চিলেকোঠার প্রেম পর্ব ৯

0
47

#চিলেকোঠার_প্রেম

#Ishita_Rahman_Sanjida(Simran)

#পর্ব_৯

হলুদের তোড়জোড় চলছে। পুরো বাড়ি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বাড়ির সামনের উঠানে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে। মানুষের সমাগম বেড়েছে। এসব কিছু উপভোগ করার বদলে সায়েন চুপচাপ খাটের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। ইচ্ছে করলে বের হতে পারতো সায়েন কিন্তু ওর এখন আরাদের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। সে কি করছে না করছে কে জানে??বিয়ে বাড়িটা মরাবাড়ি মনে হচ্ছে সায়েনের। মনে আনন্দ না থাকলে যত সুন্দর যায়গায় থাকুক না কেন ভালো লাগবে না। সায়েনের ও হয়েছে তাই। গালে হাত দিয়ে বসে আছে সে। শাফিন ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে এসে সায়েনকে এভাবে বসে থাকতে দেখে ওর মাথায় চাটি মেরে বলল,’কি রে এভাবে চুপচাপ বসে আছিস কেন?? তোকে দেখে মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ি না কোন মরা বাড়িতে এসেছিস।’
সায়েন শাফিনের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে বলে,’ভালো লাগছে না রে ভাইয়া।’

শাফিন ওর পাশে বসে বলল,’তাহলে লিমার কাছে যা। দেখ গিয়ে নববধূ কি করছে??’

‘হুম গিয়ে দেখি। তুইও চল??’

শাফিনের উওর না নিয়েই ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল সায়েন। লিমার রুমে গিয়ে দেখল সেখানে লিমার কিছু কাজিন ও আছে। লিমা মুখে ফেসপ্যাক লাগিয়ে বসে আছে। সায়েন গিয়ে লিমাকে ডাকলো,’লিমা আপুউউ!!’

লিমা চোখের উপর থেকে শসা সরিয়ে মুচকি হেসে বলল,’আরে সায়েন তুমি। শাফিন ভাইয়া আপনিও এসে গেছেন। বসেন এখানে।’

সায়েন বসলো কিন্তু শাফিন চলে গেছে। এই মেয়েদের মধ্যে মা দেখলে চিবিয়ে খাবে। লিমা শাফিনের যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলল, ‘শাফিন ভাইয়া ওভাবে চলে গেল কেন??’

সায়েন ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকালো। চট করে ওর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। শাফিনকে বরাবরই বাশ খাওয়ায় সায়েন। এবার ও তার পরিবর্তন হলো না। সে মুখটা গোমড়া করে বলল,’আসলে ভাইয়া মনে মনে তোমাকে ভিশন পছন্দ করতো। মায়ের জন্যে কিছু বলতে পারেনি। তাই মনটা খুব খারাপ। আসতেই চাইছিল না আজকে। আমিই জোর করে নিয়ে এলাম। কি বলোতো ভালোবাসে তো তাই কষ্ট হচ্ছে খুব।’
সায়েন লিমার দিকে তাকালো। লিমা মুখটা ফ্যাকাসে করে ফেলছে। সায়েন তা দেখে ঠোঁট টিপে হাসলো। যাক কাজ হয়েছে তাহলে। সায়েন আর বসলো না বের হয়ে গেল। এখন ওর খুশিতে লাফাতে ইচ্ছে করছে। এরপর লিমা কি করবে??তা ভেবেই হাসি পাচ্ছে সায়েনের। এসব ভাবতে ভাবতেই জয়নব বেগমের সামনে পড়লো সায়েন। সাথে সাথে ওর মুখের হাসি গায়েব হয়ে গেল। জয়নব বেগম ভালো করে সায়েনকে দেখে নিয়ে বলল,’একা একা ঘুরছো কেন??শাফিন কোথায়??আর এই থ্রিপিস পড়েছো কেন?? তোমাকে না সবুজ রঙের থ্রিপিস পরতে বলেছি?? তাড়াতাড়ি যাও।’

সায়েন মাথা নিচু করে চলে আসে। মুখটা গোমড়া করে জামা পাল্টে শাফিনের পিছু নেয়।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সবাই সাজগোজ করতে ব্যস্ত। লিমা আর ওর কাজিনরা পার্লারে চলে গেছে। সায়েনকে যাওয়ার জন্য বলেছিল কিন্তু জয়নব বেগম যেতে দেননি। তার ধারণা যে পার্লারের ওই মেকআপ সায়েনের স্কীন নষ্ট করে দেবে। তাই তিনি নিজেই সায়েনকে সাজতে হেল্প করছে। হলুদ রঙের শাড়িটা সুন্দর করে সায়েনকে পরিয়ে দিলেন তিনি। খোপা করে তাতে ফুল গুঁজে দিলেন। মেকআপ তো দিলেনই না। শুধু কাজল দিয়ে দিলেন আর শায়েন আইশ্যাডো দিলো নিজে নিজে। সবশেষে লিপস্টিক দিলো। ব্যাস হয়ে গেল সাজ কম্পিলিট। শাফিন ও হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরেছে। সায়েন শাফিনকে দেখে ভেংচি দিলো। শাফিন বলল,’পেত্নির মতো লাগছে তোকে। দেখবি সবাই তোকে দেখলে ভয়ে পালাবে।’

‘যা যা, তোকে দেখতে হাদরামের মতো লাগছে।’
জয়নব বেগম দুজনের কানের পিছনে কাজলের ফোঁটা এঁকে দিয়ে বললেন,’আমার ছেলেমেয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর। কারো যেন নজর না লাগে।’
সায়েনের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো। সে মা’কে জড়িয়ে ধরল। অপরপাশ থেকে শাফিন ও ধরলো। দুজনের কপালে চুমু এঁকে দিলেন জয়নব বেগম তারপর বললেন,’যাও এখন। দু’জনে সবসময় একসাথে থাকবে।’

সায়েন আর শাফিন মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। শাফিনের মাথায় আবার ফটোশুট করার ধান্দা চেপেছে। সায়েনকে স্টেজে উঠিয়ে সে ছবি তুলছে। লিমার কোন পাত্তাই নেই। দেখে মনে হচ্ছে সায়েনই কনে। অবশেষে লিমাকে আনা হলো। একে একে সবাই হলুদ ছোঁয়ায়। শাফিন যখন লিমাকে হলুদ ছোঁয়ায় তখন লিমা গোমড়া মুখে শাফিনের দিকে তাকিয়ে বলল,’সরি শাফিন ভাইয়া আমি জানতাম না আপনি আমাকে ভালোবাসেন তাহলে আমি এই বিয়ে করতামই না। আমি তো ভেবেছিলাম একা আমিই আপনাকে ভালোবাসি। কিন্তু আজ সায়েন যখন সত্যিটা বলল তখন আমার খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু এখন তো কিছু করার নেই। আপনি ভালো একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিয়েন।’
লিমার মুখটা দেখার মতো ছিল। শাফিন তো অবাক। সায়েন এসব বলেছে??চোখ ঘুরিয়ে সে সায়েনের দিকে তাকাল। সায়েন মুখে হাসি ঝুলিয়ে শাফিনের দিকে তাকিয়ে আছে। শাফিন কটমট করে তাকালো সায়েনের দিকে। দ্রুত নেমে পড়লো স্টেজ থেকে। আর যায় কোথায়??সায়েনকে সে তাড়া করেছে। সায়েন এক প্রকার হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে। দৌড়াদৌড়ি শেষ করে দুজনে চেয়ারে বসে হাপাচ্ছে। তখনই শাফিনের কল আসলো। রুহি ফোন করেছে। শাফিন একটু কথা বলে ফোন কেটে দিয়ে সায়েনের দিকে তাকালো। সায়েন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শাফিন মেকি হেসে বলল,’সায়ু যাবি আমার সাথে??’

‘কোথায়??’

‘এইতো সামনে!!রুহির সাথে দেখা করতে। জাস্ট পনেরো মিনিটের রাস্তা।’

‘মা যদি জানতে পারে তাহলে??’

‘জানবে না!! দেখছিস না মা কাজে ব্যস্ত। রাত বেশি হয়নি চল যাই। আমরা আসতে আসতে হলুদের ফাংশন শেষ হয়ে যাবে।’

সায়েন কিছু একটা ভেবে চট করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,’আচ্ছা ঠিক আছে। আমি চাবি নিয়ে আসি দাড়া।’

সায়েন রুমে গিয়ে চাবি নিয়ে আসলো। ওরা দুজনে চুপিচুপি স্কুটি নিয়ে বাইরে চলে আসলো। শাফিনকে কঙ্খিত স্থানে নামিয়ে দিয়ে সায়েন বলল,’ভাইয়া তুই থাক আমি একটু আসছি।’
বলেই সায়েন স্কুটি নিয়ে চলে এলো। শাফিন বারণ করেছিল কিন্তু সায়েন শোনেনি। সায়েন বাড়ির পথ ধরলো। বিকেলে আরাদের কাছে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সায়েন তা পারেনি। এখন সুযোগ এসেছে। আর এই সুযোগটা কিছুতেই মিস করতে চায় না সায়েন। বেশি দূর নয় ওদের বাড়ি।

_______________

জয়নব বেগম আর শফিকুল ইসলামের রুমের মেঝেতে হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে জোনায়েদ আর আরাদ। আরাদের হাতে হুইস্কির বোতল আর কোলের উপর ল্যাপটপ। একটু পর পর হুইস্কির বোতলে চুমুক দিচ্ছে আর ল্যাপটপে কাজ করছে। জোনায়েদ ও আরাদের সাথে বসে আছে। জোনায়েদ বলে ওঠে,’তুই বিয়ে বাড়ীতে সায়েনের উপর নজর রাখার জন্য গার্ড পাঠালি না। কেন বলতো??’

আরাদ ল্যাপটপের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল, ‘দরকার নেই!!’

জোনায়েদ অবাক হয়ে বলে,’দরকার নেই মানে??’

আরাদ এবার দৃষ্টি সরিয়ে জোনায়েদের দিকে তাকালো বলল,’ওখানে আমার পেয়ারি হবু শ্বাশুড়ি মা আছে। সে আমার বউ এর দিকে অলটাইম নজর রাখবে। আর যদি সায়েন বাড়ির বাইরে বের হয় তবেই আমার গার্ডরা ওকে ফলো করবে বুঝেছিস। তাই জাস্ট রিল্যাক্স।’
জোনায়েদ পা ভাঁজ করে বসে বলল,’তোর শ্বাশুড়ি তো খুব ড্যান্জেরাস মনে হচ্ছে।’

‘পুরাই সাইকো শ্বাশুড়ি।’

বলতে বলতে আরাদের ফোন বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করতেই অপর পাশে থেকে বলে উঠলো,’স্যার ম্যাডাম বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে। কিছুক্ষণ এর মধ্যে পৌঁছে যাবে। আপনি সাবধান হোন।’

আরাদ ফোন কেটে দিয়ে বলে উঠলো,’এই রাতের বেলা সায়েন আসছে!! অদ্ভুত তো।’

‘তোকে না দেখে থাকতে পারছে না যে। তাই আসছে। আহ্ কি প্রেম।’

আরাদ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,’তাড়াতাড়ি এসব সরা সায়েন এসে দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।ওঠ এখন??’
জোনায়েদ উঠে দাঁড়িয়ে হুইস্কির বোতল হাতে নিয়ে বলল,’এসব কোথায় রাখব??

‘খাটের তলায় রাখ আর তুইও খাটের তলায় লুকিয়ে পর। সায়েন আর যেখানেই যাক না কেন তার মা বাবার রুমে অন্তত আসবে না। তবুও সাবধানের মার নেই। লুকিয়ে পর তুই।’
জোনায়েদ লুকিয়ে পড়লো খাটের তলায়। আরাদ সায়েনের রুমে চলে গেল। কারণ সায়েন সবার আগে নিজের রুমেই আসবে। আরাদ তাই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার ভান ধরলো।
কিছুক্ষণ পর সায়েনের স্কুটি এসে ওদের বাড়ির সামনে থামলো। বাড়ির চাবি সে নিয়েই এসেছিল। চাবি দিয়ে দরজা খুলে সে ভেতরে ঢুকল।‌ আরাদের ধারনাই ঠিক ছিল। সায়েন সর্বপ্রথম নিজের রুমেই আসলো। আরাদকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ডাকলো না। ড্রিম লাইট জ্বালানো। সেই আলোতে আরাদের মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সায়েন টুল টেনে বসলো আরাদের সামনে। এতক্ষণে সায়েনের শান্তি হচ্ছে। বড় নিঃশ্বাস ফেলে আরাদের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালো। এই মুখের দিকে তাকালে সায়েন দফায় দফায় ক্রাশ খায়। তাই তো সে এই রাতের বেলায় ছুটে এসেছে। আরাদের দিকে তাকিয়ে হাসলো সায়েন।

‘আমাকে মিস করছিলে বুঝি??’

আরাদের কন্ঠে চমকে উঠে সায়েন। তারমানে আরাদ জেগে আছে ঘুমায় নি??সায়েন সোজা হয়ে বসে পড়লো। আরাদ শোয়া থেকে উঠে এসে লাইট জ্বালিয়ে দেয়। সাথে সাথে চোখ কুঁচকে ফেলে সায়েন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে বলল,’আপনি ঘুমাননি??’

আরাদ মুচকি হেসে বলল,’আমার প্রশ্নের উত্তর আগে চাই??’

সায়েন কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। সত্যি তো এই রাতের বেলা আসা কি দরকার ছিল??এতো টান কেন আরাদের প্রতি??সায়েন আমতা আমতা করে বলল,’আ আসলে বিকেলে তো আসা হয়নি। আর এখন সুযোগ পেলাম তাই এলাম। আপনি একা কি করছেন তাই দেখতে এসেছি। কি খেয়েছেন??’

আরাদ খাটের উপর গিয়ে বসে বলে, ‘তোমাদের ঘরে নুডুলস ছিল তাই রান্না করে খেয়েছি।’

‘ওহ কালকে বিকালে আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসব।’
বিনিময়ে আরাদ হাসলো বললো,’তোমাকে খুব মিস করছিলাম।’

সায়েন মাথা নিচু করে নিলো। কি বলবে তা বুঝতে পারছে না। ঠোঁট কামড়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে সে। একটু চুপ করে থেকে বলল,’আমি যাই নাহলে ভাইয়া চিন্তা করবে।’

সায়েন চলে যেতে উদ্যত হলে আরাদ বলল, ‘চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।’
সায়েন কিছু বলল না বাইরে চলে এলো। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ফিরে তাকাল আরাদের দিকে। আরাদ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে সায়েনের দিকে। হলুদ শাড়িটা বেশ মানিয়েছে সায়েনকে। হালকা সাজে আরো সুন্দর লাগছে। আরাদ আনমনেই বলে উঠলো,’শাড়িতে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।’

সায়েন চলে যেতে নিচ্ছিল আরাদের কথায় আবার ঘুরে তাকালো। আরাদের চোখে স্পষ্ট মুগ্ধতা দেখতে পাচ্ছে সায়েন। দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয় সায়েন। এভাবে তাকালে ও নিজেও সেই মুগ্ধতায় আটকে যাবে। তখন আর এখান থেকে যাওয়া হবে না। সায়েন চলে যেতে নিয়ে আবার ঘুরে তাকালো। ওর গালে হলুদ লেগে আছে। লিমার কাজিন লাগিয়ে দিয়েছিল। সায়েন গালে হাত দিয়ে হলুদ এনে আরাদের গালে আলতো করে লাগিয়ে দিলো। সায়েনের ঠোঁটে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠলো। আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না সে। দরজা আটকে দিয়ে চলে এলো। নিজের এরকম কান্ডে সায়েন নিজেই অবাক। লজ্জাও লাগছে খুব। বেশরমের মতো কি কাজ করে বসলো??ধ্যাত। সায়েন এবার নিজের অনুভূতি বুঝতে পারছে। ও বুঝেছে যে আরাদের প্রতি আলাদা অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছে ওর মধ্যে। যা অন্যরকম সুখানুভূতি হচ্ছে সায়েনের।

আরাদ রুমে চলে গেছে। গালে ছোঁয়ানো সায়েনের হলুদ এখনও লেগে আছে। আরাদের খুব খুশি লাগছে আজকে। সায়েন একটু একটু করে ওকে ধরা দিচ্ছে। সটান হয়ে শুয়ে পড়লো আরাদ। চোখ তুলে পাশে তাকিয়ে দেখলো জোনায়েদ দাঁড়িয়ে আছে। সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,’তোকে হলুদ লাগাতে এসেছিল!!ওহহো কি প্রেম রে!!’

‘তুই যা এখান থেকে। আমাকে একটু একা থাকতে দে।’

‘প্রেজক্ট ভালো করে চেক করবি না??’

‘কালকে দেখব এখন যা তো??’

‘কোথায় যাব?? এখন বাড়িতে যেতে ভালো লাগছে না। আমি তোর কাছে ঘুমাই???’

‘চুপ!!!এটা আমার আর সায়েনের রুম তুই এখানে কেন থাকবি??যা আমার শ্বাশুড়ির রুমে যা।’

জোনায়েদ চুপচাপ চলে গেল। আরাদ চোখ বন্ধ করে সায়েনের ভাবনায় ডুবে গেল। এভাবেই ঘুমিয়ে পড়লো আরাদ।
সকালে জোনায়েদের ডাকে ঘুম ভাঙল আরাদের। চোখ কুঁচকে উঠে বসে বলল,’কি হয়েছে?? সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগালি কেন??’

জোনায়েদ দাঁত কেলিয়ে বলল,’আঙ্কেল ফোন করেছিল। আমাদের অফিসের একজন কর্মচারীর বিয়ে আজকে। তুই তো নেই তাই আমাকে যেতে বলেছে। আঙ্কেল নাকি যেতে পারবে না। কিন্তু আমার কথা হলো তুইও চল। দু’জনে একসাথে ভালোমন্দ খেয়ে আসি।’

আরাদ ভাবলো কথাটা মন্দ নয়। যাওয়াই যাক। তাই দুজনে বেরিয়ে পড়লো। প্রথমে দু’জনে আরাদের ফ্ল্যাটে গেল। আরাদ রেডি হয়ে নিলো সাথে জোনায়েদ ও। নিজেদের গাড়ি নিয়ে বের হলো দুজনে। আরাদকে দেখে সবাই খুশী। অফিসের বস এসেছে বিয়ে খেতে। সবাই খুশি মনে আরাদকে টেনে নিল।

বরযাত্রীতে গিয়ে গেটের সামনে আরাদ গেলো না। দরকার কি??এসেছে খেতে খেয়েই চলে যাবে। বর ঢুকতেই আরাদ আর জোনায়েদ গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। খাওয়া দাওয়া করার জন্য টেবিলের কাছে যেতেই শফিকুল ইসলাম এর সামনে পড়লো দুজনে। আরাদ তো অবাক। শফিকুল ইসলাম প্রগাঢ় দৃষ্টি মেলে তাকালো আরাদের দিকে। তিনি বললেন,’তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি।’

আরাদ মনে মনে বলে উঠলো,’এই রে কাজ সেরেছে।’
শফিকুল ইসলাম একটু ভেবে বলল,’কিন্তু মনে পড়ছে না।’
জোনায়েদ মেকি হেসে বলল,’আরে আঙ্কেল ওকে তো কত মানুষ দেখেছে। টিভি চ্যানেলে শো করে তো!! অনেক নাম ডাক ওর।’

শফিকুল ইসলাম মাথা নাড়িয়ে বলল,’ওহ আচ্ছা।’ বলতে বলতে তিনি চলে গেলেন। আরাদ জোনায়েদের দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল,’মিথ্যা বললি কেন??’

‘দেখছিস না বুড়ো মানুষ। এই বয়সে সবাই আবোল তাবোল বকে ‌ তাই বলে দিলাম।’

‘গাধা সায়েনের বাবা ইনি। হঠাৎ একদিন আমাকে ওনার ছাদে দেখে ফেলেছিলেন। তারপর থেকেই মনে করছেন।’

‘তাতে কি??চল আমরা খেয়ে দেয়ে কেটে পরি।’

‘আরে ছাগল, এখানে নিশ্চয়ই সায়েন আছে। তারমানে এখানেই ওরা বিয়ে খেতে এসেছে। আমাকে এখানে দেখে ফেললে শেষ।’

‘তাই তো এটা তো আমি ভাবিনি।যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়।’

বলতে বলতেই সায়েনের আগমন। আরাদ উপায়ন্তর না দেখে টেবিলের নিচেই লুকিয়ে পড়ল। আর জোনায়েদ হ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল। শেষে আরাদ কিনা টেবিলের নিচে লুকালো!!!!

#চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here