তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে পর্ব_৫

0
1368

তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
পর্ব_৫
#Writer_Nusrat_Jahan_Sara

অনু গাড়ি থেকে নামতে যাবে হঠাৎ আবিরকে ওর খুব কাছে দেখে সে ভীষণ ঘাবরে গেলো৷ আবির অনুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷ অনু আবিরের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো এই মুহুর্তে অনু একেবারে ফ্রিজড্ হয়ে গেছে নড়া ছড়ার শক্তিও পাচ্ছেনা৷ অনেক্ষন হয়ে গেছে অনু চোখ খুলে দেখলো আবির বোতল থেকে পানি খাচ্ছে৷ অনুর কাছে এবার স্পষ্ট হলো আবির পানির বোতল নেওয়ার জন্য অনুর দিকে এগিয়ে এসেছিলো৷ কারন বোতলটা অনুর পাশে একটা মিনি ব্যাগে রাখা ছিলো৷অনু বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে একাই বক বক করছে৷ বাকিরা সবাই আগেই চলে গেছে৷ এখান থেকে তাদের মামার বাড়িতে হেঁটে হেঁটে যেতে হবে৷ আবিরও গাড়ি থেকে নামছেনা৷ অনু আবিরের দিকে বিরক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজেই সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো৷মাটির রাস্তা তার মধ্যে আবার উঁচু নিচু৷ অনুর পায়ে হিল জুতা থাকার কারনে সে বারবার পায়ে মুচড় খাচ্ছে৷এতে পাও ব্যাথা করছে৷

অনুঃধুর সামু, রুহি, ছোঁয়া ওরা আমাকে ফেলে রেখে চলে গেলো৷ কেন যে তখন ঘুমাতে গেছিলাম৷ যদি না ঘুমাতাম তাহলে হয়তো এত বড় বিপদে পড়তে হতো না৷ এখন কী করবো আমি৷
.
অনু এবার জুতা হাতে নিয়ে নিলো৷বর্ষাকাল হওয়াতে রাস্তার চারিপাশের খাল বিল সব পানিতে টুইটুম্বুর৷ অনু চারিদিকে দেখছে আর হাটঁছে৷ পিছনে তাকিয়ে দেখলো আবির ওর থেকেই কিছুটা দূরে এগিয়ে আসছে৷ অনুর দৃষ্টি সামনে পরতেই দেখলো পানার উপরে একটা হলদেটে সাপ গোল হয়ে বসে আছে৷ অনু এটা দেখে ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো৷ এই প্রথম এত কাছ থেকে সে সাপ দেখছে৷ অনু সামনে একবার পিছনে একবার তাকিয়ে আবিরের কাছে দৌড়ে চলে গেলো৷

আবিরঃকী হয়েছে৷ তুমি আবার ইউ টার্ন মারলে যে৷
.
আসলে সামনে সাপ আছে৷ আমি ভীষন ভয় পাই সাপকে৷
.
আবির আরেকটু এগিয়ে দেখলো সত্যি এখানে সাপ আছে৷ ঢোঁড়া সাপ৷ আবির সাপের দিকে একবার অনুর দিকে একবার তাকিয়ে সাপকে পেরিয়ে সামনে চলে গেলো৷আবির জানে এই সাপ কামড় দেয়না আর দিলেও ক্ষতি হয়না৷ অনু আবিরকে সামনে এগিয়ে যেতে দেখে কেঁদে দিলো৷ সে কী করে যাবে যদি কামড় বসিয়ে দেয়৷ অনু মনকে শক্ত করে নিলো৷ মরে গেলে মরে যাবে তারপরও আবিরকে দেখিয়ে দিবে যে সেও ভয় পায় না৷ অনু আল্লাহর নাম জপ করে সাপকে ক্রস করে গেল৷আবিরও একবার পিছনে তাকিয়ে পকেটে দুই হাত গুঁজে এটিটিউড নিয়ে হাঁটতে লাগলো৷

“এটিটিউড দেখানোর আর জায়গা পায়না হুহ৷ নিজেকে কী মনে করে আল্লাহই জানেন৷
.
আবির অনুর খোঁচা দেওয়া কথা শুনে ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো৷

আবিরঃতুমি আমাকে কী বলেছো৷
.
আমি কাউকে কিছু বলিনি৷
🍁
অনু বিয়ে বাড়ির সামনে এসে জুতা পায়ে দিলো৷ পা এখনও ব্যাথা করছে৷ অনু কে দেখে সামান্তা ওর দিকে এগিয়ে এলো৷

সামান্তাঃকী রে অনু এত সময় কেন লেগেছে তোর?
.
তুই বলছিস এই কথা যখন ফেলে চলে এসেছিলিস তখন কই ছিলো তোর এই কথা৷
.
স্যরি রে৷ তুই তখন ঘুমিয়ে পরছিলি তাই তোকে ডাক দেইনি৷ তোর তো আবার ঘুম না হলে মাথা ব্যাথা করে৷
.
তোর কী মনে হচ্ছিলো আজ আমি গাড়িতেই ঘুমিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দিই৷
.
না তেমনটা না একচুয়েলি।বাই দ্যা ওয়ে, ভাইয়া কোথায়৷
.
তোর ভাইয়ের খবর কী আমি রাখি নাকি?গিয়ে দেখ পারলে, কোথায় গেছে৷
.
ওরে ভাভা এত রাগ৷
🍁
আবির সোফায় বসে আছে৷ আর অনু চেয়ারে৷ হুট করেই একটা মেয়ে এসে আবিরের পাশে বসে পরলো৷ আবির তার দিকে একবার তাকিয়ে হেসে দিলো৷ আরুহির মেয়েটাকে দেখে ভীষণ রাগ লাগছে আরও রাগ লাগছে আবিরকে ওর দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখে৷
মেয়েটি আবিরের কানে কানে বললো,,

“কী ব্যাপার আবির আগে তো আমাকে দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হতে আজ এই প্রথম আমার দিকে তাকিয়ে হাসলে তুমি৷ নিজেকেই নিজের কাছে খুব আনন্দিত লাগছে৷
.
আবিরও মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো৷মেয়েটি একবার আবিরের দিকে তাকিয়ে ভালো করে তাকিয়ে বললো,,

“ওয়াও আবির তুমি তো দেখছি আগের চাইতেও আরও বেশি হ্যান্ডসাম হয়ে গেছো৷
.
সামান্তাঃহ্যাঁ আমার ভাই হ্যান্ডসাম ড্যাশিং এখন কী হয়েছে৷
.
আরুহিঃএক্সাক্টলি৷ সত্যি নীলা আপু তুমি পারও বটে৷
.
নীলাঃএই তোদের এত সমস্যা কেন৷
.
সামান্তাঃকারন আমরা অনুর ভাগ কাউকে দিতে চাইছিনা৷
.
আবির সামান্তার কথা শুনে ওর দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো৷ আবিরের তাকানো দেখে সামান্তা একটা ঢুক গিলে নিজেকেই নিজে গালিগালাজ করতে লাগলো৷

সামান্তাঃধুর ধুর কথার তালে তালে মুখ ফসকে কী বলে ফেলেছি৷ এখন নীলা আপু যদি তিল কে তাল বানিয়ে দেয়৷ অবশ্য বানাবেই তো এটা তো তার অভ্যাসই৷
.
নীলাঃএক মিনিট এক মিনিট অনু মানে কী বলেছিলিস সামু৷
.
সামান্তাঃকিছু না তোমাকে সব কিছু বলতে হবে নাকি৷ সব বিষয়ে নাক গলাও কেন৷

আবির অনুর দিকে আঁড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখলো সে নীলা আর তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে৷ আবির অনুকে জ্বালানোর জন্য নীলার সাথে কথা বলতে থাকল৷

আবিরঃনীলা তুমি কিন্তু আগের চাইতে অনেক কিউট হয়ে গেছো৷

কথাটা শুনে অনুর কুঁচকানো ভ্রু আরও কুঁচকে গেলো।
.
নীলাঃতুমি আমাকে কখন দেখলে? ভালো করে তাকালে ওতো না৷
.
সামান্তাঃতো কী করবে এখন তোমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে নাকি আজব৷ আবির ভাইয়ার একবার তাকালেই হয়৷
.
আরুহিঃআর তুমি কিন্তু এতটাও সুন্দর না যতটা তুমি মনে করো৷
.
নীলাঃআমি সুন্দরের কথা কখন বললাম৷ আর তোরা তোদের এই অভ্যাস এখনি চেঞ্জ করলিনা৷ সব সময় আমাকে পিঞ্চ করিস৷
.
সামান্তাঃকারন তোমার অভ্যাস আমাদের ভালো লাগেনা৷
.
নীলা আরুহি আর সামান্তার দিকে চোখ পাকিয়ে চলে গেলো৷

ছোঁয়াঃএই মেয়েটা কে রে৷
.
আরুহিঃআমার মামাতো বোন নীলা৷
.
ছোঁয়াঃওহ৷ দুইহাতে চুড়িও দেখলাম বিবাহিত নাকি৷
.
সামান্তাঃহুম৷ হেতির দুইবছরের একটা মেয়েও আছে৷

ছোঁয়াঃছিঃ৷ কী লুচ্চা টাইপের মেয়ে৷
.
আরুহিঃহ্যাঁ ও এরকমই৷
.
সামান্তাঃআবির ভাইয়াকে খুব পছন্দ করত৷ তারপর ভাইয়া বিদেশ চলে যাওয়ার পর আরেকটা ছেলেকে পছন্দ করে নেয় তারপর বিয়ে৷
🍁
ছোঁয়া ছাঁদের রেলিঙ ধরে দাঁড়িয়ে আছে আর শ্রাবন ওর পিছনে৷

“ছোঁয়া
.
কিছু বলবে৷
.
না৷ আকাশটা দেখ কত সুন্দর৷
.
আকাশ তো সুন্দরই হয়৷
.
তবে আজকের আকাশটা একটু বেশিই সুন্দর৷
.
হুম৷
.
আর আমার কাছে মনে হচ্ছে আকাশে তুই এক জ্বলন্ত তারা৷
.
মানে?
.
মানে তুই বুঝবি না৷
.
তোমার কী হইসে বলতো? একটু প্রকাশ করো তো আরেকটু ভিতরে রেখে। দাও কেন?৷
.
এমনি৷
.
শ্রাবন ছাঁদ থেকে নেমে গেলো৷ ছোঁয়া মন খারাপ করে আকাশ দেখায় মন দিলো৷
🍁
“তুমি বুঝনি আমি বলিনি, তুমি স্বপ্নতে কেন আসনি
আমার অভিমান তোমাকে নিয়ে সব গিয়েছি৷

সামান্তা চেয়ারে পা দুলিয়ে বসে আছে আর আদনান ওর পাশে বসে গানটা গাইছে৷

সামান্তাঃওমা তাই? তা কিসের এত অভিমান তোমার আমার উপরে৷
.
আদনানঃতোর উপরে আবার কিসের অভিমান৷ অভিমান তো একজনের উপরেই আছে তাকে নিয়েই গানটা গাইলাম৷
.
সামান্তা কথাটা শুনে মন খারাপ করে ফেললো৷
🍁
“তুমি ছোঁয়ে দিলে হায়,আমার কী যে হয়ে যায়৷

আরুহি আদিলকে একটা গোলাপ দিয়ে বারি দিয়েছিলো তখনই আদিল গানটা গেয়ে বসলো৷

আরুহিঃপ্লিজ আদিল এই গানটা তুমি আমার সামনে গাইবেনা৷
.
আদিলঃগান তো গানই৷আচ্ছা একটা কথা বলতো বুকে শুধু চিন চিন করে কেন আই মিন আমেরিকা লন্ডন করে না কেন৷
.
আরুহি আদিলের কথা শুনে ফিক করে হেঁসে দিলো৷

” আরুহিঃআবুল কোথাকার৷
.
ওয়াট আবুল৷ আবুল আবার কী৷
.
তোমার মতো আবুল এইটা বুঝবে না৷
🍁
অনু উঠানে হেঁটে হেঁটে চারিদিকে দেখছে৷পাশে কারও উপস্থিতি টের পায়ে পাশে তাকালো৷ অপরিচিত একটা ছেলে৷

“হাই আমি বিহান৷আর আপনি?
.
অনিতা রহমান অনু৷
.
আই সি৷ তা আদিল খান আর আদনান খান কী আপনার কেউ হয়৷
.
কেন বলুনতো৷
.
না মানে আপনার চেহারা আর তাদের চেহারায় অনেক মিল আছে তো তাই৷
.
হ্যাঁ আমি ওদের আপন বোন৷
.
আচ্ছা একটা কথা বুঝতে পারছিনা তারা নিজেদের নামের সাথে খান টাইটেল লাগায় বাট আপনি যে রহমান লাগান৷
.
রহমান আমার বাবার নাম৷ আমি আমার বাবার নাম আমার নামের সাথে লাগাই৷
.
খুব ভালো৷ আপনার আর কোনো বোন নেই৷
.
কেন? .
.
এমনি৷
.
আছে৷ আমার জমজ বোন৷
.
ওয়াও শুনলাম আদিল আর আদনানও নাকি টুইন আর আপনারাও টুইন জাস্ট এ্যামাজিং৷
.
হুম৷

আবির অনুকে আরেকটা অপরিচিত ছেলের সাথে কথা বলতে দেখে রেগে গিয়ে পাশে রাখা একটা চেয়ারে একটা কিক দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো৷অনু ইচ্ছে করেই ছেলেটির সাথে কথা বলছিলো৷ আবিরকে রাগতে দেখে সেও বাঁকা হাসলো৷

চলবে…….

[ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কোচিংএ গিয়ে একটু একটু করে লিখে রেখেছিলাম বাসায় এসে আর লিখার সুযোগ পাইনি তাই যতটুকু লিখেছি ততটুকুই পোস্ট করলাম আর পরশু বড় একটা পার্ট দিবো]

আগের পর্ব https://www.facebook.com/groups/1099991637091029/permalink/1115736698849856/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here