পুতুল বউ 💔পর্ব ১২

0
52

“পুতুল বউ”
পর্ব-১২
~
আচ্ছা পিচ্চি বর তোমার বাবা হতে ইচ্ছে হয়না?রিয়ার কথাটা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম।বিয়ের আগে বাবা হওয়ার প্রতি কোনো ফিলিংস ছিলনা।কিন্তু বিয়ের পর রিয়ার মুখে এমন কথা শুনে বুকের মধ্যে একটা হাহাকার সৃষ্টি হল।আসলেই মানুষ বিয়ে করে কেন?জৈবিক চাহিদা আর সন্তান নিয়ে ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার জন্যই তো!অদ্ভুত প্রাণি মানুষ।নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনে।সে যে ছেলেকে জন্ম দিবে সেই ছেলে এরশাদ শিকদার কিংবা মীর জাফরের মত মানুষ হতেও পারে।আবার নিউটন,আইনস্টাইন কিংবা ম্যান্ডেলার মত নেতা হতেও পারে।তবুও বাবা হতে সবাই ভালোবাসে।প্রত্যেক বাবাই চেষ্টা করে তার সন্তানকে ভালো মানুষ ও ভালো শিক্ষা দিতে।কিন্তু সঙ্গ দোষে এরকমটা হয়ে যায়।এই পিচ্চি বর কি চিন্তা কর?একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।সকালবেলা উঠে রিয়া কক্সবাজারে শপিং করতে বের হলো।শামুকের নুপুর,নাকের নোলক,কানের গয়না,কপালের টিকলি,গলার মালা,হাতের চুরি থেকে শুরু করে অনেক কিছু।বিকেলের দিকে সৈকতে খালি পায়ে হেটে বেড়াচ্ছি দুজন।শুনলাম জোয়ার হবে।রিয়া নাকি জোয়ার দেখবে।ওকে নিয়ে অনেক দুরে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে গেলাম জোয়ার দেখার জন্য।আস্তে আস্তে সাগর ফুলে গিয়ে পানি আমাদের কাছে চলে আসল।বিশ্বাস করা একদমই কঠিন তবে সত্যি সত্যি এমনটা হয়ে গেল।সেই পানিতে রিয়া ওর পা ভিজিয়ে নিল।সন্ধায় ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হলাম।পুতুল বউ আর পিচ্চি বরের মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়ে যাচ্ছে।সারারাত ধরে বাস চলছিল।জানালার পাশে রিয়ার ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমি সহ্য করছি।বাসায় পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সকাল এগারটা বেঁজে যায়।আমি তো ক্লান্ত শরীরে এসেই ঘুম।বিকেলে ঘুম থেকে উঠে দেখি আনিকা আসছে।এছাড়া আসেপাশের বাসা থেকে আন্টিরা এসেছে।সবাই রিয়ার সাথে কথা বলছে,মজা করছে।রিয়া মনে হয় ওনাদের কথায় কিছুটা লজ্জিত।আমি ড্রয়িং রুমে যাওয়ার পর আন্টিদের সালাম দিলাম।সবাই আমার সাথে কেমন রহস্যময় কথা বলছে।আমার দিকে তাদের দৃষ্টিও অন্যরকম।একজন তো বলেই দিল কি তিনদিনেই শুকিয়ে গেলে?সারাজীবন তো পরেই রয়েছে।আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।কি হ্রামি আন্টি!আন্টি আঙ্কেল ও কি আমার মত শুকিয়ে গেছিল?কথাটা বলাতে উনি চমকে গেলেন।আরেকজন বলছেন ওর স্বামী কে তো খুঁজেই পাওয়া যায়নি।কথাটা বলার সাথে সাথে হাসির রোল পরে গেল।সবাই মজা করছে।আর আমি ফ্রেশ হওয়ার বাহানা করে কেটে পড়লাম।অফিসের কিছু কাজে লেগে পড়লাম।ল্যাপটপে বসে কাজ করছিলাম এমন সময় রিয়া এসে চা দিয়ে গেল।ওর হাত টেনে ধরে বসতে বললাম কিন্তু ও বলল বাসায় লোকজন আছে এখন দুষ্টুমি চলবেনা।লজ্জা পাচ্ছ না ওনাদের এরকম খামখেয়ালি কথায়!তোমাকে তো কিছুই বলেনি।আমাকে কি থেকে কি জিজ্ঞেস করেছে সেটা আমার তোমাকে বলতে লজ্জা লাগছে।আচ্ছা মানুষ মুরুব্বি হলে কি লজ্জার মাথা খায়?এরা কি জানেনা ছেলেরা কেন এমন হয়?তারা নিজেরাও তো এসব করেছে তাইলে এমন করে কেন?রাগ উঠে আমার।সন্ধায় রিয়া নাস্তা দিয়ে গেল।ওকে মিস করছিলাম।ঘরে আসাতেই চেপে ধরলাম রিয়াকে।দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে ওর কানে কানে বলছি মিস করছি তোমার স্পর্শের অনুভূতিগুলো। রিয়ার চোখে তাকিয়ে দেখি ও চোখ বন্ধ করে কাঁপছে।ওর মুখে একটা ফুঁ দিলাম।হালকাভাবে কেঁপে উঠল।ওদিক থেকে আম্মু রিয়াকে ডাকাতে তারাতারি চলে গেল।হুর…রিয়াকে কাছেই পাচ্ছিনা।কেমন যেন লাগছে।শুন্যতা বিরাজ করছে প্রতিটা সেকেন্ডে রিয়ার জন্য।এমন কেন হচ্ছে?রাতের খাবার শেষে রিয়াকে কাছে পেলাম।এই মেয়ে আর কত দুরে দুরে থাকবে?কাজ করতে দাও তো।ঘরটা গুছিয়ে নিই।রিয়া শাড়ির কোমর বেধে কাজ করছে আর আমি ওকে দেখছি।মেয়েটাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি।কি ভেবে ওর কোমড়ে গিয়ে হাত দিলাম।কি মশাই এইটুকু অপেক্ষা সহ্য হচ্ছেনা?আমি মরে গেলে কি করবে, হুম?রিয়া কথাটা বলার পরই কেমন যেন বুকের মাঝে খারাপ অনুভূতির সৃষ্টি হলো।এমন কেন লাগছে আমার?রিয়াকে ছাড়া আমি অর্থহীন।ওকে ছাড়া আমার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।নাহ্ অপেক্ষা সহ্য করতে পারলাম না।রিয়াকে কাছে টেনে নিয়েই ফেললাম।এই পিচ্চি বর ভালো হচ্ছেনা কিন্তু।আগে তো এমনটা ছিলেনা আজ হঠাৎ এমন দুষ্টু হয়ে গেলে কেন?ছাড়ো তো আমার ভাল্লাগছেনা।রিয়া এমন করাতে কেমন যেন লাগল।ওকে ছেড়ে উঠে বারান্দায় চলে গেলাম।ল্যাম্পপো
স্ট জ্বলছে মৃদু মৃদু করে।কিন্তু আমার ভিতরটা জ্বলছে দাও দাও করে।রিয়া কাজ করছে ঘরে।কখন যে পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে বুঝতেই পারিনি।আমার পিঠে মাথা রেখে রিয়া শুয়ে আছে।মেয়েটা কেমন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমায়।আমি নড়াচড়া করতেই রিয়া আরো জোড়ে চেপে ধরল আমাকে।দুজনেই তিনদিনের ধকলে ক্লান্ত।দুজনে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।পরদিন সকালে আমার রিয়া সেই চিরচেনা বাঙালি মেয়ের সাজে।গোসল করে এসে শাড়ি পড়েছে।ভেজা চুলের পানি দিয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিল।ছটফট করে উঠে দেখি রিয়াকে পবিত্র লাগছে।সদ্যজাত ভূমিষ্ঠ শিশুর মত লাগছে।মেয়েটাকে এমন চোখে আমি কেন দেখি?আচ্ছা আমি ভালো মানুষ তো?নইলে এসব বাজে ভাবনা আসে কোত্থেকে? নাকি আমার শিক্ষা ভূল।বাবা-মা কি তাহলে আমাকে ভূল শিক্ষা দিয়েছেন?কিসব ভাবছি!রিয়ার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলাম।নাস্তা বানাতে গেল রিয়া আর আমাকে গোসলে যেতে বলল।গোসল শেষে দেখি একটা নতুন পোশাক।এটা তো আমি কোনোদিন কিনিনি?রিয়া তুমি এটা পেলে কোত্থেকে? আমি বিয়ের আগে কিনেছিলাম।কেন?তোমার জন্য।লক্ষ্মী বউ আমার।রিয়া কেমন যেন বেশি কেয়ারিং আমার প্রতি।মেয়েটা আমাকে নতুন জীবন দান করেছে।যে জীবনে সুখের অভাব নেই।আছে শুধু ভালোবাসা।আচ্ছা শুনেছি এমন সুখের জীবন নাকি বেশিদিন থাকেনা?তবে কি আমার আর রিয়ার মাঝে এমন কিছু হবে যা সুখ কেড়ে নিবে!কিসব ভাবছি আমি অফিসে বসে।রিয়াকে নিয়ে বড্ড বেশিই চিন্তা হয় আমার।পাগলের মত ভালোবাসি ওকে।ওর কোনো কষ্ট আমি নিজ চোখে দেখতে পারবনা।একটা মানুষ কখনও আরেকটা মানুষকে এতটা ভালোবাসতে পারে চিন্তাই করা যায়না।শুনেছি সবাই নিজের জীবনকে বেশি ভালোবাসে কিন্তু আমি নিজের জীবনের চেয়ে রিয়াকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছি।রিয়ার সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে আমি এক সেকেন্ড ভাববো না।মেয়েটা আমাকে সম্পূর্ণ ওর করে নিছে।আমি চলি রিয়ার দেয়া অক্সিজেনে।ও বন্ধ করে দিলেই আমি মরে যাব।রিয়াকে জানাতে হবে ওকে কতটা ভালোবাসি।ফোনটা বের করে রিয়াকে টেক্সট করে বলেই দিলাম ভালোবাসি পুতুল বউ।
চলবে(….)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here