তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে পর্ব_৮

0
1917

তুমি_বৃষ্টি_হয়ে_নামলে
পর্ব_৮
#Writer_Nusrat_Jahan_Sara

আদিল চা বানিয়ে কাপে করে এনে অনুর হাতে দিলো৷ অনু ছলছল চোখে আদিলের দিকে তাকিয়ে আছে৷ আদিল একটু হাল্কা হেঁসে অনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো৷
.
বাবাঃআমরা খুব খুশি আদনান আর আদিলের মতো ভাই তোমাদের উপহার দিতে পেরে৷ পৃথিবীতে হয়তো এদের মতো ভাই খুব কমই আছে৷
.
অনুঃএকদম তাই৷ আমার খুব ভয় করে মা আমি সবসময় এরকম ভালোবাসা পেয়ে যাব তো৷ নাকি তোমাদের ছেড়ে হারিয়ে যাব কোথাও?
.
আদনানঃএকটা চড় মারবো৷ এসব কী ধরনের কথা হুম৷ আর এরকম কথা বলবিনা৷আমাদের ছেড়ে কোথায় হারিয়ে যাবি তুই৷
.
অনুঃআমার খুব ভয় করে ভাইয়া৷ যতই তোমাদের ভালোবাসা পাচ্ছি ততই মনে হচ্ছে আমার মায়া যেমন কমে যাচ্ছে৷ আর বোধহয় তোমাদের ভালোবাসা পাবোনা৷ তার আগেই ঝরে পরে যাব৷ আমি তোমাদের ছেড়ে যেতে চাইনা ভাইয়া৷
.
আদিলঃমা তোমার মেয়েকে চুপ করতে বলো৷
.
মাঃঅনু এসব কী ধরনের কথা হুম৷ কেন তুমি ঝরে পরে যাবে৷ যে জায়গায় আদিল আর আদনানের মতো ভাই তোমাদের ছায়া হয়ে আছে৷
.
অনুঃইদানীং আমার এমনই মনে হয় মা৷ কেমন যেন মনে ভয় ঢুকে গেছে৷
.
ছোঁয়াঃভয়কে দূরে টেলে আবার আগের মতো হয়ে যা৷ আমি তো আদিল আর আদনানের মতো ভাই পেয়ে খুব হ্যাপি৷ মনে হয় আমার মতো সৌভাগ্যবান বোন আর নেই৷ সো প্যারা নাই চিল৷
🍁
আদনানের মা সবাইকে রাতের খাবারের জন্য ডাকছেন৷ আদিল আর আদনান ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখলো সবাই আছে কিন্তু অনু নেই৷

আদিলঃএকি মা অনু কোথায়?
.
আদনানঃহ্যাঁ মা বোন কোথায়?ও খাবেনা?
.
মাঃআমি ওকে ডেকেছি ও বললো শরীর নাকি ভালো না৷
.
আদিলঃআমাদের আগে জানাওনি কেনো?
.
আদনানঃচল গিয়ে দেখে আসি৷

আদিল আর আদনান অনুর রুমে গিয়ে দেখলো অনু গায়ে কাঁথা টেনে শুয়ে আছে৷ আদনান গিয়ে অনুকে ডাক দিলো৷ অনুর কপালে হাত রাখতেই দেখলো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে একেবারে৷

আদনানঃআদি বোনের শরীর তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে৷ তুই এক কাজ কর তুই বোনের জন্য প্লেটে করে খাবার নিয়ে আয় আর আমি ওকে জল পট্টি দিচ্ছি৷খাবার খাইয়ে দিয়ে ঔষধ খাইয়ে দিব।

আদনান একটা বাটিতে করে পানি এনে তাতে তোয়ালে ভিজিয়ে অনুর মাথায় জল পট্টি দিতে লাগলো৷ আদনানের মন যেন ধুকপুক ধুকপুক করছে৷ শুধু আজ অনুর বলা কথাগুলো মনে পরছে৷
আদিল প্লেটে করে খাবার নিয়ে এলো৷ আদনান অনুকে তুলে বসিয়ে দিলো৷ আদিল নিজ হাতে অনুকে খাইয়ে দিচ্ছে আর আদনান অনুর একপাশে বসে জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে৷ আদিল ওকে খাইয়ে দিয়ে ঔষুধ খাইয়ে চলে গেলো৷ আদনান এখনো মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে৷

আদনানঃভয় পাস না বোন৷ কাল হয়তো বৃষ্টিতে ভিজে তারপর আবার শরীরে বাতাসও লেগেছে তাই জ্বর এসেছে৷ কমে যাবে চিন্তা করিস না৷ কাল সকালে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাব৷

আদনান উঠে গিয়ে ছোঁয়াকে ডাক দিলো৷ ছোঁয়া প্লেট রেখে আদনানের কাছে এলো৷

ছোঁয়াঃডাকছিলে ভাইয়া?
.
আদনানঃহুম৷ তুই ওকে খাইয়ে দিতে পারলি না৷
.
আমি ওকে ডেকেছি কিন্তু ও বললো ও খাবেনা৷ তাই৷
.
ঠিকাছে ওর দিকে খেয়াল রাখবি৷ জ্বরের সময় বেশি পানির তেষ্টা লাগে৷ ওকে জিজ্ঞেস করে দেখিস পানি খেতে চায় কী না৷
.
সে নাহয় জিজ্ঞেস করবো তুমি খাবেনা৷
.
রুমে পাঠিয়ে দিস৷
🍁
আরুহি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে৷ আর সামান্তা ওর পাশে বসে আছে৷ ঔষুধের পাতা থেকে ঔষুধ বের করছে৷

আবির আর শ্রাবন কথা বলে বলে এক সাথে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলো সামান্তা আরুহিকে ঔষধ খাওয়াতে দেখে ওদের দিকে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো৷

আবিরঃকী হয়ে রুহির৷
.
সামান্তা আর আরুহি কিছু বলছেনা৷

শ্রাবনঃকী হলো সামু বলছিস না কেনো?
.
সামান্তাঃকী বলবো তোমাদের হ্যাঁ?কী বলবো?এই দু’ঘন্টা যাবৎ রুহি মাথা ব্যাথায় চটপট করছে সেদিকে কারও খেয়াল আছে৷ অনুর ভাইদের দেখেছো অনু সামান্য হাঁচি দিয়েছিলো বলে ওর ভাইরা চা আর মেডিসিন নিয়ে হাজির৷ হাজার হোক তোমরা ওদের মতো হতে পারবেনা৷
.
আবিরঃআমরা জানতাম নাকি?আর কে বলেছে আমরা ওদের মতো হতে পারবনা। আমাদের ভালোবাসা পেয়েছিস বলেই এত বড় হয়েছিস৷
.
শ্রাবনঃআর মাথা ব্যথাই তো কমে যাবে৷ তুই তো মেডিসিন দিয়েছিস ওকে৷
.
আবিরঃআর পরের বার থেকে আমরাও খেয়াল রাখবো৷ আমরাও দেখবো কীভাবে আদনানদের মতো কেয়ারিং ভাই না হতে পারি
🍁
আদনান এক দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছে৷ আজ কেন জানেনা সামান্তাকে খুব মনে পরছে৷ ঝুম ধারায় বৃষ্টি পরছে বাইরে৷ আদনানের কালকের বৃষ্টির কথা মনে পরে গেলো৷কাল সামান্তা যেভাবে মাথায় আঁচল দিয়ে দৌড়াচ্ছিলো সেই দৃশ্যটা আদনানের চোখে ভেসে উঠেছে৷ কাল কেন আদনানের ঔ কথাটা শুনে সামান্তা রাগ করছে সেটাও জানতে পারলোনা। সে তো মজা করে বলেছিলো। তবে সামান্তার মনে যে কিছু চলছে সেটা ও বুঝে গেছে৷ আদনান আদিলের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে ফোনে কার সাথে কথা বলছে৷ আদনান ব্যালকনি থেকে চলে গেলো সোজা অনুর রুমে৷ গিয়ে দেখলো অনু হাত দিয়ে কী যেন খুঁজছে৷

আদনানঃকী হয়েছে বোন৷
.
ভাইয়া আমি পানি খাবো জগটা কোথায়৷
.
দাঁড়া আমি দিচ্ছি৷
.
আদনান অনুকে পানি খাইয়ে দিয়ে ওর রুম থেকে চলে গেলো৷
🍁
এদিকে আবিরের খুব ইচ্ছে জাগছে অনুর কন্ঠ শুনতে৷তাই সে হুয়াট্সআ্যাপ থেকে ফোন দিলো৷

অনুর ফোন ওর পাশে ছিলো৷ ফোন সাইলেন্ট না থাজায় বেজে উঠলো৷ এত রাতে আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসাতে অনু বেশ বিরক্ত বোধ করলো৷ জরুরী ফোন ভেবে রিসিভ করলো৷

“হ্যালো কে বলছেন?

এপাশ থেকে কোনো উত্তর আসছেনা৷

অনু আবারো কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,,,

“কী হলো কথা বলছেন না কেনো৷ কে আপনি৷ আর জরুরী ফোন নাহলে এতো রাতে ফোন দিয়ে বিরক্ত করেন কেন৷ এটা কী ধরনের ম্যানার্স৷
.
আবির খট করে ফোন কেটে দিলো৷ অনুর কাঁপা কাঁপা কন্ঠ শুনে এটা বুঝতে পারছে যে অনু অসুস্থ৷
🍁
আদিল সকালে ঘুম থেকে উঠেই আগে অনুর রুমে গেলো৷ কিন্তু না অনু রুমে নেই৷ ব্যালকনিতে গিয়ে দেখলো অনু রেলিঙে হাত দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে৷

আদিলঃএখন কেমন লাগছে৷
.
আগের চাইতে অনেকটাই ব্যাটার৷
.
ঠিকাছে৷
🍁
বাবাঃআবির অনেকদিন তো হলো এবার কিছুতে জয়েন করো৷
.
আবিরঃসেসব পরে দেখা যাবে৷
.
সামান্তাঃতোমরা ভাইয়ার জয়েন নিয়ে পরে আছো!আমার মনে হয় ভাইয়ার আগে বিয়ে করা উচিৎ৷ তখন দেখবে বউয়ের প্যারায় এমনিতেই জয়েন করবে৷
.
আবিরঃডিরেক্টলি বলে দে তোর বিয়ে করা দরকার৷ আমাকে এর মধ্যে টানিস কেনো?
.
মাঃতোমাদের চারজনের একসাথে বিয়ে দিয়ে দিলে কেমন হয়৷
.
শ্রাবনঃদারুণ!!! দুইজন যাবে আর দুইজন আসবে৷
.
আরুহিঃমা আমার মনে হয় শ্রাবন ভাইকে আর সিংগেল রাখা যাবেনা৷
.
আবিরঃরুহি তোর মাথা ব্যাথা কমেছে৷
.
আরুহিঃহুম৷
.
সামান্তাঃনা কমেনি৷ এখন কমেছে৷ তোমরা যে জিজ্ঞেস করেছো তাই কমে গেছে৷
.
শ্রাবনঃআমার খুব ভয় হয় সামু৷
.
সামান্তাঃহুয়াই৷
.
শ্রাবনঃতুই যেরকম প্যাচ করে কথা বলিস এটা নাহয় যে তোকে তোর শশুর থেকে ঝাড়ু পেটা করে বেড় করে দেয়৷
.
সামান্তাঃএকদম পিঞ্চ করবেনা হু৷
.
আরুহিঃকারও কোনো আপত্তি না থাকলে আমি কী একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা পেশ করতে পারি৷
.
বাবাঃহ্যাঁ করো৷
.
আরুহিঃআসলে বাবা হয়েছে কী তোমার দুই ছেলে তোমার দুই ভাগ্নির উপরে ফিদা৷ ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে মানে ভালোবাসে আরকি৷ এখন কথাটা হলো অনু আর ছোঁয়াকে ভাবি বানাতে কিন্তু আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ কী রে সামু তোর কোনো আপত্তি আছে৷
.
সামান্তাঃএকদম না৷
.
আবির তখন পানি খাচ্ছিলো৷ আরুহি আর সামান্তার কথা শুনে সেই যে কাশি উঠলো আর থামার নামই নেই৷ শ্রাবন আবিরের পিঠে চাপর দিতে দিতে ফিসফিস করে বললো,,

শ্রাবনঃএটুকু শুনেই এরকম অবস্থা৷ যখন আরও ভয়ানক কথা শুনবে তখন অবস্থাটা কেমন হবে ভাবতে পেরেছো৷
.
শ্রাবন মেকি হেসে ওর মা বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,,,

শ্রাবনঃমা বাবা শুধু আমরাই ডুবে ডুবে জল খাচ্ছিনা তোমার দুই মেয়েরাও কিন্তু ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে৷
.
মাঃমানে সামান্তা আর আরুহিও৷
.
শ্রাবনঃহ্যাঁ রুহি আদিল আর সামু আদনান৷
.
সামান্তাঃসেটআপ ভাইয়া না জেনে কিছু বলবেনা ওকে৷ আমার আর আদনানের মধ্যে কিচ্ছু নেই৷ তবে রুহিরটা সত্যি৷
.
আবিরঃকিছু নেই তো কী হয়েছ৷ কিছু হয়ে যাবে৷
.
সামান্তাঃসত্যি যদি কিছু হয়ে যেত(মনেমনে)

[আজকের পার্ট ছোট হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত৷ লেখাপড়ার পাশাপাশি গল্পও সো বুঝতেই পারছেন।অনেকেই জানতে চাইছে যে আমি নায়ক নায়িকার নাম কোথায় থেকে নিয়েছি৷ নামগুলা নাকি অনেক কিউট৷ তাই বলছি,,, আবির নামটা আমি নিজে থেকে নিয়েছি।আদিল নামটা আমার আপুর এক ফ্রেন্ডের নাম তার থেকে নিয়েছি৷ নামটা শুনে আনকমন লাগছিলো আর সবার সাথে মিল রাখতে গিয়ে এই নামটা নিলাম।আদনান,আদনানকে অনেকেই চিনে থাকবেন৷ ফেমাস টিকটকার এন্ড সেলেব্রিটি মিঃ ফাইসুর বেষ্ট ফ্রেন্ড আদনানের নাম থেকে এই নামটা নেওয়া৷ শ্রাবন নামটাও আমি নিজে থেকে নিয়েছি৷ আরুহি নামটা নিজে থেকে্ নিয়েছি। সামান্তা নামটা নিয়েছি সাউথ(তামিল) হিরোইন সামান্তার থেকে৷ ছোঁয়া নামটাও নিজে নিয়েছি৷ আর রইলো বাকি অনু, অনু নামটা আমার চাচাতো ভাইয়ের নাম গল্পে নায়িকার নাম দিয়ে দিলাম৷ উত্তরও দিয়ে দিলাম]

চলবে……
.
আগের পর্ব https://www.facebook.com/groups/1099991637091029/permalink/1117739858649540/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here