চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩০

0
178

চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩০
#লেখা: ইফরাত মিলি

____________

আজকের দিন রোদ্রজ্জ্বল, ঝকঝকে। নায়াগ্রা ফলস দেখার জন্য এমন একটি দিনই সেরা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দেখা গেছে আজকে সারাদিনই এমন রোদ থাকবে। মিতুল’রা দুপুরের দিকে বেরিয়ে পড়লো নায়াগ্রার উদ্দেশ্যে। টরোন্টোর একটি হোটেলে উঠেছে ওরা। এখান থেকে নায়াগ্রা পৌঁছতে এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের মতো লাগলো। টরেন্টো থেকে নায়াগ্রার অবস্থান প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। নায়াগ্রা এলাকায় প্রবেশ করার পর মিতুলের চক্ষু চড়কগাছ। জলপ্রপাত কোথায়? সারি সারি ভবন, ক্যাসিনো, হোটেল-মোটেল, নানা রঙ-বেরঙের আয়োজন চারপাশে। অন্য এক ঝকঝকে শহর। কিছুক্ষণের মধ্যে ভুল ভাঙলো ওর। জানতে পারলো, মূলত নায়াগ্রা ফলসকে কেন্দ্র করে আশেপাশে বিনোদন নগরী গড়ে উঠেছে।
প্রথমেই মিতুলরা গিয়ে দাঁড়ালো নায়াগ্রার সেই অংশের পাশে, যেখানে প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ ঘনফুট জলরাশি প্রায় একশ নব্বই ফুট নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচ থেকে এ জায়গাটির উচ্চতা তেরো তলা ভবনের সমান। নায়াগ্রা জলপ্রপাতের অবস্থান কানাডা ও আমেরিকার মাঝখানে। একপাড়ে কানাডা, অন্যপাড়ে আমেরিকা। জলপ্রপাতের পানি পড়ে দুই পাহাড়ের মাঝখানে বিশাল নদী তৈরি হয়েছে। সারাক্ষণ প্রচণ্ড বেগে ঝরনা ধারা চলছেই। আর পাহাড়ের মধ্যেই শহর। সুবিশাল এলাকায় কয়েক’শ ফুট উঁচু থেকে জলের ধারা নামছে।
মিতুল রেলিং ধরে নিচের দিকে তাকালো। বিপুল জলরাশি নিচের পাথরে ধাক্কা খেয়ে অসংখ্য জলকণা সৃষ্টি করছে, যা আবার উপরে উঠে আসছে।
জলপ্রপাতটির পানির ধারার বেগ এতই যে, নদী থেকে ছিটকে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কুয়াশার মতো ভাসতে থাকে। দেখে মনে হয় যেন ধোঁয়ার কুণ্ডলী। আর আশেপাশের এলাকায় বৃষ্টির মতো জল ঝরতে থাকে অবর্ণনীয়!
মিতুলরা যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেটি নায়াগ্রার তিনটি প্রবাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটির নাম, ‘হর্সসু’। হর্সসুয়ের বেশির ভাগটাই কানাডাতে পড়েছে।

মিতুলের হঠাৎ জোহানের কথা মনে পড়ে গেল। জোহানের কালকে বলা শেষ কথাটি এক বার মনে মনে আওড়ালো মিতুল,
‘জোহানের সাথে এই মুগ্ধ, বিস্ময় প্রকৃতিতে হারিয়ে যাব আমি। আমার অবুঝ মনের আসল চাওয়া আমিও খুঁজতে পারি।’
এই কথাই তো জোহান ও কে বলতে বলেছিল মনে মনে। কিন্তু কেন? কী মানে এই কথার? মিতুল কাল থেকে ভেবেও কোনো মানে দাঁড় করাতে পারেনি। ওর মনে হচ্ছে জোহান নিজেও জানে না নিজের এই কথার মানে। পাগলের মতোই একেক সময় আজব আজব কথা শোনায় ও কে। যেটার মানে জোহান নিজেই জানে না, সেটার মানে ওর খুঁজে বের করা তো ইম্পসিবল। মিতুল জোহানের কথা মাথা থেকে ঠেলে বের করে দিলো।

পাশেই মার্কেট এবং মিউজিয়াম রয়েছে। ওদিকে যাওয়ার আগ্রহ দেখা গেল না রেশমী আন্টি এবং জায়িনের মাঝে।
রেশমী আন্টি বললেন, মিউজিয়ামে আছে নায়াগ্রার ওপর তথ্য, ছবি ইত্যাদি।
চোখের সামনে প্রকৃতির অপার প্রাণময় সৌন্দর্য দেখে, তথ্যের জন্য মিউজিয়ামে যাওয়ায় মিতুলের মন টানলো না। ওর এসব তথ্য জানাজানিতে আবার ভীষণ অনীহা।
অনেকটা সময় ধরে মিতুলরা নায়াগ্রার পাশে থাকলো। যে জায়গাটায় পানি পড়ছে তার যতটা কাছে যাওয়া যায়, গেল। চেষ্টা করলো পানি পতনের শব্দ শুনতে।

সন্ধ্যার পরপরই হোটেলে ফিরলো মিতুলরা। ট্যাক্সি একেবারে হোটেলের সামনে এসে থেমেছে। সবার আগে ট্যাক্সি থেকে নেমেই দ্রুত পায়ে হোটেলে ঢুকে গেল জায়িন।
মিতুল লক্ষ্য করেছে জায়িন কেমন গম্ভীর ভাব নিয়ে থেকেছে সারাদিন। যদিও জায়িন একটু গম্ভীর স্বভাবেরই। তবে, আজকে গাম্ভীর্য ভাবটা অন্য রকম ছিল। একটু বেশিই। শুধু আজকে না। কালকে থেকেই এমন করছে জায়িন। ওর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে অপমানও তো করলো কালকে। কালকের অপমানের কথা মনে পড়তেই মিতুলের মন বিষাক্ত হয়ে ওঠে বার বার। আজকে সারাদিন কত কষ্টে যে জায়িনের সাথে ছিল, তা শুধু ও জানে। যে লোকটা ওর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে কালকে অপমান করেছে, সেই লোকটার সাথে আজকে ঘুরে বেড়ানো কোনো স্বস্তির বিষয় নয়। কিন্তু, জায়িনের হঠাৎ এত গাম্ভীর্যের মানে কী সেটা ও বুঝতে পারছে না। হঠাৎ করে কী হলো জায়িনের?

জায়িন রুমে এসেই উইন্ডোর কাছের আর্ম চেয়ারে বসে পড়লো। আজকের দিনটা বড্ড বাজে ভাবে কেটেছে ওর। টরোন্টোতে ওর কোনো কাজ নেই, অথচ নিজের অফিসের কাজ ফেলে টরোন্টো এসে বসে আছে। মম কীসের জন্য বলিয়ে, কইয়ে ছুটি নেওয়ালো? নিজেই তো মিতুলকে ঘুরিয়ে দেখাতে পারে সব। শুধু শুধুই ও কে এনেছে সাথে। ড্যাম ইট! জায়িন চেয়ার ছেড়ে উঠে জ্যাকেটটা খুলে রাখলো। ফ্রেশ না হয়েই গা এলিয়ে দিলো বিছানায়। চোখ বন্ধ করতেই হঠাৎ গত কালকের কথা মনে পড়ে গেল। কালকে সকালে ফ্রেডি ফোন করেই জোহানের কথা জিজ্ঞেস করেছিল। বলেছিল, জোহানের কিছু হয়েছে কি না। হঠাৎ করে জোহানের সম্পর্কে এমন প্রশ্ন করার কারণ জানতে চাইলেই ফ্রেডি বললো, জোহান আজব আচরণ করেছে ওর সাথে। কফিশপে গিয়েছিল ও। সেখানে হঠাৎ মিতুলের সাথে দেখা হয়ে যায়। তো, মিতুলের সাথে কথাবার্তা বলছিল। এর মাঝেই জোহান হুট করে কোত্থেকে এসেই উগ্র টাইপ আচরণ করেছে ওর সাথে। মিতুলকে ওর সামনে থেকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেছে।
ফ্রেডির কাছ থেকে খবরটা শুনেই প্রচণ্ড রকমের মাথা গরম হয়েছিল জায়িনের। যদিও জোহানকে এ নিয়ে কিছু বলেনি ও। জোহানের সাথে কথা বলতেও অনিচ্ছা হয় ওর। জোহান কী করে ওর ফ্রেন্ডের সাথে এরকম বিহেভ করে সেটা এখনও বুঝে আসছে না ওর। জোহান দিনকে দিন নিজের উগ্র আচরণ ওর ফ্রেন্ডসদের সাথেও দেখানো শুরু করেছে! কত বড়ো স্পর্ধা জোহানের!
আর, মিতুল! মিতুলের সাথে জোহানের এত ঘোরাঘুরি, হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, এসব তো মোটেই স্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক! দৃষ্টিকটু। যেটা ওর দৃষ্টি অতিক্রম করে ওর মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে সরাসরি। মিতুলের সাথে জোহানের এত মেলামেশা, ঘোরাঘুরি অত্যাধিক খারাপ লাগে ওর। সহ্য হয় না! ধীরে ধীরে এই অসহ্যের মাত্রাটা বেড়ে যাচ্ছে আরও। কেন এমন হচ্ছে জানে না ও। শুধু জানে জোহানের সাথে মিতুলের মেলামেশা অপছন্দ ওর। অসহ্য লাগে এসব। জোহান এবং মিতুলের ব্যাপার যে স্বাভাবিক নয়, সেটা ভ্যাঙ্কুভার থাকতেই টের পেয়েছিল। যেদিন জোহান উইনিপেগ থেকে ভ্যাঙ্কুভার এসেছিল!

___________

তিন দিনের সফর শেষ হলে এডমন্টন ফিরে এলো মিতুল’রা। আজকের সকাল নয় টার ফ্লাইটে এসেছে। মিতুলের চোখে এখনও নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ঘোর লেগে আছে। কী বিস্ময়, মুগ্ধ ঘেরা প্রকৃতি। আসার আগে আরও একবার গিয়েছিল সেখানে। নায়াগ্রা জলপ্রপাত ছাড়াও টরন্টোর আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরেছে। আর্ট গ্যালারি অব অন্টারিও, হাই পার্ক, কাসা লোমা, টরন্টো জু ইত্যাদি জায়গায় ঘুরেছে।

বাড়ি ফিরেই বেশ উদাস উদাস অনুভব করছে মিতুল। টরন্টো যাওয়ার পর জোহান একবারও কল দেয়নি ও কে। আর না দিয়েছে একটা ম্যাসেজ। জোহান কল, ম্যাসেজ দেয়নি দেখে রাগ করে ও নিজেও দেয়নি আর। বন্ধুদের সাথে সাত দিন ব্যাপী পার্টি করায় ও কে ভুলে গেল না কি জোহান? হ্যাঁ, যেতেই পারে। জোহানের দ্বারা এসব সম্ভব হতে পারে। কিন্তু, ও ভুলে যায়নি। ঠিকই মনে রেখেছে জোহানকে। শুধু মনেই রাখেনি, টরোন্টো থেকে গিফটও কিনে নিয়ে এসেছে ওর জন্য। আর এই গিফটা দেবে বলেই ওর মন এত আকুপাকু করছে। কবে বাড়ি ফিরবে জোহান? সাত দিন এখনও হয়নি?

সকাল কাটলো কেমন একাকীত্ব, একাকীত্ব নিয়ে। দুপুরটাও তাই। বিকেলটাও তেমনই কাটছে এখন। মোবাইল সাথে নিয়ে নিয়ে ঘুরছে। কিন্তু কোনো কলই আসছে না। হ্যাঁ, দুইবার এসেছিল। কিন্তু তা বাংলাদেশ থেকে আব্বু এবং ছোট মামনির ছিল। জোহানের নয়। মিতুল শেষমেশ আর নিজের ধৈর্য ধরে রাখতে পারলো না। ছুটে এলো ক্যামিলার কাছে। ক্যামিলা এখন গার্ডেনে। আনারস কাটছিল। মিতুল এসেই বললো,
“জোহান কবে বাড়ি ফিরবে বলো তো?”

ক্যামিলা একবার চোখ তুলে তাকালো মিতুলের দিকে। তারপর আবার অনারস কাটায় মন দিয়ে বললো,
“জোহান কোথায় গেছে যে বাড়ি ফিরবে?”

মিতুল সন্দিহান দৃষ্টি মেলে চাইলো।
“মানে? জোহান রিকার্ডোর ফ্ল্যাটে নেই? সাত দিন ব্যাপী পার্টি করছে না ওরা?”

ক্যামিলা একটু হেসে বললো,
“না, নেই। গিয়েছিল পার্টির জন্য। কিন্তু, ওদের পার্টি হয়নি। জোহান বাড়িতেই আছে। এ কদিন বাড়িতেই ছিল। একটু আগেই ঘুম থেকে উঠে টাইম হাউজে গেছে ও।”

মিতুল হা হয়ে ক্যামিলার কথা শুনলো। জোহান বাড়িতে ছিল? একটু আগেও নিজের রুমে ঘুমাচ্ছিল? এর মাঝে ও টের পায়নি? সেই সকাল থেকে বাড়িতে অথচ এক বারও দেখা হয়নি জোহানের সাথে? জোহান একবার দেখা করতেও আসলো না? এতটা বেইমান জোহান?
মিতুল দৌঁড়ে নিজের রুমে চলে এলো। ছোট একটা বক্স নিয়ে আবার বেরিয়ে গেল রুম থেকে। ফেরত এলো গার্ডেনে। না, গার্ডেনে আসেনি। টাইম হাউজে যাবে বলে এসেছে। মিতুল জোহানের জন্য আনা গিফট নিয়ে জঙ্গলের পথে চলে গেল।
ক্যামিলা মিতুলের কাণ্ড দেখে নিঝুম হাসলো পিছনে বসে।

মিতুল টাইম হাউজের কাছাকাছি আসতেই জোহানকে দেখতে পেল। সিঁড়িতে গিটার নিয়ে বসে আছে। একেবারে কাছে এসে দেখলো সাথে পেপার, পেনও আছে।

মিতুল এসেই বলে উঠলো,
“তুমি কি মানুষ? তুমি এই চার দিনে একটা বারও কল দিলে না আমায়। একটা ছোট ম্যাসেজও দাওনি। বাড়িতে বসে থেকে, রিকার্ডোর ফ্ল্যাটে আছো এমন মিথ্যা বুঝে রেখেছো আমাকে। এমন কেন করেছো তুমি?”

জোহান নির্বিকার কণ্ঠে বললো,
“কল? ম্যাসেজ? আমি কি এমন কোনো ওয়াদা করেছিলাম যে তোমাকে প্রত্যেক দিন কল, ম্যাসেজ দেবো?”

মিতুল থতমত খেয়ে গেল। কিন্তু দমলো না।
“না আমার কাছে কেন এমন ওয়াদা করবে? কেনই বা আমার কাছে কল দেবে? গার্লফ্রেন্ড আছে না? গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলেই পুরো দিন পার করবে।”

মিতুলের কথায় বিরক্ত হয়ে এবার জোহান সিঁড়ি থেকে উঠে এলো।
“লিসন, ও আমার গার্লফ্রেন্ড নয়। একটা কথা বার বার কেন বলতে হয় তোমাকে?”

“আবারও ইনোসেন্ট সাজার চেষ্টা করছো?”

“ইনোসেন্ট সাজার চেষ্টা করছি না। আমি ইনোসেন্টই। কার্লের মতো ইনোসেন্ট সাজার অভিনয় করি না।”

কার্লের কথা গায়ে লেগে গেল মিতুলের।
“কথায় কথায় কার্লকে কেন টানো? কে বলেছে তোমাকে কার্ল ইনোসেন্ট সাজার অভিনয় করে? ও ইনোসেন্টই। অভিনয় করতে হয় না ওর। যা অভিনয় করার তা তো তুমি করো। অবশ্য তাও পারো না।”

“বাহ, কখনো ফ্রেডির জন্য টান লাগে তোমার, কখনো কার্লের জন্য। এদের জন্য এত টান অনুভব করো কেন তুমি? কী এমন বিশেষত্ব আছে ওদের মাঝে?”

“ফ্রেডির সাথে কার্লকে মিলাবে না। ফ্রেডির কোনো যোগ্যতা নেই কার্লের মতো হওয়ার। কার্ল অনন্য।”

“কী? অনন্য?” মুখ টিপে হাসলো জোহান।
যা খুব করে গায়ে লাগলো মিতুলের।
ইতোমধ্যে মিতুলের হাতের ছোট বক্সটি নজরে এসেছে জোহানের। জোহান এ বিষয়ে আর কথা না বাড়িয়ে বললো,
“এটা কী?”

মিতুলের মন মুহূর্তে ভালো হয়ে গেল। মিতুল বক্সটা উঠিয়ে বললো,
“এটা? এটা তোমার জন্য।”

জোহান বিস্ময়ের সাগরে ডুবে গেল।
“আমার জন্য?”

মিতুল হাসি হাসি মুখে মাথা নাড়িয়ে বললো,
“ইয়াহ, ইট’স ইওর।”

মিতুল বক্সটা খুললো। একটা কলম দেখা গেল ভিতরে।
জোহান বললো,
“পেন?”

মিতুল কলমটা তুলে নিলো। জোহানের এক হাতে কলমটা দিতে দিতে বললো,
“হুম, পেন। নিজে গিয়ে কিনেছি তোমার জন্য। টরন্টোর শপ থেকে। যখন তুমি ফেমাস হবে, তখন অটোগ্রাফ দেবে এটা দিয়ে। ভেবো না যে সস্তায় কিনেছি এটা। অনেক দামি এটা। জীবনে এত দামি পেন কিনিনি কারও জন্য। নিজের জন্যও না। ফেমাস হলে তো অবশ্যই দামি পেন দিয়ে অটোগ্রাফ দিতে হবে তোমার। সে কথা চিন্তা করে অনেক দাম দিয়েই পেনটা কিনেছি তোমার জন্য।”

জোহান একবার হাতের পেন দেখলো, আরেকবার মিতুলকে।
মিতুল হঠাৎ কেমন নিস্তেজ কণ্ঠে বললো,
“তুমি যখন ফেমাস হবে, তখন তো আমি থাকবো না এখানে। আমি তো মাত্র তিন মাসের জন্য এখানে এসেছি। নয়তো ফেমাস হওয়ার পর প্রথম অটোগ্রাফটা আমিই নিতাম।”
মিতুল একটু থামলো। হঠাৎই আবার হাসি ফুঁটিয়ে বললো,
“থাক, কোনো ব্যাপার না। প্রথম অটোগ্রাফ আমি নিতে পারব না তো কী হয়েছে। আমার দেওয়া পেন দিয়ে তুমি অটোগ্রাফ দেবে সেটা তো অনেক আনন্দের হবে, তাই না? আমার দেওয়া পেন দিয়েই কিন্তু অটোগ্রাফ দিও। ফেমাস হয়ে যাওয়ার পর আবার আমার পেনকে তুচ্ছ করে ফেলে রেখো না।”
বলে যাওয়ার পথ ধরলো মিতুল।

জোহান পিছন থেকে তাকিয়ে রইল। মিতুল বেশ কয়েক পা দূরে চলে যাওয়ার পর জোহান পিছন থেকে ডাকলো,
“হেই তুলতুল!”

জোহানের ডাক কানে আসার সাথে সাথে মিতুলের পা থেমে গেল। পিছন ফিরে তাকালো ও। জোহান ঠোঁটে মৃদু হাসি ধরে রেখে এগিয়ে এলো ওর কাছে। কাছে এসে দুই হাতে মিতুলের চিবুক ধরে বললো,
“ফেমাস হওয়ার পর আমার প্রথম অটোগ্রাফ আমি তোমাকেই দেবো। তুলতুলের দেওয়া কলমেই অটোগ্রাফ দেবে জোহান। আর এই জোহান যখন ফেমাস হবে, তখন তুলতুল ওর সাথেই থাকবে। শুধু ফেমাস হয়ে যাওয়ার সময়েই নয়, তুলতুল সবসময়ই এই জোহানের সাথেই থাকবে।”

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here