চিলেকোঠার প্রেম পর্ব ৩৪+৩৫

0
40

#চিলেকোঠার_প্রেম

#Ishita_Rahman_Sanjida(Simran)

#পর্ব_৩৪

“আমার মনের সমস্ত অভিযোগ অভিমান ধুলিসাৎ করার জন্য ধন্যবাদ। ধুলো কণার আস্তরণে ঢাকা মন ডাইরিটা খুলে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। নতুন সকালে নতুন সূর্য ওঠানোর জন্য ধন্যবাদ। নতুন পথ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। সবশেষে আমার জীবনে ফেলে আসা হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”

ওষ্ঠকোণে সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠল আরাদের। অধরজোড়া প্রস্বস্ত করে হাসলো সে। এতদিনে তাহলে সব বুঝলো তার প্রিয়তম। সামান্য কোন ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়নি দু’জনের মাঝে। এই ভুলটাই বহুদিনের দূরত্ব তৈরি করেছিল দুজনের মধ্যে। যার মাশুল দুজনকেই দিতে হয়েছে। তবে সায়েনের শাস্তিটা তীব্র ছিল। তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল সায়েনের। যা হয়তো কখনোই ভুলবে না সে। রাহাত নামক খারাপ মানুষের কবলে পড়ে সায়েনের জীবনটাই হয়তো নরক হয়ে যেতো। কিন্তু ভাগ্যের চাকা কখন কোনদিকে ঘোরে তা বলাবাহুল্য। এক সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তার মনে কখন কি চলে তা কেবল তিনিই জানেন। তিনি আরাদের ভাগ্যে সায়েনকে রেখেছে ঠিকই কিন্তু তার মধ্যে বহু প্যাচ রেখেছে। দুজনের কাছাকাছি আসার পথটা তিনি দুর্গম করেছেন যাতে দু’জনে আরো আহত হয়। হয়েছেও তাই,তবে সাফল্য অর্জন করতে হলে আহত তো হতেই হবে। আহত হওয়ার পর সাফল্য অর্জন সবচেয়ে খুশির। আরাদ আহত হয়েছিল। তবে তার সব ক্ষত আজকে মিইয়ে গেছে। ভালোবাসার মানুষটি যে আজ তার খাঁচাতেই বন্দী। তবে লোহার শিকলে নয় ভালোবাসার অদৃশ্য শিকলে যার ক্ষমতা দৃশ্যমান লোহার শিকলের থেকেও হাজার গুণ বেশি। চিরকুট টা পকেটে পুরে ঠোঁটের হাসিটা আরো গাঢ় করলো সে। পাতলা টিশার্ট টা পড়ে নিয়ে বের হলো সে। উদ্দেশ্য চিলেকোঠার ঘর!!! কবিতা এতক্ষণে বাড়ি ফিরে গেছে। সায়েন নিশ্চয়ই একা আছে। বিলম্ব না করে আরাদ ছাদের সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো। ছাদে উঠে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা চিলেকোঠার ঘরের দিকে পা বাড়ায়। কিন্তু আশ্চর্য হয় ভেতরে গিয়ে। কারণ সায়েন সেখানে নেই তাহলে?? কোথায় গেল সায়েন??এদিক ওদিক তাকাতেই ফোন বেজে উঠল আরাদের। ফোন রিসিভ করে কানে নিতেই অপর পাশে থেকে সুশ্রি কন্ঠে ভেসে আসলো,’আমি ছাদে আছি।’ পরক্ষণেই ফোনের মালিক কলটা কেটে দিলো। আরাদ বুঝলো কলটা সায়েনের ছিলো। চিলেকোঠার ঘর থেকে বের হয়ে ছাদে চোখ বুলায় আরাদ। কিন্তু সে কিছুই দেখতে পেলো না। গাঢ় কালো অন্ধকারে বুদ হয়ে আছে পুরো ছাদ। আরাদ খেয়াল করলো ছাদের বাতি নেভানোর জন্য এতো অন্ধকার। ফোনের ফ্লাশ অন করেই সামনের দিকে এগিয়ে গেল সে। ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে সায়েন। আরাদের উপস্থিতি পেয়েও সে পিছন ফিরে তাকালো না। আরাদ ফোনের ফ্লাশ বন্ধ করে দিয়েছে কারণ বাগানে জলন্ত বাতি থেকে আলো আসছে। এতে ছাদ এতটুকু ও আলোকিত হয়নি। ফোন পকেটে রেখে সায়েনের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রেলিংয়ের ওপর হাত রাখলো সে। পরিচিত সুগন্ধি পেয়েও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে সায়েন।

‘হঠাৎ এই অন্ধকারে ডুবে থাকার কারণ??’ ফিচেল গলায় বলল আরাদ।

সায়েন খুব সূক্ষ্ম ভাবেই জবাব দিলো,’কিছু কিছু অন্ধকারে ডুবে থাকার প্রগাঢ়তা অনেক। সব অন্ধকার কিন্তু কষ্টের হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা সুখকর ও হয় বটে।’

তপ্ত শ্বাস ফেলল আরাদ যা সায়েনের ঘাড়ে বারি খেলো। সায়েনের থেকে দূরত্ব আরো কমিয়ে আরাদ বলল,’সেটা ক্ষণিকের জন্য রাখতে হয়। বেশি অন্ধকারে তলিয়ে যেতে নেই। তাহলে অন্ধকারে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয় থাকতে পারে।’
নিঃশব্দে হাসলো সায়েন। সে বুঝেছিল যে আরাদ পাল্টা জবাব নিশ্চয়ই দেবে আর হলোই তাই। তাই তো কালকে আরাদের কাছে সে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে।

‘প্রতিটা কথার পাল্টা জবাব দেওয়া কেবল আপনার দ্বারাই সম্ভব। সব কথার ঝুড়ি কেবল আপনার কাছেই আছে। আমার দ্বারা আপনাকে কথার জালে আটকানো সম্ভব নয়।’

আরাদ কিছু পল চুপ রইল। প্রিয়তমের ঘন চুলে মুখ গুজে দিয়ে হাত দুটো পিছন থেকেই আঁকড়ে ধরে।

‘ভালোবাসার জালে তো কবেই আটকে ফেলেছো। কথার জালটা নাহয় খালি থাক।’

এবার সায়েন পাল্টা জবাব দিলো না। চোখ বন্ধ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিলো সে। সায়েনের দীর্ঘশ্বাস এ তা প্রকাশ পেল। আরাদ সায়েনকে ওভাবে ধরে রেখেই বলল, ‘কাদছো কেন??’

কয়েকটা ঢোক গিলে ধরা গলায় সায়েন বলল,’মাকে খুব মিস করছি। এতো তাড়াতাড়ি আমাকে ফেলে না গেলেই পারতো। দোষট আমার ছিল। আমি পারলাম না আমার মা’কে বাঁচাতে। বিশ্বাস করুন আমি চেয়েছিলাম, খুব করে চেয়েছিলাম মা’কে বাঁচানোর কিন্তু পারিনি। হঠাৎ করে রাহাত যে এতো ভায়োলেন্স হয়ে যাবে তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি সব জানার পরেও রাহাতের সাথে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ওর খারাপ বিজনেসের কথা জানতে পারি তখন আর পারিনি। সব ফেলে চলে এসেছিলাম। আমি সেদিন না আসলেই হয়তো মা বেঁচে থাকতো। আমি সেদিন রাহাতকে আঘাত করতে চাইনি বিশ্বাস করুন। আমি তো চেয়েছিলাম রাহাত যেন ভয় পেয়ে মা’কে ছেড়ে দেয়। কিন্তু হলো না। সবাই বলেছিল আমি খুব খারাপ। নিজের স্বামীকে মেরে ফেলেছি। কিন্তু আমি তো মারতে চাইনি। আমি আমার মা’কে বাঁচাতে চেয়েছি। ব্যাস এটুকুই চেয়েছিলাম আমি। তবুও সবাই কেন আমাকে দোষারোপ করে??’

কথার মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সায়েন। রাহাতের নামটা সায়েনের মুখে শুনে ভালো লাগছে না আরাদের। আর যাই বলুক রাহাতের নামটা কেন সে নেবে?? অসহ্য লাগছে আরাদের। সায়েন এবার ঘুরে আরাদের দিকে তাকালো বলল,’আপনি কেন আমাকে বিয়ে করলেন। এতে আপনার দিকে আঙুল তুলবে সবাই। ছিঃ ছিঃ করবে পুরো দুনিয়া। আমার জন্য কেন করলেন আপনি??’

সায়েনের উপর রাগ হচ্ছে আরাদের। এখন এসব বলার কোন মানেই হয় না। অযথা এসব চিন্তা করে শরীর খারাপ করছে সায়েন। নিজের রাগ সংযত করে আরাদ সায়েনের হাত ধরে বলল,’দুনিয়া কি ভাববে দুনিয়া কি বলবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তুমি শুধু এইভাবে আমার হাতটা ধরে থেকো। দেখবে আমরা আমাদের দুনিয়া বানিয়ে নেবো। ভালোবাসার দুনিয়া। সে দুনিয়া বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।’

সায়েনের চোখ থেকে তখনো অশ্রু ঝরছে আগের ন্যায়। আরাদ সায়েনের চোখের পানি যত্নে মুছিয়ে দিয়ে বলল,’তোমার অতীত নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। তোমার শরীরে অন্য কারো গন্ধ আছে কি না তা শুকে দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আমার। আমি শুধু তোমাকে চাই। আমার মতো করে আমাকে ভালো না বাসলেও চলবে। যতটুকু সম্ভব তুমি তোমার মতো করে আমাকে ভালোবেসো তাহলেই হবে। কাঁদতে ইচ্ছে করলে আমাকে বলো। এই বুকে মাথা রেখে যতো খুশি কেঁদো কখনো বাঁধা দেব না। একাকিত্ব বোধ করলে আমাকে ডেকো পাশে থাকবো। কিছু চাই না, শুধু তোমার পাশে হাঁটার সুযোগ দিও তাতেই আমার চলবে।’

কথাগুলো শুনতে শুনতে সায়েন যতোবার চোখের পানি ফেলেছে আরাদ ততবার মুছে দিয়েছে। আরাদের কথা শেষ হতেই সায়েন এক প্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ে আরাদের বুকে। কেঁদে আরাদের গায়ের টিশার্ট ভিজিয়ে দিলো। আরাদ সায়েনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মৃদু হাসলো।

______________

অনেক দিন পর সায়েন ভার্সিটিতে পা দিয়েছে। মনটা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে সায়েনের। কালকে আরাদ নিজেই সেই অনুমতি দিয়েছে। সব ঝামেলা শেষ হয়েছে বলেই আরাদ সায়েনকে ভার্সিটি আসার অনুমতি দিয়েছে তবে বোরখা পরে। অনেকেই সায়েনকে ভালো করেই চেনে। তারা কটুক্তি করতে ছাড়বে না। তাই আরাদ সায়েনকে বোরখা পরে আসতে বলেছে। আরাদ চায় না যে সায়েন আবার চোখের পানি ফেলুক। কষ্ট তো অনেক পেয়েছে আর না। সায়েনের সাথে আরশি তনয়াও আছে। ওদের সাথেই ক্লাস করলো সায়েন। তনয়া বায়না ধরে সায়েনকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল। সায়েনও তা মেনে নিলো। অনেক দিন যাবত বাড়ি থেকে বের হয় না সে। আজকে একটু আনন্দ করুক। রেস্টুরেন্টে বসতেই ইফতির আগমন। সে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে চেয়ার টেনে বসলো। বোরখা পড়া মেয়ে দেখে সে তীক্ষ্ণ নজরে সায়েনের দিকে তাকিয়ে বলল,’এটা কে??থার্ড পারসন!!’

সায়েন তখনও ইফতির দিকেই তাকিয়ে আছে। ও ইফতিকে চিনতে পেরেছে। সেদিন ইফতি ওর সাথে কথা বলতে গিয়েছিল। কিন্তু সায়েন কোন কথাই বলেনি ইফতির সাথে। তনয়া বলে উঠলো,’ভাবি!!’

ইফতি মৃদু চিৎকার করে উঠলো,’ওহহ ভাবি। আই মিন ওই যে চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা!! এইবার বুঝেছি।’

ভ্রু যুগল কুঁচকে এলো সায়েনের। চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা বলতে কি বোঝাতে চাইছে ইফতি??তনয়া রাগি ফেসে বলে,’চিলেকোঠার প্রেমিক প্রেমিকা মানে কি হ্যা?? অদ্ভুত কথাবার্তা।’

‘আরে আমি এরকম কথাই বলি। তবে ভাবি এসেছে ভালোই হয়েছে। আজকে চিলেকোঠার প্রেম সম্পর্কে সবটা জানবো। আচ্ছা ভাবি কিভাবে আপনাদের দেখা হলো? আপনাদের প্রেমটা তো চিলেকোঠা থেকে শুরু হয়েছিল!!গল্পটা একটু বলবেন কি??’

হতাশা নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো আরশি আর তনয়া। এই ছেলে একটু বেশি বকবক করে। সায়েন ও বিষয়টা বুঝতে পারলো। ছেলেটা বাঁচাল। অতিরিক্ত কথা বলে। তবে মিশুক ও বটে। কেমন এক দেখাতেই এতো কথা নিমিষেই বলে ফেলছে। সায়েন হাসলো বলল, ‘ওসব বলতে অনেক সময় লাগবে। আর আজকে আমাদের তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। এখন সময় নেই।’

‘ওহ,বাধ্য ওয়াইফ। নো প্রবলেম। এরপর দেখা হলে সব বলতেই হবে। লাভ স্টোরি আমার খুব ভালো লাগে। তো অর্ডার করা যাক??’

সবার খাওয়া শেষ হতেই ইফতি বেরিয়ে চলে গেল। এতে রেগে গেল তনয়া। কারণ ইফতি কখনোই বিল পে করে না। সব তনয়ার ঘাড়ে পড়ে। তনয়ার ইচ্ছে করে দু ঘা কষিয়ে দিতে। অসভ্য ছেলে একটা। তিনজন একসাথেই বাড়িতে ফিরলো। সায়েন ফ্রেশ হয়ে নিজের বই গুছিয়ে নিলো সবার আগে। আরাদ সব বই এনে দিয়েছে। সেজন্য খুশী লাগছে সায়েনের। সন্ধ্যায় সায়েন বই নিয়ে তনয়া আর আরশির কাছে চলে গেল। আগের সব পড়া বুঝে নেবে সেজন্য। কিন্তু আরশি মরার মতো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। তনয়া টেবিলে বসে বইয়ে মুখ গুজে আছে। সায়েন গিয়ে তনয়ার পাশে বসতেই মুচকি হাসলো তনয়া। সায়েন সৌজন্য মূলক হাসি দিয়ে পড়া বুঝে নিলো। সে একপলক আরশির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আরশি অসময়ে ঘুমাচ্ছে??’

‘ওর স্বভাব ওইরকমই। যখন ঘুম ভাঙবে তখন পড়তে বসবে। এতে রাত যতোই হোক না কেন। বাদ দাও,ও মাঝেমাঝেই এরকম সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়ে। খুব ঘুম কাতুরে। তুমি তো জানোই।’

আরশির দিকে তাকিয়ে হাসলো সায়েন। হাত বাড়িয়ে আরশির একটা বই সে হাতে নিলো। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে একটা ছবি মেঝেতে গড়িয়ে পড়লো। সায়েন ছবিটা তুলে দেখে অবাক হয়ে গেল। তনয়া বড়বড় চোখে তাকিয়ে আছে সেদিকে। সায়েনের সামনে তো ধরা পড়ে গেল। আকাশের ছবি দেখে সায়েন অবাক হয়ে তনয়ার দিকে তাকালো বলল, ‘উনি তো ইন্সপেক্টর আকাশ। ওনার ছবি আরশির বইয়ে কেন??’

সন্দেহের চোখে তাকালো সায়েন। তনয়া চেয়েও সায়েনকে মিথ্যা বলতে পারলো না। সব শুনে সায়েন বলল,’ইন্সপেক্টর আকাশ অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। আরশির সাথে খুব মানাবে। আরশি সবটা জানাচ্ছে না কেন??আমি কি তোমার ভাইয়াকে বলে দেখবো??’

মাথায় যেন বাজ পড়লো তনয়ার। সায়েনের কথা শুনে মনে হচ্ছে আকাশ যে ওকে ভালোবাসে তা জানে না। কিন্তু আরাদ তো জানে। সে কিছুতেই আরশিকে আকাশের হাতে তুলে দেবে না। আর আকাশ তো আরশিকে বিয়ে করবেই না। তনয়া ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,’ভাইয়াকে কিছু বলো না ভাবি। আসলে আকাশ ভাইয়া জানে না যে আরশি ওকে ভালোবাসে। তাছাড়া আকাশ ভাইয়া অন্যকাউকে ভালোবাসে। আরশির ভালোবাসা টা একতরফা বলতে পারো। তাই আরশি কিছুই জানায়নি। ভুলে যেতেও পারছে না বেচারি। এসব ভাইয়াকে বলার কোন দরকার নেই।’

মাথা নাড়ল সায়েন। তবে ওর মনে হচ্ছে তনয়া কিছু লুকিয়ে গেছে। ধোঁয়াশায় রেখেছে কিছু কথা। আর কথা বাড়ালো না সায়েন। বই হাতে উঠে গেল সে। চিলেকোঠার ঘরে যেতেই সায়েন আরো অবাক। আরাদ বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে ফোন টিপছে। বই রেখে সায়েন সেদিকে এগিয়ে গেলো বলল,’আপনি এখানে??’
#চিলেকোঠার_প্রেম

#Ishita_Rahman_Sanjida(Simran)

#পর্ব_৩৫

স্নিগ্ধ সকালে,ঊষার রবি এক টুকরো সাদা মেঘের আড়ালে উঁকি দিয়েছে। আস্তে আস্তে সে মেঘ ভেদ করে বের হয়ে আসবে। তার আলো বিচরণ করবে গগণ জুড়ে। সায়েনের ঘুমটা হুট করেই ভেঙে গেছে। আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো সে। পাশ ফিরে দেখতে পেল না কঙ্খিত মানুষটিকে। তারমানে সে ভোরের আলো ফোটার পূর্বেই চলে গেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল সায়েনের। এই লুকোচুরি আর কতো??না জানি আবার নতুন কোন ঝামেলা পোহাতে হয় সায়েনকে। নিলিমা বেগমকে দেখে মনে হয় তিনি কখনোই সায়েনকে মানতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক,কোন মা চাইবে না সেটা। আরাদ আবার কোন ভুল করলো না তো সায়েনকে বিয়ে করে??সায়েন পারতো বাকি জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে দিতে। কিন্তু মাঝখানে আরাদ এসে সবটা ওলোট পালোট করে দিলো। এখন আরাদ বিহীন থাকা সায়েনের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সব জানার পর যদি নিলিমা বেগম সায়েনকে আরাদের জীবন থেকে চলে যেতে বলে তাহলে সায়েন কিছুতেই না করতে পারবে না। এসব ভেবে মনের মধ্যে অজস্র অজানা ভয় জেঁকে বসছে। চিন্তাগুলো ছাড়তে চাদর সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো সায়েন। পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে। ফ্রেশ হয়ে আসতেই কবিতার মুখোমুখি হলো সে। মুচকি হেসে কবিতার সাথে কথা বলে খেয়ে নিল। তারপর রেডি হয়ে আরশি আর তনয়ার সাথে ভার্সিটিতে গেল। কিন্তু আজকে ওরা বোধহয় ক্লাস করতেই পারবে না। কারণ হলো ইফতি। সে আগে থেকেই ওয়েট করতেছে। অগত্যা ওদের পার্কে গিয়ে বসতে হলো। ইফতি গিয়ে বাদাম কিনে আনলো। বাদাম ছিলে মুখে পুরে ইফতি বলল,’সো ভাবি!! আজকে সবটা না বলে কিছুতেই যেতে পারবেন না আপনি। আমরা সবাই অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি। শুরুটা হলো কিভাবে বলুন??’

সায়েন তনয়ার মুখের দিকে তাকালো। ওরাও জানতে ইচ্ছুক দেখেই বোঝা যাচ্ছে। দম ফেলে সায়েন বলল,’নভেম্বর মাস,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। নোট কালেক্ট করার জন্য আমার ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু ফিরতে গিয়ে ঘটলো বিপত্তি। বৃষ্টির প্রকোপ বেড়ে গেল। রেইনকোট গায়ে ছিল আমার। কোনরকমে স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ করেই একটা ছেলে সামনে এসে দাঁড়াতেই স্কুটি থামালাম। রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার পুরো শরীর। কিছুটা ভয় পেয়ে তাই আমি। আশেপাশে কেউ ছিল না বিধায় আমাকেই সাহায্য করতে হলো। বাড়িতে নিয়ে গেলাম তাকে।’

‘আর ওই ছেলেটাই আমার ভাইয়া তাই তো??’

বলেই খিলখিল করে হাসতে লাগলো তনয়া। সায়েনও মুচকি হাসলো। ইফতি কপোট রাগ দেখিয়ে বলল,’কথার মাঝে কথা বলো কেন??দেখছো না যে গুরুত্বপূর্ণ লাভ স্টোরি। সো চুপ থাকো!!’

তনয়া চুপ করে গেল। সায়েন আবার শুরু করলো। শুরুতে হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল ধরে গেছে। শুরুটা হাস্যকর হলেও শেষেরটা হৃদয়বিদারক। পানি চলে এসেছে আরশি তনয়ার চোখে। সায়েনও চোখের পানি মুছলো। হাসিমুখে সবার দিকে তাকালো সে। ইফতি বলল,’প্রতিটা মানুষের জীবনে একবার হলেও দুঃসময় আসবেই আসবে। সৃষ্টিকর্তা তাদেরই পরীক্ষা নেন যাদের তিনি পছন্দ করেন। হয়তো তিনি আপনাকে তার পছন্দের তালিকায় রেখেছেন বলেই এতো বড় পরীক্ষা নিয়েছেন। তবে শেষটায় কিন্তু আপনিই জিতেছেন।’

প্রতিত্যুরে সায়েন কিছু বলল না। চারজনের কথার মাঝে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আকাশ এসে দাঁড়ায়। চারজনেই দাঁড়িয়ে পড়লো আকাশকে দেখে। আকাশ ইফতির দিকে কড়া চোখে তাকালো। ইফতিও আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে কোন ভয় প্রকাশ পেলো না। সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। তবে ভয় পেয়ে গেছে আরশি আর তনয়া। আকাশ যদি আরাদকে উল্টাপাল্টা কিছু বলে তাহলে তো ওরা শেষ। আকাশ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,’তুমি এখানে কি করছো??তাও ওদের সাথে??’

ইফতি মুচকি হেসে পকেটে হাত গুজে বলল, ‘এটা থানা নয় আর আমাকে রিমান্ডে আনেননি যে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর আমাকে দিতে হবে।’
ত্যাড়া জবাবে আকাশের রাগটা আরো বেড়ে গেল। সে ঝেড়ে গলায় বলল,’খুব শিঘ্রই সেটা হবে। তবে এরপর আর ভুল হবে না।’

‘চেষ্টা করে দেখুন পারেন কি না??’

আকাশ এবার ইফতির থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলো। সায়েনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তোমরা ক্লাস রেখে এখানে বসে অন্য ছেলের সাথে গল্পে মেতেছো আরাদ জানে??’

ভয়ে ওদের গলা শুকিয়ে গেছে। সায়েন জবাব দিলো না। আকাশ আবারো বলল, ‘বাড়িতে যাও।’

ওরা তিনজনে যেতে নিলে ইফতি বাঁধা দিয়ে বলল,’আমার গার্লফ্রেন্ড বাদে দুজন চলে যাও।’
আকাশসহ সবাই অবাক। এখানে ইফতির গার্লফ্রেন্ড আবার কে?? সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইফতি মিটিমিটি হাসছে। আকাশ জিজ্ঞেস করে,’গার্লফ্রেন্ড!!!’

‘আপনি জানেন না??আরশি তো আমার গার্লফ্রেন্ড!!’

আরশির মাথায় যেন বাজ পড়লো। মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো ওর। তনয়া সায়েনেরও একই অবস্থা। এই ইফতি কি পাগল হয়ে গেছে নাকি?? উদ্ভট কথা বলছে কেন?? ঠোঁট টিপে হেসে ইফতি চোখ মারে তনয়াকে। চোখের ইশারায় সে আকাশ আর আরশিকে নিয়ে কিছু বলল তনয়াকে। কিছু পল নির্বাক চোখে ইফতির দিকে তাকিয়ে থেকে তনয়া বুঝতে পারলো যে ইফতি ঠিক কি বোঝাতে চাইছে। ঠোঁটে হাসি ফুটলো তনয়ার ও। শুধু বুঝলো না সায়েন আরশি। ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল ওরা। তনয়া তাল মিলিয়ে বলল,’হ্যা তো আরশি আর ইফতি গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড।’

‘কি???তনয়া তুইইই,,,,’

হাত খামচে ধরে আরশিকে চুপ করালো তনয়া। বোকার মতো তাকিয়ে রইল আরশি। তনয়া খানিকটা কান্নাস্বরে বলল,’প্লিজ ভাইয়াকে বলবেন না। আসলে ইফতি তো কোন কাজ করে না। চাকরি পেলেই বিয়ের প্রপোজাল পাঠাবে আমাদের বাড়িতে। ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানাইনি আমরা। ভাইয়া জানলে তো মেরেই ফেলবে।’

তনয়ার কথার মাঝে ইফতি ফোড়ন কেটে বলল,’আরশি বেইব,চলো ওদিকটায় ঘুরে আসি। আমাদের তো পার্সোনালি সময় স্পেন্ড করতে হবে। কালকে আমরা সিনেমা দেখতে যাব কেমন??’
আরশির মনে হচ্ছে ও এবার সত্যিই জ্ঞান হারাবে। একবার তনয়ার দিকে তো একবার ইফতির দিকে তাকাচ্ছে সে। তনয়া ইশারায় যেতে বলল আরশিকে। আকাশ থামিয়ে বলল,’ওয়াট রাবিশ আরশি!!এই ছেলেটাকে তুমি চেনো??আই ক্যান্ট বিলিভ ইট। তুমি এই ছেলেটার সাথে রিলেশন করতেই পারো না।’

‘পারে না কি আবার। রিলেশন করে ও আমার সাথে। জিজ্ঞেস করে দেখুন পারলে।’
ইফতির কথাগুলো রাগ বাড়িয়ে দিলো আকাশের। অসহ্য লাগছে ওর। তনয়া আরশির হাত ধরে হ্যা বলতে বলছে বারবার। ওদের টানাহেঁচড়ায় আরশি শুধু মাথা নাড়ে। রাগট তরতর করে বেড়ে গেল আকাশের। রেগেমেগে ওখান থেকেই চলে গেল সে। তনয়া আর ইফতি হাই ফাইভ করে হাসতে হাসতে বসে পড়লো। আরশি রেগে কিল বসিয়ে দিল ইফতির পিঠে।

‘তোমরা দুই বোন শুধু শুধু আমাকে মারো কেন বলোতো??’

‘মার তো খাবেনই। আকাশ ভাইয়ার সামনে এসব কি বললেন!!!যদি ভাইয়াকে বলে দেয় তো??’

‘আমার মনে হয় না তা ওনি করবে। কারণ সে জেলাসি ফিল করছে।’

আরশি বুঝলো না ইফতির কথা। এবার তনয়া বলল,’আরে এটা এ্যাক্টিং ছিলো। আমরা দেখলাম আকাশ ভাইয়া কি রিয়্যাক্ট করে। দেখলি না কিরকম রাগ করে চলে গেল।’
আরশি এবার সায়েনের দিকে তাকালো। সায়েন এগিয়ে এসে বলল,’তোমার উচিত ছিল আরো আগে সব জানানো। ইন্সপেক্টর আকাশ তখন কিছুতেই তোমাকে ফিরিয়ে দিতে পারতো না। তবে উনি খুব ভালো মানুষ।’
তনয়া আরশিকে চোখ দিয়ে বলতে বারণ করলো। কারণ সায়েন এখনও জানে না যে আকাশ ওকে ভালোবাসে। আরশি অন্যদিকে ঘুরে চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছলো। তারপর বলল,’এসব করে কি লাভ??কিছুই হবে না। তার থেকে উনি ওনার মতো চলুক আমি আমার মতো।’

‘তুমি তোমার মতো কষ্ট পাও তাই তো??শোন সবার মনে ভালোবাসা থাকে না। অপরজন কে তা সৃষ্টি করতে হয়। তুমি চাইলে ইন্সপেক্টর আকাশের মনে ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারো। কিন্তু তুমি তো আগেই হাল ছেড়ে বসে আছো।’
সায়েনের কথা শুনে চকিতে তাকালো আরশি। সায়েন তো জানেই না যে আকাশ ওকে ভালোবাসে। কিন্তু আরাদ কি আরশিকে আকাশের হাতে তুলে দেবে?? কখনোই নয়। আকাশ তো আরশিকে ভালোবাসতেই পারবে না। সায়েন আরশির হাত ধরে বলল,’সত্যি ভালোবাসা কখনো বিফলে যায় না। হয়তো সবার ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না। আচ্ছা ইন্সপেক্টর আকাশ নাকি অন্য কাউকে ভালোবাসে??কে সে??’

আরশি মুখ খোলার আগেই তনয়া বলল, ‘আছে একটা মেয়ে। আমরা চিনি না তবে শুনেছি মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে।’
চোখ বন্ধ করে ফেলে আরশি। বুকের ক্ষতটা জাগ্রত হয়ে গেছে। কান্না পাচ্ছে ওর খুব। সামলে নিলো সে নিজেকে।

‘তাহলে তো কোন প্রবলেম নেই। আমি নিজে কথা বলব,,,,,’

কথার মাঝেই সায়েনকে আরশি থামিয়ে দিয়ে বলল,’তার দরকার নেই। আমি চাই না ওই মানুষটাকে। অনুভূতি গুলো আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। একসময় পুরোটাই সরে যাবে।’

কথা শেষ করেই হাটা ধরলো আরশি। কেউ বাঁধা দিলো না। আরশিকে ওরা ক্ষনিকের জন্য একা ছেড়ে দিলো। এতে নিজের মনকে নিজেই সান্তনা দিতে পারবে। ইফতি বলে উঠলো,’কঠিন প্রেম। এদের এক না করা পর্যন্ত আমার পেটের ভাত হজম হবে না।’

‘কিন্তু আকাশ ভাইয়া আপনাকে তখন কি বলল??আমি কিছুই বুঝলাম না।’

ইফতি কিছুক্ষণ তনয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কে জানে?? তোমাদের সাথে দেখে হয়তো জেলাস ফিল করেছে তাই বলেছে।’
সবটা এড়িয়ে গেল ইফতি। মেয়েদের সামনে এভাবে তো মানসম্মান জলাঞ্জলি দেওয়া যায় না।

‘কি প্ল্যান করলেন?? কিভাবে আকাশ ভাইয়াকে আরশির প্রেমে ফেলবেন??’

‘এখনি কি প্ল্যান মাথায় চেপে বসেছে নাকি??ভাবতে তো সময় লাগবে।’

বাড়িতে ফিরতেই নিলিমা বেগমের মুখোমুখি হলো সায়েন। নেকাব খুলতে খুলতে আসছিল সায়েন। নিলিমা বেগমকে দেখে থমকে যায় সে। সালাম দিয়ে চুপ করে গেল সে। নিলিমা বেগম ও জবাব দিলেন। অতঃপর তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন সায়েনকে। কালো রঙের বোরখা পড়েছে সায়েন। সায়েনকে চুপ থাকতে দেখে তিনি বললেন, ‘সারাক্ষণ চিলেকোঠার ঘরে পড়ে থাকতে এসেছো নাকি??এখানে থাকছো খাচ্ছো বাড়ির লোকজন কে কি করে তার কি খেয়াল রাখতে ইচ্ছে করে না নাকি??’

ভুত দেখার মতো চমকে গেল সায়েন। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো সে। আরশি তনয়া আগেই নিজেদের রুমে চলে গেছে। নিলিমা বেগম সেদিন বলেছিল সায়েন যেন চিলেকোঠার ঘর থেকে বের না হয় আর তিনিই আজকে বলছে বের হতে। এতো অবিশ্বাস্য,সায়েন মাথা নাড়িয়ে বলল,’জ্বি আপনার ছেলে বলেছে বের না হতে তাই,,,,’

নিলিমা বেগম বিরক্তিভাব ফুটিয়ে বললেন, ‘ওই ছেলেটাও হয়েছে একটা। যা বলবে তাই করে ছাড়বে। যাও যাও তাহলে আর বের হওয়ার দরকার নেই ওখানেই ঘাপটি মেরে বসে থাকো।’

সায়েনের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন নিলিমা বেগম। সায়েন এক পলক সেদিকে নিজের কক্ষে চলে গেল। বোরখা খুলে ফোন হাতে নিতেই দেখলো আরাদের মিসড কল। এতো গুলো মিসড কল দেখে সায়েন অবাক। আড্ডা দিতে দিতে ফোন রিসিভ করতে ভুলেই গেছে সায়েন। দ্রুত কল ব্যাক করলো সে। কিন্তু আরাদ রিসিভ করলো না। সায়েন পরপর কয়েকবার ফোন করলো কিন্তু আরাদ ধরলো না। হয়তো কাজে ব্যস্ত আরাদ। সায়েন শাওয়ার নিতে চলে গেল।

সন্ধ্যায় আজকেও তনয়ার রুমে গিয়েছে সায়েন। আজকেও আরশি ঘুমাচ্ছে। আসার পর কেঁদেছিলো খুব। এখন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুমাচ্ছে সে। সায়েন তনয়ার সাথে কথা বলছে তখন একটা পরিচিত কন্ঠে দু’জনেই চমকে তাকালো। এই সময়ে আকাশকে ওরা একদমই আশা করেনি। অনেকটা হতাশ লাগছে আকাশকে। ফরমাল ড্রেসে এসেছে আকাশ। তনয়া ভাবলো নিশ্চয়ই আরাদের কাছে বিচার দিতে এসেছে আকাশ। কিন্তু আকাশ ওদের অবাক করে দিয়ে বলল সে আরশির সাথে কথা বলতে চায়। তনয়া মেকি হাসি দিয়ে আরশিকে ডাকলো। মাথা চেপে ধরে আরশি উঠতে উঠতে বলল,’ডাকাডাকি করছিস কেন??ঘুমিয়েও শান্তি নেই।’

বলতে বলতেই আরশির চোখ আটকে গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটির দিকে। ও আকাশকে দেখে আরও অবাক হলো। সায়েন ততক্ষণে রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। আকাশ যখন আরশির সাথে কথা বলতে চায় তাহলে ওর ওখানে কি দরকার। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো ছাদের সিঁড়িতে পা রেখে। একজোড়া বলিষ্ঠ হাত ওর হাত টেনে ধরে। কিছু বোঝার আগেই সায়েনকে কোলে তুলে নিলো আরাদ। সায়েনকে নিয়েই নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো সে। আচমকা ঘটে যাওয়া ঘটনা হজম হলো না সায়েনের। এদিক ওদিক তাকালো সে। যদি কেউ দেখে নেয় তো সব শেষ। হাতের বইটা দিয়ে মুখট ঢেকে ফেলল সে। সায়েনকে বিছানার উপর ঠাস করে ফেলল আরাদ। তারপর কোমড়ে হাত রেখে বলল,’এবার বলো কি শাস্তি দেওয়া যায় তোমাকে??’

‘শাস্তি!!কিসের শাস্তি??কি করলাম আমি??’

আরাদ একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থেকেই বলল, ‘আমার ফোন রিসিভ না করে বড় অন্যায় করেছো তুমি। তার শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে।’

আড়ষ্ট গলায় সায়েন বলল,’দ দেখুন আমি খেয়াল করিনি। পরে তো কল ব্যাক করেছিলাম আপনি ও তো রিসিভ করেননি।’

‘তখন আমি কাজে ছিলাম। ওসব বাদ এবার বলে কি শাস্তি চাও তুমি??’

সায়েন উওর দিলো না। হাতের বইটা চেপে ধরে বসে আছে। না জানি আরাদ আবার কি শাস্তি দেয় ওকে!! ভাবতেই গলা শুকিয়ে এসেছে। আরাদ ওর দিকে পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বলল,’এটুকুতে গলা শুকিয়ে গেল। শাস্তিটা কি তা শুনলে কি হবে তোমার??’
পানিটুকু খেয়ে নিলো সায়েন। তারপর বলল, ‘কি শাস্তি দেবেন??’

আরাদ চিন্তিত ভঙ্গিমা করে কিছু ভাবলো তারপর বলল,’শাড়ি পড়তে হবে তোমাকে এখন।’
হাফ ছাড়লো সায়েন। যাক বাঁচা গেল। শাড়ি পড়া তো তেমন কাজ নয়। সহজ শাস্তিই দিলো তাহলে আরাদ। তাই হাসলো সায়েন। আরাদ কাবার্ডের দিকে এগোতে এগোতে বলল,’অতো হাসির কিছু নেই শাড়িটা আমি পড়িয়ে দেব এটাই তোমার শাস্তি।’
সায়েন খাট থেকে নামতে যাচ্ছিল। আরাদের কথা শুনে আবার খাটের উপর ধপ করে বসে পড়লো। আরাদ শাড়ি পড়িয়ে দেবে!!বিষয়টা হজম হলো না সায়েনের। জড়সড় হয়ে বসে রইল বিছানার উপর।

#চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here