তুই_আমার🌹নয় ও শেষ পর্ব

তুই_আমার🌹নয় ও শেষ পর্ব
#ফারজানা

🏵️🏵️🏵️

নিশি বলল…..

“বাট কি?”

তখন আঁধার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো….

“ছোটো বেলায় আমার একটি অসুখ ধরা পড়ে। অনেক চিকিৎসা করার পরও ভালো ফল পাচ্ছিলাম না। তখন আমার আব্বু আমাকে কানাডা নিয়ে যায় আর ওইখানে অপারেশন হয়। ওইখানে ডক্টর বলে দিয়েছিলো আমি বাবা হওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছি। তখন ছোটো ছিলাম বুঝতে পারি নাই এইটার মানে কি। আমি ক্লাস নাইন থেকে নিশিকে কে পছন্দ করি একবার ভ্যালেন্টাইনস ডে তে আমি নিশিকে প্রপোজ করার জন্য সব প্ল্যান করে ফেলি। ওইদিন আমি আমার বাসায় আমার অনেক পুরনো ছবি বের করি নিশির ছবি আর আমার ছবি ফ্রেম বানাবো বলে ওইদিন আমি ওই রিপোর্টা দেখতে পাই। যেহেতু ক্লাস নাইনে পড়ি তাই কিছু কিছু অর্থ বুঝতে পারি। পরে ফোনে এইসব বিষয়ে সার্চ দেই আর সব বুঝতে পারি।

কিছুটা থেমে আবারো বললো আধাঁর….

একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় কিছু তার স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া হলো সন্তান আর আমি সেই সন্তান দিতে পারবো না তাই মনে জেগে উঠা ভালোবাসা শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেই। আমি বুঝতে পারি আরশি আমাকে পছন্দ করে বাট আমি আরশি কে সব সময় কাছের একজন বেস্ট ফ্রেন্ড মনে করতাম। তার উপর আমার এই প্রবলেম তাই আরশি কে আমি এড়িয়ে চলতাম। যদি জানতাম ওইদিন আরশি আমার জন্যই এইসব করেছে তাহলে আমি ওইদিন আরশি কে যেতে দিতাম না। ওকে ভালো না বাসলেও ও ছিলো আমাদের সবার কলিজা।

আধাঁর কান্না করছে সাথে নিশি ও তখন নিশির মনে একটা প্রশ্ন জাগে …..

“তাহলে আলোক কে আধাঁর?”

“তারা আর তৃপ্তর ছেলে”

নিশি আবারো বললো …..

” তুই না বললি ওদের খবর জানিস না তাহলে আলোক ওদের ছেলে হয় কিভাবে আর ওরা কথায়?”

” তারা যখন প্রেগনেট ছিলো একদিন তৃপ্ত আর তারা আমার বাসায় আসে…”

“কিরে তারা তুই এইখানে তাও এই শরীল নিয়ে আমাকে বলটি আমি চলে যেতাম আর তৃপ্ত তোর কি এখন বুদ্ধি শুদ্ধি সব গেছে নাকি”

তারা আর তৃপ্ত কিছুটা আমতা আমতা করে বললো….

“একটা দরকারি কথা আছে”

“হুম আয় ভিতরে আয়”

ওরা বাসার ভিতরে গিয়ে সোফায় বসলো তখন তৃপ্ত বললো….

“নিশি কেনো আমাদের কিছু না বলে চলে গিয়েছিলো জানিস?”

“নাহ ও তো আমাদের কিছু বলে নাই”

“আমরা কিছু না জানলেও তারা সব কিছু জানতো”

আধাঁর অবাক হয়ে বললো….

“জানতো মানে তাহলে ও এত বছর বললো না কেনো?”

“তারাকেই বল বলতে”

আধাঁর প্রশ্ন করা দৃষ্টিতে তারার দিকে তাকালো তখন তারা কান্না করতে করতে বললো….

“হুম সব জানি আমি আমার কারণেই নিশি চলে গিয়েছিলো”

“মানে”

“আরশির মৃত্যুর পর আমি জানতে পারি নিশি তোকে(
আধাঁর) পছন্দ করে এইটা আমি মানতে পারি নাই কজ আমি ও তোকে পছন্দ করতাম । এই নিয়ে নিশির সাথে আমার অনেক ঝামেলা হয়। আর আমি নিশিকে অনেক বাজে ভাষায় গালি ও দেই। আর বলি আমাদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য।
নিশি ওতো সব সময় অন্যের কথা ভেবে এসেছে তাই ও আমাদের কাউকে কিছু না বলে চলে যায়। আর ওর চলে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পারি আমি কি হারিয়েছি। আর আমি এইটাও বুঝতে পারি ভালোলাগা আর ভালোবাসা এক না। তোকে আমার ভালো লাগতো বাট আমি ভালবাসতাম তৃপ্ত কে এই নিয়ে সব সময় আমার মনে একটা অশান্তি থাকতো। আর গতকাল জানতে পারলাম আমার কন্ডিশন বেশি ভালো না। অপারেশনে আমার মৃত্যু হতে পারে তাই তোদের সবাই কে কথাগুলো বলে মরেও শান্তি পাবো। আর এইটা হয়তো আমার পাপের ফল হবে।

তারা এইসব বলছে আর কান্না করেই যাচ্ছে সাথে তৃপ্ত ও আধাঁর। আধাঁর আবার কিছুটা খুশি হলো এইটা ভেবে যে নিশি ও তাকে ভালোবাসতো।

বর্তমানে নিশি রাত এইসব শুনছে তাদের চোখ বেয়ে যেনো সাগর ভেসে যাচ্ছে তখন আবারো আধাঁর বললো….

“আলোক কে জন্ম দিতে গিয়ে তারা মারা যায়। আর তারার মৃত্যু তৃপ্ত মেনে নিতে না পারায় হার্ট অ্যাটাক করে আর আমাকে বলে গিয়েছিলো আলোকের দায়িত্ব নিতে। সেই থেকে আলোক আমার সাথেই আছে আমার আলো হয়ে…..

তখন রাত বললো…..

“তোদের বন্ধুত্ব দেখে তো আমি অবাক। আমার বোন সব সময় তোদের কথা বলতো। আর আমি আগে এই রকম ছিলাম না। আমার বোনের মৃত্যুর পর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এমন হলাম। আমি আমার বোন কে খুব ভালবাসতাম। ওকে নিয়ে কেউ কিছু বললে তাকে ছেরে দিতাম না এই জন্যই নিজের গার্লফ্রেন্ড কে জাস্ট শারীরিক রিলেশন করার জন্য রেখেছি তার কারণ। আমার বোনের মৃত্যুর পর আমার গার্লফ্রেন্ড বলেছিলো ….
“ভালোই হয়েছে তোমার ওই হাতি বোন মারা গেছে। এমনিতেই তো হাতি এইটাকে তো আর কেউ বিয়ে করতো না তাহলে সারাজীবন তোমার ঘাড়ে বসে খেতো আর অন্ন ধ্বংস করতে। একদিক দিয়েই ভালোই হইছে কি বলো”

ওইদিন আমার গার্লফ্রেন্ডের মুখে এইসব শুনে তাকে রাগের মাথায় রেপ করি। যাকে এত ভালবাসতাম তার সাথে এই আচরণ করার পরও আমার শান্তি হতো না তাই তো এখনও মাঝে মাঝে নিজের শান্তির জন্য ওকে নিয়ে আসি। আর আমার এই ফুফু সব সময় আমার বোন কে হাতি বলতো সাথে আরো বিভিন্ন বিষয়ে বকা দিতো তাই আজ মেরে ফেললাম। এখন তোদের মারবো তোরা ও কম দায়ী না আমার বোনের মৃত্যুর জন্য…..

রাত পিস্তল যখন নিশি আর আধাঁরের দিকে তাক করালো তখন নিরব এসে একটা লাঠি দিয়ে রাতের মাথায় বারী মারে আর ইচ্ছামতো মারতে থাকে……

“আজ তোর জন্য আমরা মা বাবা হারা। শুধু মাত্র তোর প্ল্যানের জন্য আমার মা আমার আব্বুকে হত্যা করেছে। আমার মা তোর জন্য আজ আমাদের এতিম বানিয়েছে তোকে তো আমি মেরেই ফেলবো কু****বা****”

নিরব রাতকে মেরেই যাচ্ছে নিশি হাজার চেষ্টার পরও ছাড়াতে পারছে না। আধাঁর তখন পুলিকে ফোন দিলো আর নীরব কে ধরে রেখে নিশি আর নীপা কে বললো রাতকে বেঁধে রাখতে ।

নীপা তখন বড় বোনকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো….

“আপু জানিস পাপা আর নেই চলে গিয়েছে”

“সব দোষ আমার আমার জন্যই এই আব্বু….”

তখন নিরব বললো আপু তোর দোষ না সব এই রাত ভাইয়ার দোষ……

নিশি এই প্রথম নীরবের মুখে আপু ডাক শুনে খুশি হলো সাথে অবাক ও হলো রাত কিভাবে দায়ী…..

“এই রাত ভাইয়া প্ল্যান করেছিলো পাপা কে মেরে ফেললে পাপার মৃত্যুর খবর শুনে তো তুই আসবি আর ও তোকে নিয়ে যাবে আর মাম্মী কে অনেক টাকাও দিয়েছিলো। মাম্মী তো কোনোদিন পাপা কে ভালোবাসে নাই শুধু মাত্র টাকার জন্য পাপা কে বিয়ে করেছিল আর যখন পাপার টাকা শেষ হয়ে গেলো তখন এই টাকার জন্য পাপা কে মেরে ফেললো। ওইদিন রাতে মাম্মী আর রাত ভাইয়া পাপাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলে বাট ওরা জানতো না পাপা বেঁচে আছে ওরা যাওয়ার পরেই পাপা একটা চিঠি লিখে আর টেবিলের এক কোনায় রাখে তখন এই রাত ভাইয়া আবারো আসে দেখতে পাপা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে এসে দেখে পাপা মাঠিয়ে শুয়ে আছে তখন ও পাপা কে তোর ওরনা দিতে পাখায় ঝুলিয়ে মেরে ফেলে। আমি চিঠি পড়ার পর মাম্মী কে জিজ্ঞেস করি তখন ওনি এইসব বলছে । আমার হাত পা বাঁধা ছিল পুলিশ কে ভয়ে কিছু বলতে পারলাম না যে আমার পাপা আত্মহত্যা করে নাই তাকে মেরে ফেলা হয়েছে ।

বলেই নিরব জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো…..

নিশির চোখে তার মা আর রাতের প্রতি ঘৃনা জন্মালো। আর ভাবতে লাগলো কি কষ্টই না পেয়ে তার বাবা মারা গেছে। নিশির বাবা নিশিকে সবার সামনে আদর ভালোবাসা না করলেও ঠিকই রাতে তিনি তার মেয়ের কাছে যেতেন আর কান্না করতেন। নিশির পালিয়ে যাওয়ার সময় তার বাবাই সব বেবস্থা করে। নিশির বাবা কে নিশির মা বলেছিলো ওনার কথা না শুনলে নিশিকে মেরে ফেলবে তাই তিনি ভয়ে সব কথা শুনতো।

নিরব কান্না করতে করতে হঠাৎ করেই আধাঁর কে ধাক্কা মারে আর রাতের পিস্তল দিয়ে রাত কে মেরে ফেলে……

২২ বছর পর…..

আজ আলোকের বিয়ে ও এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। আধাঁর এখনও আলোক কে মামুনি বলে এই নিশি অনেক বকা ঝকা দিয়েছে বাট লাভ হয় নি।

২২ বছর আগে নিরব যখন রাত কে মেরে তখন পুলিশ এসে নিরব কে ধরে নিয়ে যায়। আধাঁর অনেক চেষ্টা করেছিলো যেনো নিরব কে বাঁচাতে পারে বাট পারলো না আদালত তাকে ফাঁসি দিয়েছে। নীপা কে নিয়ে আসে আধাঁর ওদের বাসায়। নিশি আর আধাঁরের বিয়ে হয়েছে। আর ওদের তো সন্তান আছেই আলোক তাই আর ওদের আর কোনো সন্তানের দরকার পড়লো না। আলোক ও ওদের খুব ভালোবাসে। নীপার পড়ালিখা শেষ করে আধাঁরের কোম্পানিতে জব করতো আধাঁর অনেক না করা সত্বেও নীপা জেদ ধরে বসে ছিলো সে জব করবে আর জব করার পাশাপাশি আধাঁরের পিএ কে পছন্দ করে ফেলে আর ওদের বিয়ে দিয়ে দেয় আধাঁর আর নিশি। আর নীপার মেয়ে নীলার সাথে আলোকের বিয়ে হচ্ছে। সবাই এখন খুব খুশি।

নিশি আয়নার সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে চুল ঠিক করছে তখন আধাঁর এসে বললো…..

বালিকা তুই ভুল করিয়া
খুলিসনে তোর চুল
না হয় আমি নয়ন জুরিয়ে
করতে পারি ভুল

নয়ন জুড়ানো রেশমী চুলে
হৃদয় ছুঁয়ে যায়
আদর করে দিবো তোকে
আমার স্বপ্নে আয়

কবিতাটা বলে নিশির চুলে নাক ডুবিয়ে বলতে লাগলো আধাঁর…..

“আমার মনে হয় কবি কারো এই রেশমী চুলের প্রেমে পড়েছিল তাই হয়তো এই কবিতাটা বলেছিলো। তোর এই ঘন লম্বা চুলের প্রেমেই বার বার পড়ি। এই চুলের জন্য তোকে সেই ১৯ বছরের নিশুর মতো লাগে”

“ওই সর তো তুই তো দেখি বুইড়া হয়ে ও তোর রোমান্স কমে না যা এইখান থেকে কিছুক্ষণ পর আমাদের ছেলের বিয়ে আর ওনি কিনা আসছে এখন রোমান্স আর কবিতা বলতে আধু ভাই কোথাকার”

“ওই তোকে না বলছি তুমি করে বলবি এই ২২ বছরেও তোকে শিখাতে পারলাম না আমি”

“আমি ও বলছি তুই যদি তুমি বলিস তো আমি বলবো”

“ওই শুন আমরা আজ রাতে জোসনা বিলাস করবো”

“তুমি কি পাগল হয়ে গেছো আধু ভাই আজ তোমার ছেলের বিয়ে কিছুক্ষন পর বাসর রাত আর তুমি কিনা যা তাই বলছো লজ্জা বলতে কিছু আছে তোমার”

“ঠিকই বলেছিস আজ যদি আমি বাবা হওয়ার সক্ষম থাকতাম এতদিনে হয়তো আরো দশ বারো টা বাচ্চা থাকতো আমাদের”

নিশি আধাঁরের কথা শুনে রেগে গিয়ে বললো…..

“তুই আবারো শুরু করছিস । যা তোর সাথে কথা নাই যা”

“আরেহ আমার রাগিণী এত রাগ দেখাতে নেই একদম বুকের বা পাশে এসে লাগে খুব ভালোবাসি রাগিণী তোকে সেই ক্লাস নাইন থেকে ভেবে রেখেছিলাম #তুই_আমার শুধু আমারই থাকবি তখন হয়তো ভেবেছি পুরোপুরি না হলেও মন থেকে #তুই_আমার থাকবি কিন্তু এখন তুই সম্পূর্ণ ভাবে আমার”

“আমিও তো ভালোবাসি আমার এই আধু ভাইটাকে হিহিহিহি চলো এখন বিয়ের কত কাজ বাকি চলো…..”

“হুম চল সাথে আমরাও আজ বিয়ে করে ফেলবো”

নিশি রাগী দৃষ্টিতে তাকাতেই আধাঁর বললো….

“মজা করছি”

নিশি এসে দিলো সাথে আধাঁর ও হাসলো……

সমাপ্ত…….

গল্পে অনেক কিছুই ভুল হয়েছে তার জন্য আমি দুঃখিত। ভালোবাসে গুছিয়ে হয়তো লিখতে পারি নাই। তাও আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন তার জন্য আপনাদের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা আর ধন্যবাদ রইলো। অনেকে হয়তো বলবেন এখন গল্পটা সিনেমার মতো হয়ে গেছে তাই তাদের বলছি আমি তো বাস্তব কোনো গল্প লিখি নাই কল্পনা করে লিখেছি। তাই সিনেমা বলে বাজে কথা বলবেন না। এখন কিছুদিন আমি ছোটো গল্প লিখবো পরে আবার ধারাবাহিক গল্প লিখবো ততদিন সবাই ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

Golper Sohor
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম