চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা পর্ব: ৪০

0
188

চেরি_ব্লসমের_সাথে_এক_সন্ধ্যা
পর্ব: ৪০

#লেখা: ইফরাত মিলি

____________

জোহান এবং ওর মমের মাঝের মনোমালিন্যটা মিটে গেছে। সবকিছু আবার আগের মতো। সবার একসঙ্গে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই সব মিটমাট। মিতুলের কাছে পরিবেশটা এখন একটু হালকা লাগছে। যতদিন জোহান এবং ওর মমের মাঝে গুমোট গুমোট একটা ব্যাপার ছিল, ততদিন ঠিক পরিবেশটা অন্যরকম ছিল। আজ সব স্বাভাবিক।
মিতুল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ক্লান্ত সূর্যটা ঘুমোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধোঁয়া ধোঁয়া মেঘের সাথে রুপালি, বেগুনি আর কমলা রঙের ঘনঘটা মিলেমিশে একাকার। সন্ধ্যার আকাশ এতটা ভালো করে এর আগে কখনো দেখা হয়নি মিতুলের। ইচ্ছে হচ্ছে আজকের এই আকাশের দৃশ্যটা রং তুলি দিয়ে আঁকে ক্যানভাসে। কিন্তু ইচ্ছা করলে কী উপায়!
ও তো আঁকতে পারদর্শী নয়। কোনো কালেই ছিল না। তাছাড়া ড্রইং করার জন্য ওর কাছে তো এখন কোনো সামগ্রী নেই। আঁকবে কীসে? মিতুলের মন একটা দু’টো কষ্টের আঁচড় টানলো।
আচ্ছা জোহান আঁকতে পারে না? ও যদি এই সন্ধ্যার আকাশ এঁকে দিতে বলে, জোহান পারবে আঁকতে? ব্যাপারটা জানতে হবে ও কে।
মিতুল জোহানকে খোঁজাখুঁজি করে শেষে কিচেনে পেল।
ফ্রিজ থেকে সফট ড্রিঙ্কসের বোতল বের করে কয়েক ঢোক খেয়ে বোতলটা আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখলো জোহান। মিতুল চুপিচুপি কিচেনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা খেয়াল করেনি। হঠাৎই তাই পিছনে ফিরে ভয় পেয়ে গেল।
“উহ! তুমি তো আমাকে মেরে ফেলবে দেখছি!”

“আমি কোনো খুনি নই যে তোমাকে মেরে ফেলবো।”

“এখানে কী চাই তোমার?”

“আমাকে এঁকে দিতে পারবে?”

“মানে?”

“আঁকতে পারো তুমি?”

“কেন জিজ্ঞেস করছো? তোমার ছবি এঁকে দিতে হবে? যদি তোমার ছবি এঁকে দেওয়ারই ব্যাপার হয়, তবে আগেই বলে রাখি। তোমার ওই রাগে ফুলো নাক নিখুঁত ভাবে আঁকা সম্ভব নয়। আঁকতে পারব না আমি।”

“বেশি কথা বলো কেন? তোমাকে কে বললো যে আমার ছবি এঁকে দিতে হবে? আমি আকাশের কথা বলছি। সন্ধ্যার আকাশের কথা। এঁকে দিতে পারবে?”

“আকাশ কেন আঁকতে হবে? আকাশ তো আকাশের জায়গাতেই থাকবে। নিয়ম করে প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে। কেউ তো নিষেধ করবে না তোমায়। ইচ্ছে হলে সারাদিনও তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারো।”

মিতুলের একটু রাগ হলো। জোহানের সাথে আর কথা বলার রুচি হলো না ওর। রাগ করে কিচেন থেকে চলে যাওয়া দিলেই জোহান কিচেনের দরজা বন্ধ করে ফেললো।
“কোথায় যাচ্ছ? শুধু এইটুকু বলবে বলেই কি এখানে এসেছো? না কি অন্য কোনো কারণ আছে এর পিছনে? যেমন, আমাকে দেখতে ইচ্ছা করছিল। যদি তাই হয় তবে আমাকে ভালো করে না দেখে চলে যাচ্ছ কেন? কী ভেবেছিলে? আকাশ আঁকানোর নাম করে আমাকে দেখতে আসবে, আর সেটা আমি বুঝতে পারব না? নো মিতুল। বোকা তুমি। আমি নই। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি তুমি আসলে আমাকে দেখতেই এখানে এসেছো।”

মিতুল ভেবে দেখলো ও কি আকাশ আঁকানোর নাম করে জোহানকে দেখতে এসেছে?
না, এমনটা ভেবে তো এখানে আসেনি ও। জোহান আঁকতে পারে কি না সেটা জানার জন্যই এসেছিল। তাহলে ওর কেন এমন ফিল হচ্ছে? ভিতরে ভিতরে কেমন একটা চোর চোর ফিল হচ্ছে ওর। মিতুল খুব করে চাইছে জোহানের কথার প্রতিবাদ করতে, কিন্তু পারছে না। ওর এই ফিলিংসটা ও কে প্রতিবাদী করে তুলতে বাঁধা দিচ্ছে। আচ্ছা এমন কেন হচ্ছে? কোনো রকম ভাবে ব্যাপারটা এমন নয়তো যে, ও আসলেই জোহানকে দেখতে এসেছে?

জোহান মিতুলকে নিশ্চুপ দেখে বললো,
“তুমি আসলে আমাকেই দেখতে এসেছো। তোমার নীরবতা এটাই বোঝাচ্ছে।”

মিতুল এবার প্রতিবাদ করে উঠলো,
“কে বললো যে আমি তোমাকে দেখতে এসেছি? তোমাকে দেখে কী লাভ আমার? আমি মোটেই তোমাকে দেখতে আসিনি। তুমি আঁকতে পারো কি না সেটাই জানতে এসেছি শুধু। এর বেশি আর কিছু না।”

“সত্যিই তুমি শুধু এটাই জানতে এসেছো?”

“হ্যাঁ।” কণ্ঠে বিশেষ জোর দিলো মিতুল।

জোহান মুখ কালো করে ফেললো। কিচেনের দরজা খুলে দিয়ে বললো,
“যাও।”

মিতুল তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গেল।
জোহান পিছন থেকে আবার ডাকলো,
“দাঁড়াও।”

মিতুল দাঁড়ালো ঠিক। কিন্তু পিছন ফিরলো না।
জোহান বললো,
“মুখে যাই বলো না কেন, তুমি আসলে আমাকেই দেখতে এসেছো। আমি খুব গভীর ভাবে টের পাচ্ছি সেটা।”

“তোমার ধারণা ভুল।”
বলেই দ্রুত পায়ে রুমের দিকে ছুটলো মিতুল।

___________

অপরাধ বোধ ঘিরে রেখেছে মিতুলকে। জোহান চেয়ার সহ নিচে পড়ে যাবে এটা ভাবেনি ও। ঘটনাটা ঘটেছিল ব্রেকফাস্টের সময়। ক্যামিলাকে কাজে সাহায্য করছিল ও। কিচেন থেকে খাবার এনে রাখছিল টেবিলে। খাবার গুলো জোহানের পাশে দাঁড়িয়েই সাজিয়ে রাখছিল। কিচেন থেকে জুস আনা বাকি ছিল। ও জুস আনার জন্য কেবল ঘুরেছে, এর মাঝেই কেমন করে যেন ওর পা তাল হারিয়ে ফেললো। ও হেলে পড়লো জোহানের দিকে। কিন্তু ও পড়লো না। টেবিল ধরে নিজের পতন ঠেকিয়েছে। কিন্তু ওর ধাক্কায় জোহান নিচে পড়ে যায় চেয়ার নিয়ে। দৃশ্যটা মনে হতে এখনও অপরাধ বোধ ওর ভিতরটা ছেয়ে ফেলে। এতটুকু জায়গা ছাড়ে না। জোহানের ডান হাতের তালুর এক পাশে কীভাবে যেন ছিলে গেছে সেই এক্সিডেন্টে। কোমরেও ব্যথা পেয়েছে। ব্রেকফাস্ট না করে জোহান রাগারাগি করে সোজা নিজের টাইম হাউজে চলে গেছে। এই ব্যাপারটা জোহান বাড়াবাড়ি করেছে। এরকম এক্সিডেন্ট তো হতেই পারে, তাতে এমন মেজাজ দেখানোর কী আছে? আজ ওর জায়গায় যদি জোহান নিজে থাকতো, তাহলে?

জোহান সেই যে সকালে টাইম হাউজে গিয়েছে আর আসেনি। বিকেল চলছে এখন। জোহান টাইম হাউজে বসে কী খেয়েছে কে জানে! রাগ দেখিয়ে চলে গিয়েছে, না খেয়ে থাকলেই ভালো। মিতুল কথাটা ভেবে শেষ করতে না করতেই জোহানের কল পেল।
রিসিভ করতেই জোহান বললো,
“তাড়াতাড়ি আমার জন্য খাবার নিয়ে এসো। তোমার জন্য আমার ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ মিস গেছে।”

“আমার জন্য মানে? তুমি নিজেই তো না খেয়ে চলে গেলে। আমি কি নিষেধ করেছি খেতে?”

“এত কথা বাড়াও কেন? যা বললাম তাই করো। খাবার নিয়ে টাইম হাউজে আসো।”
বলেই ফোন কেটে দিলো।

মিতুল পড়লো মহা মুসিবতে। কী খাবার নিয়ে যাবে জোহানের জন্য? মিতুল ক্যামিলার কাছে এসে বললো জোহানের কথা। দুপুরে খাওয়ার পরে ভাত এবং গোরুর গোশত ছিল। ক্যামিলা প্লেটে খাবার বেড়ে, ট্রে ধরিয়ে দিলো মিতুলের হাতে। মিতুল খাবার নিয়ে চললো জোহানের জন্য।
টাইম হাউজে এসে কড়া নাড়লো দরজায়।
ভিতর থেকে জোহান বললো,
“দরজা খোলা। ধাক্কা দাও।”

মিতুল ধাক্কা দিলে দরজা খুলে গেল। ভিতরে প্রবেশ করতেই জোহানকে দেখতে পেল কাউচের উপর শোয়া। জোহান শোয়া থেকে উঠে বসলো। মিতুল ওই পাশে থাকা টি টেবিলটা টেনে কাউচের সামনে নিয়ে এসে তার উপর ট্রে রাখলো।

“কী এনেছো?”

মিতুল ঢাকনা সরাতে সরাতে বললো,
“ভাত এবং গোরুর গোশ।”

জোহান বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে ফেললো,
“ভাত, গোরুর গোশ ছাড়া আর কিছু ছিল না?”

মিতুল সহজ ভাবে উত্তর দিলো,
“না। আর কী থাকবে? তোমার জন্য কি কেউ এই বিকেলে রান্না করে রেখেছে না কি? তেমন হলে রাতে বলতে। তোমার জন্য বিভিন্ন আইটেম রান্না করে রেখে দিতো ক্যামিলা। যা এনেছি এখন তাই খাও চুপচাপ।”

“খেতে পারব না।”

“খেতে পারবে না মানে? যখন নাই খাবে, তখন আমাকে দিয়ে খাবার আনালে কেন?”

“আমি খাবো না সেটা বলিনি। আমি খাব। তবে নিজ হাতে না, তুমি খাইয়ে দাও।”

“আমি?” মিতুলের কণ্ঠে বিস্ময়ের ধারা ঝরে পড়লো।

“হ্যাঁ। দেখছো না তোমার জন্য আমার হাত আহত হয়েছে!”

মিতুল অন্য সময় হলে কখনো খাইয়ে দিতো না জোহানকে। কিন্তু এখন জোহানের প্রতি মায়া হচ্ছে ওর। আর তাছাড়া একটা অপরাধ বোধও তো আছে। যদিও ও ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি কাজটা। কিন্তু ওর জন্যই তো এক্সিডেন্টটা ঘটলো আজকে।
মিতুল কিচেনে গিয়ে একটা চামচ নিয়ে এলো।

জোহান বললো,
“চামচ দিয়ে কী করবে?”

“চামচ দিয়ে খাইয়ে দেবো তোমাকে।”

“উহু, চামচ দিয়ে খাব না আমি। চামচ দিয়ে নয়, নিজ হাতে খাইয়ে দাও।”

“নিজ হাতে?”

জোহান মাথা নাড়লো।

“পারব না আমি। কিছুতেই তোমাকে হাত দিয়ে খাইয়ে দেবো না আমি।”

“তাই? তুমি কি চাও আমি আজকে সারাদিন না খেয়ে থাকি?”

মিতুল কোনো কথা বললো না। কেমন একটা লাগছে ওর। নিজ হাতে লোকমা তুকে খাইয়ে দেবে জোহানকে! ইশ, কেমন হবে ব্যাপারটা?

“কী হলো? দাঁড়িয়ে আছো কেন? খাইয়ে দাও।”

মিতুল কিচেন থেকে হাত ধুয়ে এলো আরও একবার। জড়তা নিয়ে বসলো জোহানকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য। ট্রে থেকে প্লেট তুলে ভাত মাখিয়ে এক লোকমা তুলে দিলো জোহানের মুখে। টের পেল হাতটা কেমন কাঁপছে।
ধ‍্যাত্তেরি! মানুষকে খাইয়ে দেওয়ার মতো ঝামেলা আর দুটো নেই পৃথিবীতে। এর আগে একবার ওর ছোট ভাইয়ের হাড় কাঁপিয়ে জ্বর এসেছিল। নিজ হাতে খেতে পারতো না ওর ভাই। সেসময় ও খাইয়ে দিয়েছিল ভাইকে। এছাড়া ওর এক বছর বয়সের এক লিটল কাজিনকে খাইয়ে দিয়েছিল। ভাই এবং সেই লিটল কাজিনকে খাইয়ে দেওয়ার সময়ই বুঝে গিয়েছিল যে, মানুষকে খাইয়ে দেওয়ার মতো ঝামেলা আর দুটো নেই পৃথিবীতে। কিন্তু, ভাই এবং সেই লিটল কাজিনকে খাইয়ে দিতে কী এমনই বা ঝামেলা হয়েছিল। তার থেকে অনেক বেশি ঝামেলা হচ্ছে এখন এই জোহানকে খাইয়ে দিতে! জীবনে কি কখনো ভেবেছিল ও জোহানকে নিজ হাতে তুলে খাওয়াবে?

জোহানকে ছোট ছোট করে চার লোকমা খাইয়ে দেওয়ার পর মিতুলের হাত থেমে গেল। ওর হাত আর চলছে না।
জোহান বললো,
“কী হলো? থেমে গেলে কেন? খাইয়ে দাও। এমনিতেই সকাল থেকে না খাওয়া আমি। আর এখন একটু খেতে বসলাম, তাও তুমি একটুখানি খাইয়ে দিয়ে থেমে গেলে? কেন? এটা কোন ধরণের টর্চার?”

মিতুল আর কথাটা চেপে রাখতে পারলো না। বললো,
“তোমাকে খাইয়ে দিতে সমস্যা হচ্ছে আমার। আমি খাইয়ে দিতে পারব না।”

“কেন?”

“একটা মানুষকে অন্য একটা মানুষ খাইয়ে দেয় কীভাবে? আমি পারব না।”

“এটা কী কথা বললে তুলতুল! একটা মানুষকে একটা মানুষ খাইয়ে দেয় কীভাবে মানে? ছোট বেলায় তো সবাইকেই খাইয়ে দেওয়া হয়। আর শুধু ছোটবেলা কেন? কত মায়েরাই তো তাদের সন্তান বড়ো হওয়ার পরেও নিজ হাতে খাইয়ে দেয়।”

“মায়েদের ব্যাপার ভিন্ন। আমি কি তোমার মা?”

“উফ তুলতুল! শুধু যে মায়েরাই তাদের সন্তানদের খাইয়ে দেয় তা তো নয়। এছাড়াও অনেকে অনেককে খাইয়ে দেয়। যেমন…”
বলতে গিয়েও একটু থামলো জোহান।

মিতুল উদ্বিগ্নতা নিয়ে তাকিয়ে আছে জোহানের দিকে। কী উদাহরণ দেবে জোহান?

জোহান নিজের উদাহরণ শোনালো,
“যেমন, অনেক ভাই-বোনও একে অপরকে খাইয়ে দেয়।”

জোহানের কথা শুনে মিতুল থ হয়ে গেল।
“বোন! আমাকে তোমার বোন মনে হয়? আমি তোমার বোন? এটাই ভাবো তুমি?”

“এটা তো জাস্ট উদাহরণ দিলাম। কেন এই উদাহরণে খুশি হওনি তুমি? কীরকম উদাহরণ আশা করেছিলে?”

মিতুল কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। বললো,
“কোনো উদাহরণই শুনতে চাইনি আমি।”
বলেই দ্রুত আরেক লোকমা তুলে জোহানের মুখে পুরে দিলো।

জোহান মনে মনে হাসলো। তারপর মুখের খাবার টুকু গিলে বললো,
“অনেক লাভার্সরাও কিন্তু একে অপরকে খাইয়ে দেয়।”

জোহানের কথায় মিতুলের দম বন্ধ হয়ে এলো। ভিতরটা ছটফট করছে আবার।

মিতুল জোহানকে খুব কষ্টে খাওয়ানো সম্পন্ন করলো। তারপর প্লেট নিয়ে চলে এলো কিচেনে। প্লেট ধৌত করলো। বিকেল প্রায় শেষের পথে। একটু পরই বোধহয় সন্ধ্যা নেমে যাবে। মিতুল লিভিং রুমে ফিরে দেয়াল ঘেঁষে রাখা টি টেবিলের উপর প্লেটটা রাখলো।
টি টেবিলটা কাউচের সামনে থেকে এনে যথা স্থানে রেখে দিয়েছে আবার।

জোহান মোবাইলে কী একটা যেন দেখতে দেখতে বললো,
“মিতুল এদিকে এসো।”

মিতুল কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে এলো। কাউচে বসে উঁকি দিলো মোবাইলে। দেখলো জোহান অনলাইনে একটা গেস্ট হাউজের পিক দেখছে।

“আমরা ফ্রেন্ডসরা সবাই ঠিক করেছি ঘুরতে যাব পরের সপ্তাহে। ঘুরতে গিয়ে এই গেস্ট হাউজে উঠবো আমরা।”

“কোথায় এটা?”

“এটা গ্রামের ওদিকে। তুমি চিনবে না।”

“ও।”

মিতুল উইন্ডো দিয়ে বাইরে তাকালো। পরিবেশ ধীরে ধীরে অন্ধকার হতে শুরু করেছে।
মিতুল বললো,
“আচ্ছা এখন আমি যাচ্ছি। রাত হয়ে যাবে কিছুক্ষণ পরই।”

জোহান মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে রেখে বললো,
“চলে যাবে?”

মিতুল মাথা নেড়ে বললো,
“হুম।”
বলে উঠে দাঁড়ালো। যাবে বলে এক পা বাড়াবে কি বাড়াবে না এর মধ্যেই জোহান ওর হাত ধরে টান দিলো। মিতুল আবারও বসে পড়লো কাউচের উপর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোহান শুয়ে পড়লো ওর কোলে মাথা রেখে।
হঠাৎ করে এমন হওয়ায় গা শিউরে উঠলো মিতুলের। জোহান চোখ বন্ধ করে নিবিড় স্বরে বললো,
“আরও কিছুক্ষণ থাকো আমার সাথে। আমার এই টাইম হাউজে আমি খুব একা। আর কিছুটা সময় থাকো তুমি।”

মিতুল বিভোর চোখে তাকিয়ে আছে। হৃদস্পন্দন শিথিল। শুধু টের পাচ্ছে ওর মনের ভিতরে দমকা হাওয়ার সাথে সাথে এক গাঢ় কোমল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে আনাচে কানাচে। সেই অনুভূতি এতটুকু পরিমাণ জায়গা ছাড়েনি। সবটাই দখল করেছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা দুষ্কর। এই অনুভূতি এতটাই তীব্র যে ওর সব কিছু অবশ হয়ে পড়ছে ক্রমশ।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here