Home "ধারাবাহিক গল্প" "তুই" পর্ব - ৬ (শেষ পর্ব)

“তুই” পর্ব – ৬ (শেষ পর্ব)

‘তুই’

‘তৃধা মোহিনী’

পর্ব ছয়

.
দিন যায়,মাস যায় কিন্তু ধ্রুভ আর মীরার সম্পর্কের কোন উন্নতি হয় না।ধ্রুভ কাছে আসতে চেয়েছে যতবার ততবারই মীরা তাকে বাধা দিয়েছে।তার কারন এই না যে সে প্রত্যয় কে ভালোবাসতো।প্রত্যয় শুধু তার বেষ্টফ্রেন্ড ছিলো।তার সুখ দুঃখ সকল কিছুর সাথী ছিলো প্রত্যয়।

একদিন সন্ধ্যায় বেলায় প্রচুর তুমুল বেগে বর্ষণ হচ্ছে।মীরা আজকে হলুদ রাঙা শাড়ি পরেছে।ধ্রুভ এখনো অফিস থেকে ফিরে নি।তারা বনানীর একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকছে।তার দাদাজান হয়তো চেয়েছিলেন এইভাবে কিছু একান্ত সময় কাটাতে যেন তারা একে অপরের ভুল বুঝাবুঝি দূর করতে পারে।

মীরা ওই সময়,’হুমায়ুন স্যারের’ ‘অপেক্ষা’ বইটা পড়ছিলো।বাইরে ঝুমঝুম বৃষ্টি হচ্ছিলো খুব।মন টা এমনিতে বিষন্নতায় ভরপুর ছিলো তার উপর এরকম ঝুমঝুম বৃষ্টি নজর কাড়ছে বারবার।গুটি কয়েক পায়ে বারান্দায় যেয়ে মীরা দুই হাত মেলে বৃষ্টি উপভোগ করছে।

বৃষ্টির ফোটা মীরার সারা শরীর ভিজিয়ে দিয়ে একাকার করছে।শিফনের শাড়িটা ভিজে লেপটে লেগে একাকার হয়ে আছে মীরার শরীরে।বৃষ্টি উপভোগ করছে মীরা।

.

অফিস থেকে বেরিয়ে মাত্র গাড়ি নিয়ে ফ্ল্যাটে পৌছালো ধ্রুভ।আজকে বেশ লেট হয়ে গেছে।শেষ মুহূর্তে একটা জরুরি মিটিং পরাতে সব এলোমেলো করে দিলো।

ফ্ল্যাটে কলিংবেল বাজালো না ধ্রুভ।সে ভাবছে হয়তো এসময় মীরা ঘুমায় না হয় পড়তে বসে তাই ডিস্টার্ব না করে নিজেই ডোর আনলক করে ভেতরে গেলো সে।গায়ের কোর্ট টা খুলে সোফায় রাখলো।টাই টাও আলগা করে নিয়ে খুলে নিলো।

নিজের রুমে যেয়ে দেখলো ধ্রুভ মীরা কোথাও নেই।বুকটা কেমন ছেৎ করে উঠলো।শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে নিলো।বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে,আর এই বৃষ্টিতে সে গেলো কোথাও ভেবে পাচ্ছে না।

ধ্রুভ বাহিরে দিকে বের হবে তার আগেই তার নজর গেলো বারান্দায় বৃষ্টি উপভোগ করার পরীর দিকে।বুকের হৃদস্পন্দন টা থমকে গেছে।পা টা নিজের অজান্তেই তার দিকে ছুটে চলছে।

যেতে যেতে মীরার পিছনে যেয়ে দাড়ালো ধ্রুভ।মীরা দাড়িয়ে বৃষ্টির পানিতে নিজেকে ভিজাচ্ছে।ধ্রুভর নিজেকে বেসামাল লাগছে মীরাকে দেখে এই অবস্থায়।তার দুই হাত প্রসারিত করে মীরার কোমর জড়িয়ে ধরলো।ঠান্ডা হাত হয়ে গেছে বৃষ্টির কারনে কিন্তু মীরার পেট টা নরম তুলতুলে আর গরম হয়ে আছে।শিউরে উঠলো মীরা।অনূভতি জানান দিচ্ছে এটা আর কেও নয় ধ্রুভ ছাড়া।মীরা সামনের দিকে ঘুরে আসতে চাইলে ধ্রুভ কোমর টাকে নিজের সাথে মিশিয়ে দিয়ে বাধা দেয়।

ধ্রুভ ফিসফিস করে বলে মীরার কানের কাছে,

–‘শিসসস!’

এরকম ফিসফিসিয়ে বলা মীরার বুকের ভেতরটা বারবার নাড়া দিয়ে উঠাচ্ছে।বুকের ভেতর প্রানপাখি টা ভালোবাসা পাবার জন্য ছটফট করছে।ধ্রুভ তার ঠোট দিয়ে মীরার ঘাড় থেকে সম্পূর্ণ পানি শুষে নিচ্ছ।যত চুমু খাচ্ছে ততই যেন এর তৃষ্ণা বাড়ছে।মীরার কোমর টা কেমন জোকের মতো ধরে আছে ধ্রুভ।

এইভাবে চুমু খেতে খেতে ধ্রুভ কেমন অস্থির হয়ে গেছে।মীরাকে টান দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে তার ঠোটের সাথে নিজের ঠোটের মিলন ঘটালো।মীরার কেন যেন বাধা দিতে ইচ্ছা করছে না।উজাড় করে ভালোবাসতে ইচ্ছা করছে তার ধ্রুভকে।সে ধ্রুভর চুল দুই হাত দিয়ে মুঠো করে ধরে।সেও ধ্রুভের ঠোট টা আকড়ে ধরে।চুমু খেতে খেতে তারা তাদের বেডরুমে চলে যায়।বাহিরে চলছে বিদ্যুতের আওয়াজ।আর এদিকের দুইজনের মনের ভেতর বেসামাল।

মীরার কাধ থেকে শাড়ি সরানোর সময়।ধ্রুভ থমকে গেলো।তার শ্বাস-প্রশ্বাস এতো দ্রুত চলছে যে চাইলেও আজকে সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না।সে মীরার দিকে চেয়ে রইলো।মীরা চোখ বন্ধ করে ধ্রুভের ঘাড় ধরে আছে।

ধ্রুভ খুব আস্তে করে বললো,

–‘মীরু?’

এই ডাক টা যথেষ্ট ছিলো মীরার বুকে আবারো তোলপাড় করার জন্য।মীরা যখন ধ্রুভের চোখের দিকে তাকালো।সে সবুজ চোখ জোড়া তে হাজারো ভালোবাসা জানান দিচ্ছে যে এইসব তার।ডুবতে চাইছে তার মাঝে।সম্মতি চাইছে।তার কাছে।মীরা ধ্রুভকে আরেকটু কাছে টানলো।দুইজনের মুখোমুখি তে একটুও ফাকা নেই।মীরার নিঃশ্বাস খুব দ্রুত পরছে আর সেই গরম নিঃশ্বাস গুলো ধ্রুভের মুখে পরছে।তারা জানান দিচ্ছে।সে শুধু তোমার।

ধ্রুভ আর অপেক্ষা না করে মীরার ঠোটের মধ্যে নিজের ঠোট চেপে ধরলো।অস্থির হয়ে নিজের শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো।মীরার কাধ থেকে শাড়ি সরিয়ে দূরে ফেললো।হালকা করে পেটে চাপ দিলো।এরকম সুখে মীরার মরে যেতেই মন চাচ্ছে।

আলো নিভে গেলো।ভালোবাসার প্রজাপতি গুলো খেলা করছে।একে অপরের আলিঙ্গনে কেও ব্যস্ত আছে।

.
দুই বছর পর,

হাসপাতালের করিডোরে ধ্রুভ দাড়িয়ে আছে।একটু পর বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া গেলো।একটা নার্স তোয়ালে তে একটা বাচ্চা নিয়ে আসছে।নার্সটা হাসিমুখে বললো,

–‘মেয়ে হয়েছে স্যার।’

ধ্রুভ বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে নার্সকে জিজ্ঞেস করলো,

–‘আমার মীরু?’

নার্স মুচকি হেসে বললো,

–‘শি ইজ অলসো অলরাইট।আপনি দেখা করতে পারেন যেয়ে।’

নার্স ধ্রুভের হাতে বাচ্চা দিয়ে চলে গেলো।ধ্রুভ বাচ্চার দিকে তাকিয়ে তার কপালে চুমু দিলো।বাচ্চাকে কোলে নিয়ে মীরার কাছে গেলো।

হাসপাতালের বেডে স্যালাইন ঝুলন্ত অবস্থায় মীরা চোখ বন্ধ করে আছে।ধ্রুভ আস্তে করে যেয়ে ডাকলো,

–‘মীরু?’

মীরা চোখ মেলে দেখলো তার স্বামী আর সন্তানকে।ধ্রুভ তার সন্তানকে মীরার পাশে শুয়ে দিয়ে বললো,

–‘আমাদের মীধা।’

মীরা হাসলো ধ্রুভের নাম শুনে।মীরার ঠোটে একটা শক্ত চুমু খেয়ে ধ্রুভ বললো,

–‘আমার শুধু তুই।’

সমাপ্ত

গল্পের শহর
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Most Popular

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৫ ও শেষ (জুয়েল) (১৪তম পর্বের পর থেকে) আমি গিয়ে অবন্তীর পাশে বসলাম। অবন্তী আমার কানের কাছে ওর মুখ এনে বললো.... অবন্তীঃ...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪|রোমান্টিক ভালোবাসার নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৪ (জুয়েল) (১৩তম পর্বের পর থেকে) বিকালবেলা অবন্তীকে কল দিলাম, কিছুক্ষণ পর অবন্তী কল ধরলো.... আমিঃ ওই কল ধরতে এতো দেরি করো...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩|ভালোবাসার রোমান্টিক নতুন গল্প

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১৩ (জুয়েল) (১২তম পর্বের পর থেকে) লিমা আমার ডেস্ক থেকে চলে গেলো। আমি অবন্তীকে কল দিলাম। কল দিয়ে কথাটা বললাম, অবন্তী শুনেই...

ভাবি যখন বউ পর্ব ১২

গল্পঃ ভাবি যখন বউ পর্ব ১২ (জুয়েল) (১১তম পর্বের পর থেকে) ৩০ মিনিট পর অবন্তীদের বাসায় গেলাম, কলিং বেল চাপ দিলাম। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দেয়। তাকিয়ে...

Recent Comments

Mohima akter on Ek The Vampire 18
error: ©গল্পেরশহর ডট কম