চাদর Subhra Roy পর্ব ৫+৬

চাদর
Subhra Roy
পর্ব ৫+৬

“…….. দুইটি পাড়া বড় ই কাছাকাছি
মাঝে শুধু একটি মাঠের ফাঁক
তাদের বনের অনেক মধুমাছি
মোদের বনে বাঁধে মধুর চাক……………..”

চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলাম। বুকের ওপর খোলা সঞ্চয়িতা। মনের ভেতর শুধুই ঘুরে যাচ্ছে শব্দ গুলো । ভেতরটা অস্থির হয়ে আছে । মানি একটু বাজারে গেছে । চোখের অবাধ্য জল তাই মুছিয়ে দেওয়ার কেউ নেই এখন। ইচ্ছে ও করছে না । জীবন টা কেমন অদ্ভুত হয়ে গেছে ।

ইউনিভার্সিটির ফাইনাল পরীক্ষা শেষ । রেজাল্ট ও বেরিয়ে যাবে কিছু দিনের মধ্যেই । সোম ওর বাবার ব্যবসায় ঢুকে পড়েছে । আমরা জানতাম এটাই হবে। তনুর সাথে বিয়ে ও ফাইনাল।সামনের অগ্রহায়ণ এ হবে। তনু কোচিং নেবে সরকারি চাকরির জন্য । রাজা পি এইচ ডি এর জন্য অ্যাপলাই করবে বিভিন্ন জায়গায় ।রিমি নেট এর প্রিপারেশন নেবে । ওরা আরও কিছু দিন পর বিয়ে টিয়ে করবে । কমবেশি সবাই কাছাকাছি ই থাকবে । রোজ না হোক অন্তত ছুটি গুলো দলছুট হবে না কেউ । আমরা যে আর একটা পরিবার । যেখানে মন খুলে কাঁদা যায়, হাসা যায় । আমাদের বাড়ির লোকেরা বলে, তোরা ছয় মূর্তি বিয়ে থা করে একটা বওওওড় বাড়িতে একসাথে থাকিস। নইলে সব কটাই অক্কা পাবে ।
সেই আমরাই আছি ।শুধু সেই ছজন আর নেই । সেই বাঁদর টা আর নেই আমার জীবনে । বাইরে যাবেন বাবু। এখানে পড়াশোনা আর তেমন হচ্ছে না ।বাড়ি র সবাই বিদেশ থেকে ডিগ্রি এনেছে ।ওনাকেউ তাই যেতে হবে । যত সব আদিখ্যেতা । মানলাম পড়াশোনায় একটু বেশি ভালো । তা বলে কি এখানে ভালো ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে না । না লাইফে স্ট্যান্ড করছে না । আমি জানি শুধু আমাকে জ্বালানোর ধান্দা । আগে বাইরে পড়তে যাওয়ার কথা হলেই এক কথায় বলে দিত, আমি কোথথাও যাচ্ছি না ।তোদের ছেড়ে, অনার সাথে ঝগড়া না করে থাকতেই পারব না ।
কিন্তু আজ দেখ তুই নিজেই তোর অনাকে ছেড়ে যাচ্ছিস। তোর একটুও কষ্ট হচ্ছে না বল ।আর যাবিই যদি এত কষ্ট দিয়ে যাচ্ছিস কেন বল? ওখানে কে তোর সাথে ঝগড়া করবে? কে তোর ওপর অভিমান করবে? কার রাগ ভাঙাবি তুই? ওহ। ভুলেই তো গেছলাম তোর কি আর লোকের অভাব? তোর প্রানের মানুষ তো আছেই যার কাছে বিদেশ যাওয়াটা জল ভাত।
ভালই হবে ।ওকে নিয়েই খুশি থাকিস তুই । ঝগড়া করিস, ভালোবাসি, আদর করিস, সব সবকিছুই ওর সাথে ই করিস তুই। আর ভালই হবে ।ওখানে আমি থাকবোনা । তোর মনের মানুষ আর কষ্ট ও পাবেনা ।আমার ওপর রেগে ও যাবে না ।
কিন্তু আমি কি করে থাকব? অনেক দিন তোর থেকে একটু একটু করে দূরে সরে যেতে চেষ্টা করেছি ।কতটা পেরেছি জানি না । কিন্তু আজ বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে রে।কত দিন তোর সাথে ঝগড়া করিনি । কিন্তু জানতাম তুই কাছেই আছিস।ইচ্ছে হলেই তোকে দেখতে পাব, ছুঁতে পাব, ঝগড়া করতে পারব। তোর সাথে কথা না বলে থাকতে আমার কতটা কষ্ট হয়েছে তুই জানিস না ।কিন্তু যা করেছি তোর জন্য করেছি। তোর ভালবাসার সম্পর্কটা যাতে নষ্ট না হয় তাই করেছি । তুই কষ্ট পেলে যে আমারও কষ্ট হয় ।এটুকু কথা তুই বুঝলি না বল। আমাকে শাস্তি দিতে চলে যাচ্ছিস তো । আমার কথা তোর একদম মনে পড়ে না বল । একদম ভুলে গেছিস তোর খেপিটাকে।তুইতো খুঁজতে আর থাকবি না এবার দেখবি সত্যি ই হারিয়ে যাব। চাইলেও আর খুঁজে পাবি না আমাকে ।তখন জব্দ হবি তুই ।

ভাবতে ভাবতে একটা ঢুকরে ওঠা কান্না উঠে এসেছিল বুকের ভেতর থেকে । হাউহাউ করে কেঁদে উঠেছিলাম। এত মেঘ বুকের ভেতর এতদিন ধরে কোথায় জমেছিল কে জানে? আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাচ্ছে যত কষ্ট ।

মানি ছুটে এসেছিল। বাজার থেকে কখন ফিরেছে বুঝতেও পারিনি । ছুটে এসে বুকে জড়িয়ে ধরে ছিল আমায় । সেই ছোট্ট বেলার মত । কি রে কাঁদছিস কেন? বাজে কোন স্বপ্ন দেখেছিস না কিরে? চোখের জল মুছে দিতে দিতে বলেছিল মানি।
হবে হয়তো, বলে আরও বেশি করে মানির কোলে মুখ ঢুকিয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ।
কেন এত কষ্ট পাচ্ছিস সোনা ।আমাকে বলবি না । আগে তো সব বলতিস মানিকে।
কিছু হয়নি মানি । সত্যি ই হয়তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছি । আসলে সবাই এবার আলাদা আলাদা হয়ে যাবে তো তাই একটু মন টা খারাপ আছে ।
সবাই তো তেমন দূরে যাচ্ছে না সোনা ।একজন ছাড়া । কি হয়েছে তোদের বল না । ছেলেটা ও আর আগের মত আর আসে না ।হইহই করে না । ঝগড়া হয়েছে তোদের ।মিটিয়ে নে না । কদিন পর চলে যাবে ।তখন দুজনেই কষ্ট পাবি। বন্ধুত্ব হারানোর জিনিস নয় রে মা সারা জীবন মনের কোনে সযত্নে তুলে রাখার জিনিস । আজ হেলায় রেখেছিস, কখনও খুজলেও আর পাবি না, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেছিল মানি।

তোমার তো কোন বন্ধু নেই মানি ।তবু তুমি এত কিছু জান কি করে ।সারাটা জীবন কি করে আমাকে নিয়ে কাটিয়ে দিলে মানি? তোমার কষ্ট হয়নি একা থাকতে ।? বিয়ে টাও করনি আমার জন্য ।
কে বলেছে আমার কোন বন্ধু নেই । আমারও বন্ধু ছিল ।ঠিক তোর মত বেস্ট ফ্রেন্ড । আসলে কি বলত আমদের জীবনে এমন একজন করে বন্ধু থাকে যে থাকলে আর কোন বন্ধু র দরকারই হয় না । আর যে না থাকলে শুধু তার সাথে থাকা মূহুর্ত গুলো নিয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় । আর এখন তো আমার ও ছটা বন্ধু আছে, বলেই হেসে ছিল মানি।
তোমার ও বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল মানি? কই কখনও তো বলনি আমাকে? শুধু শুনেই গেছ সবদিন। আজ তোমার বন্ধুর কথা বলনা মানি। তার জন্যই কি বিয়ে করনি তুমি? সারা জীবন এমন করে কাটিয়ে দিলে।

বিয়ে আমার হয় নি কে বলল তোকে । আমাদের দুটো বাড়ি পরেই বিলুদের বাড়ি ছিল ।আমার ছোট্ট বেলার বন্ধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । একসাথে পড়া, খেলা, গাছে চড়া, একসাথে বড় হয়ে ওঠা । আলাদা করে ভালবাসি বলার প্রয়োজনই হয়নি কখনও । যাকে সব কথা এমনিতেই বলতে পারি তার সাথে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সেটার নাম না দিলেও চলে । জানিস ছোট বেলায় একবার সরস্বতী পুজোর সময় শাড়ি পরে স্কুলে গেছি । ছুটতে গিয়ে শাড়ি গেল খুলে । আমার সে কি কান্না । ও নিজেও ছোট । তবু কি যত্ন করে শাড়ি পরিয়ে দিল। যদিও সেটা শাড়ি পরা বলা যায় না ।তবু ও। কবে যে একসাথে বড় হয়ে গেছি বুঝতেও পারিনি ।
তবে যে বললে বিয়ে হয়েছিল তোমার ।তবে তোমরা একসাথে থাকো না কেন?
হয়েছিল তো । তবে হঠাৎ করেই ।বলা যায় লুকিয়েই।তখন আমার কলেজের থার্ড ইয়ার চলছে । ততদিনে এটুকু বুঝে গেছলাম আমরা দুজন দুজনকে ছাড়া কিছুই না । বিলু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বাইরে গেছল।ছুটি পেলে এক দিন ও দেরি করত না ।সোজা বাড়ি ।তারপর আমার কাছে । ছোট বেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি তাই সবাই বন্ধু ই ভাবত । অন্য কিছুর কথা কারো মাথাতেই আসেনি । সেটা এক দিক থেকে আমাদের জন্য ভালোই হয়েছিল ।সবার সামনেই কথা বলতাম, ঘুরতাম । সেদিন আমার এক দিদি র বিয়ে ছিল । আমার সামনে পরীক্ষা থাকায় কলেজ বন্ধ করতে পারি নি । আমাদের বাড়ি র আর বিলুদের বাড়ি র সবাই আগেই বিয়েবাড়ি চলে গেছল। কাজ ছিল অনেক তাই । বিলু এসেছিল তখন ছুটিতে । মা ওকে বলে গেছল আমি কলেজ থেকে ফিরলে যেন আমাকে সাথে করে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যায় ।
কলেজ থেকে ফিরে স্নান করে রেডি হচ্ছিলাম । বিলু সমানে তাড়া দিয়ে যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি রেডি হ।নইলে বিয়ে তো শেষ হবেই খাবার ও শেষ হয়ে যাবে ।রেগে গিয়ে শাড়ি টা পরেই বেরিয়ে এসেছিলাম আমি ।নে আর সাজব না।এমনই যাব। তাতে লোক যদি পেতনি বলে তো বলুক। ওমা আমাকে রাগতে দেখে কি হাসি ছেলের। আমি রেগে মেগে ঘরে ঢুকে বসে পড়েছিলাম । হাসতে হাসতে ভেতরে এসেছিল ছেলেটা ।বলেছিল, রাগলে তোকে ভারি মিষ্টি লাগে । এই রাগ টুকু দেখার জন্য কতকিছু করতে হয় আমাকে ।নে তাড়াতাড়ি চল ।নইলে কাকিমা ভাববে তার মেয়ের ই বিয়ে হয়ে গেল ।

একটু দেরি ই হয়েছিল ।ওর হাতটা ধরে আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলাম । রাস্তার ধারে একটা আম বাগান ছিল ওখানে ।হঠাৎ করে হাত টা ধরে টেনে নিয়ে গেছল ভেতরে । কেমন যেন উসখুস করছিল । হঠাৎ আমার কোমরটা ধরে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল । কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলেছিল, আজ তোকে একদম আমার বৌ এর মত লাগছে । মনে হচ্ছে আমি ই তোকে বিয়ে করে নিয়ে চলে যাই।শুধু একটা জিনিস ই নেই । কি? কোন মতে বলেছিলাম আমি । এইটা বলে একটা কাগজের মোড়ক বের করে ছিল পকেট থেকে । হালকা জ্যোৎস্নাতেও বুঝতে পেরেছিলাম ওটা সিন্দুর। আলতো করে এক চিমটি নিয়ে চুল সরিয়ে ভেতরে পরিয়ে দিয়েছিল । আজ এমনি দিলাম ।আর একদিন ধুমধাম করে সবার সামনে পরাব ।আজ থেকে তুই সাত নয় প্রতিটা জন্মের জন্য আমার হলি ।কেউ তোকে আমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারবে না দেখিস । চোখ বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি ।এত কাছের এত নিজের আগে কখনো কাউকে লাগেনি ।ওকেও না । আরও কাছে এসে মুখটা দুহাতে ধরে সারা মুখে পাগলের মত আদর করেছিল । তারপর বুকের ভেতর চেপে ধরে বলেছিল, এবার চল ।সবাই চিন্তা করবে । আমার একটুও যেতে ইচ্ছে করছিল না জানিস ।মনে হচ্ছিল এমনি করে ই যদি সারাটা জীবন কেটে যায় ।
তারপর মানি?
তারপর আস্তে আস্তে দিন কাটছিল । দিদির সঙ্গে তোর বাবার বিয়ে হল। তুই এলি আমাদের জীবনে ।হাসিতে আনন্দে ভরে গেছল আমাদের জীবন ।বিলু ভালো চাকরি ও পেয়েগেছল জানিস। দু বাড়ির কেউ ই আমাদের সম্পর্ক টা না মানা হয়নি ।বিয়ের দিন ও ঠিক হয়ে গেছল আমাদের ।কি খুশি ছিল ছেলেটা । হঠাৎ জামু মানে তোর বাবারএকটা কনফারেন্স এর কাজে
ছ মাসের জন্য দিল্লি যাওয়ার দরকার পড়ল। দিদি ও যাবে জামুর সাথে । তুই তখন ছোট । বাইরে একা দিদি সামলাবে তোকে কি করে । তাই ঠিক হল কমাসের তো ব্যাপার।তুই আমাদের কাছেই থাকবি। তখনও কেউ জানতাম না রে তোকে সারা জীবনের জন্য রেখে গেল ওরা । যাওয়ার পথেই অ্যাকসিডেনট হয়েছিল গাড়িটার । ভেঙে পড়েছিল বাড়ির সবাই । আমি ফোন করে হাউহাউ করে কেঁদে ছিলাম । আমাকে ভরসা দিয়েছিল । বলল ছুটি নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসছে । তোর কথা ভেবে যখন কেঁদে ফেলেছিলাম আমাকে বলেছিল, ওকে আমরা আমাদের নিজেদের মেয়ে র মত মানুষ করব। এত কষ্টের মাঝেও মজা করেছিল, হ্যাঁ রে বিয়ের আগেই এত বড় মেয়ের বাবা হয়ে গেলাম ।বিরাট ব্যাপার বল।
তাহলে তোমরা একসাথে কেন নেই মানি?
চোখ টা মুছে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল মানি,।যেন অনেক দূর থেকে অনেক কষ্ট চেপে বলেছিল, পরদিন ই ছুটি নিয়ে আসছিল জানিস । ভিড় ট্রেনে সামলাতে পারেনি ।পা টা স্লিপ করেছিল। এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেছল আমার । খবরটা শুনে এক মূহুর্তে নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম । সেটাও পারিনি ।বেঁচেই ফিরে এসেছিলাম। শুধু দাগ টুকু রয়েগেছে শরীরে । ছোট থেকেই মানির বাঁ হাতে দাগটা কতবার দেখেছি । কখনও মনেও হয় নি যে কত কষ্ট থাকতে পারে একটা দাগের পেছনে ।
জানিস মাঝে মাঝে মনে হয় আমাকে ওই বাঁচিয়ে দিয়ে গেছল তোর জন্য ।তোকে খুব ভালবাসত ছোট থেকে । তুই যখন হলি চুপিচুপি আমার কানে বলেছিল, আমার ও এমনই একটা মেয়ে চাই ।
তাই তুমি সারাটা জীবন আমাকে দিয়ে দিলে। একবার ও মনে হয়নি নতুন করে বাঁচি?
আজ তোর মা থাকলে এভাবে বলতিস? জানিস এমন কিছু পুরনো মানুষ থাকে যারা তোর জীবন টা এমন ভাবে ভরিয়ে রাখে যে তুই একলা হওয়ার অবকাশ টুকুও পাবি না । বিয়ে র কথা অনেক বলেছিল সবাই ।কিন্তু পারিনি জানিস। আসলে প্রয়োজন হয় নি । ঐ একটা মানুষ এতটা ছিল আমার কাছে যে আজও অন্য কারোর দরকার পড়েনি । আর যার কাছে সব জন্ম গুলো ই বাঁধা রয়েছে এই জন্ম টা তার সপ্ন নিয়েই কেটে যাবে ।আসলে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল তো ।রক্তের সাথে মিশে থাকা একটা ছোঁয়া ।
হঠাৎ কেন জানি না দীপের কথা মনে পড়ে গেল ।মনে হল এক ছুটটে গিয়ে জড়িয়ে ধরি।
জানিস দীপ কে দেখে ওর কথা মনে পড়ে । ওর মতই বিচ্চু ছিল ।আবার অমনি করেই রাগ ভাঙাত আমার । তাই বলি জোর করে দূরে থাকিস না । সব সম্পর্কের নাম হয় না। নাম না জানা বনফুলের মত মিষ্টি হয় সম্পর্ক গুলো । সবাই পায় না । কাল ছেলেটা আসবে বলেছে। কি দরকার আছে বলল। কাল আর রাগ করিস না । মানি আস্তে আস্তে উঠে গেছল ।একটু সময় একটু একা হওয়া দরকার মানির । অনেক দিনের চেপে থাকা লাভা আজ বেরিয়ে পড়েছে ।ঠান্ডা হতে একটু সময় লাগবেই। হঠাৎ খুব ইচ্ছে করছিল দীপকে একটা ফোন করি ।মনে হচ্ছিল ওর আওয়াজ এখুনি না শুনলে হয়তো মরেই যাব । তখনই বেজে উঠেছিল ফোনটা । দীপ কলিং। বুকের ভেতর টা ধড়াস করে উঠেছিল । একেই কি বলে টেলিপ্যাথি না মনের টান নাকি জন্মের?

পর্ব ৬

প্রথমবার ফোন টা বাজতে বাজতে কেটে গেছল। পরের বার ফোন টা বাজতেই ধরেছিলাম। অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসছিল চিরাচরিত বকুনি, ফোনটা ধরছিলি না কেন? বলেছিনা আমার ফোন একবারে ধরবি ।চিন্তা হয় আমার । তোর খুব বাড় বেড়ে গিয়েছে অনা ।মার পড়লে সব ঠিক হয়ে যাবে । আজ বিকেলে যাচ্ছি তোর ওখানে । পালাবি ও না । কাজের বাহানাও দিবি না আমি গিয়ে যেন দেখি বাড়িতেই আছিস। নইলে আজ তোর কি হবে দেখবি। কি রে শুনছিস না ঘুমিয়ে গেলি।

না রে শুনছি বল।থাকব আমি ।

সেই মহারানির যেন থাকা হয় বাড়িতে ।নইলে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জন্য তুই দায়ি থাকবি । অনেক রাত হল রাখছি এবার ।
বলে ফোন টা রেখে দিয়েছিল দীপ। আর আমি চুপ করে বসে ছিলাম । এত জোর পায় কি করে ছেলেটা । এত অধিকার ফলায় কার ওপর? কে হই আমি ওর? সত্যি ই কি সব সম্পর্কের নাম হয় না । নাম না জানা সম্পর্ক গুলো এত সুন্দর এত আপন কেন হয়?

সেদিন সারা টা রাত মানির বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে ছিলাম । মনে হচ্ছিল যেন শুধু মানি নয়, তারার দেশে আরও একজন মানুষের ছোঁয়া পাচ্ছি । ভেবে নিয়েছিলাম নাম দেওয়া সম্পর্কে হয়তো পাবনা পাগলটাকে । তবু যেটুকু আমার সেটুকু কারো জন্য হেলায় হারাব না । যে বুঝবে না সেটা তার সমস্যা । আমি তো ছেড়ে ই দিয়েছিলাম পাগলটাকে ।ও তো আমাকে ছাড়েনি । এক মুহুর্তের জন্য চোখের আড়াল করেনি । নিজের থেকে দূরে রাখে নি। তবে কেন শুধু কেউ একজন খারাপ ভাববে বলে আমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু কে দূরে রাখব।
ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতেই পারিনি ।

আজ বিকেলে আবার সব দজ্জাল গুলো আসবে হাড় জ্বালাতে । কিছু একটা প্ল্যানিং চলছে সবার মধ্যে ।সবাই জানে শুধু আমি জানিনা । সেই ছোট্ট বেলা থেকে সব কটাকে জানি । আমি না করব এমন কিছু করবে আর আমাকে জপাতে এখানে ঘাঁটি গাড়বে। সব বুঝতে পারছি শুধু কারন টা বুঝতে পারছি না । মানি ও সকাল থেকে বিন্দাস মুডে আছে । গান করছে । বিরিয়ানি হবে তার প্রস্তুতি চলছে । এটা আমাদের সবার ফেভারিট । কিন্তু ছেলের জন্য স্পেশাল বাটার চিকেন আর পায়েস ও হচ্ছে । গাধা টাকে পেলে মানি আমাকেও ভুলে যায় ।

ঠান্ডা র শেষে অসময়ের ভাইরাল ফিবার এর মত মন খারাপ টা আবার ফিরে এসেছে । সব কটা বন্ধু ছিটকে যাবে । গাধা টাতো কত্ত দূরে চলে যাবে । আর আমার রাগ করার, ঝগড়া করার জন্য কেউ থাকবে না । কেউ আর সময়ে অসময়ে এসে আমার ঘরে হামলা চালাবে না, রাগ ভাঙাবে না, আদর করে খাইয়ে দেবেনা, কেউ আর কোনদিন ঝগড়া করে আমাকে বাঁদরি বলে যত্ন করে খোঁপায় মালা আটকে দেবে না । এতগুলো না নিয়ে আমি এখানে থাকব কি করে রে বাঁদর? ভেবেছিস কখনও । ভেবেছিস কখনও কি করে বুকের ভেতর থেকে মুছে দেব টিউশনির আড্ডা গুলো, হুল্লোড় এর বিকেল গুলো ।, আইসক্রিম খাওয়া, লং ড্রাইভের ছুটি গুলো, আবোল তাবোল বকে জেগে থাকা রাত গুলো ।এত কিছু কি করে ভুলতে পারব? আদৌ কি ভোলা যায় ।অবশ্য এক দিকে ভালো ই হবে আর জোর করে দূরে থাকতে হবে না আমাকে । এমনই তুই দূরে থাকবি। আজ বাদে কাল তোর আর বিদিশা র বিয়ে হবে । তখন তুই এমনই দূরে চলে যেতি, তার থেকে এই ভালো । তবে এই কদিন আমি আর কোন রাগ করব না । কোন ঝগড়া করব না । এই কদিন আমরা কজন সেই আগের মতোই হয়ে যাব । এই কদিনের স্মৃতি, এক একটা মূহুর্ত জমিয়ে রাখব বুকের ভেতর । দীপের জায়গাটা কখনও কাউকে দিতে পারব না আমি জানি । শুধু নাম না জানা ফুলের গন্ধের মত জড়িয়ে থাকা এই জীবনটা আমি নাচ আর মানিকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারব । মানি তো বলেই, আমাদের সবার জীবনে এমন একজন করে মানুষ থাকে যাকে না পেলেও তার স্মৃতি টুকু নিয়ে একটা নয় হাজার টা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় । নিজেকে আর অন্য কাউকে দিতে ইচ্ছে করে না । মনে হয় অন্য কারোর জিনিস দিয়ে দিচ্ছি । পাগলা টা না হয় আমার জীবনের সেই অচেনা ফুলের গন্ধ হয়েই থাক।

হইহই করে এক গাদা খাবার নিয়ে সন্ধ্যা হতে না হতে চলে এসেছিল মর্কট টা। এসে আমাকে একবার হ্যালো পর্যন্ত বলল না সোজা মানির কাছে । আমার ওপর সোধ তোলা হচ্ছে । করুক যা ইচ্ছে । বেশি তেল হয়েছে । আমাকে থাকতে বলে এখন আর কোন কথা নেই । আচ্ছা আমি ও দেখাচ্ছি মজা । আর মিনিট কুড়ি দেখব । এলে ভালো নইলে আমার ও কাজ আছে । বেরিয়ে যাব আমি । বাকি গুলোর আসতে দেরি হবে ।সব রাতে খাবে তো। ইচ্ছে হলে থেকেও যেতে পারে । আমি একটা বই নিয়ে পড়ছিলাম। অবশ্য পড়ছিলাম বললে মিথ্যে বলা হবে । বই খুলে কান পেতে বদমাইশ দুজনের কথা শুনছিলাম ।

এত খাবার কেন এনেছিস। আমি যে এত রান্না করছি তার কি হবে? না খেলে সব কটাকে পেটাব আমি ।

ও মানি শুধু কটা কাটলেট আর ফিসফ্রাই এনেছি। সবাই মিলে চা দিয়ে খাব। রাতে তো জমিয়ে খাব তোমার রান্না । তুমি কি ভেবেছ । কিছুই পড়ে থাকবে না দেখবে । এত গুলো পেটুক আছি আমরা । এখন একটু আদর কর তো ।কত দিন তোমার আদর খাই না । সব শুধু তোমার মেয়ে র জন্য তুলে রাখ । আমাকে আর একটু ও ভালবাস না ।

হুম। বুড়ো গাধার আদর খাওয়া হচ্ছে । নার্সারি র বাচ্চা না কি যে আদর খাবি । শুনে মনে মনে গাল দিচ্ছিলাম আমি । হিংসুটে কোথাকার । না অনেকখন বসে আছি । কেউ আমার খোঁজ নেয়নি । না বেরোই একটু । কটা বই আনতে বলেছিলাম দোকানে । আজ যেতে বলেছিল। আজ ভাবলাম যাওয়া হবে না । কিন্তু আমার তো এখানে কোন কাজ ই নেই । তাহলে বরং ঘুরেই আসি । ততক্ষণে ওরা সব চলে আসবে ।

মানি আমি একটু ঘুরে আসছি, বলে বেরোতে যাব, হঠাৎ করে লোডশেডিং । যাহ বাবা, বলে আবার বসে পড়লাম আমি ।
দাঁড়া কারেন্ট আসুক তার পর যাবি বলেছিল মানি। ইনভার্টার টা কদিন আগেই খারাপ হয়ে গেছে । মিস্ত্রি কে
ফোন করা হয়েছিল বলল দু দিন পরে আসবে ।এখনো তার দু দিন হয়নি । কাল আর একবার ফোন করতে হবে । ভাবতে ভাবতে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম । এই জানালা টা থেকে অনেক দুর দেখা যায় । হঠাৎ হঠাৎ এরকম অন্ধকার ও ভালো লাগে । কেমন যেন নিজের ভেতর নিজে একলা হওয়া যায় । পূর্ণিমা কদিন আগে পেরিয়ে গেলেও আলো এখনও রয়েছে । হালকা জোছনা ভেজা এই আলোয় চেনা সবকিছুকেই কেমন অচেনা লাগে ।
কি রে রাগ হয়েছে না কি মহারানির? এখানে একা দাড়িয়ে কি করছিস?
হঠাৎ করে অন্ধকারে পেছন থেকে কথাটা শুনে চমকে গেছলাম ।
বাঁদর টা এখন এসেছে জ্বালাতে। এতক্ষণ তো পাত্তা ও ছিল না।
না রে রাগ হবে কেন? এমনই দাড়িয়ে আছি । কটা বই আনতে বেরবো । আর তখনই লোডশেডিং টা হতে হল । আর সময় পেল না ।
তো আজ তো তোকে বেরতে বারন করলাম না । তাও কেন যাবি? কথা না শোনার অভ্যেস টা তোর কবে যাবে?
আমি কেন তোর কথা শুনতে যাব? তোর নিজের লোককে শোনাবি যা। আমার যা ইচ্ছা তাই করব বুঝেছিস।
না যা ইচ্ছা তাই করবি না । আমি যা বলব তুই তাই করবি বুঝেছিস। একটাও বাজে কথা বলবি না । আর নিজের লোক কি রে? আমি তোর কেউ নই? তুই আমার নিজের লোক নোস, হঠাৎ করে আমাকে জানলার সাথে চেপে ধরে আস্তে আস্তে বলেছিল দীপ।
কি উত্তর দেব আমি । এই প্রশ্নের কি কোন উওর হয় । যে আমার সব, আমি তার কে হই এর কি উওর হওয়া উচিত ।
না নই।আমি শুধু তোর বন্ধু আর কিছু না । ধীরে ধীরে বলেছিলাম আমি । বুকের ভেতরে একটা হাতুড়ি সমানে ঘা মেরে যাচ্ছিল । তু ই আমার কে, তুই আমার ঠিক কতটা তুই সেটা বুঝবি না। আমি চাই ও না বোঝাতে । তুই খুশি আছিস আমার তাতেই আনন্দ নাই বা সেখানে আমি থাকলাম । কিন্তু তুই যদি এমনি করিস আমি কতক্ষণ ঠিক থাকতে পারব? আমার খুব কষ্ট হয় তুই কাছে এলে । তবু কেন আসিস? কেন কষ্ট দিস আমাকে? ভাবতে ভাবতে চোখ বন্ধ করে দিয়েছিলাম আমি । এত কাছে দাড়িয়ে আছে পাগল টা । ওর নিশ্বাস পড়ছে আমার গায়ে ।ওর বুকে প্রতিটা ওঠা নামা অনুভব করতে পারছি ।তবু আমি ছুঁতে পারবনা ওকে ।ওযে অন্য কারো । আমি কষ্ট পেতে পারি কিন্তু কারো বিশ্বাস ভেঙে সারাটা জীবন বাঁচতে পারব না ।
হঠাৎ করে কারেন্ট চলে এসেছিল। আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার হাত দুটো ধরে খাটে বসিয়ে ছিল দীপ।
দেখ আর কদিন পর তো চলেই যাব ।এই কটাদিন আমার ওপর ঝগড়া, রাগ নাই বা করলি। তোকে খুব মিস করব রে । বলে কোলে মুখ টা গুজে দিয়েছিল । বুঝতে পারছিলাম আমার আয়রন ম্যান কাঁদছে । আমার ইনজেকশন নিতে খুব ভয় লাগে । একবার হাত কেটে গেছল আমার ।ডাক্তার বলেছিল ইনজেকশন নিতে । সে কি কান্না আমার । আমাকে চেপে ধরে ইনজেকশন নেওয়া করিয়ে ছিল । আমি বলেছিলাম, তোকে তো নিতে হবে না ।তাই তোর লাগবেও না । আমাকে দেওয়াচছিস কেন? আমার লাগে । আমি নেব না ।
আমাকে বলে কিনা, তুই কাঁদুনি বুড়ি প্লাস ভিতুর ডিম তাই এমন কাঁদছিস। আমি আয়রন ম্যান । তাই আমার লাগেও না আর আমি কাঁদিও না ছিচ কাঁদুনি বুড়ি র মত। কথা বলতে বলতে কখন যে ইনজেকশন দেওয়া হয়ে গেছে বুঝতেও পারিনি ।
আর আমার সেই আয়রন ম্যান আজ আমার কোলে মুখ গুঁজে কানছে। কি রে এবার তোকে সবাই কাদুনে বুড়ো বলবে । ভাগ্যিস বিদিশা আজ আসবে না । নইলে ভাবত তার কুল বয়ফ্রেন্ড নার্সারি র বাচ্চা র মত কাঁদে । নে ওঠ এবার ।সবাই চলে আসবে ।আর ভাববে আমি তোকে মেরেছি ।মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেছিলাম আমি । আবার নতুন করে বুঝছিলাম ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব র মধ্যে তুলনা করা যায় না ।তুলনা হয় ও না । ভালোবাসা ছাড়া ও হয়তো একটা মানুষ বাঁচাতে পারবে কিন্তু বন্ধু ছাড়া জীবন বড্ড বেশি ফাঁকা ।

একটু পরেই সবকটা এসে হাজির । হইহই করে আড্ডা চলতে লাগল । মনে হচ্ছিল যেন কিছুই হয়নি । কারো কোথাও যাওয়ার নেই ।আদি অনন্ত কাল ধরে রয়েগেছে এই মুহূর্ত গুলো । মনে হচ্ছে সেই আগের মতোই চলছে সবকিছু । কাউকে দেখে মনেই হচ্ছে না সবকটা এত বড় হয়ে গেছে । মনে হচ্ছে এই তো স্কুল শেষ হল।এইতো এবার কলেজ শুরু হবে । কথা গুলো মনে আসতেই বুকের ভেতর টা মচড়ে উঠছে বারবার ।

খেতে বসে আসল কথাটা বেরিয়ে এলো । যে কথাটা শোনার জন্য আদোও প্রস্তুত ছিলাম না আমি । রাজি হওয়া তো দূরের কথা ।

দীপের আসল বাড়ি এখানে নয় । ওদের বিরাট ফ্যামিলি। বিরাট বাড়ি । অনেক ব্যাবসা ওদের । এখনকার মত নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি নয় ওদের ।পুরো জয়েন্ট ফ্যামিলি ।এখনো রোজ পঞ্চাশ ষাট জন লোকের পাতা পড়ে ওদের বাড়িতে । নিজেদের ঠাকুর দালান আছে ।প্রতি বছর দুর্গা পুজো হয় । ওর বড় পিসির কোন ছেলে মেয়ে হয়নি । তার ওপর দীপের বোন হওয়ার পর ওর মা এর শরীর হঠাৎ করেই খুব খারাপ হয়ে যায় । এদিকে বাচ্চা টা সবে হয়েছে । ওকে তো আর মা ছাড়া করা যেত না । তাই ওর পিসি ওকে কিছুদিনের জন্য নিয়ে এসেছিলেন ।কিন্তু সেই একবছরেই ও এখানে এত কিছু পেয়ে গেছল যে আর ফিরে যেতে চায়নি । বাড়িতে কারো আপত্তি ছিল না । একে তো দীপের মা এর শরীর খারাপ তার ওপর ওর বোন ছোট । আর একজন সন্তান হীন নারী নতুন করে জন্ম লাভ করল দীপের মামনি হয়ে । এতে কারো কোন ক্ষতি হয় নি । ছুটি পেলেই দীপ বাড়ি যেত ।পূজার সময় তো যেতই।ওর বাড়ি র সবাই আসত এখানে । তবে অত বড় বাড়ি অত কাজ ফেলে ওরা খুব একটা আসতে পারত না ।
দীপের খুব ইচ্ছে ছিল একবার অন্তত আমাদের সবাইকে ওদের বাড়ি র পূজো দেখাতে নিয়ে যাবে ।কিন্তু ছোট বেলায় বোর্ড পরীক্ষা আর বড়ো হওয়ার পর পূজোর সময় টুকুই পরিবারের সাথে সবাই কোথাও না কোথাও যেত বলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি । কিন্তু এবারের কথা আলাদা । এবার সবাই কোন না কোনভাবে আলাদা হয়ে যাচ্ছে ।চাইলেই আর এভাবে একসাথে হতে পারবে না । তাই দীপ চায় এবারের পূজোটা সবাই যেন ওদের বাড়িতে কাটায় । কারো না করার কোন কারণ ছিল না ।তাই কেউ যাব না বলেও নি। বরং সবকটা নাচতে যাওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া । মানি কেও যাবার জন্য জপাচছিল। কিন্তু মানি মামাবাড়ি যাবে প্রতিবারের মত। যদিও এত সহজে ছাড়া পেত না ।ছুটিতে দীপ এলে নিশ্চয়ই ওর সাথে ওর বাড়ি যাবে প্রমিস করে ছাড়া পেয়েছে ।
কিন্তু আমার কি হবে? মানি তো এককথায় বলল, ও যাবে । কিন্তু আমি যাব কি করে? মানি কে আড়ালে একবার ডেকে বললাম ও, যে আমি যাব না ।আমি ও তো মামাবাড়ি যাব।প্রতি বছর তো আমিও যাই। তো আমাকে বলে কিনা, মামাবাড়ি তো থাকলই ।না গেলে দীপের মন খারাপ হয়ে যাবে ।
একেই বলে মা এর চেয়ে মাসির থুড়ি মেয়ে র চেয়ে পাতানো ছেলের দরদ বেশি ।
যেতে কি আর আমারই ইচ্ছে করছে না? কিন্তু ভয় লাগছে । একে তো বিদিশা থাকবে । তার ওপর গাধা টার তো কোন আক্কেল নেই । কার সামনে কি করে বসবে তখন আবার সব ভুল বুঝবে । গাধা তো আর বুঝবে না মানুষ সোজা জিনিস কে সোজা ভাবে দেখতে পারেনা ।

কিন্তু যেতে আমাকে হবেই। সব কটা ছিনে জোঁকের মত পেছনে লেগে গেছে ।মানি ও সমানে বলে যাচ্ছে । এবার শুরু হল ইমোশনাল অত্যাচার । সব কটা সুর করে বলে চলেছে, দেখ সবাই কত দূরে দূরে চলে যাবে ।সেই কখন ছুটি পড়বে তবে দেখা হবে ।চল না ।কটা দিনের তো ব্যপার। আবার দীপ শুরু করেছিল, তুই বলেছিলি আর ঝগড়া করবি না ।আমার সব কথা শুনবি । আমার শেষ কথাটা রাখবি না ।কত দূর চলে যাচ্ছি আমি।

শেষ কথাটা শুনে মাথাটা যতটা ঠান্ডা হয়ে ছিল ততটাই গরম হয়ে গেছল। রেগেই বলেছিলাম, যেতে যে আমাকে হবেই সে তো বুঝতেই পারছি। আর শেষ কথা কি করে? শেষ কথা তোর দিনে কটা থাকে? এভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে আর কতদিন আর কত কথা শোনাবি ? তোকে কি আমি লাথি মেরে বাইরে পাঠাচ্ছি তুই নিজের ইচ্ছায় যাচ্ছিস ।

শয়তান টা মুচকি হেসে বলে কিনা, সারাজীবন সব কথা শোনাবো ।

মার রে কেউ শয়তানের বাচ্চা টাকে বলে মারতে গেছলাম আমি ।
এই বাবা তুলে গালি দিবি না ।বলেছিল দীপ।
মানি মাথায় হাত দিয়ে বলেছিল, আবার শুরু হল।এরা কি কখনও বড় হবে না ।
সবাই হেসে উঠেছিল একসাথে ।

তৃতীয়ার দিন যাওয়া হবে ঠিক হল। খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পড়ল। থাকতে বললাম । সবাই বলল যাওয়ার আগের দিন সব কটা এখানে থাকবে ।

ওরা চলে গেছে কিছুক্ষণ হল। দীপ টা মানি কে কি সব হেল্প করছে জানিনা আমি । এসব ব্যাপারে ওই মানির হেল্পিং হ্যান্ড । আমি কোন কম্মেরই নই। গান চালিয়ে একটা বই নিয়ে বসেছি হঠাৎ আবির্ভাব তেনার। কিনা ওনার ফেভারিট গান চলছে একটু ডান্স বনতা হে। নাচ টাচ করলেও আমি একটু গোলগাল আয়েসি বান্দা । খেয়ে উঠেই এই সব লম্ফ ঝম্প আমার পোশায় না ।কিন্তু যার কথা শোনার অভ্যাস নেই তার সাথে কি পারা যায় ।একটু নেচে বসে পড়তেই প্যাক মারা শুরু, বাঁদরি আরো মুটকি হয়ে যাবি ।একটু পাতলা হ।নইলে তোর জন্য আর বর পাওয়া যাবে না।বরাহ আনতে হবে ।
তবে রে বলে মারতে যেতেই সোজা হাত দুটো দিয়ে পেঁচিয়ে লক আমি।
এই জন্য তোকে রাগাতে এত ভাল লাগে ।চল আইসক্রিম খেতে যাবি? কতদিন যাইনি ।
এত রাতে?
কেন যাসনি যেন আগে কখনও?
আচ্ছা চল তোর সাথে কে পারবে ।

মানি কে বলে বাইক নিয়ে আইসক্রিম খেতে গেছলাম । রাত একটু হয়েছিল । তাই একদম ফাঁকা না হলেও খুব একটা ভিড় ছিল না । আইসক্রিম পার্লারের থেকে একটু দূরে গাড়ি টা ডবল স্ট্যান্ড দিয়ে রেখেছিল । আমি চেপে বসেছিলাম ওতে। আর দীপ আইসক্রিম আনতে গেছল ।

এই নে তোর কর্নেটো আর ভ্যানিলা আইসক্রিম । আমি কখনো একটা আইসক্রিম খাই না ।এই দুটো ফ্লেভার একসাথে খাই।
তুই চকলেট আইসক্রিম নিলি আমাকে এক কামড় দে, বলেছিলাম আমি ।
কি হেংলু রে তুই । দুটো খাচ্ছিস তাও হবে না ।আমার টাও খাবি।এবার ফুটবল হয়ে যাবি ।বলেছিল দীপ।
বেশ খাব না যা।রাগ হয়েছিল আমার ।সব সময় গাধা টা এমনি করবে ।
আচ্ছা বাবা আর বলব না ।নে খা । বরং আমি তোর কর্নেটো টা খাই একটু দে ।
না দেব না । বলে টানাটানি করতে গিয়ে হঠাৎ আমার ঠোঁটে মুখে আইসক্রিম লেগে গেছল।
হি হি করে হাসছিল দীপ । আমার খুব রাগ হয়েছিল ।রুমাল ও আনিনি ।কি করে মুছব বুঝতে পারছিলাম না ।
হাত দিয়ে মুছতে যাচ্ছিলাম ।হঠাৎ হাত টা ধরে নিয়েছিল। আজব ভাবে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে ।হঠাৎ ঠোঁট দুটো নেমে এসেছিল আমার ঠোঁটের ওপর। আইসক্রিম খাব বলেছিল ।কিন্তু…………

দীপ আমার চিরদিনের চেনা । সেই কোন ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছি ।কত রাগ করেছি, অভিমান করেছি । কত রকম ভাবে কত আদর করে অভিমান ভাঙিয়েছে । কিন্তু এমন পাগলামি তো কোনদিন করেনি । কেন এমন করলি ।যখন থেকে নিজেকে বুঝেছি তবে থেকে তোকে চেয়েছি । কিন্তু তুই তো চাসনি ।তুই তো অন্য কারো ।তবে কেন আজ এমন পাগলামি করলি। আমার চোখ কি তবে না চাইতেও তোকে কিছু বলেছিল।যার জন্য তুই এতটা এগিয়ে গেছিস। কিন্তু তুই যে এমন নোস। তোকে আমার চেয়ে বেশি আর কে চেনে বল? তবে তুই এমন কেন করলি? আজ প্রথম তোর ছোঁয়া য় একটা অচেনা স্পর্শ ছিল। না কি সব আমার মনের ভুল ।ভুল টা ভুল করে ই হয় । মূহুর্তে র আবেগে ভুল হতেই পারে । তবে সেটাকে সত্যি ভাবার কোন কারণ নেই ।
অন্য কারো জিনিস নেওয়ার নীচ মানসিকতা আমার নেই। কিন্তু আজকাল আমার সবদিনের চেনা চোখ গুলো ও বড্ড অচেনা লাগে । আর এই জন্যই ওদের বাড়ি যেতে চাইনি আমি । বিদিশা এই প্রথম ওদের বাড়ি যাবে । আমি চাইনা তার আগে কেউ আমার সাথে দীপের সম্পর্কটা নিয়ে ভুল জানুক । বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে নোংরা চোখে দেখুক ।

অনেকখন চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম দুজনে । চল, বাড়ি চল–আস্তে আস্তে বলেছিল দীপ। দুজনেরই বুকের ভেতর হাজার কথা বেরিয়ে আসতে চাইছিল ।বুঝতে পারছিলাম । কিন্তু একটা শব্দও বেরিয়ে আসে নি মুখ থেকে । যেটা হয়েছিল সেটার জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলাম না । তবু যা ক্ষণিকের সেটা ভুলে যাওয়াই ভালো । নইলে জীবনে এগিয়ে যাওয়া যায় না । আমাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আর দাড়ায় নি । ঘরে এসে শুয়ে পড়েছিলাম । আজ আর ঘুম হবে না । জানতাম আর একজনও জেগে থাকবে আজ। শুধু আমাকে আর ফোন করে মনের সব কথা সারারাত ধরে বলতে পারবে না ।সব দিনের মতো ।

কতটা সুক্ষ রেখা টানা থাকে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার মাঝে । এতটাই কি হালকা যে দাগটা পেরিয়ে গেলেও বোঝা যায় না । তাই কি মানুষ বন্ধুত্ব করতে এত ভয় পায় ।এত ভয় পায় বন্ধুত্ব হয়ে গেলে তাকে হারাতে ।কেন এমন হয় কোন কোন বন্ধু এমন হয়ে যায় যাকে ছাড়া সব কিছুই ফাঁকা লাগে । কে দেয় এত ঝগড়া, অভিমান, ভালবাসার অধিকার? যে না থাকলে জীবনটা কি হবে ভাবতেও ভয় লাগে । বন্ধুত্বকে ভালবাসার সাথে মেশাই না । কিন্তু বন্ধুত্বের পেছনে গুটি সুটি মেরে কেউ যদি আসে? যদি আর একটু বেশি করে চায় নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে সেটা কি দোষের । তাতে কি বন্ধুত্ব কে ছোট করা হয়? ভালবাসা ছাড়া বেঁচে থাকা যন্ত্রণার । কিন্তু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড ছাড়া বাঁচা, সেটা কেমন হবে? আদৌ কি সম্ভব সেটা ।জানিনা । কেন এরকম করছি আমি।কি করে আজ এমনটা করতে পারলাম আমি? কি করে ওর বিশ্বাস টা ভাঙতে পারলাম? এর থেকে আমি মরেও তো যেতে পারতাম । আমি যাব কি করে ওর সামনে? খেপি টার সাথে কথা না বলে থাকব কি করে আমি? সব দোষ বিদিশা র । ও যদি সেদিন ওরকম না করত তাহলে আজ হয়তো এরকম কিছু হত না । প্লিজ অনা ভুল বুঝিস না আমাকে । আমার থেকে দূরে সরে যাস না । তোকে ছেড়ে আমি থাকতে পারব না । কেঁদে ফেলেছিল দীপ। ভাবতে ভাবতে বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়েছিল।

তুমি সব সময় কেন এত অনা অনা কর । খারাপ লাগে আমার বোঝ না । তোমার আমার জন্য কোন কথা নেই না তোমার, রাগ করে বলেছিল বিদিশা ।
ওভাবে বোল না প্লিজ । আসলে সেই ছোট থেকে আমরা সবাই একসাথে । অনেক স্মৃতি অনেক গল্প রয়েছে । আর এই যায়গাটা ও ঘুরতে ঘুরতে খুঁজে পেয়েছিলাম আমরা। অনার খুব ফেভারিট যায়গা এটা ।
আবার অনা, আমার কথা শুনে রেগে গেছল বিদিশা ।
ওর রাগ স্বাভাবিক । কিন্তু আমার সব গল্পে ই যে অনা থাকে ।কি করব আমি । তাই কি অনা এখন রেগে যায় । আমার থেকে দূরে থাকতে চায় যাতে বিদিশা আমাকে ভুল না বোঝে। কিন্তু অনাকে ছাড়া তো আমি কিছু ভাবতেও পারিনি কখনও ।এই যে এতদূর চলে যাব বিদিশা র জন্য তো সেভাবে খারাপ লাগছে না ।শুধু মনে হচ্ছে অনাকে ছেড়ে, না দেখে, ঝগড়া না করে থাকব কি করে? ।কেন সহজ ভাবে বোঝেনা কেউ আমাকে । আমার জীবনে খেপি টার যায়গাটা কাউকে দিতে পারব না । বিদিশা ওকে পছন্দ করে না । তাবলে সত্যি টা তো আর মিথ্যে হয়ে যাবে না । চুপ করে বসেছিলাম আমি ।

আর তো কদিন পর চলে যাবে । আবার কবে যে দেখা হবে? আমি অবশ্য মাঝে মাঝে চলে যেতেও পারি । তখন আমরা দুজন মিলে খুব আনন্দ করব, বলে হাতটা ধরে একদম গায়ের ভেতর ঢুকে বসেছিল বিদিশা । হঠাৎ করেই ভীষণ বিরক্ত লাগছিল । একটু সরে বসেছিলাম আমি । ভীষন কাছে আসতে চাইছে মেয়ে টা ।কিন্তু আমার ভালো লাগছে না, একদম লাগছে না ।
কি হয়েছে সরে যাচ্ছ কেন? আমরা একটা রিলেশন এ আছি । কিছুদিন পর স্যাটল করব । তাহলে এরকম করছ কেন? আমার ও তো একটা অধিকার আছে নাকি তোমার ওপর- রেগে বলেছিল বিদিশা ।
এখন থাক না এসব ।সারা জীবন তো পড়ে আছে । পরে না হয় এসব নিয়ে ভাববো বিদিশা ।
সেই যত নিয়ম আমার সময় । অনার বেলায় তো ভাব না । কতবার কারনে অকারণে টাচ করেছ, জড়িয়ে ধরেছ ওকে আমি দেখেছি । আমাকে তো কখনও নিজের থেকে টাচ করনি। এত সব দেখার পর ও ভাবতে হবে তোমার আর অনার মধ্যে কিছু নেই । আমাকে বুঝতে হবে অনা আমাকে মিথ্যে বলেনি। বাজে মেয়ে একটা, চিৎকার করছিল বিদিশা ।
অনার নামে একটাও বাজে কথা বলবে না । তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না । আমি তো বারবার বলেছি ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আর কিছু না। তবু কেন বারবার ওকে খারাপ কথা বল।
দেন ওকে ।কিস মি। প্রুফ দাও আমি তোমার গার্ল ফ্রেন্ড আর ও তোমার বন্ধু । একদম মুখের কাছে মুখ এনে কথাগুলো বলেছিল বিদিশা ।
দু হাত দিয়ে মুখটা ধরে চেষ্টা করছিলাম ওর ঠোঁট দুটো একটু ছুতে। আবেগ ছিল কি না জানি না তবে আমার আর অনার মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছু নেই সেটা প্রমাণ করতে চাইছিলাম । হঠাৎ করে দু হাতের মধ্যে বিদিশা নয় একটা গোলগাল মিষ্টি মুখ দেখেছিলাম । ছিটকে সরে গেছলাম ওর কাছ থেকে ।
হিংস্র হয়ে উঠেছিল বিদিশা । রেগে গিয়ে আমাকে ঝাঁকিয়ে বলেছিল, হয় তোমার মধ্যে পুরুষত্ব নেই । নয় তুমি ঠকাচছ আমাকে । তোমার সব কিছু জুড়ে ঐ মেয়ে টা আর প্রেমের নাটক করছ আমার সাথে । কাকে বোকা বানাতে চাইছ নিজেকে না আমাকে । উওর টা না খুঁজে আমার সাথে যোগাযোগ করতে এস না।বলে হনহন করে চলে গেছল মেয়ে টা ।

একটু পরে আমি ও চলে এসেছিলাম ।কথা গুলো মাথায় জড় হয়েই রয়ে গেছল। সেই জন্যই কি ওরকম একটা ভুল কাজ করে ফেলেছিলাম ।সামলাতে পারিনি নিজেকে ।পরীক্ষা করছিলাম নিজের আমি পুরুষত্ব হীন কি না? না সেটাই সত্যি যেটা বিদিশা বলেছিল।যাকে ছুলে খারাপ দেখায় না সম্মতি থাকা সত্বেও তাকে ছুঁতে পারিনি । কি অনায়াসে আদর করতে পেরেছিলাম সেই মেয়েটাকে যাকে দেখেছিলাম নিজের প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে নিজের দু হাতের ভেতর।

ঠিক আছে তো ছেলেটা । আমার যদি এত খারাপ লাগে ওর কতটা কষ্ট হচ্ছে । যে ছেলেটা মেয়ে দের খারাপ ছবি দেখতে পারত না, মেয়েদের অসম্মান করা তো দূরে থাক । সে নিজেকে কি করে ঠিক রাখবে নিজেকে কাল রাতের পর । বন্ধু কি শুধু ভাল সময়ের জন্য, খারাপ সময়ের জন্য নয় । কথাটা কাউকে বলতে পারবে না, ওর সামনে দাড়াতে পারবে না, গুমরে গুমরে মরে যাবে ছেলেটা । মূহুর্তে র একটা ভুলের জন্য ওকে এতটা কষ্ট পেতে দিতে পারবে না । সহজ ওকেই হতে হবে । দেখাতে হবে সব একই রকম আছে ।চটপট স্নান সেরে রেডি হয়ে গেছলাম যাব বলে। যাবার সময় ওর ফেভারিট দোকানের কচুরি নিয়ে যাব ।

যা ভেবেছি তাই ।মামনির সাথে দেখা করতেই শুনলাম বাবু এখনো ঘুম থেকে ওঠেননি । জানি সারারাত ঘুমোয়নি আমি জানি ।যুদ্ধ করছে ভেতরে ভেতরে । আমি তোকে হেরে যেতে দেবনা দীপ। যদি তোর বন্ধুত্বের বিনিময়ে একটা ভুল ভুলতেই না পারলাম তো কিসের জন্য তোর বেস্ট ফ্রেন্ড হলাম ।

গিয়ে দেখি বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে । পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই সোজা কোলে মুখ ঢুকিয়ে দিয়েছে ।চিরকালের বদ অভ্যাস । এই পাগল এমনি করছিস কেন? ওঠ দেখ আমি এসেছি ।কিছু হয়নি দেখ ।ওঠ দেখ তোর ফেভারিট কচুরি এনেছি। সব ঠান্ডা হয়ে যাবে । কোথায় আমি ভাবলাম ছুটি আছে তোর সাথে লং ড্রাইভে যাব ।ত কোথায় কী? বাবু এখানে নার্সারি র বাচ্চা দের মতো ফেচফেচ করছে। আমাকে বলে ।আর তুই নিজে কবে বড় হবি ।মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেছিলাম আমি ।
তুই রাগ করে নেই আমার ওপর? কথা বলা বন্ধ করবি না তো আমার সাথে?
কখখনো না । তবে কালকের কথা সব ভুলে যা । ভাব কাল বলে কিছু আগেই নি ।
উঠে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে ।
আস্তে করে মাথাটা ঘেঁটে দিয়েছিলাম আমি ।
হেসে বলেছিল, তুই বোস ।আমি চট করে রেডি হয়ে নিচ্ছি ।অনেক দিন বাঁদরির সাথে লং ড্রাইভে যাই নি ।
তবে রে, বলে আমি উঠতেই বাথরুমে ঢুকে গেছল।

যাক মেঘ কেটেছে তবে। চাঁদ থাকলে তার দাগ ও থাকবে । আমি দীপের কাছে কতটা দামী জানিনা । কিন্তু ও আমার কতটা সেটা তো জানি । এটুকুর জন্য যদি সব ঠিক হয়ে যায় ক্ষতি কি? বন্ধুত্বের কি এটুকু দাম থাকা উচিত নয়? এটুকুই থাক না জীবনে অনেক পাওয়া না পাওয়ার মাঝে নাম না জানা ফুলের গন্ধ হয়ে।

(চলবে)

গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম.........গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম