তুই_আমার🌹সাত

0
1490

তুই_আমার🌹সাত
#ফারজানা

🌺🌺🌺

বলেই চারজন হাত মিলালো আর মুখে তো তাদের সেই ডেভিল হাসি।

পরের দিন আরশি, প্রীতি, তারা,নিশি ও আলিয়া সবাই অনেক ঘুরাঘুরি করলো বাট আধাঁর,অয়ন,নিধন ও তৃপ্ত ওরা চারজন ঘুরতে আসলো না এই নিয়ে নিশি আর তারার মাঝে একটা কটকা লাগে পরে তৃপ্ত ওদের কিছু একটা বুঝিয়ে দেয়।

সারাদিন নিশিরা সবাই অনেক মজা করে সন্ধ্যার পর ওরা ওদের রুমে যায় তার কিছুক্ষণ পর নিধন আসে প্রীতির সাথে দেখা করতে সাথে অনেক গুলো কুক নিয়ে আসে। কুক দেখে সবাই একটা একটা বোতল হাতে নিয়ে নিলো বাট আরশি নিলো না ও আবারো ডায়েট শুরু করেছে নিধন অনেক বলার পর ও আরশি নিলো না তখন নিধন সেই খবরটা তৃপ্তদের জানানোর জন্য ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে।

“ওই তৃপ্ত আরশি তো খেলো না এখন কি হবে?”

তৃপ্ত মাথায় হাত দিয়ে বললো….

“এই রসগোল্লাটা সব সময় এমন করে শালী এইটার বোন ও নাই যে বিয়ে করে ওইটার ইচ্ছামতো শালী বলে বকতে পারতাম”

তৃপ্তর কথা শুনে সবাই হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের উপরে পড়তে লাগলো তখনি দরজায় কেউ টুকা দিতে লাগলো…

আঁধার গিয়ে দরজা খুলে দেখে আরশি দাড়িয়ে আছে আর কান্না করছে তখন আধাঁর বললো….

“কি রে আরু কান্না করছিস যেনো?”

আরশি কান্না করতে করতে বললো…..

“তারা,নিশি,প্রীতি আর আলিয়া কেমন যেনো হয়ে গেছে একটুর জন্য আমার মান সম্মান নিয়ে নিলো না। ওদের চারজনের সাথে কি আর আমি পারি যতই হাতির মত দেহ হোক”

আরশির কথা শুনে ওরা হাসবে না কান্না করবে বুঝতে পারছে না। এমন সময় নিধন নিজের হাসি কন্ট্রোল করতে না পেরে হাসতে লাগলো আর বললো লে***

তখন তৃপ্ত কড়া চোখে নিধনের দিকে তাকালো তখন নিধন আর কিছু বললো না…..

“ওরা কই?”

“ওরা এখন নাকি বিচে ভিজবে তাই ওরা ওইখানে গেছে”

এই কথা শুনে তো সবার মাথায় হাত ওদের এখন যে অবস্থা ওরা তো এখন নিজেদের কন্ট্রোলে নেই এইসব ভেবে ওরা আরশি কে নিয়ে বিচে গেলো…..

ওরা বিচে গিয়ে দেখে সবগুলা একটা আরেকটার শরীলে পানি ছিতাচ্ছে আর নাচছে…..

প্রীতি বলছে….

“ওরে নিধন ওয়ালা কো কুক খাওয়া তুই করলি দিওয়ানা”

আর এই গানে তারা,নিধি আর আলিয়া সুর দিচ্ছে ওদের এই অবস্থাতে তো ভিডিও না করলে মজা নাই তাই আধাঁর ওদের এইগুলো ভিডিও করছে আর হাসছে। তখন অয়ন বললো…..

“দোস্ত অনেক হয়েছে চল এই চার কলসিকে খুলে নিয়ে রিসোর্টে যাই তানাহলে পরে আরো বেশি কিছু হয়ে যাবে”

নিধন বললো….

“বাহ কলসি নামটা কিন্তু জোস”

ওরা চারজন ওদের কে ওইখান থেকে খুলে নিতে গেলো তখন নিশি বললো…..

“ওই তোরা কি হিসু করে দিছিস তোদের প্যান্ট ভিজা কেন?”

তৃপ্ত বললো….

“হো বোইন আমরা মুতে দিছি এখন চল”

নিধন তো হাসির কারণে প্রীতিকে খুলে নিতে পারছে না এক সময় তো হাসতে হাসতে প্রীতিকে পানির উপরে ফেলে দিলো…..

অয়ন রেগে গিয়ে বললো…..

“আমার বোন যদি ব্যাথা পায় না দেখিছ কি করি তোর শালা”

নিধন প্রীতিকে খুলে নিলো,আলিয়াকে অয়ন খুলে নিলো, তৃপ্ত তারাকে খুলে নিলো আর নিশি কে আধাঁর খুলে নিলো আর এইসব ভিডিও আরশি তুলছিলো আর বলছিলো…..

“ভাগ্যিস ওই কুক খাই নাই তাহলে তো আমাকে খুলে নেওয়ার মতো কেউ ছিলোই না। আর আমি ও এইসব কমেডি মুভি মিস করতাম। এই জন্যই লোকে বলে ডায়েট করো ডায়েট করো”

ওরা আরশির কথায় হেসে দিলো……

আরশি ওদের তেতুলের রস আর লেবুর সরবত খাওয়ালো আর ওরা বমি করে কি একটা অবস্থা বেচারি আরশি এই চারজনের খেদমত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলো…..

🌺🌺🌺🌺

সকালে……

“মাথাটা এত ভার লাগছে কেনো? আর কি হয়েছে আমার জানা কাপড় চেঞ্জ কে করলো”

এইসব ভাবতে ভাবতে আলিয়া ও রুম থেকে বেরিয়ে দ্বীপ দেখার জন্য বাহিরে আসলো আর নিশি, তারা, প্রীতি ও আরশি কে ডাক দিলো না দেখলো ওরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তাই…..

“সত্যিই কি অপরূপ দৃশ্য। সাগরে মাঝে এত বড় দ্বীপ। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কতই না সুন্দর”

“তুই ও কম সুন্দরী না আলু”

আলিয়া পিছন ফিরে দেখে অয়ন। তখন ও রেগে গিয়ে বললো….

“আলিয়া আলু না অশিক্ষিত পাবলিক একটা”

“ওই শুন এত সকালে উঠছি রোমান্টিক কথা বলার জন্য এইসব ঝগড়া করার জন্য না”

“তো যা গিয়ে রোমান্টিক কথা বল এইখানে কি?”

“জানিস না তুই?”

আলিয়া মুখটা নিচু করে আমতা আমতা করে বললো….

“কি জানবো এ আমি?”

“সত্যই কি জানিস না তুই? আমার মনের ফিলিংস?”

আলিয়া কিছু বললো না চুপ করে রইলো….

“এই আলু বল বল না তুই জানিস না কিছু?”

“জানলেই কি সব বলতে হবে নাকি”

“মানে তুই জানিস”

আলিয়া চুপ করে রইলো….

“তাহলে যেহেতু জেনেই ফেলেছিস তাহলে বলে দেই….

তোর সাথে আমার চার বছরের ফ্রেন্ডশিপ। যখন তুই ক্লাস টেনে একবার নীল শাড়ি পরে আমার সামনে দিয়ে হেঁটেছিলি তখন তোর ওই কাজল মাখা চোখ গোলাপী ঠোট আর বাঁকা চুলের প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। তখন বলতে ভয় ছিল যদি ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট করে দিস সেই ভয়ে ওই অজান্তেই মনে জাগা ভালোবাসা মনেই রেখে দিয়েছিলাম। বাট আজ তোর হলুদ থ্রি পিস আকাশে উরা সেই বাঁকা চুলের প্রেমে আবারো পড়লাম তাই আজ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।
খুব ভালোবাসি রে আলু তোকে খুব ভালোবাসি।প্লিজ ফিরিয়ে দিস না সইতে পারবো না।

আলিয়া মুখে মুচকি হাসি দিয়ে বললো…..

“অবশেষে তাহলে বোবা মানুষটা মুখ খুললো আমি তো ভাবতাম তুই সারা জীবন বোবাই থাকবি। আর আমার বিয়ে হয়ে বাচ্চা হয়ে যাবে তাই তুই এই *ভালোবাসি* কথাটা বলতে পারবি না”

“তারমানে তুই ও আমাকে ভালোবাসিস”

“তোকে কি বলেছি আমি যে তোকে ভালোবাসি”

“নাহ”

“আর বলবই না। কজ তুই একটা আনরোমান্টিক প্রেমিক। প্রপোজ করতে আসছিস হাতে কোনো ফুল নাই। আর জানিস প্রপোজ করার সময় প্রেমিকা কে জড়িয়ে ধরে ওই দিতে হয়”

অয়ন কতক্ষন ভাবতে লাগলো ওই কি…..

“আরে বজ্জাতের নানা ওইটা মানে হিন্দি মুভি দেখিস না”

“আরেহ গাঁধী ওইটা কি নাম আছে না নাম বল”

“ওই যা তো ব্রেকআপ যা তোর সাথে প্রেম করবো না আমি। মন চাচ্ছে মাথার চুল সব এক টানে ছিড়ে ফেলি”

“না বুঝিয়ে বললে বুঝবো কিভাবে?”

তখন পিছন থেকে তৃপ্ত হাসতে হাসতে বললো….

“গাধা ওইটা মানে কিছুকিছু(চোখ টিপ দিয়ে)”

“এই কিচুমিচু কি?”

আধাঁর বললো

” তোর মাথা আর তোর কল্লা”

তখন তারা বলেই দিলো….

“হালা খবিশ তুই কি রোমান্টিক ফিল্ম দেখিস না। ওইটা কিসি দেওয়ার কথা বলছে”

নিশি আমতা আমতা করে বললো….

“তারা একটু লজ্জা রাখ এইভাবে সরাসরি বলছ কেন?”

সবার কথা শুনে অয়ন বোকা বনে গেলো তখন বললো….

“দিবো কি?”

আলিয়া বললো….

“বিয়ের পর এখন না চল সবাই গিয়ে ঘুরাঘুরি করি…..”

সবাই চলে গেলো ঘুরতে । সবাই একটা নৌকায় উঠলো খুব মজা করতে লাগলো একজনের শরীলে আরেকজন পানি দিতে লাগলো ।

সবাই অনেক আনন্দ করলো সবাই নৌকা থেকে নামলো বার আরশি ছাড়া ও নাকি আরেকবার ঘুরবে সবার না করা সত্ত্বেও ও ঘুরবে তাই সবাই ওর জন্য পারে অপেক্ষা করলো আর আরশি নৌকা দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত গেলো। মাঝি অনেক বলছে পারে যেতে কিন্তু আরশি ও যেতে নারাজ। হটাৎ করে সাগরে ঢেউ শুরু হলো নৌকা এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলো।

নিশি ,তারা, প্রীতি ,আলিয়া, তৃপ্ত, আধাঁর,অয়ন ও নিধন ডাকতে লাগলো বাট নৌকা মাঝি কিছুতেই পারে আনতে পারলো না। তখন মাঝি ভয়ে নৌকা ওইখানে রেখেই ঝাঁপ দিলো আর সাঁতার কাটতে লাগলো। আরশি সাঁতার পারতো না আর ওর শরীল ছিলো খুব ভারী তাই নৌকা ডুবে গেলো সাথে আরশি।

ভার্সিটির স্যার মেম রা অন্য একটা বুট নিতে চাইলো বাট এই স্রোতে কেউ রাজি হলো না। তৃপ্ত, আধাঁর,অয়ন ও নিধন ওরা যেতে চেয়েছিল বাট স্যার ওদের আটকিয়ে রেখেছিলো…….

বিশাল নিরবতা সবাই খুব চুপচাপ। আবার হটাৎ করেই ভেসে আসছে নিশি ,তারা, প্রীতি ,আলিয়া ওদের কান্নার আওয়াজ। বার বার নিজেদের দোষী মনে হতে লাগলো ওদের। ভার্সিটির স্যার রা ঝড় কমার পর অনেক কিছুই করেছে আরশির কোনো খুঁজ ওরা পেলো না তাই ওরা সিদ্ধান্ত নিলো এবার ওরা ফিরে যাবে।

নিশি ,তারা, প্রীতি ,আলিয়া ,তৃপ্ত, আধাঁর,অয়ন ও নিধন ওরা কিছুতেই রাজি হলো না বাট স্যাররা ওদের নিয়েই গেলো…..

কিছুদিন কেউ আর ভার্সিটিতে এলো না। সবাই অনেক বদলে গেলো। কেউ আরশি কে ভুলতে পারছে না। ওদের সবার অবস্থা খুব খারাপ। কিছুদিন এইভাবে যাওয়ার পর নিশি বদলে গেলো। ও আর আগের মতো খুলা মেলা ভাবে কলেজ আসে না কারো সাথে কথা বলে না। একদিন হটাৎ করেই কলেজ থেকে ট্রান্সফার করে অন্য কোথাও ভর্তি হয়। নিশির খবর কেউ আর জানতে পারলো না। সবাই অনেক চেষ্টা করেছে বাট পারে নাই। তারা নিশির নানু বাড়ির ঠিকানা জানতো। ওরা ওইখানে গিয়েও খুঁজ নিলো বাট নিশির মামী কিছু বললো না বরং আরো খারাপ ভাষায় ওদের গালি দিলো……

এইসব ভাবতে ভাবতেই নিশির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আর বর্তমানে ফিরে আসলো। এখনও ও আরশি কে ভুলতে পারলো না। তারা, আলিয়া, প্রীতি, নিধন,তৃপ্ত,অয়নের ও কোনো খুঁজ পেলো না যদি ও বা আগে আধাঁরের সাথে যোগাযোগ না থাকলে ও এখন যোগাযোগ আছে…….

🌺🌺🌺🌺

নীপা ওর রুম থেকে বের হয়ে ওর বাবা মায়ের রুম দিয়ে বসার রুমে যাচ্ছিলো তখন ওর পা কিছুটা যাওয়ার পর আবার থেমে গেলো ভয়ে ভয়ে ও আবারো পিছনে এসে জানালা দিয়ে রুমের ভিতর চোখ দিতেই জোড়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো…….

চলবে…..

গল্পটা বেশি বড় করবো না খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। আর গল্পে এখন আর আগের মতো রেসপন্স পাচ্ছি না আপনাদের তাই আরো তাড়াতাড়ি শেষ করার চেষ্টা করছি।