চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩৪

0
174

চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩৪
#লেখা: ইফরাত মিলি

____________

মিতুলের মন ভালো না। প্রায় পঁচিশ মিনিট ধরে বসে আছে গার্ডেনের দোলনায়। ঘরে ঢুকবে তার কোনো উপায় নেই। কারণ ফ্রেডি এসেছে বাড়িতে। ও বিকাল বেলা গার্ডেনে এসেছিল একটু গার্ডেনের ফুল গুলোর সাথে সাক্ষাৎ করতে। সাক্ষাৎ শেষে ঘরে ঢুকে দেখলো ফ্রেডি হাজির হয়েছে। ফ্রেডিকে দেখেই আবার গার্ডেনে ব্যাক করেছে ও। পরে ঘরে ঢুকবে ঢুকবে করেও আর ঢুকতে পারলো না। কারণ জায়িন এবং ফ্রেডি আড্ডা পাতলো ঠিক হলরুমে। এত জায়গা থাকতে হলরুমেই কেন আড্ডা পাততে হবে ওদের? মিতুল কিছুতেই ফ্রেডির মুখোমুখি হতে চায় না। তাই হলরুম পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে যাওয়ার কথা দুরস্বপ্নেও ভাববে না ও। মিতুল ঠিক করলো যতক্ষণে না ফ্রেডি বাড়ি থেকে যাচ্ছে, ততক্ষণে ঘরে যাবে না ও। এই গার্ডেনেই থাকবে। রাত হয়ে গেলেও এখানে বসে থাকবে। কিন্তু এখানে বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না ওর। মিতুল দোলনা থেকে নেমে গার্ডেনে পায়চারি করলো কিছুক্ষণ। তারপর আবার এসে দোলনায় বসলো। ভালোই লাগছে না কিছু। মিতুল জোহানকে ভাবার চেষ্টা করলো। কারণে অকারণে এখন শুধু জোহানকে ভাবতে ইচ্ছা করে ওর। কেন এই রোগ ওর মাঝে উদয় হলো জানে না। কালকে রাতে কতক্ষণ যে লুকিয়ে লুকিয়ে জোহানকে দেখেছে তার হিসেব নেই। কালকে রাতে জোহান লনের ইজি চেয়ারে বসে নিজের গিটার নিয়ে টুংটাং করছিল। আর ও বারান্দায় দাঁড়িয়ে জোহানকে দেখেছে চুপি চুপি। ভাবা যায় জোহানকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছে ও? ভাবা যায় কি না জানে না। ও ভাবতে পারছে না।

হঠাৎ কিচেনের জানালায় চোখ পড়তে ক্যামিলাকে দেখতে পেল মিতুল। দৌঁড়ে জানালার কাছে এলো ও। বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ফ্রেডি চলে গেছে?”

ক্যামিলা বললো,
“হুম ও তো চলে গেছে। ফ্রেডির কথা এত ভাবছো কেন তুমি?”

“কে ভাবে ওই অসভ্যটার কথা? আমি? ওর কথা মনে পড়লেও আমার গা জ্বলে যায়।”
বলে জানালা থেকে সরে এসে ঘরে ঢুকলো মিতুল। তারপর কিচেনে চলে এলো। কিচেনে ঢুকতেই ওর পা থমকে গেল। জায়িনকে দেখে বড়ো সড়ো রকমেরই একটা ধাক্কা খেলো ও। জায়িন কিচেনে? ফ্রেডিকে নিয়ে ক্যামিলার সাথে যা বললো তা কি শুনে ফেলেছে জায়িন? ইশ, ক্যামিলাকে অমন কথা বলার আগে পুরো কিচেনে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।

মিতুলের মুখে ফ্রেডির সম্পর্কে ওই রকম কথা শুনে রাগ হলো জায়িনের। নিজের বন্ধুর সম্পর্কে অমন কথা শুনতে কারোরই ভালো লাগার কথা না। জায়িন মিতুলের কাছে এগিয়ে এসে বললো,
“লিসন মিতুল, ফ্রেডি অসভ্য নয়। আর ও কারো গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দেওয়ার মতো ব্যক্তি নয়। তুমি শুধু শুধুই ওর সম্পর্কে এরকম কথা ভাবো। এটা অতিরিক্ত। তোমার এই অতিরিক্ত চিন্তা ধারায় চেঞ্জ আনা দরকার।”
বলে মিতুলের পাশ কাটিয়ে কিচেন থেকে চলে এলো জায়িন। ভেবেছিল মিতুলকে নিয়ে ঘুরতে বের হবে আজকে। কিন্তু মিতুল ফ্রেডিকে নিয়ে যা বললো, তাতে মুড পাল্টে গেছে ওর। যাবে না আজ মিতুলকে নিয়ে ঘুরতে। ওর ফ্রেন্ডের সম্পর্কে এই রকম কথা বলার সাহস হয় কী করে মিতুলের?

মিতুল পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে। জায়িন ও কে এত্ত বড়ো কথা বললো? বলে কি না ওর অতিরিক্ত চিন্তা ধারায় চেঞ্জ আনা দরকার! অতিরিক্ত চিন্তা করে ও?

ক্যামিলা মিতুলের অবস্থা বুঝতে পেরে বললো,
“জায়িনের কথায় কিছু মনে করো না মিতুল।”

“জায়িন আমাকে অপমান করেছে ক্যামিলা। ও অপমান করেছে আমায়।”
বলেই কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো মিতুল। এক নম্বরের একটা অহংকারী জায়িন। সেই প্রথম থেকে অহংকারীর পরিচয়ই দিয়ে যাচ্ছে শুধু। মিতুল জায়িনকে মনে মনে কথা শোনাতে শোনাতে রুমের দিকে আসছিল। জোহানের রুমের সামনে আসতেই হঠাৎ থেমে যেতে হলো ও কে। বন্ধ দরজার আড়াল থেকে জোহানের হাসির শব্দ ভেসে আসছে। মিতুল কান পাতলো। কার সাথে হাসাহাসি করছে জোহান? কোনো মেয়ের সাথে? কোনো মেয়ের সাথে মোবাইলে হেসে হেসে কথা বলছে জোহান? ব্যাপারটা বোঝার জন্য মিতুল একেবারে দরজার সাথে মিশে কান পাতলো।
না কোনো কথা শুনতে পাচ্ছে না। কেবল হাসির শব্দই শুনতে পাচ্ছে। দুই তিন মিনিট টানা হাসির শব্দ শোনা গেল। এরপর হঠাৎ থেমে গেল রুমের ভিতরের হাসি। কী হলো ব্যাপারটা? হঠাৎ হাসি থেমে গেল কেন জোহানের? মিতুল আরও মনোযোগ সহকারে কান পাতলো। একেবারে দরজার সাথে কান মিলিয়ে রাখলো। বিশ ত্রিশ সেকেন্ড একেবারে নীরব কেটে গেল। এরপর শব্দ হলো একটা। আর সেই শব্দের সাথেই খুলে গেল জোহানের রুমের দরজা। মিতুল আতঙ্কে দুই পা ছিটকে গেল দরজার কাছ থেকে।

জোহানও অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। মিতুল? মিতুল ওর দরজায় শব্দ করেছে? মিতুল দাঁড়িয়ে ছিল ওর দরজার সামনে? জোহান জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি এখানে কী করো? আমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলে কেন?”

মিতুল বুঝতে পারছে না জোহান কী করে টের পেল ও এখানে দাঁড়িয়ে আছে। ও তো কোনো শব্দ করেনি। নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল। তাহলে? দরজার সাথে একদম মিশে দাঁড়ানোর জন্য কোনো শব্দ হয়েছিল না কি?

“হেই কিছু বলছো না কেন? তুমি কী করছিলে আমার রুমের সামনে?”

মিতুল কী বলবে বুঝতে পারছে না। কী বলবে জোহানকে? তুমি কোনো মেয়ের সাথে পিরিতের আলাপ পারছিলে কি না সেটা জানার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। সেটা বলবে? না না। এমন কিছু বলা তো একেবারেই সম্ভব না।
মিতুল কিছুই বললো না। কিছু না বলেই একরকম পালিয়ে এলো ওখান থেকে।

জোহান অবাক চোখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
___________

সন্ধ্যা নাগাদ রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলো জোহান। আজকে বন্ধুরা মিলে পার্টি করবে ক্লাবে। জোহান যাওয়ার আগে মিতুলের কাছে এলো একবার। রুমে পেল না মিতুলকে। বারান্দায় এসে পেল।
মিতুল আর্ম চেয়ারে বসে লনে চেরি ব্লসমের দিকে তাকিয়ে আছে। জোহান মুখ দিয়ে শিষ বাজিয়ে মিতুলের মনোযোগ আকর্ষণ করলো। মিতুল তাকালো জোহানের দিকে। জোহানের গায়ে কালো লেদার জ্যাকেট। চোখে কালো সানগ্লাস। বাদামি চুল গুলো যথারীতি এক নিয়মে কপাল জুড়ে পড়ে আছে।

জোহান বললো,
“আমাকে কেমন লাগছে তুলতুল?”

মিতুল একটু হেসে বললো,
“চমৎকার লাগছে তোমাকে।”

জোহানের মুখে হাসি ফুটলো। জোহান এসে মিতুলের পাশের চেয়ারে বসে পড়লো। বললো,
“ইউ নো, আজকে ক্লাবে যাচ্ছি আমি।”

“তো যাও, আমাকে কেন বলছো?”

জোহান হঠাৎ গলায় চিন্তিত ভাব এনে বললো,
“আমি নিজেকে নিয়ে খুব টেনশনে আছি তুলতুল।”

মিতুল অবাক হয়ে বললো,
“কেন?”

“কী বলবো তোমায়? আগেও তো বলেছিলাম তোমাকে। ক্লাবে গেলেই তো দুর্দশায় পড়তে হয় আমাকে। পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় আমার। ক্লাবের সব মেয়েরা এসে ঘিরে ধরতে চায় আমাকে। আমায় পটানোর চেষ্টায় থাকে সব মেয়েরা।”

জোহানের কথা শুনে মিতুলের মুখ আঁধারে ছেয়ে গেল। সব মেয়েরা এসে ঘিরে ধরে জোহানকে? মিতুলের কেন যেন খুব খারাপ লাগলো ব্যাপারটা।

জোহান বললো,
“থাক, বাদ দিই আমার ওসব হৃদয়বিদারক কাহিনী। এবার তুমি বলো, তুমি তখন কী করছিলে আমার রুমের সামনে?”

মিতুল বললো,
“তোমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে কী করা যাবে আর? খেয়ে ফেলা যাবে তোমার রুমটাকে? রুমের ভিতরে তোমার হাসাহাসি শুনে কেবল দাঁড়িয়ে ছিলাম ওখানে। আর কিছুই না।”

“ওহ, তাই? আচ্ছা, বলো তো কেন হাসছিলাম আমি?”

“কেন হাসছিলে সেটা আমি কী করে বলবো? সেটা কি আমার জানার কথা?”

“হঠাৎ করে একটা ঘটনা মনে পড়ে গিয়েছিল, সে জন্য হেসেছিলাম। ঘটনাটা আমার এক ফ্রেন্ড এবং ক্লাবকে কেন্দ্র করে। দুই মাস আগের ঘটনা। সব বন্ধুরা মিলে ক্লাবে গিয়েছিলাম। আমার যে বন্ধুকে কেন্দ্র করে কাহিনী ওই বন্ধুর থেকে ট্রিট ছিল। যে যার পছন্দের ড্রিংকস করতে পারবে, তার বিল মিটাবে ও। অবশ্য ও কোনো খুশিতে ট্রিট দেয়নি। ও ট্রিট দিয়েছিল দুঃখে। ব্রেকআপের দুঃখে। তিন চার মাসের প্রেম ছিল ওদের। ওর গার্লফ্রেন্ড ওর সাথে ব্রেকআপ করে চলে যায়। সেই দুঃখে ট্রিট দিয়েছিল সেই রাতে। মানুষ খুশিতে ট্রিট দেয়, আর আমার বন্ধু দিয়েছিল দুঃখে। আহারে আমার বন্ধু!” বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো জোহানের।

মিতুলেরও খুব কষ্ট লাগলো জোহানের বন্ধুর জন্য। চোখ মুখ করুণ করে বললো,
“আহারে! তারপর? তারপর কী হলো তোমার বন্ধুর?”

জোহান হঠাৎ হেসে উঠলো।
“তারপর? তারপর আমরা ক্লাবে গেলাম। ক্লাবে ঢুকতে না ঢুকতেই এক রমণীর চোখ পড়লো আমার শোকাহত বন্ধুর উপর। ও দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম কি না। রমণী নানা ভাবে চেষ্টা করে গেল আমার বন্ধুর আকর্ষণ পাওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। আমার বন্ধু ওই রমণীর দিকে ফিরেও তাকালো না। তাকাবে কী, আমার বন্ধু তো তার সদ্য প্রাক্তনের খাতায় নাম লেখানো গার্লফ্রেন্ডের শোকে কাতর ছিল। রমণী খানিক বিরতি নিলো। কিন্তু হাল ছাড়লো না। এদিকে আমার বন্ধু ড্রিংক করতে করতে অর্ধ মাতাল হলো। ও কে সামলাতে সামলাতে আর কেউ ড্রিংকসই করতে পারলো না। সবার ড্রিংকের বারোটা বাজলো। ওদিকে হাল না ছাড়া রমণীটি হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে চলে এলো আমার বন্ধুর নিকট। তখন আমার বন্ধু অর্ধ মাতাল থেকে পুরোপুরি মাতাল। রমণী বোধহয় এই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিল। এতক্ষণ দূরে থেকে আকর্ষণ পাওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু এবার একেবারে কাছে চলে এলো। রমণীটি এসে ওর কাছে বসতে না বসতেই ও সেই রমণীর উপর বমি করে দিলো!”
এ পর্যন্ত বলেই হো হো করে হেসে উঠলো জোহান। ওর অশান্ত হাসির ঝংকার উঠলো বারান্দায়। বেশ কিছুটা সময় লাগলো ওর সেই হাসি থামতে।
হাসি থামার পর বললো,
“বুঝলে, মেয়েটির মুখ তখন দেখার মতো ছিল। আমি শিওর, মেয়েটি জীবনে আর কখনো এমন অপমানের স্বীকার হয়নি।”
জোহান একটু থেমে আবারও বলে উঠলো,
“ও এরপর আরও কাহিনী আছে। মেয়েটির ড্রেস নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, আমার প্রিয় রিকার্ডো মায়া করে মেয়েটিকে টিসু এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রিকার্ডোর মায়া মেয়েটি বুঝলো না। টিসু না নিয়ে মেয়েটি ও কে রাবিশ বলে চলে গিয়েছিল।”
জোহান এবার আর হাসলো না। রিকার্ডোর সাথে মেয়েটি অমন করায় মেয়েটির উপর যেন ও বিরক্ত তেমন একটা ছাপ পড়লো ওর মুখে।

মিতুল খুব মনোযোগ দিয়ে জোহানের কথা শুনলো। প্রথম দিকে জোহানের বন্ধুর জন্য ওর খারাপ লেগেছিল। কিন্তু, এবার লাগলো মেয়েটির জন্য। মেয়েটি এত চেষ্টা করেও মন আকর্ষণ করতে পারলো না? শেষ পর্যন্ত অপমান নিয়ে ফিরতে হলো তাকে? কথাটা ভাবতেই মিতুলের বেশ খারাপ লাগছে।

মিতুল সেটা জোহানকে বুঝতে না দিয়ে বললো,
“আচ্ছা, এটা তোমার কোন ফ্রেন্ড ছিল? নাম কী তার? তাকে দেখেছি আমি? একদিন যে আমাকে তোমার বন্ধুদের পার্টিতে নিয়ে গিয়েছিলে, সেই পার্টিতে ছিল সে?”

“অবশ্যই ছিল। ওর নাম হেনরি।”

মিতুল বললো,
“ও…সে?”

জোহান মাথা নাড়লো।

মিতুল বললো,
“কিন্তু তাকে দেখে তো মনে হয়নি তার ব্রেকআপ হয়েছে!”

“আরে মিতুল, একটা মানুষকে দেখে কি বোঝার উপায় আছে তার ব্রেকআপ হয়েছে কি হয়নি? আমার ব্রাদারের দিকেই দেখো। আমার ব্রাদারকে দেখলে কি বোঝা যায় তার দুই দুই বার ব্রেকআপ হয়েছে?”

মিতুলের মুখ হা হয়ে গেল।
“কী? তোমার ব্রাদারের প্রেম ছিল?”

“ওহ তুলতুল! প্রেম না থাকলে ব্রেকআপ হয় কীভাবে? এই সামান্য ব্যাপারটুকু জানো না তুমি?”

মিতুলের মানতে কষ্ট হচ্ছে অহংকারী জায়িনেরও দুই দুইটা রিলেশন ছিল! দুই দুইটা গার্লফ্রেন্ড ছিল। অহংকারীটার তো অহংকারেই মাটিতে পা পড়ে না, প্রেম করেছে কীভাবে? অহংকারের দাপটে ঠিক ভাবে প্রেম করতে পারেনি বলেই বোধহয় ব্রেকআপ হয়ে গেছে।
ধুর, কীসব ভাবছে ও। প্রেম করলে ব্রেকআপ হতেই পারে। এ তো স্বাভাবিক! হোক সেটা কোনো অহংকারীর স্যাড লাভ স্টোরি।

মিতুল হঠাৎ বললো,
“আচ্ছা, তুমি তো ক্লাবে শুধু তোমার বন্ধুর কাহিনীই শোনালে। তোমার কাহিনীর কী হবে? আমাকে যে বলে বেড়াও ক্লাবে গেলে সব মেয়েরা তোমাকে ঘিরে ধরে। তুমি পাগল হয়ে যাও মেয়েদের যন্ত্রণায়। তাহলে ওই দিন মেয়েরা ঘিরে ধরেনি তোমায়? আর ওই মেয়েটা তোমার মতো একজন ওয়ার্ল্ড হ্যান্ডসাম রেখে তোমার বন্ধুর পিছনে পড়লো কেন? সব মেয়েদের তো তোমার পিছনেই লাইন দেওয়ার কথা।”

জোহান সময় নিলো না। বেশ দ্রুতই বললো,
“লাইন দেবে কী করে? আমি কি লাইন দেওয়ার কোনো রাস্তা রেখেছি। মাস্ক এবং ক্যাপ। এই দুটো জিনিসকে আমি আমার সেফটি হিসেবে কাজে লাগিয়েছি। মাস্ক, ক্যাপ পরে মুখ ঢেকে রেখেছিলাম আমি। যার কারণে কোনো মেয়ে চিনে উঠতে পারেনি আমাকে। নয়তো আমার বন্ধুর কাহিনী দেখার সময় থাকতো না আমার। নিজের কাহিনী রচনা করতে হতো। বুঝলে?”

“না, বুঝলাম না।”

“উহ, তুলতুল তুমি আসলেই অবুঝ! আমি এখন কথা বাড়াতে চাই না তোমার সাথে। আমি ক্লাবের পিক পাঠাবো তোমার কাছে। তাতেই দেখে নিও।”
বলে জোহান চেয়ার ছেড়ে উঠে বারান্দা থেকে যাওয়া দিলো।
মিতুল পিছন থেকে ডাকলো,
“শোনো।”

জোহান পিছন ফিরে বললো,
“হোয়াট?”

মিতুল কঠিন গলায় বললো,
“যদি কোনো মেয়ের সাথে ছবি পাঠাও তবে খবর আছে তোমার।”

জোহান মিতুলের ওয়ার্নিং শুনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল মিতুলের দিকে। তারপর বললো,
“তুমি ধীরে ধীরে বুঝদার হয়ে উঠছো মিতুল।”
বলে হেসে চলে গেল জোহান।

মিতুলের হার্টবিট বাড়তে শুরু করলো। ও জোহানকে কী বলে ফেললো এটা?

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here