তুই_হবি_আমার😎😎পর্ব__১৫

তুই_হবি_আমার😎😎পর্ব__১৫
#DîYã_MôÑî

সুমিদের বাড়ি ডাইনিং টেবিলে বসে রেজালা খাচ্ছে সাদিয়া। আর সুমির বাবা আড় চোখে ওকে দেখছে। সোফায় সামনাসামনি গুটিসুটি মেরে বসে আছে সুমি আর সম্রাট। সুমির বাবা কয়েকটা প্রশ্ন করেই সুমিকে ডেকে সাইডে নিয়ে গেলো।

সুমির বাবা : সাদিয়া মেয়েটাকে না আমার অনেক ভালো লেগেছে। তোর ছোট ভাইটা ওর কথা আমাকে বলেছিলো। তুই কথা বলে দেখ তো সাদিয়া কি বলে।

সুমি : কিন্তু ওরা তো আমার জন্য এসেছে,,, এর মধ্যে সাদিয়া কেন.? আর তোমার ছেলের মত ক্ষনে ক্ষনে বদলায়। শুধু শুধু মেয়েটাকে তোমার বেকুব ছেলের সাথে জড়াতে পারবো না।

সুমির বাবা : সেজন্যই তো বলছি আমরা না হয় এনগেইজমেন্ট করিয়ে রাখবো তাহলে ও আর মত বদলাবে না । ওর মাঝেও একটা দায়িত্ব কর্তব্যবোধ চলে আসবে।

সুমি : আমার বিয়েটা দিবা কিনা বলো। তোমার ফ্লট ছেলে দুইদিন পর পর মেয়ে পছন্দ করে ওমন ছেলের সাথে পিচ্চির বিয়ে হতে আমি নিজে দিবো না।

সুমির বাবা : নিজের ভাইয়ের ভালো চাস্ না..? যদি সাদিয়ার সাথে তোর ভাইয়ের বিয়ে নাহয় তাহলে তোর সাথে সম্রাটের বিয়ে দিবো না।

সুমি : কথাটা সাদিয়াকে বলো। মজা বুঝবা। যাও যাও।

সুমির বাবা সুমিকে নিয়ে আবার সোফায় এসে বসলেন। সুমি ঠোট চেপে হাসছে।
সুমির বাবা : সম্রাট এই বিয়ে হবে কিন্তু আমার একটা কন্ডিশন আছে।

সম্রাট : জি আংকেল বলুন।
সুমির বাবা : সাদাফের ( সুমির ভাই ) সাথে সাদিয়ার বিয়ে দিতে হবে। দেখো তুমি হয়তো ভাবছো আমি কেন এমন অদ্ভুদ শর্ত দিচ্ছি তাই বলে রাখি,, আমার ছেলে অত্যন্ত অসভ্য আর চিটিংবাজ। দুইদিন পরপর একেকটা মেয়ে ধরে এনে বলে যে তাকে ও পছন্দ করে। কিছুদিন আগে সাদিয়ার কথাও বলেছে। এখন সাদিয়াকে কাছ থেকে দেখে মনে হলো ওর মতো ভদ্র নম্র সহজ-সরল,, ভালো মনের মেয়েই সাদাফের বউ হওয়ার যোগ্য। একদিন এসে আমাদের কতটা আপন করে নিয়েছে। সাদাফের ভালোর জন্য এটুকু চাওয়া কি আমার দোষের.?

সম্রাট ঢোক গিলছে কারন সাদিয়া খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে ওদের দিকেই আসছে। সবটা শুনেছে তাই কিছু টা তো বলবেই।

সাদিয়া : ঠিকই তো। প্রতিটা বাবাই চায় নিজের ছেলে ভালো থাকুক সুখে থাকুক। ছেলে চিটিংবাজ,, অসভ্য সব ঠিক আছে। কিন্তু আপনাকে কে বললো আংকেল যে আমি সহজ-সরল নম্র ভদ্র.?

সুমির বাবা শঙ্কিত হয়ে সাদিয়ার দিকে তাকালো। সাদিয়া সোফায় বসে ফোন টিপতে টিপতে আবার বলতে শুরু করলো,,

সাদিয়া : আপনার ছেলে সাদাফ যেদিন আমার কথা আপনাকে বলেছে তার পরেরদিনই আমার হাতে উত্তম মধ্যম খেয়েছে। পুরোটাই সুম্পি জানে & ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আমি নিজে ওর গার্লফ্রেন্ড ঠিক করেছি। মেয়েটা আমার ক্লাসেই পড়ে। আশা করি আপনার জন্য এইটুকু জানাই যথেষ্ট। বেশি কথা বলতে ভালো লাগে না আমার। এখন বিয়ের ডেট ফিক্সড করুন

সুমির বাবা : তুমি আমার ছেলেকে মেরেছো.? আর এখনো ভাবছো তোমাদের পরিবারে আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো।

সাদিয়া : দিবেন না? ঠিক আছে দিতে হবে না। আমার দাভাই এর বউকে তুলে নিয়ে যেতে আমাদের একটুও সময় লাগবে না। বছর তিনেক পর আমার দাভাই এর পিচ্চু পিচ্চু গোলুমুলু কয়েকটা বাচ্চার ছবি পাঠিয়ে দিবো,, সেগুলো দেখেই শোকর আদায় করবেন। ওদের জন্য ওইটুকুই যথেষ্ট।

সম্রাট : বোন চুপ কর।
সাদিয়া : চুপই তো ছিলাম। কিন্তু আংকেল বুঝতে পারছে না যে আমি চুপ থাকলেই ভালো। আর আমি কথার চেয়ে কাজে বেশি এক্সপার্ট।

সুমির বাবা : তোমার বোন দেখছি সুমি যেমন বলেছে তেমনই। এটাই আশা করেছিলাম। আমার মেয়েকে নিয়ে আর চিন্তা নেই। তোমরা বিয়ের ডেট ঠিক করো।

সাদিয়া : ঠিক করাই আছে পরশু।
সুমির বাবা : এতো তাড়াতাড়ি কেন..

সাদিয়া : সুম্পি চায় ওর বিয়েতে সুপাস্টার আরীব মাহমুদ থাকবে। আরীব আর পাঁচদিন এদেশে থাকবে তাই বিয়েটাও তার মধ্যেই দিতে হবে। তাছাড়া দিনটা ভালো আছে। কোনো সমস্যা হবে না। যদি চান তো ছেলের বিয়েটাও দিতে পারেন। আমি মেয়েটাকে তুলে নিয়ে আসবো।

সুমির বাবা : না না থাক। তোলাতুলির দরকার নাই। আপাতত সুমির বিয়েটা হোক।পরে দরকার হলে তোমাকে খবর দিবো। একটা লেডি গুন্ডি তো আমার হাতেই থাকলো।

সাদিয়া : তাহলে পরশু ফাইনাল। আমরা এখন আসি। আরীব আমাদের বাড়িতে আছে।

সম্রাট : কি.?
সাদিয়া : হ্যা। চলো।

সম্রাটরা চলে যেতেই সুমি জোরে জোরে হেসে দিলো। সুমির বাবাও হাসছে।
সুমি : দেখলে তো,,, ওর মাথায় সবসময় মারামারি ঘোরে। কে বলবে যে ও কিছুদিন পরেই গানকে পেশা হিসাবে নেবে.?

সুমির বাবা : মেয়েটার ক্যারেক্টার কিন্তু দারুন। এই নরম তো এই গরম।


সাদিয়া বাড়ি এসে সোজা ফ্রেস হতে ঢুকলো,,, শরীর ম্যাচম্যাচ করছে দেখে একেবারে শাওয়ার নিয়ে একটা তোয়ালে পেচিয়ে বের হলো। আরেকটা তোয়ালে দিয়ে চুল ঝারছে। চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে দাড়াতেই ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো ও। আরীব ওর বিছানার ওপর বসে গালে হাত দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। চিৎকার শুনতেই আরীব দৌড়ে এসে সাদিয়ার মুখ চেপে ধরে।

আরীব : আরে এভাবে চিল্লাচ্ছো কেন। শোনো ছেড়ে দিচ্ছি কিন্তু চিল্লাবা না। অকে
সাদিয়ার গলা দিয়া শুধু উম উম আওয়াজ আসছে। আরীব সাদিয়াকে ছাড়তেই সাদিয়া দৌড়ে আবার ওয়াসরুমে চলে যায়। তারপর ওয়াসরুম থেকে চিল্লিয়ে বলে,,।

সাদিয়া : এটা কেমন অসভ্যতামি। আমার রুম থেকে বের হন। এখুনি বের হন।

আরীব : নিজে বাড়িতে ডেকে এনে চলে যেতে বলছো,,, এভাবে অপমান করার জন্য ডেকে এনেছো।

সাদিয়া : ( এটাকে টাইট দিতে গেলে নরম হতেই হবে। সাদিয়ার সাথে টক্কর নিলে সেটা খুব একটা ভালো হয় না মিস্টার আরীব। এবার দেখো আমি কি করি। )
সাদিয়া আবার বের হলো। চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া,, চুল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। আর সাদিয়া মাথা নাড়িয়ে চুল এলোমেলো করছে। আরীব ঢোক গিলে ওর দিকে তাকালো প্রথমবার ওর মুখ ছাড়া কিছুই দেখেনি তবুও সাদিয়া চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় করেছে আর এখন ওর সামনে শুধু গোলাপী একটা তোয়ালে জড়িয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাদিয়া আস্তে আস্তে আরীবের দিকে এগোতে লাগলো,, আরীব সাদিয়ার কাজে অবাকের চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে।

সাদিয়া : হ্যা তো কি জানি বলছিলেন.? ডেকে এনে অপমান করছি তাইনা.?আচ্ছা ঠিক আছে এবার সম্মান দিবো।
আরীব : ননননা মমমানননে

সাদিয়া : তোতলাচ্ছেন কেন.? বলুন। সম্মান চান না.?
আরীব : না। ( বলেই একছুটে বাইরে চলে গেলো।)

সাদিয়া রাগি রাগি মুখ নিয়ে ড্রেস চেন্জ করে নিলো। আরীব নিচে এসে হাপাচ্ছে। তখনই সম্রাট আসলো,,

সম্রাট : কি হয়েছে মিস্টার আরীব? হাপাচ্ছেন কেন.?
আরীব : না মানে,, আসলে দৌড়ে আসলাম,,
সম্রাট : কেন.? কোনো সমস্যা.?
আরীব : সাদিয়া।

সম্রাট : ভয় দেখিয়েছে..? কিছু মনে করবেন না ও ওমনই। ছোট তো তাই একটু বেশি দুষ্টু।
আরীব : সে আর বলতে। কি ডেন্জারাস মেয়ে। কি করতে চেয়েছিলো আল্লাহই জানে।

🍁🍁🍁
নিজের রুমে বসে বুকের ওপর ছুড়ি দিয়ে আচড় দিচ্ছে মেঘ। বুক বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে সেদিকে হুশ নেই ওর। রোজকে যেদিন প্রথম রিসোর্টে নিয়ে গেছিলো সেদিনই রোজের নামের একটা ট্যাটু আকিয়েছিলো বুকের বাপাশে। আজ সেটাকেই আরো গভীর করে লিখছে।

মেঘ : আমাকে কষ্ট পেতে দেখে তোমার অনেক ভালো লাগছে তাইনা রোজ.. তোমার যদি ভালো লাগে তাহলে হাজারবার নিজেকে কষ্ট দিতে রাজি আমি। কিন্তু তার আগে সবাইকে প্রমাণ করবো তুমি আমাদের ছেড়ে যাওনি। তুমি আছো আমাদের কাছেই আছো। তোমাকে ভালোবাসি আমি। সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসি। তোমার প্রতিটা শ্বাসও অনুভব করতে পারি আমি। আমি তোমাকে ফিরে পেতে চাই রোজ। প্লিজ ফিরে এসো।


অন্ধকার রুমে বসে একজন কিছু ছবি দেখছে আর হাসছে।
অজানা : তুমি তোমার ভালোবাসায় এতো অন্ধ হয়ে গেছো যে রোজকে না খুজে শুধু এই বিশ্বাসে আছো যে রোজ নিজে ফিরে আসবে। তুমি ভুল ভাবছো রোদ। আমি যে প্লানিং করেছি তাতে তুমি কখনোই রোজকে পাবে না। আর তুমি কি ভেবেছো রোজ? সম্রাটের কাছে থাকলে তোমাকে কেউ চিনবে না.? তুমি নিজেকে সবার থেকে আড়াল করতে পারলেও আমার থেকে পারবে না।
তবে ওই আরীবটা আমার প্লানিং এ একটা আবর্জনা ছাড়া কিছু না কিন্তু ওটাকে এখন সরাবো না আমি কারন ও নিজেই আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাবে। কষ্ট না করেও যদি রাধা পাই তাহলে সমস্যা কি.? এটা তো আমার জন্য ভালো।
বাকি রইলো তোমার কথা তোমাকে আমি কারোর হতে দিবো না রোজ,,, না মেঘের.. না আরীবের,, তুমি হলে আমার সেই জিত যা আমার এতোদিনের হারকে হার মানাবে। ফিরে আসবে তুমি হ্যা বাংলাদেশেই ফিরবে নিজের ভাগ্যকে সাথে নিয়ে আমার হতে,


রাজ আর কুহু বিগত ৬মাসের সমস্ত এক্সিডেন্ট কেসের ফাইল এনে সব ইনফরমেশর নিচ্ছে হঠাৎ ওদের চোখে পড়লো একটা ফাইল। হার্ট সার্জন সম্রাট খাঁনের বোন সাদিয়া খাঁনের ফাইল। কিন্তু সেখানে না ছিলো কোনো ছবি না ছিলো কোনো ডিটেইলস।

রাজ : সব ফাইলে কোনো না কোনো ইনফরমেশন আছে। একমাত্র এটাই ফাঁকা। আর সম্রাট খাঁন তো ইন্ডিয়ার ডক্টর,, উনি বাংলাদেশে কি করছিলেন.?

কুহু : দেখো এক্সিডেন্টের ডেটটাও সেম। রোজের যেদিন এক্সিডেন্ট হয়েছে সেদিনই। বাকি ফাইলের মধ্যে আরো ৬টা ছিলো একদিনের কিন্তু তারা অন্য মানুষ।

রাজ : রোজ কখনো গান গাইতো.?
কুহু : ও গাইতে পারলে তো গাইবে। তাই এটা সিউর যে ও কখনো গান গায় নি । তবে মেঘকে জোর করতো গান শুনবে বলে কিন্তু মেঘ বারবার এড়িয়ে গেছে।

রাজ : সম্রাট খাঁনের বোন গান গায়। বলতে গেলে পেশা নেশা দুইটাই গান।

কুহু : তুমি কি করে জানলে.?
রাজ : কিছুদিন আগে পেপারে একটা আর্টিকেল বেরিয়েছিলো,, আরাভ পড়ছিলো।তখন পাত্তা দেইনি কিন্তু মনে পড়ে গেলো মাত্র।

কুহু : তাহলে এই ফাইলটাও কাজের না। ধুরর কিচ্ছু পেলাম না। ওদিকে মেঘের অবস্থা খারাপ সারাদিন পাগলামি করে। একে ওকে মারে।নিজেকে কষ্ট দেয়,, এভাবে চলতে থাকলে তো ওকে বাঁচানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

রাজ : ড্যাম ইট,,, একটা মেয়ে এভাবে ভ্যানিস হয়ে গেলো কিভাবে.? কোথাও কোনো ইনফরমেশনই নাই। ৬মাস কেটে গেলো অথচ আমরা কোনো খবরই জোগাড় করতে পারছি না। বাংলাদেশের সব জায়গায় হানা দিয়েছি তবুও।

কুহু : ক্লান্ত হয়ে গেছি। কিছু মাথায় আসছে না। আচ্ছা মেঘের কথাই সত্যি নয়তো.? রোজ হয়তো বেঁচে আছে কিন্তু আমাদের সামনে আসছে না।

রাজ : হতেও পারে। শুনেছি রোজ অনেক জেদি একরোখা টাইপের মেয়ে ছিলো। হয়তো রাগের বশে এমন করছে।

🍁🍁🍁
আজ সম্রাটের বিয়ে আর সকাল থেকে সাদিয়া নিখোজ। আরীব অবশ্য আছে,, বিয়ের সব কাজ ও স্বেচ্ছায় করছে।

সম্রাট : এই মেয়েটাও না। যখন তখন বেরিয়ে যায়। আরে যাবি যা, কিন্তু একটু জানিয়ে যাবি তো। এভাবে টেনশনে ফেলে কোথায় কোথায় ঘুরছে।

আরীব : মিস্টার খাঁন আপনাকে দেখে টেন্সড মনে হচ্ছে। এনি প্রবলেম.?

সম্রাট : সাদিয়াকে সকাল থেকে দেখছি না। কোথায় আছে কি করছে বুঝতেই পারছি না।

আরীব : বিয়ে বাড়িতে কতোরকমের কাজ থাকে। হয়তো কোনো কাজে গেছে। চিন্তা করবেন না চলে আসবে। গেটের কাছে প্রেস মিডিয়ার লোকরা আছে, বিয়ের দিনে এভাবে চিন্তিত মুখ দেখলে ওরা কিন্তু ব্রেকিং নিউজ ছেপে দিবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

সম্রাট : আপনিও.? এবার বোঝা যাচ্ছে সাদিয়ার বন্ধু রয়েছে বাড়ি।
আরীব : তিনটায় কাজি আসবে। এখন সাড়ে বারোটা বাজে। দেখুন আপনার বোন আবার কাজির সাথে আসে নাকি। তা নাহলে কাউকে উত্তম মধ্যম দিতে গেছে। ওর তো ওই একটাই কাজ। আপনার মতো এতো ভালো হার্ট সার্জনের ওমন ডাইনি টাইপের বোন কোথা থেকে আসলো সেটা মিস্ট্রিয়াস ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

আরীবের কথায় ঠোট বাঁকিয়ে হাসলো সম্রাট। হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু বললো না। চুপ করে অপেক্ষা করতে লাগলো সময়ের।

বিকাল পাঁচটা,,, সম্রাট সুমিকে বিয়ে করে সবেমাত্র বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু দরজা খুলতেই ওরা ভুত দেখার মতো চমকে যায়। সাদিয়া সোফায় বসে পায়ের ওপর পা তুলে পপকর্ন খাচ্ছে আর মুভি দেখছে। কপালে পায়ে ব্যান্ডেজ।

সম্রাট : সাদিয়া…..

সাদিয়া : আরে তোমরা চলে এসেছো। আসো আসো। বাড়িতে কোনো মানুষ নেই দেখে একা একা মুভি দেখছিলাম।

সুমি : তুই বিয়েতে ছিলি না কেন.?
আরীব : হ্যা সেটাই কাজি এসে একঘন্টা বসেছিলো। তারপর চারটায় বিয়ে পড়ানো হলো। কোথায় ছিলে তুমি।

সম্রাট : কপালে পায়ে ব্যান্ডেজ কেন.?

সাদিয়া : এতো প্রশ্ন,,, আচ্ছা শোনো তাহলে,, আমি গিয়েছিলাম আম্মুর গয়নাগুলো পালিশ করতে। ওগুলো তো এখন বউমনির। আর অনেক বছর বক্সে থাকায় ধুলোও জমেছিলো,, কিন্তু আসার সময় একটা গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট হয়। চোট লেগেছিলো বলে কয়েকজন আমাকে চেপে ধরে হসপিটালে নিয়ে গেছিলো,, চারটায় হসপিটাল থেকে বের হয়ে বাড়ি এসে ফ্রেস হয়ে কাঞ্চনা ভুতের ছবি দেখছি। দেরি হয়েছে বলে আর যাইনি।

আরীব : আমাকে তো একবার জানাতে পারতে,, আমি গিয়ে নিয়ে আসতাম। দেখি কোথায় ব্যাথা পেয়েছো।

সাদিয়া : নাহহ।
আরীব : কি.?

সুমি ঢুকে সাদিয়ার কপাল আর পা চেক করতে লাগলো।
সুমি : এখনও রক্তে ভিজে আছে। দেখে চলতে পারিস না.? কে বলেছিলো আজই গয়না নিয়ে যেতে। কতটা ব্যাথা পেয়েছিস। মনে চাচ্ছে আরো দুচার ঘা দেই।

সাদিয়া : তুমি আসলেই চুরেল। নিরিহ অসুস্থ বাচ্চা মেয়েটাকে আবার মারতে চাচ্ছো। বিয়ে দিয়ে আরো বিপদে পড়ছি মনে হচ্ছে।

সুমি : একদম নড়বি না। যা লাগবে আমাকে বলবি। আমি চেন্জ করে আসছি। আর তুমি ওখানে হ্যাংলার মতো দাড়িয়ে আছো কেন ওর ব্যাথা চেক করে মেডিসিন দাও।রাতের মধ্যে যেন ব্যাথা কমে যায়।

সম্রাট : বোন টা আমার। তুমি এতো ঝারি দিচ্ছো কেন.? আগে বোন ঝারি দিতো এখন তুমি শুরু করলে.?

সাদিয়া : এটাকে টিম বলে দাভাই। সবে তো শুরু আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় ক্যা।

আরীব : আমি কোন দলে.? মিস্টার খাঁন.
সম্রাট : মেয়েদের দলে ছেলেরা থাকে না তাই আপনি আমার দলে। ওদের টর্চারের হাত থেকে আমাকে বাঁচান। অন্ততো সাদিয়ার হাত থেকে,,,

আরীব : আপনি বাঁচলে আপনার নাম। যে বোন বানিয়েছেন ওর সামনে নিজেকে বিড়ালছানা মনে হয়। ডাইনি পেতনি চুন্নির কম্বিনেশনে তৈরি আপনার বোন

সাদিয়া : ওই কি বললেন..? আমি কি.? দাড়ান আপনার হচ্ছে।

সাদিয়া সামনে থাকা এ্যাকুরিয়ামের মধ্যে থেকে হাত ডুবিয়ে পাথর তুলে আরীবের দিকে ছুড়তে থাকে আরীব সোফা থেকে কুশন উঠিয়ে সামনে ঢালের মতো ব্যবহার করছে আর এদিকে ওদিক দৌড়াচ্ছে। বাড়ির সবাই ওদের দেখছে আর তৃপ্তির হাসি হাসছে।

চলবে,,

[ সাদিয়াই রোজ। এটাই লাস্ট কথা আমি আর কখনো কিছু বলবো না নোটে। সবকিছু একবারে জানার অভ্যাস ত্যাগ করুন। যদি কমেন্টেই সব জিজ্ঞাসা করেন আর আমি বলি,, তাহলে কষ্ট করে গল্প লেখার কোনো মানেই নেই। মুড সুইং + সমালোচনার জন্য এমনিই ডিপ্রেস্ড তারওপর এতো প্রশ্ন ভালো লাগছে না। ক্লান্ত হয়ে গেছি। ]

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

Golper Sohor
গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম......... গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম