কি আশায় বাঁধি খেলাঘর ৩+৪

0
72

কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (০৩)

হাসনাত সাহেব আর নিষাদ বাসায় পৌছালো ৯ টার দিকে।মনোয়ারা বেগম বেশ চিন্তিত ছিলেন এতো দেরি দেখে।
স্বামী সন্তান কে দেখার পর যেনো তার শান্তি হলো।
মনোয়ারা বেগম অস্থির প্রকৃতির মানুষ। অল্পতেই তার প্রেশার বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়।

সকালের রাগটা অনেক চেষ্টা করে ধরে রেখেছেন এতোক্ষণ,কিন্তু কিছু বলার আগেই দেখলেন বাপ ছেলে দুজনের মুখই শুকনো।
ছেলের পাশে বসে চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,”কি হয়েছে বাবা তোর?”

নিষাদ জবাব দিলো না।আগের মতোই চুপ হয়ে রইলো।মনোয়ারা বেগমের অস্থিরতা বাড়তে লাগলো।
পায়ের জুতো খুলে নিষাদ দুইটা দুই দিকে ছুঁড়ে মারলো।

মনোয়ারা বেগম স্বামীর পাশে গিয়ে বসলেন,সকালের রাগ ভুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,”কী হয়েছে তোমাদের? ”

হাসনাত সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,”এতোদিনে আমার ছেলে একটা মেয়েকে পছন্দ করেছে মনু,কিন্তু কপাল খারাপ। মেয়েটার কোনো ঠিকানা জানা যায় নি।”

মনোয়ারা বেগমের প্রেশার বেড়ে গেলো,হাসনাত সাহেব উঠে গিয়ে ঔষধ এনে দিলেন।

ধাতস্থ হয়ে মনোয়ারা বেগম স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।তারপর বললেন,”কি মানুষ তুমি বলো তো আমাকে?
আমার ছেলেটা না হয় এতোকিছু বুঝে না,তুমি তো বুঝো।তুমি কি পারো নাই মেয়ের বায়োডাটা কালেক্ট করতে?
এটুকু জ্ঞান কি নেই তোমার?
মাথায় সব তো দেখছি তোমার গোবরে ভর্তি,আজকেই বাজার থেকে টমেটো বেগুনের গাছ আনবে,তোমার মাথায় চাষ করবো আমি।”

হাসনাত সাহেব নিরবে স্ত্রীর ভৎসনা শুনে গেলেন।কিছু বললেন না।
বললেন না মানে বলার সুযোগ পেলেন না তার আগেই মনোয়ারা বেগম কাঁদতে বসে গেলো।চোখের পানি মুছে বললো,”ভেবেছিলাম এতোদিনে ছেলের একটা মেয়ে পছন্দ হয়েছে যখন আল্লাহ আল্লাহ করে মেয়েটাকে বউ করে নিয়ে আসবো বাসায়।কি সর্বনাশ হলো গো আমার,এখন এই মেয়েকে আমার ছেলে কোথায় খুঁজে পাবে গো আল্লাহ?
আমার ছেলে বুঝি আজীবন এরকম সিংগেল থাকবে আল্লাহ?”

হাসনাত সাহেব স্ত্রীর সাথে সুর মিলিয়ে বললেন,”রহম করো আল্লাহ,রহম করো।মেয়েটাকে মিলিয়ে দাও আল্লাহ।এই অধমের আর্জি কবুল করো।”

মনোয়ারা বেগম চোখ মুছে স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন,”তোমরা দোষ,তোমার জন্য এরকম হয়েছে।তুমি ৮-১০ টা প্রেম করায় আমার ছেলের কপালে প্রেম নেই,আল্লাহ গো,আমার ছেলের কপালে বুঝি বউ জুটবে না এবার আর…..”

বাবামায়ের এরকম কান্নাকাটি নিষাদের ভাল্লাগেনা।নিষাদ উঠে গেলো নিজের রুমের দিকে।মাথায় ঘুরছে মেয়েটার কথা।

বিছানায় ধপাস করে পড়লো নিষাদ চেঞ্জ না করে।
.
.
.
চন্দ্র বসে আছে নিজের রুমে গোমড়া মুখে। আজ সোহানের সাথে কথা বলতে পারে নি।
হতাশায় মন ছেয়ে গেছে তাই।
বাকীটা দিন কাটলো চন্দ্রর বিষণ্ণতায়। এরমধ্যে বিকেলে ছোট খালামনি কল দিলেন।

অনেক দিন পর ছোট খালামনির কল পেয়ে চন্দ্র কিছুটা অবাক হলো। খালামনির সাথে শেষ কথা হয়েছে চন্দ্রর মাস ছয়েক আগে।তাও রাগারাগি করে খালামনি ফোন রেখে দিয়েছে।
বুকের ভিতর কিসের একটা সুক্ষ্ম ব্যথা চিনচিন করে উঠলো।
হয়তো অভিমানে কিংবা একাকিত্বের জন্য।

চন্দ্র কল রিসিভ করে সালাম দিলো।
ওপাশ থেকে চন্দ্রর খালামনি রশ্মি বললো,”কিরে,কেমন আছিস তুই?”

চন্দ্র জবাব দিলো,”ভালো আছি।”

“শোন,একটা খুশির খবর আছে তোর জন্য।তোর খালুজান যাবে আজকে তোর হোস্টেলে,তোকে আর হোস্টেলে থাকতে হবে না।আমার কাছে থাকবি তুই এখন থেকে।”

চন্দ্রর গলা শুকিয়ে গেলো এই কথা শুনে।হোস্টেল থেকে চলে যেতে হবে চন্দ্রকে?
কেনো?
জীবনের এতোগুলা বছর কাটিয়েছে হোস্টেলে হোস্টেলে,এখন কেনো বাড়ি নিতে চায় খালামনি?
চন্দ্র আঁচ করতে পেরেছে খালামনির উদ্দেশ্য, তবু সরেস নিয়ে কিছু না বলে জবাব দিলো,”আমি হোস্টেলেই ঠিক আছি,আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।”
রশ্মি বিরক্ত হয়ে জবাব দিলো,”ভাববো না কেনো,কি বললি তুই এটা,আমি ছাড়া কে আছে আর তোর?
তোর মা আমার হাতে দিয়ে গেছে তোকে,আমি-ই তো চিন্তিত হবোই তোকে নিয়ে।বেশি কথা বলিস না,বিকেলেই চলে আসবি।আমি তোর জন্য রুম গুছিয়ে রেখেছি।বাসায় আসলে বাকি কথা হবে।”

চন্দ্র কিছু বলার আর সুযোগ পেলো না।

চন্দ্র জানে বাকি কথা কি বাকি আছে।ভাবতেই চন্দ্রর ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।এতো সোজা না চন্দ্রকে ফুঁসলিয়ে নিজের স্বার্থ আদায় করা।যার মনে যাই থাকুক না কেনো চন্দ্র নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে।

বিকেলেই চন্দ্রর যাওয়ার সব ব্যবস্থা হয়ে গেলো। প্রভা একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে দেখছে চন্দ্রকে।কোঁকড়া চুলের এই অপূর্ব সুন্দর মেয়েটা এখন থেকে আর ওর পাশে শুবে না,যেকোন সময় মন খারাপ হলে এই মেয়েটা আর গান গেয়ে শুনাবে না।
ধুমধাম করে রাগের সময় সব কিছু ভাঙবে না।যেকোনো কাজে আর সাহায্য করবে না।
বড়বড় দুটো নীল চোখ দিয়ে প্রভার দিকে তাকিয়ে বলবে না,”প্রভারে,তোর ও কেউ নেই এই দুনিয়ায়,আমারও কেউ নেই।তাই আমি তোর সব,তুই আমার সব।”
প্রভার বাবা মায়ের ডিভোর্সের পর থেকে বাবা মা কেউই প্রভাকে কাছে রাখে নি।মাঝেমাঝে এসে দেখা করে যায় দুজনেই,দুজনেই নতুন সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
ইদানীং বাবা টাকাপয়সা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।মাও প্রভাকে বলে দিয়েছে নিজের ব্যবস্থা নিজে করতে,তিনি আর পারবেন না।

এসব ভাবতে ভাবতে প্রভার চোখে জল এলো।চন্দ্র এগিয়ে গিয়ে প্রভার চোখ মুছে দিলো।প্রভা অবাক হয় মাঝেমাঝে দেখে,চন্দ্রর ওর প্রতি ভালোবাসা দেখলে।
প্রভাকে জড়িয়ে ধরে চন্দ্র বললো,”ভাবিস না কিছু প্রভা,খুব শীঘ্রই আমাদের দেখা হবে।তোকে আমার কাছে নিয়ে যাবো আমি।”

প্রভা কিছুই বুঝতে পারলো না এই কথার।চন্দ্র সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।
.
.
.
পরদিন ফজরের আজান হতেই নিষাদ ছুটলো পার্কের উদ্দেশ্যে।
সারা সকাল কাটালো পার্কে কিন্তু মেয়েটাকে আর পেলো না।

দুপুরে বাড়ি ফিরলো নিষাদ ভাঙা মন নিয়ে।

চন্দ্র রেডি হচ্ছিলো ভার্সিটির জন্য,রশ্মি তখন চন্দ্রর রুমে গেলো।
কোনো ভণিতা না করে সোজা বললো,”উকিলের সাথে কথা বলেছিস? ”

চন্দ্র ঠান্ডা গলায় জবাব দিলো,”কিসের কথা বলবো?”

রশ্মির গলা চড়ে গেলো,চিৎকার করে বললো,”কি বলবি তুই জানিস না,আমার সাথে ভান করছিস তুই চন্দ্র,চালাকি করবি না আমার সাথে তুই খবরদার। ”

রশ্মি চিৎকার করতে করতে বের হয়ে গেলো।
রেডি হয়ে চন্দ্র রশ্মির রুমের সামনে যেতেই শুনতে পেলো খালু বলছে,”এরকম চেঁচামেচি করে কাজ আদায় হবে না,কৌশলে ওর থেকে সব বের করতে হবে,আমি খবর নিয়েছি শুধু ওর মা’র নামেই আছে চারটা ৮ তলার বিল্ডিং,বুঝো অবস্থা।সোনার ডিম পাড়া হাঁস ও,উল্টো চাল চাললে হিতে বিপরীত হবে।আদর সোহাগ দিয়ে বশে আনতে হবে।”

রশ্মি কি বললো চন্দ্র আর শুনার জন্য দাঁড়ালো না।মুচকি হেসে বের হয়ে গেলো বাসা থেকে।ক্লাসের আজ দেরি হয়ে গেছে ওর অনেক।
কি আশায় বাঁধি খেলাঘর (০৪)

ভার্সিটি থেকে ফেরা সময় চন্দ্র দেখলো একটা মহিলা ৬-৭ বছর বয়সী একটা মেয়েকে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করছে।চন্দ্রর কাছে এসে বললো,”আপা,১০ টা ট্যাকা দিবেন,মাইয়াডার জ্বর,ভাত খাইতে চায় না।একটা রুটি আর চা খাওয়াইতাম।”
চন্দ্র ব্যাগ থেকে বের করে ১০ টাকার একটা নোট দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
মহিলা টাকা নিয়ে পাশের টং দোকানে গেলো।এক কাপ চা আর রুটি নিয়ে দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে মেয়েকে খাওয়াতে লাগলো।
মেয়েটা একটু খেয়ে বললো আর খাবে না।
মহিলা কেমন পরম যত্নে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কি সব বলতে লাগলো মেয়েকে,হয়তো কোনো রূপকথার গল্প বললো,অথবা বললো না খেলে এখন বাঘ আসবে

যাই বলুক মেয়েটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো মায়ের দিকে,তারপর খেয়ে নিলো।

চন্দ্রর বুকের ভিতর চিনচিন করে উঠলো একটা সুক্ষ্ম ব্যথা।
আহারে,আল্লাহ যদি তাকে এরকম একটা গরিব ঘরে পাঠাতো কতোই না ভালো হতো,ভিক্ষা করে হলেও তো মা খাওয়াতো নিজের হাতে।
না খাইয়ে রাখলে ও তো মা’কে কাছে পেতো।

চন্দ্র এগিয়ে গেলো বাচ্চাটার কাছে,বাচ্চার হাতে ১০০০ টাকা দিয়ে বললো,ঠিক মতো খেও কিন্তু,মা’কে কষ্ট দিও না।
তারপর চলে এলো।

খালামনির বাসায় ফিরতে চন্দ্রর বিকেল হলো।বাসায় ঢুকতেই দেখতে পেলো ড্রয়িং রুমে বড় খালা বসে আছে। সাথে নানী ও আছে।
চন্দ্র এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ালো। তারপর সবাইকে সালাম দিয়ে হনহনিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

রুমের দরজা বন্ধ করে বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে আছেন চন্দ্র।ভাবতে লাগলো নিজের জীবন নিয়ে।
বাবা মায়ের আদর তো ভাগ্যে ছিলোই না,সেই সাথে সাথে কারো আদরই চন্দ্র পায় নি জীবনে।জীবনে আপনজনের আদর স্নেহ,মায়া মমতা কেমন তা চন্দ্র জানে না।

কেউ কখনো দরদ মাখা কণ্ঠে চন্দ্রকে জিজ্ঞেস করে নি,ভাত খাবি না চন্দ্র।
মন খারাপের সময় কেউ বলে নি,কী হয়েছে আমাকে বল।
কেউ জিজ্ঞেস করে নি,তোর কী খেতে ইচ্ছে করছে?
প্রচন্ড জ্বরের সময় কেউ কপালে হাত দিয়ে দেখে নি জ্বর কতটুকুতে।

সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো কষ্টের সময় চন্দ্র পারে নি কখনো আকুল হয়ে মা’কে ডেকে কাঁদতে অথবা বাবাকে ডেকে কাঁদতে।
কি এক অদ্ভুত জীবন দিলো সৃষ্টিকর্তা।

বারবার মনে পড়ছে সেই ভিখারিনী মায়ের কথা।

আহারে মা!
দরদী মা!

কেনো চন্দ্রর ভাগ্যে জুটলো না এরকম একজন মা।
কেনো আল্লাহ মা বাবার আদর রাখলো না ভাগ্যে,একটা জীবন কি এরকম অনাদর আর অবহেলায় কেটে যাবে?
কান্নায় কখন যে চন্দ্রর জামা ভিজে গেলো টের পেলো না চন্দ্র।

দরজায় ঠকঠক শব্দ শুনে চন্দ্র উঠে দাঁড়ালো। নিজের চোখ মুছে দরজা খুলে দেখলো নানি আর বড় খালা দাঁড়িয়ে আছে।

চন্দ্র বললো,”ভিতরে আসেন নানি।”

ভিতরে এসে বিছানার উপর বসলো নানি আর খালা।চন্দ্র বসলো চেয়ারে।একটু পরে রশ্মি এলো রুমে।রশ্মির মুখ থমথমে হয়ে আছে।চন্দ্র ভাবলো সকালের সেই রাগ এখনো কমে নি।
অথচ চন্দ্র বুঝতেই পারে নি কি ষড়যন্ত্র চলছে তাকে নিয়ে।

চন্দ্রর বড় খালার নাম রেশমা।রেশমি চন্দ্রর হাত কোলে নিয়ে বললো,”বাহ চন্দ্র,তুই তো খুব সুন্দরী হয়েছিস।”

চন্দ্র কিছু না বলে মুচকি হাসলো।

রেশমা কিছুক্ষণ চন্দ্রর রূপের গুণকীর্তন করলো,চন্দ্রর বাবামায়ের কথা বলে আফসোস করলো।তখনও চন্দ্র বুঝতে পারলো না খালার উদ্দেশ্য। বুঝতে পারলো একটু পরে যখন খালা বললো,”বয়স তো হয়েছে তোর চন্দ্র,বিয়ে করতে হবে তো এবার তোকে।”

চন্দ্র মুচকি হেসে বললো,”সময় হলে নিশ্চয় করবো খালা।”

“না না,সময় হলে করবো সেটা কেমন কথা,তোর বাবা মা নেই,আমরাই তো তোর অভিভাবক। আমাদেরই তো ভাবতে হবে তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে। ”

চন্দ্র কিছু বললো না।

নানি বললো,”তোর বড় খালার ছেলে জাবেদ এবার চাকরি পেয়েছে,স্কুলে মাস্টারি করে।তোর খালা বললো ছেলেরে বিয়ে করাবে।আমি বললাম,অন্য জায়গা থেকে মেয়ে আনার কি দরকার,মেয়ে তো আমাদের নিজেদের আছে।জাবেদের সাথে তোর বিয়ে হলে ভালো হয়।
ঘরের মেয়ে ঘরে থাকবে।”

এবার চন্দ্রর বেশ জোরেসোরে হাসি পেলো।জোরে হেসে দিয়ে চন্দ্র বললো,”ঘরের মেয়ে কে গো নানি,আমি বুঝি?
না না,তা হবে কেনো নানি,আমি তো পরের মেয়ে,বলতে গেলে পর থেকেও খারাপ আমি।আমি তো অস্পৃশ্য একটা মেয়ে।যার বাবাকে তার মা খুন করে মা ও গলায় দড়ি দিয়েছে।আমাকে তোমাদের ঘরের মেয়ে বলো না গো নানি,ঘরের মেয়ে হলে কি সারা জীবন কাটাতে হতো আমার হোস্টেলে হোস্টেলে?”

চন্দ্রর কথা শুনে সবাই থতমত খেলো।রশ্মির মুখে সুক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠলো।

রেশমা বললো,”মা রে এভাবে বলিস না,তোর জন্য আমাদের কী কম ভাবনা ছিলো?
কি করবো বল,কেউ চায় না অন্যের মেয়েকে নিজের সংসারে রেখে বড় করতে,বিশেষ করে বউয়ের দিকের কাউকে এভাবে রাখাটা কোনো স্বামীরাই পছন্দ করে না।”

চন্দ্র বললো,”তো এখন কি খালু পছন্দ করবে বউয়ের দিকের মেয়েকে পুত্রবধূ করা?
না-কি এতোদিনে আমার সম্পদের খবর জানতে পেরেছে খালুও,তাই রাজি হয়েছে আমাকে বউ বানাতে?”

জোঁকের মুখে নুন দেয়ার মতো রেশমার মুখটা হয়ে গেলো।এতটুকু মেয়ে এতো বড় কথা বলে ফেলবে রেশমা ভাবে নি।
রেগে গিয়ে রেশমা বললো,”এসব কি বলছিস তুই?বাবা মা নেই বলে আদর করে ঘরে বউ করতে চেয়েছি,বেশি মায়া দেখাতে চেয়েছি বলে তুই যা ইচ্ছে তা বলছিস।
হোস্টেলে থাকা মেয়েরা অসভ্য হয় জানতাম,আজ প্রমাণ পেলাম।”

চন্দ্র হেসে জবাব দিলো,”তবুও তো সেই অসভ্য মেয়ের সম্পদের লোভ ছাড়তে পারলে না।”

রেশমা চলে গেলো রুম থেকে,রেশমার পিছনে রশ্মি ও গেলো।
বৃদ্ধা নানি বসে তাকিয়ে রইলো চন্দ্রর দিকে।
চন্দ্র দেখেও কোনো ভ্রক্ষেপ করলো না।

নানি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,”তেজি মায়ের মাইয়া তেজি-ই হয়।তুই একেবারে তোর মায়ের মতোই তেজি হইছস রে চন্দ্র।”

মায়ের কথা শুনতেই চন্দ্রর বুক কেঁপে উঠলো,চোখে জল এসে যেতে নিলো কিন্তু চমদ্র সামলে নিলো নিজেকে।কাউকে সে চোখের পানি দেখাতে চায় না।
আজ পর্যন্ত খুব কমই কেঁদেছে চন্দ্র কারো সামনে।

নানি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,”আমি আগেই বলছিলাম রেশমাকে এতো লোভ ভালো না।এতো বছর যার খবর নেয় নাই কেউ আজ তারে নিয়া টানাটানি,আল্লাহ যেনো তোরে একজন ভালো মানুষ মিলাইয়া দেয় বইন,আমি বুড়া মানুষ আমার কথার দাম নেই কারোর কাছে।”

চন্দ্র নরম স্বরে বললো,”নানি,তুমি তো পারতে আম্মা মারা যাওয়ার পর আমাকে তোমার কাছে রেখে বড় করতে।কেনো এভাবে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলে নানি।”

বৃদ্ধা চোখের পানি মুছে বললেন,”আমি যে মহিলা মানুষরে বইন,তোর নানার কথার উপর কখনো কথা বলে কিছু করতে পারি নি।আমি কতোবার চাইছি তোর সাথে দেখা করতে আমার একটা ছেলে মেয়ে নেয় নাই আমারে।তোর নানা ও নেয় নাই।”

চন্দ্র জিজ্ঞেস করলো,”এতো রাগ কেনো সবার আমার উপর?”

“রাগ তোর উপর না,তোর মায়ের উপর। তোর মা তোর বাপেরে বিয়া করছে প্রেম করে,সেই রাগ তোর নানা মামা খালাদের তোর মা মরার পরেও যায় নাই।তার জন্য কেউ তোকে পছন্দ করে না।তাই কেউই তোকে কাছে রাখতে চায় নি।
কিন্তু এখন যখন সবাই খবর পাইছে তোর নামে সব টাকা পয়সা তোর বাপের,তখন সবাই তোরে হাত করতে চায়।”

চন্দ্র দাঁত কিড়মিড়িয়ে জবাব দিলো,”এতো সোজা না নানি আমারে হাত করা।”

চলবে…..?
লিখা: জাহান আরা
(রিচেক দিই নি,বানান ভুল হলে সরি)
চলবে…..?

লিখা: জাহান আরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here