ঠিক যেনো love Story পর্ব ৪

0
93

#ঠিক_যেনো_love_story
#04
#Esrat_jahan_Esha

৮.
কি মিস রিমলি ব্যাগ পত্র নিয়ে এসেছেন?
— হ্যা স্যার। তবে এটা মোটেও ঠিক করলেন না আজ অসহায় পেয়ে আমার সাথে এমন টা করা মোটেও উচিৎ হয়নি। শুধু রুহামার জন্য যাচ্ছি তবে আপনারা চাইলে রুহামাকে আমার কাছে রাখতে পারতেন। আর রিশাত স্যারের জন্য অন্য কাউকে।
— নাহ রিমলি সেটা কিভাবে? রুহামা তো ওর বাবাকে ছাড়া থাকতে পারবে না।
— হুমম সেটা ভেবেই ব্যাগ পত্র নিয়ে এসেছি নিহাত এতিম বলে নাহলে কখনো আসতাম না। আমি জানি একটা এতিম বাচ্চা মা ছাড়া কতটা কষ্ট আর অবহেলায় বড় হয়।
— ওকে যাও তাহলে।
— না স্যার আমি ভিতরে আর যাচ্ছি না বাইরে দাড়াচ্ছি আপনি আপনার বন্ধুর ব্যাগ ট্যাগ যা আছে সব পাঠিয়ে দিন। আপনার গাড়িতেই তো যাবে তাই না?
— হুমম যাও তাহলে।

রিমলি ব্যাগ নিয়ে বাইরে দাড়িয়ে আছে। খুব ইচ্ছে করছে সাফওয়ান কে একবার দেখে আসতে হসপিটালে থাকতে ২ এক বার গিয়ে চোখের পলক দেখে আসছে। এখন তো আর আসা হবে না দেখাও হবে না।
উফফস নাহ রিমলি না তুই কি সব ভুলে গেলি তোর সাথে কতটা অন্যায় হয়েছিলো সেদিন মনকে শক্ত কর রিমলি সাফওয়ান নামে তুই কাউকে চিনো না। আর এসব কথা মুখেও আনবি না মরুক বাঁচুক যা হোক কোনো দরকার নেই। নিজেই রিমলি নিজেকে বুঝাতে বুঝাতে মাথা গরম হয়ে উঠে রিমলি চোখ বন্ধ করে দু হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে।

পিছন থেকে রিশাত ডেকে বলে কোনো সমস্যা মিস রিমলি?

রিমলি চমকে উঠে বলে আপনারা এসে গেছেন? না কোনো সমস্যা না এমনি মাথা ব্যাথা করছে।

— মামুনি তোমার মাথা ব্যাথা করছে? বেশি ব্যাথা করছে? কই ছিলে কাল? যানো তোমাকে অনেক মিস করেছি বাবাই তোমাকে ফোন দিয়েছিল কিন্তু পাইনি।
— আসলে কাজ ছিলো তাই আসতে পারিনি।
— তুমি আমাদের সাথে আমাদের বাসায় যাবে না?
— হুমম যাবো তো।
রুহমা খুশি হয়ে রিমলিকে জড়িয়ে ধরে গালে কিস করে আর বলে তুমি অনেক ভালো মামুনি। তুমি আমার সুইট মামুনি।

ডাক্তার সুনীল বলে উঠে হয়েছে হয়েছে এখন গাড়ীতে উঠো তোমার মামুনিকে সাথেই দিয়ে দিচ্ছি এখন থেকে সারাদিন তাকে আদর করো।

রিমলি গাড়িতে বসে ভাবে জিবনটা কিভাবে এলোমেলো হয়ে গেলো। কখনোই এটা মেনে নিতো না কিন্তু না মেনে উপায় নেই বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে বাবা অসুস্থ এই সময় আমি চাকরি হারা হয়ে বাসায় গেলে আমার সৎ মা আমার বাবা সহ আমাকে মেরে দিবে। আচ্ছা মা গুলো এইভাবে নিজের সন্তান গুলোকে এতিম রেখে কেনো চলে যায়? তারা কি জানে না তাদের মতো করে কেউ তার সন্তান কে ভালোবাসে না। আচ্ছা রুহামার আম্মুর কি হয়েছিল? এতো ছোট বয়সেই মা হারা হয়েছে আমি তো তাও মাকে ইন্টার পর্যন্ত দেখেছি কিন্তু ও তো এই ছোট বয়স থেকেই মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত।
আমার মতো ও হয়ত ওর মাকে মিস করে কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না।
আমিও তো কোনোদিন মা হতে পারব না। যেনেশুনে কোনো ছেলে আমাকে কখনো বিয়ে করবে না। থাক বিয়ে কি সব এই যে এই ভাবে মানুষের সেবা করব তাতেই সার্থক জীবন। জানি না কোন নতুন পরিক্ষায় আমি পড়েছি আল্লাহ রিশাত স্যার যেনো খুব তারাতারি ভালো হয়ে যায়। তাহলে আমি খুব তারাতারি মুক্তি পাবো।

— মামুনি তুমি চুপ করে আছো কেনো? কথা বলবে না আমার সাথে?
রিমলি মুচকি হাসি দিয়ে রুহামার হাতে একটা চকলেট দিয়ে নানা রকম কথা শুরু করে। রিমলি মনে মনে ভাবে অতীত কে ভুলতে আর বর্তমানের সাথেই মানিয়ে নিতে হলে রুহামার সাথেই আমার মিশে যেতে হবে।

৯.
সাফওয়ান কে আজকে অপারেশনে নিয়ে যাবে পা কেটে কৃত্রিম পা লাগানো হবে। সাফওয়ানের এখন বার বার শুধু রিমলির কথাই মনে পড়ছে। এখন মনে হচ্ছে পায়ের ব্যাথার থেকেও বুকের বা অংশে শুন্যতাটা বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
একটা বার যদি রিমলির সাথে যোগাযোগ করা যেত ফিরে না আসুক কিন্তু কিছু তো বলতো একটু কথা বলত সেটাই শান্তি ছিলো।

কিরে ভাইয়া এতো গভীর ভাবে কার কথা ভাবছিস?রিমলির কথা নাকি? সাফওয়ান ভ্রু কুঁচকে রিমনের দিকে তাকায়।
— কিরে তুই এখানে তোর নাকি অনেক কাজ আছে যার জন্য আমাকে অসহায়ের মতো ছেড়ে গেলি।
— না আসলে ভাইয়া কাজ আছে কিন্তু তোমার কথাও মনেপরে এতোদিন আঠার মতো তোমার পাশে ছিলাম আজ বিপদে তোমার পাশে থাকব না এটা কেমন দেখায় না।হয়ত কোনো একদিন আমিও এমন বিপদে পড়তে পারি।
— এসেছিস যখন একটা কাজ করে দিবি?
— কি কাজ?
— রিমলির খোঁজ এনে দিবি? খুব মনে পড়ছে ওকে দম বন্ধ হয়ে আসছে।
— তোমার এতদিন কেনো রিমলির কথা মনে পড়েনি? কয়দিন হলো দেখা হলো আর এর মধ্যে পাগল হয়ে গেলে?
— না রে আগেও মনে পড়ত মাঝখানে ওকে আমি অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোনো খোঁজ পায়নি। তোকেও বলিনি তুই শুনলে কি বলো না বলো। লুনার সাথে বিয়ের কথা পাকা হওয়ার পর থেকেই কেমন যেন ওর কথা বেশি মনে হতো। ওর কোনো খোঁজ না পেয়ে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম ভেবেছিলাম আর কখনো ওর সাথে দেখা হবে না। কিন্তু কাকতালীয় ভাবে পা ভাংগার সুবাদে দেখা হলো।
— আচ্ছা দেখি আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে।
— আজকেই যা না।
— আচ্ছা দেখছি।

,,,,,

রিমন হসপিটাল গিয়ে খবর পায় রিমলি হসপিটালে নেই। ও সব ঘটনা শুনে তাজ্জাব বনে চলে যায় সাফওয়ান এই ব্যাপারটা কিভাবে নিবে আল্লাহ জানে।
রিমন সাফওয়ান কে সব ঘটনা জানালে সাফওয়ান রেগে আগুন হয়ে যায়। এতোবার ডাকলাম একটু কথা বললে কি হতো? আর ঐ খানে ঠিকি যেতে পারছে। খুব তেজ হয়েছে ওর একবার সুস্থ হই ওরে এই শাস্তি আবার দিবো। ওর তেজ যদি আমি না কমিয়েছি আমার নাম সাফওয়ান না।
আর এই লোক কে খোঁজ নে। এতো সাহস হলো কিভাবে? পৃথিবীতে কোনো নার্স খুজে পায়নি শেষে আমার ভালোবাসা ধরে টানাটানি করছে।
রিমলিকে আমি যদি না পাইনা কাউকে পেতে দিবো না।
— ভাইয়া তোমার এই রাগটা না আমার কাছে মোটেও ভালো লাগছে না। রিমলি কে তো তুমি নিজেই সরিয়ে দিয়েছ এখন তো তোমার কোনো অধিকার নেই ওর উপর,,,,
— তুই চুপ কর আমি এতো কিছু শুনতে চাই না। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব ও আমাকে ইগ্নোর করে অন্য কারো সঙ্গে মস্তি করবে ভালো থাকবে সেটা কখনো হতে দিবো না। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল ব্যাকা করে নিয়ে আসব। একদিন ও আমার যোগ্য ছিলো না তাই ছেড়ে দিয়েছি এখন ও আমার যোগ্য পরিবারের যোগ্য এখন ওকে আমিই বিয়ে করব।
— এটা কোনো কথা অযুক্তিক কথা বলো না। আমার মনে হয়না রিমলি আর ফিরবে তোমার প্রতি ওর ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নেই।

সাফওয়ান মাথা নিচু করে বলে হুমম ভুল অপরাধ করেছি কিন্তু ক্ষমা তো চাইতে পারি আর একটা সুযোগ তো দেওয়া যায়।

— ওকে তবে আমি তোমার পাশে আছি।( তোর যা খুশি তুই কর পুরানো প্রেম আবার নতুন ভাবে পাগলামি শুরু করছে যত্তসব ভন্ডামী কচু আসবে রিমলি আবেগে বিবেক হারা হলে যা হয়। নিজে হাটতে পারে না আবার রিমলিকে দেখে নিবে। তাজ্জব কথা। তোর নতুন আবেগ দিয়ে আমি আবার টাকা কুড়াব। হা হা হা।)

রিমলি রিশাতের বাসায় গিয়ে নিজের মতো করে বাসা গুছিয়ে নিয়েছে। রুহামা এখন সারাক্ষণ রিমলির সাথেই থাকে রিমলি যা যা করে রিমলিকে দেখে সেও সেটাই করে। এখন রিশাতের কাছে তেমন একটা বসে না রিমলির সাথে ঘুমানো খাওয়া দাওয়া সব।
রুহামা রিমলির সাথে সারাদিন কথা বলতে থাকে। কতক্ষণ পর পর রিমলিকে প্রশ্ন করবে মামুনি ঐটা কি? এটা কি? এটা কেনো।
রিমলি উত্তর দিতে দিতে পাগল হ আমি তো প্রশ্ন উত্তরের বাক্স খুলে বসেছি তাই হুটহাট খালি প্রশ্ন করবি কানের পোক সব বের হলো আমার(মনে মনে)
— রুহামা মামুনি তুমি বাবার কাছে যাও তার কোনো কাজ নেই সে একদম ফ্রী আছে তুমি তার কাছে গিয়ে প্রশ্ন করো দেখবে পট পট করে তোমার উত্তর দিচ্ছে আমি একটু কাজ করি।
— বাবাইয়ের কাছে আমার ভালো লাগে না মামুনি আমি তোমার কাছে থাকব।
— ওহহ! আচ্ছা তাহলে চুপ করে বসো।
— তোমার কাজে হেল্প করি।
— তুমি কি হেল্প করবে আমার কাজে?
— তুমি যা করো তাই করব।
— তুমি পারবে না যাও। আটা তুমি নষ্ট করে ফেলবে তুমি বসে বসে দেখো আমি কিভাবে রুটি বানাই

কে শুনে কার কথা রুহামা কান্না শুরু করে দেয়। রিমলি উপায় অন্ত না পেয়ে আটার একটু খামি ওর হাতে দিয়ে বলে নাও এটা দিয়ে তুমি রুটি বানাও আর আমি এগুলো ভাজব।

রুহামা ছোট ছোট ৩টা রুটি তৈরি করে। রিমলি সেগুলো ভেজে দিলে রুহামা দৌড়ে ওর বাবার কাছে নিয়ে যায়।
বাবাই দেখো দেখো আমি রুটি বানিয়েছি বলতো বাবাই কার রুটি বেশি সুন্দর? আমার না মামুনির?

চলব,,,,,

(ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন বানান গুলো একটু বুঝে পড়ে নিবেন। আর কালকে রিমলির জিবনের রহস্য উন্মাচন করব আর গল্প বেশি বড় করব না খুব দ্রুত শেষ করে দিব)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here