চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩৭

0
174

চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৩৭
#লেখা: ইফরাত মিলি

____________

আজকে জঙ্গল পেরিয়ে জোহানের টাইম হাউজে আসতে মিতুলের ভয় করেনি। ভয় যে কী জিনিস সেটাই ওর খেয়ালে ছিল না। ওর মস্তিষ্ক জুড়ে ছিল কেবল জোহান। টাইম হাউজের দরজা খোলাই পেল এসে। মিতুল ভিতরে প্রবেশ করলো। ওর পদধ্বনির চাপা শব্দ হলো ফ্লোর জুড়ে। বাতাসের সাথে ফ্রিসিয়াস ফুলের মিষ্টি সুগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। ফ্রিসিয়াস ফুল গুলো যে জানালার কাছে রাখা, সেই জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে জোহান। মুখ সম্পূর্ন জানালার দিকে ঘোরানো। দেখতে পাচ্ছে না মিতুল। জোহানের চোখ থেকে যে অনর্গল জলের ধারা নামছে নীরবে, তা দৃষ্টির অগোচরে ওর। মিতুল বুঝতে পারছে না প্রথমে কী বলবে জোহানকে। কী বলে সান্ত্বনা দেবে। দ্বিধায় ভুগছে ও। মিতুল যখন কিছু বলবে বলবে করেও বলে উঠতে পারছিল না, তখন জোহানকেই বলতে শুনলো,
“আমার এখানে এই টাইম হাউজ ওঠানোর কারণটা আমি তোমাকে বলিনি মিতুল।”

মিতুল চোখ তুলে তাকালো জোহানের দিকে। জোহানের মুখ জানালার দিকেই ঘোরানো এখনও। জোহান ওর দিকে না তাকিয়েই বলতে লাগলো,
“এই ঘরটা আমার তেরো তম জন্মদিনের উপহার ছিল। পেয়েছিলাম পনেরো তম জন্মদিনে। পনেরো তম জন্মদিনে প্রথম পা রেখেছিলাম এই ঘরে।
আমার জন্মদিনে সবাই আগে থেকেই আমার জন্য গিফট কিনে রাখতো। শুধু আমার ড্যাড কিনতো না। ড্যাড আমাকে জিজ্ঞেস করে নিতো আগে। কেক কাটার সময় বলতো, ‘জোহান, কী চাই তোমার?’।
আমি সব সময় একটা উত্তরই দিতাম, ‘মম’স লাভ’। মমের ভালোবাসাই একমাত্র চাওয়া ছিল আমার। কিন্তু, তেরো বছর থেকে আমার সেই চাওয়া পাল্টে যায়। আমার চাওয়া গুলো হয়ে ওঠে বিলাসবহুল। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার প্রতি মমের ভালোবাসা খুবই ঠুনকো। ওটা কোনোদিন গাঢ় হবে না আর। আমি যতই চাই না কেন মম আমায় বেশি ভালোবাসুক, সে বাসবে না। কারণ আমার মমের ভালোবাসার বিস্তর জায়গা জুড়েই আমার ব্রাদার বিরাজ করে। মম যে আমায় ভালোবাসে না সেটা নয়। ভালোবাসে আমায়। তবে সেটা খুবই কম। আমার ব্রাদারকে যদি দশ পার্সেন্ট ভালোবাসে, তাহলে আমাকে ভালোবাসার পরিমাণটা বোধহয় সেখানে দুই কী তিন। এর বেশি নয়। যেটা আমার কাছে খুবই তুচ্ছ। এত তুচ্ছ ভালোবাসায় আমার মন ভরছিল না। আমি চাইতাম আমার প্রতি মমের এই তুচ্ছ ভালোবাসা আরও কিছুটা গাঢ় হোক। কিন্তু, হচ্ছিল না। বুঝতে পেরেছিলাম আর হবেও না। তাই এই ঠুনকো ভালোবাসার প্রতি ছোটা বন্ধ করলাম। পরিবর্তন করে ফেললাম আমার চাওয়া পাওয়া সব কিছু। তেরো তম জন্মদিনে আমি প্রথম আমার চাওয়ায় ভিন্নতা এনেছিলাম। ড্যাড যখন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কী চাই তোমার?’, আমি প্রথম মমের ভালোবাসা না চেয়ে অন্য কিছু চেয়েছিলাম। দৃঢ়তার সাথে বলেছিলাম, ‘অ্যা হাউজ!’।”
জোহান একটু থামলো।
তারপর আবার বলতে লাগলো,
“ওই দিনটায় কী ছিল আমি জানি না। কোনো এক অদম্য শক্তি লুকানো ছিল বোধহয় দিনটায়। যা আমাকে ওই দিনের পর থেকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। আর ওই অদম্য শক্তিটা মূলত আমার মমের কথাতেই জড়িয়ে ছিল। ওই দিন আমার তেরো তম জন্মদিনের আগের দিন ছিল। স্কুল থেকে ফেরার পথে আমার চারজন সহপাঠী…মানে ওই চারজন। যারা একদিন রাস্তায় আমাদের গাড়ি আটকে ছিল। সাথে তুমি ছিলে। তোমার সামনে রাস্তায় মেরেছিল আমাকে। ওদের ব্যাপারে তোমায় সত্যিটা আগে বলিনি আমি। কেন মেরেছে, কারা ওরা, কিছুই না। বলেছিলাম আমি হ্যান্ডসাম বলে হিংসা করে মারে ওরা। মজা করে বলেছিলাম ওটা। ওরা হিংসা করে নয়। আমাকে মেরে মনে তৃপ্তি, আনন্দ পায় বলে মারে। আমাকে মেরে, হেনস্থা করে ওদের মনে তৃপ্তি, মজার এই ঘনঘটার প্রথম সৃষ্টি হয় স্কুল জীবন থেকে। যেটা এখনও রয়ে গেছে ওদের মাঝে। শুধু পার্থক্য হয়েছে এটাই যে, আগে ওরা মারতো আর আমি চুপচাপ মার খেতাম। আর এখন মার খেয়ে সাথে সাথে ওদের মার দেওয়ারও ব্যবস্থা করি।
তো সেদিন স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওরা জোর করে একটা নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল আমায়। মেরেছিল খুব। ওই দিনের মারটাই সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক ছিল। সহ্য করতে কষ্ট হচ্ছিল। তবুও ওদের কিছুই বললাম না। শুধু হৃদয়ে দহন হচ্ছিল। মমের জন্য। কারণ মম বিষয়টা জানার পরও আমার জন্য কিছুই করছিল না। মার খেয়ে বাড়ি ফিরলাম। নোজ ব্লিডিং হচ্ছিল। এমতা অবস্থায়ই মমের কাছে গেলাম। মম তখন বারান্দায় ছিল। ভীষণ রেগে ছিলাম সেদিন আমি। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছিল। মমের কাছে গিয়েই পিঠের ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেললাম ফ্লোরে। মম দাঁড়িয়ে যায়। আমি সেদিন কোনো দিক, কোনো কিছু বিবেচনা না করেই মমকে চেঁচিয়ে বলেছিলাম,
‘আমি আর সহ্য করতে পারছি না, মম। প্লিজ কিছু করো। এরকম চলতে থাকলে একসময় আমি মারা যাব। প্লিজ কিছু করো। কথা বলো আমার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। কথা বলো ওদের অভিবাবকদের সাথে। প্লিজ মম, ডু সামথিং। যদি এগুলো না পারো তবে আমাকে অন্য স্কুলে ট্রান্সফার করো। প্লিজ মম!’
মম শোনেনি আমার কথা। মম বুঝতে পারেনি আমার কষ্ট। সে তীব্র বিরক্ত, রাগ নিয়ে বলেছিল, আমার এই ঝামেলা নিয়ে বসে থাকার মতো সময় তার হাতে নেই। এরপর আর কোনো কমপ্লেইন যেন না করি তার কাছে। আমার নিজেরটা নিজেকেই সামলে নিতে বলেছিল মম। মমের ওই কথা গুলো আমার পাল্টে যাওয়ার চাবিকাঠি ছিল। ওইদিন আরও অনেক কথা কাটাকাটি হলো মমের সাথে। ড্যাড সেদিন বাড়িতে ছিল। সব জানলো সে। মম এবং ড্যাডের মাঝে তর্কাতর্কি হলো খুব। ড্যাড সিদ্ধান্ত নিলো আমাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করাবে। কিন্তু ড্যাড যতক্ষণে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার অনেক আগে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ওই স্কুলেই থাকবো আমি। যারা আমার সাথে অমন করে তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে ওই স্কুলেই টিকে থাকবো আমি। ঠিক তাই করলাম। মাথা উঁচু করেই দাঁড়ালাম ওদের সামনে। আগে আমি এমন ছিলাম না মিতুল। একাকী স্বভাবের ছিলাম। কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারিনি। আলাভোলা বাচ্চা টাইপ ছিলাম আমি। কারো সাথে কথাও বলতে পারতাম না ঠিক করে। ভীতু প্রকৃতির ছিলাম। মূলত মমের কারণেই অমন ছিলাম আমি। চোখের সামনে মমকে দেখতাম সে ব্রাদারকে আদর করছে, যত্ন করছে, খাইয়ে দিচ্ছে। অথচ আমি? আমার প্রতি তার ভীষণ উদাসীনতা। আমাকে দেখভাল করার সময় হতো না তার। এমন হওয়ার কারণেই আমি মানসিক ভাবে ভীষণ বিষাদগ্রস্ত ছিলাম। আশেপাশের কোনো কিছুতেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারতাম না। আমার মাথায় শুধু ঘুরতো মম। মম আমাকে ভালোবাসে না। এসবের সাথে আবার যোগ হয়েছিল স্কুল বুলিং। সবকিছু মিলিয়ে মানসিক ভাবে আরও বেশি ভেঙ্গে পড়েছিলাম আমি।
কিন্তু ওইদিনের পর থেকে অন্যরকম হয়ে গেছি। আগে বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাইরে পা রাখতেই ভয়ে ঘিরে ধরতো আমাকে। কিন্তু ওই দিনের পর থেকে এক উদ্যমী মন নিয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিলাম আমি। ভয় লাগতো না কোনো কিছুতেই। আমি ধীরে ধীরে স্কুলের অনেকের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে লাগলাম। এর মাঝে আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু হচ্ছে রিকার্ডো। রিকার্ডো অনেক আগে থেকেই আমার সাথে ভাব জমাতে চাইতো, কথা বলতে চাইতো। কিন্তু আমিই ওর সাথে মিশতে পারতাম না। তবে ওই দিনের পর আমি নিজে গিয়েই ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করেছি। ও-ই ছিল আমার প্রথম বন্ধু। ওর সাথে বন্ধুত্ব করার কারণে জীবন আরও কিছুটা পাল্টে যায়। বলতে গেলে ভালো ভাবেই পাল্টে যায়। আমি ভালো থাকার রাস্তা খুঁজে পাই। ধীরে ধীরে আরও অনেক বন্ধু হয় আমার। বন্ধুরা সবসময় পাশে ছিল আমার। এখনও আছে। ওই রাবিশ গুলো আমার সাথে বেয়াদবি করলে, আমার বন্ধুরাই তা মোকাবেলা করতো। আমার দল ভারী হওয়ার কারণে দমে গিয়েছিল রাবিশ গুলো। কিন্তু পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে পারেনি পুরোপুরি। মাঝে মধ্যে অ্যাট্যাক করে বসে এখনও। তা তো নিজের চোখেই দেখলে। তবে সে নিয়ে আফসোস নেই এখন। মার দিতে এলে শুধু তো দিয়েই যায় না, খেয়েও যায়। কারণ, আমি যে ছাড় দিই না। দয়া, মায়া বড্ড কমে এসেছে বোধহয় আমার মাঝে।”
বলে জোহান বড়ো করে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। চুপ থাকলো কয়েক সেকেন্ড। তারপর আবার বললো,
“মাঝে মাঝে আমি খুব কষ্ট অনুভব করি মিতুল। আমার কাছে সব আছে। ড্যাডের কাছে যখন যা চাই তাই পাই। আমি ইচ্ছা খুশি মতো চলাফেরা করতে পারি। ঘুরে বেড়াতে পারি যেখানে খুশি সেখানে। সব কিছুই আমার ইচ্ছা। তবুও মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট অনুভব করি। প্রায়ই একটা প্রশ্ন জেগে ওঠে মনে, ‘মম কেন আমাকে ব্রাদারের মতো ভালোবাসে না?’। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি মমের আসল ছেলে নই। এডপ্ট এনেছে আমায়। কিন্তু, এই ভাবনা আমি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারি না। কারণ আমি দেখতেই যে মমের মতো। আমি জানি মমই আমার আসল মম। আমার মম, আমার ড্যাড, আমার ব্রাদার এরা সবাই-ই আমার আসল আপনজন। আমি মমের আপন। ব্রাদার যেমন মমের আপন, তেমনি আমিও আপন। কিন্তু, তারপরও মম কেন এত কেয়ারলেস আমার প্রতি সেটা সত্যিই জানি না আমি। মম নিজেও এই ব্যাপারটা জানে কি না সন্দেহ। ছোট বেলা থেকেই মম আমার প্রতি উদাসী। মম ব্রাদারের সব কিছু নিজ হাতে করে দিলেও, আমার একটা দুটো কাজও করে দিতো না। সব মেইডদের উপর ছেড়ে দিতো।
এদিক থেকে আমার ভাগ্যটা খুব ভালো যে, আমাদের বাসার মেইড গুলো খুব ভালো ছিল। যে সময় আমি খুব ছোট ছিলাম, সে সময় মিসেস রুবি ছিলেন আমাদের বাসার মেইড হিসেবে। উনি খুব আদর করতেন আমায়। খেয়াল রাখতেন আমার। এরপর আমার যখন এগারো বছর বয়স, সে সময় মিসেস রুবি চলে যাওয়ার পর এলো ক্যামিলা। ক্যামিলার বয়স তখন কম ছিল। মাত্র আঠারো। ক্যামিলা খুব ভালোবাসতো আমায়। খুব কেয়ার করতো আমার। আমিও আস্তে আস্তে ক্যামিলাকে নিজের বড়ো বোনের মতো ভাবতে শুরু করি। মমের কারণে আমার মন হুটহাট করে খারাপ হয়ে গেলে ক্যামিলা এসে মন ভালো করার চেষ্টা করতো। বলতো, ‘মন খারাপ করো না। মম তোমায় ভালোবাসে না তো কী হয়েছে? আমি তো বাসি। তোমার ড্যাডও বাসে। তুমি কি জানো তোমার ড্যাড যে কোনো কিছুর থেকে তোমায় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে?’
ক্যামিলা বার বার এটাই বোঝাতে চাইতো যে, ড্যাড আমায় খুব বেশি ভালোবাসে। আমিও জানি ড্যাড আমায় খুব ভালোবাসে। ড্যাড বোধ হয় পৃথিবীতে সবার থেকে বেশি ভালো আমাকেই বাসে। কিন্তু, ড্যাডের একার ভালোবাসা নিয়ে যে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। ড্যাডের ভালোবাসার পাশাপাশি মমের ভালোবাসাও চাইতাম আমি। বরং ড্যাডের ভালোবাসার থেকেও মমের ভালোবাসা বেশি করে চাইতাম। ব্রাদারের ভালোবাসাও চাইতাম আমি। কিন্তু, মমের সাথে সাথে ব্রাদারের ভালোবাসাও পাইনি আমি। মমের ভালোবাসা যা পেয়েছি, আর যা পাই। ব্রাদারের ভালোবাসা পাইনি তার তিন ভাগের এক ভাগও। বুঝতে পারি না ব্রাদারের এমন করার মানে! বুঝতে পারি না মমের এমন করার মানে! শুধু যেটুকু বুঝতে পারি সেটা হলো…”
থেমে গেল জোহান। বলতেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর। কষ্ট করেই বললো,
“শুধু যেটুকু বুঝতে পারি সেটা হলো, আমি এখনও মমের ভালোবাসা পেতে চাই। আমার মন খুব গোপনে এখনও এটাই চেয়ে যাচ্ছে।”
বলতে বলতে চোখ বুজে ফেললো জোহান। পুরোনো কষ্ট যেন তরতর করে আরও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। জোহান চোখ বুজে রইল খানিক ক্ষণ।
এর মাঝে পিছন থেকে চাপা কান্নার মিহি সুর ভেসে আসায় চোখ খুলে ফেললো আবার।
পিছনে তাকিয়ে দেখতে পেল ফুঁপিয়ে কাঁদছে মিতুল। ওর কান্নার চাপা সুর ধীরে ধীরে ভারী হয়ে ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো। জোহান বললো,
“আরে তুমি কাঁদছো কেন? আমি তো আমার কথা বললাম। কাঁদা তো উচিত আমার। তুমি কেন কাঁদছো?”

মিতুল কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“কেন বলোনি তুমি? কেন বলোনি তোমার জীবনে এত কষ্ট? এত কষ্টে আছো তুমি সেটা কেন বলোনি আমাকে?”

“তোমাকে বলবো? বললে কী করতে তুমি?”

মিতুল সঙ্গে সঙ্গে কিছু বলতে পারলো না। একটু সময় নিয়ে কেঁদে কেটে বললো,
“তোমার ভিতরে এত কষ্ট লুকিয়ে আছে আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি জোহান।”

“ওহ তুলতুল, কান্না থামাও। বোকা মেয়ের মতো কাঁদছো কেন? কান্না থামাও।”

মিতুল ধীরে ধীরে নিজেকে ধাতস্থ করলো। তারপর জোহানের দিকে তাকালো ভালো করে। মুখে জায়গায় জায়গায় লাল গাঢ় দাগ। দুই এক জায়গায় কেটে গেছে সামান্য।
মিতুল কিছু না বলে, জোহানকে হাত ধরে এনে কাউচের উপর বসিয়ে দিলো। তারপর বেডরুমে গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে এলো। জোহানের ক্ষত স্থান গুলো পরিস্কার করতে লাগলো আস্তে আস্তে।
জোহান গভীর চোখে তাকিয়ে আছে মিতুলের দিকে। তাকিয়ে থেকে এক সময় বললো,
“আমি আঘাত পাওয়ার পর আমার মম কখনো এরকম কেয়ার করেনি আমাকে।”

জোহানের কথায় আবারও কেঁদে উঠলো মিতুল। জোহান বললো,
“আরে, তুমি আবারও কাঁদছো কেন?”

মিতুল অনেক কষ্টে নিজের কান্না সংযত করলো।
একটু সময় পর বললো,
“তুমি তো বলেছিল তোমাকে দশ গুণ বেশি বোনাস দেবে ওরা। তোমার হাত ভাঙ্গা হবে, পা ভাঙ্গা হবে, সাথে আরও কী কী ভাঙ্গা হবে তুমি জানো না। তাহলে শুধু এই একটুখানি আঘাত পেয়েছো কেন?”

জোহান অবাক হয়ে বললো,
“মানে কী তুলতুল? আমার হাত, পা ভাঙ্গা হলে তুমি খুশি হতে?”

“ছি, কী বলছো তুমি? তোমার হাত, পা ভাঙ্গা হলে আমি খুশি হবো কেন? আমার ভীষণ কষ্ট লাগবে।”

“তাই?”

মিতুল আর কিছু বললো না। শুধু কান্না কান্না একটা ভাব উগরে উঠতে লাগলো।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here