তোমার_আমি❤পর্ব_৩

তোমার_আমি❤পর্ব_৩
#লেখা_Rahul_Majumder

রাইসার সাথে পরিচয়টা হয়েছিল খুব অস্বাভাবিক ভাবে কখন ও ভাবি নি যে ও আমার জীবনে আসবে । সাময়িক পরিচয়ের পর যে আমরা এতটা কাছে চলে আসব কখনো ভাবতে পারি নি ।

তখন আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ার এর স্টুডেন্ট। প্রতিদিনের মতো কলেজে গিয়ে আলাপ হয় জান্নাতুল রাইসা নামে একটা মেয়ের সাথে।মেয়েটির সাথে আরও ঘনিষ্ট হয়ে পড়ি এক সাথে Ict কোচিং এ গিয়ে। দুইদিন পর রাইসার সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।

আস্তে আস্তে মেয়েটিকে ভালো লাগতে শুরু করল আমার । শুধু আমার দিকে মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকত কিন্তু কোন কথা বলত না ।
কিছুদিন যাওয়ার পর আমি রাইসাকে নিজের মনের কথাটা বলে দিলাম। আমাকে কিছুদিন ঘুরানোর পর রাইসাও আমার প্রস্তাবটি গ্রহন করল ।

এরপর থেকে শুরু হলো আমাদের নতুন জীবন। সারাদিন ঘুরাঘুরি ,সারারাত ধরে চ্যাটিং সপ্তাহের একদিন ওকে বাইকে করে দুরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া । রাইসা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো তবে ওর কিছু বাজে হেবিট ছিলো।

ওর একটা জিনিস আমার কাছে অসহ্য লাগত । প্রতিটা ক্ষেত্রে আমাকে শুধু সন্দেহ আর সন্দেহ ।ওর জন্য আমি আমার সবমেয়ে ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলা অফ করে দিলাম ।এমনকি আমি আমার ফেসুবুক পাসওয়ার্ড ও ওর কাছে দিয়ে দিলাম তাও ওর সন্দেহ কিছুতেই কমছে না।

নিজে থেকে ঝগড়া বাধিয়ে আমার নিজেই আমার রাগ ভাঙ্গাবে।এই ভাবে কিছুদিন পার হলো।কিছুদিন বললে ভুল হবে কয়েকমাস পার হয়ে গিয়েছে।ততোদিন আমারা দুইজনের প্রতি অনেকটা এডিক্টেড হয়ে পড়েছি।

হঠাৎ এক সন্ধ্যায় শরীর খারাপ দেখে আমি ওর সাথে দেখা করতে গেলাম। বাসাই কেউ ছিল না বলেই হয়ত আমাকে আসতে বলেছিল রাইসা। আমার মনে কোন বাজে চিন্তা ছিল না। শুধু ওর সাথে একটু দেখা কথা বলে চলে আসব।

বাসাই এসে বেল বাজাতে রাইসা দরজা খুলে ভেতরে আসতে বলল।রাইসার জ্বর বলে ও নিজেই আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। কিছুক্ষন গল্প করার পর রাইসার কাছে থেকে চলে আসতে চেয়েছিলাম।তবে পারলাম না আবেগ নামক জিনিসটি নিয়ে গেল আমাদের অন্য এক দুনিয়ায়।

এরপর থেকে রাইসার প্রতি আরো সিরিয়াস হয়ে পড়ি।যেভাবেই হোক কোন মেয়ের জীবন আমি নষ্ট করতে পারব না। রাইসার সাথে যখন আমার অন্তরঙ্গ হয়েই গিয়েছে। ওকে আমি যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করব।

এই চিন্তা নিয়ে পড়ালেখা শুরু করি পাশাপাশি রাতে ফ্রিল্যান্সিং করি। দেখতে দেখতে ৯ মাস পার হয়ে গেল। ইন্টার পরীক্ষার রেজাল্ট ও দিয়ে দেছে। দুইজনেই কোন রকমে টেনে টুনে পাশ করেছি। সারাদিন ঘুরে বেড়ালে কি আর রেজাল্ট ভালো হয় ।

বাসা থেকে রেজাল্ট নিয়ে অনেক রাগারাগী হলো। ওই রাতে আমার সব থেকে ভালো একটা খবর পেলাম। এতদিন ধরে ফ্রিল্যান্সিং করে আজ আমার পেপাল একাউন্ট কিছু টাকা আসছে। টাকার পরিমান খুব একটা বেশি নই । তবে আমার জীবনের প্রথম ইনকাম।

আজ নিজেকে সার্থক মনে হচ্ছে। অবশেষে বাসাই রাইসার সম্পর্কে জানাতে পারব।হয়তো কেউ রাজি হবে না এত ছোট বয়সে বিয়ের কথা বললে। তবে আম্মুকে রাজী আমি করাব ।

এই ভেবে রাইসাকে কল দিলাম। কারন রেজাল্ট এর ৩ দিন আগে রাইসার সাথে প্রচন্ড রকম ঝগড়া হয়।দোষটা প্রথমেই রাইসা করেছে।আমার নিজের বোনকে পর্যন্ত সন্দেহ করেছে তাই আমিও রাগ করে আর কল করি না।

এইভাবে ও থাকতে পারে কিন্তু আমি পারি না। অন্তরঙ্গ কথা ভেবে আমি বার বার ওর কাছে ফিরে যাই। প্রথমবার কল দিলাম ধরল না।

এখনো মনে হয় রেগে আছে। আরেকবার কল দিলাম এবারো ধরল না। রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বলে হয়ত ফোন ধরছে না।এই ভেবে আমিও আর ফোন দিলাম না ।

২ ঘন্টা পর ও আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলে । আমি ভেবেছিলাম হয়ত নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইবে। হলো তার বিপরীত সরির বদলে সরাসরি সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার কথা বলল। কথাটি বলার সাথে সাথে আমার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। তাও রাইসার উদ্দেশ্যে বললাম

-তুমি এমন করছো কেন?আমার অপরাধটা কী?প্লিজ রাগের মাথায় কোন ভুল সিধান্ত নিয়ো না ।
-তোমার কোন অপরাধ নেই।আমরা আজ এখান থেকে ঢাকা চলে যাব । তাই রিলেশন রেখে আর কি হবে বলো ?

-কি হবে মানে ? তুমি কি আমার সাথে এতদিন নাটক করছিলে নাকি অন্য কাউকে ভালো লেগেছে ?
-রাহুল একদম চুপ । আমার জীবনে তুমি বাধে অন্য কেউই আসে নি। আমার ফ্যামিলি আমাদের কথা জেনে গেছে ।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন



-চলো না আমরা দুইজনে পালিয়ে যাই।
-সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নই ।
-কেন সম্ভব নই ?
-কারন আমাদের ফ্যামিলি তোমাকে মানবে না। আর আমিও আমার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করতে পারব না ।

-প্লিজ রাইসা পাগলামি করো না । আমাদের এতদিনের সম্পর্ক আর আমাদের মাঝে সবই হয়ে গেছে। আর একবার প্লিজ ভেবে দেখো।
-আমি ভেবেই কথা বলছি। তুমি প্লিজ আমাকে মুক্তি দাও ।

-দেখো রাইসা ! এই ভাবে কোন সমস্যা সমাধান হয় না। তোমার যদি এই মনোভাব ছিল তাহলে তুমি সেইদিন আমাকে আটকালে না কেন?
-কোনদিন ?
-এর মধ্যে ভুলেও গেলে। ওই যে সন্ধ্যায় নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছিলে আমার কাছে।

-তো কি এমন হয়েছে।এখনকার দিনে এই রকম প্রতিটি রিলেশনে হয় । এটা একটা সাধারন বিষয় ।
-তুমি যে একটা নষ্টা মেয়ে আজ তার প্রমান পেলাম।

-দেখো রাহুল! মুখ সামলে কথা বলো ।
-আমি মুখ ঠিক করে কথা বলছি । তুমি নিজের দেহের মাধ্যমে আমার মন ভাঙ্গাতে। তুমি তো নিজেই অপবিত্র হলো সাথেই আমাকেও অপবিত্র করলে ।

আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রাইসা সোজা আমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।তারপর ভালো থেকো বলে চলে গেল। আমি পিছন ফিরে অনেকবার ওকে আটকানোর চেষ্টা করলাম। রাইসা আমাকে রেখেই চলে গেল। এর পরও বাসাই গিয়ে এক সপ্তাহ পর আবার ওকে ফোন দিলাম ।

এবার ও রাইসা আমাকে ফিরিয়ে। নিজেকে ছন্নছাড়া মনে হচ্ছিল। রাইসা আমাকে মিথ্যা বলেছিলো যে ও ঢাকা চলে যাবে।আসল ঘটনা ও আমার বন্ধুর সাথে রিলেশন করছে। অনেক চেষ্টা করেছি ওকে আমার জীবনে ফিরিয়ে আনতে। আমার এই চেষ্টা বার বার বৃথা হলো।রাইসা তার সিধান্তে অটুট।
শেষবারের জন্য চেষ্টা করতে ওকে অন্য একটি নাম্বার থেকে কল দিলাম,

-হ্যালো ! কেমন আছো ?
-জ্বী ভালো । কে বলছেন আপনি ?
-এতো তাড়াতাড়ি আমাকে ভুলে গেলে তুমি ?
-তুমি আবার আমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করছো কেন?

-প্লিজ রাইসা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ?
-আমি তোমাকে ভালোবাসি না ।
-দেখো রাইসা আমি কিছু এখন রোজগার করি। চলো আমরা পালিয়ে যাই । তোমাকে অনেক সুখে রাখব ।
-আরে রাখ তোর ভালোবাসা।আর আমাকে জ্বালাতন করবি না। করলে আমি তোর নামে থানায় রিপোর্ট দিতে বাধ্য হবো।

অনেক ভেবে দেখলাম বার বার উপযোজক হয়ে নিজেকে প্রকাশ করা থেকে তাকে ভুলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই ভেবে নিজে চলে আসলাম ওর জীবন থেকে। এইসব ভাবতে ভাবতে এখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি তা নিজেও জানি না।

ফজরের নামাজের শব্দ শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল রাহুল এর।চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে নিজের খাটে শুয়ে আছে। নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকে কিভাবে এলাম এখানে । তারপর রাহুলের চোখটা চলে গেল সোফার দিকে।মেয়েটি ঠান্ডায় কুঁচড়ি মুঁচড়ি হয়ে শুয়ে রয়েছে। উঠে গিয়ে মেয়েটির গায়ে একটা কম্বল জরিয়ে দিলো।

ফজরের নামাজ পড়ে রাহুলের এর মাথাটা একটু ব্যাথা করছে । ঘুমানোর চেষ্টা করল। কিন্তু ঘুম কিছুতেই আসছে না।কাল রাতের কথাগুলো ভেবে রাহুল মনে মনে একটা সিধান্ত নিয়ে ফেলল।
নিশু উঠলে তার সিধান্তটি তাকে জানাবে।


চলবে ।
[বিঃদ্র- ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]

গল্পের শহরhttps://golpershohor.com
গল্পের শহরে আপনাকে স্বাগতম.........গল্পপোকা ডট কম কতৃক সৃষ্ট গল্পের অনলাইন প্লাটফরম

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles

error: ©গল্পেরশহর ডট কম