপন ভাবতে পারছো না বুঝি তুমি?
তাই খেতে চাও না আমার কাছে?”

চন্দ্র জিহবায় কামড় দিয়ে বললো,”ছি চাচী,এভাবে বললেন না।আপনি আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তার প্রতিদানে আমার প্রাণ দিয়ে দিলেও আমি শোধ করতে পারবো না।আমি জানি অন্তত আমার মনে আপনার জন্য কী শ্রদ্ধা,সম্মান,ভালোবাসা জন্মেছে।আপনি ছাড়া কেউ আমাকে এভাবে কাছে টেনে নেয় নি চাচী।আমার বাবা মা মারা গেছেন ছোট বেলায়।তারপর থেকেই আমি হোস্টেলে থেকে বড় হয়েছি।এই জীবনে কেউ এভাবে আমাকে আদর দিয়ে কাছে টেনে নেয় নি চাচী।”

মনোয়ারা বেগম কেঁদে ফেললেন চন্দ্রর কথা শুনে।তারপর চন্দ্রর হাত ধরে বললেন,”তবে আর আপত্তি করো না মা।”

চন্দ্র প্রভার দিকে তাকালো। প্রভা ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলো।
চন্দ্র চোখ মুছে বললো,”ঠিক আছে চাচী,আপনার কথাই হবে।”

চন্দ্ররা চলে যেতেই নিষাদ বাবা মা’কে বললো,”একটা কথা বলি বাবা?”

হাসনাত সাহেব বললেন,”বল।”

নিষাদ বললো,”বাবা,এই মেয়েটিই সেই মেয়ে,যাকে আমরা সেদিন পার্কে দেখেছি।একেই আমি ভালোবাসি বাবা।ভাগ্যের কি খেলা বাবা দেখো,যাকে আমি পুরো পৃথিবী খুঁজে বেড়াচ্ছি সে বসে আছে আমার নাকের ডগায়। ”

অতি উত্তেজনায় মনোয়ারা বেগমের প্রেশার বেড়ে গেলো। কি বলছে নিষাদ এসব তার বিশ্বাস হচ্ছে না কোনো।

নিষাদ ফোন থেকে চন্দ্রর প্রথম দিনের ছবি বের করে দেখিয়ে বললো,” এই ছবিটি দেখো।”

হাসনাত সাহেব আর মনোয়ারা বেগম দুজনেই দেখলেন ছবিটি। তাদের বিস্ময় কাটছে না যেনো।একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন।
শেষে হাসনাত সাহেব বললেন,”আলহামদুলিল্লাহ,এতো আনন্দের খবর রে ব্যাটা,আমি কালই বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।” কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (১২)

নিষাদ মেসেজ দিলো রাত ১২ টায়।চন্দ্র তখন সবেমাত্র রুমে এসে শুয়েছে।ফোনে মেসেজ এসেছে শুনে ফোন হাতে নিয়ে দেখলো সেই নাম্বার থেকে আরেকটা মেসেজ এসেছে।

“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে।
তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”

চন্দ্র বুঝতে পারছে না কে এই মানুষ?
কেনো এরকম করছে হঠাৎ করে?

চন্দ্র নিজেই কল দিলো নিষাদকে।নিষাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল চন্দ্রর কল দেওয়া।
রিসিভ করবে না-কি করবে না তা ভাবতে ভাবতেই কল কেটে গেলো।
চন্দ্র আবারও কল দিলো।এবার নিষাদ কল রিসিভ করলো।

চন্দ্র কোনো ভনিতা না করে সোজা জিজ্ঞেস করলো,
“কে আপনি?
কি চান?
কেনো এভাবে ডিস্টার্ব করছেন আমাকে?
এটা যে অভদ্রতা আপনি কি জানেন না?
বিশেষ করে এরকম রাত করে কাউকে কল দিয়ে,টেক্সট দিয়ে ডিস্টার্ব করা কি কোনো ভদ্র লোকের কাজ আপনি বলুন তো?”

চন্দ্রর এতোগুলা প্রশ্ন শুনে নিষাদের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো।
এই শীতেও দরদর করে ঘামতে লাগলো নিষাদ।

নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে বললো,”প্রেম এবং যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায্য ম্যাডাম।”

এরকম দাঁতভাঙা জবাব চন্দ্র আশা করে নি।

চন্দ্র জিজ্ঞেস করলো,”আপনার সাথে আমি প্রেম করছি না তা তো নিশ্চিত,কিন্তু যুদ্ধ ও তো করছি না।তবে কেনো এরকম করছেন?”

নিষাদ বললো,”করছেন না কেনো প্রেম তাহলে?
করে ফেলুন না প্লিজ,কতোদিন ধরে সিঙ্গেল আছি শুধু আপনার জন্য।জীবনের প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা আপনিই আমার।
আপনি আমার শীতের রাতের এক কাপ গরম চা হবেন প্লিজ?”

চন্দ্র হেসে ফেললো নিষাদের কথা শুনে। হাসতে হাসতে বললো,”ফ্ল্যার্ট তো ভালোই জানেন দেখছি। তো এভাবে কতোজনকে পটিয়েছেন?”

নিষাদ মন খারাপ করে জবাব দিলো,”আপনার কাছে যেটা ফ্ল্যার্ট আমার কাছে সেটা হৃদয়ের অনুভূতি,আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা প্রকাশ।আমার প্রথম আবেগ।”

চন্দ্র বললো,”আপনার অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে বলছি আমি,আপনি প্লিজ অন্য কাউকে খোঁজেন নিজের জন্য।আমার রিলেশনশিপে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই,প্রেমের স্বাদ মিটে গেছে।”

নিষাদ বললো,”ভালোবেসে গোলাপকে ছুঁয়ে দিতে গেলেও মানুষকে কাঁটার আঘাত পেতে হয়,আপনি কিভাবে ভাবলেন মানুষ আঘাত দিবে না?
আর এই কাঁটার আঘাতের ভয়ে কি মানুষ গোলাপ ছিঁড়ে না বলেন?

আর আপনাকে কে বললো আমি প্রেম করতে চাই,আমি সোজা বিয়ে করে নিতে চাই আপনাকে।আপনি এলে আমাদের ছোট সংসারটি পূর্ণ হবে কানায় কানায়।
বিশ্বাস করেন,নিজের প্রাণ বাজি রেখে বলতে পারি,আপনার চোখে কখনো দুঃখের জল আসবে না।যদি কখনো চোখে জল আসে তবে তা হবে সুখে।”

চন্দ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,”সরি।আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।আমি পারবো না দ্বিতীয় বার এসব নিয়ে ভাবতে।”

নিষাদ কাতর গলায় বললো,
“চন্দ্র আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি।
আর ভালোবাসি বলেই তোমাকে নিজের করতে চেয়েছি। তবে তুমি না চাইলে আমি জোর করবো। যতোবার অবহেলা করবে ততবারই দ্বিগুণ ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসবো।কথা দিলাম।”

নিষাদ কল কেটে দিলো।চন্দ্র হেসে ফেললো নিষাদের কথা শুনে।নিষাদ যে মুডে কথা বলেছিলো চন্দ্র ভেবেছিলো নিষাদ বলবে যে আর কখনো ফিরে আসবে না।

চন্দ্র ঘুমানোর চেষ্টা করলো অনেকক্ষণ ধরে। কিন্তু পারছে না ঘুমাতে।কি যেনো মনের মধ্যে খচখচ করছে।
ঘুমাতে দিচ্ছে না। অনেকক্ষণ পরে চন্দ্রর মনে পড়লো নিষাদকে কোথায় দেখেছে ও।
সেই যে হোস্টেলে থাকতে একদিন…..

একে একে সব মনে পড়লো।হেসে ফেললো চন্দ্র আপনমনে। এই তো সেই ছেলেটা যার সাথে চন্দ্র ধাক্কা খেয়ে চিৎ হয়ে পড়ে গেছিলো। তারপর ছেলেটা ওর পিছনে দৌড়াতে লাগলো,তার পিছনে হাসনাত সাহেব ছিলেন।
চন্দ্র হাসতে হাসতে উঠে বসলো বিছানায়।

কী আশ্চর্য!
দুনিয়া কতো ছোট!
কে জানতো সেই ছেলেদের বাসায় চন্দ্রর বাসা হবে,তার বাবা মা’কে এতো আপন মনে হবে।

হঠাৎ করে চন্দ্রর মনে হলো এই ছেলেটা অসম্ভব ভালো। একটা মেয়েকে পছন্দ করেছে আর মেয়েকে কিছু বলার আগেই বাবামায়ের কাছে বলে দিয়েছে।কি সুন্দর!
অথচ চন্দ্র ভালোবেসেছে এমন একজনকে যে কি-না চন্দ্রর দুরবস্থা জেনে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।
হায়রে ভালোবাসা!
কি ভাগ্যবতী সেই মেয়েটা যাকে নিষাদ ভালোবেসেছে!

সকাল বেলা হাসনাত সাহেব আর মনোয়ারা বেগম চন্দ্রর ফ্ল্যাটে এলো।
মনোয়ারা বেগমের হাতে একটা ফুলের ঝুড়ি।
হাসনাত সাহেবের হাতে মিষ্টি।

চন্দ্র ব্যতিব্যস্ত হয়ে তাদের ভিতরে এনে বসালো।প্রভা ছুটলো শরবত বানাতে।
ফুলের ঘ্রাণে ম-ম করছে বাসা।

হাসনাত সাহেব নিজেই শুরু করলেন।চন্দ্রকে জিজ্ঞেস করলেন,”মা,তোমার অভিভাবক কে আছে?”

এই প্রশ্ন চন্দ্র আশা করে নি।একটু চুপ থেকে বললো,”না,কেউ নেই আমার।আমার অভিভাবক আমি নিজেই আংকেল।”

মনোয়ারা বেগম চন্দ্রর হাত ধরে বললো,”মা,আমার ছেলে যেদিন প্রথম দেখেছিলো সেদিনই তোমাকে ভালোবাসে ফেলে।আমারা চাই তোমাকে আমাদের বাড়ির বউ করতে।দেখো মা,আমার একটাই ছেলে,আমার কোনো মেয়ে নেই।তোমার ও বাবা মা নেই।আমরা চাই তোমার বাবা মায়ের অভাব পূরণ করতে।জানি,বাবা মায়ের অভাব হয়তো অন্য কেউ নিতে পারে না,বিশ্বাস করো চন্দ্র আমরা কখনো তোমাকে বউয়ের চোখে দেখব না। সবসময় নিজের মেয়ের মতো করে যত্নে রাখবো।”

হাসনাত সাহেব বললেন,”আমাদের ফিরিয়ে দিও না মা খালি হাতে।তুমি দুদিন ভেবে সিদ্ধান্ত নিও।তোমার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবো।”

প্রভা শরবত নিয়ে এলো।দুজনে শরবত খেয়ে চলে গেলো।
চন্দ্রর মাথা ঝিমঝিম করছে,পুরো শরীর কাঁপছে।

প্রভা এসে পাশে বসতেই চন্দ্র প্রভাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। প্রভা রান্নাঘর থেকে সব শুনেছে। ভীষণ খুশি হয়েছে প্রভা এই প্রস্তাব শুনে।
চন্দ্রকে জড়িয়ে ধরে বললো,”এটা সবচেয়ে উত্তম প্রস্তাব চন্দ্র।আংকেল আন্টির মতো মানুষ হয় না।তুই অমত করিস না চন্দ্র।”

চন্দ্র বললো,”আমার ভীষণ ভয় করে প্রভা।আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না।”

প্রভা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,”চন্দ্র,কষ্টের পরেই তো সুখ আসে।তুই এতোদিন অনেক কষ্ট সহ্য করেছিস,এজন্য আল্লাহ তোর ভাগ্য খুলে দিয়েছে।বাকি জীবন তোর জন্য সুখ অপেক্ষা করছে। অমত করলে অনেক বড় কিছু হারাবি তুই চন্দ্র।”

চন্দ্র দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে রইলো।
প্রভা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,”ক্লাসে যাবি না?”

চন্দ্র মাথা নেড়ে বললো,”না যাবো না।”

প্রভা বললো,”তাহলে আমিও যাবো না।”

সারাদিন কাটলো চন্দ্রর ভীষণ উদ্বিগ্নতায়।আব্বা আম্মার কথা ভীষণ মনে পড়তে লাগলো চন্দ্রর।আজ যদি আব্বা আম্মা থাকতো তবে তো এসব কথা চন্দ্রর কাছে কেউ বলতো না।বাবা মা সিদ্ধান্ত নিতো এই বিষয়ে। সব বাবা মায়েরাই তো সন্তানের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
আল্লাহ কেনো চন্দ্রকে এই ভাগ্য দিলো না।কেনো এই সিদ্ধান্ত চন্দ্রকে নিতে হচ্ছে!

দুপুরে নিষাদ আবার কল দিলো চন্দ্রকে।চন্দ্র রিসিভ করলো না।
চটপট করে দিন কাটালো চন্দ্র কিন্তু রাত কাটতে চাইলো না আর।
চন্দ্র কি করবে বুঝতে পারছে না। কি সিদ্ধান্ত নিবে?

দিশা না পেয়ে উঠে গেলো প্রভার কাছে।প্রভাকে গিয়ে বললো,”আমি কি করবো রে প্রভা এখন?”

প্রভা বললো,”দেখ চন্দ্র,বিয়ে তো করতেই হবে একদিন তাই না?দেখ,যাকেই বিয়ে করবি তার পরিবার কেমন হবে তা কে জানে।অথচ দেখ,চাচীকে তুই ভালো করে জানিস।ওনারা কতো ভালো মানুষ তা তো তুই ভালো জানিস।ওনাদের ছেলে কি খারাপ হবে?
আর যে ছেলে তোকে পছন্দ হওয়ার সাথে সাথেই বাবা মা’কে জানিয়ে দিয়েছে সেই ছেলে অবশ্যই লয়াল।
এই সুযোগ মিস করিস না চন্দ্র।”

চন্দ্রর হঠাৎ মনে হলো প্রভা যা বলছে ঠিকই বলছে।প্রভার সব যুক্তি-ই যৌক্তিক। চাচা চাচীর মতো করে কেউ ওর যত্ন নিবে না।
চন্দ্রর মনে হলো কেমন ভারমুক্ত হলো চন্দ্র।

প্রভাকে একটা কঠিন হাগ দিয়ে চন্দ্র রুমে এলো।এসে দেখতে পেলো ফোন বেজে যাচ্ছে। বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে ফোন রিসিভ করলো।

নিষাদ কথা বলার আগেই চন্দ্র বললো,”আপনার আর কষ্ট করে আমাকে ডিস্টার্ব করতে হবে না।আমার বিয়ের কথা বার্তা চলছে।আমিও সম্মতি জানিয়ে দিবো কালকে।”

শুনে নিষাদের মনে লাড্ডু ফুটতে লাগলো।কিন্তু চন্দ্রকে বুঝতে দিলো না।বরং মন খারাপ করে বললো,”আমার কি হবে চন্দ্রাবতী?
আমি যে তোমাকে অনেক ভালোবাসি।তোমার কী আমার কথা মনে পড়বে না?

প্রতিরাতে যখন আমার কল আসবে না আর তখন কি একবারও তোমার মনে পড়বে না আমার কথা চন্দ্র?”

চন্দ্র বিরক্ত হয়ে বললো,”না রে ভাই,মনে পড়বে না।আমার জামাই আমাকে এতো বেশি ভালোবাসে ভাই,আমার নিজের কথা ভাবার সময়ই থাকবে না।আপনার কথা তো পরে।
বাদ দেন ভাই।আর কল দিয়েন না।”

নিষাদ ফোন রেখে হাসতে লাগলো।

চলবে…..?

লিখা:জাহান আরা

কবিতা :(সুফিয়া কামাল,শক্তি চট্টোপাধ্যায়)

চলবে…..?

লিখা: জাহান আরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here